টপিকঃ সংবিগ্ন পাখিকূল ও কলকাতা বিষয়ক

মহীনের ঘোড়াগুলির প্রথম অ্যালবাম হল "সংবিগ্ন পাখিকূল ও কলকাতা বিষয়ক"। এটি ১৯৭৭ সালে মুক্তি পায়। এই অ্যালবামটি উৎসর্গ করা হয় প্রয়াত ধূর্জটি চট্টোপাধ্যায়কে। এই অ্যালবামের কাভার এবং লিরিক্স পেইজে ছিল কিছু চিত্রকর্ম, যা ঐ সময়ের জন্য একটি বিপ্লবই বৈকি।
http://s3.amazonaws.com/somewherein/pictures/mahfuztuhin/06-2013/5794c6187bff9080735e01e12a7a4668_xlarge.jpeg

কভারের শুরুতেই ছিল প্রয়াত ধূর্জটি চট্টোপাধ্যায়কে উৎসর্গ করে কিছু কথা যা তাঁদের দ্বিতীয় অ্যালবামের মূল কভার ছিল। সবার জন্য হুবুহু তুলে দিচ্ছিঃ

প্রয়াত ধূর্জটি চট্টোপাধ্যায়কে
যে আমাদের গান শুনতে চেয়েছিলো।

'মহীনের ঘোড়াগুলি ঘাস খায় কার্তিকের জ্যোৎস্নার প্রান্তরে'
গান গায়। ডানা নেই তবু তার উড্ডীন ডানার শব্দে
প্রছন্ন ভোর হয় গগনচারী পাখিদের আর বহতা নদীর,
যেখানে নিকটস্থ গার্হস্থ্য সুখ অসুখ আর মানুষের
জ্যোৎস্নাহীন প্রাণপাত দিনযাত্রা।
একদিন মানুষের ঘরবাড়ি ছিল যেই সবুজ চরভূমিতে,
বারবার ভেসেভুসে গেছে ভীমবানে, অনন্ত জলক্লিন্ন
সেই অজনবিজন চরে মহীনের ঘোড়াগুলি নিষ্পন্দ দাঁড়িয়ে
রয়েছে, ওই দেখুন, চোখে জল, কে তুলনা?
মহীনের ঘোড়াগুলি হ্রেষা তোলে, সে কি গান? তার
ওই স্পন্দমান ছুটে চলা, কুয়াশাম্বিত জ্যোৎস্নায় তার
বিলীয়মান দোলাচল, খুরশব্দহীন;
কেননা উল্লেখ্য, মহীনের ঘোড়াগুলির খুরে কোনো
নাল নেই।
নিঃস্বপ্ন বেদনার কাছে বলুন আর কে পারে 'হে
প্রিয় অসুখ' বলে নিকটস্থ হতে?
আর, মহীনের ঘোড়াগুলি মাঝে মাঝে হাই তোলে,
হাঁটুমুড়ে ঘুমোয়ও বটে। অনাদরে পাশে পরে থাকে
গীটার, বাঁশি, ভায়োলিন, চিড়েগুড়। সেইসব ঘুমের মধ্যে
স্বপ্ন, স্বপ্নের ভেতরে ঘুম, আর তার মধ্যে থেকে
স্পন্দিত হতে থাকে সিম্ফনিক ইমোশন্স্‌, যাকে বলি
সংবেগ; সংবিগ্ন পাখিকুল উড়ে যায়। উড়ে যায় কিন্তু
কোথাও যায় না। নীচে ঘুমন্ত পৃথিবী নক্‌শী
শতরঞ্জের ছকের মতো পড়ে আছে; নয়াঞ্জুলিতে
শাদাশাদা ভয়ঙ্কর হাড়গোড়,
বাতাসে ষড়জন্ত্রময় শ্বাসশব্দ আর ক্ষুধার্ত মানুষের
শ্বাপদপ্রতিম চোখ, চোখগুলি, ঘুমহীন, যৌথভাবে
জেগে আছে।
(আহা, পদ্ম ফুটে ভরে আছে জলা)
তবু, যাঁরা বলেন, মহীনের ঘোড়াগুলি, তোমাদের
সামুদ্রিক জলকেলি আর কদ্দিন? যন্ত্রনাময় পৃথিবীর
সমস্যাসঙ্কুলতা থেকে নিরাপদ দূরত্বে আর কতদিন
তোমাদের বসবাস?
তাঁদের বলি - অ্যাঁট্টকুনি ডাঁড়ান স্যার, এই এলুম বলে।


এতে চারটি গান অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে এবং এটি গাথানি রেকর্ডস থেকে প্রকাশিত হয়েছিল।

Re: সংবিগ্ন পাখিকূল ও কলকাতা বিষয়ক

নিঃস্বপ্ন বেদনার কাছে বলুন আর কে পারে 'হে
প্রিয় অসুখ' বলে নিকটস্থ হতে?


ভাল হয়েছে লাইনটা ।

Re: সংবিগ্ন পাখিকূল ও কলকাতা বিষয়ক

আমার কাছে ভালো লাগে এই অংশটুকুঃ
আর, মহীনের ঘোড়াগুলি মাঝে মাঝে হাই তোলে,
হাঁটুমুড়ে ঘুমোয়ও বটে। অনাদরে পাশে পরে থাকে
গীটার, বাঁশি, ভায়োলিন, চিড়েগুড়। সেইসব ঘুমের মধ্যে
স্বপ্ন, স্বপ্নের ভেতরে ঘুম, আর তার মধ্যে থেকে
স্পন্দিত হতে থাকে সিম্ফনিক ইমোশন্স্‌, যাকে বলি
সংবেগ; সংবিগ্ন পাখিকুল উড়ে যায়। উড়ে যায় কিন্তু
কোথাও যায় না। নীচে ঘুমন্ত পৃথিবী নক্‌শী
শতরঞ্জের ছকের মতো পড়ে আছে; নয়াঞ্জুলিতে
শাদাশাদা ভয়ঙ্কর হাড়গোড়,
বাতাসে ষড়জন্ত্রময় শ্বাসশব্দ আর ক্ষুধার্ত মানুষের
শ্বাপদপ্রতিম চোখ, চোখগুলি, ঘুমহীন, যৌথভাবে
জেগে আছে।