২১ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন ফয়সল সাইফ (০১-১১-২০১৩ ২১:২২)

Re: যীশু খ্রিস্ট কি সর্বশক্তিমান ইশ্বর?

সদস্য_১ লিখেছেন:
ফয়সল সাইফ লিখেছেন:

আঞ্চলিক পার্থক্যের ফলে, মানুষের ভাষাগত টানের প্রতি আমার শ্রদ্ধা আছে। আমেরিকা বা অস্ট্রেলিয়ার মানুষ একই টানে ইংরেজীতে কথা বলে না। বা আমাদের বাঙালীদের ইংরেজী বলাও তাঁদের মতো নয়। এমনকি আরবরা যে উচ্চারণে আল্লাহ’কে আল্লাহ ডাকে; আমরা সেভাবে উচ্চারণ করতে পারি না। এর মানে এই নয়, যে একদল আল্লাহকে ঠিকভাবে ডাকছে; আর অন্যদল ভূলভাবে ডাকছে।

ঠিক কোন অঞ্চলের মানুষ, কবে থেকে Eli শব্দটাকে "এল্লাই" উচ্চারন করে সেটা অভিধানিক রেফারেন্স সহ জানাবেন কি?

ফয়সল সাইফ লিখেছেন:

কেন, জাকির নায়েকরা কী পাগল নাকি?

অবশ্যই পাগল। ৫০% পাগল এবং ৫০% মিত্থুক। এই বিষয়ে প্রজন্মে গাদা খানেক টপিক আছে। নিজ দায়িত্বে খুজে দেখুন।

আমি ভাই এতো পন্ডিত নই। কিন্তু এখন আপনার পান্ডিত্যর আলোয় আলোকিত হয়ে ভাবছি, এই Eli শব্দটাকে বাইবেলে 'এলী' এবং 'এলোই' লেখা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ সেটা ঠিক করছে না কেন?

আমি তো পাগলের সংজ্ঞাটা অন্যরকম জানতাম। একটা মানুষ যে ৫০% পাগল আর ৫০% মিথ্যুক হতে পারে আমার জানা ছিল না। তো আপনি সুস্থ আছেন তো?

২২ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন কোরাকোরা (০১-১১-২০১৩ ২১:৩২)

Re: যীশু খ্রিস্ট কি সর্বশক্তিমান ইশ্বর?

ফয়সল সাইফ লিখেছেন:

এল্লাই এল্লাই লামা শবক্তানী।

invarbrass লিখেছেন:

তবে হিব্রু, আরামাইক ভাষায় ইলাই (eli) শব্দটি ঈশ্বরের একটি মহিমান্বিত নাম হিসাবে ব্যবহৃত হয়

আমি জানতাম এলী, এলী, লামা শাবক্তানি। বাংলা বাইবেলেও এলীই লেখা আছে যতদূর মনেপড়ে। জাপানী কোন এক অ্যানিমেতেও এলী ই শুনেছিলাম।  roll

আমেরিকানরাও মনেহয় Eli কে এলী বলে। (The Book of Eli)

তবে হ্যা, এল্লাই কখনো শুনিনি। সোর্স কি?

"Monsters are merely those which cross a certain line. Customs, laws, justice, taboos--They cross those lines, fully aware that they exist."

২৩

Re: যীশু খ্রিস্ট কি সর্বশক্তিমান ইশ্বর?

ফয়সল সাইফ লিখেছেন:

আমি তো পাগলের সংজ্ঞাটা অন্যরকম জানতাম। একটা মানুষ যে ৫০% পাগল আর ৫০% মিথ্যুক হতে পারে আমার জানা ছিল না। তো আপনি সুস্থ আছেন তো?

অফটপিক
প্রথমত,
এখানে একটা মানুষের কথা বলা হচ্ছেনা। আপনার নিজের উক্তিটাই ভাল মত দেখুন "... নায়েকরা" বহুবচন !

invarbrass লিখেছেন:

জাকির নাইক বা হারুণ ইয়াহিয়া-জাতীয় আলপটকা, টোটকা...

দ্বিতীয়ত, যদি একজন সমন্ধে বলাও হয়। তবুও ব্যাকরন এবং অর্থগত ভাবে আমার লাইনটা ঠিক আছে। একজন মানুষ একই সাথে পুরোপুরি পাগল এবং পুরোপুরি মিত্থুক হতে পারেনা। কারন পুরোপুরি পাগলের সত্য মিথ্যা জ্ঞান থাকেনা। এবং বুদ্ধি না থাকলে মিত্থুক হওয়া যায়না। এই জন্য পুরোপুরি না বলে ৫০% বলেছি। আধ-পাগল শব্দটা নিশ্চই শুনে থাকবেন। যার মানে হল কখনো সখনো উম্মাদের মত আচরন করে, বাকী সময় ভাল মানুষ। জাকির নায়েকের মধ্যে ভালর কিছুই নেই। উনি কখনো সখনো উম্মাদের মত আচরন করে, আর বাকী সময় করেন মিথ্যাচার।

তৃতীয়ত, আমার সুস্থতা এখানে বিবেচ‌্য নয়। কারন আমার মুখের কথা কেউ একাডেমিক রেফারেন্স হিসেবে ব্যাবহার করবেনা। আর করলে সেটা জাকির নায়েকের কথার মতই অগ্রহনযোগ্য হবে।

অনটপিক:

আসল কথা বলুন, Eli = এল্লাই এর আভিধানিক রেফারেন্স দিন।

reference.comoxford (ইউরোপ), merriam-webster (আমেরিকা )সব যায়গার ডিকসিনারীতে Eli এর উচ্চারন দেখা একই দেখাচ্ছে ʻĒlî (ঈলাই)

ফনেটিক পরতে না পারলে ওখানে অডিও দেয়া আছে। হেডফোন দিয়ে শুনুন।

২৪ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন invarbrass (০১-১১-২০১৩ ২৩:৩৮)

Re: যীশু খ্রিস্ট কি সর্বশক্তিমান ইশ্বর?

ফয়সল সাইফ লিখেছেন:

এ বিষয়ে আমি আপনাকে পন্ডিত ভাবছি না। আঞ্চলিক পার্থক্যের ফলে, মানুষের ভাষাগত টানের প্রতি আমার শ্রদ্ধা আছে। আমেরিকা বা অস্ট্রেলিয়ার মানুষ একই টানে ইংরেজীতে কথা বলে না। বা আমাদের বাঙালীদের ইংরেজী বলাও তাঁদের মতো নয়। এমনকি আরবরা যে উচ্চারণে আল্লাহ’কে আল্লাহ ডাকে; আমরা সেভাবে উচ্চারণ করতে পারি না। এর মানে এই নয়, যে একদল আল্লাহকে ঠিকভাবে ডাকছে; আর অন্যদল ভূলভাবে ডাকছে।
নোয়াখালী এবং সিলেটের মানুষও একই সুরে কথা বলতে পারবে না। এটা মাথায় রাখুন।

আমিও নিজেকে পণ্ডিত ভাবছি না। তবে বিদেশী ভাষার কোনো শব্দকে মনগড়া উচ্চারণ ("এল্লাই") করার পরে কেউ যদি সঠিক রীতিটি ধরিয়ে দেয়, তাহলে নিজের ভুল স্বীকার করতে দ্বিধা বোধ করি না। অস্ট্রেলিয়া-নোয়াখালীর যুক্তি দিয়ে আলোচনা অন্য দিকে সরানোর প্রয়োজনও বোধ করি না। hehe আমি নিজেও এক কালে Eli Lilly-কে এলি লিলি মনে করতাম (Eli Lilly-র দামী সুগন্ধী সিগারেট দেশে পাওয়া যেত  big_smile ) পরে জেনেছি উচ্চারণটি সঠিক নয়।

ফয়সল সাইফ লিখেছেন:

আমি যদি ভূল বলে না থাকি, তাহলে আল্লাহ শব্দটির কাছাকাছি কোনো শব্দ নেই। এর কোনো অনুবাদ হয় না। এর সমার্থক শব্দর তো প্রশ্নই আসে না। আল্লাহ’র একত্ববাদকে ঘোষণা করার জন্য এটা এক বচনের একটা শব্দ। এর কোনো বহু বচন হয় না। এই শব্দটি কোনো নির্দিষ্ট লিঙ্গও নির্দেশ করে না।

এ অবস্থায় god যদি এর গ্রহণযোগ্য অনুবাদ হয়, তাহলে আমি Godson=ধর্মপুত্র, God-forsaken=দেবতা পরিত্যক্ত, Godmather=ধর্মমা, Godfather=ধর্মপিতা এসব না হয় বাদই দিলাম। কিন্তু goddess=দেবী; এটা দ্বারা কী বুঝানো হয়েছে?

আপনি সম্ভবতঃ আমার বক্তব্যটি ধরতে পারেন নি। প্রপার ও কমন নাউনের (নেইম) মধ্যে পার্থক্য হলোঃ
কমনঃ মানুষ
প্রপারঃ ফয়সল সাইফ

কমনঃ কৃকেটার
প্রপারঃ সোহাগ গাজী

কমনঃ God, ঈশ্বর
প্রপারঃ ইয়াহওয়ে, ব্রহ্মা

আল্লাহ শব্দটি প্রপার ও কমন নাউন উভয় অর্থেই ব্যবহৃত হয় কি না তা নিয়ে আমার প্রশ্ন ছিলো। মুসলিমরা তাদের উপাস্য আল্লাহকে  স্মরণ করে, তখন তা প্রপার নাউন (একটি নির্দিষ্ট সত্বাকে নির্দেশ করছে)। কিন্তু আবার (আমার জানামতে) আরবী ইহুদী ও খৃস্টান, মিশরীয় কপটিক খৃস্টান ও মালয়শিয়া/ইন্দোনেশিয়ার খৃস্টান সম্প্রদায়ও তাদের উপাস্যকে আল্লাহ নামে ডাকে। সেক্ষেত্রে আল্লাহ শব্দটি ঈংরেজী god বা বাংলায় ঈশ্বর-এর সমতূল্য কমন নাউন বা জেনেরিক শব্দ হিসাবেও গণ্য করা যায় কি?  confused আমার প্রশ্নটি ছিলো এটাই। এখানে godson, goddess জাতীয় এক/বহু-বচন বা লিঙ্গ নিয়ে আলোচনা হয় নি।

ফয়সল সাইফ লিখেছেন:

এটা একটি ধর্মগ্রন্থ। কারো প্রেম কাহিনী নয়। ইহুদীরা বিশ্বাস করে এর প্রতিটি শব্দ পবিত্র। যাই হোক, আপনি যে ভাল করে ব্যাপারটা নিয়ে ঘাটাঘাটি করছেন না, সেটা বুঝা যাচ্ছে। নইলে ধর্মগ্রন্থের সুরটা বুঝতে পারতেন। কোরআন লেখার স্টাইলটা একরকম, বাইবেলের ওল্ড টেষ্টামেন্ট লেখার স্টাইলটা একরকম, বাইবেলের নিউ টেষ্টামেন্ট লেখার স্টাইলটা একরকম, শ্রীমাদ ভগবত গীতা একরকম। কোনোটার স্টাইলের সাথে কোনোটার স্টাইলের মিল নেই। তবে, কখনো কখনো বিষয়বস্তুতে মিল খুঁজে পাওয়া যায়। তবে, আমি এখানেই প্রমাণ করতে চাইছি না যে মহমদিম মানে মুহাম্মদই। আর আমি শতবার বললেও আপনি সেটা মানবেন না, জানি। তাই মুহাম্মদ (সাঃ) এর ওপর একটা পোষ্ট দেওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন।

হে হে, সং অব সংস সম্পর্কে আপনার ধারণা যে একেবারেই কম তা এবার স্পষ্ট হলো।

আর দেরী না করে পড়ে ফেলুন (অবশ্যই প্রাপ্তবয়স্ক পাঠক হলে)

ফয়সল সাইফ লিখেছেন:

আর এর আগেই যদি সং অফ সলোমনের Song of Songs 5:16               shyr hshyrym 5,16

      his mouth is sweets              Hkw mmtqym
      and all of him is delights      wklw mHmdym
      this is my love                    zh dwdy
      and this is my darling           wzh r`y
      daughters of Jerusalem        bnwt yrwshlm
ব্যাখ্যা করতে পারেন, যদি প্রমান থাকে যে মহমদিম কোনোভাবেই মুহাম্মদ নয়, তাহলে মেনে নিতে আমার কোনো আপত্তি নেই। কারণ আমি একগুঁয়ে নই।

সেটাতো লিংকগুলোয় একটু ক্লিক করলেই বিস্তারিত জানা যায়। শেষের যে লিংকটি ছিলো তিনি একজন হিব্রু ভাষাভাষী বাইবেল বিশারদ বলেই মনে হচ্ছে, তাঁর যুক্তিগুলোও গ্রাহ্য করার মত। তিনি বেশ কিছু যৌক্তিক প্রশ্ন করেছেন; যেমনঃ "mHmdym" (যার সরল ইংরেজী অর্থ "altogether lovely") ওটা যদি আরবের নবীকে নির্দেশ করা হয়, তাহলে প্রশ্ন ওঠাই স্বাভাবিক প্রাচীন জেরুযালেমের নিকটবর্তী শুলেম গ্রামে জন্ম নেয়া কোনো কন্যা কি আরবের নবীর ছিলো?
বিঃদ্রঃ - পুথিঁটি নারী ও পুরুষের গভীর প্রেম নিয়ে রচিত। আলোচ্য পুরুষটি হলেন কিং সলোমন; আর নারী প্রটাগনিস্টের নাম উল্লেখ করে নি, তবে তিনি যে শুলেম গ্রামের কুমারী কন্যা তা জানা যায় (৬:১৩)।

সিরিয়াসলী... ভিনদেশী ভাষায় লিখিত কোনো পুস্তকের বানানে বা উচ্চারণে কাকতালীয় সাদৃশ্য দেখলেই লাফ দিয়ে এক পিকিউলিয়ার, অপ্রাসঙ্গিক সিদ্ধান্ত আরোপ করতে ব্যস্ত হয়ে যাই। অথচ যখন মূল বক্তব্যটি যখন আরো সহজ-সরল, এবং ভিন্ন অর্থ বা কন্টেক্সট নির্দেশ করে তা গ্রহণ করতে এতো অনীহা কেন রে ভাই? ওপরে সং অব সলোমনের যে অংশটি কোট করলেন, তার সামগ্রিক ভাবানুবাদ পড়ে কমনসেন্স কি বলছে যে ওখানে ভবিষ্যৎের কোনো ব্যক্তির ব্যাপারে ভবিষ্যৎবাণী করা হয়েছে? যেমন ধরুন, রবি ঠাকুরের এই বিখ্যাত কাব্যটি কিন্চিৎ সড়গড় করে দিলে পড়তে বেখাপ্পা লাগবে কি নাঃ

...আকাশভরা সূর্য-তারা, বিশ্বভরা প্রাণ,
তাহারি মাঝখানে আমি পেয়েছি মোর স্থান, এই জমির ফিউচার মালিক নুড়ুল ইচলাম ভাভুল, দাগ নং #৪২০
বিস্ময়ে তাই জাগে আমার গান...

worried

ফয়সল সাইফ লিখেছেন:

আমার হাসিই পায়, যে আমাদের সকলের ব্যাপারেই আড়াই-তিন হাজার বছরের পুরোনো গ্রন্থে ভবিষ্যতবাণী করা হয়েছে; এই কথাটি শুনে। আমি বুঝতে পারছি, আপনি ধরে নেওয়ার কথা বলছেন। মেনে নিলাম আপনার কথা। কিন্তু যখন সব বইয়ে একই কথা দেখি, তখন?

"সব বই" বলতে কোন কোন বই? নির্দিষ্ট রেফারেন্স ছাড়ুন। হিন্দু পুরাণে কল্কি অবতার? big_smile নাকি বছর দুয়েক আগে তুরস্কে উদয় হওয়া গসপেল অব বার্ণাবাস? big_smile নির্দিষ্ট করে জানান তো কোন সব বইয়ে একই কথা দেখেছেন? hehe

ফয়সল সাইফ লিখেছেন:

কেন, জাকির নায়েকরা কী পাগল নাকি?

না পাগল না, তবে তার অন্ধভক্তরা ওরকমই সেজে থাকতে পছন্দ করেন। হুজুর টিভি চ্যানেলে যাহা বয়ান ছাড়িয়াছেন তাহাই মহাবিশ্বের পরম সত্য, উহার বিপরীতে হাজারো ভ্যালিড, কমনসেন্স যুক্তি দেখালেও সেগুলো ভুল, মিথ্যা।  notlistening

বাই দি ওয়ে, প্রজন্ম ফোরাম সম্পর্কে ধারণা কিছুটা আপডেট করে নিতে পারেন। এখানকার কমিউনিটি কিন্চিৎ ঘাড়ত্যাড়া প্রকৃতির। এই ফোরামটি ফেইসবুক নয় যে গিয়্যান ছড়ালেই চাটুকারদের স্তুতি বা লাইকের বন্যায় ভেসে যাওয়া যায়। কেউ কোনো বক্তব্য প্রকাশ করলে স্বাভাবিকভাবেই এখানে কাউণ্টার যুক্তি আসবে। তা যদি খণ্ডন করা যায় তাহলে আলোচনা সুন্দর আগাবে। তবে "তালগাছটা আমারই" মনোবৃত্তির লোকজনের হতাশ হবার সম্ভাবনা বেশি।

ফয়সল সাইফ লিখেছেন:

আমি তো পাগলের সংজ্ঞাটা অন্যরকম জানতাম। একটা মানুষ যে ৫০% পাগল আর ৫০% মিথ্যুক হতে পারে আমার জানা ছিল না। তো আপনি সুস্থ আছেন তো?

জাকির নাইক তাও ভালো। তবে হারুন ইয়াহিয়া তথা আদনান ওক্তার সম্পর্কে সদস্য_১-এর অবজার্ভেশন খুব একটা ভুল নয়। আদনান ওক্তার ধর্মকে ব্যবহার করে ব্যবসা করেন। স্বদেশে সেক্সুয়াল ব্ল্যাকমেইলার বলে তার কুখ্যাতি (এবং মামলা) আছে। তাঁর ওয়েবসাইটের ভিডিও গুলোতে প্রায়ই দেখা যায় তাকে কতিপয় সল্প-বসনা ব্লণ্ড বম্বশেল দ্বারা পরিবেষ্টিত হয়ে ধর্মীয় বয়ান ছাড়তে। তিনি ভাড়াটে লেখক দিয়ে বই লিখিয়ে সেগুলো নিজের নামে ছাপান। আবার ফাঁদে পড়লে সুড়সুড় করে হাত ধুয়ে ফেলতে সময়ও লাগে না। হুবহু মনে নাই, তবে বেশ কয়েকবছর আগে কি এক বিতর্কিত "কিতাব" নিজের নামে প্রকাশ করার পর তার বিরুদ্ধে কোর্টে লাইবেল ঠুকে দেয়। পরে অবস্থা বেগতিক দেখে তিনি স্বীকার করতে বাধ্য হন বইটির মলাটে লেখক হিসাবে তার নাম থাকলেও তিনি নাকি আসল লেখক না। কে বা কারা নাকি তার নাম ব্যবহার করে বইটি লিখেছে - তাদের তিনি চেনেন না, যদিও বইটি প্রকাশ করেছিলো তার মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান।  roll এ ধরণের ব্যক্তি যদি 50% সুস্থ আর 50% সত্যবাদী হয়, তাহলে জগৎের বাদবাকী মানবগোষ্ঠী উল্টোটা হবারই সম্ভাবনা বেশি।  neutral

হুইটনী হিউস্টন মারা যাবার পর একদিন দেখি হারুণ ইয়াহিয়া এক মারফতী ভিডিও ছাড়ছে। ব্যাটার বক্তব্য ছিলো এরকমঃ বাতিল খৃস্টান ধর্ম ও যৌণতা-মাদকতাময় আমেরিকান লাইফস্টাইল পরিত্যাগ করে কোরানের সুশীতল ছায়ায় আসলে হুইটনীর নাকি এমন পরিণতী হতো না। ওই ভিডিওতে গাণ্জুবাবার চারপাশে ছিলো সানী লিওনীর চাইতেও হৃষ্টপুষ্ট স্বর্ণকেশী ৩/৪ জন সুন্দরী। হিযাবের গুল্লি মারেন, ইসলামী অনুষ্ঠানে ললনাদের ফুটবল জার্সী-জাতীয় বস্তু পরিয়ে স্টেজে উঠিয়েছিলো। গান্জুবাবা চোখ মুদে হুইটনীর জীবন নিয়ে মারফতী লাদী ছাড়ছিলেন, আর ললনাদের দায়িত্ব ছিলো থেকে থেকে রোবটের মত মাথা নেড়ে সায় দিয়ে উহু! আহা! করা।

পিএসঃ ব্যাপক ললনাময় (জেনুইন - নো বিলাই/কিটী  tongue_smile ) বিনুদুন-মূলক ভিডিওটি খুঁজে বের করে জাতীর সামনে হাজির করার জন্য ডেডু ভাইয়ের প্রতি আকুল আবেদন রইলো  tongue

@প্রিয় কুরকুরা ভাইঃ Book of Eli ফিল্মে ডেনযেল ওয়াশিংটনের চরিত্রটির নাম কিন্তু "ঈলাই" বলেই উচ্চারণ করেছিলো।
পিপিএসঃ আমার এক দূর সম্পর্কের সুন্দরী কাযিন আছে, তাকে সবাই এলী (ডাকনাম) বলে ডাকে। tongue

Calm... like a bomb.

২৫ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন ভালোবাসার কোড (০১-১১-২০১৩ ২৩:০৯)

Re: যীশু খ্রিস্ট কি সর্বশক্তিমান ইশ্বর?

invarbrass লিখেছেন:
ফয়সল সাইফ লিখেছেন:

কেন, জাকির নায়েকরা কী পাগল নাকি?

না পাগল না, তবে তার অন্ধভক্তরা ওরকমই সেজে থাকতে পছন্দ করেন। হুজুর টিভি চ্যানেলে যাহা বয়ান ছাড়িয়াছেন তাহাই মহাবিশ্বের পরম সত্য, উহার বিপরীতে হাজারো ভ্যালিড, কমনসেন্স যুক্তি দেখালেও সেগুলো ভুল, মিথ্যা।

কেউ যখন কোনো ভ্যালিড ডকুমেন্টস, কমনসেন্স বা যুক্তির বিপরীতে নতুন কোনো কিছু বলবে তখন অনেকে তাকে পাগল বা মিত্থুক ভাবতে পারে। সেটা স্বাভাবিক। জাকির নায়েককেও অনেকে সে রকম ভাবতে পারে। প্রজন্মের কয়েকজন ফোরামিক কি ভাবলো তাতে কিছুই যায় আসেনা। তবে মানুষ মাত্রই ভুল। 
সূর্য ঘুরছে নাকি পৃথিবী ঘুরছে সে ধারনা বদলের কারনে কোনো এক বিজ্ঞানীকে পাগল বলা হয়েছিল (অধিকাংশ গবেষককেই পাগল বলা হয়) এবং তার প্রান গিয়েছিল।
এসব ক্ষেত্রে কমনসেন্স আর যুক্তি কিন্তু বলবে সূর্য ঘুরছে।

invarbrass লিখেছেন:

পিএসঃ ব্যাপক ললনাময় (জেনুইন - নো বিলাই/কিটী  tongue_smile ) বিনুদুন-মূলক ভিডিওটি খুঁজে বের করে জাতীর সামনে হাজির করার জন্য ডেডু ভাইয়ের প্রতি আকুল আবেদন রইলো  tongue

মোল্লার দৌড় মসজিদ পর্যন্ত । দেখি ডেডু ভাইয়ের দৌড় কোন পর্যন্ত।  big_smile

২৬ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন ফারহান খান (০১-১১-২০১৩ ২৩:১২)

Re: যীশু খ্রিস্ট কি সর্বশক্তিমান ইশ্বর?

অফটপিকঃ

ফয়সল সাইফ লিখেছেন:

আমি ভাই এতো পন্ডিত নই। কিন্তু এখন আপনার পান্ডিত্যর আলোয় আলোকিত হয়ে ভাবছি, এই Eli শব্দটাকে বাইবেলে 'এলী' এবং 'এলোই' লেখা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ সেটা ঠিক করছে না কেন?

আমি তো পাগলের সংজ্ঞাটা অন্যরকম জানতাম। একটা মানুষ যে ৫০% পাগল আর ৫০% মিথ্যুক হতে পারে আমার জানা ছিল না। তো আপনি সুস্থ আছেন তো?

একটু সামলে ভাই। গায়ে পড়ে খোচাখুচির মত হয়ে যাচ্ছে ব্যাপারটা। ইনভারব্রাশ আর সদস্য ১ কেউই নিজেকে পন্ডিত বলেনি বা আপনাকে বুঝাননি।

মুইছা দিলাম। আমি ভীত !!!

২৭ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন invarbrass (০২-১১-২০১৩ ০০:৩৩)

Re: যীশু খ্রিস্ট কি সর্বশক্তিমান ইশ্বর?

ভালোবাসার কোড লিখেছেন:

কেউ যখন কোনো ভ্যালিড ডকুমেন্টস, কমনসেন্স বা যুক্তির বিপরীতে নতুন কোনো কিছু বলবে তখন অনেকে তাকে পাগল বা মিত্থুক ভাবতে পারে। সেটা স্বাভাবিক। জাকির নায়েককেও অনেকে সে রকম ভাবতে পারে। প্রজন্মের কয়েকজন ফোরামিক কি ভাবলো তাতে কিছুই যায় আসেনা। তবে মানুষ মাত্রই ভুল। 
সূর্য ঘুরছে নাকি পৃথিবী ঘুরছে সে ধারনা বদলের কারনে কোনো এক বিজ্ঞানীকে পাগল বলা হয়েছিল (অধিকাংশ গবেষককে অবশ্য পাগল বলা হয়) এবং তার প্রান গিয়েছিল।
এসব ক্ষেত্রে কমনসেন্স আর যুক্তি কিন্তু বলবে সূর্য ঘুরছে।

আর সে জন্যই তো বিজ্ঞান আমাদের ধারণার চাইতেও আরো অদ্ভুত মহিমান্বিত, সৌন্দর্য্যমণ্ডিত, রাজসিক!  clap

কোপারনিকাসকে ভ্যাটিকান ইনকুইজিশনে দেবার ভয়ভীতি ও চাপ প্রয়োগ করে সত্য প্রকাশে বিরত রাখে।
একই সিদ্ধান্তে উপনীত হবার পাপে জিওর্দানো ব্রুণো-কে জ্যান্ত পুড়িয়ে হত্যা করে রোমান ক্যাথলিক চার্চ। এমনকি তার দেহ পুড়ে কয়লা হয়ে যাবার পরও সেই দলাবদ্ধ কয়লা হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে পাউডার বানিয়ে ইনকুইজিটর স্বদম্ভে ঘোষণা করেছিলো "শয়তানকে" খতম করেছে (এরকম কিছু একটা পড়েছিলাম অনেক আগে)
গ্যালিলেও-কে ২০ বছর গৃহকারাগারে বন্দী করে রেখেছিলো চার্চ একই কারণে। সেদিন এক চান্চল্যকর ডকুমেন্টারীতে দেখলাম গ্যালিলিও-কে ফাঁসানোর জন্য ভ্যাটিকান ব্যাপক জালিয়াতীর আশ্রয় নিয়েছিলো।

যাকগে, আজ আধুনিক মানুষ কাদের স্মরণ করে? তৎকালীন পোপ বা গ্র্যাণ্ড ইনকুইজিটরদেরকে কেউ স্মরণ করে কি?

ভালোবাসার কোড লিখেছেন:

এসব ক্ষেত্রে কমনসেন্স আর যুক্তি কিন্তু বলবে সূর্য ঘুরছে।

তা বটে, যখন জ্ঞান বা অবজার্ভেশন-লব্ধ তথ্যের অভাব থাকে তখন কমনসেন্স বা যুক্তি ভুল নির্দেশ করবে। তবে জানার পরিধি যখন বাড়বে, বিপরীত পর্যবেক্ষণ যখন চ্যালেন্জ ছুঁড়বে তখন কিন্তু কমনসেন্স, লজিক আবার ভিন্ন কথা বলবে।

টলেমীর জিওসেন্টৃক মডেল (পৃথিবী ঘিরে সব আবর্তিত হচ্ছে) হাজার বছরের বেশি সময় ধরে টিকে থাকার কারণ মানুষের সীমিত পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা। পরবর্তীতে যখন জ্যোতির্বিদ্যার উন্নতি হলো তখন বৃহস্পতি, শনি ইত্যাদি গ্রহগুলোর অদ্ভূত কক্ষপথ ট্রেস করতে গিয়ে আমরা জানলাম আগের মডেলটি ভুল ছিলো।

তবে জাকির নাইক/ভ্যাটিকান/জেরুযালেম/বেনারস/XYZ গোষ্ঠীগুলোর সমস্যা হলো - এঁরা সহজে আপডেট হতে চান না। বহু কেচ্ছা কাহিনী করে যখন আর উপায় থাকেনা তখন নিমরাজী হয়ে বিজ্ঞানের সাথে আপ-টু-ডেট হন (ততদিনে অবশ্য বিজ্ঞান আরো কয়েক কদম আগিয়ে যায়)।

২০০০ সালে ভ্যাটিকান (সম্ভবতঃ পোপ জন পল ছিলেন তখন) আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করে নিয়েছিলো তাদের টলেমায়িক সিস্টেম ভুল ছিলো। ব্রুণো, কেপলার, কোপার্নিকাস, গ্যালিলেও-রাই সঠিক ছিলেন। বাট, বাট.... এ্যাপোলজী প্রকাশ করতে ভ্যাটিকান হাজারখানেক বছর দেরী করে ফেলেছিলো। too little, too late... ততদিনে বিজ্ঞান কিন্তু সৌরজগৎের গণ্ডি ছাড়িয়ে গ্যালাক্সী, ইউনিভার্স/মাল্টিভার্স, ব্ল্যাক হোল, ডার্ক ম্যাটার আর বিগ ব্যাংগ নিয়ে মাথা ঘামাতে শুরু করে দিয়েছে।  kidding

ভালোবাসার কোড লিখেছেন:

মোল্লার দৌড় মসজিদ পর্যন্ত । দেখি ডেডু ভাইয়ের দৌড় কোন পর্যন্ত।   big_smile

ক্যায়া!  mad মরাতালার দৌড় নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ!  tongue
ঐই লনঃ
https://www.facebook.com/video/video.ph … 7802855328
ইহার বক্তব্য বুঝিতে হইলে মনে হয় তুর্কী শ্রাবণ ভাইকে তলব করিতে হইবে।  kidding

তবে আমি ভিডিওটির ২০-২৫ মিনিটের ফুল ভার্সন ইংরেজী সাবটাইটেল সহ দেখেছিলাম - ওটা খুঁজে পাচ্ছি না। ফেইসবুকের কাটপিসটাতে সাবটাইটেল লাগিয়েছে ফ্রেন্চ, আর বিশেষ আকর্ষণগুলোও কিছু কম দিয়েছে মনে হয় sad নির্ঘাত ওই চুগলখোর যুকারবার্গের কারসাজী!  angry

@মরাতালা ভাইঃ ইজ্জত কি সওয়াল! পিলীয হেল্প!  hairpull

Calm... like a bomb.

২৮

Re: যীশু খ্রিস্ট কি সর্বশক্তিমান ইশ্বর?

টেম্পটিং টপিক! আলোচনা আগাক.. সাইফ ভাই রেযা আসলান এর টপ সেলিং বই এটা পড়ুন -- তারপর তর্কটা আরেকটু জমবে

Zealot: The Life and Times of Jesus of Nazareth

Rhythm - Motivation Myself Psychedelic Thoughts

লেখাটি CC by 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

২৯

Re: যীশু খ্রিস্ট কি সর্বশক্তিমান ইশ্বর?

@ইনভারব্রাস ভাইঃ
Eli শব্দের উচ্চারণ নিয়ে সামান্য অভিজ্ঞতা শেয়ার করি। A good wife নামের একখান সিরিয়াল আছে, যেটা আমার স্ত্রীর কল্যাণে বেশ কিছু পর্ব দেখা হয়েছে। এই সিরিয়ালে এক ক্যারেক্টারের নাম Eli. ওরা তাকে ডাকে ইলাই বলে। আমি প্রথমে ভ্রু কুচকায় বলেছিলাম, "লিখতাসে এলি, আর কইতাসে ইলাই! এই হইলো তোমার সব আজাইরা সিরিয়াল angry"। আমার স্ত্রী ঝাড়ি মেরে বলেছিলো, ওদের উচ্চারণই নাকি ঠিক আছে। আমি আর কি কমু? আংরেজী বিট হে  donttell

রাবনে বানাদি ভুড়ি :-(

৩০

Re: যীশু খ্রিস্ট কি সর্বশক্তিমান ইশ্বর?

আমিও নিজেকে পণ্ডিত ভাবছি না। তবে বিদেশী ভাষার কোনো শব্দকে মনগড়া উচ্চারণ ("এল্লাই") করার পরে কেউ যদি সঠিক রীতিটি ধরিয়ে দেয়, তাহলে নিজের ভুল স্বীকার করতে দ্বিধা বোধ করি না। অস্ট্রেলিয়া-নোয়াখালীর যুক্তি দিয়ে আলোচনা অন্য দিকে সরানোর প্রয়োজনও বোধ করি না।  আমি নিজেও এক কালে Eli Lilly-কে এলি লিলি মনে করতাম (Eli Lilly-র দামী সুগন্ধী সিগারেট দেশে পাওয়া যেত   ) পরে জেনেছি উচ্চারণটি সঠিক নয়।
আচ্ছা ঠিক আছে, আমি স্বীকার করছি Eli শব্দটি কোনোভাবেই এল্লাই হতে পারে না। কিন্তু এটা কী করে ‘এলোই’ হয়? [দ্রঃ মার্ক ১৫-৩৪]
আপনার ধর্ম চর্চা নেই। মানছি আপনি সেটা প্রয়োজনও মনে করেন না। Allah শব্দটিকে বাঙালিরা উচ্চারণ করে ‘আল্লাহ’। আর আরবরা উচ্চারণ করে ‘আল্লোয়াহ’। এটা সম্পূর্ণই টানের ব্যাপার। আপনাকে এটা বুঝানো অসম্ভব।

আপনি সম্ভবতঃ আমার বক্তব্যটি ধরতে পারেন নি। প্রপার ও কমন নাউনের (নেইম) মধ্যে পার্থক্য হলোঃ
কমনঃ মানুষ
প্রপারঃ ফয়সল সাইফ
কমনঃ কৃকেটার
প্রপারঃ সোহাগ গাজী
কমনঃ God, ঈশ্বর
প্রপারঃ ইয়াহওয়ে, ব্রহ্মা
আল্লাহ শব্দটি প্রপার ও কমন নাউন উভয় অর্থেই ব্যবহৃত হয় কি না তা নিয়ে আমার প্রশ্ন ছিলো। মুসলিমরা তাদের উপাস্য আল্লাহকে  স্মরণ করে, তখন তা প্রপার নাউন (একটি নির্দিষ্ট সত্বাকে নির্দেশ করছে)। কিন্তু আবার (আমার জানামতে) আরবী ইহুদী ও খৃস্টান, মিশরীয় কপটিক খৃস্টান ও মালয়শিয়া/ইন্দোনেশিয়ার খৃস্টান সম্প্রদায়ও তাদের উপাস্যকে আল্লাহ নামে ডাকে। সেক্ষেত্রে আল্লাহ শব্দটি ঈংরেজী god বা বাংলায় ঈশ্বর-এর সমতূল্য কমন নাউন বা জেনেরিক শব্দ হিসাবেও গণ্য করা যায় কি?   আমার প্রশ্নটি ছিলো এটাই। এখানে godson, goddess জাতীয় এক/বহু-বচন বা লিঙ্গ নিয়ে আলোচনা হয় নি।
ভাইয়া, যখন আমরা প্রথম ক্লাস সিক্সে ভর্তি হই তখন থেকে ইংরেজী দ্বিতীয়পত্রে পুনরায় গ্রামারের প্রচলন শুরু হয়। তাই নাউনের প্রকারভেদ বিস্তারিত শিখেই আমাদের এসএসসি পাস করতে হয়েছে। তাহলে না বুঝার তো কোনো কারণ দেখি না।
     আপনি মানুন অথবা না মানুন, আল্লাহর সাথে God শব্দটি কিছুতেই যায় না। এটা হলো মুসলিমদের অবস্থান।
     এখন দেখা যাক আরবী ইহুদী ও খৃস্টান, মিশরীয় কপটিক খৃস্টান ও মালয়শিয়া/ইন্দোনেশিয়ার খৃস্টান সম্প্রদায়ও তাদের উপাস্যকে যে আল্লাহ নামে ডাকে, সেটা ঠিক কিনা? যদি সেটা ঠিক হয়, মেনে নেব ‘আল্লাহ’ শব্দটি প্রপার এবং কমন উভয় নাউন।
     ইহুদী ধর্ম:
     ইহুদীদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ হলো বাইবেলের ওল্ড টেষ্টামেন্ট। এটাকে খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের লোকেরাও তাদের সৃষ্টিকর্তার বাণী বলে বিশ্বাস করে। মুসমান সম্প্রদায়ের লোকেরাও বিশ্বাস করে এটা আদিতে তাদের সৃষ্টিকর্তার প্রেরিত পবিত্র ধর্মগ্রন্থ ছিল। যদিও তারা এখন এটার অনেকাংশই বিকৃত করে ফেলা হয়েছে বলে বিশ্বাস করে। তার মানে এখন এটাতে সৃষ্টিকর্তার বাণী থাকতেও পারে আবার না-ও থাকতে পারে। যাইহোক, দেখা যাক পবিত্র বাইবেলের ওল্ড টেষ্টমেন্ট সৃষ্টিকর্তা সম্পর্কে কি বলে:
     এটার উল্লেখ আছে বুক অফ ডিটরনমি, অধ্যায় ৬ অনুচ্ছেদ ৪: “(মুসা বলছেন) হে ইস্রায়েল বাসী, আমাদের প্রভু মাত্র একজন”। তারপর আরও উল্লেখ আছে, বুক অফ ডিটরনমি, অধ্যায় ৫ অনুচ্ছেদ ৭-৮: “(ইশ্বর বলছেন) আমার পাশাপাশি তোমরা আর কারও ইবাদত করবে না। তোমরা মহান ইশ্বরের কোন প্রতিমূর্তি বানাবে না। যাকে তুলনা করা যায় আকাশের ওপরে কিছুর সাথে, নিচের পৃথিবীর কিছুর সাথে অথবা পানির নিচের কিছুর সাথে। তোমরা তাদের সামনে নতজানু হবে না। তাদের সেবা করবে না। কারণ তোমাদের প্রভু খুবই প্রতিহিংসা পরায়ন”।
     ওপরের অনুচ্ছেদগুলো থেকে এটা স্পষ্ট বুঝা যায় যে, ইহুদীদের ধর্মগ্রন্থ পবিত্র বাইবেলের ওল্ড টেষ্টামেন্ট অনুযায়ী সৃষ্টিকর্তা একজনই। এ নিয়ে দ্বিমত পোষণের কিছু নেই।
খ্রিষ্টান ধর্ম:
     বর্তমান বিশ্বে ক্যাথলিক ও প্রোটেষ্ট্যান্ট মিলিয়ে খ্রিষ্টান ধর্মের অনুসারীর সংখ্যা সর্বাধিক। এবং এই ধর্মের অনুসারী বৃদ্ধির সংখ্যা ইসলাম ধর্মের পরেই দ্বিতীয় অবস্থানে আছে। যদিও পার্থক্যটা বিশাল। এই ধর্মের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ হিসেবে পবিত্র বাইবেলের ওল্ড এবং নিউ উভয় টেষ্টামেন্টকেই মানা হয়। তবে, ওল্ড টেষ্টামেন্টের অনুসারী ইহুদীরা খ্রিষ্টানদের ধর্মগ্রন্থ বাইবেলের নিউ টেষ্টামেন্টকে স্বীকৃতি দিতে নারাজ। ইসলাম ধর্মের অনুসারী মুসলমানরাও মানে বাইবেলের ওল্ড টেষ্টমেন্টের মতই বাইবেলের নিউ টেষ্টামেন্টও সৃষ্টিকর্তার বাণী ছিল। তবে, সময়ের সাথে সাথে এটারও অনেকাংশই বিকৃত করে ফেলা হয়েছে। এখন এটাতে সৃষ্টিকর্তার বাণী থাকতেও পারে আবার না-ও থাকতে পারে। দেখা যাক, পবিত্র বাইবেলের নিউ টেষ্টামেন্ট সৃষ্টিকর্তা সম্পর্কে কি ধারণা দেয়।
     এটার উল্লেখ আছে গসপেল অফ ম্যাথিও: অধ্যায় ৪ অনুচ্ছেদ ১০: “তখন যীশু তাকে (শয়তানকে) বললেন, দূর হও, শয়তান। পাক কিতাবে লেখা আছে-প্রভু যিনি তোমার ইশ্বর, তাকে তুমি সেজদা করবে। তারই কেবল সেবা করবে”।
     খুবই সাধারণ ভাবে আমরা এই অনুচ্ছেদ থেকে বুঝতে পারি যে যীশু প্রভুকে মানে সৃষ্টিকর্তাকে একজনই বলে উল্লেখ করেছেন। এবং শুধু তারই উপাসনা করতে বলেছেন। তবে, এখানে খ্রিষ্টানরা ভিন্নমত পোষণ করবে। যদিও আমি মনে করি তাদের চার্চের কথা নয়, বিচারের জন্য আমার কাছে বাইবেলই যথেষ্ট। এক্ষেত্রে তারা যদি বাইবেল দিয়ে সৃষ্টিকর্তার সংখ্যা প্রমাণ করতে আসে তাহলে আমি এ নিয়ে আর একটা নোট লিখতে রাজি।
     এখান থেকে স্পষ্ট বুঝা যায়, ইহুদী এবং খৃষ্টান ধর্ম পালন করা অবস্থায়, কোনো ব্যাক্তি বা সম্প্রদায় যদি তাদের উপাস্যকে আল্লাহ নামে ডাকে, সেটা অবশ্যই একটামাত্র সত্বাকে ডাকছে। কোনো সন্দেহ নেই, এটা প্রপার নাউন। God শব্দটি আল্লাহর সাথে যায় না। আপনি এটা স্বীকার করুন।

হে হে, সং অব সংস সম্পর্কে আপনার ধারণা যে একেবারেই কম তা এবার স্পষ্ট হলো।
আর দেরী না করে পড়ে ফেলুন (অবশ্যই প্রাপ্তবয়স্ক পাঠক হলে)
ফয়সল সাইফ লিখেছেন:
আর এর আগেই যদি সং অফ সলোমনের Song of Songs 5:16               shyr hshyrym 5,16
      his mouth is sweets              Hkw mmtqym
      and all of him is delights      wklw mHmdym
      this is my love                    zh dwdy
      and this is my darling           wzh r`y
      daughters of Jerusalem        bnwt yrwshlm
ব্যাখ্যা করতে পারেন, যদি প্রমান থাকে যে মহমদিম কোনোভাবেই মুহাম্মদ নয়, তাহলে মেনে নিতে আমার কোনো আপত্তি নেই। কারণ আমি একগুঁয়ে নই।
সেটাতো লিংকগুলোয় একটু ক্লিক করলেই বিস্তারিত জানা যায়। শেষের যে লিংকটি ছিলো তিনি একজন হিব্রু ভাষাভাষী বাইবেল বিশারদ বলেই মনে হচ্ছে, তাঁর যুক্তিগুলোও গ্রাহ্য করার মত। তিনি বেশ কিছু যৌক্তিক প্রশ্ন করেছেন; যেমনঃ "mHmdym" (যার সরল ইংরেজী অর্থ "altogether lovely") ওটা যদি আরবের নবীকে নির্দেশ করা হয়, তাহলে প্রশ্ন ওঠাই স্বাভাবিক প্রাচীন জেরুযালেমের নিকটবর্তী শুলেম গ্রামে জন্ম নেয়া কোনো কন্যা কি আরবের নবীর ছিলো?
বিঃদ্রঃ - পুথিঁটি নারী ও পুরুষের গভীর প্রেম নিয়ে রচিত। আলোচ্য পুরুষটি হলেন কিং সলোমন; আর নারী প্রটাগনিস্টের নাম উল্লেখ করে নি, তবে তিনি যে শুলেম গ্রামের কুমারী কন্যা তা জানা যায় (৬:১৩)।
সিরিয়াসলী... ভিনদেশী ভাষায় লিখিত কোনো পুস্তকের বানানে বা উচ্চারণে কাকতালীয় সাদৃশ্য দেখলেই লাফ দিয়ে এক পিকিউলিয়ার, অপ্রাসঙ্গিক সিদ্ধান্ত আরোপ করতে ব্যস্ত হয়ে যাই। অথচ যখন মূল বক্তব্যটি যখন আরো সহজ-সরল, এবং ভিন্ন অর্থ বা কন্টেক্সট নির্দেশ করে তা গ্রহণ করতে এতো অনীহা কেন রে ভাই? ওপরে সং অব সলোমনের যে অংশটি কোট করলেন, তার সামগ্রিক ভাবানুবাদ পড়ে কমনসেন্স কি বলছে যে ওখানে ভবিষ্যৎের কোনো ব্যক্তির ব্যাপারে ভবিষ্যৎবাণী করা হয়েছে? যেমন ধরুন, রবি ঠাকুরের এই বিখ্যাত কাব্যটি কিন্চিৎ সড়গড় করে দিলে পড়তে বেখাপ্পা লাগবে কি নাঃ
...আকাশভরা সূর্য-তারা, বিশ্বভরা প্রাণ,
তাহারি মাঝখানে আমি পেয়েছি মোর স্থান, এই জমির ফিউচার মালিক নুড়ুল ইচলাম ভাভুল, দাগ নং #৪২০
বিস্ময়ে তাই জাগে আমার গান...
এটা ভবিষ্যৎ বাণী কিনা? এ সম্পর্কে বলেছি তো একটা পোষ্ট দেব। তাঁর আগ পর্যন্ত অপেক্ষা করুণ। নইলে আমি বলে বলে গলা ফাটাবো, আর আপনি সেটা মানবেন না। এই তো কথা।
     
"সব বই" বলতে কোন কোন বই? নির্দিষ্ট রেফারেন্স ছাড়ুন। হিন্দু পুরাণে কল্কি অবতার?  নাকি বছর দুয়েক আগে তুরস্কে উদয় হওয়া গসপেল অব বার্ণাবাস?  নির্দিষ্ট করে জানান তো কোন সব বইয়ে একই কথা দেখেছেন? 
সেসব বইয়ের কথা নিয়েই মুহাম্মদের ওপর পোষ্টটাটি লেখব। অপেক্ষা করুন। বাইবেলের ওল্ড টেষ্টামেন্ট, বাইবেলের নিউ টেষ্টামেন্ট, গসপেল অফ বৌদ্ধা, পুরান, দশাথির, ভেদ, চিক্যমতি সিংহনাথ সুতান্তা সবই থাকবে।

না পাগল না, তবে তার অন্ধভক্তরা ওরকমই সেজে থাকতে পছন্দ করেন। হুজুর টিভি চ্যানেলে যাহা বয়ান ছাড়িয়াছেন তাহাই মহাবিশ্বের পরম সত্য, উহার বিপরীতে হাজারো ভ্যালিড, কমনসেন্স যুক্তি দেখালেও সেগুলো ভুল, মিথ্যা।   
বাই দি ওয়ে, প্রজন্ম ফোরাম সম্পর্কে ধারণা কিছুটা আপডেট করে নিতে পারেন। এখানকার কমিউনিটি কিন্চিৎ ঘাড়ত্যাড়া প্রকৃতির। এই ফোরামটি ফেইসবুক নয় যে গিয়্যান ছড়ালেই চাটুকারদের স্তুতি বা লাইকের বন্যায় ভেসে যাওয়া যায়। কেউ কোনো বক্তব্য প্রকাশ করলে স্বাভাবিকভাবেই এখানে কাউণ্টার যুক্তি আসবে। তা যদি খণ্ডন করা যায় তাহলে আলোচনা সুন্দর আগাবে। তবে "তালগাছটা আমারই" মনোবৃত্তির লোকজনের হতাশ হবার সম্ভাবনা বেশি।
আমি ফেসবুক লাইকের আশা করি না। আমার আইডি বৃত্তান্ত চেক করলে দেখবেন এটা প্রথম সময়কার ফেসবুক আইডি। কিন্তু ফ্রেন্ড সংখ্যা এখনো ৫০০ হয়নি। কারণ আমি খুব কমই ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠাই। আর লোকের স্ট্যাটাসে লাইক-কমেন্টে ভাসিয়ে দেই না, যেন তারা আমাকে এসবে ভাসিয়ে দেয়। আমি কাউন্টার যুক্তি অবশ্যই ভালবাসি। কারণ আমি মনে করি জানা এবং শেখার কোনো শেষ নেই।

৩১

Re: যীশু খ্রিস্ট কি সর্বশক্তিমান ইশ্বর?

ফয়সল সাইফ লিখেছেন:

আমি ভাই এতো পন্ডিত নই। কিন্তু এখন আপনার পান্ডিত্যর আলোয় আলোকিত হয়ে ভাবছি, এই Eli শব্দটাকে বাইবেলে 'এলী' এবং 'এলোই' লেখা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ সেটা ঠিক করছে না কেন?

এইরকম কুতর্ক না করে সদস্য_১ ভাইয়ের দেওয়া ডিকশনারির লিংকে IPA নোটেশান দেখে / অডিও শুনে  নিজের ভুলটা সংশোধন করে নিলে ভালো হত। এতে তো লজ্জার কিছু নেই। আমরা প্রতিনিয়ত কারও না কারও কাছ থেকে কিছু না কিছু শিখছি।

ফয়সল সাইফ লিখেছেন:

আপনি মানুন অথবা না মানুন, আল্লাহর সাথে God শব্দটি কিছুতেই যায় না।

কোনও লজিকের তোয়াক্কা না করে যখন আগে থেকেই এই ডিসিশানটা নিয়ে নিয়েছেন তখন সেটা টপিকের শুরুতেই ডিসক্লেইমার দিয়ে বলে বলে দিতে পারেন। তাহলে অনেকেই আর আপনার টপিকে কাউন্টার লজিক দিয়ে আলোচনা করতেন না। অজস্র মানুষ অজস্র প্রেজুডিস নিয়ে বসে রয়েছে। আমার পাশের বাড়ির ভদ্রলোক মনে করেন মেদিনীপুর জেলার ৯০% মানুষ চোর। কোনও যুক্তিতেই তাঁর এ ধারণা পাল্টাবেনা। আমিও তার কোনওদিন ভুল ভাঙাতে যাইনা। কিন্তু প্রজন্ম ফোরামে কারও টপিকে এরকম কিছু দেখলে আমি একটা পোস্ট করব। কারণ আমি তাঁর মনোভাব জানিনা, হয়তো তিনি কাউন্টার লজিকে গুরুত্ব দেবেন। এইটাই একটা আলোচনার প্রধান শর্ত। অন্যের দেওয়া কাউন্টার লজিক দেখে নিজের ভুল সংশোধন করার মত মনোভাব থাকা।

"No ship should go down without her captain."

হৃদয়১'এর ওয়েবসাইট

লেখাটি LGPL এর অধীনে প্রকাশিত

৩২ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন ফয়সল সাইফ (০২-১১-২০১৩ ১৩:৫৫)

Re: যীশু খ্রিস্ট কি সর্বশক্তিমান ইশ্বর?

ফয়সল সাইফ: আপনি মানুন অথবা না মানুন, আল্লাহর সাথে God শব্দটি কিছুতেই যায় না।

কোনও লজিকের তোয়াক্কা না করে যখন আগে থেকেই এই ডিসিশানটা নিয়ে নিয়েছেন তখন সেটা টপিকের শুরুতেই ডিসক্লেইমার দিয়ে বলে বলে দিতে পারেন। তাহলে অনেকেই আর আপনার টপিকে কাউন্টার লজিক দিয়ে আলোচনা করতেন না। অজস্র মানুষ অজস্র প্রেজুডিস নিয়ে বসে রয়েছে। আমার পাশের বাড়ির ভদ্রলোক মনে করেন মেদিনীপুর জেলার ৯০% মানুষ চোর। কোনও যুক্তিতেই তাঁর এ ধারণা পাল্টাবেনা। আমিও তার কোনওদিন ভুল ভাঙাতে যাইনা। কিন্তু প্রজন্ম ফোরামে কারও টপিকে এরকম কিছু দেখলে আমি একটা পোস্ট করব। কারণ আমি তাঁর মনোভাব জানিনা, হয়তো তিনি কাউন্টার লজিকে গুরুত্ব দেবেন। এইটাই একটা আলোচনার প্রধান শর্ত। অন্যের দেওয়া কাউন্টার লজিক দেখে নিজের ভুল সংশোধন করার মত মনোভাব থাকা।

আপনি মনে হয় আমার God শব্দটির বিশ্লেষণ না পড়েই কথা বলছেন। আমি যা বলেছি সেটা যদি ভূল হয়ে থাকে, তাহলে তা নিয়ে কথা বলুন। আল্লাহ শব্দটি কমন নাউন নয়। আমিতো তা রেফারেন্স দিয়েই প্রমাণ করলাম। এরপর আর কী করে এটা কমন নাউন হয়?

৩৩ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন invarbrass (০২-১১-২০১৩ ১৭:১৪)

Re: যীশু খ্রিস্ট কি সর্বশক্তিমান ইশ্বর?

@ফয়সল সাইফ ভাইঃ সকল পোস্টের নীচে দেখুন "উক্তি" নামে একটি লিংক আছে। ওটাতে ক্লিক করলে quote tag যুক্ত হয়ে পোস্টটি এডিট বক্সে চলে আসবে। আপনি তখন সহজে রিপ্লাই দিতে পারবেন। quote tag-এর মাধ্যমে পৃথক রিপ্লাই দিলে পাঠকদের জন্য পড়তে সুবিধা হয়।

ফয়সল সাইফ লিখেছেন:

আচ্ছা ঠিক আছে, আমি স্বীকার করছি Eli শব্দটি কোনোভাবেই এল্লাই হতে পারে না। কিন্তু এটা কী করে ‘এলোই’ হয়? [দ্রঃ মার্ক ১৫-৩৪]
আপনার ধর্ম চর্চা নেই। মানছি আপনি সেটা প্রয়োজনও মনে করেন না। Allah শব্দটিকে বাঙালিরা উচ্চারণ করে ‘আল্লাহ’। আর আরবরা উচ্চারণ করে ‘আল্লোয়াহ’। এটা সম্পূর্ণই টানের ব্যাপার। আপনাকে এটা বুঝানো অসম্ভব।

Eloi নিয়ে তো কোন বিতর্ক হয় নি। Eli শব্দটির উচ্চারণ "এল্লাই" সঠিক ছিলো না তা উল্লেখ করেছিলাম, এবং সঠিক উচ্চারণ কি হবে সেটাও লিখেছিলাম। Eli-কাণ্ড ওখানেই খতম হওয়া উচিৎ ছিলো। তবে আপনি বোধ করি ব্যাপারটি পার্সোনালী নিয়েছেন। যাকগে, Eli/Eloi ইত্যাদি নিয়ে আর কোনো মন্তব্য করার নেই।

'আল্লোয়াহ'-র ব্যাপারে আপনার অবজার্ভেশন সঠিক। কিছুদিন আগে একটি ব্লগে Allaah বানান দেখে দু'টো a-র ব্যাপারে প্রশ্ন করেছিলাম; ব্লগার উত্তর দিয়েছিলেন শব্দটির মূল আরবী উচ্চারণ "আল্লোয়াহ" এবং তা প্রচলিত ইংরেজী "Allah" বানানে সঠিকভাবে প্রতিফলিত হয় না। আমার কাছে তাঁর ব্যাখ্যা যৌক্তিক মনে হয়েছিলো। আমি নিজেও কিছুদিন আগে এক টপিকে আফগানিস্তান-কে কেন "আফঘানিস্তান" লিখেছিলাম তার সপক্ষে যুক্তি দিয়েছিলাম।

অন্যদের বিরুদ্ধে বারবার ad hominem এ্যাটাকে যাচ্ছেন কেন? মানুষ যখন তর্কে পরাস্ত হয় এবং আর কোনো যুক্তি খুঁজে না পায়, তখন প্রতিপক্ষের ব্যক্তিসত্বা নিয়ে আক্রমণ করা আরম্ভ করে। যৌক্তিক বিতর্কের লড়াইয়ে এ্যাটাক করা করা উচিৎ কাউণ্টার লজিককে। লজিকটা কে বা কারা সাপ্লাই দিলো তা বড় বিষয় নয়। এক লজিশিয়ান যাবে, আরেক লজিশিয়ান আসবে। তবে যুক্তিটি যদি সঠিক হয়, সেটা ঠিকই টিকে থাকবে। আর আপনার পার্সোনাল কোনো কম্পলেক্স যদি থেকে থাকে তা অফলাইনেই ট্যাকল করার চেষ্টা করতে পারেন। অনলাইন ফোরামে অচেনা ব্যক্তিদের ব্যাপারে জাজমেন্টাল হওয়া ঠিক বিচক্ষণতার পরিচয় নয়।

ফয়সল সাইফ লিখেছেন:

ভাইয়া, যখন আমরা প্রথম ক্লাস সিক্সে ভর্তি হই তখন থেকে ইংরেজী দ্বিতীয়পত্রে পুনরায় গ্রামারের প্রচলন শুরু হয়। তাই নাউনের প্রকারভেদ বিস্তারিত শিখেই আমাদের এসএসসি পাস করতে হয়েছে। তাহলে না বুঝার তো কোনো কারণ দেখি না।

আপনি ক্লাস সিক্সে ইংরেজী গ্রামার পড়েছেন ও এসএসসি পাশ করেছেন জেনে খুবই প্রীত হলাম। সামনে আরো দীর্ঘ পথ পাড়ী দিতে হবে। আপনার প্রতি আন্তরিক শুভকামনা রইলো। hug

ফয়সল সাইফ লিখেছেন:

আপনি মানুন অথবা না মানুন, আল্লাহর সাথে God শব্দটি কিছুতেই যায় না। এটা হলো মুসলিমদের অবস্থান।
     এখন দেখা যাক আরবী ইহুদী ও খৃস্টান, মিশরীয় কপটিক খৃস্টান ও মালয়শিয়া/ইন্দোনেশিয়ার খৃস্টান সম্প্রদায়ও তাদের উপাস্যকে যে আল্লাহ নামে ডাকে, সেটা ঠিক কিনা? যদি সেটা ঠিক হয়, মেনে নেব ‘আল্লাহ’ শব্দটি প্রপার এবং কমন উভয় নাউন।
     ইহুদী ধর্ম:
     ইহুদীদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ হলো বাইবেলের ওল্ড টেষ্টামেন্ট। এটাকে খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের লোকেরাও তাদের সৃষ্টিকর্তার বাণী বলে বিশ্বাস করে। মুসমান সম্প্রদায়ের লোকেরাও বিশ্বাস করে এটা আদিতে তাদের সৃষ্টিকর্তার প্রেরিত পবিত্র ধর্মগ্রন্থ ছিল। যদিও তারা এখন এটার অনেকাংশই বিকৃত করে ফেলা হয়েছে বলে বিশ্বাস করে। তার মানে এখন এটাতে সৃষ্টিকর্তার বাণী থাকতেও পারে আবার না-ও থাকতে পারে। যাইহোক, দেখা যাক পবিত্র বাইবেলের ওল্ড টেষ্টমেন্ট সৃষ্টিকর্তা সম্পর্কে কি বলে:
     এটার উল্লেখ আছে বুক অফ ডিটরনমি, অধ্যায় ৬ অনুচ্ছেদ ৪: “(মুসা বলছেন) হে ইস্রায়েল বাসী, আমাদের প্রভু মাত্র একজন”। তারপর আরও উল্লেখ আছে, বুক অফ ডিটরনমি, অধ্যায় ৫ অনুচ্ছেদ ৭-৮: “(ইশ্বর বলছেন) আমার পাশাপাশি তোমরা আর কারও ইবাদত করবে না। তোমরা মহান ইশ্বরের কোন প্রতিমূর্তি বানাবে না। যাকে তুলনা করা যায় আকাশের ওপরে কিছুর সাথে, নিচের পৃথিবীর কিছুর সাথে অথবা পানির নিচের কিছুর সাথে। তোমরা তাদের সামনে নতজানু হবে না। তাদের সেবা করবে না। কারণ তোমাদের প্রভু খুবই প্রতিহিংসা পরায়ন”।
     ওপরের অনুচ্ছেদগুলো থেকে এটা স্পষ্ট বুঝা যায় যে, ইহুদীদের ধর্মগ্রন্থ পবিত্র বাইবেলের ওল্ড টেষ্টামেন্ট অনুযায়ী সৃষ্টিকর্তা একজনই। এ নিয়ে দ্বিমত পোষণের কিছু নেই।
খ্রিষ্টান ধর্ম:
     বর্তমান বিশ্বে ক্যাথলিক ও প্রোটেষ্ট্যান্ট মিলিয়ে খ্রিষ্টান ধর্মের অনুসারীর সংখ্যা সর্বাধিক। এবং এই ধর্মের অনুসারী বৃদ্ধির সংখ্যা ইসলাম ধর্মের পরেই দ্বিতীয় অবস্থানে আছে। যদিও পার্থক্যটা বিশাল। এই ধর্মের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ হিসেবে পবিত্র বাইবেলের ওল্ড এবং নিউ উভয় টেষ্টামেন্টকেই মানা হয়। তবে, ওল্ড টেষ্টামেন্টের অনুসারী ইহুদীরা খ্রিষ্টানদের ধর্মগ্রন্থ বাইবেলের নিউ টেষ্টামেন্টকে স্বীকৃতি দিতে নারাজ। ইসলাম ধর্মের অনুসারী মুসলমানরাও মানে বাইবেলের ওল্ড টেষ্টমেন্টের মতই বাইবেলের নিউ টেষ্টামেন্টও সৃষ্টিকর্তার বাণী ছিল। তবে, সময়ের সাথে সাথে এটারও অনেকাংশই বিকৃত করে ফেলা হয়েছে। এখন এটাতে সৃষ্টিকর্তার বাণী থাকতেও পারে আবার না-ও থাকতে পারে। দেখা যাক, পবিত্র বাইবেলের নিউ টেষ্টামেন্ট সৃষ্টিকর্তা সম্পর্কে কি ধারণা দেয়।
     এটার উল্লেখ আছে গসপেল অফ ম্যাথিও: অধ্যায় ৪ অনুচ্ছেদ ১০: “তখন যীশু তাকে (শয়তানকে) বললেন, দূর হও, শয়তান। পাক কিতাবে লেখা আছে-প্রভু যিনি তোমার ইশ্বর, তাকে তুমি সেজদা করবে। তারই কেবল সেবা করবে”।
     খুবই সাধারণ ভাবে আমরা এই অনুচ্ছেদ থেকে বুঝতে পারি যে যীশু প্রভুকে মানে সৃষ্টিকর্তাকে একজনই বলে উল্লেখ করেছেন। এবং শুধু তারই উপাসনা করতে বলেছেন। তবে, এখানে খ্রিষ্টানরা ভিন্নমত পোষণ করবে। যদিও আমি মনে করি তাদের চার্চের কথা নয়, বিচারের জন্য আমার কাছে বাইবেলই যথেষ্ট। এক্ষেত্রে তারা যদি বাইবেল দিয়ে সৃষ্টিকর্তার সংখ্যা প্রমাণ করতে আসে তাহলে আমি এ নিয়ে আর একটা নোট লিখতে রাজি।
     এখান থেকে স্পষ্ট বুঝা যায়, ইহুদী এবং খৃষ্টান ধর্ম পালন করা অবস্থায়, কোনো ব্যাক্তি বা সম্প্রদায় যদি তাদের উপাস্যকে আল্লাহ নামে ডাকে, সেটা অবশ্যই একটামাত্র সত্বাকে ডাকছে। কোনো সন্দেহ নেই, এটা প্রপার নাউন। God শব্দটি আল্লাহর সাথে যায় না। আপনি এটা স্বীকার করুন।

হুমমম, আমি নিজেও প্রপার নাউন বলেই জানতাম। তবে কিছুদিন আগে কোথায় যেন পড়েছিলাম এটি কমন নাউন হতে পারে কিনা তা নিয়ে ভাষাবিদদের মধ্যে দ্বিমত আছে। মালয়শিয়ায় (নাকি ইন্দোনেশিয়ায়) অমুসলিমরা আল্লাহ শব্দটি যেন ব্যবহার করতে না পারে সে জন্য ওখানকার মুসলিম ধর্মবিদরা কোর্টে একাধিক মামলা ঠুকছেন গত কয়েক বছর ধরে। ওরই বিতর্কের জের ধরে পক্ষ-বিপক্ষের বক্তব্য পড়েছিলাম।

তবে জুডাইজম ও কৃস্চিয়ানিটি নিয়ে আপনার লজিকটি বায়াসড, স্ট্রম্যান আর্গুমেণ্ট হয়ে গিয়েছে। আপনি কেবল মুসলিম দৃষ্টিকোণ থেকে ইহুদী ও খৃস্টান ধর্ম-গ্রন্থ-অনুসারী সম্পর্কে মন্তব্য করেছেন। যেটি আপনার বক্তব্যে বাদ গিয়েছে তা হলোঃ নন-মুসলিম ধর্মগুলোও একই ধাঁচের মনোভাব পালন করে ইসলাম ধর্মটির ব্যাপারে। আপনি ইসলামিক ভিউপয়েন্ট থেকে মন্তব্য করলেন ওল্ড ও নিউ টেস্টামেন্ট বিকৃত করা হয়েছে, ওসব ধর্মগুলোর অনুসারীরা পথভ্রষ্ট ইত্যাদি; অথচ চেপে গেলেন যে তারাও ইসলাম, কোরান, নবী বা মুসলিমদের সম্পর্কেও ঠিক একই ধারণা পোষণ করে। যেকোনো ফাণ্ডামেন্টালিস্ট কৃস্চিয়ান/জুডাইক প্রপাগাণ্ডা সাইটে ঢুঁ মারলেই তাদের মনোভাব আঁচ করা যায়।

তো আল্টিমেটলী পুরো টপিকের আলোচ্য ব্যাপারটি দাঁড়াচ্ছে এরকমঃ
A দাবী করছে কেবল সে-ই সত্য, তার মতে B ও C মিথ্যা
B দাবী করছে কেবল সে-ই সত্য, তার মতে A ও C মিথ্যা
C দাবী করছে কেবল সে-ই সত্য, তার মতে A ও B মিথ্যা

একজন নিরপেক্ষ, আউটসাইডার বা ইণ্ডিপেন্ডেন্ট অবজার্ভার ওপরের ফ্যাক্টগুলো থেকে কি সিদ্ধান্তে উপনীত হবেন? wink

ফয়সল সাইফ লিখেছেন:

এটা ভবিষ্যৎ বাণী কিনা? এ সম্পর্কে বলেছি তো একটা পোষ্ট দেব। তাঁর আগ পর্যন্ত অপেক্ষা করুণ। নইলে আমি বলে বলে গলা ফাটাবো, আর আপনি সেটা মানবেন না। এই তো কথা।

গলা ফাটানোর প্রয়োজন হবে না, ওই দক্ষতা মাছবাজারের জন্য তোলা থাকুক। আপনি যদি সলিড, ইউনিভার্সাল যুক্তি পেশ করতে পারেন, তাহলে গায়ের জোরের প্রয়োজন নেই, সবাই তা মেনে নেবে।

আলোচনা প্রসঙ্গে এই টপিকে সূর্য্য না পৃথিবী কে কাকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হচ্ছে নিয়ে অর্গানাইজড ধর্মগুলোর অবস্থান এসেছে। হাজার বছরের বেশি সময় ধরে অর্গানাইজড ধর্মগুলো (বিশেষ করে রোমান ক্যাথলিক চার্চ) একটি ভ্রান্ত মতবাদ তাদের অনুসারীদের ওপর চাপিয়ে দিয়েছে, এবং প্রকৃত সত্য প্রকাশিত হতে গেলে তা জোর খাটিয়ে অবদমন করে এসেছে। আর প্রাচীনদের দোষ দিয়েও কি লাভ? এই একবিংশ শতাব্দীতেও অনেক ধর্মগুরু তাদের নিজস্ব ধর্মগ্রন্থের রেফারেন্স দিয়ে দাবী করেন পৃথিবী নয়, সূর্য্যই ঘুরছে কিংবা পৃথিবী গোলাকৃতি নয়, সমতল। খোদ আমেরিকার মত দেশেই গোঁড়া খৃস্টান কাল্টগুলো এইসব বুলশিট এখনো বিশ্বাস করে।

তো প্রশ্ন জাগতেই পারেঃ আমাদের এই তুচ্ছ, ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র সৌরজগৎের কার্যপদ্ধতি নিয়েই যদি অর্গানাইযড ধর্মগুলো ভ্রান্ত ধ্যানধারণা প্রচার-প্রকাশ করে থাকে, তাহলে কি নিশ্চয়তা আছে যে তাদের সৃষ্টিতত্ব সম্পর্কিত অন্যান্য দাবীদাওয়াগুলোও সঠিক ও নির্ভুল?

অন্যভাবে উপস্থাপন করতে গেলে... ভিবি কোডার যেমন বললেন, সাধারণ কমন সেন্স বলবে সূর্য্যই ঘুরছে। পৃথিবীর বুকে দাঁড়িয়ে যেকোনো পৃমিটিভ অবজার্ভার গ্রহ-নক্ষত্র পর্যবেক্ষণ করে ঠিক তাই সিদ্ধান্ত নেবে। যে ভূমিতে দাঁড়িয়ে আছি সেটা স্থির থাকছে, আশপাশের পাহাড়-পর্বত, গাছ-পালা সবই সুস্থির আছে। দশ বছর আগে পর্বতমালা যেখানে ছিলো, আজও সেখানেই অবস্থিত আছে, ভবিষ্যৎেও একই অবস্থানে অটল থাকবে বলেই মনে হচ্ছে। অথচ দেখা যাচ্ছে প্রতিদিন সূর্য্য ব্যাটাই সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত অনবরত হেলেদুলে স্থান পরিবর্তন করছে, রাতের আকাশেও দেখা যাচ্ছে অন্যান্য গ্রহ-নক্ষত্র গুলোও স্থানান্তরিত হচ্ছে - অথচ পৃথিবীটা মনে হচ্ছে বুঝি স্ট্যাটিক, সে তার আপন পযিশনে এ্যাবসলিউটলী ফিক্সড থাকছে। আর যদি পৃথিবীও আবর্তিত হতো, তাহলে আমরা সবাই ভূপৃষ্ঠ থেকে ছিটকে পড়ে যাচ্ছি না কেন? অতএব - পৃথিবী নয়, আসলে অন্যরাই পৃথিবীকে ঘিরে আবর্তন করছে। ধর্মগুলো এই পৃমিটিভ বিশ্বদর্শন আনুষ্ঠানিকভাবে বরণ করে নিয়েছিলো - কারণ এই অবজার্ভেশন তাদের সৃষ্টিতত্বের সাথে মিলে যায়। পৃথিবীটাই একমাত্র গুরুত্বপূর্ণ স্থান, গহ-নক্ষত্রগুলো আকাশের জুয়েলারী। বহকাল সবকিছু ঠিকঠাকই চলছিলো। বিশ্বের সৃষ্টিতত্ব, কার্যপদ্ধতি ইত্যাদি নিয়ে মানবজাতী মোটামুটি কমফোর্টেবল অবস্থানে ছিলো।

তারপর মজার ঘটনাগুলো ঘটতে আরম্ভ করলো। একের পর এক ব্রুনো, কেপলার, কোপার্নিকাস, গ্যালিলেও, হয়গেনস, নিউটন প্রমুখ আবির্ভূত হতে লাগলেন। এরা প্রায় প্রত্যেকেই ধর্ম বিশ্বাসী ছিলেন, প্রায় সকলেই খৃস্টান ধর্ম পালন ও প্রসারে ভূমিকা রেখেছিলেন।  কিন্তু এরাই আবার সত্য উদ্ঘাটন করে জানালেন - ধর্মগুলোর বিশ্বদর্শন সঠিক ছিলো না। পৃথিবী-ই সূর্যকে ঘিরে আবর্তিত হচ্ছে। এমনকি সূর্য্যও স্থির নয় - তারও আবার নিজস্ব কক্ষপথ আছে।

অষ্টাদশ শতাব্দী... ধর্মগুলো - মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব। অন্যান্য প্রাণীকুলের মত নয়, মানবের সৃষ্টি হয়েছে স্পেশাল, এক্সক্লিসিভ সোর্স থেকে। এই পৃথিবীর জীবজগৎের ওপর তাকে রাজত্ব করার অধিকার দিয়েছেন স্বয়ং সৃষ্টিকর্তা।
ডারউইন, রাসেল, হাক্সলী - ভুল। মানবজাতী পৃথিবীর কোলে হঠাৎ উড়ে এসে জুড়ে বসা কোনো স্পেশাল প্রাণীগোষ্ঠী নয়। সমগ্র প্রাণীজগৎ যেভাবে ক্রম বিবর্তনের ডালপালা মেলে উদয় হয়েছে, মানুষেরও উদ্ভব হয়েছে একইভাবে। অন্যান্য প্রজাতীর তুলনায় শারীরিকভাবে দুর্বল হলেও মানুষের পক্ষে একটি ট্রাম্পকার্ড খুব ভালোভাবে কাজ করেছে - তার উন্নত বুদ্ধিমত্তা।

উনবিংশ শতাব্দীতে আমরা জানলাম - মহাবিশ্ব হলো মিল্কীওয়ে গ্যালাক্সী। আমাদের সৌরজগৎ মিল্কীওয়ের অতি ক্ষুদ্র অংশ,  কোটি কোটি স্টার সিস্টেমের একটা আমাদের সোলার সিস্টেম।

বিংশ শতাব্দী... বোহর, আইনস্টাইন,  হাবল ও বন্ধুরাঃ মিল্কী ওয়ে গ্যালাক্সীটাই সমগ্র মহাবিশ্ব (ইউনিভার্স) না।
দৃশ্যমান মহাবিশ্বে ১০০ থেকে ৪০০ বিলিয়ন অব্দি গ্যালাক্সী আছে। তাদের একটি আমাদের মিল্কীওয়ে।
প্রতি গ্যালাক্সীতে গড়ে ১০০ থেকে ৪০০ বিলিয়ন স্টার সিস্টেম আছে। তাদের একটি আমাদের সৌরজগৎ।

একবিংশ শতাব্দী... হকিং, সাসকিন্ড ও অন্যান্য স্টৃং থিওরিস্টরাঃ এই মহাবিশ্বই একমাত্র ইউনিভার্স নাও হতে পারে। অসীম সংখ্যক মহাবিশ্ব থাকার সম্ভাবনা আছে (মাল্টিভার্স হাইপোথিসিস)। চতুর্মাত্রিক বিশ্ব (৩টি স্থানিক মাত্রা + ১টি সময় মাত্রা) ধারণাটি ভুল হবার সম্ভাবনা আছে। স্টৃং থিওরীস্টরা জানাচ্ছেন আমাদের মহাবিশ্ব ১০ ডাইমেনশনাল, এম-থিওরিস্টরা ১১তম ডাইমেনশনেরও আভাস দিয়েছেন।

যাকগে, হাজার হাজার বছর ধরে ধর্মগুলো প্রচার করে এসেছে পৃথিবী একটি বিরাট এ্যাকুয়েরিয়ামের মত আর মানবজাতী হলো এক মহাসত্বার প্রিয় গোল্ডফিশ প্রজাতীর মত। যুগে যুগে গ্যালিলেও, নিউটন, ডারউইন, আইনস্টাইন, হকিং-এর মত নচ্ছার লোকগুলো এসে পৃথিবী ও মানবজাতীকে সেন্টারপীস থেকে হঠিয়ে ক্রমেই অনুল্লেখযোগ্য, তুচ্ছ করে দিতে লাগলেন। এক প্রজন্ম এসে দেখিয়ে দিলেন পৃথিবী সৌরজগৎের অতি ক্ষুদ্র অংশ। পরবর্তী প্রজন্ম এসে জানালেন, সৌরজগৎটা একটা গ্যালাক্সীর ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র অংশ। তার পরবর্তী প্রজন্ম এসে দেখালেন - এই গ্যালাক্সীটাই অগুণতি গ্যালাক্সী বাহিনীর মধ্যে এক সাধারণ সদস্য। আর তার পরবর্তী প্রজন্ম এসে জানালেন - এই মহাবিশ্বই একমাত্র সবেধন নীলমণি নয়, অসীম (ইনফিনিট) সংখ্যক মহাবিশ্বের মাল্টিভার্সের একটি ভার্সন।

ভিবি কোডার ভাই একটি চরম সত্য লিখেছেনঃ মানুষ মাত্রেই ভুল

জাগতিক ধর্মগুলো দাবী করছে যে তারা উচ্চতর কোনো পরমসত্বা (higher being) দ্বারা আদিষ্ট হয়েছে, তারা মানবজাতীকে সত্যপথের দিক নির্দেশনা দিচ্ছে, তাদের সমস্ত দাবীই ওই মহান সত্বার নিজস্ব দাবী। তবে এখন জানা যাচ্ছে ওদের অতীতের ট্র্যাকরেকর্ড পুরোপুরি সঠিক ছিলো না। মানুষ মাত্রেই ভুল - অতীতের বিজ্ঞান-মনস্ক মানুষের ভুল পর্যবেক্ষণ লব্ধ ভ্রান্ত জ্ঞান তৎকালীন ধর্মগুলো এনডর্স করেছিলো। এটা দোষের কিছু নয়, সেকালে মানবজাতীর জ্ঞান-গবেষণার পরিধী সীমিত ছিলো, তৎকালীন ধর্মগুরুরা তখনকার অর্জিত জ্ঞানকেই সত্য মনে করেছিলেন।

তো ব্যাপারটা দাঁড়াচ্ছে এরকম - অর্গানাইযড ধর্মগুলো, যেগুলো সংগঠিত হয়েছিলো দেড়/দুই্/আড়াই হাজার বছর বা আরো আগে এবং এখনো পর্যন্ত মোটামুটি অবিকৃত রয়ে গেছে, একদিকে দাবী করছে তারা সরাসরি সৃষ্টিকর্তার আজ্ঞা পালন করছে, আবার দেখা যাচ্ছে তাদের কিছু মতবাদ ছিলো ভ্রান্ত, ম্যান-মেইড। ব্যাপারটি লজিকালী কিছুটা গোলমেলে মনে হয় না? মানুষ মাত্রেই ভুল, তাই বলে ঈশ্বরও নিশ্চয়...  thinking নাকি....  worried

১০১৩ সালের মহাবিশ্বঃ পৃথিবী নামক পুঁচকে এ্যাকুরিয়াম, ও সৃষ্টিসেরা "মাস্টার অব দি ইউনিভার্স" মানবকুল...  kidding
আর আজ ২০১৩ সাল... ইউনিভার্স, মাল্টিভার্স, বিগ ব্যাং, ব্ল্যাক হোল, ডার্ক ম্যাটার, ডার্ক এনার্জী cool

ভাবছি....  thinking ৩০১৩ সালে প্রজন্ম-নেক্সট-এর কোনো ফোরামিক নাযারেথের জনৈক ব্যক্তি মহাবিশ্বের পরম সৃষ্টিকর্তা কিনা তা নিয়ে বিতর্ক করার আগ্রহ পাবে?  hehe

Calm... like a bomb.

৩৪

Re: যীশু খ্রিস্ট কি সর্বশক্তিমান ইশ্বর?

invarbrass লিখেছেন:

চতুর্মাত্রিক বিশ্ব (৩টি স্থানিক মাত্রা + ১টি সময় মাত্রা) ধারণাটি ভুল হবার সম্ভাবনা আছে। স্টৃং থিওরীস্টরা জানাচ্ছেন আমাদের মহাবিশ্ব ১০ ডাইমেনশনাল, এম-থিওরিস্টরা ১১তম ডাইমেনশনেরও আভাস দিয়েছেন।

ব্রাশু ভাই, এই জিনিশটা নিয়ে আলাদা কোন টপিক করবেন? বা কোন লিঙ্ক?
(অফটপিক এর জন্যে দুঃখিত)

রাব্বি হোসেন'এর ওয়েবসাইট

লেখাটি CC by-nc-sa 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

৩৫ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন invarbrass (০২-১১-২০১৩ ১৬:০৯)

Re: যীশু খ্রিস্ট কি সর্বশক্তিমান ইশ্বর?

<অফটপিক>রাব্বি ভাই আপনি Prof. Brian Greene-এর Elegant Universe, Fabric of the Cosmos এবং The Hidden Reality বইগুলো ঘাঁটতে পারেন। ওগুলো সাধারণ পাঠকদের উপযোগী করে লেখা, তবে একটু জটিল, নীরস মনে হতে পারে। বরং আমি রেকমেণ্ড করবো ব্রায়ান গৃনের বইগুলোর মূল বিষয়বস্তু নিয়ে তৈরী নোভা-র ৭ পর্বের ডকুমেন্টারী সিরিজদু'টো দেখার জন্য। (দস্যুউপসাগরে সবই পাবেন) wink </অফটপিক>

Calm... like a bomb.

৩৬

Re: যীশু খ্রিস্ট কি সর্বশক্তিমান ইশ্বর?

এই ফানি টপিকে সবাই এতো সিরিয়াস সবাই গেল তা আমি বুঝি না  lol2  lol2 lol2

ফয়সল সাইফ লিখেছেন:

এই জমির ফিউচার মালিক নুড়ুল ইচলাম ভাভুল, দাগ নং #৪২০

lol2 lol2 lol2 lol2 lol2 যমুনা গ্রুপের মালিকের নাম এখানে কেন ?

invarbrass লিখেছেন:

বিনুদুন-মূলক ভিডিওটি খুঁজে বের করে জাতীর সামনে হাজির করার জন্য ডেডু ভাইয়ের প্রতি আকুল আবেদন রইলো

একটা ভিডিও পেলাম তাতে দেখা যাচ্ছে ললনার সাথে কথা বলছেন আর অন্য হাতে তসবি  জপছে  । এটা আসলেই মিরাকেল  wink

@ফয়সল সাইফ
লেখা কোট করুন। বোল্ড করলে কোনটা আপনার কোনটা অন্যলোকের তা বোঝা যায় না। পোস্ট গুলো এডিট করুন

লেখাটি LGPL এর অধীনে প্রকাশিত

৩৭ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন ফয়সল সাইফ (০২-১১-২০১৩ ২০:৩৩)

Re: যীশু খ্রিস্ট কি সর্বশক্তিমান ইশ্বর?

invarbrass লিখেছেন:

Eloi নিয়ে তো কোন বিতর্ক হয় নি। Eli শব্দটির উচ্চারণ "এল্লাই" সঠিক ছিলো না তা উল্লেখ করেছিলাম, এবং সঠিক উচ্চারণ কি হবে সেটাও লিখেছিলাম। Eli-কাণ্ড ওখানেই খতম হওয়া উচিৎ ছিলো। তবে আপনি বোধ করি ব্যাপারটি পার্সোনালী নিয়েছেন। যাকগে, Eli/Eloi ইত্যাদি নিয়ে আর কোনো মন্তব্য করার নেই।

ধন্যবাদ। আমিও মনে করি না এটা নিয়ে এত প্যাঁচানোটা বুদ্ধিমনানের কাজ হচ্ছে।

invarbrass লিখেছেন:

'আল্লোয়াহ'-র ব্যাপারে আপনার অবজার্ভেশন সঠিক। কিছুদিন আগে একটি ব্লগে Allaah বানান দেখে দু'টো a-র ব্যাপারে প্রশ্ন করেছিলাম; ব্লগার উত্তর দিয়েছিলেন শব্দটির মূল আরবী উচ্চারণ "আল্লোয়াহ" এবং তা প্রচলিত ইংরেজী "Allah" বানানে সঠিকভাবে প্রতিফলিত হয় না। আমার কাছে তাঁর ব্যাখ্যা যৌক্তিক মনে হয়েছিলো। আমি নিজেও কিছুদিন আগে এক টপিকে আফগানিস্তান-কে কেন "আফঘানিস্তান" লিখেছিলাম তার সপক্ষে যুক্তি দিয়েছিলাম।

ঠিক বলেছেন।

invarbrass লিখেছেন:

অন্যদের বিরুদ্ধে বারবার ad hominem এ্যাটাকে যাচ্ছেন কেন? মানুষ যখন তর্কে পরাস্ত হয় এবং আর কোনো যুক্তি খুঁজে না পায়, তখন প্রতিপক্ষের ব্যক্তিসত্বা নিয়ে আক্রমণ করা আরম্ভ করে। যৌক্তিক বিতর্কের লড়াইয়ে এ্যাটাক করা করা উচিৎ কাউণ্টার লজিককে। লজিকটা কে বা কারা সাপ্লাই দিলো তা বড় বিষয় নয়। এক লজিশিয়ান যাবে, আরেক লজিশিয়ান আসবে। তবে যুক্তিটি যদি সঠিক হয়, সেটা ঠিকই টিকে থাকবে। আর আপনার পার্সোনাল কোনো কম্পলেক্স যদি থেকে থাকে তা অফলাইনেই ট্যাকল করার চেষ্টা করতে পারেন। অনলাইন ফোরামে অচেনা ব্যক্তিদের ব্যাপারে জাজমেন্টাল হওয়া ঠিক বিচক্ষণতার পরিচয় নয়।

আমি আসলে জাজমেন্টে যেতে আগ্রহী নই। এতটা সময়ই বা কোথায়?

invarbrass লিখেছেন:

আপনি ক্লাস সিক্সে ইংরেজী গ্রামার পড়েছেন ও এসএসসি পাশ করেছেন জেনে খুবই প্রীত হলাম। সামনে আরো দীর্ঘ পথ পাড়ী দিতে হবে। আপনার প্রতি আন্তরিক শুভকামনা রইলো।

আপনার বুঝায় একটু ফাঁক আছে। মনে হয় সংশোধন করা দরকার। আমি প্রচলন শুরু হওয়ার কথা বলেছি। সেটা ২০০২ সালের কথা। বিতর্কে আমার প্রতিপক্ষ হলেও; আপনার বিচক্ষণতার প্রতি আমি সত্যিই মুগ্ধ হয়ে পড়ছি।

invarbrass লিখেছেন:

হুমমম, আমি নিজেও প্রপার নাউন বলেই জানতাম। তবে কিছুদিন আগে কোথায় যেন পড়েছিলাম এটি কমন নাউন হতে পারে কিনা তা নিয়ে ভাষাবিদদের মধ্যে দ্বিমত আছে। মালয়শিয়ায় (নাকি ইন্দোনেশিয়ায়) অমুসলিমরা আল্লাহ শব্দটি যেন ব্যবহার করতে না পারে সে জন্য ওখানকার মুসলিম ধর্মবিদরা কোর্টে একাধিক মামলা ঠুকছেন গত কয়েক বছর ধরে। ওরই বিতর্কের জের ধরে পক্ষ-বিপক্ষের বক্তব্য পড়েছিলাম।

ভাই ‘আল্লাহ’ শব্দটি প্রপার না কমন নাউন সেটা নিয়ে ভাষাবিদরা দ্বিমত পোষণ করে কী করবেন। তাঁরা এটা নিয়ে মাথা ঘামালে সেটা তাঁদের ব্যাপার। কিন্তু এটা প্রপার না কমন সেই সিদ্ধান্ত নেবে কোরআন। কোরআন বলছে, সুরা ইখলাস: আয়াত ১: ‘বলুন, তিনি আল্লাহ, এক ও অদ্বিতীয়’।
সোজা হিসাব। ভাষাবিদরা এখানে নাক গলালে সেটা ঠিকবে নাকি। তবে, অমুসলিমরা (ইহুদী-খ্রিষ্টান) যদি আল্লাহ শব্দটি ব্যবহার করে আর তাতে মালয়েশিয়ান বা ইন্দোনেশিয়ান মুসলিম ধর্মবিদরা কোর্টে এ নিয়ে মামলা ঠুকাঠুকি করেন, আমি বলব সেটা বাড়াবাড়ি। সে দায়টা একান্তই তাদের। ইসলাম বা আল্লাহর নয়।

invarbrass লিখেছেন:

তবে জুডাইজম ও কৃস্চিয়ানিটি নিয়ে আপনার লজিকটি বায়াসড, স্ট্রম্যান আর্গুমেণ্ট হয়ে গিয়েছে। আপনি কেবল মুসলিম দৃষ্টিকোণ থেকে ইহুদী ও খৃস্টান ধর্ম-গ্রন্থ-অনুসারী সম্পর্কে মন্তব্য করেছেন। যেটি আপনার বক্তব্যে বাদ গিয়েছে তা হলোঃ নন-মুসলিম ধর্মগুলোও একই ধাঁচের মনোভাব পালন করে ইসলাম ধর্মটির ব্যাপারে। আপনি ইসলামিক ভিউপয়েন্ট থেকে মন্তব্য করলেন ওল্ড ও নিউ টেস্টামেন্ট বিকৃত করা হয়েছে, ওসব ধর্মগুলোর অনুসারীরা পথভ্রষ্ট ইত্যাদি; অথচ চেপে গেলেন যে তারাও ইসলাম, কোরান, নবী বা মুসলিমদের সম্পর্কেও ঠিক একই ধারণা পোষণ করে। যেকোনো ফাণ্ডামেন্টালিস্ট কৃস্চিয়ান/জুডাইক প্রপাগাণ্ডা সাইটে ঢুঁ মারলেই তাদের মনোভাব আঁচ করা যায়।

ভাই আমি যা বলেছি, তা প্রমাণ করে দিতে পারি। উভয় বাইবেলে ভূল ধরে দিতে পারি, যার কোনো সমাধান কেউ দিতে পারবে না। [দ্রঃ ম্যাথিও: ১-১৬: মত্তনের ছেলে ইয়াকুব, ইয়াকুবের ছেলে ইউসূফ। লূক: ৩-২৪: ইউসূপ এলীর ছেলে, এলী মত্তনের ছেলে] এটা হলো একটা বংশ তালিকা। আমার প্রশ্ন হলো এখানে, ইউসূপ কার ছেলে? ইয়াকুব না এলীর? কী সমাধান দেবেন?
এটা ভূল; তবে আমি এখানে কারো ভূল ধরতে আসিনি। আমি কেবল বলেছি মুসলিমরা মনে করে এটা বিকৃত করে ফেলা হয়েছে। এ ব্যাপারে হাদিসও আছে। [দ্রঃ বোখারী: ৬৮৫৯]
তবে, তাঁরা যদি ইসলামের ব্যাপারে একই মত পোষণ করে তাহলে আমি বলব, প্রমাণ দিক। যদি প্রমাণ দিতে পারে, আর সেটা সঠিক হয়; মেনে নিতে আপত্তি কীসের?

invarbrass লিখেছেন:

তো আল্টিমেটলী পুরো টপিকের আলোচ্য ব্যাপারটি দাঁড়াচ্ছে এরকমঃ
A দাবী করছে কেবল সে-ই সত্য, তার মতে B ও C মিথ্যা
B দাবী করছে কেবল সে-ই সত্য, তার মতে A ও C মিথ্যা
C দাবী করছে কেবল সে-ই সত্য, তার মতে A ও B মিথ্যা

ABC’র নাটকটি সুন্দর। ধরুন এখানে A মানে আমেরিকা, B মানে ভুটান, C মানে কম্বোডিয়া। এখন আমেরিকা দাবী করল তাঁরা বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী দেশ। সেটা কী ভূল? এখানে ভুটান বা কম্বোডিয়ার দাবীতে কী আসে যায়?

invarbrass লিখেছেন:

গলা ফাটানোর প্রয়োজন হবে না, ওই দক্ষতা মাছবাজারের জন্য তোলা থাকুক। আপনি যদি সলিড, ইউনিভার্সাল যুক্তি পেশ করতে পারেন, তাহলে গায়ের জোরের প্রয়োজন নেই, সবাই তা মেনে নেবে।

আশায় রইলাম।

invarbrass লিখেছেন:

আলোচনা প্রসঙ্গে এই টপিকে সূর্য্য না পৃথিবী কে কাকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হচ্ছে নিয়ে অর্গানাইজড ধর্মগুলোর অবস্থান এসেছে। হাজার বছরের বেশি সময় ধরে অর্গানাইজড ধর্মগুলো (বিশেষ করে রোমান ক্যাথলিক চার্চ) একটি ভ্রান্ত মতবাদ তাদের অনুসারীদের ওপর চাপিয়ে দিয়েছে, এবং প্রকৃত সত্য প্রকাশিত হতে গেলে তা জোর খাটিয়ে অবদমন করে এসেছে। আর প্রাচীনদের দোষ দিয়েও কি লাভ? এই একবিংশ শতাব্দীতেও অনেক ধর্মগুরু তাদের নিজস্ব ধর্মগ্রন্থের রেফারেন্স দিয়ে দাবী করেন পৃথিবী নয়, সূর্য্যই ঘুরছে কিংবা পৃথিবী গোলাকৃতি নয়, সমতল। খোদ আমেরিকার মত দেশেই গোঁড়া খৃস্টান কাল্টগুলো এইসব বুলশিট এখনো বিশ্বাস করে।

ভাই আমি বাইবেলের যেসব ভূল ধরার কথা বলছি তার মধ্যে পৃথিবী নয়, সূর্য্যই ঘুরছে কিংবা পৃথিবী গোলাকৃতি নয়, সমতল; এসব টপিকও আছে। আমি সেসব নিয়ে এগুতে চাইছি না। কারণ কোরআন এসব বলছে না। তাই এত মাথাব্যাথা নেই। যদি আপনি মনে করেন কোরআন কোথাও এমন কথা বলছে, তাহলে জানাবেন। তবে, তার আগে দয়াকরে অর্গানাইযড ধর্মগুলো বলে ইসলামকেও এক করে ফেলবেন না।

invarbrass লিখেছেন:

তো প্রশ্ন জাগতেই পারেঃ আমাদের এই তুচ্ছ, ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র সৌরজগৎের কার্যপদ্ধতি নিয়েই যদি অর্গানাইযড ধর্মগুলো ভ্রান্ত ধ্যানধারণা প্রচার-প্রকাশ করে থাকে, তাহলে কি নিশ্চয়তা আছে যে তাদের সৃষ্টিতত্ব সম্পর্কিত অন্যান্য দাবীদাওয়াগুলোও সঠিক ও নির্ভুল?
অন্যভাবে উপস্থাপন করতে গেলে... ভিবি কোডার যেমন বললেন, সাধারণ কমন সেন্স বলবে সূর্য্যই ঘুরছে। পৃথিবীর বুকে দাঁড়িয়ে যেকোনো পৃমিটিভ অবজার্ভার গ্রহ-নক্ষত্র পর্যবেক্ষণ করে ঠিক তাই সিদ্ধান্ত নেবে। যে ভূমিতে দাঁড়িয়ে আছি সেটা স্থির থাকছে, আশপাশের পাহাড়-পর্বত, গাছ-পালা সবই সুস্থির আছে। দশ বছর আগে পর্বতমালা যেখানে ছিলো, আজও সেখানেই অবস্থিত আছে, ভবিষ্যৎেও একই অবস্থানে অটল থাকবে বলেই মনে হচ্ছে। অথচ দেখা যাচ্ছে প্রতিদিন সূর্য্য ব্যাটাই সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত অনবরত হেলেদুলে স্থান পরিবর্তন করছে, রাতের আকাশেও দেখা যাচ্ছে অন্যান্য গ্রহ-নক্ষত্র গুলোও স্থানান্তরিত হচ্ছে - অথচ পৃথিবীটা মনে হচ্ছে বুঝি স্ট্যাটিক, সে তার আপন পযিশনে এ্যাবসলিউটলী ফিক্সড থাকছে। আর যদি পৃথিবীও আবর্তিত হতো, তাহলে আমরা সবাই ভূপৃষ্ঠ থেকে ছিটকে পড়ে যাচ্ছি না কেন? অতএব - পৃথিবী নয়, আসলে অন্যরাই পৃথিবীকে ঘিরে আবর্তন করছে। ধর্মগুলো এই পৃমিটিভ বিশ্বদর্শন আনুষ্ঠানিকভাবে বরণ করে নিয়েছিলো - কারণ এই অবজার্ভেশন তাদের সৃষ্টিতত্বের সাথে মিলে যায়। পৃথিবীটাই একমাত্র গুরুত্বপূর্ণ স্থান, গহ-নক্ষত্রগুলো আকাশের জুয়েলারী। বহকাল সবকিছু ঠিকঠাকই চলছিলো। বিশ্বের সৃষ্টিতত্ব, কার্যপদ্ধতি ইত্যাদি নিয়ে মানবজাতী মোটামুটি কমফোর্টেবল অবস্থানে ছিলো।
তারপর মজার ঘটনাগুলো ঘটতে আরম্ভ করলো। একের পর এক ব্রুনো, কেপলার, কোপার্নিকাস, গ্যালিলেও, হয়গেনস, নিউটন প্রমুখ আবির্ভূত হতে লাগলেন। এরা প্রায় প্রত্যেকেই ধর্ম বিশ্বাসী ছিলেন, প্রায় সকলেই খৃস্টান ধর্ম পালন ও প্রসারে ভূমিকা রেখেছিলেন।  কিন্তু এরাই আবার সত্য উদ্ঘাটন করে জানালেন - ধর্মগুলোর বিশ্বদর্শন সঠিক ছিলো না। পৃথিবী-ই সূর্যকে ঘিরে আবর্তিত হচ্ছে। এমনকি সূর্য্যও স্থির নয় - তারও আবার নিজস্ব কক্ষপথ আছে।
অষ্টাদশ শতাব্দী... ধর্মগুলো - মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব। অন্যান্য প্রাণীকুলের মত নয়, মানবের সৃষ্টি হয়েছে স্পেশাল, এক্সক্লিসিভ সোর্স থেকে। এই পৃথিবীর জীবজগৎের ওপর তাকে রাজত্ব করার অধিকার দিয়েছেন স্বয়ং সৃষ্টিকর্তা।
ডারউইন, রাসেল, হাক্সলী - ভুল। মানবজাতী পৃথিবীর কোলে হঠাৎ উড়ে এসে জুড়ে বসা কোনো স্পেশাল প্রাণীগোষ্ঠী নয়। সমগ্র প্রাণীজগৎ যেভাবে ক্রম বিবর্তনের ডালপালা মেলে উদয় হয়েছে, মানুষেরও উদ্ভব হয়েছে একইভাবে। অন্যান্য প্রজাতীর তুলনায় শারীরিকভাবে দুর্বল হলেও মানুষের পক্ষে একটি ট্রাম্পকার্ড খুব ভালোভাবে কাজ করেছে - তার উন্নত বুদ্ধিমত্তা।
উনবিংশ শতাব্দীতে আমরা জানলাম - মহাবিশ্ব হলো মিল্কীওয়ে গ্যালাক্সী। আমাদের সৌরজগৎ মিল্কীওয়ের অতি ক্ষুদ্র অংশ,  কোটি কোটি স্টার সিস্টেমের একটা আমাদের সোলার সিস্টেম।
বিংশ শতাব্দী... বোহর, আইনস্টাইন,  হাবল ও বন্ধুরাঃ মিল্কী ওয়ে গ্যালাক্সীটাই সমগ্র মহাবিশ্ব (ইউনিভার্স) না।
দৃশ্যমান মহাবিশ্বে ১০০ থেকে ৪০০ বিলিয়ন অব্দি গ্যালাক্সী আছে। তাদের একটি আমাদের মিল্কীওয়ে।
প্রতি গ্যালাক্সীতে গড়ে ১০০ থেকে ৪০০ বিলিয়ন স্টার সিস্টেম আছে। তাদের একটি আমাদের সৌরজগৎ।
একবিংশ শতাব্দী... হকিং, সাসকিন্ড ও অন্যান্য স্টৃং থিওরিস্টরাঃ এই মহাবিশ্বই একমাত্র ইউনিভার্স নাও হতে পারে। অসীম সংখ্যক মহাবিশ্ব থাকার সম্ভাবনা আছে (মাল্টিভার্স হাইপোথিসিস)। চতুর্মাত্রিক বিশ্ব (৩টি স্থানিক মাত্রা + ১টি সময় মাত্রা) ধারণাটি ভুল হবার সম্ভাবনা আছে। স্টৃং থিওরীস্টরা জানাচ্ছেন আমাদের মহাবিশ্ব ১০ ডাইমেনশনাল, এম-থিওরিস্টরা ১১তম ডাইমেনশনেরও আভাস দিয়েছেন।
যাকগে, হাজার হাজার বছর ধরে ধর্মগুলো প্রচার করে এসেছে পৃথিবী একটি বিরাট এ্যাকুয়েরিয়ামের মত আর মানবজাতী হলো এক মহাসত্বার প্রিয় গোল্ডফিশ প্রজাতীর মত। যুগে যুগে গ্যালিলেও, নিউটন, ডারউইন, আইনস্টাইন, হকিং-এর মত নচ্ছার লোকগুলো এসে পৃথিবী ও মানবজাতীকে সেন্টারপীস থেকে হঠিয়ে ক্রমেই অনুল্লেখযোগ্য, তুচ্ছ করে দিতে লাগলেন। এক প্রজন্ম এসে দেখিয়ে দিলেন পৃথিবী সৌরজগৎের অতি ক্ষুদ্র অংশ। পরবর্তী প্রজন্ম এসে জানালেন, সৌরজগৎটা একটা গ্যালাক্সীর ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র অংশ। তার পরবর্তী প্রজন্ম এসে দেখালেন - এই গ্যালাক্সীটাই অগুণতি গ্যালাক্সী বাহিনীর মধ্যে এক সাধারণ সদস্য। আর তার পরবর্তী প্রজন্ম এসে জানালেন - এই মহাবিশ্বই একমাত্র সবেধন নীলমণি নয়, অসীম (ইনফিনিট) সংখ্যক মহাবিশ্বের মাল্টিভার্সের একটি ভার্সন।
ভিবি কোডার ভাই একটি চরম সত্য লিখেছেনঃ মানুষ মাত্রেই ভুল।
জাগতিক ধর্মগুলো দাবী করছে যে তারা উচ্চতর কোনো পরমসত্বা (higher being) দ্বারা আদিষ্ট হয়েছে, তারা মানবজাতীকে সত্যপথের দিক নির্দেশনা দিচ্ছে, তাদের সমস্ত দাবীই ওই মহান সত্বার নিজস্ব দাবী। তবে এখন জানা যাচ্ছে ওদের অতীতের ট্র্যাকরেকর্ড পুরোপুরি সঠিক ছিলো না। মানুষ মাত্রেই ভুল - অতীতের বিজ্ঞান-মনস্ক মানুষের ভুল পর্যবেক্ষণ লব্ধ ভ্রান্ত জ্ঞান তৎকালীন ধর্মগুলো এনডর্স করেছিলো। এটা দোষের কিছু নয়, সেকালে মানবজাতীর জ্ঞান-গবেষণার পরিধী সীমিত ছিলো, তৎকালীন ধর্মগুরুরা তখনকার অর্জিত জ্ঞানকেই সত্য মনে করেছিলেন।
তো ব্যাপারটা দাঁড়াচ্ছে এরকম - অর্গানাইযড ধর্মগুলো, যেগুলো সংগঠিত হয়েছিলো দেড়/দুই্/আড়াই হাজার বছর বা আরো আগে এবং এখনো পর্যন্ত মোটামুটি অবিকৃত রয়ে গেছে, একদিকে দাবী করছে তারা সরাসরি সৃষ্টিকর্তার আজ্ঞা পালন করছে, আবার দেখা যাচ্ছে তাদের কিছু মতবাদ ছিলো ভ্রান্ত, ম্যান-মেইড। ব্যাপারটি লজিকালী কিছুটা গোলমেলে মনে হয় না? মানুষ মাত্রেই ভুল, তাই বলে ঈশ্বরও নিশ্চয়...   নাকি....   
১০১৩ সালের মহাবিশ্বঃ পৃথিবী নামক পুঁচকে এ্যাকুরিয়াম, ও সৃষ্টিসেরা "মাস্টার অব দি ইউনিভার্স" মানবকুল...   
আর আজ ২০১৩ সাল... ইউনিভার্স, মাল্টিভার্স, বিগ ব্যাং, ব্ল্যাক হোল, ডার্ক ম্যাটার, ডার্ক এনার্জী 
ভাবছি....   ৩০১৩ সালে প্রজন্ম-নেক্সট-এর কোনো ফোরামিক নাযারেথের জনৈক ব্যক্তি মহাবিশ্বের পরম সৃষ্টিকর্তা কিনা তা নিয়ে বিতর্ক করার আগ্রহ পাবে?

সম্ভবত আমার পোষ্টে প্রথম কমেন্ট করার আগেই অন্যরা কমেন্ট করে করে আমাকে আপনার কথা জানিয়ে দিয়েছিল। এখন মনে হচ্ছে, যে আপনার সাথে জমবে। বেশ ভাল লাগছে। আমি এটাই চাই। কোরআন ছাড়া অন্যকোনো ধর্মগ্রন্থের প্রতি আমার শ্রদ্ধা নেই। আমি সেগুলো বিশ্বাসও করি না। তবে, প্রয়োজন হলে একটু-আধটু রেফারেন্স টানি। এমনিতে জ্যোর্তিবিজ্ঞান নিয়ে আমার প্রচন্ড আগ্রহ। প্রতিদিন জানার চেষ্টা করি।
আপনার এই সব কথা যদি অন্যধর্মগুলো সম্পর্কে হয়, আমার তাতে কোনো আপত্তি নেই। আমিও একমত। আমি জানি নিকোলাস কোপার্নিকাস, গ্যালিলিও গ্যালিলাই, এন্টোনিও লরেন্ট ল্যাভোশিয়ের সাথে কী জঘন্য আচরণ করা হয়েছিল। তা ছাড়া বাইবেলে এরিস্টটল আর টলেমীর ভূল ধারণাগুলোও অন্তভূক্ত করা হয়েছে। কিন্তু এরিটার্চকে ভূল ভেবে, তাঁরা তার কোনো মতবাদ তখন গ্রহণ করেনি। কিন্তু এসব যদি আপনি কোরআনের ব্যাপারে চালিয়ে দেন, আমি সেটার প্রমাণ চাইব। নির্দিষ্ট করে একটা অন্তত প্রমান দেবেন। যদি ব্যাখ্যা না করতে পারি তাহলে মেনে নেব। কারণ আমি বিশ্বাস করি সৃষ্টিকর্তা ভূল হতে পারে না। সৃষ্টিকর্তা ভূল হলে, এই বিশাল মহাবিশ্বের সৃষ্টিকর্তা হওয়ার নূন্যতম যোগ্যতাও তাঁর থাকার কথা নয়।