সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন পরিবেশ প্রকৌশলী (১৫-০৩-২০১৩ ১৯:৩৫)

টপিকঃ জৈবিক ভিন্নতার বাইরেও নর-নারী ভিন্নতা কতটুকু এবং কেন?

১।
ফ্রিকোনমিক্স নামক একটা বইয়ের কিছু অংশ পড়ার পর এদের ওয়েবসাইটে বেশ কয়েকটা পডকাস্ট শুনেছিলাম। তার মধ্যে উইমেন আর নট মেন শিরোনামের পডকাস্টে মহিলা এবং পুরুষদের সম্পর্কে কিছু তথ্য এবং এক্সপেরিমেন্ট তুলে ধরা হয়েছিলো যা বেশ ইন্টারেস্টিং মনে হয়েছিল। এই লেখায় সেই পডকাস্ট থেকে উল্লেখযোগ্য অংশ তুলে ধরছি। এখানে প্রচুর তথ্য ও উপাত্ত ব্যবহার করা হয়েছে যার নির্ভরযোগ্য উৎস উল্লেখ করা নাই কিংবা ওগুলো শুধুমাত্র আমেরিকানদের ডেটা থেকে অনুসিদ্ধান্ত আকারে এসেছে। তারপরেও এটাতে বেশ কিছু ব্যাপার আছে যা অনেক ব্যাপারেই নতুন দৃষ্টিভঙ্গিতে ভাবতে বাধ্য করে।

কিঞ্চিত দীর্ঘ লেখাটি পাঠকের সুবিধার্থে নম্বর দিয়ে চিহ্নিত করা হল।

২।
আমেরিকার ৫৭% কলেজ পড়ুয়া হল ছাত্রী, অর্থাৎ ছেলেদের চেয়ে মেয়েদের কলেজে পড়ার হার বেশি।  গত জানুয়ারী থেকে সেনাবাহিনীতেও সরাসরি সম্মুখ যুদ্ধে নারীরা অংশগ্রহণ করতে পারবে। আমেরিকায় নারী ও পুরুষের গড় আয়ের ব্যবধানও কমে আসছে। নিম্ন ও উচ্চ সংসদের (সিনেট ও হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভ) উভয় জায়গাতেই ২০%এর বেশি সিট মহিলা সদস্যদের। গত ৫বারের মধ্যে ৩বারই আমেরিকার সেক্টেটারী অব স্টেটের দায়িত্ব পালন করেছেন কোন নারী (বর্তমানে, কন্ডোলিৎসা রাইস)। কাজেই লিঙ্গের উপরে কারো কাজের গুনগত মান নির্ভর করে না এটা এখন প্রতিষ্ঠিতই বলা চলে। নারী-পুরুষের সম অধিকারের ব্যাপারটা খুব দরকারী হলেও বর্তমান সমাজে অনেক অনেক ক্ষেত্র আছে যেখানে নারী এবং পুরুষের মধ্য আকাশ পাতাল তফাৎ বিদ্যমান।

৩।
প্যাটেন্ট ক্লেইম বা রেজিস্টার করার দিকে দেখা যায় নারীরা অনেক পিছিয়ে - মাত্র ৭.৫%। এটার কারন হতে পারে কাজের ধরণ -- ডিজাইন টাইপের কাজে নারীর সংখ্যা অপেক্ষাকৃত কম। আবার দেখুন বজ্রপাতে আহত হওয়ার সম্ভাবনাও নারীদের কম। আমেরিকায় ৮০% থেকে ৮৫% বজ্রপাতের ঘটনা পুরুষদের উপর ঘটে -- অন্ততপক্ষে রেকর্ড তাই বলে। তবে এটারও সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দাঁড় করানো হয়েছে - নারীদের চেয়ে পুরুষদের আউটডোর বা বাইরের কাজ বেশি, এছাড়া পুরুষগুলো দুষ্টু প্রকৃতিরও বটে: বজ্রপাতে সম্ভাবনা থাকলেও পুরুষেরা ভেতরে যেতে চায় না। আমেরিকায় নারীদের চেয়ে পুরুষদের পানিতে ডুবে মরার হারও প্রায় চারগুন বেশি! মেয়েদের চেয়ে ছেলেরা যে পানিতে বেশি সময় কাটায় তা-ই নয়, পুরুষরা তাদের সাঁতারের ক্ষমতা সম্পর্কে অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসে ভোগে --- যা এই ধরণের ঘটনার কারণ হতে পারে। এছাড়া পুরুষদের অ্যালকোহলিক হওয়ার সম্ভাবনা/চান্স মেয়েদের দ্বিগুন, কিন্তু নেশাগ্রস্থ হওয়ার সম্ভাবনা মেয়েদের তুলনায় অর্ধেক। এছাড়া বিবাহ বিচ্ছেদের দুই তৃতীয়াংশই মহিলাদের আবেদনের - অর্থাৎ সম্পর্ক খারাপ হলে সেটা মহিলারাই শেষ করে দিতে বেশি আগ্রহী হয়।

৪।
ফেসবুক, টুইটার ইত্যাদি সোশাল মিডিয়াতে নারীর সংখ্যা ও অংশগ্রহণ পুরুষের তুলনায় অনেক বেশি। এমনকি অনলাইন গেইমেও নারীদের অংশগ্রহণ পুরুষদের তুলনায় বেশি -- এটা নিশ্চয়ই অনেককে অবাক করার মত তথ্য। কিন্তু অনলাইনে একটা গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় নারীদের অংশগ্রহণ অনেক কম। বিশ্বের বৃহত্তম অনলাইন বিশ্বকোষ উইকিপিডিয়াতে প্রতি ৬ জনে মাত্র একজন নারী সম্পাদক (২০১১ সালের তথ্য)। এমনকি অবদানকারীদের দিক থেকেও নারীরা আরও পিছিয়ে (১৬% বনাম ৯%)। এমনকি দেখা গিয়েছে যে মহিলাদের সংশ্লিষ্ট বিষয়েও (প্রেগনেন্সি, মিসক্যারেজ) নারীর চেয়ে পুরুষ অবদানকারীদের অংশগ্রহণ বেশি। উইকিপিডিয়াতে নারীর উপস্থিতি এ্যাত কম থাকাটা বেশ আশ্চর্যজনকই বটে যেখানে অনলাইনের আর সবক্ষেত্রেই নারীর অংশগ্রহন সমান কিংবা বেশি।

এটার একটা কারণ হিসেবে কেউ  কেউ বলেন যে মহিলাদের ঘরের কাজ বেশি করতে হয় বলে লেখার মত অবসর কম -- এটা হয়তো পরিসংখ্যানগতভাবেও সঠিক, আমেরিকায় পুরুষরা দৈনিক গড়ে ৪০ মিনিট অবসর পায়, যা মহিলাদের তুলনায় বেশি। কিন্তু সাইকোলজিস্টদের মতামত হল, এটার কারণ নর ও নারীর মানসিক গড়ন। নারীরা সাধারণত কনফ্লিক্ট হতে পারে এমন বিষয় পুরুষদের তুলনায় এড়িয়ে চলতে বেশি পছন্দ করেন। এখানেই উইকিপিডিয়ার মূল সমস্যা -- এখানে কারো লেখা সম্পাদনা করতে হলে সেটা মুছে একটা সঠিক তথ্য দেয়া হয় এবং ভুল তথ্যদানকারীকে অবমাননাকর কথা বলা হয়ে থাকতে পারে। এরকম বিষয়ের মুখোমুখি হতে চায়না নারী। ফেসবুকে কিন্তু কারো তথ্য ঠিক ভুল ধরার ব্যাপারটা উইকিপিডিয়ার মত সিরিয়াস কিছু না। উইকিপিডিয়াতে সঠিকতম তথ্য তুলে ধরার জন্য একজন আরেকজনের কাজ মুছে ফেলে যা সবসময় একজনকে অন্যের পেছনে লেগে থাকার মত অবস্থা সৃষ্টি করে, যা ফেসবুক বা অন্য অনলাইন মিডিয়াগুলোর থেকে সম্পুর্ন আলাদা।

৫।
মানসিক ভিন্নতা কিংবা গ্যাঞ্জাম এড়িয়ে চলার প্রবণতা -- নারীদের উইকিপিডিয়া বিমূখী হওয়ার একটা ভাল ব্যাখ্যা তবে, এটাকে অন্যরকম দৃষ্টিকোন থেকেও কি ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করা যায় না? এমন কি হতে পারে না যে নারী আর পুরুষদের প্রতিযোগিতামূলক মনোভাবে ভিন্নতা রয়েছে?

ছেলে আর মেয়েরা আচরণগত ভাবেই কিন্তু বেশ আলাদা। এক বাবা-মায়ের ২ ছেলে এবং ১ মেয়ে ছিল। একই রকম লিঙ্গ বৈষম্যহীন পরিবেশে মানুষ করার জন্য তাঁরা তিন সন্তানকেই ছোট বেলায় পুতুল আর গাড়ি (ট্রাক) খেলনা দিয়েছিলেন। মেয়েরা খুব খুশি, ট্রাকের উপরে পুতুল রেখে খেলতো তারা, ট্রাকগুলো হল পুতুল রাখার স্ট্যান্ড। ওদিকে ছেলেরাও কিন্তু এই খেলনাগুলোতে দারুন খুশি; এরা পুতুলগুলোকে দেয়ালে আছড়াতো, তারপর পুতুলগুলোকে ট্রাক চাপা দিত। এই যে তাদের ভিন্নতা এটার কতটুকু স্বাভাবিক জৈবিক প্রক্রিয়ার ফলে এসেছে আর কতটুকু চারপাশের পরিবেশের প্রভাবে হয় সেটা জানার চেষ্টা করা হয়েছে বেশ কয়েকভাবেই। প্রথমেই পুরুষ আর নারীর বেতন বৈষম্যের বিষয়টা বিবেচনা করা যাক - পুরুষদের ১ ডলার বেতনের বিপরীতে মহিলারা একই কাজে গড়ে ৮২ সেন্ট পায়। কিন্তু কেন?

এই নিয়ে অনেক রকম গবেষণা হয়েছে। এর কিছু কিছু ফলাফল বলে যে, এর একটা কারণ বৈষম্যমূলক আচরণ তবে এটাও ঠিক যে নারী আর পুরুষের চিন্তাধারা এবং সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে পছন্দ তালিকাটা ভিন্ন - সেটা সংসারের ব্যাপারেই হোক আর কর্মক্ষেত্রেই হোক। তবে অন্যরকম দৃষ্টিভঙ্গি থেকেও এটাকে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করা হয়েছে -- সেটা হল, নারী আর পুরুষ বিভিন্ন রকম প্রণোদনা পাওয়ার আশায় একটা প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশে ভিন্নভাবে প্রতিক্রিয়া দেখায়। প্রণোদনার প্রতি ভিন্ন আকর্ষণ বা দৃষ্টিভঙ্গির কারণেরই নারী পুরুষের সিদ্ধান্ত আলাদা হয়।

৬।
পুরুষ আর নারীগণ যে প্রতিযোগীতায় ভিন্ন রকম দৃষ্টিভঙ্গি ধারণ করে এটা বৈজ্ঞানিক ভাবে প্রমাণ করার জন্য দুজন অর্থশাস্ত্রবিদ মাঠ পর্যায়ে কিছু পরীক্ষার আয়োজন করেন। তারা এজন্য পশ্চিমা সংস্কৃতির প্রভাব মুক্ত অন্য দেশের একটা গ্রাম বেছে নেন -- এতে করে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে স্থানীয় সংস্কৃতির প্রভাবটাও বের হয়ে আসবে। গবেষনার জন্য তাই ওনারা সম্পুর্ণ ভিন্ন দুটি জায়গা বেছে নেন। প্রথমটা হল আফ্রিকার তানজানিয়ার একটা গ্রাম। কিলিমানজারো পাহাড়ের কাছে একটা শহরে চলে যান এই গবেষক দল। সেখান থেকে দুটো মাসাই গ্রামে গবেষণা চালান। মাসাই'রা হল পশুপালনকারী গোষ্ঠি -- অর্থাৎ তাদের অর্থনৈতিক কাজ কারবার চলে পশু চরানো আর সেটার কারবার করে। এই সমাজে নারীরা ভীষনভাবে অবহেলিত - এবং প্রচন্ডরকম পুরুষতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থা। এদের পুরুষতান্ত্রিকতাটা এমন পর্যায়ের যে, এখানে যদি কোন লোককে জিজ্ঞাসা করা হয় তার সন্তান কয়জন, সে শুধু তার ছেলে বাচ্চাদের সংখ্যাটাই বলবে। এখানে একজন নারীর মূল্য প্রায় ১০টা গরুর সমান, ফলে নারীরা হল ঘরের সম্পত্তির মত -- বউয়ের কাজ কর্ম পছন্দ না হলে স্বামী তাকে মারধোর করে, অত্যাচার করে, যা সামাজিক ভাবে গ্রহণযোগ্য আচরণ। ওখানকার একজন মহিলার মতে, পুরুষরা তাদেরকে গাধা'র সমতূল্য মনে করে।

প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব পরীক্ষা করার জন্য গবেষকগণ এখানে একটা প্রতিযোগিতার আয়োজন করেন। এ বিষয়ে আমেরিকাতেও গবেষণা করা পূর্ব অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগান তারা। তাই তাঁরা কম্পিউটারের বদলে কাগজে গোলকধাঁধা এঁকে এটা সমাধান করতে বলেন স্থানীয়দেরকে -- কিন্তু এখানে বিরাট সমস্যা তৈরী হল। প্রথম অংশগ্রহণকারী নারীই বলে বসলো -- আমার পক্ষে এটা করা বেশ অসম্ভব, কারণ এর আগে আমি কখনো কলমই ধরিনি। সুতরাং আগের অভিজ্ঞতায় ঠিক জুইত হইলো না, তাই নতুন করে প্রতিযোগিতা নকশা করতে হল তাদের। নিজেদের পরিচিত পরিবেশ থেকে ১০ হাজার মাইল দুরে কী করি কী করি ভাবতে ভাবতে হঠাৎ দেখেন যে ওখানকার দোকানে টেনিস বল, ব্যাট এসবও পাওয়া যায়। ব্যাপারটা তাদের জন্য বেশ বিস্ময়কর হলেও তারা সেই টেনিস বল আর বালতি কিনলেন।

৭।
এবারের প্রতিযোগিতা হল, হাত নিচু অবস্থায় ১০ ফুট দুরের বালতির ভেতরে টেনিস বল ছুড়ে ফেলতে হবে (under arm throw)। এরকম ১০ বারে সে কয়টা পারে সেটা হল স্কোরলাইন। কিন্তু টুইস্ট হল, ঐ ভবনের আরেক দিকে আরেক জন অপরিচিত লোকও একই সময়ে একই প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে। বল ছোড়া শেষে প্রতিযোগীকে দুইটা অপশন দেয়া হয় -- ক) সরাসরি প্রতিটা স্কোরের জন্য ১ ডলার সমমানের পুরষ্কার, অথবা খ) অপরদিকের অজানা প্রতিযোগীর চেয়ে বেশি স্কোর করলে প্রতিটা স্কোরের জন্য ৩ ডলার সমমানের পুরষ্কার, নাহলে কিচ্ছু পাবে না। কাজেই অনিশ্চয়তার চ্যালেঞ্জওয়ালা পরের অপশন নিলে তাদের ইনকাম তিনগুন হতে পারে। এরকম একটা গরীব জায়গায় এ্যাত সহজেই টাকা কামানোর সুযোগ নিতে সারা গ্রামের লোকজনই ওখানে জড়ো হয়েছিলো। আর ফলাফল?

নারীদের তুলনায় দ্বিগুন পরিমান পুরুষ ২য় অপশনটি বেছে নিয়েছিল। এই ফলাফলটা আমেরিকার ফলাফলের মতই - যেখানে পুরুষগণ চ্যালেঞ্জিং অপশনটা বেশি পছন্দ করে। ৫০% মাসাই পুরুষ ২য় অপশনটা বেছে নিয়েছিলো। অর্থাৎ জিততে পারলে সে তিনগুন পাবে। ঐদিকে বেশিরভাগ নারী চ্যালেঞ্জ নিতে অনাগ্রহী হয়ে নিরাপদ অপশন বেছে নিয়েছিলো, ২য় অপশন নিয়েছিলো ২৬% নারী।

৮।
পরের পরীক্ষাটা করা হয়েছিলো সম্পুর্ন অন্যরকম সামাজিক ব্যবস্থার খাসিয়াদের নিয়ে। ময়মনসিংহ, সিলেটের ঠিক উত্তরে ভারতের মেঘালয়ের খাসিয়াদের সামাজিক কাঠামো হল নারীতান্ত্রিক; যেখানে সর্বকনিষ্ঠ কন্যা পরিবারের সমস্ত সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হয়। বিয়ের পর পুরুষগণ মহিলাদের বাসায় গিয়ে উঠে, বাচ্চাদের নামের শেষে মায়ের বংশের নাম যুক্ত হয়। কোথায় টাকা খরচ হবে, কিভাবে হবে সবই মহিলারা সিদ্ধান্ত নেয় -- কাজেই নারীদের অধিকার এখানে পুরুষদের সমান কিংবা বেশি। আরেকটা অবাক করা জিনিষ লক্ষ্য করেছিলো গবেষকগণ, যে এখানকার সমাজের সবাই খুবই মিশুক আর দয়ালু; খুবই নিরাপদ একটা বোধ আসে ওখানে থাকলে। এ্যাতটাই চমৎকার নিরাপদ পরিবেশ যে গবেষকগণ তাদের ৬০ হাজার ডলার একটা স্যূটকেসে ভাড়া ঘরের রাধুনীর জিম্মায় রেখে নিশ্চিন্তে বের হয়ে যেতেন।

এখানেও মাসাইদের মত একই পরীক্ষা করা হয়েছিলো। তানজানিয়া থেকে আনা বালতি আর বলগুলোই এখানে ব্যবহার করা হয়েছিলো! এখানকার সামাজিক কাঠামোর অবদানেই এখানকার নারীদের মানসিকতা ভিন্ন হওয়া উচিত। হয়েছেও তাই: খেলার ২য় চ্যালেঞ্জিং অপশন বেছে নিয়েছিলো ৫৪% নারী। আর পুরুষদের ক্ষেত্রে এই সংখ্যাটা ৩৯%। চরম পুরুষতান্ত্রিক মাসাই পুরুষদের চেয়েও বেশি খাসিয়া নারী চ্যালেঞ্জ বেছে নিয়েছিলো!!

কাজেই এই পরীক্ষার ফলাফল থেকে বোঝা যায় যে জন্মের সময় যতটুকু জৈবিক পার্থক্যই থাকুক না কেন, পরিবেশের প্রভাবে নারী ও পুরুষের মানসিকতা গড়ে উঠে। এই ফলাফলটা এমনই যে, অতীতের অনেক বিবর্তনের তত্বের (কিংবা অন্যদিকে ধর্মীয়) ব্যাখ্যাকে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিতে পারে।

৯।
উপরের আলোচনা প্রচলিত জনপ্রিয় মতবাদের বাইরেও নতুন দৃষ্টিভঙ্গিতে ভাবতে উদ্বুদ্ধ করে নিঃসন্দেহে। তবে পরিবেশ, পরিস্থিতির প্রভাবে যে মানুষের মানসিক গড়ন ভিন্ন হয় এটা হয়ত নতুন কোন তত্ব নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের হোস্টেলে থাকার সময় ভিন্ন ভিন্ন ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে আসা বন্ধু বান্ধবীদের বিভিন্ন ঘটনায় ভিন্ন রকম প্রতিক্রিয়া দেখা যেত। বিয়ে শাদীর সময়ে ফ্যামিলি এবং এলাকা দেখে বিয়ে দেয়ার ব্যাপারটাও দেশে খুব ভালভাবেই প্রচলিত। মেজটা কেন অন্যগুলোর চেয়ে আলাদা হয়, কিংবা পাকিরা কেন বেশি উগ্র স্বভাবের কিংবা কিছু লোক কেন তৃণভোজীদের মত আচরণ করে সেসবও পরিবেশ, সংস্কৃতি দিয়ে সহজেই ব্যাখ্যা করা যায়। কিন্তু যেই জিনিষটা চোখের সামনে থাকা সত্বেও ঠিকভাবে দেখা যায়নি, সেটা হল এই সমাজের মধ্যেই একই ছাদের তলেও নারী ও পুরুষের মধ্য বিভাজনটা কত বেশি, আর এর জন্যও যে প্রায় একই রকম কারণ দায়ী। নারী পুরুষের ভিন্নতা সৃষ্টির জন্য এই সমাজ তথা আমরাই দায়ী, আর এই বৈষম্য দুর করার ক্ষমতাও তাহলে আমাদের মধ্যেই আছে।

১০।
সূত্র: http://www.freakonomics.com/radio/

পরিবেশ প্রকৌশলী'এর ওয়েবসাইট

লেখাটি CC by-nc-sa 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

Re: জৈবিক ভিন্নতার বাইরেও নর-নারী ভিন্নতা কতটুকু এবং কেন?

surprised surprised
অনেক কিছু জানলাম।

এই ব্যাক্তির সকল লেখা কাল্পনিক , জীবিত অথবা মৃত কারো সাথে মিল পাওয়া গেলে তা সম্পুর্ন কাকতালীয়, যদি লেখা জীবিত অথবা মৃত কারো সাথে মিলে যায় তার দায় এই আইডির মালিক কোনক্রমেই বহন করবেন না। এই ব্যক্তির সকল লেখা পাগলের প্রলাপের ন্যায় এই লেখা কোন প্রকার মতপ্রকাশ অথবা রেফারেন্স হিসাবে ব্যবহার করা যাবে না।

Re: জৈবিক ভিন্নতার বাইরেও নর-নারী ভিন্নতা কতটুকু এবং কেন?

পরিবেশ প্রকৌশলী লিখেছেন:

কাজেই এই পরীক্ষার ফলাফল থেকে বোঝা যায় যে জন্মের সময় যতটুকু জৈবিক পার্থক্যই থাকুক না কেন, পরিবেশের প্রভাবে নারী ও পুরুষের মানসিকতা গড়ে উঠে। এই ফলাফলটা এমনই যে, অতীতের অনেক বিবর্তনের তত্বের (কিংবা অন্যদিকে ধর্মীয়) ব্যাখ্যাকে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিতে পারে।

মাত্র দুটা গ্রামে পরিক্ষা চালিয়ে এধরনের সিদ্ধান্তে আসা যুক্তি যুক্ত মনে করিনা। অন্য আরেকটা খাসিয়া গ্রামে গবেশনা করলে হয়তো ব্যাপারটা অন্যরকম আসতে পারে। নানা বাহানায় আমরা বায়লজিক্যাল ফ্যাক্টরটাকে তুচ্ছ তাচ্ছিল্ল্য করতে চাই কিন্তু মিলিওনস্ বছরে গড়ে ওঠা পার্থক্য কে অস্বীকার করা, হরিনের ঝোপে মুখ গুজে থাকার মতই বোকামী!

অনেক স্পেসালাইজড স্কিল... যেমন ল্যাঙ্গুয়েজ, মাল্টইটাস্কিকং, কগনিশেন ইত্যাদি ক্ষেত্রে মেয়েরা ছেলেদের চেয়ে সুপারিয়র হওয়ার কারন যে সরাসরি মস্তিস্কের গঠনে ভিন্নতা... এটা একটা প্রমানিত ফ্যাক্ট! কিন্তু তাতে কি আসে যায়। বায়লজিক্যাল পার্থক্যটাকে এভাবে খুচিয়ে তুচ্ছ না করে বরং ওটার যায়গায় রেখে দেয়া উচিত। এধরনের তথ্য বের করতে রিসোর্স ব্যায় না করে সেই রিসোর্সটা বিগপিকচার ইমপ্রুভের কাজে ব্যাবহার করলে ছেলে মেয়ে দুজনেরই মঙ্গল।

সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন পরিবেশ প্রকৌশলী (১৫-০৩-২০১৩ ২২:২২)

Re: জৈবিক ভিন্নতার বাইরেও নর-নারী ভিন্নতা কতটুকু এবং কেন?

সদস্য_১ লিখেছেন:

মাত্র দুটা গ্রামে পরিক্ষা চালিয়ে এধরনের সিদ্ধান্তে আসা যুক্তি যুক্ত মনে করিনা। অন্য আরেকটা খাসিয়া গ্রামে গবেশনা করলে হয়তো ব্যাপারটা অন্যরকম আসতে পারে। নানা বাহানায় আমরা বায়লজিক্যাল ফ্যাক্টরটাকে তুচ্ছ তাচ্ছিল্ল্য করতে চাই কিন্তু মিলিওনস্ বছরে গড়ে ওঠা পার্থক্য কে অস্বীকার করা, হরিনের ঝোপে মুখ গুজে থাকার মতই বোকামী!

অনেক স্পেসালাইজড স্কিল... যেমন ল্যাঙ্গুয়েজ, মাল্টইটাস্কিকং, কগনিশেন ইত্যাদি ক্ষেত্রে মেয়েরা ছেলেদের চেয়ে সুপারিয়র হওয়ার কারন যে সরাসরি মস্তিস্কের গঠনে ভিন্নতা... এটা একটা প্রমানিত ফ্যাক্ট! কিন্তু তাতে কি আসে যায়। বায়লজিক্যাল পার্থক্যটাকে এভাবে খুচিয়ে তুচ্ছ না করে বরং ওটার যায়গায় রেখে দেয়া উচিত। এধরনের তথ্য বের করতে রিসোর্স ব্যায় না করে সেই রিসোর্সটা বিগপিকচার ইমপ্রুভের কাজে ব্যাবহার করলে ছেলে মেয়ে দুজনেরই মঙ্গল।

এই দুই গ্রামে তাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের পার্থক্যের অন্য কোন যুক্তিসংগত ব্যাখ্যা দিলেই কেবল তাদের অনুসিদ্ধান্তকে সঠিকভাবে চ্যালেঞ্জ করা যায়। কাউন্টার লজিক ছাড়া মাত্র দুইটা গ্রাম, মাত্র দুইটা বাড়ি, মাত্র দুইটা পাড়া, মাত্র দুইটা মহাদেশ, মাত্র দুইটা গ্রহের বাসিন্দা ইত্যাদি বলে লাভ কী?

বায়োলজিকাল পার্থক্যটাই একমাত্র ফ্যাক্টর না এটাই বলার চেষ্টা করা হচ্ছে। মাসাই এলাকাতেও কিন্তু ২৬% নারী চ্যালেঞ্জিং অপশনটা বেছে নিয়েছিলো, কিংবা সেখানেও কিন্তু ৫০% পুরুষ নিরাপদ অপশনটা বেছে নিয়েছিলো -- এগুলো কিভাবে হল সেটার তেমন যুক্তিসংগত ব্যাখ্যা এখানে দেয়া হয় নাই। কাজেই আমার মনে হয় কাউন্টার লজিক এখান থেকে শুরু করা যেতে পারে।

সামাজিক প্রভাবের পরও পারিবারিক প্রভাব আছে; ঢালাও প্রভাবের মধ্যেও অন্যরকম পরিবেশের পকেট আছে ... ... ইত্যাদি।

একই রকম স্ট্রেসে যদি ছেলে এবং মেয়েকে মানুষ করা হয় -- ধরুন ঝ‌োকশূন্য রোবট তাদের লালন পালন করবে, তাহলে তাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণ, চ্যালেঞ্জ গ্রহণের মানসিকতা আলাদা হবে কি না? সন্তান ধারণের দায়িত্বের ফলে অনেক রকম বৈশিষ্ট নারীদের মধ্যে স্বয়ংক্রিয়ভাবে চলে আসবে, কিন্তু তাই বলে সব নারীই তো একরকম নয়, একরকম নয় সব পুরুষও -- বায়োলজিই যদি একমাত্র নির্নায়ক হত তাহলে তাঁদের ভিন্নতার কারণ কী?

Re: জৈবিক ভিন্নতার বাইরেও নর-নারী ভিন্নতা কতটুকু এবং কেন?

তর্কের খাতিরে আমি বলতে পারি, দুই গ্রামে তদের সিদ্ধান্ত গ্রহনে পার্থক্য শুধুই দৈব ক্রমে হয়েছে। neutral জানেন তো দৈব জিনিসটা অতন্ত যুক্তি সংগত। tongue যদি আটদশটা নারী প্রধান এবং অপর আট/দশটা পুরুষ প্রধান গ্রামে পরীক্ষা করে একই ফল পাওয়া যেত তাহলে অন্য যুক্তি সংগত ব্যাখ্যা খোজার প্রয়োজন আছে।

বায়োলজী যে একমাত্র  নির্নায়ক তা তো বলছি না। বরং গোড়ার দিকের বড়সড় নির্নায়ক বলা যায়। তাছড়া একমাত্র নির্নায়ক হলেও ভিন্নতা প্রত্যাশীত। যে কোন ডাটা সেটে আউটল্যায়ার এবং নয়েজ থাকবেই। বলা হয় "বায়লজিক্যালি একটা ছেলে একটা মেয়ের চেয়ে লম্বা (গড়ে ১৫ সেমি)" এখন আপনি যদি দুটা লম্বা মেয়ে এনে সেই দাবীকে ভূল প্রমান করে দেন তাহলে তো বিপদ! worried

আমার কথা হল পার্থক্য আছে বা নেই সেটা প্রমানতি করা দুরহ ব্যাপার। এবং কম গুরত্বপুর্ন ব্যাপার।গুরত্ব পুর্ন হল এই পার্থক্য দিয়ে যাতে আমার কাউকে সেকেন্ড ক্লাস নাগরিক বানিয়ে না ফেলি।

যাই হোক অপ্রয়োজনীয় ডিবেট বাদ দেই। আপনাকে বরং একটা প্রশ্ন করি,  ধরুন আমাদের বর্তমান জিনপুল হতে ১০ হাজার ছেলে শিশু এবঙ ১০ হাজার মেয়ে শিশু অন্য একটা গ্রহে রোবট দিয়ে পালন করা হল।
আপনার ব্যাক্তিগত ভাবে কি মনে হয়, যে এরা মানসিক ভাবে সমান হবে? অন্য কথায় ছেলে এবং মেয়ে মানসিক বৈশিষ্ট গুলো (যেমন পুরুষ হয়: গোয়ার, দাম্ভীক, সাহসী, যান্ত্রিক এবং নারী হয়: আবেগী, চৈত্যন্নী, বৈশ্লেষিক) এদের মধ্যে থাকবে না? যু্ক্তি পুর্ন বিশ্লেষন চাইছি না একান্তই ব্যাক্তগত মতামত চাইছি।

সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন পরিবেশ প্রকৌশলী (১৬-০৩-২০১৩ ০১:৪৩)

Re: জৈবিক ভিন্নতার বাইরেও নর-নারী ভিন্নতা কতটুকু এবং কেন?

@ সদস্য_১
দৈব চয়নে হয়েছে এই যুক্তি এখানে খাটবে কিনা সে বিষয়ে যথেষ্ট সন্দেহ আছে। যে বিশ্লেষণটা করেছে সে একজন ইকোনমিস্ট, যে কিনা আচরণগত বৈশিষ্ট বিশ্লেষনের কাজই করে -- এটাই তার প্রফেশন, এটাই তার শিক্ষকতার ক্ষেত্র। আর দুটো এক্সট্রিম বৈশিষ্টের গ্রাম বেছে নিয়েছে এ্যানথ্রোপলজিস্টের মতামত অনুসারেই। এখানে হাইপোথেসিস টেস্ট করতে গিয়েছিলো, এবং সেটা সফল। কারণ, হাইপোথেসিসটাই এমন, যে এই এই বৈশিষ্টের কারণে এমন হয় --- কিন্তু কোন সোসাইটিতে অনেকরকম বৈশিষ্টের মিশ্রন থাকে তাই কেন কোনটা হয় বের করা মুস্কিল। অপরপক্ষে এক্সট্রিম ঝ‌োঁকের গ্রাম বেছে নেয়া হয়েছিলো এজন্যই যে এখানে এই হাইপোথেসিস অনুযায়ী এমনই হওয়ার কথা -- সেইটা টেস্ট করে হাইপোথেসিসের সঠিকতা যাচাই করা। ফলাফল অনুমানের অনুরূপ। কাজেই এটা কোইন্সিডেন্স বলা বেশ কষ্টকর -- হিগস বোসন কনাও তাহলে কোইন্সিডেন্স। বইলা কইয়া গোল দিছে -- আর বললাম, ঝড়ে বক পড়ে -- তাহলে হল?

অনুসিদ্ধান্ত বা হাইপোথেসিসকে সূত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে হলে অবশ্যই আরো অনেকগুলো ব্যক্তি, পরিবার, পাড়া, গ্রাম, জেলা, দেশ, মহাদেশ, গ্রহ এবং সৌরজগতে এটাকে প্রমাণ করতে হবে এই বিষয়ে অবশ্য দ্বিমত নাই।

এবার আপনার প্রশ্নের উত্তর হল: পুরাপুরি এক হবে না। কারণ জৈবিক কারণ আর পরিবেশের প্রভাব -- এই দুইটার সম্মিলিত ইফেক্ট তো আলাদাই হওয়ার কথা। ধরুন: জৈবিক বৈশিষ্টের কারণে কোন একটা স্বভাবের (ধরুন অন্তর্মূখিতা) ঝোঁক  ছেলে: -১, মেয়ে: +১ আবার পরিবেশের কারণে সেই স্বভাবে প্রভাব ছেলে: +৫, মেয়ে: +৫ (সমান ইফেক্ট) --- কিন্তু শেষ পর্যন্ত দেখা যাবে সম্মিলিত ভাবে ছেলে: ৪ আর মেয়ে: ৬। অর্থাৎ পরিবেশের প্রভাব সমান হওয়া সত্বেও মেয়ে বেশি অন্তর্মূখি।

কিন্তু যদি সেই ছেলে মেয়েগুলোকেই রোবট দিয়ে পালন না করে সাধারণ কোন একটা ঝোঁক সম্পন্ন সমাজে লালন পালন করা হত, তাহলে সেটার জন্য প্রভাব হয়ত এমন হত - ছেলে: +৩, মেয়ে: +৫। এবং কিউমুলেটিভ বা সম্মিলিত ইফেক্ট ছেলে: ২, মেয়ে: ৬। এখানেও মেয়ে বেশি অন্তর্মূখি কিন্তু ছেলে মেয়ের পার্থক্যটা বেশি।

পরিবেশ প্রকৌশলী'এর ওয়েবসাইট

লেখাটি CC by-nc-sa 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

Re: জৈবিক ভিন্নতার বাইরেও নর-নারী ভিন্নতা কতটুকু এবং কেন?

দুটো স্যাম্পল থেকে ডিসিশন নেয়াটা আমার মনে হয় ঠিক না। স্যাম্পল অন্ততপক্ষে ৩ টা হওয়া উচিৎ। তবে আমার মনে হয় গবেষনার ফলাফল ঠিকই আছে। পরিবেশটা একটা বড় ফ্যাক্টর।

তবে নারী পুরুষ যে জৈবিকতার বাইরেও আলাদা এবং তা আসলে জৈবিকতার কারণেই তা কিছু মাস আগে ডিসকোভারির একটা ডকুমেন্টরিতে দেখি। ডকুমেন্টরির বিষয়টা কিছুটা রগরগে। নারী-পুরষ কেমন জীবনসঙ্গী পছন্দ করে থাকে তা নিয়ে ডকুমেন্টরি। বিষয়টা একটু আলাদা হলেও এখানে তাদের চিন্তাধারার ভিন্নতার ব্যাপারটা বেশ ভালমত তুলে ধরা হয়েছিল।
একটা শিশু যে কিনা এখনও পরিবেশ বুঝে উঠতে পারেনি,  হাসপাতালে সন্তান হবার পর একটা যায়গায় সব শিশুদের রাখা হয়, সেই খানে তারা আছে। সেখানে তাদের আচরণগত কি কি পার্থক্য হয় তা দেখানো হয়েছিল বেশ সুন্দর ভাবে। এখানে পরিবেশের কোন প্রভাব শুরুই হয় নি। এখানে কিছু ইন্টারেস্টিং ব্যাপার লক্ষ করা হল।
১। মেয়ে শিশুরা আসে পাশের শিশুর দিকে তাকায় বা তার খুব কাছে কেউ এলে তার চেহারায় তাকায়। মানে আসলে নিজের মত দেখতে যেকোন কিছুতেই সে ইন্টারেস্ট ফিল করে। ওরা বলছিল, মেয়েরা সামাজিক হয় তাই ওরা এমন করে নিজের জাতটাকেই দেখছিল।
২। ছেলে শিশুগুলো এক্ষেত্রে নিজের জাতের প্রতি তেমন ইন্টারেস্ট দেখায় না। বরং সে তার খাট, তোয়ালে, বালিস এসবই বেশ খেয়াল করে দেখে।

৩। ছেলেশিশু গুলো ঝুলন্ত কোন খেলনার দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে।  বা ছোট কোন কাগজের টুকরা বা কিছু যদি তার কাছাকাছি পড়ে সে তা দেখে।
৪। মেয়েশিশুগুলো একই ঝুলন্ত খেলনা দেখে খুশি হয়। হয়ত একটু হেসে ওঠে। কিন্তু ডিটেইলে নজর দেয় না।

৫। একজন মানুষ যখন একটা মেয়েশিশুর দিকে তাকিয়ে তার সাথে কথা বলার চেষ্টা করে তখন মেয়েটি চায় ওর সাথে কথা বলতে। বা সে একই রকম করে অনুকরন করার চেষ্টা করে।
৬। অন্য দিকে ছেলেশিশু দেখা যায় একটা আঙ্গুল ঐ মানুষটার নাকে ঢুকিয়ে দিল।  বা দাড়ি ধরে টান দিল।

তাদের ভাষ্য মতে মেয়ে শিশুগুলো খুব বেশি ডিটেইলে যায় না। ওরা সোশ্যাল মাইন্ডেড হয় জন্মের প্রথম দিন থেকেই। অপর দিকে একটা ছেলে শিশু যাই দেখুক না কেন, সব কিছুই বেশ সুক্ষভাবে দেখে। মেয়েরা প্রথম দিন থেকেই কথা বলতে চায়। আর ছেলেরা প্রথম দিন থেকেই ঠোট কেন নড়ছে তা চিন্তা করা শুরু করে। দুটোর আউটকামই কথা বলা শিখে যাওয়া। কিন্তু একজনের প্রচন্ড আগ্রহ কথা বলায়। আরেকজনের প্রচন্ড রকম পর্যবেক্ষন।

এসব কারণে ছোটবেলায় কোন মেয়েকে মানুষের প্রতিকৃতি দিলে সে বেশ খুশি হয়। কিন্তু একটা ছেলেশিশুকে সেই পুতুলটা দিলে সে হাত পা খুলে দেখে ভেতরে কি আছে। কোথায় ট্যা ট্যা করছে? এসব।

Feed থেকে ফোরাম সিগনেচার, imgsign.com
ব্লগ: shiplu.mokadd.im
মুখে তুলে কেউ খাইয়ে দেবে না। নিজের হাতেই সেটা করতে হবে।

শিপলু'এর ওয়েবসাইট

লেখাটি GPL v3 এর অধীনে প্রকাশিত

Re: জৈবিক ভিন্নতার বাইরেও নর-নারী ভিন্নতা কতটুকু এবং কেন?

ছেলে মেয়ের ব্যাপারগুলো যে আলাদা সেটা জমজ নন-আইডেন্টিকাল ভাইস্তা-ভাইস্তিকে দিয়েই বেশ ভাল বুঝতে পারি। জৈবিক ঝোঁক সেটা।

আর হাকলবেরি ফিন নামক কিশোর ক্লাসিক পড়ার সময়ে এই বিষয়টা প্রথম মাথায় ধাক্কা দেয়। কাহিনীর এক পর্যায়ে টম সয়্যার নাকি হাকলবেরি ফিন এক বাসায় উঠে মেয়ে সেজে। ঐ বাসার মহিলার সন্দেহ হয় যে এ ছেলে। সে বিভিন্ন কাজ করতে দেয় পোলাকে। তারপর বলে তোমার নামখানা কি বল তো চাঁদু! মহিলা তারপর ব্যাখ্যা করে দেয় কিভাবে বুঝতে পারলেন। প্রথমত: মেয়েরা সুঁই স্থির ভাবে রেখে অন্য হাত দিয়ে সুতা পড়ায়; ছেলেরা সুতা স্থির রেখে সুঁই পড়ায়। দ্বিতীয়ত: ঢিল মারার সময় ছেলেরা কব্জির জোর ব্যবহার করে, মেয়েরা কনুই সহ পুরা হাত তুলে মারে -- ছেলেদের হাতের টিপ সেজন্য ভাল হয় (একটুর জন্য মিস করেছিলো), মেয়েদের অভিনয় করতে হলে ওভাবে অনেক দুর দিয়ে মারতে হবে বলে পরামর্শও দিয়েছিলো!  lol
পরবর্তীতে আমিও বিভিন্ন জায়গায় এই বিষয়গুলোর সত্যতা খেয়াল করেছি।

পরিবেশ প্রকৌশলী'এর ওয়েবসাইট

লেখাটি CC by-nc-sa 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

Re: জৈবিক ভিন্নতার বাইরেও নর-নারী ভিন্নতা কতটুকু এবং কেন?

পরিবেশ প্রকৌশলী লিখেছেন:

ছেলে মেয়ের ব্যাপারগুলো যে আলাদা সেটা জমজ নন-আইডেন্টিকাল ভাইস্তা-ভাইস্তিকে দিয়েই বেশ ভাল বুঝতে পারি। জৈবিক ঝোঁক সেটা।

আমিও এই ব্যাপারটা আমার ভাগনে ভাগনীর ক্ষেত্রেও দেখেছি। ওরা ছোটবেলা থেকেই বলতেগেলে বাসাতেই বন্দি। অন‌্যদের দেখে যে কিছু শিখবে তারও জো নেই। পরিবেশের প্রভাব এখানে নগন্য হওয়ার কথা। সেখানে তাদের ছেলেমী এবং মেয়েলী সুচক আচরনের প্রকোপ দেখে আমি সবসময়ই বিস্মিত হই। এবার বুঝুন ঠেলা!

১০

Re: জৈবিক ভিন্নতার বাইরেও নর-নারী ভিন্নতা কতটুকু এবং কেন?

পরিবেশ প্রকৌশলী লিখেছেন:

ছেলে মেয়ের ব্যাপারগুলো যে আলাদা সেটা জমজ নন-আইডেন্টিকাল ভাইস্তা-ভাইস্তিকে দিয়েই বেশ ভাল বুঝতে পারি। জৈবিক ঝোঁক সেটা।

আর হাকলবেরি ফিন নামক কিশোর ক্লাসিক পড়ার সময়ে এই বিষয়টা প্রথম মাথায় ধাক্কা দেয়। কাহিনীর এক পর্যায়ে টম সয়্যার নাকি হাকলবেরি ফিন এক বাসায় উঠে মেয়ে সেজে। ঐ বাসার মহিলার সন্দেহ হয় যে এ ছেলে। সে বিভিন্ন কাজ করতে দেয় পোলাকে। তারপর বলে তোমার নামখানা কি বল তো চাঁদু! মহিলা তারপর ব্যাখ্যা করে দেয় কিভাবে বুঝতে পারলেন। প্রথমত: মেয়েরা সুঁই স্থির ভাবে রেখে অন্য হাত দিয়ে সুতা পড়ায়; ছেলেরা সুতা স্থির রেখে সুঁই পড়ায়। দ্বিতীয়ত: ঢিল মারার সময় ছেলেরা কব্জির জোর ব্যবহার করে, মেয়েরা কনুই সহ পুরা হাত তুলে মারে -- ছেলেদের হাতের টিপ সেজন্য ভাল হয় (একটুর জন্য মিস করেছিলো), মেয়েদের অভিনয় করতে হলে ওভাবে অনেক দুর দিয়ে মারতে হবে বলে পরামর্শও দিয়েছিলো!  lol
পরবর্তীতে আমিও বিভিন্ন জায়গায় এই বিষয়গুলোর সত্যতা খেয়াল করেছি।

 

ইয়েস প্র্যক্টিকলী বললে এভাবে বলা যায়। তবে থিওরীটিকলী ছেলে/মেয়ে এর ব্রেঈন ভিন্ন ভাবে কাজ করে

১/ ব্রেঈন সাইজঃ ছেলেদের ১১-১২ পার্সেন্ট বড়ো
২/ Spatial ability - ছেলেরা এগিয়ে
৩/ পেইনঃ মেয়েরা বেশী সেন্সিটিভ টাই মেয়েদের মরফিন বেশী লাগে সিভিয়ার পেইন কেইসে
৪/ ল্যংগুয়েজ স্কিলসঃ মেয়েরা এগিয়ে
৫/ ম্যথমেটিক্স এবিলিটিঃ ছেলেরা এগিয়ে

Women tend to communicate more effectively than men, focusing on how to create a solution that works for the group, talking through issues, and utilizes non-verbal cues such as tone, emotion, and empathy whereas men tend to be more task-oriented, less talkative, and more isolated. Men have a more difficult time understanding emotions that are not explicitly verbalized, while women tend to intuit emotions and emotional cues.

 

সূত্র

Rhythm - Motivation Myself Psychedelic Thoughts

লেখাটি CC by 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

১১ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন পরিবেশ প্রকৌশলী (১৬-০৩-২০১৩ ০৫:২১)

Re: জৈবিক ভিন্নতার বাইরেও নর-নারী ভিন্নতা কতটুকু এবং কেন?

@ আহমাদ মুজতবা
বায়োলজিকাল বৈশিষ্ট যেটা লক্ষ বছরের বিবর্তনে এসেছে সেটাকে তো অস্বীকার করা হয়নি। কিন্তু ভিন্ন ভিন্ন পরিবেশের প্রভাবের ইফেক্টের সাথে এটার পারমুটেশন কম্বিনেশনে ভিন্ন ভিন্ন আউটপুট হবে। আগের ৬ নং মন্তব্যের শেষে যেই নিউমেরিক উদাহরণটা কল্পনা করলাম সেটার ব্যাপারে কী মত?

১২ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন আহমাদ মুজতবা (১৬-০৩-২০১৩ ০৫:৪৮)

Re: জৈবিক ভিন্নতার বাইরেও নর-নারী ভিন্নতা কতটুকু এবং কেন?

দুঃখিত ডাবল পোস্ট

টু মি পার্সোনালী আমার মনে হয় বায়লজীক্যল বৈশিষ্ট্য গুলো জাস্ট ইনভায়রনমেন্টাল ফ্যক্টরের সাথে শেইপড হয়

Rhythm - Motivation Myself Psychedelic Thoughts

১৩ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন invarbrass (১৬-০৩-২০১৩ ১৪:০৫)

Re: জৈবিক ভিন্নতার বাইরেও নর-নারী ভিন্নতা কতটুকু এবং কেন?

ব্যাপক তথ্যপূর্ণ পোস্ট।  clap

কাকতালীয়ভাবে গতকাল এ ধরণের বিষয়ে একটা ব্লগ পড়ছিলাম। এখানে বেশ কিছু ইন্টারেস্টিং এ্যান্থ্রোপলজিকাল তথ্য পাবেন  tongue tongue
ঐ পোস্টটার মূল বিষয় যদিও হিউম্যান সেক্সুয়ালিটির বিবর্তন, তবে মানুষের সভ্যতা/সমাজে নারী-পুরুষের ভিন্ন রোল নিয়েও আলোচনা আছে। লেখকের সাথে পুরোপুরি একমত নই - তার থিসিস পুরোটাই বেসিকালী কন্জেক্চার। মূল আর্টিকলের চাইতে বরং কমেন্টগুলো থেকে অনেক কিছু জানা যায় (পুরোটা পড়ার ধৈর্য্য ছিলো না  wink )

এ্যান্থ্রপলজী বিষয়ে প্রফেসর জ্যারেড ম্যাসন ডায়মন্ডের বই এবং আর্টিকলগুলো চমৎকার। শামীমভাই এই ফ্রিকোনমিকাল আর্টিকলটা পড়ে মজা পাবেন। wink

সদস্য_১ লিখেছেন:
পরিবেশ প্রকৌশলী লিখেছেন:

কাজেই এই পরীক্ষার ফলাফল থেকে বোঝা যায় যে জন্মের সময় যতটুকু জৈবিক পার্থক্যই থাকুক না কেন, পরিবেশের প্রভাবে নারী ও পুরুষের মানসিকতা গড়ে উঠে। এই ফলাফলটা এমনই যে, অতীতের অনেক বিবর্তনের তত্বের (কিংবা অন্যদিকে ধর্মীয়) ব্যাখ্যাকে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিতে পারে।

মাত্র দুটা গ্রামে পরিক্ষা চালিয়ে এধরনের সিদ্ধান্তে আসা যুক্তি যুক্ত মনে করিনা। অন্য আরেকটা খাসিয়া গ্রামে গবেশনা করলে হয়তো ব্যাপারটা অন্যরকম আসতে পারে। নানা বাহানায় আমরা বায়লজিক্যাল ফ্যাক্টরটাকে তুচ্ছ তাচ্ছিল্ল্য করতে চাই কিন্তু মিলিওনস্ বছরে গড়ে ওঠা পার্থক্য কে অস্বীকার করা, হরিনের ঝোপে মুখ গুজে থাকার মতই বোকামী!

সদস্য১ এর সাথে সাধারণভাবে সহমত - স্যামপল সাইয অতি ক্ষুদ্র। তবে এটাও মাথায় রাখতে হবে - ঐ ধরণের মাতৃতান্ত্রিক সমাজগুলো মূলত: এক্সেপশন (আধুনিক মানবসভ্যতার প্রেক্ষিতে), নর্ম নয়। সাধারণ জ্ঞান বলে, এক্সেপশনাল স্যাম্পলের রেজাল্ট এক্সেপশনালই হওয়া উচিৎ।

আবার শামীম ভাইয়ের সাথেও সহমত। এতদিন ভাবা হতো জীন-ই সবকিছুর মূল, একটি শিশু বড় হয়ে কেমন হবে তা তার জেনেটিক কোডিং-ই নির্ধারণ করে দিচ্ছে। এখন জানা যাচ্ছে, জেনেটিক প্রভাবের চাইতেও আরো বেশি প্রভাব ফেলে পারিপার্শ্বিক পরিবেশ, সমাজ, লাইফস্টাইল, শিক্ষা এমনকি ডায়েট পর্যন্ত! ইতিমধ্যে এপিজেনেটিক্স নামে একটি আলাদা, নতুন সাইন্সই প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে। কিছুদিন আগে এপিজেনেটিক্সের ওপর একটি চমৎকার বই পড়ছিলাম। ১ম বিশ্বযুদ্ধের সমসাময়িক দূর্ভিক্ষ কবলিত সুইডেন/নরওয়ের নারীদের প্রেগনেন্সী এবং সে সময় জন্ম নেয়া শিশুদের (সবাই এখন মৃত) ভবিষ্যৎ স্বাস্থ্য, জীবনের মানের ওপর গর্ভকালীন অপ্রতুল, লো-ক্যালোরী ডায়েটের প্রভাব নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে গবেষকরা প্রথম এই দিকটি আবিষ্কার করেন। আগ্রহীরা টাইম ম্যাগাযিনের Your DNA Isn't Your Destiny দেখতে পারেন। এখন দেখা যাচ্ছে, বাইরের পরিবেশও আমাদের ভেতরের জীন এক্সপ্রেশন বদলে দিতে পারে!

বেশ কয়েক বছর আগে কোনো একটা বৃটিশ মেডিকেল জার্ণালে প্রেগনেন্ট ইংলিশ মহিলাদের ওপর একটা ইন্টারেস্টিং ফাইন্ডিং পড়েছিলাম (ওটার লিংক/রেফারেন্স কিছুই মনে নেই   confused ) সন্তান ছেলে না মেয়ে (নাকি অন্য কোনো লিংগ  wink ) হবে তা ঠিক কোন মূহুর্তে, কিভাবে নির্ধারিত হয় তা জানার চেষ্টা করছিলেন গবেষকরা। সবাই জানি লিংগ নির্ধারণে X আর Y ক্রমোযোমের ভূমিকা - তবে ঐ ক্রমোযোম এক্সপ্রেশন ঠিক কোন মেকানিযমে, কেন হয় সেটাই জানতে হাজার হাজার গর্ভবতী মহিলার ওপর বহু বছর ধরে সমীক্ষা চালাচ্ছিলেন অবস্টেট্রিশিয়ানরা। যতদূর মনে পড়ে, গবেষণাটা সফল হয় নি - কিছু হিন্টস পেলেও তাঁরা ডেফিনিটিভ কিছু উদঘাটন করতে পারেন নি। তবে একটি ইন্টারেস্টিং তথ্য তাঁরা লক্ষ করেছিলেন - যে সময় ডিম্বাণুটি শুক্রাণু দ্বারা নিষিক্ত হয়, ঐ সময় মায়ের ডায়েটে হাই-কার্বোহাইড্রেট থাকে তবে ভবিষ্যৎে ছেলে সন্তান হবার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।  big_smile

ইন্টারেস্টিং টৃভিয়া, তবে ডেফিনিটিভ কোনো ফ্যাক্ট নয়। জেনেটিক সেক্স ডিটারমিনেশনের ওপর হাইকার্ব ডায়েটের কি মেকানিজম তা তাঁরা ব্যাখ্যা করতে পারেন নি। তার ওপর সার্ভেগুলো ছিলো রেট্রোস্পেক্টিভ - এগ ফার্টিলাইজেশন যখন হয় তখন মেয়েরা নিজেও তো জানে না সে গর্ভবতী হতে যাচ্ছে (অবশ্য এটাও পুরোপুরি ঠিক নয়, মেয়েটির সচেতন মন না জানলেও তার শরীর "জানে") - কাজেই ঐ বিশেষ মূহুর্তে তার ডায়েট আসলেই কি ছিলো তা তার মনে রাখার কথা না। তবুও, গবেষকরা লক্ষ্য করেছেন, হাই-কারব ডায়েট গ্রহণকারী বৃটিশ মায়েদের মধ্যে পুত্র সন্তান জন্ম দেবার হার কিন্চিৎ বেশি (তবে স্ট্যাটিস্টিকালী সিগনিফিক্যান্ট ছিলো না সম্ভবতঃ  thinking )

ফৃকোনমিক্স!  lol

@শামীমভাই - ডকুমেন্টারীটা দেখে ফেলুন। জাপানী কেইসাৎসু-দের (টোকিও পুলিস) নিয়ার পারফেক্ট রেকর্ডের পেছনে বিরাট ধাপ্পাবাজী দেখে মজা পাবেন!  big_smile এছাড়া ওটাতে সুমো রিকিশি-দের নিয়েও একটা পর্ব আছে সম্ভবত:।

Calm... like a bomb.

১৪

Re: জৈবিক ভিন্নতার বাইরেও নর-নারী ভিন্নতা কতটুকু এবং কেন?

ফ্রিকোনমিক্সের সমালোচকরা এর যেই মূল দূর্বলতা চিহ্নিত করেছেন সেটা হল প্রমাণের অপ্রতুলতা, আর খুব দ্রুত কোন উপসংহারে পৌছানো। তবে এটার উপস্থাপনা মানুষকে একটা বিষয়ে বিভিন্ন ভাবে চিন্তা ভাবনা করার আগ্রহকে উষ্কে দেয়, এবং প্রচলিত ধারণার দূর্বলতাকেও ধরিয়ে দেয় কিছুটা।

এই বই মানুষ ৪ মিলিয়নের বেশি কপি কিনেছে। আমার ধারণা ইকোনোমিক্সের থিওরী টাইপের জিনিষ হলেও একজন সাংবাদিক এটার লেখার দায়িত্ব নিয়েছিলো জন্যই সেইরকম ক্লাইমেক্স সহ উপস্থাপন করতে পেরেছে। এই রকম প্রচলিত ধারণার কিছু অবাস্তব এবং অদ্ভুদ জিনিষ কিন্তু আমাদের অনেকের মাথাতেই ঘোরে, শুধু সেইরকম উপস্থাপনার অভাবে বেস্ট সেলার বই হয়ে ওঠে না।

@ invarbrass ভাই,
জীবনে রিস্ক কমানোর আর্টিকেলটা পরে ভাল লাগলো, নতুন কিছু শিখলাম। এ্যানথ্রপলজিকাল তথ্যসহ পোস্টটা ত‌ো পুরা রেলগাড়ি --- একটানে পড়া হয়ে উঠলো না। মন্তব্য দুই একটা দেখেছি, সেগুলো ইন্টারেস্টিং বটে।

পরিবেশ প্রকৌশলী'এর ওয়েবসাইট

লেখাটি CC by-nc-sa 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

১৫

Re: জৈবিক ভিন্নতার বাইরেও নর-নারী ভিন্নতা কতটুকু এবং কেন?

পরিবেশ প্রকৌশলী লিখেছেন:

কিন্তু যেই জিনিষটা চোখের সামনে থাকা সত্বেও ঠিকভাবে দেখা যায়নি, সেটা হল এই সমাজের মধ্যেই একই ছাদের তলেও নারী ও পুরুষের মধ্য বিভাজনটা কত বেশি, আর এর জন্যও যে প্রায় একই রকম কারণ দায়ী। নারী পুরুষের ভিন্নতা সৃষ্টির জন্য এই সমাজ তথা আমরাই দায়ী, আর এই বৈষম্য দুর করার ক্ষমতাও তাহলে আমাদের মধ্যেই আছে।

ভাই এত গবেষনা করে কি পেলেন না আপনি পরিবেশ প্রকৌশলী কি ভাবে হলেন? কোন সৃষ্টির আদিতে ভিন্নতার দায়ভার কি আপনার? কলস এবং হাড়ি দুইটাই পাত্র তারা একই পরিবেশে থাকে তাদের কি সমান করতে পারবেন?
রূপক হিসেবে গবেষনা করেন ভাল তবে সৃষ্টির মূলে নয়।

১৬

Re: জৈবিক ভিন্নতার বাইরেও নর-নারী ভিন্নতা কতটুকু এবং কেন?

ইয়ানূর লিখেছেন:

ভাই এত গবেষনা করে কি পেলেন না আপনি পরিবেশ প্রকৌশলী কি ভাবে হলেন? কোন সৃষ্টির আদিতে ভিন্নতার দায়ভার কি আপনার? কলস এবং হাড়ি দুইটাই পাত্র তারা একই পরিবেশে থাকে তাদের কি সমান করতে পারবেন?
রূপক হিসেবে গবেষনা করেন ভাল তবে সৃষ্টির মূলে নয়।

আপনার কাছ থেকে এরকম কথাই আশা করা যায় clap
সব মানুষের ধ্যানধারণা আপনার মতন হলে আমরা এখনও আদিম যুগে বসবাস করতাম। কূপমুন্ডুকতাকে thumbs_down

রাবনে বানাদি ভুড়ি :-(

১৭ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন পরিবেশ প্রকৌশলী (১৭-০৩-২০১৩ ০০:২২)

Re: জৈবিক ভিন্নতার বাইরেও নর-নারী ভিন্নতা কতটুকু এবং কেন?

ইয়ানূর লিখেছেন:

ভাই এত গবেষনা করে কি পেলেন না আপনি পরিবেশ প্রকৌশলী কি ভাবে হলেন? কোন সৃষ্টির আদিতে ভিন্নতার দায়ভার কি আপনার? কলস এবং হাড়ি দুইটাই পাত্র তারা একই পরিবেশে থাকে তাদের কি সমান করতে পারবেন?
রূপক হিসেবে গবেষনা করেন ভাল তবে সৃষ্টির মূলে নয়।

১। খেয়াল করে পড়লে বুঝতেন এটা আমার করা গবেষনা নয়। ঠিকভাবে পড়ার অভ্যাস করুন। এটি টপিকের বাইরে অন্য কোন গবেষণার বিষয়ে প্রশ্ন হয়ে থাকলে জানান।
২। দুইটা উত্তর আছে:
ক) পরিবেশ প্রকৌশলী লিখে প্রজন্মে সদস্য রেজিস্টার করলাম, আর হয়ে গেলাম।
খ) পেশায় পরিবেশ প্রকৌশলী হওয়ার রাস্তা বহুত লম্বা, জেনে কী করবেন? সংক্ষেপেঃ ছাত্র হিসেবে ১০ বছর স্কুল + ২ বছর কলেজ + ১০ বছরের সমতূল্য (আসলে আরো বেশি সময় লেগেছে) ইউনিভার্সিটি।
৩। কোন সৃষ্টির গতিবিধি যদি আমার কর্মকান্ডের দ্বারা প্রভাবিত হয় তবে সেটার ভবিষ্যতের দায়ভার আমার হতে পারে। সৃষ্টির আদিতে যদি আমি থাকি এবং প্রভাব বিস্তারকারী হই তাহলে দায় এসে পড়বে নাহলে নয়।
৪। হ্যাঁ কলস হাড়ি দুইটাকেই হাতুড়ি দিয়ে ভেঙ্গে গুড়া গুড়া করে সমান করে দিতে পারবো
৫। এনি মোর কোশ্চেন?  isee

আপনার জন্য:  smile

পরিবেশ প্রকৌশলী'এর ওয়েবসাইট

লেখাটি CC by-nc-nd 3. এর অধীনে প্রকাশিত

১৮

Re: জৈবিক ভিন্নতার বাইরেও নর-নারী ভিন্নতা কতটুকু এবং কেন?

তার-ছেড়া-কাউয়া লিখেছেন:
ইয়ানূর লিখেছেন:

ভাই এত গবেষনা করে কি পেলেন না আপনি পরিবেশ প্রকৌশলী কি ভাবে হলেন? কোন সৃষ্টির আদিতে ভিন্নতার দায়ভার কি আপনার? কলস এবং হাড়ি দুইটাই পাত্র তারা একই পরিবেশে থাকে তাদের কি সমান করতে পারবেন?
রূপক হিসেবে গবেষনা করেন ভাল তবে সৃষ্টির মূলে নয়।

আপনার কাছ থেকে এরকম কথাই আশা করা যায় clap
সব মানুষের ধ্যানধারণা আপনার মতন হলে আমরা এখনও আদিম যুগে বসবাস করতাম। কূপমুন্ডুকতাকে thumbs_down

আমার মনে হলো আপনি এমন কিছু একটা লিখবেন। যুগের পরিবর্তন হয়নি, পরিবর্তন  আমরা করতে চাইছি অনেক কিছুর>
কূপমুন্ডুকতাকে thumbs_down অর্থ কি?

১৯ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন invarbrass (২০-০৩-২০১৩ ১৩:৪৪)

Re: জৈবিক ভিন্নতার বাইরেও নর-নারী ভিন্নতা কতটুকু এবং কেন?

[অফটপিক লিংকডাম্প] ফৃকোনমিক্সের মত একই ধাঁচের প্রাইসোনোমিক্স ব্লগটিও মোটামুটি জনপ্রিয়। গতবছর সানফ্রানসিস্কো শহরের বাইসাইকেল "চুরি ইন্ডাস্ট্রী" নিয়ে একটি গবেষণা পাবলিশ করে বেশ আলোড়ন তুলেছিলো ব্লগটি।

গতকাল ডায়মন্ডস আর বুল** ফ্যানটাস্টিক পোস্ট নিয়ে আবার আলোচনায় ফিরে এসেছে  big_smile একটি বহুল পরিচিত কোম্পানী কিভাবে খুব ধূর্ত মার্কেটিং পলিসির মাধ্যমে পুরো দুনিয়াকে বোকা বানিয়ে পকেট কেটে নিয়ে যাচ্ছে, তাও প্রায় এক শতাব্দী ধরে, তারই চমৎকার এ্যানালাইসিস! mad ব্লগপোস্টটি আটলান্টিক ম্যাগাযিনের ৩৪ বছর পুরণো আ্টিকল Have You Ever Tried to Sell a Diamond? থেকে রেফারেন্স নিয়েছে। এই আর্টিকলটি নিজেও বেশ চমকপ্রদ।

“The reason you haven’t felt it is because it doesn’t exist. What you call love was invented by guys like me, to sell nylons.”
Don Draper, Madmen

আপডেট: এখানে আলাদা টপিক করে দিলাম।

Calm... like a bomb.

২০ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন দ্যা ডেডলক (২৫-০৩-২০১৩ ২১:২৯)

Re: জৈবিক ভিন্নতার বাইরেও নর-নারী ভিন্নতা কতটুকু এবং কেন?

অসাধারণ টপিক তেমনি অসাধারণ  রিপ্লাই গুলো। অনেক আগেই মার্ক করে রেখে ছিলাম আজ টাইম নিয়ে পড়লাম। 

@ইয়ানূর
বিবর্তন নিয়ে একটু পড়া শোনা করলে আরো বিস্তারিত জানতে পারবেন।

পরিবেশ প্রকৌশলী লিখেছেন:

হাকলবেরি ফিন নামক কিশোর ক্লাসিক পড়ার সময়ে এই বিষয়টা প্রথম মাথায় ধাক্কা দেয়

এই বই নিয়ে কি কোন সিনেমা বানানো হয়েছে ? তাহলে দেখতাম।

এই বই এর কথা বলছেন নাকি ?
http://www.imdb.com/title/tt0071634/

http://ec2-184-73-108-203.compute-1.ama … 49777F13AF

http://www.aponzone.com/index.php?main_ … ucts_id=89