টপিকঃ “খেজুর পাতার পাটি”

“খেজুর পাতার পাটি”

@হারিয়ে যাচ্ছে যে সব প্রাচীন ঐতিহ্য https://www.facebook.com/golammaula.aka … 1860027410


হাজার বছরের চলে আসা বাঙ্গালিদের কিছু  ঐতিহ্যবাহী জিনিস যা আমরা সেই প্রাচীন কাল হতে বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করে আসছি। এই ঐতিহ্যবাহী জিনিস গুলি  হাজার বছরের বাংলার সংস্কৃতির এক একটি উপাদান। আজ এই আধুনিক যুগে আধুনিক পণ্যের কাছে , আধুনিক কলা কৌশলের নিকট মার খেয়ে আস্তে আস্তে বিলুপ্তির পথে। আসুন দেখি খেজুর পাতার পাটির সঙ্গে কে কে পরিচিত আছেন।
এক সময় ছিল যখন বিশেষ করে গ্রামবাংলায়  খেজুর পাতার পাটির বিকল্প কোন চিন্তাই করা যেত না। তখন গ্রামবাংলার প্রতিটি বাড়ী- ঘরে ব্যবহার করা হতো গৃহস্থালি   বিভিন্ন কাজে খেজুর পাতার পাটি     ।  কিন্তু  বর্তমানে আধুনিকতার ছেয়ায় তা আর কোন বাড়ীতে বলতে গেলে দেখাই যায়না।
আমাদের গ্রামের নিন্ম বিত্ত ও উচ্চ বিত্ত সব পরিবারের মহিলারা তাদের ঘরে শোবার জন্য বা বারান্দায় বিছানো বা আমাদের শহুরে বাড়ির অনুকরণে ঘরের কার্পেট এর পরিবর্তে সবচেয়ে জনপ্রিয় কমন জিনিসটি হল খেজুরের পাতার পাটি। এটি আর একটি গ্রামীণ ঐতিহ্যের অংশ। এই পাটি এ ছাড়াও ধান গম আটা রৌদ্রে শুকাতে দেবার কাজেও ব্যবহার করা হয়। এ ছাড়া হাজার রকম কাজে এটি ব্যবহার করা হয়। আগে মসজিদে দেখতাম খেজুর পাতার পাটি বিছিয়ে নামাজ আদায় করা হত। গ্রামের মহিলারা মসজিদের জন্য দান হিসেবে বানিয়ে দিতেন খেজুর পাতার পাটি ও জায়নামাজ। এই তো বছর ১০-১২ আগে আমার বাড়িতে আমার বোনরা বানাতেন সুদৃশ্য খেজুর পাতার পাটি। এই পাটিকে বলা গ্রামের শীতল পাটি।
@@ তৈরির প্রক্রিয়া: প্রথমে খেজুর গাছের ডাল কেটে রৌদ্রে উত্তম রূপে শুকাতে হবে। এর পর ডাল হতে পাতা গুলি ছিঁড়ে নিতে হবে। এর পর ঐ শুকনো পাতা গুলির গোঁড়ার দিকে বোটার অংশ এবং সামনের ছুঁচালো কাটার অংশ  কেটে ফেলে দিতে হবে। এর পর পাতাকে দু ভাগে ভাগ করতে হবে। এই দুই ভাগ কে প্রয়োজন মত চিকন করে পাটি বুননের জন্য পাতা হিসেবে তৈরি করা হয়। এখন পাটির বুননে জন্য দক্ষ একজনের কাছ হতে এর প্রাথমিক নকশা বা শুরুর জাল তৈরি করে নিতে হয়। এর পর শুধু পাতার পর পাতা জোড়া দিয়ে এক একটা লম্বা ৪-৫ আঙ্গুল প্রস্থের সাপের মত লম্বা সীট তৈরি করা হয়।

কেও কেও এই সীটের মধ্যে লাল, নীল রঙ করা পাতা যুক্ত করে পাটি বুনেন। এর এজন্য যে পাতাকে যে রঙ এ রাঙ্গাতে চান তাকে প্রথমে বাজার হতে সস্তা রঙ কিনে এনে প্রথমে পানিতে মিশিয়ে  আগুনে জ্বাল দিয়ে গরম করা হয়, এবার ঐ পানিতে প্রয়োজনীয়  পাতা  (এই দুই ভাগ কে প্রয়োজন মত চিকন করে পাটি বুননের জন্য তৈরি করা পাতা কে।) কে ডুবিয়ে একটু সিদ্ধ করে নিতে হবে। এতে রঙ গুলি ঐ পাতায় ঢুকে যাবে। এখন ঐ পাতাকে উত্তম রূপে রৌদ্রে শুকিয়ে নিতে হবে। এবার পাটির সীটের মাঝে মাঝে লাল বা সবুজ পাতা দিয়ে পাটি বুনানো হয়। এই পাটি গুলি দেখতে এত সুন্দর উন্নত মানের কার্পেট এর কাছে নস্যি। এই লম্বা সীট গুলি একটা পাটির মত তৈরি হলে এগুলিকে সাপের মত গোল করে জড়িয়ে রাখা হয়। লম্বা সীট হতে একটা একটা পার্ট কেটে নেওয়া হয়। যত লম্বা পাটি আপনি চান সেই মত দৈর্ঘ্যে এক একটি কেটে নিয়ে এই সীট পার্ট গুলি আবার একটার সঙ্গে একটা জুড়ে দেওয়া হয় পাতা দিয়ে। এই জোড়া গুলি এমন মসৃণ ভাবে দেওয়া হয় কি বলব। এ যেন একটা শিল্প। পার্ট পার্ট জোড়া দিয়ে এবার দৈর্ঘ্যের দিকে কাটা মাথা মুড়িয়ে নিচের দিকে সেলাই করা হয় সুতা দিয়ে। এভাবে তৈরি হয়ে গেল একটা পাটি। এবার কি কাজে ব্যবহার করবেন ঠিক করে ব্যবহার করুন প্রয়োজন মত।
তবে এখন খুব কম তৈরি হয় এই পাটি। গ্রামে গেলে মাঝে মাঝে দেখি।

গ্রামের মহিলারা অবসরে বুনিয়ে এক একটা পাটি তৈরি করতে সময় লাগে প্রায় ৪-৬ মাস। আগে এক একটা পাটি ৫০-২০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রয় করতেন এ সব মহিলারা। এ ক্ষুদ্র আয় প্রচেষ্টা পরিবারকে দিতে চেষ্টা করতেন একটু সচ্ছলতা।
(ছবি দিতে চেষ্টা করেছিলাম , কিন্তু ছবি পাওয়া গেল না।বাড়িতে ঈদে গেলে তুলে এনে আপলোড করে সামনে কোন একদিন হয়তো হাজির হব)।
https://www.facebook.com/golammaula.aka … 6445149618

গোলাম মাওলা , ভাবুক, সাপাহার, নওগাঁ

Re: “খেজুর পাতার পাটি”

nice share .