টপিকঃ কৃষ্ণ বিবর

কৃষ্ণ বিবর
ফয়েজ আহমদ
আমাদের অবস্থান কোথায় ?   অর্থাৎ  এই  পৃথিবী  নামক  গ্রহটি  মহাবিশ্বের  কোথায়  অবস্থিত ? এর উত্তর খুজা  শুর   হয়েছে  অনেক   পূর্ব  থেকেই ।   কিন্তু  শেষ  পর্যন্ত—  দেখা  যাচ্ছে এই  বিশাল  মহাবিশ্বে  পৃথিবী  নামক  গ্রহ  খুঁজে  বের  করা  সম্ভব  নয় ।
বৃহৎ  বিস্ফোরণ   মহাবিশ্বের  আরম্ভের   অনন্যতা  অনুসারে  এই  বিশাল  মহাবিশ্ব  সৃষ্টি  হয়েছে  একটি  বিস্ফোরণের   মাধ্যমে ।  যার  বয়স  প্রায়  তের  থেকে  পনের  হাজার  কোটি বছর ।   মহা  বিস্ফোরণ   থেকে  সৃষ্টি  প্রায়  দশ  হাজার  কোটি  গ্যালক্সি  নিয়ে  মহাবিশ্বের বর্তমান  অবস্থান ।   এসব  গ্যালাক্সি  আবার  হাজার  হাজার  নক্ষত্রের  সমন্বয়ে  গঠিত ।   এ রকমই  একটি  গ্যালাক্সি  মিল্কিওয়ে  বা  আকাশ গঙ্গা ।   ধারনা  করা  হয়  এই  মিল্কিওয়ে গ্যালক্সিতে  প্রায়  বিশ  হাজার  কোটি  নক্ষত্র   রয়েছে ।   এই  বিশ  হাজার  কোটি  নক্ষত্রের   মধ্যে  একটি  হল  সূর্য ।  যাকে  কেন্দ্র  করে  আমরা  বেঁচে  আছি ।  বেঁচে  আছে  পৃথিবীর প্রাণীকূল এবং উদ্ভিদকূল ।  প্রতিটি গ্যালাক্সির প্রতিটি  নক্ষত্র   তাদের   নিজস্ব  আলোয় আলোকিত ।  এসব   নক্ষত্রের   আবার  কোনটার  আলো  রঙিন,  কোনটার  রয়েছে  বিচিত্র বর্ণলী ।  এই  আলো  দেখে  আমরা  মনে  করি   নক্ষত্রগুলি  অর্থাৎ  তারা গুলি  জ্বলছে-নিভছে ।  তারা গুলি  জ্বলছে-নিভছে  মনে করার কারণ এগুলো  স্থির  নয় ।  আসলে যেগুলো জ্বলছে-নিভছে বলে মনে হয় সেগুলো তারা বা নক্ষত্র  আর যেগুলো  স্থির  বলে মনে হয় সেগুলো গ্রহ বা উপগ্রহ ।
মহাবিশ্বে  প্রতিনিয়ত   নতুন  নতুন  তারার  জন্ম  হচ্ছে । সুতরাং  তারার  সঠিক  হিসাব  পাওয়া সত্যিই  কষ্টসাধ্য ব্যাপার। তবে সকল বিজ্ঞানীই তারা গুলোকে ফুটবলের মতো গোলক বলে ধারণা  করেন।
এখন প্রশ্ন হল এই তারা গুলো কী ?  কি উপায়ে তৈরী হয় ?  এর শেষই বা কোথায়? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজে পেলে আমাদের  কাঙ্ক্ষিত  উত্তর  খুঁজে  পাব ।
আমাদের  কাঙ্ক্ষিত  প্রশ্নটি  হল-  "ব্ল্যাক হোল  বা  কৃষ্ণ  বিবর "
ব্ল্যাক হোল হল এমন এক  বিবর  বা  গহ্বর  যেখানে কোন মহাকাশযান  পড়লে আর বেরিয়ে আসতে পারেনা ।   অর্থাৎ  ব্ল্যাক হোলের  সীমানায়  কোনোকিছু  পড়ে  গেলে  সেখান  থেকে  ফিরে   আসা অসম্ভব ।   ব্ল্যাক কহোলের  মধ্যাকর্ষণ   শক্তি এতই প্রবল যে সেথান থেকে মহাকাশযান বা বস্তু বেরিয়ে আসাতো দূরের কথা আলোকে রশ্মি  পর্যন্ত  বেরিয়ে আসতে পারেনা  ।   ব্ল্যাক হোলের  মধ্যে  যদি  কোনো  মানুষ  পড়ে  তাহলে  তাঁর  মাথা  থেকে  পা  এই  সামান্য  ব্যাবধানের  মধ্যে এত বেশি মধ্যকর্ষণ  শক্তি  কাজ করবে যার  কারনে  মুহূর্তের মধ্যে তাকে ছিড়ে টুকরো  টুকরো  করে  ফেলবে ।  তাঁর অবস্থা  হবে  ছেড়া  ছেড়া   সেমাইয়ের  টুকরোর মত ।   এই  ব্ল্যাক হোলকেই  মহাকাশের দানব বলে  আখ্যায়িত  করা হয় ।
কৃষ্ণ বিবর  বা  ব্ল্যাক হোল কী বা সেটা কিভাবে তৈরী হয় তা জানতে হলে প্রথমে জানতে হবে তারকার জীবন চক্র অর্থাৎ তারকা কি উপায়ে তৈরী হয়?
বিভিন্ন রঙের উপর ভিত্তিকরে ন¶ত্রকে চার ভাগে ভাগ করা যায়। যথাঃ-
১. হলুদ প্রধান সারি
২. কমলা প্রধান সারি
৩. সাদাপ্রধান সারি
৪. নীল প্রধান সারি
আবার তারার অবস্থার  উপর ভিত্তি করে আরো কয়েক ভাগে ভাগ করা যায়। যেমনঃ-
১. লোহিত বামন
২. শ্বেতবামন
৩. লোহিত দানব
৪. শ্বেত দানব
৫. হলুদ দানব
৬. নীল দানব
প্রত্যেকটি তারাই আমাদের এই সুন্দর পৃথিবী থেকে বহু দূরে। এসব তারার কোনটির আলো অনেক বছর পর পৃথিবীতে এসে পৌছেছে। আবার কোন তারার আলো এখন পর্যন্ত  পৃথিবীতে এসে পৌছায়নি। কয়েক বছর থেকে কয়েক  লক্ষ  বছর লাগতে  পারে  এসব  তারার  আলো  পৃথিবীতে  পৌছাতে ।  আবার এমন ও তারার আলো দেখছি যেগুলো অনেক আগেই ধ্বংস হয়ে গেছে।
এসব  নক্ষত্র  তারা দেখতে ছোট-বড়, গোলাকার, ত্রিভুজাকার যাই মনে হোক না কেন এদের ভিতরের  কার্যকলাপ   সম্পূর্ণ   রাসায়নিক বিষয়।  নক্ষত্র  উৎপন্ন হয়  নীহারিকা থেকে। এসব নীহারিকা আবার  হাইড্রোজেন গ্যাস ও ধূলিকণার বিশাল ভান্ডার।  এই হাইড্রোজেন গ্যাসই হচ্ছে  নক্ষত্রের  গঠন রহস্যর মূল উপাদান।  যখন বৃহৎ পরিমান হাইড্রোজেন গ্যাস  নিজস্ব  মহাকর্ষীয় আকর্ষণের চাপে নিজের উপরেই চুপসে যেতে থাকে তখই সৃষ্টি হয় একটি তারকার। তারকাটি ধীরে ধীরে সঙ্কুচিত হতে থাকে। সঙ্কুচিত হবার সঙ্গে সঙ্গে বায়ুর  পরমাণু  গুলি  খুব নিকটে আসতে শুর  করে।   ধীরে ধীরে  পরমাণু গুলি এত বেশি ঘন হয় এবং এত  দ্রুতিতে   পারষ্পরিক সংঘর্ষ হতে থাকে, ফলে বায়ু উত্তপ্ত হয়। এমতাবস্থায়  চাপ খুব প্রবল থাকে। শেষ  পর্যন্ত  বায়ু এত বেশী উত্তপ্ত হয় যে, হাইড্রোজেন গ্যাসের সংঘষের্র ফলে পরমাণু গুলি দূরে ছিটকে যাওয়ার কথা। কিন্তু দূরে ছিটকে না গিয়ে সংযুক্ত হয়ে হিলিয়াম গ্যাসে পরিনত হয়। এই প্রক্রিয়াটি   একটি নিয়ন্ত্রিত হাইড্রোজেন বোমা  বিস্ফোরণের   মত।   হাইড্রোজেন বোমা  বিস্ফোরিত  হলে যে রকম তাপ নিগর্ত হয় ঠিক  তদ্রুপ   হিলিয়াম পরমাণু  সৃষ্টির ফলে বিপুল পরিমাণে তাপ নির্গত হয়। আর এই জন্যই তারকাটি আলোক বিকিরণ করে। এই বাড়তি উত্তাপ বায়ুর চাপকে ধীরে ধীরে আরো বাড়িয়ে তোলে। যখন বায়ুর চাপ এবং মহকর্ষীর আকর্ষণ প্রায় সমান হয়ে যায় তখনই বায়ুর  সংকোচন  বন্ধ হয়। পারমাপবিক প্রক্রিয়া থেকে  উদ্ভূত  তাপ এবং মহাকর্ষীয় আকর্ষণের  ভারসাম্যের ফলে তারকাগুলি বহুকাল  পর্যন্ত  সুস্থিত  থাকে। শেষ  পর্যন্ত  কিন্তু  তারকাটির  হাইড্রোজেন এবং অন্যান্য জ্বালানি ফুরিয়ে ও যায়। এখানে একটি ব্যাপর ঘটে যেটা হল  শুরুর   পর্যায়ে তারকাটির জ্বালানী যত বেশী থাকে ফুরিয়ে যায় তত তাড়াতাড়ি, এর কারন তারকার ভর যত বেশী হয় মহাকর্ষীয় আকষণের সঙ্গে ভারসাম্য  রক্ষার  জন্য তারকাটিকে তত বেশী উত্তপ্ত হতে হয়।
আর তারকাটি যত বেশী উত্তপ্ত হবে তার  জ্বালানী তত তাড়াতাড়ি ফুরিয়ে যাবে। আর একটি তারকার  জ্বালানী ফুরিয়ে গেলে সেটা ধীরে ধীরে শীতল হতে থাকে এবং সঙ্কুচিত হতে থাকে। তখন সেই তারকার কী হয় বা কী  ঘটে?
এই প্রশ্নের উত্তর পাওয়া গিয়েছিল ঊনিশশো কুড়ির দশকের শেষের দিকে ঊনিশশো আটাশ সালে। এর সমাধান করেছিলেন ভারতের একজন গ্রাজুয়েট ছাত্র যার নাম  সুব্রহ্মান্যান  চন্দ্রশেখর  (Subrahmanyan  chandrasekhar) .   তিনি  কেম্ব্রিজ  বিশ্ববিদ্যালয়ে   স্যার  আর্থার এডিংটনের কাছে পড়বার জন্য যখন জাহাজ করে ইংল্যন্ডের দিকে রওয়ানা হন তখন তিনি অঙ্ক কষে বের করেছিলেন যে ব্যবহারের ফলে যখন একটি তারকার  সমস্ত  জ্বালানী ফুরিয়ে যায় তখন নিজের মহাকর্ষের  বিরুদ্ধে  নিজেকে বহন করতে হলে একটি তারকার ভর কত হতে হবে?
তার  চিন্তাটি  ছিল এ রকম-  তারকা যখন ধীরে ধীরে   ক্ষুদ্র   হয়ে যায় তখন তারকার    সমস্থ  পদার্থ কণিকাগুলো খুব কাছাকাছি এসে যায় ,   সুতরাং পাউলির অপবর্জন  তত্ত্ব  (একটি  পরমাণুতে  অবস্থানরত ইলেকট্রনগুলোর  নিজেদের মধ্যে  অন্তত  পক্ষে  একটি কোয়ান্টাম সংখ্যার  মান ভিন্ন থাকতেই হবে) অনুসারে তাদের বিভিন্ন গতিবেগ হওয়া আবশ্যিক ।   এজন্য কণিকাগুলো  পরস্পর  থেকে দুরে চলে যেতে থাকে ।  যার ফলে তারকাগুলিতে প্রসারণের চেষ্টা দেখা দেয়।  ঠিক যেমন তারকাটির জীবনের   শুরুতে  মহাকর্ষীয়   তত্ত্বের  সঙ্গে ভারসাম্য  রক্ষা  করেছিল উত্তাপ ।  তেমনি মহাকর্ষীয় আকর্ষণ এবং অপবর্জন  তত্ত্ব ভিত্তিক  বিকিষর্ণের ভারসাম্য  রক্ষিত  হলেই তারকাটি তার নিজস্ব  ব্যাসার্ধ  অপরিবতির্ত  রাখতে পারে।  কিন্তু চন্দ্রশেখর বুঝাতে পেরেছিলেন অপবর্জন  তত্ত্ব ভিত্তিক  বিকর্ষণের  একটি সীমা  আছে ।  আইনস্টাইনের অপেক্ষবাদ  তারকাটির  ভিতরকার    সমস্ত  পদার্থ   কণিকাগুলির  গতিবেগের  পার্থক্যের  সীমা  বেঁধে দিয়েছে ।   এই সীমা হল আলোকের   দ্রুতি ।  অর্থাৎ তারকাটি যথেষ্ট ঘন হলে অপবর্জন  তত্ত্বভিত্তিক  বিকর্ষণ  মহাকর্ষীয় আকর্ষণের চাইতে কম হবে ।   চন্দ্রশেখর হিসাব করে দেখেছিলেন শীতল তারকার ভর অর্থাৎ তারকার জ্বালানী ফুরিয়ে যাওয়ার পর সৃষ্ট শীতল তারকার ভর আমাদের সূর্যের ভরের দেড় গুণের চাইতে বেশী হলে সে নিজের মহাকর্ষের আকর্ষণ হতে নিজেকে  রক্ষা  করতে পরবেনা ।  [বলে রাখা আবশ্যক  যে , সূর্যের ভর  1.9891×1030 kg ] ।  যদি তারকাটি নিজের মহাকর্ষ আকর্ষণ হতে নিজেকে  রক্ষা   করতে না পারে তাহলে তার পরিণতি কী হবে? এই প্রশ্নের উত্তর একটু পরেই আলোচনা করছি।
উনিশশো কুড়ির দশকের শেষের দিকে চন্দ্রশেখর এবং  রুশ  বিজ্ঞানী  লেভ ডেভিডোভিচ ল্যান্ডো তারকার ভর নিয়ে কাজ করছিলেন ।  চন্দ্রশেখর দেখালেন শীতল তারকার ভর  যদি সূর্যের ভরের দেড় গুণের চাইতে বেশী হয় তাহলে সেটি নিজেই নিজেকে  রক্ষা   করতে পারবেনা।  এই  ভরের সীমাকে  চন্দ্রশেখর লিমিট বলা হয়।  কিন্তু একসময় চন্দ্রশেখরের  শিক্ষক  আর্থার এডিংটন চন্দ্র শেখর লিমিটকে মানতে নারাজ হন ।  চন্দ্রশেখর ছিলেন ব্যাপক  অপেক্ষবাদ  সম্পর্কে  একজন বিশেষজ্ঞ।  কথিত আছে তাদের সময়ে তিনজন ব্যক্তি  অপেক্ষবাদ খুব ভাল করে বুঝাতেন। সেই তিনজন হলেন  আইনস্তাইন , আর্থার  এডিংটন  এবং  চন্দ্রশেখর ।  চন্দ্রশেখরের  গবেষণাকে  যখন তারাই  শিক্ষক  মানতে নারাজ হলেন তখন তিনি এই  ক্ষেত্র   পরিত্যাগ করেন।  তারপর  জ্যোতিবিজ্ঞানের  অন্যক্ষেত্রে গবেষণা  শুরু  করেন। কিন্তু ১৯৮৩ সালে  তাঁর  এই গবেষণার জন্যই তাকে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।

একটি তারকার ভর যদি চন্দ্রশেখর সীমার চাইতে কম হয় বা সূর্যের ভরের সমান হয় তাহলে সেই তারকাকে অল্পভর সম্পন্ন তারকা বলে।  এরূপ  তারকার জ্বালানী ফুরিয়ে গেলে কেন্দ্রে মহাকর্ষজনিত সংকোচনের ফলে প্রচন্ড উত্তাপের সৃষ্টি হয়।  এ উত্তাপের ফলে বাইরের এলাকা স্ফীত হয়ে এটি একটি রক্তিম দৈত্যে অর্থাৎ রেড জায়ান্টে পরিণত হয় ।  এক পর্যায়ে রক্তিম দৈত্যের বাইরের আবরণ  কেন্দ্রীয়  অংশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।  অর্থাৎ  তখন তারকাটি সম্ভাব্য অন্তিম  দশায় পরিণত হয়।  এই  অন্তিম  দশা বা বাইরের আবরণ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর যে কেন্দ্রিয় অংশ থাকে সেই কেন্দ্রিয় অংশকে হোয়াইট  ডোয়ারফ  বা শ্বেত চামন বলে। শ্বেত বামন বা হোয়াইট ডোয়ার্ফের ব্যসার্ধ হয় কয়েক হাজার মাইল আর ঘনত্ব হয় প্রতি বর্গ ইঞ্চিতে কয়েকশ টন। শ্বেত বামনের নিজ পদার্থের ভিতরকার ইলেকট্রনগুলির  অন্তর্বর্তী  অপবর্জন তত্ত্বভিত্তিক বিকর্ষণই একটি শ্বেত বামনকে  রক্ষা করে। প্রথম যে কয়টি এই ধরনের তারকা  আবিষ্কার হয়েছিল তার ভিতরে একটি  হল সিরিয়াস  নামক  তারকা । সিরিয়াস   রাতের আকাশের উজ্জল তারকা ।
আমাদের সূর্যের জ্বালানী ফুরিয়ে যেতে এখনো প্রায় পাঁটশো কোটি বছরের প্রয়োজন।  অর্থাৎ  আরো পাঁচশো কোটি বছর পর আমাদের এই সূর্য রক্তিম  দৈত্যে , তারপর  শ্বেত বামনে  পরিণত  হতে পারে।  কিন্তু লেভ ডেভিডোভিচ ল্যান্ডো তারকার সম্ভাব্য আরো একটি   অন্তিম দশার দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলেন।  তিনি দেখিয়েছিলেন কিছু কিছু তারকার ভরের  সীমা সূর্যের এক কিংবা দুই গুণের ভিতরে কিন্তু আকারে এরা শ্বেত বামনের চাইতেও ছোট। এই তারকা গুলিকেও  রক্ষা  করে অপবর্জন  তত্ত্বভিত্তিক বিকর্ষণ ।  কিন্তু এই  বিকর্ষণ  আন্ত নিউট্রন এবং প্রোটনের  তবে  আন্ত  ইলেকট্রনের নয় ।  সেজন্যে  এগুলোকে  বলা  হয়  নিউট্রন  তারকা ।  সেগুলোর  ব্যাসার্ধ  হয় মাত্র দশ মাইলের মতো।   কিন্তু তাদের ঘনত্ব হয় প্রতি ঘন ইঞ্চিতে কোটি কোটি টন।
কোন তারকার ভর যদি চন্দ্রশেখর লিমিটের চাইতে বেশী হয় তাহলে তার পরিণতি এক  পর্যায়ে  ব্ল্যাক হোল  বা  কৃষ্ণ  বিবরে পরিণত হবে। এই কৃষ্ণবিবর  বা  ব্ল্যাক  হোল   শব্দাটির উৎপত্তি খুব  সম্প্রতি ।  ১৯৬৯ সালে জন হুইলার নামে একজন আমেরিকান বিজ্ঞানী এই শব্দটি ব্যবহার করেন।
সূযের্র চেয়ে অনেকগুণ বেশী ভরসম্পন্ন  তারকাকে বেশী ভরসম্পপ্ন তারকা বলা হয়। এ ধরনের তারকার জ্বালানী ফুরিয়ে গেলে তারকা গুলিকে বিরাট সমস্যায় পড়তে হয়। কোন কোন   ক্ষেত্রে  জ্বালানি ফুরিয়ে যাবার পর মহাকষর্ণ জনিত  সংকোচন  খুব  বেশী বৃদ্ধি পায়। ফলে  প্রচণ্ড উত্তাপের সৃষ্টি হয় এবং তারকাটি   বিস্ফোরিত  হয়।  একেই বলে সুপার লোভ বিস্ফোরণ ।  আবার কোন কোন  ক্ষেত্রে  তারা নিজেদের ভর সীমার ভেতরে নিয়ে আসবার মতো যথেষ্ট পদার্থ পরিত্যাগ করতে  সক্ষম  হয়।  এই পদার্থ পরিত্যাগ করার পর অবশিষ্ট যে ভর থাকে তার মান অনুযায়ী দুই রকম ফল পাওয়া যেতে পারে। ভর যদি দুই সৌরভরের চেয়ে বেশী হয় তাহলে সেটি সাধারণত একটি ব্ল্যাকহোলে পরিণত হবে। এই ব্ল্যাকহোলের আয়তন সসীম কিন্তু ভর প্রায় অসীম ।  এ কারণে  ঘনত্ব, অভিকর্ষজ ত্বরণ মুক্তিবেগ ইত্যাদিও  প্রায় অসীম।  কৃষ্ণ বিবরের  মহাকর্ষীয় আকর্ষণ এত প্রবল যে কোন বস্তু এর মধ্যে প্রবেশ করলে বা নাগালের মধ্যে আসলে আর বাইরে আসতে পারেনা। এমনকি আলোক কণিকা ফোটন ও এই আকর্ষণ থেকে মুক্ত হতে পারে না। কৃষ্ণ বিবর  থেকে নির্গত কোন প্রকার ফোটন বা আলোক রশ্মি বেশি দূর যাওয়ার আগেই কৃষ্ণ বিবরের  মহাকর্ষীয় আকর্ষণ তাকে টেনে পেছনে নিয়ে আসবে।
ঘটনাটি এই রকম-  তারকার মহাকর্ষীয়  ক্ষেত্র স্থান কাল  আলোক রশ্মির  গতিপথের  পরিবর্তন করে। অর্থাৎ তারকাটি না থাকলে যে গতিপথ হওয়ার কথা ছিল তার তুলনায় অন্য রকম হয়। যে আলোক শঙ্কুগুলি   স্থান কালে তাদের অগ্র ভাগ থেকে নির্গত আলোকের গতিপথ নির্দেশ করে তারকার পৃষ্ঠের কাছাকাছি সেগুলো ভেতরদিকে সামান্য বেঁকে যায়।  তারকাটি যেমন ধীরে ধীরে সঙ্কুচিত হতে থাকে তার মহাকর্ষীয়  ক্ষেত্রও   ধীরে ধীরে শক্তিশালী হতে থাকে। আর মহাকর্ষীয়  ক্ষেত্র  যত বেশী শক্তিশালী হবে আলোক রশ্মি ততবেশী বেঁকে যাবে। এর ফলে আলোকের নির্গত হওয়া আরো কঠিন হয়ে পড়ে। শেষ  পর্যন্ত তারকাটি যখন সঙ্কুচিত হয়ে একটি বিশেষ  ক্রান্তিক  ব্যাসার্ধপ্রাপ্ত হয় তখন পৃষ্ঠের মহাকর্ষীর  ক্ষেত্র  এমন শক্তিশালী হয় যে আলোক  শঙ্কু   ভিতর দিকে বেঁকে যায়।  সেই বক্রতা এত  বেশী হয় যে আলোক আর সেখান থেকে নির্গত হতে পারে না।
মহাকর্ষীয়  আকর্ষণে  আলোক  আটকে যাওয়ার এ ধারণাটি প্রথম প্রকাশ করেন বৃটিশ ভূ-তত্ত্ববিদ জন মিচেল ১৭৮৩ সালে। তিনি বিজ্ঞানী হেনরি ক্যাভেন্ডিসকে চিঠির মাধ্যমে জানান বিপুল পরিমাণ ভর বিশিষ্ট কোন বস্তু, যার মহাকর্ষের প্রভাবে আলোক তরঙ্গ   পর্যন্ত  পালাতে পারেনা। তারপর একই মতবাদ প্রকাশ করেন  ফরাসি গণিতবিদ ও জ্যোতিবিজ্ঞানী পিয়েরে সিমো  লাপ্লাস  ১৭৯৬ সালে।
কিন্তু তাদের এই ধারণাটি প্রকটভাবে  উপেক্ষিত  হয়।  কারণ সবার বোধগম্য হয়নি যে, আলোর মত ভরহীন তরঙ্গ কিভাবে মধ্যাকর্ষণ  শক্তি  দ্বারা প্রভাবিত হবে।
বোধগম্যহীন জটিল এই  সমস্যার  চূড়ান্ত  সমাধান হয় নোবেল পুরস্কার বিজয়ী জার্মান পদার্থবিদ বিজ্ঞানী  আলবার্ট আইনষ্টাইনের  আপেক্ষিকতা   তত্ত্ব  আবিষ্কারের মাধ্যমে। তবে  আপেক্ষিকতা  তত্ত্ব  আবিস্কারের    পূর্বেই   মধ্যাকর্ষণ  শক্তি দ্বারা আলোর গতি প্রভাবিত হওয়ার ব্যাপারটি প্রমাণিত হয়েছিল।
অপেক্ষবাদ  অনুসারে আলোকের চেয়ে দ্রুতগামী কিছু হতে পারেনা ।  সুতরাং কৃষ্ণবিবর  থেকে আলোকই যদি মুক্ত হতে না পারে তাহলে আর কিছুই মুক্ত হতে পারবেনা। এর মহাকর্ষীয়  ক্ষেত্র  সবকিছুকে টেনে পেছনে নিয়ে যাবে।
অতি বিশাল, কালো আর শক্তিশালী এই   কৃষ্ণ বিবরের কোন  প্রত্যক্ষ  প্রমাণ এখন  পর্যন্ত  বিজ্ঞানীদের হাতে এসে পৌছায়নি। যেহেতু  কৃষ্ণ বিবর  থেকে কোন প্রকার বস্তু বা আলোক রশ্মি বেরিয়ে আসতে পারেনা তাই কৃষ্ণ বিবরের অনুপস্থিতির ব্যাপারে এটা ও একটা কারণ হতে পারে। তবে বিজ্ঞানীরা কৃষ্ণ বিবরের উপস্থিতির ব্যাপারটা নির্ধারণ করেন কোন স্থানের  নক্ষত্রের  গতি ও দিক  গবেষণা   করে। কৃষ্ণ বিবরের  সীমানাকে বলা হয় ঘটনা দিগন্ত  আর কৃষ্ণ বিবরের  ব্যাসার্ধকে বলা হয় সোয়ার্জশিল্ড  ব্যাসার্ধ  (বিজ্ঞানী  কার্ল সোয়ার্জশিল্ড  এর নামানুসারে  কৃষ্ণ বিবরের  ব্যাসার্ধের  নামকরণ  করা  হয়েছে সোয়ার্জশিল্ড ব্যাসার্ধ  ।  উনিশশ  ষোল  সালে  তিনি  বিজ্ঞানী আইন স্তাইনের  "ফিল্ড  ইকোয়েশন "  নিয়ে  কাজ  করতে  গিয়ে  এই  ব্যাসার্ধের  প্রস্তাব  করেন ) ।  সোয়ার্জশিল্ড ব্যাসার্ধ   প্রাপ্ত  হয়  তখনই  যখন  কোনো  তারকা  ক্রান্তিক  ব্যাসার্ধ  প্রাপ্ত  হয় ।
কৃষ্ণ বিবরকে ভাগ করা হয় তার মাঝে থাকা ভর, আধান , কৌণিক ভরবেগের উপর ভিত্তি করে। অনেক কৃষ্ণ বিবর আছে  যাদের শুধু ভর আছে কিন্তু আধান বা কৌণিক ভরবেগ নেই ।  এগুলোকে বলা হয় সোয়ার্জ শিল্ড  কৃষ্ণ বিবর । ভরের উপর ভিত্তি করে বলা যায় চার ধরনের  কৃষ্ণ বিবরের কথা। যেমন-
১.  Super Massive Blackhole (সুপার মেসিভ ব্ল্যাকহোল)
২. Intermediate Blackhole (ইন্টারমিডিয়েট ব্ল্যাকহোল)
৩. Steller Blackhole (মাইক্রো ব্ল্যাকহোল)
৪. Micro Blackhole  (মাইক্রো ব্লাকহোল)
এ সকল কৃষ্ণ বিবর  ছাড়া  চার্জড ব্লাকহোল (Charged Blackhole),  রোটেটিং ব্লাকহোল (Rotating Blackhole) এবং ষ্টেশনারী  ব্লাকহোলের   (Stationary Blackhole)  বর্ণনা পাওয়া যায়  ঝথাক্রমে-  Reissner-Nordstrom metric , Kerr metric  এবং  Kerr-Newman  metric  এর  সাহায্যে ।
বর্তমানে এই ব্ল্যাকহোল নিয়ে পদার্থবিজ্ঞানী ষ্টিফেন  ডব্লিউ  হকিং তাঁর  "এ ব্রিফ হিস্টরী অফ টাইম"  বইয়ে বিভিন্ন ভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। যা প্রমাণিত হলে  যুগান্তকারী সৃষ্টি বলে প্রমাণিত হবে এই পৃথিবীতে।

Re: কৃষ্ণ বিবর

অনেক বড় টপিক লিখেছেন অভিনন্দন রইলো  big_smile

এখনো অনেক অজানা ভাষার অচেনা শব্দের মত এই পৃথিবীর অনেক কিছুই অজানা-অচেনা রয়ে গেছে!! পৃথিবীতে কত অপূর্ব রহস্য লুকিয়ে আছে- যারা দেখতে চায় তাদের নিমন্ত্রণ।

Re: কৃষ্ণ বিবর

foyez ahmed লিখেছেন:

তবে  আপেক্ষিকতা  তত্ত্ব  আবিস্কারের    পূর্বেই   মধ্যাকর্ষণ  শক্তি দ্বারা আলোর গতি প্রভাবিত হওয়ার ব্যাপারটি প্রমাণিত হয়েছিল।

আমার ধারনা ছিলো ব্যাপারটি ১৯১৯ সালে সূর্য গ্রহনের সময় প্রমানিত হয়।  thinking

foyez ahmed লিখেছেন:

বর্তমানে এই ব্ল্যাকহোল নিয়ে পদার্থবিজ্ঞানী ষ্টিফেন  ডব্লিউ  হকিং তাঁর  "এ ব্রিফ হিস্টরী অফ টাইম"  বইয়ে বিভিন্ন ভাবে ব্যাখ্যা করেছেন।

হকিং সাহেবের আরেকটা বই আছেঃ ব্ল্যাক হোল অ্যান্ড বেবি ইউনিভারস।  big_smile

আপনাকে ধন্যবাদ।

Re: কৃষ্ণ বিবর

thumbs_up

একটু ছবিটবি দিয়ে বুঝালে অবশ্য আরেকটু ভালো লাগতো।

আমার সকল টপিক

কোনো কিছু বলার নেই আজ আর...

Re: কৃষ্ণ বিবর

অনেক তথ্য! কিছুকিছু টার্ম বাংলায় পড়তে অদ্ভুত লাগে।
ব্লাক হোলের অস্তিত্বের সাপেক্ষে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় প্রমান হল বেশ কয়েকটা গ্যালাক্সির কেন্দ্র (আমাদের নিজ গ্যালাক্সি মিল্কিওয়ে সহ)।
মিল্কওয়ের কেন্দ্র পর্যবেক্ষন করলে দেখা যায় কেন্দ্রের একেবারে নিকটে, অনেক গুলো নক্ষত্র গুচ্ছ গ্যালাক্সির কেন্দ্রকে খুব দ্রুত বেগে প্রদক্ষিন করছে। কিন্তু কাকে কেন্দ্র করে এরা প্রদক্ষিন করছে সেটা খুজতে গেলে আর কিছু পাওয়া যায়না। তাই যুক্তি হল এতোগুলো নক্ষত্রকে এতো বিশাল বেগে ঘুরাতে হলে কেন্দ্রে যে বিশাল ভর প্রয়োজন সেটা শুধু ব্লাক হোলের মধ্যেই থাকা সম্ভব।

Re: কৃষ্ণ বিবর

সদস্য_১ লিখেছেন:

অনেক তথ্য! কিছুকিছু টার্ম বাংলায় পড়তে অদ্ভুত লাগে।
ব্লাক হোলের অস্তিত্বের সাপেক্ষে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় প্রমান হল বেশ কয়েকটা গ্যালাক্সির কেন্দ্র (আমাদের নিজ গ্যালাক্সি মিল্কিওয়ে সহ)।
মিল্কওয়ের কেন্দ্র পর্যবেক্ষন করলে দেখা যায় কেন্দ্রের একেবারে নিকটে, অনেক গুলো নক্ষত্র গুচ্ছ গ্যালাক্সির কেন্দ্রকে খুব দ্রুত বেগে প্রদক্ষিন করছে। কিন্তু কাকে কেন্দ্র করে এরা প্রদক্ষিন করছে সেটা খুজতে গেলে আর কিছু পাওয়া যায়না। তাই যুক্তি হল এতোগুলো নক্ষত্রকে এতো বিশাল বেগে ঘুরাতে হলে কেন্দ্রে যে বিশাল ভর প্রয়োজন সেটা শুধু ব্লাক হোলের মধ্যেই থাকা সম্ভব।

same problem আমারো হচ্ছিলো ইন ফ্যক্ট কিছু বাংলা টার্মের মানেই বুঝিনি।  kidding

বেশ ইনফোরমেটিভ টপিক লিখেছেন। তবে সাধারণ পাবলিক ডাইজেস্ট করার জন্য প্যরাগ্র্যফ, বুলেট, পিকচার এগুলা দেখতে চায়। এইসব থাকলে আর ফরম্যটিং ঠিক থাকলে আরো ভালো হতো। thumbs_up

Rhythm - Motivation Myself Psychedelic Thoughts

লেখাটি CC by 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন invarbrass (১২-১২-২০১৩ ০০:৪৭)

Re: কৃষ্ণ বিবর

দারুণ টপিক!  clap clap গরম গরম রেপু নিন!

গৌতম লিখেছেন:

একটু ছবিটবি দিয়ে বুঝালে অবশ্য আরেকটু ভালো লাগতো।

যা চোখেই দেখা যায় না তার ছবি কিভাবে আশা করেন?  tongue

তবে প্রত্যক্ষ না হলেও পরোক্ষ ছবি আছে। কিছুদিন আগে হাবল টেলিস্কোপের একটা ইমেজ সিকোয়েন্স দেখেছিলাম। প্রথমদিকের ইমেজে কোনো একটা তারার সুপারনোভা বিস্ফোরিত হবার ছবি ছিলো - ছবিতে কালো ব্যাকগ্রাউণ্ডে তারাটি উজ্বল সাদা স্পট হিসাবে দেখা যাচ্ছিলো। কয়েক বছর পর হঠাৎ দেখা গেলো ওই জায়গায় কিছু নেই - পুরো এলাকাটাই একদম কালো, তারাটি যেন রাতারাতি ভ্যানিশ হয়ে গেছে!  surprised এটা ব্ল্যাকহোলের ডেফিনিটিভ প্রুফ ছিলো। তবে ইমেজগুলো গুগলে পাচ্ছি না (তারাটির নামও মনে পড়ছে না  hairpull )

গুগল করে হাবল ও অন্যান্য সোর্সের কিছু ইমেজ পেলাম...

ব্ল্যাকহোলের গ্র্যাভিটেশনাল লেন্সিং-এর কিছু ছবিঃ
http://i.imgur.com/g0lJjik.jpg
বড় ইমেজ
ছবিগুলোতে হাবল টেলিস্কোপের পযিশনের কারণে ক্যামেরায় একটি গ্যালাক্সী আরেকটি গ্যালাক্সীর সামনে ধরা পড়েছে। কাছের গ্যালাক্সী-গুলোতে সুপারম্যাসিভ ব্ল্যাকহোল (কিংবা কোয়েসার) আছে, যার অসীম মহাকর্ষ বলের কারণে ব্যাকগ্রাউণ্ডের দূরবর্তী গ্যালাক্সীটির ইমেজ ডিসটর্টেড হয়েছে। যেকোনো ভারী বস্তুর (যেমন স্টার, ব্ল্যাকহোল) কাছাকাছি দিয়ে আলো পাস করার সময় গ্র্যাভিটির কারণে লাইটের ডিরেক্সন বদলে যায়, কিছু পিকিউলিয়ার ব্যাপারস্যাপার দেখা যায় - এটাকে গ্র্যাভিটেশনাল লেন্স ইফেক্ট বলে। উপরের ছবিগুলোতে সামনের গ্যালাক্সীগুলোর ব্ল্যাক হোলের গ্র্যাভিটেশনাল লেন্সিং-এর কারণে ব্যাকগ্রাউণ্ড গ্যলাক্সীটির ইমেজ ম্যাগনিফাইড হয়েছে। তীর চিহ্ণ দেয়া স্থানে গ্র্যাভিটেশনাল আর্ক বা রিং দেখা যাচ্ছে - এগুলো আসলে ব্যাকগ্রাউণ্ড গ্যালাক্সীর অংশ।

গ্র্যাভিটেশনাল লেন্সিংঃ
http://i.imgur.com/ZS1JtDb.gif


http://i.imgur.com/HZIh2AQ.jpg
বিখ্যাত M87 গ্যালাক্সীর ছবি। এই ছবিতে খুব সম্ভবতঃ একটি ব্ল্যাক হোল থেকে প্লাযমা নির্গত হচ্ছে - ৫,০০০ আলোক বর্ষ দৈর্ঘ্য।

http://i.imgur.com/5b9PnPW.jpg
ক্রসহেয়ার চিহ্নিত অংশটি ব্ল্যাকহোল থেকে নির্গত গামা রে বিস্ফোরণ হচ্ছে।

সবশেষে আমাদের ঘরবাড়ীঃ  big_smile
http://i.imgur.com/STUYQdr.jpg
মিল্কী ওয়ের কেন্দ্রে সুপার ম্যাসিভ ব্ল্যাকহোল আছে বলে আমরা জানি। তবে ওই অঞ্চলটা বিশাল গ্যাস ক্লাউডে মুড়ে থাকার কারণে পরিষ্কার ছবি দেখা যায় না।

তবে ওখানে যে সুপার ম্যাসিভ ব্ল্যাকহোল মহানন্দে ভুরিভোজ করছে তা আমরা ইনডাইরেক্টলী জেনেছি ওখানকার তারাগুলোর পাগলের মত ছোটাছুটি করতে থাকা দেখে। অসীম ভরের ব্ল্যাকহোলকে কেন্দ্র করে Sagittarius A* তারাদের প্রচণ্ড গতিতে ছোটাছুটিঃ
http://i.imgur.com/n8531FM.jpg

ভালোবাসার কোড লিখেছেন:

হকিং সাহেবের আরেকটা বই আছেঃ ব্ল্যাক হোল অ্যান্ড বেবি ইউনিভারস।  big_smile

হকিংয়ের পুরো জীবনটাই কেটেছে ব্ল্যাক হোলের পিছু ধাওয়া করতে। ফিজিকালী ডিজেবলড একজন মানুষ, যিনি  হাতের আঙ্গুলও নাড়াতে পারেন না, সেই তিনিই মিলিয়ন মিলিয়ন লাইটইয়ার দূরের "অদৃশ্য" দানবের গলায় দড়ি পরিয়ে তার পরিচয় প্রকাশ করছেন - এটা আমার কাছে ডেভিড-vs-গোলায়াথের কল্পকাহিনীর চাইতেও বেশি রোমান্টিক, বেশি ম্যাজেস্টিক মনে হয়  love

তবে ব্ল্যাক হোল বলতেই বহু দূরের দানবীয় কিছু একটার কথা মনে হয়, তা ঠিক নয় - খুব সম্ভবতঃ আমাদের চারপাশেই অজস্র মাইক্রো ব্ল্যাকহোল বিরাজমান আছে। for what its worth, there could be a tiny micro-blackhole lurking right inside your brain at this very moment! তবে মাইক্রো ব্ল্যাকহোল থিওরিটিকালী আনস্টেবল - হকিং রেডিয়েশনের কারণে পিচ্চি ব্ল্যাকহোলগুলো জন্মের কয়েক মূহুর্ত পরেই evaporation হয়ে "মারা" যাচ্ছে।

LHC-র পার্টিকল এ্যাক্সেলারেটরে মিনি ব্ল্যাক হোল তৈরীর চেষ্টা করছে সার্ণ ফিজিসিস্টরা। তবে তা তৈরী করতে যে বিশাল পরিমাণ এনার্জী দরকার তা সম্ভবতঃ পৃথিবীতে নেই। আবার এমনও হতে পারে, হিগস বোসন খুঁজতে গিয়ে নিজের অজান্তেই মাইক্রো ব্ল্যাক হোল তৈরী করেছিলো কিন্তু তা ডিটেক্ট করতে সক্ষম হয় নি।

হকিং রেডিয়েশন, হকিং প্যারাডক্স নিয়ে কিছু দিন আগে একটি চমৎকার ডকুমেন্টারী দেখেছিলাম। স্টৃং থিওরিস্ট লেনার্ড সাসকিণ্ডের সাথে স্টিফেন হকিংয়ের ৩০ বছর ব্যাপী লড়াই নিয়ে। ডকুমেন্টারীটির নাম মনে পড়ছে না, (খুব সম্ভবতঃ বিবিসি-র হরাইযনের একটা এপিসোড) তবে ফিল্মের-র বিষয় বস্তু সাসকিণ্ডের The Black Hole War বইয়ের উপর ভিত্তি করে।
৭০-এর দশকে হকিং আলোড়ন তুলেছিলেন হকিং রেডিয়েশন প্রকাশ করে।

এর আগে পর্যন্ত ধারণা ছিলো ব্ল্যাক হোলের প্রচণ্ড গ্র্যাভিটেশনাল পুল থেকে কিছুই বেরিয়ে আসতে পারে না, এমনকি আলোক রশ্মি পর্যন্ত না। মাথায় রাখা উচিৎ, ম্যাটার, পার্টিকল, লাইট, ওয়েভ - এগুলো সবকিছুই কিন্তু ইনফরমেশন। অর্থাৎ, ব্ল্যাকহোলে ইনফরমেশন কেবল ঢুকছেই, বের হচ্ছে না।

কিন্তু হকিং দেখালেন ব্ল্যাকহোল পুরোপুরি ব্ল্যাক না। ব্ল্যাকহোল (ইভেণ্ট হরাইযন) থেকেও এনার্জী রেডিয়েশন হয় - হকিং রেডিয়েশন। তবে এই বিকিরণে ব্ল্যাকহোলের ভেতরের ম্যাটার সম্পর্কে কোনো ইনফরমেশন থাকে না। black hole evaporation - শক্তি বিকিরণ/evaporate  করতে করতে এক পর্যায়ে ব্ল্যাকহোলটি বিলীন হয়ে যাবে.... এবং মজাটা এখানেই - ওর ভিতরের সব ইনফরমেশন চিরকালের জন্য, পারমানেন্টলী হারিয়ে যায়! এটাই black hole information paradox/Hawking paradox! এই প্যারাডক্স সরাসরি ফিজিক্সের ফাণ্ডামেন্টাল নিতী conservation of matter/energy-র বিরুদ্ধে যায়। কুয়াণ্টাম মেকানিক্স বলে ইনফরমেশন কখনোই ধ্বংস হয় না,হারিয়ে যাবে না। কিন্তু হকিং প্যারাডক্স বলছে ব্ল্যাকহোলের প্রচণ্ড শক্তিশালী গ্র্যাভিটেশনাল ফিল্ড কাঁচকলা দেখাতে পারে ফিজিক্সের নিয়মনিতীকে  donttell

আরও মজার ব্যাপার - হকিং রেডিয়েশন জানাচ্ছে ব্ল্যাকহোল থেকে তাপ বিকিরণ হচ্ছে, অর্থাৎ ব্ল্যাকহোলেরও টেম্পারেচার আছে। কিন্তু থার্মোডাইনামিক্স থেকে আমরা জানি তাপমাত্রা কোনো বস্তুর এলিমেন্ট-গুলোর ছোটাছুটির কারণে উৎপন্ন হয়। আপনার রুমের টেম্পারেচার ঠাণ্ডা না গরম তা নির্ধারিত হয় বায়ুর গ্যাস পার্টিকলগুলো কি গতিতে নাচানাচি করছে তা থেকে। কিন্তু ব্ল্যাকহোলে শুধুমাত্র গ্র্যাভিটি ইনভলভড, তার মানে স্পেস-টাইম নিজেই তাপ উৎপন্ন করছে। আরো মজার কথা, ব্ল্যাকহোলের তাপমাত্রা যদি নির্দিষ্ট মাত্রার বেশি থাকে তাহলে আমরা পাবোঃ "white black hole"  lol

যাকগে, ৯০-এর দশকে একজন বিখ্যাত ফিজিসিস্ট জন প্রেসকিল-এর সাথে বাজী ধরেছিলেন হকিংঃ ব্ল্যাকহোলে পারমানেন্ট ইনফরমেশন লস হয় দাবী নিয়ে।

লেনার্ড সাসকিণ্ড এবং অন্যান্য স্টৃং থিওরিস্টরা হকিং প্যারাডক্সের বিরুদ্ধে ছিলেন।  কিন্তু হকিংয়ের থিওরীগুলো সলিড ছিলো। প্রায় ৩০ বছর ধরে অসংখ্য ফিজিসিস্ট চেষ্টা করেও কেউ তাতে ফাটল ধরতে পারেন নি।

অবশেষে, ২০০১ সালে ব্রেক থ্রু করেন এক আর্জেন্টিনিয়ান স্টৃং থিওরিস্ট - হুয়ান মার্তাঁ মালদাচেনা। মালদাচেনা এবং সাসকিণ্ড কিছু পেপার পাবলিশ করেন যেখানে তাঁরা দেখান হকিংয়ের ইনফরমেশন প্যারাডক্স ভুল, ইনফরমেশন চিরতরে হারায় না।

হুয়ান মালদাচেনাঃ
http://i.imgur.com/iismPBm.jpg

লেনার্ড সাসকিণ্ডঃ
http://i.imgur.com/tprPdvR.jpg

পরে ২০০৪ সালে স্টিফেন হকিং-ও তার পুরনো দাবী থেকে সরে আসেন। তিনিও স্বীকার করে নেন ইনফরমেশন লস হয় না, তবে অন্য ভাবে ট্রান্সফর্মড হয়। বাজীতে হেরে গিয়ে প্রেসকিল-কে একটা বেইজবল এ্যালমানাক উপহার দিয়েছিলেন হকিং। (ডকুমেন্টারীটা ওই ঘটনা নিয়ে ছিলো)

হকিংয়ের মতই লেনার্ড সাসকিণ্ড-কে আমার ফ্যাসিনেটিং চরিত্র মনে হয়। গরীব ইহুদী ফ্যামিলিতে জন্ম নিয়েছিলেন। অভাবের তাড়নায় ছোটোবেলা থেকেই পানির মিস্ত্রী (প্লাম্বার) কাজ করতেন। পরে হয়েছেন ফাদার অব স্টৃং থিওরী!
http://i.imgur.com/vHCjtUW.jpg

হলোগ্রাফিক পৃন্সিপল আমার মাথায় ঢোকে না। গতকাল arxiv-এ একটি রিসার্চ পেপার পাবলিশ হয়েছে যার সিদ্ধান্তঃ মহাবিশ্বটাই একটা হলোগ্রাম। পেপারটির ৮০%-ই মাথার ওপর দিয়ে গেছে। তবে (ভুলভাল হবার সম্ভাবনা বেশি  worried ) যা উদ্ধার করলাম - ১৫ বছর আগে মালদাচেনা প্রেডিক্ট করেছিলেনঃ আমাদের এই ব্ল্যাকহোল-বিশিষ্ট মহাবিশ্ব হলো ১০ মাত্রিক স্পেসটাইম (৯টি স্থানিক মাত্রা + ১টি কাল মাত্রা)। আর এই টেন ডাইমেনশনাল ইউনিভার্স হলো আসলে সিংগল ডাইমেনশনাল সরল ইউনিভার্সের হলোগ্রাফিক প্রযেক্সন। এখন জাপানীজ ফিজিসিস্টরা মালদাচেনার থিওরী-কে ম্যাথমেটিকালী প্রমাণ করেছেন। এর বেশি কিছুই বুঝতে পারলাম না  hairpull পুরো আর্টিকলটাই মনে হচ্ছে ইংলিশ অক্ষরে গ্রীক ভাষায় লিখেছে। আপনারা কেউ স্টৃং থিওরী ফর ডামিস ভার্সন পেলে জানান  waiting

Calm... like a bomb.

Re: কৃষ্ণ বিবর

ছবি বলতে আমি বুঝাচ্ছিলাম, এ ধরনের বিজ্ঞান-বিষয়ক বিষয়গুলোর অনেককিছু ইলাস্ট্রেশন কিংবা ডায়াগ্রাম কিংবা এ ধরনের কিছু দিয়ে বুঝালে আরও সহজভাবে বুঝা যায়, যেমনটা আপনি দিয়েছেন।

আমার সকল টপিক

কোনো কিছু বলার নেই আজ আর...

Re: কৃষ্ণ বিবর

ভাই ফয়েজ আহমদ ভাল হইছে।
   
                INVERBRASS  -              ভাই আপনাকে বলি, ফোরামে কেউ কিছু লিখলে আপনার সহ্য হই না তাই না। এখানে সবাই কিছু শেয়ার করে,তারপরে ওই পোস্টের ব্যপারে কারো জানার থাকলে সে নিজে থেকে জেনে নেবে। কারো পোস্টে নিজের আত্ম অহংকার দেখানোর জন্য এদিক ওদিক থেকে আবার আপনি নিজে লিখে জ্ঞান দেন,এর জন্য পুরো পোস্ট টা আর কেউ পড়ে না।
  ভাই আপনাকে বলি কারো পোস্টে জ্ঞান না দিয়ে নিজে পোস্ট করলেই পারেন।
                অন্যের চিন্তা চুরি করে নিজে বড় উত্তর লিখে বড়ো হওয়া যাইনা।

        আর ডেডলক ভাই যে আপনাকে নিয়ে এই পেজ বানিয়েছে ..... এটা আপনাকে ছোটো করার জন্য,তার পরেও আপনি ......
http://forum.projanmo.com/topic31719.html

**আমি সর্বদা নুতুন কিছু শিখতে ভালবাসি।

১০

Re: কৃষ্ণ বিবর

hasan05 লিখেছেন:

ভাই আপনাকে বলি, ফোরামে কেউ কিছু লিখলে আপনার সহ্য হই না তাই না। এখানে সবাই কিছু শেয়ার করে,তারপরে ওই পোস্টের ব্যপারে কারো জানার থাকলে সে নিজে থেকে জেনে নেবে। কারো পোস্টে নিজের আত্ম অহংকার দেখানোর জন্য এদিক ওদিক থেকে আবার আপনি নিজে লিখে জ্ঞান দেন,এর জন্য পুরো পোস্ট টা আর কেউ পড়ে না।
  ভাই আপনাকে বলি কারো পোস্টে জ্ঞান না দিয়ে নিজে পোস্ট করলেই পারেন।
                অন্যের চিন্তা চুরি করে নিজে বড় উত্তর লিখে বড়ো হওয়া যাইনা।

আপাতত আপনি জ্ঞান দান হতে বিরত থাকুন  angry angry angry । এসব টপিক কখনও invarbrass ভাই ছাড়া সম্পূর্ণ হয়না ।এতে আপনার এত জ্বলছে কেন বুঝলাম না । thinking thinking

১১

Re: কৃষ্ণ বিবর

hasan05 লিখেছেন:

ভাই ফয়েজ আহমদ ভাল হইছে।
   
                INVERBRASS  -              ভাই আপনাকে বলি, ফোরামে কেউ কিছু লিখলে আপনার সহ্য হই না তাই না। এখানে সবাই কিছু শেয়ার করে,তারপরে ওই পোস্টের ব্যপারে কারো জানার থাকলে সে নিজে থেকে জেনে নেবে। কারো পোস্টে নিজের আত্ম অহংকার দেখানোর জন্য এদিক ওদিক থেকে আবার আপনি নিজে লিখে জ্ঞান দেন,এর জন্য পুরো পোস্ট টা আর কেউ পড়ে না।
  ভাই আপনাকে বলি কারো পোস্টে জ্ঞান না দিয়ে নিজে পোস্ট করলেই পারেন।
                অন্যের চিন্তা চুরি করে নিজে বড় উত্তর লিখে বড়ো হওয়া যাইনা।

        আর ডেডলক ভাই যে আপনাকে নিয়ে এই পেজ বানিয়েছে ..... এটা আপনাকে ছোটো করার জন্য,তার পরেও আপনি ......
http://forum.projanmo.com/topic31719.html

উনি তালেবানী নন। তাই জ্ঞান কুক্ষিগত না করে রেখে ছড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করেন। এতে খারাপ কিছু দেখার মতন মুশকিল কাজটি আপনি করতে পেরেছেন। ব্রাভো  thumbs_down thumbs_down

রাবনে বানাদি ভুড়ি :-(

১২

Re: কৃষ্ণ বিবর

@hasan05 ভাই: এটা ব্লগ না ফোরাম।

ব্লগ আর ফোরামের মধ্যে মুল পার্থক্য হচ্ছে ব্লগে ব্লগারের ব্যক্তিগত চিন্তা ভাবনা চেতনার প্রকাশ ঘটে। অন্যরা সেখানে ব্লগারের চিন্তা ভাবনা জানতে যায়। এখানে ব্লগারের মুল লেখাটিই আসল।

আর ফোরাম হচ্ছে পাস্পারিক আলোচনা বা শেয়ারিং এর জায়গা। এখানে কেউ হয়তো কোন আলোচনা শরু করলো সবার অংশ গ্রহণের মাধ্যমে তা পূর্ণতা পায়। এখানে প্রতিটি মন্তব্যকারীই সমান গুরুত্বপূর্ণ এবং এমন হতেই পারে যে কোন মন্তব্য মূল টপিকের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হবে। এটাই ফোরেমের বৈশিষ্ট।

ব্রাশু ভাই উত্তম ফোরামিক। এর পর নাম করা যেতে পারে আহমাদ মুজতবা ভাই, শামীম ভাই, সদস্য_১ ভাই, @মন ভাই। ইনারা ফোরামে ফোরামের ইস্টাইলেই লেখেন। কোন অন্যায় করেন না। তবে প্রকাশ ভঙ্গি সবার এক না।

তবে ইয়ে ইনাদের কেউ কেউ বিশেষ ট্রিক্স খাটান লেখার সময়। wink তবে তা অন্য বিষয়। hehe

"সংকোচেরও বিহ্বলতা নিজেরই অপমান। সংকটেরও কল্পনাতে হয়ও না ম্রিয়মাণ।
মুক্ত কর ভয়। আপন মাঝে শক্তি ধর, নিজেরে কর জয়॥"