টপিকঃ ক্র্যাশ ইনভেস্টিগেশন ১: মিরাকল অফ হাডসন।

গত বেশ কিছুদিন ধরে সময় পেলেই ক্র্যাশ ইনভেস্টিগেশনগুলো দেখা হয়। মোটামুটি এডিক্টেড হয়ে গেছি। তো সেই সূত্র ধরেই এই টপিকের অবতারনা।


১৫ জানুয়ারী, ২০০৯, নিউইয়র্কের লাগার্ডিয়া এয়ারপোর্ট থেকে একটি এয়ারবাস ৩২০ চমৎকারভাবে টেক অফ করে। কিন্তু তাদের জার্নি ততটা চমৎকার হয় নি, টেক অফ করার কিছুক্ষনের মধ্যেই দুইটি ইঞ্জিনই হারিয়ে বাধ্য হয়ে ক্র্যাশ ল্যান্ড করে হাডসন নদীতে। সাধারনত উড়ন্ত প্লেনের গতি এতটাই বেশী থাকে যে সেটাকে চাইলেই পানিতে নামিয়ে আনা সম্ভব না, সামান্য ওয়েভের কারনে প্লেন মূহূর্তে চূর্ণ বিচূর্ন হয়ে যেতে পারে। কিন্তু অবাক করার ব্যাপারটি হলো, Flight 1549 এর একজন যাত্রীও ওই দূর্ঘটনায় মারা যান নি। সর্বমোট ৫ জন আহতদের মধ্যে মাত্র ২জন গুরুতর আহত হয়েছিলেন সেদিন।
এমনকি দূর্ঘটনাতে প্লেনটিও মোটামুটি অক্ষতই থেকে গিয়েছিল। আর এরকম দূর্ঘটনায় পড়েও বেচে যাওয়াতে প্লেনটির টাইটেলই হয়ে গেল "Miracle of Hudson"

http://assets.nydailynews.com/polopoly_fs/1.148938!/img/httpImage/image.jpg_gen/derivatives/landscape_635/alg-us-airways-hudson-jpg.jpg

সাধারনত একই সাথে দুইটি ইঞ্জিন হারানো স্বাভাবিক ঘটনা নয়। কি হয়েছিল সেদিন ?

বিকেল ৩:২৫ এ টেক অফ করার ঠিক দুই মিনিট পরেই ফার্স্ট পাইলট স্কাইলস লক্ষ্য করেন একঝাক পাখি (কানাডিয়ান গিস) উড়ে আসছে প্লেন বরাবর। প্রায় কিছু বুঝে উঠার আগেই পাখিগুলো আঘাত হানে প্লেনের ইঞ্জিনে। এবং মূহুর্তের মধ্যে ইঞ্জিন পাওয়ার হারায় দুটি ইঞ্জিনই। প্লেন তখন মাটি থেকে ২৮১৮ ফিট উপরে এবং রানওয়ে থেকে প্রায় সাড়ে ৪ কিলো দূরে। টাওয়ারের সাথে কন্টাক্ট করেন স্কাইলস, তাদের জানানো হয় দুটি ইঞ্জিনই নষ্ট হয়ে যাওয়াতে তারা আপাতত গ্লাইড করছেন, একই সাথে পুনরায় ইঞ্জিনগুলো চালু করার জন্য তারা চেকলিস্ট চেক করা শুরু করেন। চেকলিস্টের সাইজ মাত্র ৩ পৃস্ঠা।

রানওয়েতে ফিরে আসবে কিনা জানতে চাইলে পাইলট সংক্ষেপে উত্তর দেন, সেটা সম্ভব নয়, প্লেনের উচ্চতা কমে আসছে, তাতে করে তারা রানওয়েতে ফিরে আসার আগেই ক্রাশ করবে। টাওয়ার থেকে জানানো হয় তাদের কাছাকাছি আরেকটি এয়ারপোর্ট আছে তারা ইমার্জেন্সী ল্যান্ডিং নেয়ার জন্য প্রিপেয়ার্ড, তারা সেখানে ল্যান্ড করার চেষ্টা করবে কিনা। পাইলট প্রথমে জবাব দেন যে তারা চেষ্টা করবে। কিন্তু কিছুক্ষনের মধ্যে তারা আবিস্কার করেন, সেটি সম্ভব নয়, অতদূর তারা যাওয়ার আগে প্লেন নিয়ন্ত্রনের বাইরে চলে যাবে। 

কোথাও ল্যান্ডিং এর জায়গা নেই, অবধারিত মোটামুটি, প্লেনটি ক্রাশ করতে যাচ্ছে। এয়ারবাস ৩২০ তার ১৫৫ জন যাত্রী এবং ক্রু সহ ক্র্যাশ করবে কোথাও। এমন সময় স্কাইলস কন্ট্রোল টাওয়ারকে জানান, তিনি প্লেনটিকে হাডসন নদীতে নামিয়ে দিতে চান। নদীতে নামিয়ে ফেলা খুব সহজ কাজ নয়। ইঞ্জিন ছাড়া প্রচন্ড গতিতে সোজা পানিতে নেমে আসার সময় বিন্দুমাত্র বাধা পেলে চূর্ন বিচূর্ন হয়ে যাবে প্লেনটি। নদী পুরোপুরি ফাকা থাকাও আশা করা যায় না সবসময়। কন্ট্রোল টাওয়ারের এটেন্ডেন্ট হতাশ হয়ে গেলেন, এটি নিশ্চিতভাবে ক্র্যাশ করবে। তার সাথে পাইলটের শেষ কথাটি ছিল "We gonna be in Hudson"

স্কাইলস প্লেনটিকে নামিয়ে আনতে যাচ্ছেন হাডসন নদীতে, কিন্তু ভিতরের প্যাসেঞ্জাররা কিছুই জানেন না তখন, এমন সময় স্পিকারে ভেসে আসলো পাইলটের গলা। কোন রকম আশার বানী শুনানোর বদলে ক্যাপ্টেন খুব সংক্ষেপে একটি কথাই বললেন "Brace for Impact" জানালা দিয়ে তারা দেখতেই পাচ্ছিলেন প্লেন নদীতে নেমে আসছে খুব দ্রুত কিন্তু পাইলটের এই কথাটি তাদের জন্য মোটেও সুখকর ছিল না। ফ্লাইট এটেন্ডেন্ট তাদের দেখিয়ে দিলেন কিভাবে সতর্ক হতে হবে।

যাত্রা শুরু করার ঠিক ছয় মিনিট পরে বিকেল ৩:৩১ মিনিটে প্লেনটি হাডসনের পানিতে ডিচ করে। কোন রকম ইঞ্জিন ছাড়া এই সময় প্লেনের গতি ছিল প্রায় ২৪০ কিলোমিটার প্রতি ঘন্টায়। পাইলট তার বিচক্ষনার সাথে প্রথমে প্লেনের টেইল কে পানির সাথে কন্টাক্ট করান, তাতে করে গতি কমে আসে অনেকখানি, আর পরমূহূর্তে সামনের অংশ প্রায় আছড়ে পরে পানিতে। টাচডাউনের পর পরই প্লেন স্থিতি হওয়ার পরেই প্লেন খালি করার ঘোষনা দেয়া হয়, ইমার্জেন্সী এক্সিট দিয়ে প্যাসেঞ্জার রা বের হয়ে উইং এর উপর এসে দাড়ান। মূহুর্তেই তাদের উদ্ধার করার জন্য হাজির হয় অনেকগুলো ফেরী।  নিশ্চিত মৃত্যু থেকে বেচে আসেন ১৫৫ জন যাত্রী।

ব্যাগ খোয়া যাওয়ার কারনে প্রত্যেক প্যাসেঞ্জারকে দেয়া হয় ৫০০০ ডলার, ক্ষেত্রবিশেষে ১০হাজার এবং সাথে আরো ১০০০০ ডলার যাতে করে এয়ারপ্লেন কোম্পানীটির বিরুদ্ধে কোন মামলা করা না হয়। নিশ্চিতভাবেই এখানে প্লেন কোম্পানীটির কোন দোষ ছিল না।


একটা পাখির জন্য কি এতবড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে ? ঠিক কিছুদিন আগেই ঠিক ওই ফ্লাইটেই এরকমই একটি দূর্ঘটনা ঘটেছিল, সেখানে অবশ্য ইঞ্জিন পরে রিস্টার্ট করা গিয়েছিল বলে কোন সমস্যা হয় নি। তারা মোটামুটি ঠিকঠাকবাবেই ল্যান্ড করতে পেরেছিল, তাহলে এটা কেন পারে নি ? ঘেটে দেখা গেল, কানাডিয়ান গিস আকারে অনেক বড়, এবং এর আঘাতে ব্লেডগুলো ভালরকম বেকে গেছিল। অন্য কোন কাহিনি নেই তো ? ইনভেস্টিগেটরা সিমুলেশনে সেইম সিচুয়েশনে টেস্ট পাইলটদের চালাতে দিয়ে বললেন যে কোনভাবে তারা কোন এয়ারপোর্টে রিটার্ন করতে পারতো কিনা। দেখা গেল, কেউই রিটার্ন করতে পারে নি, সবাইই ক্র্যাশ করেছে।

প্লেনের ক্রুদের সবাইকে  মাস্টার্স মেডেল দেয়া হয়, এয়ারপ্লেনের রেকর্ডে যেটি খুবই বিরল সম্মাননা। ইনভেস্টিগেশনের রিপোর্টে বলা হয়, এভাবে প্রায় আড়াইশ কিলোমিটার বেগে ধেয়ে আসা একটি প্লেনকে সফল ভাবে নামানো প্রায় অসম্ভব, কিন্তু পাইলটের বিচক্ষনতা, এয়ারবাসের ৩২০ এর ককপিট উভয়ের কম্বিনেশনই তাদেরকে বাঁচিয়ে দিয়েছে।

Miracle of Hudson কে নিয়ে NatGeo এর ডকুমেন্টারীটি দেখে নিতে পারেন ইউটিউবে:

**সংক্ষেপ করার কারনে কিছু ইনফরমেশন সামারাইজ করা হয়েছে, কিছু ইনফরমেশন বাদ রয়ে গেছে।
** মূল টপিক NatGeo ডকুমেন্টারীর উপরে ভিত্তি করে তৈরী করা, ক্রুশিয়াল ইনফরমেশান নেয়া হয়েছে উইকি থেকে।

Re: ক্র্যাশ ইনভেস্টিগেশন ১: মিরাকল অফ হাডসন।

এ ধরণের প্রোগ্রামগুলো সময় পেলে মিস করিনা।

Re: ক্র্যাশ ইনভেস্টিগেশন ১: মিরাকল অফ হাডসন।

দারুণ! ডিসকভারি আর ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক চ্যানেল মাঝেমধ্যেই এই কাহিনীগুলো দেখায়। দেখি আর মুগ্ধ হই।

আমার সকল টপিক

কোনো কিছু বলার নেই আজ আর...

Re: ক্র্যাশ ইনভেস্টিগেশন ১: মিরাকল অফ হাডসন।

ফাইনালি আসল টপিকটা  hehe
আমি তো ভেবেছিলাম! এটাও মিনি প্যাক আকারে  রয়ে যাবে............  tongue_smile

ইন্টারিস্টিং জিনিস! ক্রাশ ইনভেস্টিগেশন!   ডিসকভারিতে দেখা হত আগে মাঝে মাঝে চোখের তলায় পড়লে আরকি!! ভালোও লাগত আবার ভয়ও লাগে!
কখন হয় একজ্যাক্ট বাংলাদেশি সময়টা বলতে পারবে কেউ!!

সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন invarbrass (১৮-০১-২০১৪ ১৯:৫৯)

Re: ক্র্যাশ ইনভেস্টিগেশন ১: মিরাকল অফ হাডসন।

ভালো লিখেছেন  clap

টিভি টুভি দেখি না। তবে Flight 1549 সম্পর্কে বেশ কিছু আর্টিকল পড়েছিলাম তখন - ক্যাপ্টেন সালেনবার্গার তখন ন্যাশনাল হিরো-র সম্মান লাভ করেছিলেন মনে আছে।

একই বছর (২০০৯) আরেকটি প্লেইন ক্র্যাশ হয়েছিলো - আশিয়ানা এয়ারলাইন্সের Flight 214। ওই দুর্ঘটনা নিয়ে একটি মন খাারপ করা খবর পড়লাম গতকাল।
প্লেইন ক্র্যাশ হবার পর ঘটনাস্থলে ছিটকে পড়েছিলো ১৬ বছরের এক চাইনীজ কিশোরী। মেয়েটি অচেতন হলেও বেঁচেই ছিলো। কিন্তু উদ্ধার করতে আসা ফায়ারট্রাকের তলায় চাপা পড়ে বেচারী মারা যায়ঃ
http://i.imgur.com/OGdBhkC.jpg

দুঃখজনক ব্যাপার, রেসকিউ ক্রু-রা জানতো একজন যাত্রী মাটিতে পড়ে ছিলো, তবুও তাদের অসাবধানতার কারণে দুর্ঘটনা ঘটলো।
http://www.scmp.com/news/china/article/ … nese-teens

Calm... like a bomb.

Re: ক্র্যাশ ইনভেস্টিগেশন ১: মিরাকল অফ হাডসন।

সুন্দর লিখেছেন  thumbs_up

লেখাটি LGPL এর অধীনে প্রকাশিত

Re: ক্র্যাশ ইনভেস্টিগেশন ১: মিরাকল অফ হাডসন।

হুমম, দেখি, আসলে সিরিজ লেখার প্লান নিয়েছি। ইভেনচুয়ালি এটাও থাকতে পারে। আপাতত নেক্সট টা  কনকর্ড কে নিয়ে লিখবো ভাবছি।

Re: ক্র্যাশ ইনভেস্টিগেশন ১: মিরাকল অফ হাডসন।

একটা বিমান আকাশে হঠাৎ করে দুভাগ হয়ে গিয়েছিল। সম্ভব হলে ওটা নিয়ে লিখবেন প্লিজ।

আমার সকল টপিক

কোনো কিছু বলার নেই আজ আর...

Re: ক্র্যাশ ইনভেস্টিগেশন ১: মিরাকল অফ হাডসন।

গৌতম লিখেছেন:

একটা বিমান আকাশে হঠাৎ করে দুভাগ হয়ে গিয়েছিল। সম্ভব হলে ওটা নিয়ে লিখবেন প্লিজ।

TWA800 ফ্লাইট ? আমি গতকালকেই একটা দেখছিলাম, সেটি অবশ্য চীনা ফ্লাইট ছিল, পরিনতি হয়েছে একই, আকাশে ৩ ভাগ হয়ে গিয়েছিল।

১০

Re: ক্র্যাশ ইনভেস্টিগেশন ১: মিরাকল অফ হাডসন।

US airways তে আর চড়া যাবে না। আমি যদিও বেশীর ভাগ টাইম ডেলটা ইউজ করি। তবে লাগেজের ক্ষতিপুরণ ভালই  thumbs_up মাঝে মধ্যে ফ্লাইট সিরিয়াস ডিলে হইলেও টাকা পয়সা দেয় প্যসেন্জারদের..

Rhythm - Motivation Myself Psychedelic Thoughts

লেখাটি CC by 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

১১

Re: ক্র্যাশ ইনভেস্টিগেশন ১: মিরাকল অফ হাডসন।

আহমাদ মুজতবা লিখেছেন:

US airways তে আর চড়া যাবে না। আমি যদিও বেশীর ভাগ টাইম ডেলটা ইউজ করি। তবে লাগেজের ক্ষতিপুরণ ভালই  thumbs_up মাঝে মধ্যে ফ্লাইট সিরিয়াস ডিলে হইলেও টাকা পয়সা দেয় প্যসেন্জারদের..


টাকা পয়সার লোভ কমান মিয়া  tongue
কো ইন্সিডেন্ট বলেন আর যাই বলেন, আমি যতগুলা দেখেছি বেশীরভাগ এক্সিডেন্ট হয়েছে বোয়িং ৭৪৭ এ বা বোয়িং  এ।  এয়ারবাসগুলাতে যে কয়টা এক্সিডেন্টই দেখেছি সেগুলার বেশীরভাগ মোটামুটি সেফ বা পাইলটের ফল্ট ছিল বেশীরভাগ সময়। হাডসনে নেমে আসা প্লেনটি ছিল এয়ারবাস।

১২

Re: ক্র্যাশ ইনভেস্টিগেশন ১: মিরাকল অফ হাডসন।

মেহেদী৮৩ লিখেছেন:
গৌতম লিখেছেন:

একটা বিমান আকাশে হঠাৎ করে দুভাগ হয়ে গিয়েছিল। সম্ভব হলে ওটা নিয়ে লিখবেন প্লিজ।

TWA800 ফ্লাইট ? আমি গতকালকেই একটা দেখছিলাম, সেটি অবশ্য চীনা ফ্লাইট ছিল, পরিনতি হয়েছে একই, আকাশে ৩ ভাগ হয়ে গিয়েছিল।

নাম তো বলতে পারবো না, অনেক দিন আগে ডিসকভারিতে দেখেছিলাম।

আমার সকল টপিক

কোনো কিছু বলার নেই আজ আর...

১৩

Re: ক্র্যাশ ইনভেস্টিগেশন ১: মিরাকল অফ হাডসন।

চমৎকার লিখেছেন, রেপু মাস্ট  hug

   নেই, আছে এবং নৈবচ নৈবচ . . . . .
   দেশ, দশ, দুনিয়া তথা বিশ্ব ব্রম্মান্ড হইতে নহে ষাইফ ঋাষেল আপাতত ফেসবুক হইতে আনা গাইয়েবুন

১৪ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন সদস্য_১ (২০-০১-২০১৪ ০১:৫৪)

Re: ক্র্যাশ ইনভেস্টিগেশন ১: মিরাকল অফ হাডসন।

ভাল লিখেছেন!
মনে আছে ইন্সিডেন্টটা অনেক ড্রামাটিক ছিল।

ঘটনার ড্রামাটিকতার চেয়ে বেশী আশ্চর্য হয়েছিলাম হাডসন নদীতে প্রায় ডুবন্ত বিমানের ডানায় দাড়িয়ে শত লোক উদ্ধারে জন্য অপেক্ষা করার ভিডিও দেখে! উদ্ধার কর্মীদের আগে সেখানে হাজীর হয়েছিল নিউজ কর্মীরা। উদ্ধার কাজ ঠিক মত হলেও আমার মতে আরোও দ্রুত হওয়া উচিত ছিল। প্রথম এবং দ্বিতীয় ফেরী দুটো ছিল আসলে টুরিস্ট ফেরী। সিটি ইমার্জিন্সি রিস্পন্স টিম না! ৪/৫ মিটিন সময় আপাত দৃষ্টিতে কম মনে হলেও তা অনেক সময়।  ল্যান্ডিং করার পর পাইলটটা ইভাকুয়েশন প্রিসিডিউর কম্প্লিট করে, দরজা খুলে একে একে ১৫০ জন লোক বের করে ডানার উপরে দার করিয়েছে... তারও পর প্রথম ফেরী ঘটনাস্থলে যায়...! ৯/১১ এর পরেও ওদের এমন ডিলেমী আমাকে আশ্চর্য করেছিল।

আমার মতে বিমান গ্রাউন্ড লেভেলে নামার আগেই সম্ভাব্য ইম্পেক্ট পয়েন্ট জরুরী এবং নিরাপন্তা বাহিনী হাজির খাকা উচিত ছিল।

১৫

Re: ক্র্যাশ ইনভেস্টিগেশন ১: মিরাকল অফ হাডসন।

সদস্য_১ লিখেছেন:

আমার মতে বিমান গ্রাউন্ড লেভেলে নামার আগেই সম্ভাব্য ইম্পেক্ট পয়েন্ট জরুরী এবং নিরাপন্তা বাহিনী হাজির খাকা উচিত ছিল।

ডকুমেন্টারীতে যেটুকু দেখেছিলাম, পুরো ঘটনার সময় পাইলট অনেক কম কথা বলেছিল। মানে নোট করার মত কথা গুলো হচ্ছে:
->"My Plane"
->"What a beautiful Hudson Today"
-> May Day... We've lost both Engine
-> Unable, Not Possible.
-> "This is captain, Brace for Impact"
-> We gonna be in Hudson.

উনারও মোটামুটি ধরে নিয়েছিলেন মোটামুটি বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটবে। আর ওদিকে কন্ট্রোল টাওয়ারের সাথে সমস্যা ছিল এটাই যে, নির্দিষ্ট উচ্চতার নীচে নেমে যাওয়ার কারনে তারা প্লেনটিকে আর ট্র্যাক করতে পারছিলেন না। কাজেই তারা আসলে জানতেও পারছিলেন না ঠিক কোথায় প্লেনটি ল্যান্ড করবে। (এইটা মূল টপিকে লেখা উচিত ছিল, ভুলে গেছি)।

উদ্ধারকারীদের মধ্যে প্রথম যে ফেরীটি এগিয়ে যায় তার এক উদ্ধারকর্মীর টুইট নিয়ে রিসেন্টলি ম্যাশাবলে একটি প্রতিবেদন করা হয়েছিল। আসলে লোকালী যারা ছিল তারাই ইনস্টান্ট রিএ্যাকশন দেখানোর সুযোগটা পেয়েছিলেন আর কি।

আমি বেশ অবাক হয়েছিলাম এটা দেখে যে প্লেনটি ডুবে যায় নি, আদৌ ডুবে নি, এমনকি তুলে আনতে অনেক সময় লেগেছিল তাদের, ততদিন ভেসেই ছিল।

১৬

Re: ক্র্যাশ ইনভেস্টিগেশন ১: মিরাকল অফ হাডসন।

তা ঠিক আছে। আমি বলছি সিটিতে এধরনে ঘটনা মনিটর এবং তাৎক্ষনিক একশন নেয়ার জন্য লোক থাক উচিত। এটতো দুর্ঘটনা না হয়ে অন্য কিছুও হতে পারত। প্লেনটা টুইনটাওয়ারের মত আরেকটা আওয়ারে আছড়ে পারতে পারত তাহলে সেটার প্র্রটেকশন কিভাবে দিত  mad

মেহেদী৮৩ লিখেছেন:

আমি বেশ অবাক হয়েছিলাম এটা দেখে যে প্লেনটি ডুবে যায় নি, আদৌ ডুবে নি, এমনকি তুলে আনতে অনেক সময় লেগেছিল তাদের, ততদিন ভেসেই ছিল।

ডুবে যায়নি কারন উদ্ধার কাজের পরপরই এটাকে টেনে পিয়ার্সের কাছাকাছি নিয়ে আসা হয়েছিল এবং পিয়ার্সের কাছে বেধে রাখা হয়েছিল।

১৭

Re: ক্র্যাশ ইনভেস্টিগেশন ১: মিরাকল অফ হাডসন।

সদস্য_১ লিখেছেন:

প্লেনটা টুইনটাওয়ারের মত আরেকটা আওয়ারে আছড়ে পারতে পারত তাহলে সেটার প্র্রটেকশন কিভাবে দিত

সেরকম হলে কিছু করার থাকতো না। টেকঅফ করার ৬মিনিট পরে ক্রাশ, তারমানে এর ফুয়েলট্যাংক মোটামুটি ভরাই ছিল। এক্সপ্লোশানটা ম্যাসিভ হতো। আরেকটা দেখেছিলাম, এয়ারবাস ৩০০ বা ৩৪০ সম্ভবত, টেইল ভেঙে জনবসতির উপর আছড়ে পড়ে, সেটা ছিল দেখার মত। সবাই ধরেই নিয়েছিল সেটা টেররিস্ট এ্যটাক, ইভেনচুয়ালি দেখা গেল সেটা পাইলটের অস্থিরতার কারনে, ট্রেনিং ভুল হওয়ার কারনে।

১৮

Re: ক্র্যাশ ইনভেস্টিগেশন ১: মিরাকল অফ হাডসন।

বাহ্‌, চমতকার লাগল। আসলেই মিরাকল! বিচক্ষণতা আর দ্রুত সিদ্ধান্ত নেবার ক্ষমতার জন্যই বেঁচে গেছে সবাই।

কিছু বাধা অ-পেরোনোই থাক
তৃষ্ণা হয়ে থাক কান্না-গভীর ঘুমে মাখা।

উদাসীন'এর ওয়েবসাইট

লেখাটি CC by-nc 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত