টপিকঃ জো রুট - ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেটের ইম্প্রেসিভ ডেবুটেন্ট

রুটকে প্রথম দেখি গত বছর চ্যাম্পিয়ন্স লীগ টি২০ তে ইয়র্কশায়ার এর হয়ে খেলার সময়। প্রায় প্রত্যেকদিন ইয়র্কশায়ার এর হয়ে বোলিং ওপেন করতো, যদিও খুব কার্যকরী বোলার ছিলো না।

তারপর ইন্ডিয়ার বিপক্ষে টেস্টে ডাক পাবার কারণে আবার তার নাম শুনি। স্ট্রাউস না থাকার কারণে ১ম টেস্টে কুক এর সাথে ওপেন করার সম্ভাবনা ছিলো রুটের। কিন্তু ওয়ার্ম আপ ম্যাচে ভালো করার কারণে কুকের সাথে ওপেন করে কম্পটন।

২য় ও ৩য় টেস্ট জিতলেও প্রত্যেক ম্যাচে সামিত প্যাটেলের পারফর্মেন্স ছিলো অত্যন্ত করুণ। ৪র্থ অর্থাৎ শেষ টেস্টে সামিত প্যাটেল এর জায়গায় মর্গান এবং বেয়ারস্টো এর আগে সুযোগ পান ওপেনার রূট। কিন্তু তাকে ব্যাট করতে হবে ৬ নাম্বারে।

৪র্থ টেস্টে বেল আউট হলে রূট জীবনের প্রথম টেস্ট ইনিংসে ব্যাট করতে নামেন। তারপর কেপি এর সাথে ২০ রানের একটি জুটি গড়েন। কেপি যখন আউট হয়ে যান তখন ইংল্যান্ডের রান ছিলো ৫ উইকেটে ১৩৯। তারপর প্রিয়র এর সাথে ১০৩ রানের একটি জুটি গড়েন যেটি ইংল্যান্ডে ম্যাচে ফিরিয়ে আনে।

রুট এর প্রথম টেস্ট ইনিংসটা স্থায়ী হয় ২২৯ বল। তিনি ২৮৯ মিনিট ক্রিজে থেকে ২২৯ বল খেলে ৭৩ রান করে। বাউন্ডারি মারেন মাত্র ৪টি। ২২ বছরের একজন তরুণের কাছ থেকে এমন ধৈর্যশীল একটা ইনিংস ছিলো এককথায় অসাধারণ। দ্বিতীয় ইনিংসে রুট ৫৬ বলে নট আউট ২০ রান করেন। ম্যাচটা ড্র করে ইংল্যান্ড।

টেস্ট সিরিজ শেষ হবার পরে আসে টি২০ সিরিজ। রুট ২টা ম্যাচের মধ্যে ১টা ম্যাচ খেলেন। কিন্তু ব্যাট করার সুযোগ পাননি।

এরপর আসে ওয়ানডে সিরিজ। বেয়ারস্টো পারিবারিক সমস্যার কারণে ওয়ানডে সিরিজ খেলতে না পারার কারণে ডাক পান রুট। সিরিজের ৫টি ম্যাচের প্রত্যেকটাই খেলেন রুট। প্রথম ম্যাচে ব্যাট করার সুযোগ না পেলেও পরের ৪টি ইনিংসে ৩৬, ৩৯, নট আউট ৫১ ও ৩১ রান করেন।

ইন্ডিয়া সিরিজে ভালো করার জন্য ডাক পান নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের জন্য। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে ৫৬ রান করেন। ৩য় উইকেটে ট্রটের সাথে ৯০ রানের সলিড একটি জুটি গড়েন। যদিও ম্যাচটি হারে ইংল্যান্ড।

ওয়ানডেতে রুটের সেরা পারফর্মেন্স (আমার চোখে) আসে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ২য় ওয়ানডেতে। ২৭০ রান তাড়া করতে যেয়ে ৩২ ওভারে ১৪৯ রানে দুই উইকেট পড়ে ইংল্যান্ডের। ক্রিজে আসেন রুট। ৫৬ বলে ৭ ফোর ও ২ ছক্কা সমেত ৭৯ রান করে ১৪ বল বাকি থাকতেই ইংল্যান্ডকে খুব সহজে ম্যাচ জিতিয়ে দেন তিনি। এই ইনিংসে বেশ কিছু স্কুপ শটও খেলেন।

এখন পর্যন্ত ওয়ানডেতে রুটের সর্বনিম্ন স্কোর হচ্ছে নট আউট ২৮। সিরিজের শেষ ম্যাচে ইংল্যান্ড ১৮৬ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নামলে ৫৬ বলে নট আউট ২৮ রান করে ইংল্যান্ডকে ম্যাচ জেতান রুট।

এখন পর্যন্ত মোট ৮টা ওয়ান ডে ম্যাচ খেলে ৭ ইনিংসে ব্যাট করে ৩২৬ রান করেন রুট। সর্বোচ্চ স্কোর নট আউট ৭৯, এভারেজ ৮১.৫০ এবং স্ট্রাইকরেট ৮৬.৪৭। হাফ সেঞ্চুরি ৩টি। তার লিস্ট এ এভারেজ ওয়ানডে এভারেজের অর্ধেক (৪০.১৪)।

ওয়ানডেতে তার মোট ৮টি ইনিংসঃ ৭৩, ২০*, ৩৬, ৩৯, ৫৭*, ৩১, ৫৬, ৭৯*, ২৮*।

রুট ইতিমধ্যেই ফিল্ডিং এ সেফ হ্যান্ড হিসেবে সুনাম অর্জন করে ফেলেছেন। প্রত্যেক ম্যাচেই তুখোড় ফিল্ডিং করে বুঝিয়ে দিয়েছেন তিনি ব্যাটিং এর সাথে সাথে ফিল্ডিং এর দিক দিয়েও কম না।

রুট মাঝে মধ্যে অফ স্পিন বোলিংও করেন। ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেটে ইতিমধ্যে ১টি উইকেটও পেয়েছেন। নিউজিল্যান্ডের সাথে ৩য় টি২০ তে ২ ওভার বল করে ১৫ রান দিয়ে রস টেইলরের উইকেট পান। তবে ওয়ানডেতে ২১ ওভার বল করে কোনো উইকেট পান নি। যদি তিনি নিয়মিত বল করতে চান তাহলে তাকে তার বোলিং নিয়ে আরও কাজ করা লাগবে।

রুট এই ইম্প্রেসিভ পারফর্মেন্সের পরে সহজেই প্রশ্ন চলে আসে রুট কি নিয়মিত ওয়ানডে টিমে জায়গা পাবেন? নাকি সবাই টিমে ফিরলে তাকে চলে যেতে হবে সাইডলাইনে? অনেকের মতে রুট ইন্টারন্যাশনাল ম্যাচগুলো খেলেছেন ইন্ডিয়ার বিপক্ষে স্লো ট্র্যাকে আর নিউজিল্যান্ডের বোলিং এর বিপক্ষে ছোটো মাঠে। রুট যে ইংল্যান্ডের কন্ডিশনে ভালো খেলেন না তা তার লিস্ট এ এভারেজ দেখলেই বোঝা যায়।

আশা করি রুট চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে চান্স পেলে ভালো পারফর্মেন্স করে ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেটে নিজের জায়গাটা পাকাপোক্ত করে নিবেন।

http://p.imgci.com/db/PICTURES/CMS/154500/154582.jpg