টপিকঃ আমাদের তাপ সাশ্রয়ী প্রযুক্তি দরকার

এনার্জি সেভিং বাতিগুলো আমার খুব পছন্দের জিনিষ। কোনো এক সময় পড়েছিলাম যে টিউব লাইটের সাধারণ ম্যাগনেটিক ব্যালাস্টে নাকি সর্বক্ষণ প্রায় ১৫ ওয়াটের মত বিদ্যূৎ খরচ হতে থাকে যেটা এনার্জি সেভিং বাতিতে হয় না। আর ইনক্যান্ডেসেন্ট বাতি বা বাল্বের চেয়ে শক্তি সাশ্রয়ের অন্যতম একটা কারণ হল উপজাত হিসেবে তাপ উৎপাদিত হয়ে অপচয় হয় না। একটা বাল্বের শতকরা প্রায় ৮০ ভাগ শক্তিই তাপশক্তি হিসেবে নষ্ট হয়, মাত্র ২০% শক্তি আলো উৎপাদন করে (আনুমানিক হিসাব)। এজন্যই ২০ ওয়াটের এনার্জি সেভিং বাতি থেকে ১০০ ওয়াটের বাল্বের সমান আলো দেয়।

প্রচলিত পদ্ধতিতে বিদ্যূৎ উৎপাদনে জীবাষ্ম জ্বালানী খরচ হয়। এই পদ্ধতিতেও কিন্তু উপজাত হিসেবে তাপ উৎপাদন হয়। এই তাপটুকু বাদ দিয়ে যদি এনার্জি সেভিং বাতির মত কোন উপায়ে বিদ্যূৎ উৎপাদন করা যেত তাহলেও হয়তো অনেক সাশ্রয় হত। একই ভাবে যদি কোনো উপায়ে গাড়ির ইঞ্জিনের উৎপাদিত তাপটুকু বাদ দিয়েই শুধুমাত্র গতিশক্তিটুকু পাওয়া যেত তাহলে কতই না শক্তি সাশ্রয় হত।

উপরের কল্পবিজ্ঞানের মত সাশ্রয়ের উপায় এখনও আবিষ্কৃত হয়েছে বলে শুনিনি .... এমনকি ইদানিংকার ফুয়েল সেল টেকনোলজিতেও প্রচুর তাপ উৎপাদিত হয়। তবে, বায়ুশক্তির সাহায্যে বিদ্যূৎ উৎপাদন বা সৌরবিদ্যূৎ উৎপাদনে তাপ উৎপাদিত হয় না। যা হোক এই রকম একটা তাপ অপচয় কমিয়ে সাশ্রয়ী উপায় থাকা সত্ত্বেও আমরা কেন জানি ঐ পথে ভুলেও যাই না। একটু ভেঙ্গেই বলি .. ... ....

সাধারণ প্রচলিত চূলাতে আগুনের শিখার তাপ অনেকটুকুই রান্নার কাজে না লেগে চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে। এই তাপ তথা জ্বালানী অপচয় রোধ করতে উন্নত চূলাগুলো এমনভাবে নকশা করা হয়েছে যে রান্নার সময় চারপাশ দিয়ে তাপ বেরিয়ে যেতে দেয় না, ফলে অপচয় কমিয়ে দেয় এবং জ্বালানী সাশ্রয় হয়। এই সাশ্রয়ী চূলা ব্যবহারের ফলে একটা পরিবারের জ্বালানী/লাকড়ির খরচ অর্ধেকেরও বেশি কমে যায় (তথ্যসূত্র )। অথচ, চারিপাশে কত হাজার হাজার গ্যাসের চূলায় এইরকম তাপ সাশ্রয়ের কোন চেষ্টাই করা হয় না।

সাধারণ গ্যাস বার্নারগুলোকে ওরকম জ্বালানী সাশ্রয়ী উন্নত চূলার মত উন্নতকরণের কোন গবেষণা হয়েছে কি না জানিনা। তবে না হয়ে থাকলে এই বিষয়ে কিছুটা নিরীক্ষা করা যেতে পারে। সেই নিরীক্ষার লক্ষ্য হতে পারে:

  • আদৌ এটা সম্ভব কি না সেটা নিশ্চিত করা,

  • সম্ভব হলে কতটুকু সাশ্রয় সম্ভব,

  • এর ফলে সারাদেশে দৈনিক কতটুকু জ্বালানী সাশ্রয় করা সম্ভব

আরেকটা উপকার হবে যে, এটার সফলতা জানলে এই ধরণের চূলা বায়োগ্যাস উৎপাদন ইউনিটের সাথে ব্যবহার করলে বায়োগ্যাস প্লান্টের কার্যদক্ষতা আগে বলা পরিমাণের চেয়ে অনেক বেড়ে যাবে।

যে সকল এলাকায় সিলিন্ডারের গ্যাস ক্রয় করে ব্যবহার করতে হয় সেসব এলাকার মানুষ সাশ্রয়ের জন্য প্রেশার কুকারে রান্না করেন /করতে পারেন। এতে প্রায় ২৫% জ্বালানী সাশ্রয় হয় (ভারতীয় টিভি বিজ্ঞাপনে এমনই বলে)। পাশাপাশি উন্নত তাপ অপচয়রোধী চূলা বানানো সম্ভব হলে আরো সাশ্রয় হবে। ফলে দেশের ক্ষয়িষ্ণু প্রাকৃতিক গ্যাস সাশ্রয় হবে ... ২০১১ সালে শেষ হওয়ার বদলে (এখন যেমনটি শোনা যায়) হয়তো এটা আরো দীর্ঘদিন ব্যবহার করা যাবে। পাশাপাশি তাপ অপচয় কমলে দুইভাবে বৈশ্বিক উষ্ণায়ণ কমানোতে ভূমিকা রাখবে:

  • এতে তাপ ছড়িয়ে পড়বে না বলে উষ্ণায়ন কম হবে।

  • জ্বালানী কম পোড়ানোর ফলে কম কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাস নির্গত হবে।

এর সাথে সাথে জৈব পদার্থ থেকে উৎপন্ন বায়োগ্যাস ব্যবহার বাড়ালে দুইভাবে উপকার হবে:

  • জীবাশ্ম জ্বালানীর মজুদের উপরে চাপ আরও কমে যাবে ... ফলে এটা আরও দীর্ঘদিন ব্যবহার করা যাবে।

  • প্রাকৃতিক উপায়ে জৈব পদার্থগুলো পচনের ফলে যে মিথেন গ্যাস উৎপন্ন হয় তা কার্বন ডাই-অক্সাইডের চেয়ে ৩০ গুণ বেশি বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ঘটায়। এগুলো ওভাবে পঁচতে না দিয়ে গ্যাস উৎপাদন করে সেই গ্যাস পুড়িয়ে ফেললে মিথেনের বদলে কার্বন ডাই-অক্সাইড উৎপন্ন হবে, ফলে বৈশ্বিক উষ্ণায়নের জন্য দায়ী গ্যাস নিঃসরণ কমে যাবে।

অর্থাৎ, আমাদের যেই প্রযুক্তিগুলো দরকার তা হলো:

  • জ্বালানী সাশ্রয়ী / তাপ অপচয়রোধী চূলা

  • রান্নার জন্য প্রেশার কুকার ব্যবহার করা

  • অধিক হারে বায়োগ্যাস ব্যবহার করা

[আমাদের প্রযুক্তিতে প্রকাশিত]

শামীম'এর ওয়েবসাইট

লেখাটি CC by-nc-sa 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন বর্ষণ (০৩-০৫-২০০৯ ০০:৪০)

Re: আমাদের তাপ সাশ্রয়ী প্রযুক্তি দরকার

শামীম ভাই সাথে আরেকটা লাগবে সেটা হল "আমাদের সচেতনতা"
আপনার পোস্টটা পড়ে ভাল লাগল।অনেক কিছু জানতে পারলাম।
ধন্যবাদ

Re: আমাদের তাপ সাশ্রয়ী প্রযুক্তি দরকার

"আমাদের সচেতনতা"

পৃথিবীর নিয়ম বড় অদ্ভুত বড়ই মজার .......