টপিকঃ কিছু ক্র্যসিং রোমাণ্টিকতা - ৬

আগেরগুলি পড়েছেন তো  confused


কিছু ক্র্যসিং রোমাণ্টিকতা

কিছু ক্র্যসিং রোমাণ্টিকতা - ২

কিছু ক্র্যসিং রোমাণ্টিকতা - ৩

কিছু ক্র্যসিং রোমাণ্টিকতা - ৪

কিছু ক্র্যসিং রোমাণ্টিকতা - ৫
*************************************************

বন্ধু মহল অনেক সময় খুব ভাল সাপোর্ট করে আবার মাঝে মাঝে উদ্ভট কান্ডকারখানা ও করে  angry angry যার কারনে মাঝে মাঝে ইচ্ছে করে এইসব দোস্ত গিরি ছাইরা সাধু হউন ও ভালা  hairpull hairpull । কেউ কেউ তো আবার জিন্দেগি তামা তামা করিয়া ফেলেন । তবে সবাই যে এক ধরনের নয় তা বুঝতে সময় নেয় smilesad হতে পারে সেটা হারাবার আগে আবার হতে পারে হারাবার পরে ।



(নামটি এখন বলতে ইচ্ছে করছে না তাই ধরে নিন কিছু একটা ) - ক্র্যসিং




http://4.bp.blogspot.com/-3vb-tFmqkiQ/TjO8J-VWzOI/AAAAAAAAAG0/3qyGDpfkuWs/s1600/Cute_Baby+%25281%2529.jpg


মেঘলার সাথে আমার ব্রেকাপ ব্রেকাপ গেম চলছে । এই মেয়েটারে মাঝে মাঝে ইচ্ছে করে ধরে দিই এক আছাড় । কিন্তু তাতে ও লাভ কি sad , বেচারী একটু টু শব্দ ও করবে না এটা আমি জানি । ওর ছোট বোন পর্যন্ত বলেছে আমাকে

- ভাইয়া ও আর আমি এক সাথেই ঘুমাই , আমি অনেক চেস্টা করেছি তুমার ব্যপারে জানতে কিন্তু একটু ও শেয়ার করে না ।

- এইটা কি তোর বইন ? সত্যি কইরা ক তো এমুন মানুষ আছে নাকি বৃষ্টি  sad

- কি জানি ভাইয়া আমি তো ট্রাই করেই যাচ্ছি ।

মেঘলার স্বভাব হচ্ছে অন্য সবার চেয়ে আলাদা । কেটে দুই টুকরা করে ফেলো বাট নাছোড়বান্দা এক চুল ও টু শব্দটি করবে না । আমি কত চেস্টা করেছি ।

- এই তুমি কি আমায় ভালবাসো ? বলনা একবার ভালবাসি  blushing

- কি মনে হয় ?

- মনে তো হয় কিন্তু তোমার মুখে শুনতেই ভাল লাগে , বলনা প্লিজ

- কেন জুইয়ের সামনে গেলে মনে থাকেনা এই কথা

- তোমার আমার মাঝে জুইরে আনো কেন ? ঐ তো পাশের বাড়ির মেহমান তার সাথে আমার আবার কি ?

- মেহমান না ? গলায় যখন বাঁশ ঠেকে তখন তো ঠিকই পানির জন্য ঐ বাড়িই যাও

- আরে ঐ দিন তো খেলা শেষে এত তেস্টা পেয়েছিল যে সামনেই ওদের বাড়ি , তাই ফ্রিজের পানির জন্য গিয়েছিলাম আর আমি কি একাই খাইছি নাকি , আজব

- বাহানা না করলে ও পারেন । যান গলায় তেস্টা মেটান যান ।

মেয়েটাকে একটা কথা কিছুতেই বোঝানো যায় না । আরে বাবা আমি তো তোমাকেই ভালবাসি কিন্তু সেও জানি কেমন । সারাদিন চোখে চোখে রাখলে এই ভাবে চলা যায় ধুর এর চেয়ে ব্রেকয়াপ ই ভালা  sad । তবে একটা জিনিস শিখে গেছি আমি । খুব আপন হলে মেঘলা আমাকে তুমি থেকে তুইয়ে চলে আসবে আর রেগে গেলে আপনিতে চলে যাবে ।
যখন ওর সাথে আমি কথা বলা বন্ধ করে দিই ও শুধু আমাকে চেয়ে চেয়ে দেখত । একটা দৃশ্য এখন ও আমার মনে গেধে রয়েছে । তখন মনে হয় ওদের নবম শ্রেনীর প্রথম সাময়িক চলছে । ও দোতালায় আর আমি রাস্তায় দাঁড়িয়ে বন্ধুদের সাথে মশগুল । এক ফ্রেন্ড আমাকে দেখিয়ে বলল -

- দেখ ঐ মেয়েটা একপলকে তোর দিকে সেই কখন থেকে তাকিয়ে আছে

আমি ও সেই দিকে তাকিয়ে দেখলাম ওর চোখ যেন ও কিছু বলতে চাইছে । ঘন্টার আওয়াজ পড়ে গেলো তারপর ও একটু ও নড়ল না এক দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকিয়ে রইলো । আমি ওর কস্ট টা বুঝতে পারলাম কিন্তু কিছু করার নেই কাছে গেলে শুধু সন্দেহ আর দূরে থাকলে বিরহ । আমি বুঝিনা ও কেন আমাকে বলেনা - আকাশ তুমি কেন এতটা পাষাণ ?



http://profile.ak.fbcdn.net/hprofile-ak-snc4/274673_100002672510209_1262890254_n.jpg


স্কুলের পাশেই একটা বাড়িতে অপরূপ একটা সুন্দরী  love বাস করিত । মেয়েটা আমার ছোট বোনের ক্লাসমেট ছিল । আমি জানতাম ই না যে ও আমার ছোট বোনের সাথে পড়ে । আমার নজরে ছিল মেয়েটা বাট আমি এরকম ভাবে কখন ও ভাবি নাই । মেঘলাকে রাগানোর জন্য ঐ মেয়েটাকে নিয়ে একটা প্লান একে ফেললাম । প্লানটা শুধুমাত্র একটা ফ্রেন্ড এর সাথে শেয়ার করলাম । এছাড়া তখন আমার মনে একটা জিদ চেপে গিয়েছিল - মেয়েরা সর্বদা ছেলেদেরকেই কেন হার্ট করবে ? ছেলেরা কি পুতুল নাকি । মজার কান্ডটা এমনিতেই ঘটে গেলো । একদিন কলেজে যাবার সময় মেয়েটা উচ্চস্বরে পড়ছিল । আমি বাইরে থেকে দেখলাম , কিন্তু কিছু বললাম না । পরেরদিন আবার সেই চোখাচুখি হয়ে গেলো । একদিন একটা এডবাইস দিয়েই ফেললাম এবং সেইদিন ই উপল্পব্দি করতে পেরেছিলাম যে সুন্দর সবার মাঝেই একটা খুত থাকেই যা উপরওয়ালার একটা গিফট  brokenheart



৭ বোন এবং একটি মাত্র ভাই নিয়ে ওদের পরিবার ছিল । দুই বোন ঢাকায় থেকে পড়াশুনা করত এবং বাকিরা দেশেই থাকত । বাবা ছিলেন সরকারি পি , ডব্লিউ এর একজন সামান্য কর্মচারী ( উনি বর্তমানে বেঁচে নেই আল্লাহ্‌ উনাকে বেহেশত নসিব করুক)। ওরা ঈদে চান্দে দেশের বাড়ি চলে যেত । একদিন মেয়েটাকে ডেকে বললাম - দেখো তুমি যে এত জোরে জোরে পড় তাতে কি তোমার পড়া মনে থাকে আর আশেপাশে যারা আছেন তাদের ও তো ডিস্ট্রাব হয় । পড়তে হলে রাত্রে নিরিবিলিতে কন্সান্ট্রেন্ট করে পড়বে smile দেখবে সব মনে থাকবে । আমার কথা বলার ধরন দেখে মেয়েটা যে পুলকিত হয়েছে সেটা আমি নিশ্চিত big_smile তার মানে মাছ টোপ গিলছে । কিন্তু মেয়েটার উত্তর শুনে আমি আসমান ভাইঙ্গা পড়ে গেলাম ।

- ঠিক আছে ভাইয়া আই চেস্টা করুম । আন্নের এডভাইস রাখনের জন্য ।

বলে কি তার মানে ওরা নোয়াখালি গ্রহের প্রানি surprised । আমি চেয়ে চেয়ে ভাবলাম যদি আম্মু টের পায় তাইলে  hairpull hairpull । নাহ ওকে আর ঘাটানো ঠিক হবে না । আমি খেয়াল করেছি মেয়েটা আমাকে রাস্তায় বা আশে পাশে দেখলেই কথা বলতে আসত কিন্তু ওর কথার ছিড়ি দেখলে আমার মাথার তার ছিড়ড়া যাইতো । সে দেখতে খুবই সুন্দরী ছিল কিন্তু কথায় আঞ্চলিক টান থাকার দরুন সে চেস্টা করত ভালভাবে  কথা বলার এবং সেটাই কাল হয়ে দাঁড়াত ।





মেঘলা বিকেলে হাটাহাটির জন্য বেরুতেই আমি ও মুচকি একটা হাসি দিতাম বাট সেই মুখটার এমুন একটা বাকা চাঁদ বানিয়ে ভেংচি কাটত যা দেখলে কান্না পেতো । ঠিক সেই সময়েই ঐ মেয়েটা ও বের হয়ে আসত এবং এই সুযোগে আমি ও একটা হাসি দিতাম ঐ মেয়েটাকে big_smile । মেঘলা ভয়ঙ্কর রুপে আমার আর ঐ মেয়ের প্রতি ফ্লাটারিং দেখতো বাট কিছু বলতো না ,আমার মনে হত ও  মনে মনে বলছিল  - কর বাপ দেখি তোর কেমন ক্ষমতা । tongue_smile


আমি দিন দিন অধৈর্য হয়ে পড়ছিলাম এবং সেই দিকে অপরূপ মেয়েটা ও আমার হাসি দেখে মনে মনে স্বপ্ন বুনতে শুরু করে দিয়েছিল । একবার ঈদে ওদের সবাই বাড়িতে যাবার প্লান করল কিন্তু ঐ মেয়েটা কিছুতে যাবে না । অনেক তাল বাহানা করে  ও ঢাকায় ই একলা থেকে গেলো । আমার মনে আছে ওর কি জানি একট অসুখ  ছিল ঠিক শ্বাসকষ্ট জনিত কিছু একটা । তার বাবা দেশে যাবার আগের দিন আমার  আম্মুকে বলে গিয়েছিল যেন একটু খেয়াল রাখে এবং বড় আদরের একমাত্র মেয়েকে একলা ফেলে যাচ্ছে তার জন্য ও মন খারাপ হয়ে গিয়েছিল আঙ্কেলের । আম্মু আশ্বস্ত করলেন এবং আংকেল ঈদের পরেরদিন ই ঢাকায় রিট্রান আসার আশ্বাস ও আম্মুকে দিলেন ।


ইদের দিন নামাজ পড়ে এসে দেখি এক বাটি সেমাই । আমার আবার খুব খুব প্রিয় সেমাই । আমি খেতে খেতে আম্মুকে বললাম কে বানাইছে মা তুমি । আম্মু চোখ গরম করে আমার দিকে তাকিয়ে রইলো । আমি বুঝলাম না কেন আমারে এমন গরম  ভাব দেখাইবেন । সঙ্গে সঙ্গে ঐ মেয়েটা এসে হাজির ।

- আকাশ ভাইয়া সেমাই কেমন লাগল ?

আমার চোখ তখন ও আম্মুর চোখের দিকে । আমার মা সবই বুঝেন এবং আমি তো তারই পোলা সেই জন্য মনে হয় বেশি বেশি বুঝেন । আমি শুধু মুখের সেমাই টাকে " ওক " করে কনমতে ঢোক গিলে বললাম -

- এইটা তুমি বানিয়েছ নাকি ? বাহ খুব ভালো হয়েছে

- ভাইয়া বিকালে আমাকে ঘুরতে নিয়ে যাবেন ?

- দেখি যদি সময় পাই অবশ্যই নেব ঠিক আছে এখন যাও 

মেয়েটা চলে গেলে আম্মু আমাকে কিছুই বলল না । তবে কিছু একটা যে ভেবেছেন এইটা শিউর । আমি পরে জানতে পেরেছিলাম যে আম্মু কি ভাবছিলেন । কেন মেয়েটা একা ঢাকায় থেকে গেলো ? কেন সে আমাদের বাড়িতে ঘন ঘন আসা যাওয়া করছে ? কেন সে সেমাই তৈরি করল ? আবার এর মদ্ধ্যে নাকি আমার আম্মুকে সে আন্টি না বলে আম্মু বলতে বেশি পছন্দ করে সেই প্রয়াস ও ব্যক্ত করেছেন  tongue_smile tongue_smile

এক মার এক পুত্র আমি , লায় দিয়া দিয়া মাথায় উঠাইছে । বিচার হবে আমার এবং তার জন্য আমার বড় আপুই যথেষ্ট । উফফ বড় আপু অনেক কোয়েচ্চেন করে  hairpull hairpull যার কোন ও আগা মাথা নেই । আমি ভাবতেছিলাম যে আজ হয়ত কিছু একটা ঘটবে বাট আমিও  পালিয়ে কনরকম বেড়িয়ে এলাম । সেইদিন বন্ধুধের সাথে এতটাই মশগুল ছিলাম যে ঐ মেয়েটাকে বিকেলে ঘুরতে নিয়ে যাবার কথা ভুলেই গেলাম ।


চলবে .................

নিবন্ধিতঃ১১/০৩/২০০৯ ,নিয়মিতঃ১০/০৩/২০১১, প্রজন্মনুরাগীঃ১৯/০৫/২০১১ ,প্রজন্মাসক্তঃ২৬/০৯/২০১১,
পাঁড়ফোরামিকঃ২২/০৩/২০১২, প্রজন্ম গুরুঃ০৯/০৪/২০১২ ,পাঁড়-প্রাজন্মিকঃ২৭/০৮/২০১২,প্রজন্মাচার্যঃ০৪/০৩/২০১৪।
প্রেম দাও ,নাইলে বিষ দাও

Re: কিছু ক্র্যসিং রোমাণ্টিকতা - ৬

মেঘলা, জুই dream
আকাশ ভাইয়া সেমাই কেমন লাগল big_smile

Seen it all, done it all, can't remember most of it.

লেখাটি CC by-nc-sa 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

Re: কিছু ক্র্যসিং রোমাণ্টিকতা - ৬

ধুর মিয়া ছ্যাচড়ামি পড়তে মন চায়না কামের কিছু লেখেন   tongue

Rhythm - Motivation Myself Psychedelic Thoughts

লেখাটি CC by 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

Re: কিছু ক্র্যসিং রোমাণ্টিকতা - ৬

জেমস বন্ড ভাইয়ের লাইফ তো হিংসনীয়!

roll

Re: কিছু ক্র্যসিং রোমাণ্টিকতা - ৬

আহমাদ মুজতবা লিখেছেন:

ধুর মিয়া ছ্যাচড়ামি পড়তে মন চায়না কামের কিছু লেখেন   tongue

অমি কি বললা ছ্যাচড়ামি......... হি হি হি

আমিও বলি ওই মিয়া কামের কিছু লেখ........

নতুন পণ্ডিত লিখেছেন:

জেমস বন্ড ভাইয়ের লাইফ তো হিংসনীয়!

পন্ডিত ভাইয়াও কি এরকম হতে চাও নাকি? আজব..............

জাযাল্লাহু আন্না মুহাম্মাদান মাহুয়া আহলুহু......
এই মেঘ এই রোদ্দুর

Re: কিছু ক্র্যসিং রোমাণ্টিকতা - ৬

অমিত ০০৭ লিখেছেন:

মেঘলা, জুই dream
আকাশ ভাইয়া সেমাই কেমন লাগল big_smile

ধুর মিয়া তুমি কাঁটা ঘায়ে নুন দিবার চেস্টা করছ কেন  angry angry

আহমাদ মুজতবা লিখেছেন:

ধুর মিয়া ছ্যাচড়ামি পড়তে মন চায়না কামের কিছু লেখেন   tongue

হাফ-লেডিসদের এর চেয়ে বেশি ছ্যাচড়ামি দিতে পারলাম না বলে দুঃখিত  hehe hehe

সবুরে মেওয়া ফলে আর সব কথা কি এই প্রজন্মে বলা যায় নাকি - ঠোঁটের কসম  tongue_smile

নতুন পণ্ডিত লিখেছেন:

জেমস বন্ড ভাইয়ের লাইফ তো হিংসনীয়!

ঐ মিয়া আস্তে শরম লাগে  blushing blushing

নিবন্ধিতঃ১১/০৩/২০০৯ ,নিয়মিতঃ১০/০৩/২০১১, প্রজন্মনুরাগীঃ১৯/০৫/২০১১ ,প্রজন্মাসক্তঃ২৬/০৯/২০১১,
পাঁড়ফোরামিকঃ২২/০৩/২০১২, প্রজন্ম গুরুঃ০৯/০৪/২০১২ ,পাঁড়-প্রাজন্মিকঃ২৭/০৮/২০১২,প্রজন্মাচার্যঃ০৪/০৩/২০১৪।
প্রেম দাও ,নাইলে বিষ দাও