সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন দ্যা_থটমেকার (২৩-০৭-২০১১ ০২:৩৮)

টপিকঃ একটি শর্ট লাভ স্টোরী (আমার আর্কাইভ থেকে) সেমি-ফাইনাল খন্ড

ভাই, যদি আগের খন্ড গুলো না পড়ে থাকেন এই খন্ড পড়ে মজা পাবেন কিন্তু কিছুই বুঝবেন না। তাই আগে ১ আর ২ পড়ে আসেন। আর যারা পড়ছেন তারা এই কথা পড়ে টাইম নষ্ট করতেছেন কেন...... স্টোরীতে চলে যান  mail  !!!
------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------

জুয়েল আমার বুকে ঝাপাইয়া পইড়া ভ্যা ভ্যা কইরা কান্দা ধরল। আমি আর কি করি  worried । মাথায় হাত বুলায় দিইয়া কইলাম “আরে এতো ভাইংগা পড়িস না। কি হইছে আমারে বল” । তার পরে জুয়েল কান্না থামাইয়া তাহার কাহিনীর বয়ান শুরু করিল......

জুয়েল আর  ফারজানা বাচ্চা-কাল থেকেই প্রেমিক-প্রেমিকা  surprised (ভাই, এইডা কইলে আমার কথা না জুয়েলের কথা  whats_the_matter )। সম্প্রতি ফারজানা মোবাইল  নিছে। সেই মোবাইলে জুয়েল ফোন দিইয়া প্রায়ই ফোন বিজি, ওয়েটিং পাইতো। জুয়েল অরে সব কোম্পানীর একটা করে সিমকার্ড কিনে দিছে। যার ফলে কখনো এই নাম্বার কখনো সেই নাম্বার.....
কখনো ফারজানার ফুপাতো ভাইয়ে কল করে আবার কখনো খালাতো ভাই। এত্ত ঝামেলা কার সহ্য হয় বলেন  angry  ! তাই জুয়েল একদিন রাগের মাথায় , বেশী না অল্পএকটু  গালি দিছে। তারপর দুই দিন মেয়ে জুয়েলের ফোনই ধরেনি । জুয়েল কোনোভাবে যোগাযোগ করতে না পেরে ফারজানার মেসের সামনে গিয়া উপস্থিত হয়।

অত:পর “ফারজানা.... ফারজানা.... ওই ছেমড়ি.....” বইলা লাউড ভলিউমে ডাকাডাকি করে। এর পরও কোন রিপ্লাই না আসাতে জুয়েল ভাইয়ের মাথার চান্দির টেমপারেচার বিপদ সীমারে ক্রস কইরা ফেলায়  dontsee ।  পাসপোর্ট-ভিসার তোয়াক্কা কইরা সোজা জুয়েল মহিলা-মেসের মধ্যে ঢুইকা পড়ে।  ফারজানার রুমের সামনে গিয়া দরজার উপর কিল-ঘুষি মারা শুরু করে। মেসের আয়া’রা এই ঘটনায় হতভম্ব হয়ে পরে। তাদের মাথায় কেমুন করে যেন পুলিশের কথা চলে আসে। আর এইবার পুলিশ বাংলা সিনেমার মত করে নয় হলিউডি ছবির নিয়মানুযায়ী পাচঁ মিনিটের মাথায় উপস্থিত হয়। জুয়েলের ভাষায় পুলিশের বক্তব্য এমন..

পুলিশ: এই যে ভাই হ্যালো..... ফারজানা নামে তো কেউ এই মেসে  নাই। আপনি খামোকা চিল্লাইয়া এনার্জি ক্ষয় করতাছেন ক্যান  mad ?
জুয়েল: কি , ফারজানা নামে কেউ মেসে নাই? ও আচ্ছা সরি... আমি বোধহয় ভুল মেসে চলে আসছি  blushing
পুলিশ: আপনি মেয়েদের মেসে ঢুকে পড়ছেন  mad  !
জুয়েল: তো ? !!!! আপনিও তো এখন মেয়েদের মেসে ঢুকছেন   waiting !!!
পুলিশ: অ্যা... মানে মানে  hmm , আরে আমি তো আসছি দ্বায়ীত্বের খাতিরে। দেশের শান্তি-শৃংখলা নিশ্চিত করা আমার দ্বায়ীত্ব  cool  ! (কেমুন আতেঁল দেকচেন   tongue !!)
জুয়েল: তো আমি কি আচার বেচঁতে আসছি নাকি  angry । আমিও দ্বায়ীত্বের খাতিরে আসছি। ফারজানার দেখশুনা করা আমার দ্বায়ীত্ব ।
পুলিশ: অ্যা.....তাই নাকি ! কিন্তু............................................অই ব্যাটা অত কথা কস কিলা....
অত:পর জুয়েলের গর্দান আর পুলিশের হাতের মিলন ঘটিল। ফলাফল : জুয়েল এক রাত হাজতে এবং দুইরাত হাসপাতালো কাটাইলো।

এখন জুয়েল আমার রুমে....... সে প্রায় ১-২ ঘন্টা ধরে কেদেঁই যাচ্ছে .... কি আর করব। তারে সান্তনা দিলাম,
আমি: আরে এখনো কিছুই হয়নি। তুই এতো ভেঙ্গে পড়তেছিস কেন?
জুয়েল: না দোস্ত.... তুই জানিস না... অয় ছেমড়ি কোন মামুর ব্যাটার সাথে জানি প্রেম করতেছে ( কি রকমের হারামজাদা দেখছেন? আমার সামনে বসে আমারেই গালি দিতেছে  angry )
আর সহ্য হইলো না। এই “মামুর ব্যাটা” কথাটা রাজশাহীতে খুব কমন একটা গালি হইলেও আমার কেমুন জানি হজম হয় না  angry angry । শুনলেই গা-হাত-পা নিশপিশ করে। তারপর গতকাল সন্ধ্যা থেকে আজ বিকাল পর্যন্ত পুরা ঘটনা জুয়েলরে কইয়া ফেললাম।
জুয়েল কিছুক্ষণ আমার দিকে তাকায় থাকল, তারপর দ্বিগুণ স্পিডে কানতে ধরল crying crying । কোনো মত অরে থামাইলাম। আর প্রমিস করলাম, অদের রিলেশান ঠিক করার জন্যে যা করা লাগে আমি করব (দেখছেন কত বড় বলিদান দিছি  sad   brokenheart ) ।

হাউএভার, ফারজানারে এইসব কিছুই জানাইলাম না। খালি ফোন কইরা পরের দিন ভদ্রা পার্কে ডেটিং ফিক্স করলাম। প্ল্যান হইলো এই রকম, যে আমি ফারজানার সাথে দেকা করমু, আর জুয়েল দুরে থেকে অরে দেখে আপাতত মনের খায়েশ মিটাবে। আর ধীরে ধীরে আমি ফারজানার কাছে জুয়েলরে হিরো বানাইয়া নিজে জিরো হমু (হায়রে... এত্ত বছর পর একখান প্রেম হইল তাও হজম করতে পারলাম না  crying । আমার কপালে কি আল্লাহ এমুনই লিখছে ??)

পরের দিক বিকালে আমি আর জুয়েল টাইমের আধাঘন্টা আগেই গিয়া স্পটে পজিশান লইলাম। আমি একটা টেবিলে বসলাম... আর জুয়েল দুরে বাচ্চাদের দোলনায় বসে দুলনি খাইতে থাকল। অ্যাজ ইউজুয়্যাল আমাদের হিরোইন টাইমের আধাঘন্টা পরে আসিলেন। হাতে একটা গিফটের বক্স। 

আহ ভাইরে...... সে যখন গেট দিয়া ঢুকে আমার দিকে আসতে ছিল আমি তো প্রায় ভুলেই গেছিলাম জুয়েল নামে কোন প্রাণী দুনিয়াতে আছে  neutral  love । হালকা কমলা কালারে ড্রেসের সাথে খোলা চুলে ফারজানা আসতেছে আমার দিকে  surprised .. আমি সেমি-হা করে তাকাই আছি  love love । সে এসে একটা চেয়ার টেনে বসল।

: কি, অমন হা করে কি দেখছো ? (কি সাংঘাতিক, একদিন পার হতেই তুমি করে বলা শুরু করছে। আরেকদিন পার হলে কি তুই করে বলবে নাকি  nailbiting  !!! আর তার পরের দিন কি হবে   worried dontsee ? !! )

আমি: না কিছু না তো (হে হে হে.. আমি তো ভালো ছেলে আপনারা জানেনই   big_smile !)। তোমার হাতে কি?

: আর বলো না। নিউমার্কেটের পাশ দিয়ে আসার সময় দেখলাম নতুন একটা ফ্যাশান হাউজ খুলছে। তাই ভিতরে একটা ঢুঁ মারতে গেলাম। একটা হাতঘড়ি পছন্দ হলো তোমার জন্য। তাই নিয়া আসলাম ( আহ্হারে.... কত্ত লক্ষী মেয়ে smile  love  !)। দেখি তোমার হাতে কেমুন মানায় ...

এই বলে সে গিফট প্যাকেট ফাইড়া ভিতর থেকে ঘড়ি বার করল। আমি নিতে গেলাম........

: আরে হাত দাও । আমি পড়ায়ে দিই। ( আহ্হারে আহ্হারে.... কত্ত লক্ষী মেয়ে  love  yahoo  love  !)

এই বইলা সে আমার হাত টাইনা নিয়া ঘড়ি পড়ানো শুরু করল। এদিকে আমি ভুলে গেল কি হবে, জুয়েল সাহেব তো আছেই। এই দৃশ্য সে কেমন সহ্য করে আপনারাই বলেন?
সে হর্সের বেগে ছুটে আসল। আইস্যা খপ করে ঘড়ি টা নিয়ে নিল  brokenheart  !!! আর সেই সাথে ফারজানা....................
-----------------------------------------------------------------------------------------
কাইল কাহিনী শেষ করমু প্রমিস !!!!!!

স্রোতের বিপরীতে উদ্যত!

Re: একটি শর্ট লাভ স্টোরী (আমার আর্কাইভ থেকে) সেমি-ফাইনাল খন্ড

গল্প ভালোই জমাইছেন দেখছি big_smile
তুহিন ভাই কৈ? আবার মূলা angry

Re: একটি শর্ট লাভ স্টোরী (আমার আর্কাইভ থেকে) সেমি-ফাইনাল খন্ড

lol lol lol lol
মাহবুব ভাই দেখি পুরোটা না পড়ে আর সহ্য করতে পারতেছেন না  lol lol
গল্পটা দারুন জমছে দেখা যায়, কিন্তু সম্মাননা দিতে না পাইরা তো মেজাজ সপ্তমে  angry

সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন সালেহ আহমদ (২২-০৭-২০১১ ২৩:১৬)

Re: একটি শর্ট লাভ স্টোরী (আমার আর্কাইভ থেকে) সেমি-ফাইনাল খন্ড

বারবার মুলা ঝুলানো মানি না মানব না।  angry

ভালই জমছে দেখি। তাড়াতাড়ি ফাইনাল খন্ড সাপ্লাই দেন।  smile smile

সালেহ আহমদ'এর ওয়েবসাইট

লেখাটি GPL v3 এর অধীনে প্রকাশিত

Re: একটি শর্ট লাভ স্টোরী (আমার আর্কাইভ থেকে) সেমি-ফাইনাল খন্ড

আপনেরে সামনে পাইলে এমুন মাইর দিতাম যে, হাত ভাইঙ্গা যাইতো, তারপরেও পা দিয়া লিখা গল্প শেষ করতেন  angry angry এরুপর আবার সন্মাননা দেওয়া যাইতাছে না। হুইত  angry angry

রাবনে বানাদি ভুড়ি :-(

Re: একটি শর্ট লাভ স্টোরী (আমার আর্কাইভ থেকে) সেমি-ফাইনাল খন্ড

বাপরে বাপ... সবাই মিলে থ্রেট  nailbiting  !!! ঠিক আছে আজকে দুপুরে ভাইভা আছে, সেটা দিয়ে এসেই স্টোরী কমপ্লিট করব।  smile

স্রোতের বিপরীতে উদ্যত!

Re: একটি শর্ট লাভ স্টোরী (আমার আর্কাইভ থেকে) সেমি-ফাইনাল খন্ড

জ.......টি.........ল...........
lol2 lol2 lol2 lol2 lol2 lol2 lol2 lol2 lol2 lol2 lol2 lol2 lol2 lol2 lol2

করি লাল সবুজে বাস

Re: একটি শর্ট লাভ স্টোরী (আমার আর্কাইভ থেকে) সেমি-ফাইনাল খন্ড

৩য় + ও দিতে পারলাম না সরি tongue_smile

রোযা প্রতেক নর নারির উপর ফরয,তাই আসুন আমরা ফরয আদায় করি।

Re: একটি শর্ট লাভ স্টোরী (আমার আর্কাইভ থেকে) সেমি-ফাইনাল খন্ড

clap

কোন কথা হবে না ! রহস্য আর রোমাঞ্চ মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে  big_smile

১০

Re: একটি শর্ট লাভ স্টোরী (আমার আর্কাইভ থেকে) সেমি-ফাইনাল খন্ড

ভাই, দারুন লাগতাছে।

১১

Re: একটি শর্ট লাভ স্টোরী (আমার আর্কাইভ থেকে) সেমি-ফাইনাল খন্ড

সেমি ফাইনাল পর্যন্ত পরলাম । ফাইনালের জন্য ওয়েটিং ।  smile