সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন ইলিয়াস (১৭-১২-২০১১ ১১:৫৪)

টপিকঃ সীরাতুন্নবী (সাঃ)-৩৯ (ওমর (রা) এর ইসলাম গ্রহণ-৩)

আগের পর্বঃ সীরাতুন্নবী (সাঃ)-৩৮ (ওমর (রা) এর ইসলাম গ্রহণ-২)

হযরত ওমরের ইসলাম গ্রহণের পর পৌত্তলিকদের অবস্থা ছিল এরূপ, যা উপর উল্লেখ করা হয়েছে। মুসলমানদের অবস্থার ধারণা এ ঘটনা থেকেই অনুমান করা যায়। মোজাহেদ হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আমি ওমর ইবনে খাত্তাবকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম যে, কি কারনে আপনার উপাধি ফারুক হয়েছে? তিনি বললেন, আমার ইসলাম গ্রহণের তিন দিন আগে হযরত হামযা (রা) ইসলাম গ্রহণ করেন। এরপর হযরত হযরত ওমর হযরত হামযার ইসলাম গ্রহনের ঘটনা বর্ণনা করার পর বলেন, এরপর আমি ইসলাম গ্রহণ করে প্রিয় নবী রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বললাম, হে আল্লাহর রাসূল, মরে যাই বেচেঁ থাকি, আমরা কি হক-এর ওপর বিদ্যমান নেই? রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, কেন নয়? সেই সত্বার শপথ, যার হাতে আমার প্রাণ রয়েছে, তোমরা বেচেঁ তাকো বা মরে যাও, নিশ্চয়ই তোমরা হক-এর ওপর রয়েছো। হযরত ওমর (রা) বলেন, এরপর আমি বললাম, তাহলে আমরা কেন পালিয়ে বেড়াবো? সেই সত্বার শপথ, যিনি আপনাকে সত্যসহ প্রেরণ করেছেন, নিশ্চয়ই আমরা বাইরে বের হবো। এরপর আমরা দুই কাতারে বিভক্ত হয়ে মিছিল করে আল্লাহর রসূলকে সঙ্গে নিয়ে বাইরে বের হলাম। এক কাতারে ছিলেন হযরত হামযা, অন্য কাতারে আমি। আমাদের চলার পথে যাঁতার পেষা আটার মতো ধূলো উড়ছিলো। আমরা মসজিদে হারামে প্রবেশ করালাম। হযরত ওমর (রা) বলেন, কোরায়শরা আমাদের দেখে মনে এতোবড় কষ্ট পেলো, যা ইতিপূর্বে পায়নি। সেই দিন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে ফারুক উপাধি দিলেন।

হযরত ইবনে মাসউদ (রা) বলেন, এর আগে আমরা কাবাঘরের কাছে নামায আদায়ে সক্ষম ছিলাম না।
হযরত যোহায়ের ইবনে সেননা রূমী (রা) বলেন, হযরত ওমর ফারুক (রা) মসুলমান হওয়ার পর ইসলাম পর্দার বাইরে এলো এবং ইসলামের দাওয়াত প্রকাশ্যে দেয়া শুরু হলো। আমরা কাবাঘরের সামনে গোল হয়ে বসতে লাগলাম এবং কাবাঘর তওয়াফ করতে লাগলাম।

যারা আমাদের ওপর বাড়াবাড়ি করেছিলো, তাদের ওপর প্রতিশোধ নিলাম এবং অত্যাচারের জবাব দিলাম।
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা) বলেন, হযরত ওমরের ইসলাম গ্রহণের পর থেকে পরবর্তীকালে আমরা শক্তিশালী এবং সম্মানিত ছিলাম।
হযরত হামযা ইবনে আবদুল মোত্তালেব এবং হযরত ওমর ইবনে খাত্তাব(রা) এর ইসলাম গ্রহণের পর মুসলমানদের ওপর পাইকারি নির্যাতন কমে গেলো, বুদ্ধি-বিবেচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্যে পৌত্তলিকরা উদ্যোগী হলো। তারা চিন্তা করেছিলো যে, ইসলামের দাওয়াত দেয়ার মাধ্যমে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যা পেতে চান, সেই প্রাপ্তি সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে তা পূরনের মাধ্যমে তাঁকে হয়তো তার কাজ থেকে বিরত রাখা যাবে। কিন্তু তারা জানতো না রসূলে খোদার দ্বীনের দাওয়াতের মোকাবেলায় সমগ্র বিশ্বজগতও সম্পর্ণ মূল্যহীন। কাজেই, তাদের চেষ্টায় তারা স্বাভাবিকভাবেই ব্যর্থ হলো।
ইবনে ইসহাক ইয়াজিদ ইবনে যিয়াদের মাধ্যমে মোহাম্মদ ইবনে কা’ব কারাযির এই বর্ণনা উদ্ধৃত করেছেন যে, আমাকে জানানো হয়েছে, কওমের নেতা ওতবা ইবনে রবিয়া স্বজাতীয়দের সামনে একদিন নতুন একটা প্রস্তাব দিলো। সে সময় রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মসজিদে হারামের এক জায়গায় একাকী ছিলেন। ওতবা বলললো, মোহাম্মদের সাথে আলোচনা করে এর ব্যব্স্থা নাও। তার সামনে কয়েকটা প্রস্তাব পেশ করো, হয়তো তিনি কোন একটা প্রস্তাব মেনে নিবেন। তিনি যে দাবী করবেন, সেই দাবী আমরা পূরণ করবো। হামযা (রা)-এর ইসলাম গ্রহনের পর মসুলমানদের শক্তি বৃদ্ধি দেখে তারা নিজেদের মধ্যে পরামর্শ করলো।

কোরয়শরা বললো, আবুল ওলীদ তুমি যাও, তুমি গিয়ে তাঁর সাথে কথা বলো। এরপর ওতবা উঠে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে বসলো। ওতবা বললো, ভাতিজা, আমাদের কওমের মধ্যে তোমার যে মর্যাদা রয়েছে, সে কথা সবাই জানে। তুমি উচ্চ বংশের মানুষ। তুমি এমন একটা বিষয় প্রচার করছো যার কারনে কওমের মধ্যে বিভেদ, বিশৃঙ্খলা ও অনৈক্য দেখা দিয়েছে। তুমি কওমের নেতৃস্থানীয় লোকদের বুদ্ধিমত্তাকে নির্বুদ্ধিতা বলে অভিহিত করছো। তাদের উপাস্যকে নানাভাবে সমালোচনা করছো, তাদের ধর্ম বিশ্বাসকে বাতিল করে দিচ্ছো, তাদের পূর্ব-পুরুষদের কাফের বলে অভিহিত করছো। আমার কথা শোনো, আমি তোমাকে কয়েকটি প্রস্তাব দিচ্ছি তুমি এসব প্রস্তাব সম্পর্কে চিন্তা করো। হয়তো যে কোন একটা প্রস্তাব তোমার কাছে গোহণযোগ্য হবে।রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, বলো আবুল ওলীদ, আমি শুনবো।

ওতবা ওরফে ওলীদ বললো,ভাতিজা, তুমি যা প্রচার করছো, যদি এর বিনিময়ে ধন-সম্পদ চাও তবে আমরা তোমাকে এতো ধন-সম্পদ দেবো যে, তুমি হবে আমাদের মধ্যে সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি। যদি তুমি মর্যাদা চাও, তাও বলো, আমরা তোমাকে আমাদের নেতা হিসাব বরণ করে নিবো। তোমাকে ছাড়া কোন ফয়সালা করা হবে না। যদি তুমি বাদশাহ হতে চাও তাও বলো, আমা তোমাকে বাদশাহ হিসাবে মেনে নিবো। যদি তোমার কাছে আসা জিনিস জ্বীন ভূত হয়ে থাকে, তাও বলো, তুমি দেখো, অথচ তাড়াতে পারছো না, আমরা চিকিৎসার ব্যবস্থা করবো। যত টাকা লাগে লাগুক, আমরা তোমাকে চিকিৎসা করবো। কখনো কখনো এমন হয় যে, জ্বিন ভূতেরা মানুষের ওপর প্রভাব বিস্তার করে রাখে, সে অবস্থায় মানুষের চিকিৎসার প্রয়োজন দেখা দেয়।


{চলবে}

প্রথম প্রকাশ

Re: সীরাতুন্নবী (সাঃ)-৩৯ (ওমর (রা) এর ইসলাম গ্রহণ-৩)

হুম এই পর্বের ঘটনা অজানা ছিল, এখন জানা গেল ধন্যবাদ শেয়ার করার জন্য  thumbs_up

۞ بِسْمِ اللهِ الْرَّحْمَنِ الْرَّحِيمِ •۞
۞ قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ ۞ اللَّهُ الصَّمَدُ ۞ لَمْ * • ۞
۞ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ ۞ وَلَمْ يَكُن لَّهُ كُفُوًا أَحَدٌ * • ۞

Re: সীরাতুন্নবী (সাঃ)-৩৯ (ওমর (রা) এর ইসলাম গ্রহণ-৩)

মিলাদুন্নবী  ,

আমার ওয়েব সাইট এ আপনাকে নিমন্ত্রন  এখানে  শিক্ষা এবং তথ্য এখানে বই , ইসলামিক, কবিতা এবং জোকস এখানে সফটওয়্যার এবং গেইম এখানে গান, ছবি এবং ভিডিও এখানে আমার নতুন ব্লগ

সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন শান্ত বালক (১৭-১২-২০১১ ২১:০৩)

Re: সীরাতুন্নবী (সাঃ)-৩৯ (ওমর (রা) এর ইসলাম গ্রহণ-৩)

সাইদুল ইসলাম লিখেছেন:

হুম এই পর্বের ঘটনা অজানা ছিল, এখন জানা গেল ধন্যবাদ শেয়ার করার জন্য  thumbs_up

আসলেই জানা-অজানা ঘটনাগুলি বিস্তারিত জানা হচ্ছে। সেই সুযোগটি তৈরী করায় ইলিয়াস ভাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ। আগামী পর্বের অপেক্ষায় রইলাম।

Re: সীরাতুন্নবী (সাঃ)-৩৯ (ওমর (রা) এর ইসলাম গ্রহণ-৩)

ধন্যবাদ শেয়ার করার জন্য ইলিয়াস ভাই thumbs_up thumbs_up

Re: সীরাতুন্নবী (সাঃ)-৩৯ (ওমর (রা) এর ইসলাম গ্রহণ-৩)

ধন্যবাদ সবাইকে ।  hug

Re: সীরাতুন্নবী (সাঃ)-৩৯ (ওমর (রা) এর ইসলাম গ্রহণ-৩)

ভাল লাগল ভাইজান । ধন্যবাদ আপনাকে

জাযাল্লাহু আন্না মুহাম্মাদান মাহুয়া আহলুহু......
এই মেঘ এই রোদ্দুর