টপিকঃ সচেতন থাকুন, প্রতিকারের উপায় যেখানে অপ্রতুল

আমার মামার জন্য দোয়া করবেন... অনেকদিন থেকে হাসপাতাল ডাক্তার হাসপাতাল করতে করতে এবং রুগীদের মৃত্যু দেখতে দেখতে কেমন যেন রোবট হয়ে গেছি  sad কিছুই ভালো লাগে না... ক্যান্সারের পেশেন্টও হয়তো ভালো হয়ে যায় কিন্তু এভাবে মামার অবস্থা সহ্য করার মতো নয়  sad সবাই কিডনির প্রতি যত্নবান হোন

আমি ফিজিশীয়ান নই। একসময় সামান্য ফিজিওলজি, ফার্মাকলজি পড়েছিলাম বটে কিন্তু বাস্তব অভিজ্ঞতায় এরচেয়ে অনেক দ্রুত কিছু জেনেছি প্রতিনিয়ত ফিজিশিয়ান এর নিকট ঘুরে এবং অন্যান্য ডায়ালাইসিস পেসেন্টদের কেস স্টাডি করে। পাশাপাশি গুগল
কিডনী ড্যামেজ হয়ে যাওয়া বেশ কঠিন, হ্যাঁ অল্প দিনে সেটা হয় না কিন্তু অসুবিধা হলো কিডনী ড্যামেজ ৭৫% না হলে কোন লক্ষন তেমন প্রকট হয় না। তাই আমরা যখন জানতে পারি তখন হাতে খুব বেশী সময় থাকে না। কিন্তু ডায়াবেটিক পেশেন্ট যারা নিয়মিত ফিজিশিয়ানের কাছে যাতায়াত করেন তারাই কিছু আগে জানতে পারেন যে তাঁর কিডনী(নেফ্রন) ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে...
যখন জানতে পারি কিডনিতে সমস্যা তখন কিছু করার থাকে না। উপায় হলো হয় ডায়ালায়সিস অথবা কিডনী প্রতিস্থাপন
ডায়ালাইসিস দুই প্রকার পেরিটোনিয়াল ডায়ালায়সিস এবং হেমো ডায়ালায়সিস।
http://fmmh.ycdsb.ca/teachers/fmmh_edha … alysis.swf

আর কিডনী প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে আমাদের মতো অনগ্রসর দেশের জন্য একটি প্রতিবন্ধকতা অর্থনৈতিক। দেশে হেলথ ইনস্যুরেন্স নেই, কিছু জবে আছে তাও নাম মাত্র। হাতে গোনা যারা দেয় সেখানেও আছে শর্ত
আর জটিল সমস্যা ফরেইন অরগান রিজেকশন। অর্থাৎ আপনি কিডনী নিলেই আপনার শরীর আনন্দে নেচে উঠাবে তা নয়
বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আপনার বডি ইমিনো সিস্টেম ফরেন অরগ্যান হিসেবে সেই কিডনিকে রিজেক্ট করে দিবে। কিডনী কোন কাজেই আসবে না। আগে দেশে ট্রান্সফার সম্ভব না থাকলেও এখন অনেক হসপিটালেই হচ্ছে ( যেমন কিডনি ফাউন্ডেশন, মিরপুর)
সবচেয়ে বড় সমস্যা ডোনার ম্যানেজ করা। আপনি অনাত্মীয় কারও কাছে হয়ত কিডনী নিলেন কিন্তু সেক্ষত্রে রিজেকশন ঝুঁকি অনেক বেশী। দেশে অনাত্মীয় থেকে ট্রান্সপ্লান্ট করে না।
http://www.biologymad.com/resources/kidney.swf
আবার ডায়ালাইসিস খরচও কম নয়। একেকবারে দেড় হাজারের বেশী। এছাড়া ডায়ালাইজার, ইলেক্ট্রোলাইট রিএজেন্ট ( এসিডীক, বাই কার্বোনেট), ব্লাড লাইন, ইপয়টিন আলফা, বেটা ( অনেকে যেটা রক্তের ইনজেকশন বলেন )
এগুলো মিলে খরচ আরও বাড়তে পারে। তবে আসার কথা দেশের কিছু সরকারী হাসপাতালে শিডিউল হিসেবে প্রতি ছয়মাসের জন্য ডায়ালাইসিস খরচ বারো থেকে বিশ হাজার। এজন্য রুগীকে ছয়মাসে সর্বোচ্চ ৪৮ বার ডায়ালিসিসের জন্য অফেরতযোগ্য 
বারো থেকে বিশ হাজার টাকা জমা দিতে হয়। এছাড়া ইপয়টিন ইনজেকশন এর মূল্য মাত্রা ভেদে দেড় থেকে এগারো হাজার টাকার মতো যা প্রতি সপ্তাহ থেকে প্রতি মাসে নিতে হতে পারে ( বেশীরভাগ ক্ষেত্রে প্রতি সপ্তাহে )

কিডনী রোগ প্রতিরোধের জন্য

#ব্লাড প্রেশার নিয়ন্ত্রণে রাখুন
#ফ্যামিলিতে ডায়াবেটিস ইতিহাস থাকলে সাবধান থাকুন
#মাঝে মাঝে হাত বা পা ফোলা দেখা দিলে এড়িয়ে যাবেন না
#নিজেই ডাক্তার সেজে ওভার দা কাউন্টার ড্রাগ এবং ব্যাথা নাশক ঔষধ (NSAIDs) খাবেন না
সামান্য ঘুম, রেস্ট, কাউয়া মাসাজ tongue বা অন্য কোন ভাবে রিলাক্স করা গেলে এজন্য ঔষধ কেন খাবেন??   
#প্রতি ছয় মাস না পারলে ১ বছরের ব্যবধানে ব্লাড গ্লুকোজ এবং ক্রিয়েটিনিন পরীক্ষা করুন ( খরচ খুব বেশী না )
#কিডনিতে সামান্য সমস্যাও ধরা পড়লে অতিরিক্ত টক এবং এসিডিক খাবার এড়িয়ে চলুন
#অনেকের ধারনা অতিরিক্ত পানি খেলে কিডনী ভালো থাকে সবক্ষেত্রেই সেটা সঠিক নয়
#ওজন নিয়ন্ত্রনে    donttell
#মদ্যপান ধূমপান এড়িয়ে চলুন

প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধই কিডনী রোগে বেশী কার্যকর
ভালো থাকুন

  “যাবৎ জীবেৎ সুখং জীবেৎ, ঋণং কৃত্ত্বা ঘৃতং পিবেৎ যদ্দিন বাচো সুখে বাচো, ঋণ কইরা হইলেও ঘি খাও.

Re: সচেতন থাকুন, প্রতিকারের উপায় যেখানে অপ্রতুল

দরকারী পোস্টটির জন্য ধন্যবাদ দাদা।

সব কিছু ত্যাগ করে একদিকে অগ্রসর হচ্ছি

লেখাটি CC by-nd 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত