টপিকঃ @@কৃষিতে নতুন দিগন্ত ----কেঁচো চাষ@@

@@কৃষিতে নতুন দিগন্ত ----কেঁচো চাষ@@

ছোট কালে ছিপ দিয়ে মাছ ধরেননি এমন  গ্রামের মানুষ মনে হয় খুব কময় আছে। আর সে সময় গা ঘিনঘিন করা এই কেঁচো নামের ছোট্ট প্রাণীটি ছিল  মাছ ধরার টোপ হিসেবে খুব জনপ্রিয়। দেখলেই গা ঘিনঘিন করা এই ছোট্ট প্রাণীটি অনেক ভালো সার হিসেবে কাজ করে সেটি সেই প্রাচীন কাল হতে কৃষকরা  যেনে আসছেন।কিন্তু কেঁচো চাষ করে মিশ্র সার হিসেবে ব্যবহার করার ধারনা আধুনিক কৃষিবিদদের একটি যুগান্তকারী আবিষ্কার। সারা পৃথিবীতে প্রায় ২৫০০ প্রজাতির কেঁচো সনাক্ত করা গেছে যার মধ্যে প্রায় ৫০০টি প্রজাতি ভারতে পাওয়া যায়। বিভিন্ন ধরণের মাটির সাথেই কেঁচোর বৈশিষ্ট্য পরিবর্তন হয় তাই স্থানীয় মাটিতে সেই স্থানের কেঁচোর সাহায্যেই জৈব সার তৈরি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। বাইরে থেকে কেঁচো নিয়ে আসার কোন প্রয়োজন নেই। পেরিওনিক্স এক্সক্যাভ্যাটাস ও ল্যাম্পিটো মৌরিটোই এই দুধরণের কেঁচোই সাধারনতঃ ভারতে ব্যবহৃত হয়। এই কেঁচো চাষ করা যায় এবং মিশ্রসার প্রস্তুতিতে ব্যবহৃত হয় কিছু সাধারণ পদ্ধতি অবলম্বন করে। বড় গর্ত, ট্যাংক বা কংক্রিটের বৃত্তাকার পাত্র অথবা যে কোন বড় পাত্রে কেঁচোর প্রজনন ঘটিয়ে কেঁচো চাষ করা যায়।



>>কেঁচো দিয়ে জৈব-সার প্রস্তুতি: বর্জ্য প্রকৃতপক্ষে অযত্নে ফেলে রাখা সম্পদ। কৃষি-কার্য, পশুপালন প্রভৃতি থেকে প্রচুর পরিমাণে জৈব-বস্তু পাওয়া যায় যা এককোণে পড়ে থেকে পচে দুর্গন্ধ ছড়ায়। এই জৈব বস্তুকেই আমরা সঠিকভাবে ব্যবহার করে সার তৈরি করে তাতে মূল্য যুক্ত করতে পারি। এর প্রধান লক্ষ্য হল জৈব বর্জ্য মিশিয়ে জমির পুষ্টির জন্য অত্যন্ত উন্নত মানের জৈব সার তৈরি করা।

>>মাটিতে জৈব পদার্থ:  মাটি হচ্ছে উদ্ভিদের পুষ্টি উপাদান সরবরাহের প্রধান উৎস। কিন্তু এই পুষ্টি উপাদান সরবরাহের ক্ষমতা সব মাটির এক রকম নয়। মাটিতে জৈব পদার্থ প্রয়োগ না করে ক্রমাগত উচ্চ ফলনশীল শস্যের চাষ করার ফলে মাটির পুষ্টি উপাদান ক্রমে হ্রাস পাচ্ছে। উর্বর মাটিতে পাচঁ ভাগ জৈব পদার্থ থাকতে হয়। মাটির পানি ধারণক্ষমতা ও বায়ু  চলাচল বাড়াতে পাঁচ ভাগ জৈব পদার্থ থাকার কথা থাকলেও বাংলাদেশের মাটিতে রয়েছে এক দশমিক আট থেকে দুই ভাগ। জৈব পদার্থের পরিমাণ বাড়াতে কম্পোষ্ট সার, পচা আবর্জনা, সবুজ সারের যেমন ভূমিকা, কেঁচো সারের ভূমিকাও তেমনি অসামান্য।  রাসায়নিক সার এবং কীটনাশক প্রয়োগের মাধ্যমে এই পরিস্থতির অবনতি বৈ উন্নতি হচ্ছেনা। ভাল মাটিতে অন্তত ৪% জৈব পদার্থ থাকা প্রয়োজন। অথচ বাংলাদেশে অধিকাংশ জমিতে এটি ১.৫% এরও নীচে। মাটিতে জৈব পদার্থ প্রয়োগ না করে মাটির উর্বরা শক্তির উন্নয়ন বা তা ধরে রাখার কোন উপায় নেই। কেঁচো কম্পোষ্ট এ কাজের জন্য চমৎকার উপযোগী।

>>উৎপাদন:  বাড়ির সব ধরনের জৈব আবর্জনা যেমন-কলাগাছ, কচুরিপানা, গাছের ঝরাপাতা, আগাছা প্রভৃতির সঙ্গে কমপক্ষে ৬০ শতাংশ গোবর মিশিয়ে কুচি কুচি করে কেটে পলিথিন ব্যাগে ভর্তি করে ছায়া-যুক্ত স্থানে ১০-১২ দিন রেখে দিন। একটি ছায়া-যুক্ত উঁচু স্থানে ৫ ফুট বাই ৭ ফুট উচ্চতার ইট-বালু দিয়ে হাউস তৈরি করুন। আবর্জনা মেশানো গোবর হাউসের ভেতর ঢেলে আনুমানিক ৫০০ কেঁচো ছাড়ুন। ওপরে কিছু নারিকেল পাতা দিয়ে তার ওপর চট দিয়ে ঢেকে দিন। শুকনো মৌসুমে প্রয়োজনে ছয়-সাত দিন পর পর এক থেকে তিন কেজি পানি ছিটিয়ে দিন। এ অবস্থায় পরিচর্যা  করলে কেঁচোগুলো আবর্জনা খেয়ে কেঁচো সারে পরিণত করবে। হাউস থেকে সার উঠিয়ে শূন্য দশমিক ৫ সেন্টিমিটার বা ১ ইঞ্চির পাঁচ ভাগের এক ভাগ ছিদ্রযুক্ত চালনি দ্বারা চেলে সার ও কেঁচো আলাদা করতে হবে। সারকে ফসলে এবং কেঁচোকে আবার নতুন সার তৈরির কাজে ব্যবহার করা যাবে। এ ছাড়া গামলা পদ্ধতি, ঘের পদ্ধতি, রিং পদ্ধতিতে কেঁচো সার উৎপাদন সম্ভব।

<<সাবধানতাঃ  পিঁপড়া, উইপোকা, তেলাপোকা, গুবরেপোকা, মুরগি ও বিভিন্ন পাখি কেঁচোর শত্রু। এগুলো কোনো কীটনাশক দিয়ে মারা যাবে না। তবে হাউসের চারদিকে কীটনাশক দেওয়া যাবে। ব্যবহৃত গোবরের সঙ্গে ছাই, বালু, ভাঙা কাচ ইত্যাদি রাখা যাবে না। মুরগি ও পাখির আক্রমণ থেকে বাঁচানোর জন্য হাউসের ওপর ঢাকনা দিয়ে রাখবেন। কেঁচোকে জীবিত ও সক্রিয় রাখতে হাউসে বেশি পানি দেওয়া যাবে না, আবার পানি শুকিয়ে ফেলাও যাবে না। চালনি দিয়ে চালার সময় হাউসে নির্দিষ্ট জাত ছাড়া অন্য জাতের কেঁচো থাকলে তা আর পরে সার তৈরিতে ব্যবহার করা যাবে না

<<বৈশিষ্ট্য:  এ সারে গাছের অত্যাবশ্যকীয় ১৬টি খাদ্য উপাদানের ১০টিই বিদ্যমান। এ ছাড়া এর মধ্যে গাছের অত্যাবশ্যকীয় কয়েকটি হরমোন ও এনজাইম রয়েছে, যা গাছের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি ও ফলের বর্ণ, গন্ধ, স্বাদসহ অন্যান্য গুণগত মান উন্নত রাখে। কেঁচো সার বীজের অঙ্কুরোদ্গমে সহায়ক। এ সার ব্যবহারে ফসলের উৎপাদন খরচ কমে। সব ফসলেই ব্যবহারযোগ্য। বেলে-দোআঁশ মাটিতে এর কার্যকারিতা বেশি। ফলদ গাছ বা উঁচু জমির ফসলে পর পর তিনবার কেঁচো সার ব্যবহার করলে ডিম থেকে উৎপন্ন কেঁচো ওই স্থানে নিজে থেকেই সার উৎপাদন করতে থাকে।

>>পুষ্টিমানঃ  জৈব পদার্থ দিয়ে সাধারণ সার তৈরির পরিবর্তে কেঁচো সার তৈরি করলে এর পুষ্টিমান সাত থেকে ১০ গুণ বাড়ে। সুহৃদ বাংলাদেশ কর্তৃক কুমিল্লা জেলায় উৎপাদিত কেঁচো সারের মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউট ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাটি, পানি ও পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের গবেষণাগারে রাসায়নিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, এর মধ্যে জৈব পদার্থ ২৮ দশমিক ৩২ ভাগ, নাইট্রোজেন ১ দশমিক ৫৭ ভাগ, ফসফরাস ১ দশমিক ২৬ ভাগ, পটাশিয়াম ২ দশমিক ৬০ ভাগ, ক্যালসিয়াম ২ ভাগ, ম্যাগনেসিয়াম দশমিক ৬৬ ভাগ, সালফার দশমিক ৭৪ ভাগ, আয়রন ৯৭৫ পিপিএম, ম্যাংগানিজ ৭১২ পিপিএম, বোরন ০.০৬ ভাগ, জিঙ্ক ৪০০ পিপিএম, কপার ২০ পিপিএম রয়েছে।

>>কেঁচো সারঃ  কেঁচো খাবার খেয়ে মল হিসাবে যা ত্যাগ করে তাই কেঁচোসার। তরিতরকারির ফেলে দেওয়া অংশ,ফলমূলের খোসা,উদ্ভিদের লতাপাতা,পশুপাখির নাড়িভুঁড়ি হাঁস-মুরগির বিষ্ঠা, ছোট ছোট করে কাটা খড়কুটো খেয়ে কেঁচো জমির জন্য সার তৈরি করে। এ সার সব ধরণের ফসল ক্ষেতে ব্যবহার করা যায়।

>>কী আছে কেঁচোসারেঃ   ‘ ভার্মি কম্পোষ্ট’ বা কেঁচোসারে মাটির পানি ধারণ করার ক্ষমতা ও মাটি নরম করার ক্ষমতা তো আছেই,এ ছাড়া আছে আটাশি দশমিক ৩২ ভাগ জৈব পদার্থ, এক দশমিক ৫৭ ভাগ নাইট্রোজেন, এক দশমিক ২৬ ভাগ বোরন-যেগুলো অন্যান্য জৈব সারে এত বেশি পরিমাণে নেই।

কেঁচোসার ব্যবহার করলে চাষের খরচ কম হয়। প্রাকৃতিক লাঙ্গল যে কেঁচো তারও সংখ্যা বাড়ে মাটিতে। উৎপাদিত ফসলের বর্ণ, স্বাদ, গন্ধ হয় আকর্ষণীয়। ফসলের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বাড়ে।


>>কিভাবে স্থানীয় কেঁচো সংগ্রহ করা যায়ঃ  এমন মাটি সনাক্ত করতে হবে যেখানে কেঁচো দৃশ্যমান। ৫০০ গ্রাম গুড় এবং ৫০০ গ্রাম তাজা গোবর ২ লিটার জলে দ্রবীভূত করে ১মি x ১মি এলাকায় মাটির উপরিতলে ভালোভাবে ছিটিয়ে দিতে হবে।
খড়ের ডেলা এবং পুরানো চটের থলি দিয়ে জায়গাটা ঢেকে দিতে হবে।
২০ থেকে ৩০ দিন ক্রমাগত জল ছিটিয়ে যেতে হবে। এই জায়গাতেই একসাথে বহু কেঁচোর জন্ম হবে যাদের সহজেই সংগ্রহ এবং ব্যবহার করা যাবে।

>>মিশ্রসার তৈরী করার গর্ত বানানোঃ প্রয়োজনানুযায়ী গর্ত তৈরী করে নেওয়া যেতে পারে বাড়ীর উঠোনে অথবা বাগানে বা মাঠে। একটি অথবা দুটি গর্ত করা যেতে পারে বা ইঁট ও চুন-সুরকী দিয়ে যেকোন মাপের ট্যাংক, জল যাওয়ার জায়গা সহ তৈরী করে নেওয়া যেতে পারে।  ২মি x ১মি x ০.৭৫মি হচ্ছে এই কাজের জন্য আদর্শ। জৈব ও কৃষি বর্জ্যের উপর নির্ভর করবে গর্তের মাপ। কেঁচোগুলিকে পিঁপড়ের আক্রমণ থেকে রক্ষা করার জন্য গর্তের মাঝ-বরাবর অস্থায়ী প্রাচীরে জল জমিয়ে রাখা যায়।

>>চারটি প্রকোষ্ঠযুক্ত গর্ত/ট্যাংক ব্যবস্থাঃ  সম্পূর্ণ জৈব-সারের প্রকোষ্ঠ থেকে প্রক্রিয়াকরণের পূর্বের বর্জ্য প্রকোষ্ঠে কেঁ****ের যাতায়াতের সুবিধা করার জন্যই চারটি প্রকোষ্ঠযুক্ত গর্ত বা ট্যাঙ্ক তৈরী করা হয়।

>>কেঁচো প্রজননের বেড(ভার্মিবেড) তৈরিঃ 
•    প্রায় ৫ সেমি পাতলা সুরকি এবং মোটা বালির একটি স্তরের উপর ১৫-২০ সেমি মোটা ভালো মানের জলীয় বোঁদ স্তরেই প্রকৃতপক্ষে কেঁচোর প্রজনন-বেড হয়।
•    কেঁ****ের এই বোঁদ মৃত্তিকায় পরিচিত করানো হয় যাতে সেখানে তারা তাদের বাসস্থান বানায়। ২মি x ১ম x ০.৭৫ মি মিশ্র-সারের গর্তে ১৫০টি কেঁচোর বাসস্থান তৈরী হতে পারে যেখানে কেঁ****ের বেড ১৫-২০ সেমি মোটা হবে।
•    এই বেডের উপর মুঠো করে গোবর বিভিন্নভাবে ছড়িয়ে দিতে হবে।খড় বা শুকনো পাতা বা কৃষিজ বর্জ্য ৫সেমি পুরু করে মিশ্রসারের গর্তে প্রলেপ দিতে হবে। পরের ৩০ দিন গর্তের ভেজাভাব বজায় রাখতে হবে প্রয়োজনমত জল দিয়ে।
•    বেড শুষ্ক অথবা আর্দ্র কোনটাই হবে না। এরপর গর্তটি নারকেল পাতার /তালপাতার অথবা পুরানো চটের থলি দিয়ে ঢেকে দিতে হবে যাতে পাখিদের নজরে না পড়ে।
•    শয্যায় প্ল্যাস্টিক শীট ব্যবহার করা যাবে না যেহেতু সহজেই গরম হয়ে যায়। প্রথম ৩০ দিনের পরে সামান্য আর্দ্র প্রাণীজ অথবা উদ্ভিজ্জ বর্জ্য রান্নাঘর, হোটেল, হোস্টেল বা খামার থেকে সংগ্রহ করে ৫ সেমি পুরু করে ছড়িয়ে দিতে হবে। সপ্তাহে দু-বার এই প্রক্রিয়া পুনরাবৃত্তি করা উচিত।
•    কোদাল বা গাঁইতি দিয়ে নিয়ম করে এই সমস্ত জৈব বর্জ্য ভালোভাবে মিশিয়ে দিতে হবে।
•    সঠিকভাবে আর্দ্র ভাব ধরে রাখতে নিয়মিত জল দিতে হবে। খুব শুকনো আবহাওয়া হলে ১৫ দিন অন্তর জল দিতে হবে।

>>মিশ্রসার প্রস্তুত কখন সম্পন্ন হবে?

১। যখন পদার্থগুলি সামান্য ঝুরঝুরে হয়ে যাবে এবং মিশ্র সারের রঙ গাঢ় বাদামী হয়ে যাবে তখন-ই মিশ্রসার প্রস্তুত সম্পন্ন হয়েছে বলে ধরে নিতে হবে। দানাদার, কালো, হাল্কা এবং বোঁদযুক্ত হবে।
২। ৬০-৯০ দিনের মধ্যেই (গর্তের আকৃতির উপর নির্ভর করবে) মিশ্রসার প্রস্তুত সম্পন্ন হবে। উপরের বেডে কেঁচোর উপস্থিতিতেই তা বোঝা যাবে। এখন গর্ত/পাত্র থেকে এই কেঁচোর মিশ্র-সারের চাষ করা যাবে।
৩। মিশ্র-সার থেকে কেঁচোগুলিকে আলাদা করার জন্য বেড খালি করার ২-৩ দিন আগে জল দেওয়া বন্ধ করতে হবে। এর ফলে প্রায় ৮০% পোকা নীচে চলে যাবে।
৪। ঝাঁঝরি বা চালুনি দিয়েও কেঁ****ের আলাদা করা যায়। কেঁচো এবং সামান্য পুরু পদার্থ যা ঝাঁঝরির উপরে থেকে যাবে তাকে আবার গর্তে ফেলে দিতে হবে যেখানে পুনরায় পদ্ধতিটি শুরু হবে। মিশ্রসারের গন্ধ মাটির মত। যেকোন খারাপ গন্ধ এটাই প্রমাণ করে পচন প্রক্রিয়া শেষ হয়নি এবং ব্যাক্টিরিয়ার কার্য-ক্রিয়া চালু আছে। ছাতা-ধরা বা বাসীগন্ধের মানে নাইট্রোজেন বেরিয়ে যাচ্ছে। যদি এমন ঘটে তাহলে বায়ুচলাচলের ব্যবস্থা করতে হবে এবং আরও বেশী করে তন্তু জাতীয় পদার্থ যোগ করতে হবে এবং শুষ্ক রাখতে হবে। এরপরে মিশ্রসারকে ছেঁকে নিয়ে প্যাকেট করতে হবে।
৫। উত্পন্ন পদার্থ বোঝাই করে সূর্যের আলোয় রাখতে হবে যাতে বেশীরভাগ পোকা বেরিয়ে যায়।
৬। দুই বা চার প্রকোষ্ঠ-যুক্ত ব্যবস্থায় প্রথম প্রকোষ্ঠে জল দেওয়া বন্ধ করে দিতে হবে যাতে পোকাগুলি নিজের থেকেই এক প্রকোষ্ঠ থেকে অন্য প্রকোষ্ঠে চলে যায় যেখানে উপযুক্ত পরিবেশ নিয়মিত ভাবে রক্ষা করা হয় এবং ফসল উত্পাদন-ও নিয়মিত হতে থাকে।

>>ফসলে কেঁচো সারের ব্যবহার :   বৃষ্টিনির্ভর ফসল তিল, মুগ ছোলা, মাসকলাই, জোয়ার, বাজরা, সরিষা এসব কম পুষ্টি চাহিদা সম্পন্ন ফসলে রাসায়নিক সার ছাড়াই একর প্রতি মাত্র ২০০ থেকে ৩০০ কেজি কেঁচো কম্পোস্ট সার ব্যবহার করে অধিক ফলন পাওয়া যায়। সূর্যমুখী, বার্লি, ভুট্টা ও গম এসব ফসলে কৃষকরা সাধারণত হালকা সেচ, রাসায়নিক সার ব্যবহার করে থাকে। এ ক্ষেত্রে একরপ্রতি মাত্র ৭০০ থেকে ৮০০ কেজি কেঁচো কম্পোস্ট সার ব্যবহার করে অধিক ফলন পাওয়া যায়। পেঁয়াজ, রসুন, আদা, গাজার, আলু, মিস্টি আলু, ঢেঁড়শ, বেগুন, শসা ইত্যাদি ফসলে রাসায়নিক সার ব্যবহার না করে একরপ্রতি মাত্র ১০০০ কেজি কেঁচো কম্পোস্ট সার ব্যবহার করে কৃষকরা অধিক ফলন পাচ্ছেন। ফুলকপি, বাধাকপি, আলু, মরিচ, ধান, টমেটো, রসুন, আদা, হলুদ এসবের ক্ষেত্রে অনুমোদিত রাসায়নিক সারের অর্ধেক মাত্রার সাথে একরপ্রতি মাত্র ১টন কেঁচো কম্পোস্ট সার প্রয়োগের সুপারিশ রয়েছে। বিশেষত ফল বাগানে গাছপ্রতি ১ থেকে ১৫ কেজি কেঁচো কম্পোস্ট সার ব্যবহার করে অধিক ফল পাওয়া যায়।

আমাদের দেশের কৃষক ভাইরা কেঁচো কম্পোস্ট সার ব্যবহার করে কম খরচে অধিক ফলন ঘরে তুলতে পারেন। এতে জমি রাসায়নিক সারের হাত থেকে রক্ষা পাবে এবং উর্বরতা বজায় থাকবে।


>>কেঁচো দিয়ে মিশ্র-সার প্রস্তুতির সুবিধাঃ
•    জৈব-সার কেঁচোর দ্বারা ক্রমাগত ভেঙে বা বিভিন্ন টুকরোয় ছড়িয়ে দেওয়া যায় যার ফলে উন্নত গঠনের স্থায়ী বিষহীন পদার্থ তৈরী হয় যার উচ্চ আর্থিক মূল্য আছে এবং উদ্ভিদের বৃদ্ধির জন্য ভালো মানের কন্ডিশনার হিসাবে কাজ করে।
•    এই ভাবে মিশ্রসার তৈরীর ফলে মাটিতে খনিজ পদার্থের সাম্যতা বজায় থাকে, পুষ্টি সরবরাহ বাড়ায় এবং জটিল সার দানা হিসাবে কাজ করে।
•    রোগসৃষ্টিকারী অনুজীবের সংখ্যা হ্রাস পায়।
•    পরিবেশগত সমস্যা হ্রাস পায়।
•    এই কথা ভালোভাবেই বোঝা দরকার যে কেঁচোর দ্বারা মিশ্র-সার প্রস্তুতি নিম্নমধ্যবিত্তদের একটি উপকারী কুটির শিল্প এবং পরিপূরক আয়ের উত্স।
•    যদি প্রতিটি গ্রামে বেকার যুবক/যুবতীদের নিয়ে সমবায় গড়ে তোলা যায় তবে মিশ্রসার তৈরী একটি ভালো আয়ের উত্স হতে পারে। এতে তারা শুধু অর্থ-ই উপার্জন করবে তাই নয় উন্নত মানের জৈব সার প্রস্তুত করে সমাজের উপকারেও আসবে।
----------------------------------------------------

গোলাম মাওলা , ভাবুক, সাপাহার, নওগাঁ

সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন পরিবেশ প্রকৌশলী (১২-০৩-২০১৪ ০২:২৮)

Re: @@কৃষিতে নতুন দিগন্ত ----কেঁচো চাষ@@

টেক্সটবই কিংবা ইন্টারনেটে এই পদ্ধতি বেশ ওয়েল ডকুমেন্টেড। সার্চ করুন: Vermi composting কী ওয়র্ড দিয়ে (নরমাল পঁচানোকে বলে windrow composting)। দেশে অনেক এনজিওতেই এই কেঁচো পদ্ধতি ব্যবহার করে জৈবসার বানিয়ে বিক্রয় করে (আমার দাদার বাড়িতেই আছে এমন)। এক কেজি লাল কেঁচোর দাম ২২০০ টাকা দেখেছিলাম প্রায় ৫ বছর আগেই।  smile

বাসায় কিচেন কম্পোস্টার ব্যবহার করা যায়। দেশে এই কাজে Waste Concern নামক এনজিও বেশ ভাল কাজ করছে।

Re: @@কৃষিতে নতুন দিগন্ত ----কেঁচো চাষ@@

অনেক দিন পর ভাল কিছু চোখে পড়ল.... smile

কলমে কালি নাই....

Re: @@কৃষিতে নতুন দিগন্ত ----কেঁচো চাষ@@

আসলেই বেশ আগ্রহউদ্দীপক তো এটা  clap

   নেই, আছে এবং নৈবচ নৈবচ . . . . .
   দেশ, দশ, দুনিয়া তথা বিশ্ব ব্রম্মান্ড হইতে নহে ষাইফ ঋাষেল আপাতত ফেসবুক হইতে আনা গাইয়েবুন