টপিকঃ বিক্রমপুরের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস-৪

বিক্রমপুরের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস
বিক্রমপুরের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস-২
বিক্রমপুরের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস-৩


সুলতানী আমলে বাংলা ও চৈতন্য মহাপ্রভুর আগমন

প্রাচীন বাংলা বা ভারতে মুসলিম বিজয়ের কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে এখানকার বসবাসকারী জনগোষ্ঠীর মধ্যকার জাতীয় চেতনার অভাব, সমস্যাসংকুল জনপদ, বিভিন্ন ভাষার জাতি-উপজাতি মধ্যে সামাজিক সমন্বয়ের অভাব এবং কৌলিন্য প্রথা উন্মেষের ফলে সামমত্মশ্রেণীভুক্ত একটি বুদ্ধিভিত্তিক শ্রেণীর উদ্ভব বা জনসাধারণকে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা থেকে দূরে সরিয়ে রাখে। এই ব্যাপক জনসাধারণের বিচ্চিনতার কারণে রাষ্ট্রে আর্থ-সামাজিক অবস্থায় স্থবিরতা দেখা যায়।

মধ্যযুগে ভারতের এই ক্রামিত্মকালে মুসলিম বিজয় প্রাচীন বাংলা বা ভারতে সহজ হয়ে উঠে। মুসলিম রাজ-রাজড়াদের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার লোভ নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্ব-সংঘাত বাড়িয়ে তোলে এবং ভারতে সর্বত্র রক্তপাত ঘটাতে থাকে। প্রকৃতপক্ষে ভারত বা প্রাচীন বাংলায় মুসলিম ধর্ম উন্মেষের ফলে মুসলিম রাজারাও সমগ্র ভারত অধিকার করতে সমর্থ হয়নি। কিন্তু ইসলাম ধর্মের প্রভাব স্থায়ী হয়ে উঠে।

মুসলিম রাজনৈতিক শক্তিই প্রাচীন বাংলা বা ভারতে জাতি গঠনের প্রয়াস এবং জাতীয় চেতনার উদ্ভব ও বিকাশের পথকে সুগম করে। সংগঠিত রাজনীতি শুরুর আগে বা পরে সামন্তশ্রেনীর শাসন-শোষণের বিরুদ্ধে সংগ্রামরত ভারতীয় নিন্মবর্গের জনতার ভহমিকা প্রশংসনীয়।

মধ্যযুগ বলতে ভারতের ইতিহাসে সাধারণভাবে বোঝায় মুসলমান রাজত্বকাল। কিন্তু পূর্ববঙ্গ তখনও সেন রাজাদের রাজত্ব বিরাজমান। মুসলিম রাজত্বের উথানের পাশাপাশি ১২০০ সাল শেষ হতে না হতেই বাংলার ওপরে আফগান তুর্কী আক্রমণের ঝড় বয়ে যায়। দিল্লীতে তখন তুর্কী রাজা প্রতিষ্ঠিত। মগধ জয় ও বিধ্বস্ত করে পশ্চিবঙ্গ অধিকার করতে তুর্কীদের বিলম্ব হলো না। বাংলায় খিলজী (১২০০-১৩৫০), তুঘলুক(১২২৭-১২৮৭), বলবনী শ্যসক বংশের উথন-পতন ঘটল; তুর্কী রাজত্ব বলবনী বংশের আমলে লক্ষণাবতী (উত্তরবঙ্গ), সপ্তগ্রাম (মধ্যপশ্চিমবঙ্গ), সোনারগাঁও (মধ্যপূর্ববঙ্গ) ও চট্টগ্রামকে (পূর্ববঙ্গ), কেন্দ্র করে প্রতিষ্ঠিত হয়।

সুফি ফকির দরবেশ ও গাজীরা তখন থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে এসে নবজিবিত ভহমিতে ইসলাম ধর্ম বিস্তারের চেষ্টা চালায়।

কিন্তু তুর্কী অধিকার তখনো সর্বত্র পরিব্যাপ্ত নয়, আর লক্ষণাবতী সোনরগাঁ প্রভৃতি কেন্দ্রের তুর্কী শাসকদের মধ্যে যুদ্ধ-বিগ্রহ, পরস্পর পরস্পরে হানাহানি লেগেই থাকে। এ অবস্থার অবসান ঘটে সুলতান শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ এর রাজ্যলাভে (১৩৪২-১৩৫৭)। তিনি বাংলাদেশে স্বাধীন রাজত্ব স্থাপন করেন।

বখতিয়ার খিলজী বাংলায় প্রথম মুসলিম রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। ত্রয়োদশ শতাব্দীর প্রথম দিক থেকে পঞ্চদশ শতকের শেষ (১৫৭৬) পর্যন্ত মোগল সম্রাট আকবরের বাংলা বিজয় পর্যন্ত সময়কে সুলতানী আমল ধরা হয়। এই সুলতানী আমলে বাংলার শাসনভারএককভাবে দখল করা সম্ভব হয়ে উঠেনি।

পূর্ববঙ্গে মুসলিম অধিকার প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত বিক্রমপুরে তখনও রাজধানী ছিল। অবশেষে তুঘলুক পূর্ববঙ্গ বিজয়ের পর বাংলার রাজধানী সোনারগাঁয়ে প্রতিষ্ঠা করেন। তখন থেকেই বিক্রমপুরের সমৃদ্ধি অনেকটা পিছিয়ে পড়ে। তবে এ সময় বিক্রমপুরের ইসলাম ধর্মের ব্যাপক প্রসার লাভ করে। বিক্রমপুরের মানুষ এক সময়ে বৌদ্ধ ধর্মানুসারী ছিল, বাহ্মণ্যবাদ প্রসারিত হলে অনেকেই হিন্দু ধর্মরীতি গ্রহণ করে, বৌদ্ধ পরিচয় পরিবর্তন করে। আবার ইসলাম ধর্ম প্রসারিত হলে অনেক হিন্দু ও বৌদ্ধ ইসলাম ধর্ম প্রসারিত করে। তাই ধর্মীয় ও রাজনৈতিক পরিচয় পরিবর্তনযোগ্য হলেও তিনটি যুগের সংস্কৃতির অব্যাহত গতি বিক্রপুর তথা বৃহত্তর বাংলায় একটি নৃত্যাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্যমন্ডিত ও জাতিগত সত্তার ঐক্যের অভ্যুদ্বয় ঘটে। এই জাতিগত ঐক্যের নবজাগরণে পঞ্চদশ শতকের মাঝামাঝি বাংলার শাসনকর্তা সৈয়দ হুসেন শাহের আমলে বৈষষ্হব ধর্মের প্রতিষ্ঠাতাও মানবতাবাদী রাষ্ট্রচিন্তার নায়ক শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভু নবদ্বীপ ছেড়ে বিক্রমপুরে অবস্থান নেয়।

ঐতিহাসিক মিনহাজের মতে এতয়োদশ শতাব্দীর গোড়ারদিকে সনে বংশের রাজা লক্ষণ সেন নদীয়াসহ বাংলার অধিপতি ছিলেন। তখন বাংলায় তুর্কীদের আক্রমণ অব্যাহত থাকে। সত্যি সত্যি তকন সমগ্র উত্তর ভারতে তুর্কীদের অধীনে চলে যায়। উত্তর ভারত সংলগ্ন বিহার বখতিয়ার খিলজী জয় করেন। লক্ষণ সেন অভিযান ঠেকাতে বিহার থেকে বাংলায় আসার পথে সেনা সমাবেশ করেন, কিন্তু লক্ষণ সেন যখন সংবাদ পেল শত্রুরা তার প্রসাদের পৌছেঁ তখন সপরিবারে পালিয়ে রাজধানী বিক্রমপুরে আশ্রয় নিলেন। তখন বখতিয়ার খিলজীর ধনসম্পদ এবং অনেক অর্থ হস্তগত হয় এবং রক্তপাতহীন যুদ্ধে বাংলায় মুসলিম শাসনের অভ্যুদয় ঘটে।

হরিমিশ্রের কুলজী গ্রন্থ অনুসারে দেখা যায় মুসলিম যোদ্ধাদের ভয়ে লক্ষণ সেনের পুত্র কেশব সেন গৌড় পরিত্যাগ করে চলে যান। লক্ষণ সেনের অন্য পুত্র বিশ্বরূপ সেন তখন বিক্রমপুরে রাজত্ব করেন। তিনি ভাইয়ের অনুপস্থিতিতে গৌড়েশ্বর উপাধি ধারণ করেন। বিক্রমপুর এ সময় মুসলিম অভিযানের লক্ষ্যস্থলে পরিণত হয়। লক্ষণ সেন বিক্রমপুরেই মারা যান।

বখতিয়ার বাংলা জয় করে বাংলাকে দু’ভাগে বিভক্ত করে লক্ষ্মৌতীর বা গৌড়ে রাজধানী প্রতিষ্ঠা করেন। তার সময়ে পশ্চিমবঙ্গ দিল্লীর আফগান অধিপতিদের অধিকারে ছিল। পরবর্তীকালে এক বিশাল বাহিনী নিয়ে তিববত আক্রমণে ব্যর্থ হয়ে বখতিয়ারের বাহিনী রাজ্যলাভের আশায় বিপদসংকুল পথে পাড়ি দিয়ে কুচবিহারে উপস্থিত হন এবং যুদ্ধের ক্লান্তিতে শয্যাশায়ী হয়ে তার মৃত্যু ঘটে বলে জানা যায়।

১২৫৮ সালে ইখতার উদ্দিন তোগরল খাঁ লক্ষণাবতীর অধিপত্য দৃঢ় করে কামরূপ জয় করেন। তোগরল সুচতুর, সাহসী ও বুদ্ধিমান ছিলেন। ১২৭৯ সালে তিনি বাংলার স্বাধীন সুলতান ঘোষণা দিয়ে মঘিসউদ্দিন নামে পরিচিত হন। সম্রাট বলবন তোগরলের অবাধ্যতায় ও অন্যায় আচরণে ত্রুদ্ধ হয়ে অযোধ্যার শাসনকর্তা আসীন খাঁকে বঙ্গদেশের ক্ষমতা দিয়ে তোগরলের বিরুদ্ধে প্রেরণ করেন। আমিন খাঁ তোগরলের সাথে যুদ্ধে পরাজিত হন এবং তখন সম্রাট গিয়াসউদ্দিন বলবন স্বয়ং যুদ্ধে উপস্থিত হলে তোগরল কৌশলে বিক্রমপুর পালিয়ে যায়। তোগরল পলায়নের পর সুলতান সোনার গাঁয়ে উপস্থিত হয়েছিলেন। তখন কেশবসেনের পৌত্র রাজা দনৌজমাধব সেন সুবর্ন গ্রামের স্বাধীন রাজা ছিলেন। তিনি সম্রাটের সাথে ১২৮০ সালে সন্ধি করেন। সোনারগাঁও সে সময়ে পৈনাম নামে পরিচিত ছিল।

অবশেষে ১৩০০ সালে মুহাম্মদ তুঘলক পূর্ববঙ্গ স্থায়ীভাবে দখল করেন এবং সমসত্ম বঙ্গদেশকে লক্ষণাবতী, সাতগাঁ এবং ঢাকাসহ সোনারগাঁয়ে রাজধানী প্রতিষ্ঠিত হয়। সোনারগাঁও ধীরে ধীরে বিক্রমপুরের স্থান দখল করে।

অতঃপর বহরম খাঁ (১৩৩৫-১৩৩৮) সাল পর্যন্ত বাংলা শাসন করেন। তার মৃত্যুর পর ফকিরউদ্দিন আবুল মুজফফর মুবারক শাহ নাম ধারণ করে (১৩৩৮-১৩৪৯) সাল পর্যন্ত নিজেকে বাংলার স্বাধীন রাজা ঘোষণা করেন এবং শাসন পরিচালনা করেন। তখন প্রাচীন বাংলা বিভক্ত হয়ে পড়লে ১৩৫১ সালে শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ এবং তার পুত্র সেকেন্দর শাহ পুনরায় পূর্ববঙ্গ ও পশ্চিমবঙ্গ একত্র করেন। তথাপি সুবর্ণগ্রামের স্বাধীন রাজা আজমশাহের আমলে পূর্ববঙ্গ, ত্রিপুরা, আসাম প্রভৃতি অঞ্চল আরাকানের অধীনস্থ হয়ে পড়ে। কিন্তু ইলিয়াস শাহের বংশধর নাছিরউদ্দিন মুহম্মদ শাহ ১৪৪৫ সালে আবার উভয়বঙ্গ একত্রিত করেন এবং ১৪৮৭ সাল পর্যন্ত এই বংশ পূর্ববঙ্গে রাজত্ব করেন। ইলিয়াস শাহের আমলে বিক্রমপুরের বজ্রযোগিনী গ্রামের এক ছোট ঘটনা রাজনৈতিক ও ধর্মীয় জাটিলতার সৃষ্টি করে ও ইলিয়াস শাহী বংশের ভবিষ্যতের উপর প্রভাব বিস্তার করে। দুগাঁচন্দ্র সান্যালের বাংলার সামাজিক ইতিহাস গ্রন্থে উল্লেখ আছে সুলতান ইলিয়াস শাহ বিক্রপুরের বজ্রযোগিনী গ্রামে হঠাৎ এক সুন্দরী বিধবার দেখা পান এবং তাকে তার রাজপ্রাসাদে নিয়ে যান। হিন্দু অমাতার এতে আপত্তি জানালে সুলতান তাদের বলেন যে, হয় তাদের মধ্যে কেহ এই সুন্দরী বিধবাকে বিবাহ করবে অন্যথায় তিনি নিজেই তাকে বিয়ে করবেন।

অতঃপর বিদ্যোৎসাহী রাজা সৈয়দ হুসেন শাহ দেড়শত বচর যুদ্ধ বিধ্বস্ত বাংলার সিংহাসনে আরোহণ করে বাংলার কাংক্ষিত গৌরব ফিরে আনেন। পাঠান অধিপতিদের মধ্যে হুসেন শাহই প্রজাদের উন্নতি বাংলা সাহিত্যের সৃজন এবং শিল্পের মুক্ত চর্চা অনুশীলনে বাংলার আত্মবিকাশের পথ তৈরী করেন। তিনি ছিলেন অসাম্প্রদায়িক মনের অধিকারী। তিনি চেয়েছিলেন বাংরঅর অধ্যুষিত হিন্দু ও মুসলমানের সমন্বয়ে একটি সংস্কৃতি চার্চকেন্দ্র।

সেই ধরণাকে ললন করেই নিরপেক্ষ শাসক হুসেন শাহ বাংলার সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিকাশের লক্ষ্য বিক্রমপুরের কায়স্থ পুরন্দর খাঁ, সনাতন গোস্বামী ও সুবুদ্ধি ভাদুড়ির মত জ্ঞানীদের তার রাজ কাজে নিয়োগ করেন। নবদ্বীপ থেকেও যখন বাংলার সামাজিক শ্রেনী বিন্যাস হ্রাস পেতে থাকে তখন ১৫০৬ সালে কলির দেবতা শ্রী গৌরাঙ্গ মহাপ্রভু গৌড় হতে বিক্রমপুরে উপস্থিত হন। চৈতন্য মহাপ্রভু নদী মেঘলা এলাকার পদ্মাচরে অবস্থান করেছিল। বৃন্দাবন দাস রচিত শ্রী চৈতন্য ভাগ্যবত এবং শ্রী শ্রী চৈতন্য চরিতামৃত গ্রন্থে বলা হয়েছে।

‘‘এই মতে বিদ্যারস বৈকুন্ঠের পতি

বিদ্যারসে বিক্রমপুর করিলে স্থিতি ।।

অর্থাৎ তিনি পূর্ববঙ্গে প্রবেশ করে জ্ঞানের অমিয়ধারা বিতরণ করতে করতে বিক্রমপুরে স্থায়ী আবাস গড়ে তোলেন।

মধ্যযুগের ব্রাহ্মণ্যবাদের সুকঠোর শ্রেণী বৈষম্য, কৃত্রিম জাতিভেদ, অস্পৃশ্যত্য ও ছোঁয়াছুয়ির অচলায়তন ভেঙ্গে সমস্তবাদী ধ্যানধারণকে মানবতন্ত্রী প্রেম ও ভালবাসার জাগরণে আন্দোলতি করে অবহেলিত ছোট জাতপাতের হাজার হাজার নরনারীকে বৈষ্ণব ধর্মে দীক্ষিত করে বাঙালীল ধর্মীয় ও সমাজ কাঠামোকে আধুনিক প্রগতিশীল চিন্তার বিকাশ ঘটান। তার অসংখ্য আউল-বাউলের প্রেম ও ভক্তিরসে আপ্লুত বৈষ্ণব গান একদিন বাংলার মাঠ-ঘাট-প্রান্তর মুখরিত করে তুলেছিল সেই কলির কৃষ্ণ শ্রী চৈতন্য গৌড়ের সকল মোহ পরিত্যাগ করে বিক্রমপুরে এসেছিল। বিক্রমপুরে তিনি দু’বছরের বেশি সময় অবস্থান করেন। তার উপস্থিতির কারণেই আমরা পরবর্তীকালে বিক্রমপুরে বহুসংখ্যক বৈষ্ণব সম্প্রদায়ের উদ্ভব প্রত্যক্ষ করি। বিক্রমপুরের পন্ডিতগণ করজোড়ে তার কাছে এসে নিবেদন জানাতেন

‘‘সবে এক নিবেদন করিয়ে তোমারে

বিদ্যাদানে কর কিছু আসা সভাকারে।

……………………………..

সাক্ষাতে শিষ্যকার আসা সভাকারে,

থাকুক তোমাদের কীর্তি সফল সংসারে’’

শ্রী চৈতন্য বিক্রমপুরে এসে যেমন খুশি হয়েছিল ঠিক তাপপেয়েও বিক্রমপুর ধন্য হয়েছিল। তার উপস্থিতিতে বিক্রমপুরের জাতিভেদ অনেকটা সিথিল হয়েছিল। সম্রাট আকবরের বাংলা বিজয়ের পূর্বে ১৫৩৮ সাল থেকে ১৫৭৬ সাল পর্যন্ত এই আটত্রিশ বছর বাংলায় আফগান রাজত্বের ইতিহাস।

সুলতানী আমলে তাজখানের ভাই সুলেমান খান করবানীর সময় রিকাবীবাজারে সুলেমান শাহী মসজিদ তৈরী করেন। সুলেমান করবানী ৯৭৬ হিজরী হতে ৯৮০ হিজরী বা ১৫৫৯ সাল পর্যন্ত বাংরা শাসন করেন। মসজিদের শিলালিপি মতে আমিন খাঁন ফকিরের পুত্র মালিক আবদুল্লাহ মিয়াই সুলেমান শাহ করবানী নামে পরিচিত। হয়রত আলী সুলেমানের রাজত্বকালে ৯৮০ হিজরী মোতাবেক ১৫৬৯ সালে এই মসজিদ নির্মান করেন। এই মসজিদটি সাধারণত কাজির মসজিদ নামে পরিচিত। এই অবদুল্লাহ মিয়াই বিক্রমপুরের কাজী এবং তার নামানূসারে আবদুল্লাপুর গ্রামের নামকরণ করা হয়। এছাড়া বিক্রমপুরে মুন্সীগঞ্জের কেওয়ার গ্রামে হযরত হোসেন শিকদাদ (রা:) এর মাজারে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মিত হয়। আজ থেকে প্রায় ৮০০ বছর পূর্বে এই ধর্মপ্রাণ সাধক পুরুষ ইসলাম ধর্ম প্রচারের জন্য সুদূর বাগদাদ থেকে বিক্রমপুরের কেওয়ার গ্রামে আসেন। বর্তমানে তা শিকদাদ সাহেবের মাজার নামে পরিচিত। পাঠান রাজত্বের সময় বিক্রমপুরে অর্থের ব্যবহারের পরিবর্তে ব্যসা বাণিজ্যে কড়িই বিনিময় মুদ্রা ছিল। ধান চাউলে বাণিজ্য সামগ্রী ছিল। শিক্ষার জন্য তখন এলাকায় আরবী, ফার্সী শব্দের প্রচলন ছিল। তবে প্রজা সাধরণ বাংলা ভাষায় মত বিনিময় করত।

সুলেমান করবানীর মৃত্যুর পর মোগল সম্রাট আকবর তার সেনাপতি মুনিম খান ও রাজা তোড়লমলকে বাংলা বিজয়ের জন্য প্রেরণ করেন এবং সেই সাথেই বিক্রমপুরে আফাগান শাসন অস্তমিত হয় এবং মোগল শাসনের রনতুর্য বাংলায় প্রতিষ্ঠিত হয়। সভ্যতার আরও একটি মেরুকরণ সংযোজিত হয়।

{চলবে}

সুত্র

Re: বিক্রমপুরের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস-৪

ব্যাপক টপিক !!!!!!!!  surprised surprised surprised surprised




.

মুইছা দিলাম। আমি ভীত !!!

লেখাটি CC by 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

Re: বিক্রমপুরের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস-৪

ফারহান খান লিখেছেন:

ব্যাপক টপিক !!!!!!!!  surprised surprised surprised surprised




.

হুমম ব্যাপক টপিক smile পড়ছো নাকি ?  wink

Re: বিক্রমপুরের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস-৪

ধন্যবাদ , আমি নিজেও বিক্রমপুরের  smile

Pure SSD Web Hosting https://www.adroitssd.com/

Re: বিক্রমপুরের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস-৪

মনির লিখেছেন:

ধন্যবাদ , আমি নিজেও বিক্রমপুরের

তাই নাকি !!! তো কোন উপজেলা ?

Re: বিক্রমপুরের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস-৪

সুন্দর টপিক............ smile

জাযাল্লাহু আন্না মুহাম্মাদান মাহুয়া আহলুহু......
এই মেঘ এই রোদ্দুর

Re: বিক্রমপুরের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস-৪

চমত্কার টপিক ।

স্বাধীন কন্ঠ
সংবাদ প্রকাশের স্বাধীনতা...

Re: বিক্রমপুরের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস-৪

শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ ইলিয়াস ভাই।ইস্ট অর ওয়েস্ট বিক্রমপুর ইজ দ্যা বেস্ট yahoo yahoo yahoo

সব কিছু ত্যাগ করে একদিকে অগ্রসর হচ্ছি

লেখাটি CC by-nd 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

Re: বিক্রমপুরের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস-৪

ছবি-Chhobi লিখেছেন:

সুন্দর টপিক............ smile

মান্না. লিখেছেন:

চমত্কার টপিক ।

ধন্যবাদ।

mizvibappa লিখেছেন:

শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ ইলিয়াস ভাই।ইস্ট অর ওয়েস্ট বিক্রমপুর ইজ দ্যা বেস্ট yahoo yahoo yahoo

আবার কয় !  thumbs_up

১০

Re: বিক্রমপুরের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস-৪

ইলিয়াস লিখেছেন:
মনির লিখেছেন:

ধন্যবাদ , আমি নিজেও বিক্রমপুরের

তাই নাকি !!! তো কোন উপজেলা ?

শ্রীনগর , আপনি ?

Pure SSD Web Hosting https://www.adroitssd.com/

১১

Re: বিক্রমপুরের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস-৪

ইলিয়াস লিখেছেন:
ফারহান খান লিখেছেন:

ব্যাপক টপিক !!!!!!!!  surprised surprised surprised surprised

.

হুমম ব্যাপক টপিক smile পড়ছো নাকি ? wink

tongue lol (মা.খা.ন.এ.)

ভাইজান, চমৎকার টপিক শেয়ার করার জন্য + থাকলো।  hug

"সংকোচেরও বিহ্বলতা নিজেরই অপমান। সংকটেরও কল্পনাতে হয়ও না ম্রিয়মাণ।
মুক্ত কর ভয়। আপন মাঝে শক্তি ধর, নিজেরে কর জয়॥"

১২

Re: বিক্রমপুরের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস-৪

আরণ্যক লিখেছেন:

ভাইজান, চমৎকার টপিক শেয়ার করার জন্য + থাকলো।

ধন্যবাদ আরণ্যক ভাই।  hug