সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন abdulmostafa2906 (২৯-০৬-২০১৪ ১০:৪৬)

টপিকঃ -----------রোযা ও তার মাসআলা-মাসাইল---------

পার্ট-০১ (সংক্ষিপ্ত){পরবর্তী পোষ্ট এ বিস্তারিত পাবেন।}
-----------রোযা ও তার মাসআলা-মাসাইল---------
১। মুসলিম আকেল-বালেগ নর-নারীগণ সুবহে সাদেক হতে সূর্যাস্ত পর্যন্ত ইবাদতের নিয়্যতে পানাহার এবং যৌন সঙ্গম থেকে বিরত থাকাই রোযা। নারীদের বেলায় এ সময় হায়েজ (মাসিক স্রাব) ও নিফাস (সন্তান প্রসব পরবর্তী রক্তক্ষরণ) হতে পবিত্র থাকা পূর্বশর্ত।(আলমগীরী)
২। রমযানের রোযা রাখা মুসলমান বালেগ, বিবেকবান ও সুস্থ নর এবং একই ধরনের হায়জ ও নিফাস থেকে মুক্ত নারীদের উপর ফরযে আইন। অস্বীকার বা ঠাট্টা করলে কাফির হবে আর বিনা অজুহাতে অবহেলা বশতঃ আদায় না করলে কবীরা গুণাহগার ও ফাসিক্ব হয়ে যাবে। (রদ্দুল মুহতার ও আলমগীরী)
৩। রমযানের একমাস রোযা পালন করা ফরয। হাদীস শরীফে বর্ণিত যে, নবী করীম, হুজুর صلى الله عليه وسلم সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেন, মাস ঊনত্রিশ দিনেও হয় ত্রিশ দিনেও হয় বিধায় চাঁদ দেখে রোযা শুরু কর এবং চাঁদ দেখেই (রোযা) রাখা বন্ধ কর। যদি ঊনত্রিশে রমজান চাঁদ দেখা না যায় তবে ত্রিশ দিন পূর্ণ করবে।
---------------প্রসঙ্গ: রোযার নিয়্যত--------------
১। রোযার জন্য নিয়্যত করাও অত্যাবশ্যকীয়্ প্রত্যেক রোযার জন্য অন্তরে ইচ্ছা থাকার মাধ্যমে নিয়্যতের শর্ত পূরণ হবে। তবে তা মুখে উচ্চারণ করা মুস্তাহাব। এ নিয়্যত পূর্বদিনের সূর্যাস্তের পর হতে রোযার দিনের দুপুরের আগ পর্যন্ত করা যাবে। এ আগে বা পরে করলে রোযা হবে না।
২। রোযার নিয়্যতে সাহরী খাওয়াও নিয়্যত হিসেবে গণ্য হবে। সোবহে সাদিকের পূর্বে নিয়্যত করলে বলবেন- নাওয়াইতু আন আসূমা গাদাম মিন শাহরি রামাদ্বা-নাল মুবারাকি ফারদ্বাল লাকা ইয়া আল্লাহ! ফাতাক্বব্বাল মিন্নী ইন্নাকা আনতাস সামীউল আলীম।
অর্থাৎ-আমি আল্লাহর জন্য আগামী কাল রমযানের ফরয রোযার নিয়্যত করলাম।
আর ফজরের পর নিয়্যত করলে বলবেন- নাওয়াইতু আন আসূমা হাযাল ইয়াওমা লিল্লাহি তাআলা মিন ফারদ্বি রমাদ্বানা।
অর্থাৎ- আমি আল্লাহর জন্য আজকের রমযানের ফরজ রোযা রাখার নিয়্যত করলাম।
৩। রোযার নিয়্যত রাতে বা ফজরের আগে করাই মুস্তাহাব। রোযার নিয়্যত কার্য়কর হয় সুবহে সাদেক হতে। অতএব, কারো দিনের বেলার (মধ্যাহ্নের পূর্ব পর্যন্ত) নিয়্যত ঐ সময়ই শুদ্ধ হতে পারে যদি নিয়্যত কারী সুবহে সাদিক হতে রোযা ভঙ্গের কোন কাজ না করে। (রদ্দুল মুহতার)
৪। সাহরী খাওয়ার সময় বা সুবহে সাদেক্বর পূর্বে যদি মনস্থ করে যে, সকালে রোযা রাখবেনা তখন নতুন নিয়্যত না করলে রোযা হবেনা। যদিও সে সারাদিন পানাহার ও যৌন সঙ্গম পরিহার করে। (দুররে মুখতার ও রদ্দুল মুহতার)
৫। সাহরী খাওয়া রোযার নিয়ত রূপে গণ্য হয়। কিন্তু সে সময় যদি এই ইচ্ছা থাকে যে, সকালে রোযা রাখবেনা তাহলে সাহরী খাওয়া নিয়্যত বলে গণ্য হবে না। (জাওহারাহ ও দুররে মুখতার)
৬। যদি কোন নারী হায়জ ও নিফাস অবস্থায় রাতে রোযার নিয়্যত করে থাকে এবং সুবহে সাদেক্বের পূর্বেই পবিত্র হয়ে যায় , তবে তার রোযা শুদ্ধ হবে। (জাওহারাহ)

----রমযানের রোযা যাদের জন্য পরে আদায়ের অবকাশ রয়েছে।----
১। সফর, গর্ভধারণ, সন্তানকে দুগ্ধ পান করানো, পীড়া, বার্ধক্য, শারীরিক ও মানসিক কোন প্রকার ক্ষয় ক্ষতির আশঙ্কা এবং জিহাদ এসব অজুহাতে এ মাসে রোযা না রেখে তা ক্বাযা করলে গুনাহগার হবে না।(আলমগীরী)
২। বিনা ওজরে এ মাসে রোযা না রাখা বড় গুনাহ। পীড়িত লোক নিজ অনুমান বশত রোযা না রেখে ছেড়ে দিতে পারবে না। যতক্ষণ পর্যন্ত সে ব্যক্তি কোন দ্বীনদার চিকিৎসকের মতামত কিংবা নিজের বাস্তব অভিজ্ঞতা অথবা কোন প্রমাণ দ্বারা দৃঢ় ধারণায় উপনীত না হয় যে, রোযার কারণে তার রোগ বৃদ্ধি পাবে। অন্যথায় তাকে রোযার কাযা ও কাফফারা উভয়ই আদায় করতে হবে। কোন লোক সুস্থ; কিন্তু দ্বীনদার চিকিৎসক যদি রোযার কারনে পীড়িত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেন তবে সে ব্যক্তিও পীড়িতদের সুবধা গ্রহণ করতে পারবে।(খাযাইনুল ইরফান ও দূররে মুখতার)
৩। গর্ভবতী বা স্তন্যদায়ী রমণী যদি রোযার কারণে স্বীয় কিংবা দুগ্ধ পোষ্য সন্তানের জীবনহানি অথবা অসুস্থতার আশংকা বোধ করে তবে তার জন্য পরবর্তীতে রোযা রাখার অবকাশ রয়েছে। এমনকি এ ক্ষেত্রে পেশাদার স্তন্যদানকারীনীর জন্যও একই হুকুম। (ঐ)
৪। বার্ধক্য জনিত দুর্বলতা হেতু রোযা রাখতে অসমর্থ হলে তার জন্য ক্বাযা করার অনুমতি রয়েছে। আর যদি সে ব্যক্তির সুস্থতা ও সামর্থ্য ফিরে আসার সম্ভাবনা না থাকে তবে সে ক্ষেত্রে সে ব্যক্তি প্রতি রোযার পরিবর্তে একজন মিসকীনকে দুই বেলা পেট ভরে আহার করাবে, অথবা অর্ধ সা’ (দুই কেজি ৫০ গ্রাম) গম বা গমের আটা কিংবা তার দ্বিগুন যব কিংবা যবের সমমূল্য ফিদ্‌য়া হিসেবে প্রদান করবে।
৫। যদি ফিদ্‌য়া প্রদান করার পর পুনরায় রোযা রাখার মত সামর্থ ফিরে আসে তবে তাকে তখন রোযার কাযাও আদায় করতে হবে।
৬। মরণোন্মুখ বৃদ্ধ বা শায়খে ফানী (যার সুস্থতা ও সামর্থ ফিরে পাওয়ার আশা নাই) রোযা রাখতে অসমর্থ হলে বা ফিদ্‌য়া প্রদানেও যদি সক্ষম না হয় তবে সে যেন আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে এবং নিজের অক্ষমতার জন্য মার্জনা চাইতে থাকে। (খাযাইনুল ইরফান ও রদ্দুল মুহতার)
৭। হায়েজ ও নেফাস অবস্থায় রোযা রাখা নিষেধ। তা পরে কাযা করবে। (আলমগীরী)
৮। কোন নারীর হায়েজ ও নিফাস জনিত রক্তস্রাব শুরু হওয়া মাত্র তার রোযা ভঙ্গ হয়ে যায়। অতএব এ থেকে পবিত্র হওয়ার পর রোযা পালন করবে।
৯। কোন রমণীর যদি রাতেই হায়েজ বন্ধ হয়ে যায় তবে সুবহে সাদিক থেকে সে রোযা পালন করবে।
১০। কোন রমণীর দশদিনের ভেতরে হায়েজ বন্ধ হলে তার জন্য গোসলের সময়ও হায়েজের মধ্যে অন্তর্ভূক্ত। তাই রাতের এমন সময় যদি সে পবিত্র হয় যে, গোসল সমাপণ করতে ফজর হয়ে যায় তবে তার জন্য সেদিনের রোযা শুদ্ধ হবে না। এমনভাবে ভোর হওয়ার পরে রক্ত বন্ধ হলেও তার জন্য ওই দিনের রোযা রাখা শুদ্ধ হবে না।
১১। ক্ষুধা ও পিপাসা যদি এতই তীব্র ও প্রকট আকার ধারণ করে যে, রোযা ভঙ্গ না করলে মৃত্যুর আশঙ্কা বা মানসিক ভারসাম্য বিনষ্ট হওয়ার সংশয় হয় তবে রোযা ভঙ্গ করতে পারে।
১২। সাপ বা বিষাক্ত কোন কিছুর দংশনে প্রাণহানির আশঙ্কা দেখা দিলেও রোযা ভঙ্গ করতে পারে। (রদ্দুল মুহতার)
১৩। মুসাফিরের জন্য সফরকালে রোযা রাখা নিজের জন্য এবং সফর সঙ্গীদের জন্য কোন প্রকার বিঘ্নের কারণ না হলে রোযা পালন করা উত্তম। বিঘ্ন বা অসুবিধা হলে রোযা না রাখাই উত্তম। পরবর্তীতে তা কাযা করবে। (দুররে মুখতার)
১৪। রোযা না রাখার অবকাশ প্রাপ্তরা অর্থাৎ রোযার কাযা পরবর্তী বৎসরের রমযানের আগেই কাযা আদায় করার চেষ্টা করবে। কেননা হাদীস শরীফে এজন্য জোর তাকীদ দিয়ে বলা হয়েছে যে, পূর্ববর্তী রমযানের রোযা আদায় না করলে তার রোযা কবূলের অযোগ্য হয়ে যায়।(দুররে মুখতার)
১৫। যদি অবকাশ প্রাপ্তগণ তাদের অবকাশকালীন সময়ে মৃত্যু বরণ করে এবং কাযা আদায়ের সময়ই না পায় তাহলে এর বিনিময় স্বরূপ ফিদ্‌য়া দেয়া ওয়াজিব নয়। এতদসত্বেও তারা অসিয়ত করলে তাদের সম্পদের এক তৃতীয়াংশ হতে এ অসিয়ত পূর্ণ করা হবে। পক্ষান্তরে যদি অবকাশ এর পরর মৃত্যুর পূর্বে সময় পাওয়া যায় যাতে সে কাযা করতে পারত তাহলে তার জন্য মৃত্যুকালে এ ফিদ্‌য়া দান করার অসিয়ত করা ওয়াজিব। মৃত ব্যক্তি অসিয়ত না করলেও ওয়ারিশগণ তাদের পক্ষ থেকে  তার ফিদ্‌য়া আদায় করলে তা শুদ্ধ হবে।
--------যে সব কারণে রোযা ভঙ্গ হয়না-------
১। ভুল বশত: পানাহার বা যৌন সম্ভোগ সংঘতি হলে। কিন্তু রোযার কথা স্মরণ হওয়া মাত্রই সেগুলো থেকে বিরত হতে হবে।  যদি স্মরণ হওয়া মাত্র বিরত না হয়ে সে কাজে রত থাকে তবে রোযা নষ্ট হয়ে যাবে। (দুররে মুখতার ও রদ্দুল মুহতার)
২। মাছি বা এ জাতীয় প্রাণী, ধোঁয়া ও ধুলো-বালি গলায় চলে গেলে তাতে রোযা নষ্ট হবে না। যদি উড়ন্ত আটার কনাও অনিচ্ছাকৃতভাবে গলায় ঢুকে যায় তবুও রোযা নষ্ট হবে না। কিন্তু ইচ্ছাকৃতভাবে গিললে রোযা ভঙ্গ হয়ে যাবে।
৩। রোযা রেখে সুরমা বা তেল লাগানো অথবা আতর ব্যবহার করতে অসুবিধা নাই। চোখে সুরমা ব্যবহারের ফলে যদি থুথুতে তার রঙ দেখা যায় এবং কন্ঠনালীতে তার স্বাদও অনুভব হয় তবুও রোযার কোন ক্ষতি হবে না।
৪। অনিচ্ছাকৃতভাবে গলায় ধোঁয়া প্রবেশ করলে রোযা ভঙ্গ হবে না। কিন্তু ইচ্ছাকৃতভাবে নাকে বা মুখে ধোঁয়া টেনে নিলে রোযা ভঙ্গ হবে এবং কাযার সাথে সাথে কাফফারাও দিতে হবে।
৫। রোযা অবস্থায় স্বপ্নদোষ হলে কিংবা স্বপ্নে কোন কিছু পানাহার করলে রোযার কোন ক্ষতি হবে না।
৬। রোযা অবস্থায় স্ত্রীকে চুম্বন করলে, এতে স্বামীর বীর্যপাত না হলে রোযা ভঙ্গ হবে না। স্ত্রীর লজ্জাস্থানের দিকে তাকালো কিন্তু স্পর্শ করলো না কিংবা বারবার সেদিকে দৃষ্টিপাত করল এরই ফলে অথবা দীর্ঘক্ষণ যৌনকল্পনার ফলশ্রুতিতে আপনা-আপনি বীর্যপাত হলো, সে ক্ষেত্রে রোযা ভঙ্গ হবে না।(জাওহারাহ, দুররে মুখতার)
৭। কাঁচা বা শুকনা মিসওয়াক দ্বারা দাঁত মাজা ধূষনীয় নয় । যদি মিসওয়াকের তেতো রষ বা স্বাদ মুখে অনুভূত হয় তবুও রোযার কোনরূপ ক্ষতি হবে না।
৮। গোসল করার সময় পানির শীতলতা শরীরে অনুভূত হলেও রোযা ভঙ্গ হবে না। অনুরূপ, কুলি করে মুখ থেকে পানি ফেলে দিল কিন্তু এরপর যেটুকু আর্দ্রতা রইল তা থুথুর সাথে গিলে ফেললেও রোযার ক্ষতি হবে না।
৯। দাঁতে ঔষধ চূর্ণ করতে গিয়ে গলায় তার স্বাদ অনুভূত হল অথবা হাঁড় চোষণ পূর্বক থুথু গিলল কিন্তু হাঁড়ের কোন অংশ কন্ঠনালীতে প্রবেশ করল না, কানে পানি ঢুকল বা খড় কুটো দিয়ে কান পরিষ্কার করতে গিয়ে এবং কটন বাডসে লেগে আসা  কানের ময়লা রেখেই বার কয়েকবার তা কানে প্রবেশ করালো, দাঁতের ফাঁকে বা মুখে অতি ক্ষুদ্র কোন দ্রব্য নিজের অজান্তে থেকে গেল যা থুথুর সাথে বেরিয়ে আসার মত, তা বের হয়ে গেল, অথবা দাঁত থেকে রক্ত বের হয়ে তা কন্ঠনালী পর্যন্ত পৌঁছল এবং এর নিচে গেলনা, এ সব অবস্থায় রোযা নষ্ট হবে না। (দুররে মুখতার ও ফতহুল কাদির)
১০। কথা বলতে গিয়ে থুথুতে মুখ ভরে উঠলো সেগুলো গিলে ফেলল অথবা মুখের গড়িয়ে পড়া লালা মুখ থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার আগেই টান দিয়ে গিলে ফেলল, নাকের শ্লেষ্মা বা পানি অথবা গলার কফ গিলে ফেলল, এসবের কারণেও রোযা ভঙ্ঘ হবে না। তবে এসব থেকে সতর্ক থাকাই শ্রেয়। (আলমগীরী, দুররে মুখতার ও রদ্দুল মুহতার)
১১। জিহ্বা দ্বারা লবনের স্বাদ গ্রহণ করে থুথু ফেলে দিল এবং মুখ পরিষকার করে নিল, এ অবস্থায় রোযা ভঙ্গ হবে না।
১২। তিল বা তিল পরিমাণ কোন বস্তু চিবিয়ে থুথুর সাথে গিলে ফেলল এবং  তাতে  যদি এর স্বাদ অনুভূত হয় তাহলে রোযা ভঙ্গ হবে অন্যথায় রোযা ঠিক থাকবে।
১৩। রোযা অবস্থায় গ্লুকোজ জাতীয় স্যালাইন বা ইনজেকশন গ্রহণ করলে রোযা ভঙ্গ হবে ।
------যে সব কারণে রোযা ভঙ্গ হবে এবং কাযা আদায় করতে হবে------
১। সুবহে সাদিক হয়নি ভেবে পানাহার বা স্ত্রী সম্ভোগ করেছে কিন্তু পরে জানতে পারলো যে, তখন সুবহে সাদিক হয়েছিল এ অবস্থায় রোযা রাখবে তবে ঐ রোযার কাযা আদায় করতে হবে।
২। সূর্যাস্ত হয়েছে মনে করে সময়ের পূর্বে ইফতার করে ফেললে।
৩। সুবহে সাদেকের পূর্বে পানাহার বা স্ত্রী সম্ভোগে রত কিন্তু সুবহে সাদেক হওয়া মাত্রই মুখে খাদ্য বা পানীয় ফেলে দিলনা বা স্ত্রী সম্ভোগ হতে আলাদা হলনা এ অবস্থায় রোযার কাযা আদায় করতে হবে।
৪। ভুলবশত: স্ত্রী সম্ভোগ বা পানাহার করল এবং এতে রোযা বিনষ্ট হয়েছে মনে করে স্বেচ্ছায় পানাহার বা স্ত্রী সম্ভোগ করলো এতেও কাযা আদায় করতে হবে।
৫। নাকের নস্যি টানলে, কানে বা নাকে তেল বা ঔষধ দেয়ায় তা ভিতরে ঢুকলে, মলদ্বার বা স্ত্রীর যৌনাঙ্গে পানি, ঔষধ বা তেল প্রবেশ করালে রোযা ভঙ্গ হবে।
৬। রোযাদারের দাঁত উপড়ানোর পর রক্ত কন্ঠনালীর নিচে পৌঁছালে রোযার কাযা আদায় করতে হবে।
৭। ইচ্ছাকৃতভাবে মুখভর্তি বমি করলে রোযা নষ্ট হয়। অনুরূপ অনিচ্ছাকৃতভাবে বমি হওয়ার পর সামান্য পরিমানও গিলে ফেললে রোযা নষ্ট হয়ে যাবে।
৮। খাদ্য বস্তু নয় এমন কিছু যেমন, পাথর, লোহা, মুদ্রা ইত্যাদি যদি গিলে ফেলে তাহলে রোযা নষ্ট হয়ে যাবে।
৯। কুলি বা গোসলের সময় রোযার কথা স্মরণ থাকা সত্বেও কোনভাবে পনি নাক কান দিয়ে কন্ঠনালী বা মগজে প্রবেশ করে তবে রোযার কাযা আদায় করতে হবে ।
১০। সাহরীর পর পান মুখে ঘুমিয়ে পড়ে এবং এ অবস্থায় ফজর হয়ে গেলে রোযার কাযা আদায় করতে হবে।
১১। চিনি বা এ জাতীয় খাদ্য দ্রব্য যা মুখে দিলে গলে যায়, যদি মুখে রাখে এবং থুথু গিলে ফেলে রোযার কাযা আদায় করতে হবে।
১২। দাঁতের ফাঁকে চনা পরিমাণ বা তার চাইতেও বড় কোন খাদ্য বস্তু লেগেছিল, তা খেয়ে ফেললে অথবা এর চাইতে ছোট কণা মুখ হতে বাইরে এনে আবার তা খেয়ে ফেললে রোযা নষ্ট হয়ে যাব্ ে
১৩। অপরের থুথু খেলেও রোযা নষ্ট হবে। অনুরূপ নিজের থুথু হতে নিয়ে পুনরায় তা গিলে ফেললে রোযার কাযা আদায় করতে হবে।
১৪। মুখে রঙিন সূতা বা কাপড় রাখায় থুথুতে  রঙ মিশে থুথু রঙিন হল এবং সে থুথু গিলে ফেললে রোযা নষ্ট হবে।
বিদ্র- কাযা মানে একটি রোযার বদলে (রমযানের পর) একটিই রোযা রাখা।
----রোযার কাযা ও কাফফারা উভয়ই ওয়াজিব হওয়ার কারণসমুহ----
১। ইচ্ছাকৃতভাবে রোযা অবস্থায় পানাহার বা যৌনমিলন সংঘঠিত করলে তার উপর কাযা ও কাফফারা উভয়ই আদায় বাধ্যতামূলক।
২। এমনিভাবে রোযা অবস্থায় বিড়ি, সিগারেট, গাঁজা, বা নেশা জাতীয় দ্রব্য ব্যবহারের কারণে রোযার কাযা ও কাফফারা দেয়া আবশ্যক।
৩। রোযা অবস্থায় কাঁচা মাংস খেলে কাযা ও কাফফারা দিতে হবে। এমনকি যদি তা মৃতের মাংসও হয়।
৪। যে ব্যক্তির মাটি খাওয়ার অভ্যাস রয়েছে সে যদি রোযা অবস্থায় মাটি খায় তবে কাযা কাফফারা দিতে হবে কিন্তু অভ্যাস বশত না হলে কাযা আদায় করলে চলবে। (জাওহারাহ, আলমগীরী)
৫। ঘুমন্ত রোযাদার স্ত্রীর সঙ্গে রোযাদার স্বামী রোযা অবস্থায় যৌন মিলন করলে উভয়েরেোযাই নষ্ট হবে কিন্তু কাযা ও কাফফারা বধ্যতামূলক হবে কেবল স্বামীর উপর, স্ত্রী শুধু কাযা আদায় করবে।
-------রোযার কাফফারা--------
এক নাগাড়ে ৬০টি রোযা রাখা। শারীরিক সামর্থ্য না থাকলে ষাট জন মিসকিন বা অভাবীকে দুই বেলা পেট ভরে আহার করানো বা তৎপরিবর্তে সমপরিমাণ অর্থ পরিশোধ করতে হবে।(তাদেরকে দিতে হবে।)
--------যে সব কারণে রোযা মাকরূহ হয়--------
১। রোযা অবস্থায় বিনা প্রয়োজনে কোন কিছুর স্বাদ পরিক্ষা করা বা কোন কিছু চিবানো মাকরূহ।
২। মিথ্যা বলা, গীবত (অন্যের দোষ চর্চ/ বলা), চোগলখোরী (এক জনের কথা আরেক জনকে লাগানো), অশ্লীল বাক্য উচ্চারণ করা, গালি দেয়া, বেহুদা কথা বলা, কাউকে কষ্ট দেয়া এমনিতেই হারাম ও নাজায়েয। রোযাদারের জন্য এ সমস্ত কাজ কোন মতেই উচিৎ নয়। এসব কাজ রোযাকে হালকা করে ফেলে।
৩। রোযা অবস্থায় স্ত্রীকে চুম্বন দেয়, গলাগলি করা বা শরীর স্পর্শ করা মাকরূহ যদি এর ফলে বীর্যপাত কিংবা যৌন মিলনের আশঙ্কা হয়। আর স্ত্রীর ওষ্ঠ চোষা রোযাদারের জন্য সর্বাবস্থায় মাকরূহ। (রদ্দুল মুহতার)
৪। পবিত্রতা হাসিরে অধিক পরিমাণ পানি ব্যবহার করা কিংবা অধিকমাত্রায় কুলি করা ও নাকে বেশী করে পানি দেয়া মাকরূহ। ওযূ ও গোসল ব্যতীত অন্য সময় অনাবশ্যক কুলি করা বা নাকে পানি দেয়াও মাকরূহ।
৫। পানিতে বায়ু ত্যাগ করা, মুথে থুথু জমা করে গিলে ফেলা প্রভৃতি কাজ রোযা অবস্থায় মাকরূহ। (আলমগীরী)
লেখাটি মাসিক তরজুমান (-http://anjumantrust.org/publications/tarjuman.php) আগষ্ট 2010/ রমযান ১৪৩১ হিজরী হতে সঙ্কলিত।

ইসলামী বই ৩৪টি ভাষায় ফ্রি ডাউনলোড For A Nice Islami Page ইসলামী জীবন

সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন বাংলার বিড়াল (২৯-০৬-২০১৪ ২১:৪৫)

Re: -----------রোযা ও তার মাসআলা-মাসাইল---------

এত বড় রচনা লিখলে কিভাবে হয় বলেন? একটু ভেঙ্গে ভেঙ্গে লিখেন।

রোযা ইসলাম পূর্ববর্তী যুগ থেকেই আরব মুশরিকদের মধ্যে প্রচলিত ছিলো। ইসলাম আবির্ভাবের পরে সেটা একটা নিয়মের মধ্যে আনা হয়।

রোযার মাসলা মাসায়েল জানতে জানতে সবার মুখস্ত হয়ে গেছে।

সংক্ষিপ্ত দুই তিন লাইনেই বলে দেয়া যায়।

ভোর রাতে উঠবেন। হালকা কিছু খাবেন। ফজরের নামাজ পরে একটু ঘুম দিবেন। রোজার নিয়ত মনে মনে থাকলেই চলে। আল্লাহ তা'য়ালা মনের কথা জানেন। তাই মুখে বলার দরকার নাই। 

সারাদিন খারাপ কাজ করবেন না। মিথ্যা কথা বলা, কাউকে ঠকানো এগুলো থেকে বিরত থাকুন। তা না হলে রোজা হালকা হয়ে যাবে। রোজা অবস্থায় সেক্স বা হস্তমৈথুন করলে রোজা পুরা শেষ। তাই এইসব থেকে বিরত থাকুন।

সন্ধ্যায় আজান দিলে ইফতার করুন। ভুড়ি ভোজ করবেন না। পানি জাতীয় খাবার বেশি খান। যেমন রশালো ফল। ভাজা পোড়া খাবার কম খান।

রাতে তারাবীর নামাজ পড়ুন। না পড়লেও রোজার কোনো ক্ষতি হবে না। পড়লে সওয়াব হবে। তবে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ছাড়বেন না। আমাদের একটা অভ্যাস আছে। সারা বছর নামাজের খেয়াল নাই। রোজার মাসে এসে রোজা রাখা শুরু হয়। ৫ ফরজ বাদ দিয়ে এক ফরজের পিছনে ছূটলে কি হবে? তাই সব ফরজ পালন করতে হবে।

Re: -----------রোযা ও তার মাসআলা-মাসাইল---------

রোযার মাসলা মাসায়েল জানতে জানতে সবার মুখস্ত হয়ে গেছে।

কথাটা ভুল। বলতে পারেন, সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত না খেয়ে থাকাটা মুখস্ত হয়ে গেছে

ইসলামী বই ৩৪টি ভাষায় ফ্রি ডাউনলোড For A Nice Islami Page ইসলামী জীবন