টপিকঃ আমেরিকায় এক বছর এবং মধ্যবিত্ত ছাত্রদের বাস্তবতা (পর্ব ৪)

দ্বিতীয় সমস্যা ছিল পানির সমস্যা। আমেরিকায় সরাসরি কল থেকে পানি খাওয়াটা কোনো ব্যাপার না। সবাই খায়। যথেষ্ট নিরাপদ ও যা শুনেছি। কিন্তু আমি কখনই এমন সরাসরি না খাওয়ায়, প্রথম দিকে খুবই সমস্যা হত। খেতে গেলে কেমন কেমন জানি লাগত। ক্যাম্পাসে, আমাদের দেশে যেমন ভার্সিটিগুলোয় ফিল্টার পানি থাকে তেমনি এখানে ওয়াটার ফাউনটেইন থাকে। সবাই নুয়ে জাস্ট বাটন প্রেস করে খেয়ে নেয়। প্রথম প্রথম বেশির ভাগ পানি মুখ থেকে পরে যেত। পরে আস্তে আস্তে অভ্যাস হয়ে গেছে।

তৃতীয় সমস্যা ছিল বাথরুম আর গোসল এর। ডর্ম গুলোতে বাথরুম আর গোসল করার জায়গা সবার একসাথে। হাই কমোডে আমি এমনিতেই অভ্যস্ত না। ব্যবহারের পর পানির ও কোনো ব্যবস্থা নাই। শুধু টিস্যু। এছাড়া দরজার মাঝখানে বিশাল ফাকা জায়গা। উপরে নিচেও একই অবস্থা। এর চেয়েও খারাপ অবস্থা ছিল ইন্টারন্যাশনাল অফিসে। ঐখানের টয়লেট এ ছিটকিনি লাগানোর কোনো ব্যবস্থাই ছিল না !!!!! সে এক চরম অবস্থা। গোসল করার জন্য পাশাপাশি তিনটা শাওয়ার। কার্টেইন একই সাথে লাগানো। প্রবলেম হইলো একপাশ থেকে কেউ টান দিলে ওপর পাশেরটা পুরি উম্মুক্ত হয়ে যায়। প্রায় প্রতিদিনই দুই চার জনের মান ইজ্জত পাবলিক প্রপার্টি হয়ে যেত। আমার সাথেও হইছে। সবার টার্গেট থাকত মাঝের শাওয়ার দখল করার। একটা মজার ঘটনা বলি। আমার ফ্লোরে একপাশে ছেলে, একপাশে মেয়ে। সেই দিন নর্থ হেজেসে প্রথম। কোথায় কি জানি না। বাথরুম খুজতেছি। তখন ভার্সিটি শুরু না হওয়ায় তেমন কেউই নাই। মেয়েদের পাশ যে আলাদা তাও জানি না। মেয়েদের পাশের বাথরুমে কেউ আবার বিটলামি করে "WOMEN" এর "WO" মুছে দিছে। কেউ ছিল না। আমি নিশ্চিন্ত ভাবে বাথরুম করে দাত ব্রাশ করছি এমন সময় এক মেয়ে শুধু টাওয়েল জড়িয়ে ভিতরে ঢুকলো। আমি আর ওই মেয়ে দুই জনই থতমত। মেয়ে কনফিউজড ভাবে বলল "আমি তো জানতাম এটা মেয়েদের ওয়াশরুম" আমি বললাম বাইরে তো "MEN" লেখা। মেয়ে মাথা নাড়তে নাড়তে গোসল করতে চলে গেল। পরে জেনেছিলাম যে ওই মেয়েও ঐদিনই প্রথম আসছিল, তাই বুঝে নাই। আমার ফ্লোর আর.এ ছিল জার্মানির একটা মেয়ে, কেলী। ও এই ঘটনা পরে গ্রুপ আড্ডায় আমার থেকে শুনে বলে "তোমার কপাল খারাপ যে মাত্র একটাই মেয়ে আসছিল" !!!!!

চথুর্ত সমস্যা ছিল প্রথম প্রথম আমি আমেরিকানদের সাথে মিশতেই পারতাম না। একসেন্ট বুঝতে সমস্যা হত আমারও, ওদেরও। ওরা যেই সব টপিক নিয়া আলাপ করত তার সম্পর্কে বিন্দুমাত্র আইডিয়া আমার ছিল না। ঝামেলা বেশি হতো ওরা যখন জোকস করত। ওদের জোকস আমার কাছে মোটেও ফানি লাগত না। এছাড়া কথায় কথায় "থ্যান্ক ইউ" বলাটাও তখন রপ্ত করে উঠতে পারি নাই। তাই প্রথমে অনেকেই আমাকে রুড ভাবত। এই সমস্যা কাটানোর জন্য ফ্লোর আর.এ কেলী আমাকে গ্রুপ প্রোগ্রাম গুলোয় বেশি বেশি ডাকত আর কিছু না কিছু করতে দিত। ডর্মে প্রতি সপ্তাহেই কিছু না কিছু হত, গ্রুপ আড্ডা- যেখানে জাস্ট এক্সপেরিয়েন্স শেয়ার করা হত। অথবা ছোট খাটো কোনো খেলা- আইসক্রিম অথবা হাওয়াই মিঠাই বানানো সবাই মিলে, কারাওকে প্রতিযোগিতা, ট্রেজার হান্ট, ওয়াটার ফাইট, জোম্বি হান্ট, ওয়ার্ড গেম, পিজা পার্টি এইগুলো। এই সব জিনিস ঐখানকার মানুষদের সাথে মিশতে আর কালচার এডপ্ট করতে হেল্প করে খুব।

পঞ্চম সমস্যা ছিল, যেকোনো ছুটিতেই, সেটা ২ দিন হোক অথবা ৭ দিন, ডর্ম পুরো বন্ধ হয়ে যেত। তখন তল্পিতল্পা নিয়া অন্য কারো বাসায় উঠতে হত। সোফায় শুয়ে কোনো মতে ছুটির দিনগুলো পার করতাম। এত টাকা দিয়ে থাকার পর এই জিনিসটা পুরাপুরি অবিচার মনে হত।

চলবে......

দিনের পর দিন............

Re: আমেরিকায় এক বছর এবং মধ্যবিত্ত ছাত্রদের বাস্তবতা (পর্ব ৪)

৩ নাম্বার প্রবলেম টা কি ওয়াল্ড ওয়াইড  thinking
সব দেশেই একই কাহিনী। পানি আর ওয়াশরুম/ বাথরুম রুলজ।

ফর্মালিটি মেনটেইন  কি জিনিস তা কয়েক দফা দেশের বাইরে গিয়ে বুঝেছি। আর কত টা ইম্পোরটেন্ট।
স্কুলের এক সময় মনে হয় এত রুলস এর ফর্মালিটি শিখে কি করব  waiting । দেশের বাইরে যেয়ে টের পেলাম জিনিশ গুলো কেন শেখাটা জরুরি ছিল  dontsee

Re: আমেরিকায় এক বছর এবং মধ্যবিত্ত ছাত্রদের বাস্তবতা (পর্ব ৪)

চতুর্থ সমস্যা বা কালচার শক এটা সবচেয়ে কমন। আমি ভয়ানক শার্প ছিলাম এই ব্যপারে। প্রথম জাস্ট একদিন দেখসিলাম যে গেইট খুলে ধরে রাখতে হয় পরের জনের জন্য ব্যস এরপর থেকে আর মিস হয় নাই। এইরকম টুকিটাকি জিনিশ গুলা চাইলেই এড্যপ্ট করে নেয়া যায়। এবং এগুলা সব কালচারেই প্রশংসার যোগ্য। তবে জার্মানী বা ইউরোপ কান্ট্রিতে অতিরিক্ত থ্যংক্সের জন্য আমেরিকানদের একটু ভোগান্তি পোহাতেই হয়। চালিয়ে যান, আপনার লেখা প্রতিটা ডিটেইলসের সাথে সিমোর কাহিনী মনে পড়ছে। ওল্ড ডেইস  tongue

Rhythm - Motivation Myself Psychedelic Thoughts

লেখাটি CC by 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত