টপিকঃ বিক্রমপুরের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস-৫

বিক্রমপুরের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস-১
বিক্রমপুরের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস-২
বিক্রমপুরের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস-৩
বিক্রমপুরের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস-৪

মোগল সভ্যতা ও বাঙালী চাঁদরায় কেদাররায়ের বিদ্রোহ

গৌতম ব্যানার্জী : মোগলদের আবির্ভাবের সাথে সাথে ভারত উপমহাদেশের ইতিহাসের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়। ১৫২৬ খৃষ্টাব্দে পানিপথের যুদ্ধক্ষেত্রে বাবরের বিজয়ের ফলে ভারতে মোগল শাসনের বিজয়ের ফলে ভারতে মোগল শাসনের গোড়া পত্তন হয়। কিন্তু ১৫২৬ খৃষ্টাব্দের পানি পথের দ্বিতীয় যুদ্ধ পর্যন্ত ত্রিশ বছর কাল ভারতের ইতিহাস প্রধানত আফগান মোগল সংঘর্ষের ইতিহাস।

ভারতে মোগল শাসন প্রতিষ্ঠিত হলেও বাংলায় তখনও মোগল শাসনের সূর্য উদয় হয়নি। তখন বাংলায় শেরশাহী বংশের অভ্যুদ্বয় ঘটে। এই বংশ ১৫৩৯ তেকে ১৫৬৪ খৃষ্টাব্দ পর্যন্ত বাংলা শাসন করে। শেরশাহী বংশের অবসানে বাংলায় কররানী বংশের অভ্যুদয় ঘটে। তারা ১৫৬৪ খৃষ্টাব্দ থেকে ১৫৭৫ খৃষ্টাব্দ পর্যন্ত বাংলা শাসন করে। অতঃপর মোগল সম্রাট আকবর ১৫৭৬ খৃষ্টাব্দে বাংলা জয় করেন।

মোগল শাসকরা বাংলা দখল করে বাংলা শাসন পরিচালনা করার জন্য তখন এক একজন সুবেদার বা শাসন কর্তা নিয়োগ করেন। ১৫৮৯ খৃষ্টাব্দে রাজা মানসিংহ বাংলার ষষ্ঠ সুবেদার হিসেবে শাসনভার গ্রহণ করেন। তার সময়ে রাজমহলে বাংলা বিহার ও উড়িষ্যার রাজধানী স্থাপিত হয়। মানসিংহের বাংলা শাসনভার গ্রহণ করার পূর্ব থেকেই বিহার ও উড়িষ্যার আফগান বিদ্রোহীরা বিভিন্নভাবে উৎপাত শুরু করে। সে সময়ে ধীরে ধীরে বাংলায় বিভিন্ন অংশে ভৌমিক বা ভূইয়াগণ স্বাধীনতা লাভের চেষ্টা চালায়। ভারত বা প্রাচীন বাংলায় দীর্ঘকাল বিভিন্ন সভ্যতার শাসনামলে বিভিন্ন সংস্কৃতির ঐক্যসমন্বয়ে বাঙালী জনগোষ্ঠী একটি স্বাধীন রাষ্ট্রগঠনের জাতীয়তাবোধ অনুভব করে। সেই জাতীয়তাবোধ থেকেই বাঙালী বার ভূইয়ারা মোগল আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে থাকে। এই প্রতিবাদের ইচ্ছা থেকেই সংস্কৃতির নৃতাত্ত্বিক চেতানায় তাদের রাষ্ট্রগঠনের ভিত্তির পরিচয় স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ষোড়শ শতাব্দীর মধ্যভাগে এ সমুদয় ভৌমিকগণের অভহ্যদয় ঘটে এবং সেলিম বা জাহাঙ্গীর বাদশাহের শাসনামলে তারা পরাজিত হন।

পরবর্তীতে মোগল সম্রাট কর্তৃক নির্বাচিত শাসনকর্তারাই বাংলা শাসন করতে থাকেন। পলাশীর প্রন্তরে শাসন করতে থাকেন। পলাশীর প্রান্তরে বাংলা তখা ভারতের স্বাধীনতা সূর্য অস্তমিত হবার পূর্ব পর্যন্ত এই ব্যবস্থাই অব্যাহত ছিল। মোগলদের শাসন ব্যবস্থা প্রধানতঃ আকবরেরই রচনা। এই সম্পর্কে এডওয়ার্ডস ও গ্যারেট মন্তব্য করেছেন ‘আধুনিক মোগল শ্রেষ্ঠ আকবরের শাসন প্রতিভার নিকট বাহ্যিকভাবে যতটা প্রতীয়মান হয় তার চেয়ে বেশি ঋণ।’ বাবর ও হুমায়ুন নব প্রতিষ্ঠিত সামাজ্যের বহুবিধি সমস্যায় ব্যাস্ত ছিলেন বলে তাদের কেহই শাসন ব্যবস্থার দিকে মনোযোগ দিতে পারেনি। ভারতয়ি ও বৈদেশিক মাসন ব্যবস্থার সমন্বয়ে মোগল শাসন ব্যবস্থা রচিত হয়েছিল। মোগল অধিপতিরা সম্ভবতঃ এশিয়ার বাসিন্দা। মোগল সভ্যতার বিজয় তোরণ যেমন ভারত তথা বাংলার জনসাধারণ স্মরণ করে তরুণ মেগল আগ্রাসনের বিরুদ্ধে বিক্রমপুর থেকে প্রতিবাদের ঝড়ও বাঙালী জাতি তার আত্ম বিকাশের প্রথম ভিত্তি হিসেবে শ্রদ্ধা জানায়।

মোগল সাম্রজ্যের শাসন আমলে বাংলাকে যেমন সমৃদ্ধ করেছে তদ্রুপ সাম্রাজ্য বিস্তারের নামে মগ, ফিরিঙ্গী ও জলদস্যুরা বাংলার সম্পদ লুন্ঠন করেছে। বিক্রমপুর সেই লুন্ঠনের হাত থেকে রেহাই পায়নি। জলদস্যুরা তার হাজার বছররের শ্রমসিক্ত শিল্প-ভাস্কর্যের উপরও নগ্ন থাবা দিয়েছে। বিক্রমপুর মোগল সাম্রাজ্যের যেমন ইতিহাস সমহিসায় প্রতিষ্ঠা পেয়েছিল ঠিক বিপরীতভাবে বাংলার শেষ নবাব সিরজাদৌল্লার হত্যাকান্ডের সাথে রাজা রাজবল্লভের জড়িত থাকার ঘটনা বিক্রমপুর বাসীর আত্মসচেতনতার পথে কালিমা লেপন করেছে।

মোগল সাম্রাজ্যের শাসনামলে সম্রাট শাহজাহা বিক্রমপুরে এসে যেমন ধন্য হয়েছেন বিক্রমপুরবাসীও তার পদার্পণে গৌরববোধ করেছে। বাংলার মোগল সাম্রাজ্যের বিশাল শাসনামলের পটভূমিকার ইতিহাস বিক্রমপুর চোখ নিবন্ধে দু’পূর্ব আলোচিত হবে। নতুন প্রজন্মদের এগিয়ে আসতে হবে। গৌরবদীপ্ত বাঙ্গালীর ইতিহাস নির্মাণে। মধ্যযুগের হীনমন্যতার চিন্তা পরিহার করে আমাদের ইলেকটো মাইক্রো আধুনিক সাম্রাজ্য ব্যবস্থার দিকে এগিয়ে যেতে হবে।

বিক্রমপুরের দুঃসহোদর চাঁদরায় কেদাররায় বাংলায় মোগল আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ষোড়শ শতাব্দীর শেষভাগে প্রথম বিদ্রোহ ঘোষণা করেন। সেই বিদ্রোহর দৃঢ়তাই বাঙ্গালীর আত্মচেতনার চির গৌরবময় ইতিহাস। সেই প্রতিবাদের অগ্নিস্ফহলিঙ্গ ভারত তথা প্রাচীন বাংলায় বাঙ্গালীর রাজনৈতিক চেতনাকে সমৃদ্ধ করেছিল। মধ্যযুগে সামন্তবাদী সমাজ ব্যবস্থায় শাসকগোষ্ঠীর অভুদ্যয় হলেও দেশের স্বাধীনতা রক্ষায় তারা ছিল আপোষহীন। আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, ভহমি বন্দোবস্ত, শিল্প ব্যবসা ও ধর্মীয় অনুভহতির কারণে শ্রেণীগত বৈষম্য সৃষ্টি হলেও বাংলার স্বাধীনতা সূর্য রুখতে শ্রেনী সমন্বয়ের চিন্তা ছিল এক ও অভিন্ন। শ্রেণী সমন্বয়ের এক ও একাধিক চিন্তা থেকে বাঙ্গালী অধিকার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে গণতান্ত্রিক দীর্ঘতম চর্চার পথই শোষক-শোষিতের চরিত্রে জাতীয়তার ভিত্তি রচিত হয়। তাই মোগল আগ্রাসনের বিরুদ্ধে বাংলার রাজ, কৃষক ও মেহনতি জনতার সুসংগঠিত বিদ্রোহর বহিশিখাই আমাদের জাতীয় ইতিহাস।

{চলবে}

সুত্র

Re: বিক্রমপুরের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস-৫

শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ (ইলিয়াস ভাইয়ের বাড়ি কি বিক্রমপুরে নাকি?)

"We want Justice for Adnan Tasin"

Re: বিক্রমপুরের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস-৫

আউল লিখেছেন:

শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ

আপনাকেও ধন্যবাদ।

আউল লিখেছেন:

(ইলিয়াস ভাইয়ের বাড়ি কি বিক্রমপুরে নাকি?)

জ্বি ভাই।  hug

Re: বিক্রমপুরের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস-৫

শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ ভাইজান

জাযাল্লাহু আন্না মুহাম্মাদান মাহুয়া আহলুহু......
এই মেঘ এই রোদ্দুর

Re: বিক্রমপুরের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস-৫

এক সময়ে বাংলাদেশে বিক্রমপুরের অনেক অতিহ্য ছিলো, কালের বিবর্তনে বা আধুনিকতার স্পর্ষে এখন আর কিছু নেই মাঝে মধ্যে ২/১ টি দোকান দেখি বিক্রমপুর মিস্টান্ন ভান্ডার নামে, এক সময়ে বিক্রমপুরের নামে রচিত হয়েছিলো বাংলা গানও

"We want Justice for Adnan Tasin"

Re: বিক্রমপুরের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস-৫

আউল লিখেছেন:

এক সময়ে বাংলাদেশে বিক্রমপুরের অনেক অতিহ্য ছিলো, কালের বিবর্তনে বা আধুনিকতার স্পর্ষে এখন আর কিছু নেই মাঝে মধ্যে ২/১ টি দোকান দেখি বিক্রমপুর মিস্টান্ন ভান্ডার নামে, এক সময়ে বিক্রমপুরের নামে রচিত হয়েছিলো বাংলা গানও

আপনার কথাটা আংশিক সত্য, ঐতিহ্য একাবারে হারিয়ে যাবার বস্তু নয়।  shame ঐতিহ্যকে লালন করতে হয় বতর্মান প্রজন্ম তা লালন করছে না।

Re: বিক্রমপুরের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস-৫

নিজে বিক্রমপুরের হয়ে বিক্রমপুরের কিছু জানি না  sad

Pure SSD Web Hosting https://www.adroitssd.com/

Re: বিক্রমপুরের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস-৫

শেরশাহ মনেহয় শুধু বাংলাই শাসন করেননি, উনি দিল্লীও দখল করেন। সম্রাট হুমায়ুনকে হটিয়ে এসময় তিনি শাসনভার গ্রহণ করেন। পাচবছরের মত মনেহয় উনি দিল্লী দখলে রাখতে পেরেছিলেন। এসময় তিনি বিখ্যাত গ্র্যান্ট ট্রাঙ্ক রোডও নির্মাণ করেন।

রাবনে বানাদি ভুড়ি :-(

Re: বিক্রমপুরের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস-৫

Valo laglo

লেখাটি CC by-nc-nd 3. এর অধীনে প্রকাশিত

১০

Re: বিক্রমপুরের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস-৫

মনির লিখেছেন:

নিজে বিক্রমপুরের হয়ে বিক্রমপুরের কিছু জানি না  sad

এটাইতো আমাদের সমস্যা, আমরা সহজেই শিকড় ভুলে যাই। আমরা যদি আমাদের অতিত ঐতিহ্যকে লালন করতে না পারি তাহলে আগামী প্রজন্মের কাছে জবাবদিহি করতে হতে পারে।

১১ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন আরণ্যক (৩১-০৮-২০১২ ২০:০৯)

Re: বিক্রমপুরের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস-৫

ইলিয়াস ভাই দেখি সবাইরে বিক্রমপুরের ইতিহাস জানিয়েই ছাড়বে। thumbs_up

"সংকোচেরও বিহ্বলতা নিজেরই অপমান। সংকটেরও কল্পনাতে হয়ও না ম্রিয়মাণ।
মুক্ত কর ভয়। আপন মাঝে শক্তি ধর, নিজেরে কর জয়॥"