সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন কবির (২০-০৬-২০১৩ ১১:১৬)

টপিকঃ [সংকলিত পোস্ট] আজকালকার কোয়ান্টাম কালচার এবং বিজ্ঞান ‌‌॥ পর্ব ১

[মূল পোস্ট এখানে। মূল পোস্ট হতে শুধুমাত্র বিজ্ঞান অংশটিকেই এখানে দেয়া হল।]

আচ্ছা, আপনি কি “কোয়ান্টাম” শব্দটি শুনেছেন? যদি শুনে থাকেন তবে নিশ্চয়ই ভাবছেন যে আমি এখনই “কোয়ান্টাম মেকানিক্সের” কথা বলব। আসলে ব্যাপারটি তা নয়। শিরোনামে কোয়ান্টাম শব্দটি থাকলেও আমার এই লেখার বিষয়বস্তু কিন্তু “কোয়ান্টাম মেকানিক্স” নয় বরং “কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন”। যারা কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের নাম শুনেছেন তাদেরকে তো আর এটা নিয়ে নতুন করে বলার কিছু নেই। আর যারা এর নাম শোনেননি বা এই ফাউন্ডেশন সম্পর্কে যাদের কোন ধারণা নেই- তাদের ঘাবড়ানোর কিছু নেই, এই লেখাটি পড়তে থাকুন - আশাকরি জানতে পারবেন। মনে প্রশ্ন আসাই স্বাভাবিক যে এই ফাউন্ডেশন নিয়ে এত বড় লেখা লিখার কী দরকার ছিল। কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের বেশ কিছু ব্যাপার আমার কাছে গড়বর লাগছে। এত বেশি গড়বর লাগছে যে ব্যাপারগুলো আমার জন্য হজম করা বেশ কষ্টকর হয়ে পড়েছে, এই লেখাটি সেই বদহজমেরই ফলাফল।

লেখার শুরুতেই কিছু ব্যাপার খোলসা করে বলে ফেলি। আমি বিজ্ঞানপ্রিয় একজন মানুষ, কোন বিজ্ঞানী নই। তাই একজন বিজ্ঞানীর চেয়ে আমার বিজ্ঞান বিষয়ক জ্ঞান অনেক কম হবে সেটাই স্বাভাবিক। আমার এই লেখায় বিজ্ঞান নিয়ে যা কিছু চলে এসেছে তার সবই আমার ক্ষুদ্র জ্ঞানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। আর এই সীমাবদ্ধতাকে পাকপোক্ত করার জন্য বিভিন্ন রেফারেন্স ও ব্যবহার করা হয়েছে, যেখানে রেফারেন্সগুলো ব্যবহার করা হয়েছে সেখানে নাম্বার দিয়ে রেফারেন্সগুলো উল্লেখ করা হয়েছে। আর লেখায় ব্যবহৃত কোয়ান্টাম মেথড সংক্রান্ত সকল তথ্য কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের ওয়েবসাইট [১] এবং তাদের প্রকাশিত বিভিন্ন বই [২][৩] থেকে গ্রহণ করা হয়েছে। এক্ষেত্রে সবগুলো বইয়েরই সর্বশেষ সংস্করণ ব্যবহার করা হয়েছে

বিজ্ঞান

আমার এই ছোট্ট জীবনে বিজ্ঞান বেশ বড়সর একটা জায়গা দখল করে আছে। বিজ্ঞানের সবকিছুই আমাকে মুগ্ধ করে - হোক সেটা ডিনামিক্সে দেয়া নিউটনের মূলসূত্রগুলো কিংবা আইনস্টাইনের থিউরি অফ রিলেটিভিটি অথবা এডিসনের তৈরি ইলেক্ট্রিক বাল্ব। বড় বিজ্ঞান ছোট বিজ্ঞান – সবকিছুতেই মুগ্ধ হতে সময় লাগেনা। বাতাসভর্তি বেলুনকে ফাটালে শব্দ হয় – বেলুনের ভেতর কোন বোমা না থাকার পরও কেন শব্দ হয় সেই ব্যাখ্যা পেয়ে আমি মুগ্ধ হই। পানিতে টইটুম্বুর একটা গ্লাসের মুখে কাগজ চেপে গ্লাস উল্টালে পানিও পড়েনা কাগজও পড়েনা - দেখে আমি মুগ্ধ হই। জগদীশচন্দ্র বসু প্রমান করলেন গাছেরও প্রাণ আছে - জেনে আমি মুগ্ধ হই। আবদুল্লাহ আল মুতী শরফুদ্দিন, সুব্রত বড়ুয়া আর মুহম্মদ জাফর ইকবালের লেখা বিজ্ঞানবিষয়ক ছোটদের বইগুলো পড়ে মুগ্ধ হই। বিজ্ঞানের ব্যাখ্যা, বিজ্ঞানের পরীক্ষা-নিরীক্ষা, এমনকি বিজ্ঞানী দেখেও মুগ্ধ হই। মোদ্দা কথা বিজ্ঞান আমাকে যেরকম মুগ্ধ করে আর কোন কিছুই সেভাবে আমাকে মুগ্ধ করতে পারেনা। যারা বিজ্ঞান বোঝেন তারা নিশ্চয়ই বিজ্ঞানের নানা কলাকৌশল দেখে আমার মতই মুগ্ধ হন – কেউ কম মুগ্ধ হন আবার কেউবা বেশি মুগ্ধ হন – কিন্তু মুগ্ধ যে হন এটা নিশ্চিত! মুগ্ধ হয়ে বিজ্ঞানকে আরো মহিমান্বিত করার চেষ্টাও করেন অনেকে, বিজ্ঞানকে পৌঁছে দিতে চান মানুষের কাছে।

অবশ্য সবাই যে বিজ্ঞানকে নিয়ে এভাবে ভাবেন তাও কিন্তু নয়, এর বিপরীত অবস্থাও দেখতে পাওয়া যায়। আমাদের দেশে বিজ্ঞান বিষয়টি এখনও সেরকমভাবে জনপ্রিয় হতে না পারলেও “বৈজ্ঞানিক” শব্দটি কিন্তু বেশ জনপ্রিয়। এই জনপ্রিয়তাকে পুঁজি করেই কেউ “বৈজ্ঞানিক” পদ্ধতিতে মাত্র সাত দিনে ইংলিশ শিখিয়ে দিচ্ছে, কেউবা “বৈজ্ঞানিক” পদ্ধতিতে ভাগ্যগণনা করে ভবিষ্যৎ বলে দিচ্ছে আবার কেউ “বৈজ্ঞানিক” পদ্ধতিতে জীবনে সুখ আনবার ট্রেনিং দিচ্ছে। চারপাশে অবৈজ্ঞানিক সব ব্যাপারস্যাপারকে যেভাবে “বৈজ্ঞানিক” শব্দটির মোড়কে ঢেকে ফেলে মানুষকে বিভ্রান্ত করে তা হাতে গছিয়ে দেয়া হচ্ছে - বিজ্ঞানপ্রিয় মানুষ হয়ে আমার জন্য সেটা হজম করা বেশ কষ্টকর।

নিশ্চয়ই বৃত্তান্ত শুনতে ইচ্ছা করছে যে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের সাথে বিজ্ঞানের সম্পর্কটা কি? বৃত্তান্ত দেবার আগে কিছু বৈজ্ঞানিক কথাবার্তা বলি, তাহলে পরের কথাগুলো বুঝতে সুবিধা হবে আপনার জন্য প্রথমেই আমরা কোয়ান্টাম মেকানিক্স দিয়ে শুরু করি।

কোয়ান্টাম মেকানিক্স

প্রথমেই শুরু করি কোয়ান্টাম মেকানিক্স দিয়ে। কোয়ান্টাম মেকানিক্স মোটেও সহজ ব্যাপার না, বাঘা বাঘা লোকজনও এই থিওরি বুঝতে গিয়ে ঘোল খায়। এর এই কঠিন দিক নিয়ে রসবোধে বরপুর বিজ্ঞানী রিচার্ড ফাইনম্যান রসিকতা করে বলেছিলেন, “I think I can safely say that nobody understands quantum mechanics.”[৪] সহজ ভাষায় কোয়ান্টামতত্ত্ব লেখা মোটেও চাট্টিখানি কথা না। এ কারণে সহজ ভাষায় সবার বোধগম্য করে কোয়ান্টাম মেকানিক্সের সাথে পরিচয় করিয়ে দেবার জন্য প্রয়াত কথা শিল্পী হুমায়ুন আহমেদের লেখা "কাঠপেন্সিল" বইটির[৫] উপর নির্ভর করতে হচ্ছে।

এমন একটা সময় ছিল যখন পদার্থ বিজ্ঞানই ছিল মূল বিজ্ঞান, আর পদার্থ বিজ্ঞানের মূল ব্যাপার-স্যাপারগুলো এসেছিল আইজাক নিউটনের সূত্র ধরে। সেটাকে বলা হত ক্লাসিকাল মেকানিক্স। সবকিছু সেসব সূত্র মেনেই চলছিল। একসময় ধারণা করা হল যে পদার্থবিদ্যার সবকিছুই আবিষ্কার হয়ে গেছে, নতুন আর কিছুই আবিষ্কার করার নেই। পুরো পদার্থবিদ্যা জগতে নেমে এল স্থবিরতা। পদার্থবিদ্যা বাদ দিয়ে লোকজন জীববিজ্ঞান, রসায়ন - এইসব ব্যাপার নিয়ে মেতে উঠল। পদার্থবিদ্যার যখন এই অবস্থা তখন হঠাৎ দেখা গেল যে পদার্থবিদ্যার বেশ কিছু জিনিস ক্লাসিকাল মেকানিক্স দিয়ে ব্যাখ্যা করা যাচ্ছেনা। যেমন ইলেক্ট্রনের আচরণ। আর সেরকম এক সময়ই ম্যাক্সপ্ল্যাংক কোয়ান্টাম মেকানিক্স নামে এক বিদ্যা তৈরি করে ফেললেন। এর মধ্যে হাইজেনবার্গ তাঁর বিখ্যাত “অনিশ্চয়তার সূত্র”টি দিয়ে দিলেন। তিনি বললেন যে কোন বস্তুর গতি ও অবস্থান কখনোই একসাথে বের করা যাবেনা, কিছু অনিশ্চয়তা থাকবেই। এই অনিশ্চয়তা কতটুকু তাও তিনি বের করে দিলেন। আইনস্টাইন সে সময় খুব বিরক্ত হলেন। তিনি বললেন, সব বস্তু যেহেতু প্রকৃতির মাঝে রয়েছে তাই প্রকৃতি সব বস্তুর বেগ ও অবস্থান জানে, প্রকৃতিতে কোন অনিশ্চয়তা নেই। কাজেই আমাদের উপর কোন অনিশ্চয়তা নেই। এ সময়ই আইনস্টাইন তাঁর বিখ্যাত উক্তিটি করেন - “ঈশ্বর পাশা খেলেন না (God does not play dice)”। তিনি উঠে পড়ে লাগলেন “অনিশ্চয়তার সূত্র” ভুল প্রমাণ করার জন্য। কিন্তু তা করতে গিয়ে তিনি থিওরিটিকে আরো পাকা পোক্ত করে ফেলেন। নিলস বোর তাঁকে দেখিয়ে দেন যে কিভাবে অনিশ্চয়তা কাজ করছে। আইনস্টাইন বাধ্য হয়ে সূত্রটির যথার্থতা স্বীকার করলেও, তিনি কোয়ান্টাম থিওরি নিয়ে কখনোই পুরোপুরি নিঃসন্দেহ হতে পারেননি।

আইনস্টাইনের মত কোয়ান্টাম থিওরি বাতিল প্রমাণ করার জন্য কাজ করছিলেন বিজ্ঞানী শ্রোডিঙ্গার। তিনি নিজে যদিও কোয়ান্টাম ফিজিক্সের জনকদের একজন (এবং তরঙ্গ সমীকরণ বা Wave Equation এর আবিষ্কারক), তারপরও পদার্থবিদ্যায় সম্ভাবনা (probability) ও অনিশ্চয়তার ব্যাপার তিনি কিছুতেই মেনে নিতে পারছিলেননা। তিনি এক কল্পিত এক্সপেরিমেন্টের কথা বললেন। সেই এক্সপেরিমেন্টে একটি বেড়াল আছে একটি বাক্সের মধ্যে, যে বাক্সে রয়েছে এক বোতল বিষাক্ত গ্যাস, বোতলের উপর একটা হাতুরি, হাতুড়িটা আবার একটা গিগার কাউন্টারের (যা দিয়ে তেজষ্ক্রিয়তা মাপা হয়) সাথে যুক্ত, কাউন্টারটির পাশেই রয়েছে একটুকরো তেজষ্ক্রিয় ইউরেনিয়াম। ধরা যাক, ৫০% সম্ভাবনা যে ইউরেনিয়াম অ্যাটম এক সেকেন্ড পর ভেঙ্গে যাবে। সাথে সাথেই গিগার কাউন্টারটি সচল হবে, ফলে হাতুরি আছড়ে পড়বে বোতলে, শুরু হবে বিষক্রিয়া। এখন এই ঘটনার ফলে বাক্সের ভেতর বেড়ালটি বেঁচে আছে কি মারা গেছে - এ প্রশ্নের সাধারন কোন উত্তর নেই, বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে বেড়ালটি বেঁচেও আছে আবার মারাও গেছে - এই দুই অবস্থাতেই বিদ্যমান। অর্থাৎ একটি বিড়ালের দুটি wave function থাকবে। বাক্স না খোলা পর্যন্ত আমরা বলতে পারছিনা যে বিড়ালটি জীবিত না মৃত। বাক্স খুললেই কেবল তা জানা সম্ভব, আর তখনই বিড়ালের wave function collapse করবে। শ্রোডিঙ্গারের কাছে ব্যাপারটি খুবই হাস্যকর ছিল। তিনি বললেন, আমরা যখন দেখব তখনই বিড়ালের ভাগ্য নির্ধারিত হবে, তার আগে না - এ কেমন কথা?

এই বার নোবেলবিজয়ী পদার্থবিদ ইউজিন উইগনার এগিয়ে এলেন শ্রোডিঙ্গারের বিড়াল সমস্যার সমাধানে। তিনি বললেন যে, “চেতনাই বস্তুর অবস্থানের নিয়ন্তা (Consciousness determines the existense)”। কার চেতনা? যে ঘটনাটি দেখছে তার চেতনা, অর্থাৎ Observer এর চেতনা। ব্যাপারটা অনেকটা এরকম – যদি Observer এর মধ্যে চেতনা থাকে থাকে তবেই ওয়েভ ফাংশন কলাপ্সের বিষয়টা চলে আসে। সমস্যা দেখা দিল যখন চেতনাকে সংজ্ঞায়িত করতে যাওয়া হল তখন। কারণ পদার্থবিদ্যায় চেতনার কোন সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞা নেই। পদার্থবিদ্যা চেতনা নিয়ে কাজ করেনা, এটা মনোবিজ্ঞানের বিষয়। বেশিরভাগ ভৌত বিজ্ঞানীরা আবার মনোবিজ্ঞানকে পাত্তা দেননা।[৬] কারণ তাদের মতে মনোবিজ্ঞানে কোন কিছুরই সেরকম কোন সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞা নেই। যেমন ধরুণ - “সুখ”। আপনি কিভাবে সুখকে সংজ্ঞায়িত করবেন? কারণ এই জিনিসটা নিয়ে একেকজনের অনুভূতি একেক রকম – এর কোন সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞা নেই। তাছাড়া এর কোন পরিমাপও নেই। এক কেজি সুখ বা দুই মিটার সুখ – এভাবে কি সুখকে মাপা যায়? সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞা ও পরিমাপ ছাড়া বিজ্ঞান কাজ করেনা। যার ফলে দেখা যায় যে মনোবিজ্ঞান সত্যিকারের বিজ্ঞান কীনা সেটা নিয়ে বিজ্ঞানীদের মাঝে প্রায়ই তর্কবিতর্ক চলে - সে আরেক মজার কাহিনী!

যাই হোক, আগের কথায় ফেরত আসি। চেতনাকে যখন সুনির্দিষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত করা যাচ্ছেনা, তখন বিজ্ঞানীরা চেষ্টা করলেন যে চেতনা ব্যাপারটা নেই এমন থিওরি দিতে। এবং তারা সমস্যার একাধিক সমাধানও করে ফেললেন। এই ওয়েভ ফাংশন কলাপ্সের বিষয়টা বেশ কিছু কোয়ান্টাম ইন্টারপ্রেটেশন থেকে এসেছে, এর মধ্যে কোপেনহেগেন ইন্টারপ্রেটেশন খুব বিখ্যাত। কোপেনহেগেন ইন্টারপ্রেটেশনে ওয়েভ ফাংশন কলাপ্সের কথা বলা আছে ঠিকই কিন্তু ঠিক কী বা কে “অবজার্ভার” হিসেবে বিবেচিত হবে তা সঠিকভাবে নির্ধারণ করা নেই। সুতরাং তিনি শুধুমাত্র “কনসাস অবজারভার (conscious observer)” ইন্টারপ্রেটেশনটি বেছে নিয়েছেন। অন্যদিকে নীলস বোরসহ অনেকেই ওয়েভ ফাংশন কলাপ্সকে শুধু প্রতীকী উপস্থাপনা বলে আখ্যায়িত করেছেন।[৭] শেষমেষ ইউজিন উইগনার নিজেই চেতনার ব্যাপারস্যাপার থেকে সরে দাঁড়ান। [৮]

এদিকে জার্মান পদার্থবিদ ডিটিয়ার বেন বিড়াল সমস্যা সমাধান করতে গিয়ে বলেন যে জীবিত বিড়ালের ওয়েভ ফাংশন আর মৃত বিড়ালের ওয়েভ ফাংশন আলাদা থাকবে, একটির সাথে অন্যটির কোন যোগ থাকবেনা। ফলে কোন অবজার্ভারের দরকার পড়বেনা। হিউ এভার্ট লিখলেন যে শ্রোডিঙ্গারের বিড়াল একই সাথে জীবিত ও মৃত, কারণ জগৎ দুইভাগে ভাগ হয়ে গেছে, এক জগতে বিড়াল মৃত অন্য জগতে বিড়াল জীবিত। জগৎ দুটি একই জায়গায় একই সময়ে হলেও তারা সম্পূর্ণ আলাদা। জগৎ যদি ভাগই হয় তবে দুটো ভাগে কেন ভাগ হবে? আরো বেশি ভাগেই ভাগ হয়ে যাক! তৈরি হল মাল্টিভার্স থিওরি, যেখানে একইসাথে একাধিক জগৎ নিয়ে আলোচনা করা হয়।

আমি বরং আর না এগোই। কোয়ান্টাম মেকানিক্স নিয়ে নিশ্চয়ই মাথায় এতক্ষণে কঠিন প্যাচ লেগে গেছে? তো এই হচ্ছে অতি সংক্ষেপে অতি সহজ ভাষায় কোয়ান্টাম মেকানিক্স। কোয়ান্টাম মেকানিক্স ঠিকমত বুঝতে বা বুঝাতে হলে অংকের সাহায্য নিতেই হবে, এখানে অংক প্রয়োগের সে সুযোগ নেই বলে কোয়ান্টাম থিওরিকে অতি সরল লাগলেও লাগতে পারে।

কোয়ান্টাম মেথড

প্রথমেই বেসিক প্রশ্ন - কোয়ান্টাম মেথড কি? তাদের ভাষ্যমতে এককথায় এটি - “Science of Living”. আশ্রম ও খানকার চৌহদ্দি থেকে বের করে ধ্যানকে গণমানুষের আত্মউন্নয়ন ও ব্যক্তিত্বের বিকাশে প্রয়োগ করাই তাদের উদ্দেশ্য।[৯] ধ্যানচর্চার মাধ্যমে প্রাচ্যের সাধনা আর আধুনিক বিজ্ঞানের নির্যাসে সঞ্জীবিত কোয়ান্টাম মেথড মেডিটেশন প্রক্রিয়া। সাধকদের সাধনা ও মনোবিজ্ঞানের প্রক্রিয়ার সমন্বয়ের ফলে সহজে মেডিটেটিভ লেভেলে পৌছে আত্মনিমগ্ন হওয়া যায়।[১০] সোজা কথায় ধ্যান চর্চার মাধ্যমে জীবনযাপনের বিজ্ঞান এটি।

কোয়ান্টাম মেকানিক্স ও কোয়ান্টাম মেথড

কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের এই “কোয়ান্টাম” নামটি কিন্তু এসেছে কোয়ান্টাম মেকানিক্স থেকেই। এ ব্যাপারে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের ভাষ্য হচ্ছে -

কোয়ান্টাম শব্দটি নেয়া হয়েছে কোয়ান্টাম মেকানিক্স থেকে। কোয়ান্টাম মেকানিক্সের আগে বিজ্ঞান নিয়ন্ত্রিত হতো নিউটনিয়ান মেকানিক্স দিয়ে। আমরা জানি, বিজ্ঞানী নিউটন এবং ম্যাক্সওয়েলের সূত্র অনুসরণ করে পদার্থবিজ্ঞান ঊনবিংশ শতাব্দির শেষভাগে এক সুশৃঙ্খল বিশ্বদৃষ্টি উপস্থাপন করে। এই বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়ায় সবকিছুই ছিলো এক নিয়মের অধীন, সবকিছুই হিসেব করে বলে দেয়া যেত। সেখানে বিজ্ঞানীর কোনো ভূমিকা থাকলো না। বিজ্ঞানী ছিলেন একজন দর্শকমাত্র। আর পুরো প্রক্রিয়া হচ্ছে দর্শক-মন নিরপেক্ষ। অর্থাৎ মনের কোনো ভূমিকা আর থাকলো না। বিজ্ঞান থেকে মন নির্বাসিত হলো এবং বস্ত্তবাদের বিকাশ ঘটলো। [১১]

পরমাণু পর্যন্ত নিউটনিয়ান মেকানিক্স ভালোভাবেই সবকিছুর ব্যাখ্যা দিতে সক্ষম হচ্ছিলো। কিন্তু বিজ্ঞান যখন পরমাণুর গভীরে বা সাব-এটমিক লেভেলে ঢুকলো তখন দেখা গেল, একটা সাব-এটমিক পার্টিকেল-পার্টিকেল ফর্মে আছে, না এনার্জি ফর্মে আছে তা হিসেব করে বলা যাচ্ছে না, দেখে বলতে হচ্ছে। যেকোনো সময় এটা পার্টিকেল ফর্মে থাকতে পারে, যেকোনো সময় এটা এনার্জি ফর্মে থাকতে পারে। এটাই হলো ওয়ার্নার হেইজেনবার্গের আনসারটেইনিটি প্রিন্সিপল। বিজ্ঞানে তখন আবার দর্শকের আগমন ঘটলো।[১১]

কোয়ান্টাম মেকানিক্স বিংশ শতাব্দিতে এসে বিজ্ঞান থেকে নির্বাসিত মনকে আবার বিজ্ঞানে পুনর্বাসিত করে। যেহেতু কোয়ান্টাম মেকানিক্স বিজ্ঞান থেকে নির্বাসিত মনকে বিজ্ঞানে পুনর্বাসিত করে, তাই চেতনার শক্তিকে, মনের বিশাল ক্ষমতাকে নিজের ও মানবতার কল্যাণে ব্যবহারের সহজ ও পরীক্ষিত এই বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিটির নামকরণ করা হয়েছে কোয়ান্টাম মেথড। [১১]

মন ও চেতনার ক্ষমতা সম্পর্কে আধুনিক বিজ্ঞানের দৃষ্টিভঙ্গির সার-সংক্ষেপ নোবেল পুরস্কার বিজয়ী বিজ্ঞানী ইউজিন উইগনার তাঁর 'Remarks on the Mind-Body Question' নিবন্ধে চমৎকারভাবে বর্ণনা করেছেন। তিনি লিখেছেন, অধিকাংশ পদার্থ বিজ্ঞানীই এই সত্যকে মেনে নিয়েছেন যে, চিন্তা অর্থাৎ মনই হচ্ছে মূল। ‘চেতনার উল্লেখ ছাড়া কোয়ান্টাম মেকানিক্স-এর নিয়মকে পুরোপুরি সঙ্গতিপূর্ণভাবে গঠন করা সম্ভব নয়।’ নিবন্ধের উপসংহারে বিজ্ঞানী উইগনার বলেছেন, ‘বিশ্বের বৈজ্ঞানিক গবেষণা শেষ পর্যন্ত চেতনাকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।’ [১২]

যদিও কোয়ান্টাম মেকানিক্স কি বা এটা কি ধরণের থিওরির কথা বলে - এসব ব্যাপারে কোন আলোচনা করেনি কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন। তবে দেখা যাচ্ছে যে কোয়ান্টাম মেকানিক্সে যেহেতু চেতনার বা মনের একটা কনসেপ্ট ঢুকেছিল সে জন্য কোয়ান্টাম মেডিটেশনকে কোয়ান্টাম মেকানিক্সের সাথে তুলনা করা হচ্ছে। এবং একারণেই এই ধ্যানচর্চার নামকরণ করা হয়েছে - কোয়ান্টাম মেডিটেশন। এটা ছাড়া কেয়ান্টাম মেকানিক্সের সাথে এর কোনই সম্পর্ক নেই, অর্থাৎ অনিশ্চয়তার সূত্র বা মাল্টিভার্স থিওরি বা অন্য কোন কিছুর সাথে এর কোনই যোগাযোগ নেই!

আমরা একটু আগেই পড়েছিলাম, বিজ্ঞানী ইউজিন উইগনারের হাত ধরেই কোয়ান্টাম মেকানিক্সে “চেতনা” জিনিসটার আগমন ঘটে। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে এই চেতনার ব্যাপারটি থেকে ইউজিন উইগনার নিজেই সরে দাঁড়ান।[৮] শুধু তাই নয়, শ্রোডিঙ্গারের থট এক্সপেরিমেন্টে ওয়েভ ফাংশন কলাপ্সে কনসাস অবজারভারের ভূমিকার প্রয়োজনই নেই এমনটা পরীক্ষণের মাধ্যমে প্রমাণ করা হয়েছে। দেখানো হয়েছে বাক্সে রাখা গিগার কাউন্টারই যথেষ্ট ওয়েভ ফাংশন কলাপ্স করাতে সেখানে দর্শক বা চেতনা বা মন দরকার পড়বে না।[১৩] তাছাড়া, কোয়ান্টাম মেকানিক্সের আরেকটি বহুল পরিচিত ইন্টারপ্রেটেশন হচ্ছে মেনি-ওয়ার্ল্ড ইন্টারপ্রেটেশন বা মাল্টিভার্স ইন্টারপ্রেটেশন। এই ইন্টারপ্রেটেশনে ওয়েভ ফাংশন আদৌও কলাপ্স হয়না বলা হয়েছে। এই ইন্টারপ্রেটেশনের পক্ষে অনেক বিখ্যাত পদার্থবিদকেই দেখা যায়, তাদের মধ্যে আছেন স্টিফেন হকিং, ভাইনবার্গ প্রমুখ[১৪]। আরও আছে অবজেক্টিভ কলাপ্স থিওরি, এ থিওরিতে বলা হয়েছে চেতনা নয় বরং বিড়াল নিজেই নিজেকে পর্যবেক্ষণ করছে। এর অর্থ হল বিড়াল একটা নিশ্বাস নিলো, অতিক্ষুদ্র হলেও তার ভর বাড়ল সুতরাং ওয়েভ ফাংশন কলাপ্স। নিঃশ্বাস ছাড়ল? সাথে সাথে ওয়েভ ফাংশন কলাপ্স। তাপমাত্রা পরিবর্তন হল? সাথে সাথে কলাপ্স! অর্থাৎ কোন মন বা চেতনা সম্পন্ন দর্শকের বাক্স খুলে বিড়াল দেখার আগেই ওয়েভ ফাংশন কলাপ্স হয়ে বসে আছে! [১৫]

তো আমরা দেখতে পাচ্ছি, কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন যে দাবী করছে যে চেতনাই কোয়ান্টাম থিওরির সবকিছু, আসলে ব্যাপার সেটা না। উপরন্তু এই চেতনা জিনিসটা ভৌতবিজ্ঞানের কিছু না হওয়াতে এবং একে সুনির্দিষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত করা যায়না দেখেই কোয়ান্টাম বিশ্বে চেতনাকে বাদ দেবার জন্য অনেক থিওরি তৈরি ও প্রমানিত হয়। চেতনা নামের জিনিসটাই ছাড়াই বেশ ভালোভাবেই কোয়ান্টাম মেকানিক্সের সবকিছু চলছে।

অবশ্য কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন শুধু চেতনাই না, মানুষের মনকে ইলেক্ট্রনের সাথেও তুলনা করেছে। মন কিভাবে ইলেক্ট্রনের সাথে তুলনীয় হতে পারে সেটা অবশ্য বোধগম্য নয়। তাদের কথানুযায়ী -

তাছাড়া কোয়ান্টাম মেকানিক্স বলে, পরমাণুর ভেতরে নিউক্লিয়াসকে ঘিরে একটি ইলেকট্রন যখন তার কক্ষপথে ঘোরে, তখন ঘুরতে ঘুরতে আস্তে আস্তে কেন্দ্রের দিকে নামতে শুরু করে। এরই একপর্যায়ে সে একটা উচ্চতর কক্ষপথে লাফ দেয়। খুব দ্রুত ঘটা এ উচ্চস্তরে উত্তরণ বা উত্থানকে বলা হয় কোয়ান্টাম লিপ বা কোয়ান্টাম উল্লম্ফন। তেমনি একজন মানুষ যখন ধ্যান করে, আত্মনিমগ্নতার গভীরে চলে যায়, তখন তার মধ্যেও একটা উপলব্ধির স্ফূরণ ঘটে, যা তাকে আগের চেয়ে উন্নততর মানসিক ও আত্মিক স্তরে নিয়ে যায়। কোয়ান্টাম লিপের মতো তার চেতনার জগতেও একটা উল্লম্ফন হয়। কোয়ান্টাম মেথড নামকরণের এটাও একটা কারণ।[১৬]

ভালকথা যে ইলেক্ট্রন উচ্চতর শক্তিস্তরে লাফ দেয়, যাকে এখানে উত্থানের সাথে তুলনা করা হয়েছে। পরের লাইনগুলোতে যা বলা হয়েছে যে তার সারসংক্ষেপ হচ্ছে যে, ধ্যানেও নাকি লোকজনের এই রকম আত্মিক উত্থান ঘটে। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে যে, ইলেক্ট্রন শুধু উচ্চ শক্তিস্তরেই লাফ দেয়না বরং নিম্ন শক্তিস্তরেও লাফ দেয়।[১৭] ইলেক্ট্রনের উচ্চস্তরে লাফানোকে উত্থান বলা হলে, নিম্নস্তরে লাফানোকে নিশ্চয়ই পতন বলা হবে। তো সেক্ষেত্রে ব্যাপারটা কি দাঁড়ায়? ধ্যানে লোকজনের আত্মিক পতনও ঘটে?

সোজা কথা, কোয়ান্টাম মেকানিক্সের সাথে কোয়ান্টাম মেথডের কোন সম্পর্কই নেই। ইনফ্যাক্ট বিজ্ঞানের সাথেই এর কোন সম্পর্ক নেই। শুধুমাত্র চটকদার নাম নেবার জন্য “কোয়ান্টাম” শব্দটি ব্যবহার করা হচ্ছে বলে আমার ধারণা। যদিও কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন দাবী করে যাচ্ছে যে এটা নাকি বিজ্ঞান-

তাই আমরা কোয়ান্টামকে বলি জীবনযাপনের বিজ্ঞান, সফল জীবনের বিজ্ঞান।[১৬]

কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের লোগোতেও লেখা আছে - “Science of Living”। কিন্তু এখানে বিজ্ঞানের কোন ব্যাপারটা আসলো, যার কারণে একে আমরা বিজ্ঞান বলব, সেটাই বুঝলাম না! কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনে তো বৈজ্ঞানিক উপায়ে কিছু হচ্ছেনা, কোন গবেষণা হচ্ছে না। কেবল মেডিটেশন হচ্ছে। তাহলে কি বলব যে ধ্যান করাটা বিজ্ঞান? কিন্তু কেন? ধ্যানকে তো মাপজোখ করা যাচ্ছেনা। কোন গানিতিক সূত্র দিয়ে একে সংজ্ঞায়িত করা যাচ্ছেনা। তবে কেন কোয়ান্টাম মেথড বিজ্ঞান বা বৈজ্ঞানিক কিছু একটা হবে?

[সকল রেফারেন্স ও লেখাটির দ্বিতীয় পর্ব এখানে]

Re: [সংকলিত পোস্ট] আজকালকার কোয়ান্টাম কালচার এবং বিজ্ঞান ‌‌॥ পর্ব ১

চলবে? তো চলুক.....
ভালোই তো লাগছে; তথ্য সমৃদ্ধ লেখা পড়তে কোন আপত্তি নেই।
কোয়ান্টাম গ্রেজুয়েটদের (মহাজাতকের[গুরুজীর] ডিজিটাল মুরিদদের) রোশানলে না পড়লেই হলো notlistening
যদিও তারা প্রো-একটিভ।
তাদের মেডিটেশন নিয়ে আমার কোন খটকা নেই তবে বাকি বিষয়ে মোটামুটি খটকা আছে।

আপনার লিখার পরবর্তী অংশের প্রতীক্ষায় রইলাম।

হে আল্লাহ, তুমি সকলের মঙ্গল কর; তোমার রহমতের আশ্রয়ে আশ্রিত কর..... আমীন
সঠিক পদ্ধতিতে ওয়ার্ডপ্রেস ইন্সটল করুন এবং আপনার ওয়ার্ডপ্রেস সাইটটিকে সুরক্ষিত রাখুন

কাজী আলী নূর'এর ওয়েবসাইট

লেখাটি GPL v3 এর অধীনে প্রকাশিত

Re: [সংকলিত পোস্ট] আজকালকার কোয়ান্টাম কালচার এবং বিজ্ঞান ‌‌॥ পর্ব ১

কাজী আলী নূর লিখেছেন:

চলবে? তো চলুক.....
ভালোই তো লাগছে; তথ্য সমৃদ্ধ লেখা পড়তে কোন আপত্তি নেই।
কোয়ান্টাম গ্রেজুয়েটদের (মহাজাতকের[গুরুজীর] ডিজিটাল মুরিদদের) রোশানলে না পড়লেই হলো notlistening

lol lol

কোন দিন কেউ কি তাদের রোশানলে পড়েছেন? কোয়ান্টামের লোকজনদের যত ইচ্ছা গালি দেন, কিন্তু এই অপবাদ দেওয়া খুব কঠিন। shame

"সংকোচেরও বিহ্বলতা নিজেরই অপমান। সংকটেরও কল্পনাতে হয়ও না ম্রিয়মাণ।
মুক্ত কর ভয়। আপন মাঝে শক্তি ধর, নিজেরে কর জয়॥"

Re: [সংকলিত পোস্ট] আজকালকার কোয়ান্টাম কালচার এবং বিজ্ঞান ‌‌॥ পর্ব ১

আরণ্যক লিখেছেন:

কোন দিন কেউ কি তাদের রোশানলে পড়েছেন? কোয়ান্টামের লোকজনদের যত ইচ্ছা গালি দেন, কিন্তু এই অপবাদ দেওয়া খুব কঠিন।

কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের সবাই একটা লোকের মহাভক্ত। ওনাদের সাথে কোন কথা বলা যায়না শান্তি মত। সবকথায় সেই লোকের কথা চলে আসে।  ধরুন আপনি একজন কাউন্সেলরের কাছে গেলেন। গেলেন একটা সমস্যা নিয়ে। সমস্যা হল, আপনার পড়ায় মন বসছে না। আপনার সুইসাইড করতে ইচ্ছা করছে। কিছুই ভাল লাগছে না।
এই সমস্যার সমাধান করার জন্য তারা যেসব কথা বলবে তার শুরুই হবে "গুরুজি" শব্দটা দিয়ে।  ফর এক্সাম্পল, "আপনি এখন ছাত্র। কথায় আছে ছাত্রানং অধ্যনং তপঃ। অন্য কোন কিছু চিন্তা না করে পড়াশুনা করবেন। আর আমাদের কোর্সটা কি করা আছে? না থাকলে করে ফেলুন। এখনও আমাদের গুরুজি গ্রাজুয়েশন করাচ্ছেন। আপনার উচিৎ এই সুযোগ হাতছাড়া না করা। গুরুজীর কন্ঠে মেডিটেশন করলে আপনার এই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে ইনশাল্লাহ"।
কুমিরের গায়ে খাঁজকাটা নিয়ে একটা গল্প আছে না। সেই কুমিরের গল্পের মত ফাউন্ডেশনের লোকজন খালি গুরুজীর গল্প করে। এটা খুবই বিরক্তিকর একটা ব্যাপার।
আর সবকথাতেই কোর্স করুন, কোর্স করুন এসব বলবে। আসল কথা নিয়ে কথা না বলে কোর্সের কথা বলবে।

Feed থেকে ফোরাম সিগনেচার, imgsign.com
ব্লগ: shiplu.mokadd.im
মুখে তুলে কেউ খাইয়ে দেবে না। নিজের হাতেই সেটা করতে হবে।

শিপলু'এর ওয়েবসাইট

লেখাটি GPL v3 এর অধীনে প্রকাশিত

Re: [সংকলিত পোস্ট] আজকালকার কোয়ান্টাম কালচার এবং বিজ্ঞান ‌‌॥ পর্ব ১

কোর্স করার দরকার নেই গুরুজি মারা যাবার আগে সম্ভবত সম্পূর্ণ মেডিটেশনের অডিও সিডি নেটে বিনামূল্যে ডাউনলোডের ব্যবস্থা করে গেছেন। তার আত্মা শান্তি পাক।
আপডেটঃ দুঃখিত সিলভা মেথডের গুরুজি মারা গেছেন। তবে কোয়ান্টামের মেডিটেশনের অডিও ওয়েবসাইট থেকেইও নামানো যেত। এখন জানিনা  neutral

Re: [সংকলিত পোস্ট] আজকালকার কোয়ান্টাম কালচার এবং বিজ্ঞান ‌‌॥ পর্ব ১

ফায়ারফক্স ভাই আপনার মন্তবের সাথে এক মত ।

কাজকে বলেন নামাজ আছে, নামাজ কে বলবেন না কাজ আছে.......
premium Place
xpassplace

সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন আরণ্যক (২১-০৬-২০১৩ ০০:৪৭)

Re: [সংকলিত পোস্ট] আজকালকার কোয়ান্টাম কালচার এবং বিজ্ঞান ‌‌॥ পর্ব ১

ফায়ারফক্স লিখেছেন:

কোর্স করার দরকার নেই গুরুজি মারা যাবার আগে সম্ভবত সম্পূর্ণ মেডিটেশনের অডিও সিডি নেটে বিনামূল্যে ডাউনলোডের ব্যবস্থা করে গেছেন। তার আত্মা শান্তি পাক।
আপডেটঃ দুঃখিত সিলভা মেথডের গুরুজি মারা গেছেন। তবে কোয়ান্টামের মেডিটেশনের অডিও ওয়েবসাইট থেকেইও নামানো যেত। এখন জানিনা  neutral

জ্বী সকল প্রকার মেডিটেশন, বই, অটোসাজেশনের অডিও থেকে শুরু করে সব কিছু ফ্রি ডাউনলোডের ব্যবস্থা আছে। দেশের ও বিদেশে অনতত এক হাজারটি জায়গায় প্রতি সপ্তাহে ফ্রি মেডিটেশন সেমিনার হয়। যাদের মেডিটেশন জিনিস ভাল কিন্তু বেশি টাকা মেরে নিচ্ছে অভিযোগ তারা এগুলি থেকে ফ্রি শিখে নিলেই তো পারে। এত উপকরণ থাকার পরও যদি কেউ শিখতে না পারে তবে তার টাকা খরচ করে শেখাই উচিৎ।

শিপলু লিখেছেন:
আরণ্যক লিখেছেন:

কোন দিন কেউ কি তাদের রোশানলে পড়েছেন? কোয়ান্টামের লোকজনদের যত ইচ্ছা গালি দেন, কিন্তু এই অপবাদ দেওয়া খুব কঠিন।

কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের সবাই একটা লোকের মহাভক্ত। ওনাদের সাথে কোন কথা বলা যায়না শান্তি মত। সবকথায় সেই লোকের কথা চলে আসে।  ধরুন আপনি একজন কাউন্সেলরের কাছে গেলেন। গেলেন একটা সমস্যা নিয়ে। সমস্যা হল, আপনার পড়ায় মন বসছে না। আপনার সুইসাইড করতে ইচ্ছা করছে। কিছুই ভাল লাগছে না।
এই সমস্যার সমাধান করার জন্য তারা যেসব কথা বলবে তার শুরুই হবে "গুরুজি" শব্দটা দিয়ে।  ফর এক্সাম্পল, "আপনি এখন ছাত্র। কথায় আছে ছাত্রানং অধ্যনং তপঃ। অন্য কোন কিছু চিন্তা না করে পড়াশুনা করবেন। আর আমাদের কোর্সটা কি করা আছে? না থাকলে করে ফেলুন। এখনও আমাদের গুরুজি গ্রাজুয়েশন করাচ্ছেন। আপনার উচিৎ এই সুযোগ হাতছাড়া না করা। গুরুজীর কন্ঠে মেডিটেশন করলে আপনার এই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে ইনশাল্লাহ"।
কুমিরের গায়ে খাঁজকাটা নিয়ে একটা গল্প আছে না। সেই কুমিরের গল্পের মত ফাউন্ডেশনের লোকজন খালি গুরুজীর গল্প করে। এটা খুবই বিরক্তিকর একটা ব্যাপার।
আর সবকথাতেই কোর্স করুন, কোর্স করুন এসব বলবে। আসল কথা নিয়ে কথা না বলে কোর্সের কথা বলবে।

শিপলু ভাই, আসলে আমি আমার কথা বুঝাতে পারিনি। আমি বলছি শুধু এতটুকু কেন কোয়ান্টাম সম্পর্কে আরও হাজারটা ভুল, অভিযোগ ও অপবাদ যে কেউ দিতে পারে। এগুলি ঠিক না ভুল তা বিচারে যাচ্ছি না। শুধু বলছি কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনকে কেউ যত ইচ্ছা গালি দিতে পারে। কিন্তু শুধু এই কারণে কোয়ান্টামের কোন সদস্যের (গুরুজীর ডিজিটাল মুরীদদের আর কি!) রোশানলে পড়ার সম্ভবনা অত্যন্ত বিরল।

কোয়ান্টামের কাজ নিয়ে হাজারটা কথা বলা খুবই সম্ভব। কিন্তু এর পাশাপাশি কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান যদি এদের অর্ধেকও সেবা মুলক কাজ করত তাহলে নিজের খেয়ে বনের মোষ তাড়াতে আগ্রহী হাজারও লোককে পাশে পেত। প্রতিষ্ঠানটি গত বছর অর্ধলক্ষাধি ব্যাগ (সত্তর হাজার+) রক্ত ও রক্ত উপাদান সরবরাহ করেছে। এতিম বাচ্চাদের স্কুল, বেওয়ারিশ লাশ দাফন, টিউবয়েলে স্থাপন, বৃদ্ধ পুনর্বাসন, নির্যাতিত নারী পূনর্বাসন, দ্ররিদ্র সন্তান সম্ভাবা মায়েদের প্রয়োজনীয় পুষ্টি ও চিকিৎসা প্রদান প্রকাল্প, ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প, সুন্নতে খৎনা, বৃক্ষরোপন কার্যক্রম সহ অন্যান্য কাজের কাথা বাদই থাক।

অবশ্য যে কেউ চাইলে এই কাজ গুলি থেকেও হাজারটা ভুল বের করতে পারবে। ধর্মের সাথে, ইসলামের সাথে সাংঘর্ষিকতা বের করতে পারবেন।

"সংকোচেরও বিহ্বলতা নিজেরই অপমান। সংকটেরও কল্পনাতে হয়ও না ম্রিয়মাণ।
মুক্ত কর ভয়। আপন মাঝে শক্তি ধর, নিজেরে কর জয়॥"

Re: [সংকলিত পোস্ট] আজকালকার কোয়ান্টাম কালচার এবং বিজ্ঞান ‌‌॥ পর্ব ১

আরণ্যক লিখেছেন:
ফায়ারফক্স লিখেছেন:

কোর্স করার দরকার নেই গুরুজি মারা যাবার আগে সম্ভবত সম্পূর্ণ মেডিটেশনের অডিও সিডি নেটে বিনামূল্যে ডাউনলোডের ব্যবস্থা করে গেছেন। তার আত্মা শান্তি পাক।
আপডেটঃ দুঃখিত সিলভা মেথডের গুরুজি মারা গেছেন। তবে কোয়ান্টামের মেডিটেশনের অডিও ওয়েবসাইট থেকেইও নামানো যেত। এখন জানিনা  neutral

জ্বী সকল প্রকার মেডিটেশন, বই, অটোসাজেশনের অডিও থেকে শুরু করে সব কিছু ফ্রি ডাউনলোডের ব্যবস্থা আছে। দেশের ও বিদেশে অনতত এক হাজারটি জায়গায় প্রতি সপ্তাহে ফ্রি মেডিটেশন সেমিনার হয়। যাদের মেডিটেশন জিনিস ভাল কিন্তু বেশি টাকা মেরে নিচ্ছে অভিযোগ তারা এগুলি থেকে ফ্রি শিখে নিলেই তো পারে। এত উপকরণ থাকার পরও যদি কেউ শিখতে না পারে তবে তার টাকা খরচ করে শেখাই উচিৎ।

শিপলু লিখেছেন:

কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের সবাই একটা লোকের মহাভক্ত। ওনাদের সাথে কোন কথা বলা যায়না শান্তি মত। সবকথায় সেই লোকের কথা চলে আসে।  ধরুন আপনি একজন কাউন্সেলরের কাছে গেলেন। গেলেন একটা সমস্যা নিয়ে। সমস্যা হল, আপনার পড়ায় মন বসছে না। আপনার সুইসাইড করতে ইচ্ছা করছে। কিছুই ভাল লাগছে না।
এই সমস্যার সমাধান করার জন্য তারা যেসব কথা বলবে তার শুরুই হবে "গুরুজি" শব্দটা দিয়ে।  ফর এক্সাম্পল, "আপনি এখন ছাত্র। কথায় আছে ছাত্রানং অধ্যনং তপঃ। অন্য কোন কিছু চিন্তা না করে পড়াশুনা করবেন। আর আমাদের কোর্সটা কি করা আছে? না থাকলে করে ফেলুন। এখনও আমাদের গুরুজি গ্রাজুয়েশন করাচ্ছেন। আপনার উচিৎ এই সুযোগ হাতছাড়া না করা। গুরুজীর কন্ঠে মেডিটেশন করলে আপনার এই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে ইনশাল্লাহ"।
কুমিরের গায়ে খাঁজকাটা নিয়ে একটা গল্প আছে না। সেই কুমিরের গল্পের মত ফাউন্ডেশনের লোকজন খালি গুরুজীর গল্প করে। এটা খুবই বিরক্তিকর একটা ব্যাপার।
আর সবকথাতেই কোর্স করুন, কোর্স করুন এসব বলবে। আসল কথা নিয়ে কথা না বলে কোর্সের কথা বলবে।

শিপলু ভাই, আসলে আমি আমার কথা বুঝাতে পারিনি। আমি বলছি শুধু এতটুকু কেন কোয়ান্টাম সম্পর্কে আরও হাজারটা ভুল, অভিযোগ ও অপবাদ যে কেউ দিতে পারে। এগুলি ঠিক না ভুল তা বিচারে যাচ্ছি না। শুধু বলছি কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনকে কেউ যত ইচ্ছা গালি দিতে পারে। কিন্তু শুধু এই কারণে কোয়ান্টামের কোন সদস্যের (গুরুজীর ডিজিটাল মুরীদদের আর কি!) রোশানলে পড়ার সম্ভবনা অত্যন্ত বিরল।

কোয়ান্টামের কাজ নিয়ে হাজারটা কথা বলা খুবই সম্ভব। কিন্তু এর পাশাপাশি কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান যদি এদের অর্ধেকও সেবা মুলক কাজ করত তাহলে নিজের খেয়ে বনের মোষ তাড়াতে আগ্রহী হাজারও লোককে পাশে পেত। প্রতিষ্ঠানটি গত বছর অর্ধলক্ষাধি ব্যাগ (সত্তর হাজার+) রক্ত ও রক্ত উপাদান সরবরাহ করেছে। এতিম বাচ্চাদের স্কুল, বেওয়ারিশ লাশ দাফন, টিউবয়েলে স্থাপন, বৃদ্ধ পুনর্বাসন, নির্যাতিত নারী পূনর্বাসন, দ্ররিদ্র সন্তান সম্ভাবা মায়েদের প্রয়োজনীয় পুষ্টি ও চিকিৎসা প্রদান প্রকাল্প, ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প, সুন্নতে খৎনা, বৃক্ষরোপন কার্যক্রম সহ অন্যান্য কাজের কাথা বাদই থাক।

অবশ্য যে কেউ চাইলে এই কাজ গুলি থেকেও হাজারটা ভুল বের করতে পারবে। ধর্মের সাথে, ইসলামের সাথে সাংঘর্ষিকতা বের করতে পারবেন।

আরণ্যক ভাই আমি জানতাম যে আপনি এবং আরও অনেকেই আছেন কোয়ান্টাম পরিবারের সদস্য। আপনি জেনে অবাক হবেন যে আমি নিজেও এই ফাউন্ডেশনের সাথে কোন না কোন ভাবে জড়িত।
আপনার তথ্যগুলো আমি নিজেও দিতে পারতাম তবে আমি কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম থেকে বিচ্ছিন্ন আছি প্রায় ৭টি বছর।
তাই আপনার মত এত সুন্দর ভাবে সেগুলো বিষয় তুলে ধরতে পারতাম না। আমি দুঃখিত যে আমি রিভার্স খেলেছি যে কাজটি আমি আগে কখনোই করি নি। সে জন্য আমার কিঞ্চিত লজ্জাও বোধ হচ্ছে। আমি ২০০৬ এ ২৫৬তম কোর্সের গ্রেজুয়েট কাম গুরুজীর ডিজিটাল মুরিদ  big_smile

হে আল্লাহ, তুমি সকলের মঙ্গল কর; তোমার রহমতের আশ্রয়ে আশ্রিত কর..... আমীন
সঠিক পদ্ধতিতে ওয়ার্ডপ্রেস ইন্সটল করুন এবং আপনার ওয়ার্ডপ্রেস সাইটটিকে সুরক্ষিত রাখুন

কাজী আলী নূর'এর ওয়েবসাইট

লেখাটি GPL v3 এর অধীনে প্রকাশিত

Re: [সংকলিত পোস্ট] আজকালকার কোয়ান্টাম কালচার এবং বিজ্ঞান ‌‌॥ পর্ব ১

সেভ করে কাখছি পরে দেখবো । কাজ আছে ।