টপিকঃ মিশরে ফুটবল মাঠে সংঘর্ষ, নিহত ৭৪ ও আহত শতাধিক

একটু আগেই একটা দোকানের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম, তখন দেখি সবাই টিভির দিকে ভিড় জমিয়ে রাখসে। আমি আবার ভাবলাম নিশ্চয় কোন খেলা চলছে। কিন্তু পড়ে দেখি না, কাহিনী অন্য কিছু। পরে বাসায় এসে কম্পুতে ঘাটাঘাটি করলাম।আর যা পেলাম তা নিচে শেয়ার করলাম। 

মিসরের পোর্ট সৈয়দ শহরের একটি স্টেডিয়ামে গতকাল বুধবার রাতে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে দুই দলের সমর্থকদের সংঘর্ষে ৭৪ জন নিহত হয়েছে। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কর্মকর্তারা। এ ঘটনায় আহত হয়েছে সহস্রাধিক। স্বাস্থ্য উপমন্ত্রী হিশাম শিহা এ ঘটনাকে দেশটির ফুটবল ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বিপর্যয় বলে মন্তব্য করেছেন।
বিবিসির খবরে বলা হয়, রাজধানী কায়রোর ২০০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বের এ শহরের একটি স্টেডিয়ামে গতকাল বুধবার রাতে ক্লাব পর্যায়ের আল-আহলি ও আল-মাসরি দলের মধ্যে খেলায় স্বাগতিক মাসরি দল ৩-১ গোলে জয়ী হয়। খেলা শেষে দুই দলের ক্ষুব্ধ সমর্থকেরা চারপাশের গ্যালারি থেকে দৌড়ে মাঠে নেমে অতর্কিতে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। বিশেষ করে বিজয়ী দলের সমর্থকেরা আহলির সমর্থকদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। এ সময় অনেক সমর্থককে ছুরি, বোতল, পাথর হাতে দেখা যায়।
মিসরের সেনাশাসিত কাউন্সিলের প্রধান ফিল্ড মার্শাল মোহামেদ তানতাবি বলেন, যেকোনো উপায়ে এ ঘটনায় দায়ীদের চিহ্নিত করে শাস্তি দেওয়া হবে। মুসলিম ব্রাদারহুড এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেছে, কর্তৃপক্ষ সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার দেশটির পার্লামেন্টের সদস্যরা এ ঘটনা নিয়ে জরুরি বৈঠকের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ফিফার সভাপতি সেপ ব্লাটার এক বিবৃতিতে জানান, এ ঘটনায় তিনি ভীষণ মর্মাহত। তিনি বলেন, ফুটবলের জন্য এটি ছিল কালো দিবস।
সিএনএনের খবরে বলা হয়, অনেক সমর্থককে গ্যালারিতে অগি ্নসংযোগ করতেও দেখা যায়। আতঙ্কে দিগ্বিদিক ছুটতে থাকে দুই দলের সমর্থকেরা।
প্রতিপক্ষ সমর্থকের হামলায় মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত আমর খামিস নামের আল-আহলি দলের এক সমর্থক বলেন, ‘আল-মাসরি দলের উচ্ছৃঙ্খল সমর্থকদের কবল থেকে পুলিশ আমাদের মুক্ত করে। মাসরির অনেক সমর্থকের হাতে ছিল পাথর, কাচের বোতল, ছুরি ও তলোয়ার। কারও হাতে পিস্তলও দেখা যায়।’ আল-আহলি সমর্থক দলের নির্বাহী ব্যবস্থাপক মামদুহ ঈদ বলেন, এ সংঘর্ষের পেছনে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের ইন্ধন ছিল। তিনি পুলিশের নীরব ভূমিকা ও দেরিতে অ্যাম্বুলেন্স আসায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। পুরো খেলা জুড়েই উত্তেজনা বিরাজ করছিল।
মিসরের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জেনারেল মারওয়ান মুস্তাফা বলেন, সংঘর্ষের পর অন্তত ৪৭ জন গ্রেপ্তার হয়েছে। মামদুহ ঈদ বলেন, সংঘর্ষ চলাকালে স্টেডিয়ামে প্রায় ২২ হাজার দর্শক ছিলেন। প্রতিপক্ষ সমর্থকের পিটুনি ও ছুরির আঘাতে বেশির ভাগ দর্শক নিহত হন। মিসরের সেনাবাহিনীর পাঠানো দুটি বিশেষ বিমানে আল-আহলির খেলোয়াড় এবং কিছু আহত সমর্থককে কায়রো নিয়ে যাওয়া হয়।
কায়রোতে আহলির দপ্তরে সমর্থকেরা জড়ো হয়ে এ সংঘর্ষের প্রতিশোধ নেবে বলে চিত্কার করে। এ সময় তারা সেনাশাসনের অবসানের জন্য স্লোগান দেয়।
একই সময় কায়রোতে আরেকটি ফুটবল ম্যাচ চলছিল। পোর্ট সৈয়দের স্টেডিয়ামের সংঘর্ষের খবর ছড়িয়ে পড়লে ম্যাচটি স্থগিত ঘোষণা করেন রেফারি। উত্তেজিত দর্শকদের একাংশকে তখন গ্যালারিতে অগ্নি সংযোগ করতে দেখা যায়।
উল্লেখ্য, গত এক বছর ধরে উত্তর আফ্রিকায় রাজনৈতিক অস্থিরতা চলাকালে বিভিন্ন দেশের ফুটবল ম্যাচে প্রায়ই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে। বিবিসি, সিএনএন ও রয়টার্স।

সুত্রঃ প্রথম আলো

আরও কিছু খবর পাবেন এখানেঃ

ঘটনার ছবি
সিএনএন
বিবিসি
গুগল নিউজে সব একত্রে
ঘটনার ভিডিও চিত্র

Re: মিশরে ফুটবল মাঠে সংঘর্ষ, নিহত ৭৪ ও আহত শতাধিক

দুঃখজনক।
মিশরীর অধিকাংশ পাবলিকই উগ্র পন্থী, যারা গালফে কাজ করেন বা  আছেন, আশা করি তারা ভাল করেই জানেন।
তবে ব্যাতিক্রম ও আছে, আমার মালিকের সাথে পরামর্শ করে আমি একজন মিসরী কে আমাদের কোম্পানীর প্রধান ফোরম্যান করে দিয়েছি। কারণ লোকটা আসলেই খুব ভাল যদিও সে মিশরের অধিবাসী।

রক্তের গ্রুপ AB+

microqatar'এর ওয়েবসাইট

লেখাটি GPL v3 এর অধীনে প্রকাশিত

Re: মিশরে ফুটবল মাঠে সংঘর্ষ, নিহত ৭৪ ও আহত শতাধিক

দুখজনক ঘটনা আর নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা রইল