টপিকঃ সোহো (SOHO) শেষ পর্ব।

সোহোর সবকিছু ঠিক করার পরে এর সাথে থাকা 12 টি যন্ত্রের মধ্যে দু’টি যন্ত্র মিকেলসন ডপলার ইমেজার (MDI)এবং এক্সট্রিম আল্ট্রাভায়োলেট ইমেজিং টেলিস্কোপ (EIT)এর সাহায্যে প্রথম সূর্যের ছবি তোলা হয়।এই ছবি বিঞ্জানীরা হাতে পাবার পড়ে নিশ্চিন্ত হয় যে সোহো’র যন্ত্রপাতি ঠিক আছে।
সোহোতে 12 টি অত্যাধূনিক যন্ত্র আছে।এর প্রতিটি যন্ত্র স্বাধীনভাবে সম্পূর্ন সূর্যকে এবং সূর্যের আলাদা আলাদা অশংকে বিষদভাবে পর্যবেক্ষন করতে পারে।
এই 12 টি যন্ত্র হচ্ছে-
1. Coronal Diagnostic Spectrometer (CDC): এর সাহায্যে সৌরমুকুটের (Solar Corona) ঘনত্ব, তাপমাত্রা এবং প্রবাহ পরিমাপ করে।

2. Charge ELement and Isotope Analysis System (CELIAS): এর সাহায্যে সৌর বাতাসের আয়নকে বিশ্লেষন করে।

3. Comprehensive SupraThermal and Energetic Particle analyser collaboration (COSTEP): এর সাহায্যে সৌর বাতাসের আয়ন এবং ইলেক্ট্রন বিশ্লেষন করে। COSTEP এবং ERNE মাঝেমধ্যে এই সব তথ্য আরো ভালমত বিশ্লেষনের জন্য (CEPAC= Particle Analyzer Collaboration) সাথে তথ্য আদান প্রদান করে।

4. Extreme ultraviolet Imaging Telescope (EIT) : এর সাহায্যে সৌরমুকুটের (Solar Corona) গঠন এবং এর কার্যকলাপ পরিক্ষা করে।

5. Energetic and Relativistic Nuclei and Electron experiment (ERNE) : এর সাহায্যে সৌর বাতাসের আয়ন এবং ইলেক্ট্রন বিশ্লেষন করে।

6. Global Oscillations at Low Frequencies (GOLF): এর সাহায্যে সমগ্র
সৌর চাকতি সহ সূর্যের কেন্দ্রের বিভিন্ন তারতম্য পরিমাপ করে।

7. Large Angle and Spectrometric Coronagraph (LASCO) :এর সাহায্যে কৃত্রিমভাবে সূর্যগ্রহন তৈরী করে সৌরমুকুটের গঠন এবং এর বিবর্তন পরিক্ষা করে।(দুটি অত্যাধূনিক ক্যামেরা এরা দৃশ্যমান আলোক তরংগে কাজ করে)।এর নাম LASCO C2,ও LASCO C3। C2 ক্যামেরা কমলা রংয়ের ছবি তোলে এর সাটার স্পীড (টাইম)প্রায় 26 সেকেন্ড।C3 ক্যামেরার সাটার স্পীড (টাইম) প্রায় 19 সেকেন্ড।

8. Michelson Doppler Imager (MDI): এর সাহায্যে সূর্যের আলোকমন্ডলের চুম্বক ক্ষেত্রের বহিরাবরণ বেগ পরিমাপ করে।এছাড়াও সূর্যের পরিচলন অঞ্চল কিভাবে সূর্যের বাইরের অশং গঠন করে,সেই সাথে চুম্বক ক্ষেত্র কিভাবে সৌরমুকুট গঠন এবং নিয়ন্ত্রণ করে তা পর্যবেক্ষন করে।এই MDI হলো সোহো’র সবচেয়ে বড় এবং দূরবর্তী থেকে ডাটা প্রেরন করে।বস্তুত সোহো’র দুইটি ভার্চুয়াল চ্যানেল যার নাম (VC2- MDI-M) ও (VC3- MDI-H)।এর মধ্যে VC2 বহন করে MDI magnetogram তথ্য।আর VC3 বহন করে MDI Helioseismology তথ্য।

9. Solar Ultraviolet Measurement of Emitted Radiation (SUMER): এর সাহায্যে সৌর প্লাজমার প্রবাহ,তাপমাত্রা এবং সৌরমুকুটের ঘনত্ব পরিমাপ করা হয়।

10. Solar Wind ANisotropies (SWAN): এই দূরবীনের সাহায্যে সংবেদনশীল হাইড্রোজেনের বিভিন্ন তরংগ দৈর্ঘ্যর পরিমাপ, সৌর বাতাসের ভর পরিমাপ, heliosphere এর ঘনত্ব’র মানচিত্র এবং সৌর বায়ু প্রবাহ বৃহৎ মাপের গঠন নিরীক্ষণ করা।

11. UltraViolet Coronagraph Spectrometer (UVCS): এর সাহায্যে সৌরমুকুটের ঘনত্ব এবং তাপমাত্রা পরিমাপ করা হয়।

12. Variability of solar IRradiance and Gravity Oscillations (VIRGO): এর সাহায্যে সমগ্র সৌর চাকতির ঘনত্ব, তাপমাত্রা, সৌর দেদীপ্যমানতা এবং মাধ্যাকর্ষনের পরিবর্তনশীলতা স্বল্প রেজল্যুশনে অনুসন্ধান ও পরিমাপ করা হয়।

সোহো’র এই 12 টি যন্ত্র বিভিন্ন গবেষনাগারে তৈরী করা হয়েছে এর মধ্যে ম্যাক্স প্লাঙ্ক সৌর গবেষনা কেন্দ্র তৈরী করেছে SUMER, LASCO এবং CELIAS এই তিনটি যন্ত্র।এর মধ্যে CELIAS তৈরীতে সহায়তা করেছে সুইটজারল্যান্ডের Bern বিশ্ববিদ্যালয়।

LASCO তৈরীতে সহায়তা করেছে যুক্তরাস্ট্রের Naval Research Laboratory।

EIT তৈরী হয়েছে নাসার গডার্ড স্পেস ফ্লাইট সেন্টারে।

হাভার্ড স্মিথসোনিয়ান মানমন্দিরের জ্যোতিপদার্থ বিভাগ তৈরী করেছে UVCS যন্ত্র।

লকহীড মার্টিন সৌর জ্যোতিপদার্থ গবেষনাগার এবং স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সৌর গবেষনা দলের সঙ্গে একসাথে মিলে তৈরী করেছে MDI যন্ত্র।
GOLF তৈরী করেছে ফ্রান্সের Institut d'Astrophysique Spatiale।

COSTEP তৈরী করেছে জার্মানীর Kiel বিশ্ববিদ্যালয়।

ERNE তৈরী করেছে ফিনল্যান্ডের Turku বিশ্ববিদ্যালয়।

CDS তৈরী করেছে Rutherford Appleton Laboratory England।

SWAN তৈরী করেছে Service d’Aeronomie France।

স্বাভাবিক ভাবে সোহো এই সব যন্ত্রপাতি ব্যাবহার করে প্রতিদিন সেকেন্ডে 200 কিলোবাইট (200 kbit/s) তথ্য প্রেরন (এর মধ্যে ছবি ও অন্যান্য তথ্য) করে নাসার ডীপ স্পেস স্টেশনে।মাঝে মধ্যে সোলার ফ্লেয়ার,এবং সৌরঝড়ের প্রভাবে এই ডাটা প্রেরন বন্ধ হয়ে যায়।যদিও সোহোতে এই ধরনের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে তথ্যকে মুক্ত রাখার ব্যাবস্থা আছে।এর পড়েও সোহোর উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন তথ্য প্রেরন এ্যান্টেনাগুলি পৃথিবীতে তথ্য পাঠাতে ব্যার্থ হয়।এই সম্যসা প্রতি তিন মাসে দুইবার তিন সপ্তাহের জন্য এই এ্যান্টেনার সাহায্যে তথ্য প্রেরন বন্ধ হয়ে যায়।

এই সময়ে যাতে করে তথ্য পেতে পারে সেই জন্য নাসা এবং ই এস এ’র বিঞ্জানীরা সেই সময় সোহো’র কম ক্ষমতা সম্পন্ন এ্যান্টেনাগুলোকে ডাটা প্রেরনের কাজে ব্যাবহার করে।প্রথমে তারা সোহো’র Solid State Recorder (SSR) এ তথ্যগুলোকে ধারন করে।এর পরে সোহোর কম ক্ষমতা সম্পন্ন এ্যান্টেনা ব্যাবহার করে তথ্য পৃথিবীতে নিয়ে আসে।এবং পৃথিবীতে এই তথ্যগুলোকে ধরার জন্য 70 এবং 34 মিটারের বিশাল আকারের এ্যান্টেনা ব্যাবহার করা হয়।
সোহো’র বেশ কয়েকটি যন্ত্রের সাহায্যে তোলা সূর্যের ছবি ইন্টারনেটে পাওয়া যায়।এই ছবি জনগন দেখতে পারে, গবেষকরা এই ছবির সাহায্যে নিয়ে গবেষনা করতে পারে।
তবে এর বাইরে যদি কেউ সোহো’র আলাদা আলাদা যন্ত্র দিয়ে সূর্যকে নিয়ে ব্যাপক গবেষনা করতে আগ্রহী হন তবে তাকে সরাসরি অথবা ই-মেইলের মাধ্যেমে সোহো’র যন্ত্র পরিচালনা দলের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।
এবং তারা সবকিছু দেখার পড়ে যদি মনে করে যে আপনি তাদের গবেষনায় কোন সম্যসা সৃস্টি করবেন না,তবে তারা ব্যাক্তি বা কোন দলকে সোহো’র যন্ত্র ব্যাবহার করার অনুমতি দেবে।এর জন্য সোহো’র জপ (JOP) নামের একটি প্রকল্প আছে এর মাধ্যমে এই দিক গুলো দেখা হয়।

সোহো 1999 সাল থেকে 26 শে ডিসেম্বর 2010 সাল পযন্ত প্রায় 2000 টি ধূমকেতু আবিস্কার করেছে।এই কাজে সোহো LASCO নামের যন্ত্র ব্যাবহার করে।এই যন্ত্র ব্যাবহার করে সূর্যের আলোকিত অংশকে ঢেকে ফেলা হয়,এর পরে পরীক্ষা করা হয় যদি কোন ধূমকেতু সূর্যের আশেপাশে থাকে তবে তা চিহ্নত করা যাবে।
ইন্টারনেটে সোহো যে ছবি পাঠায় সেই ছবি বিভিন্ন দেশের সৌখীন জ্যোতিবিদরা এই ছবি পযবেক্ষন করে অনেক ধূমকেতু আবিস্কার করেছে।
এই ভাবে সৌখীন জ্যোতিবিদ মাইক ওটিস সোহো’র পাঠানো তথ্য ও ছবি দেখে 140 টি ধূমকেতু আবিস্কার করেছেন।

বিঞ্জানীধের মতে এই বছরই সোহো’র অভিযান শেষ হয়ে যাবে।তবে আশা করি সোহো বিঞ্জানীদের ধারনাকে ভূল প্রমান করে আরো অনেকদিন আমাদেরকে সূর্যের অনেক অজানা তথ্য পাঠাতে থাকবে।

সোহোর ওয়েব সাইট- Websitesohowww.nascom.nasa.gov/

ছবি-সোহো

https://www.google.com/search?q=solar+h … mp;bih=654