টপিকঃ স্বপ্নে পাওয়া গুপ্তধন

মৃত্যুর আগ পর্যন্ত চ্যাপম্যান বলে গেছেন স্বপ্ন শুধু স্বপ্ন নয়। কিছু কিছু স্বপ্নের বাস্তবায়নও ঘটে। ক্লান্ত, ক্ষুধার্ত জন চ্যাপম্যান বিপন্ন ভঙ্গিতে লন্ডনের ধুলোময় রাস্তায় হাঁটছিলেন। তার বাড়ি নরফোকের সোয়াফহ্যামে। পেশায় তিনি কামার। স্বপ্নে দেখা গুপ্তধনের সন্ধানে লন্ডনে এসেছেন। যে ক'টা টাকা পকেটে ছিল, খরচ হয়ে গেছে সব; কিন্তু আশা ছাড়েননি চ্যাপম্যান। তিনি স্বপ্নে দেখেছেন লন্ডন ব্রিজে পৌঁছলে তার সঙ্গে এক লোকের দেখা হবে। সেই লোক তাকে বাতলে দেবে গুপ্তধন পাওয়ার উপায়। বহু কষ্টে গন্তব্যে পৌঁছল চ্যাপম্যান। পথচারীদের দেখতে লাগল আগ্রহ ভরে। কিন্তু কেউ তার সঙ্গে কথা বলতে এগিয়ে এলো না। বেলা শেষে ভয়ানক হতাশ হয়ে পড়ল চ্যাপম্যান। মনে মনে বোকা বলে গালি দিল নিজেকে। স্বপ্নে তো মানুষ কত কিছুই দেখে। সেসব সত্যি হয় নাকি? সে এমন বোকা। স্বপ্নটাকে সত্যি ভেবে চলে এসেছেন এত দূরের রাস্তায়। হাল ছেড়ে দিয়ে বাড়ি ফিরে যাওয়ার কথা ভাবছেন চ্যাপম্যান, এমন সময় সুবেশী এক লোক এসে দাঁড়াল তার সামনে।

'এখানে কি করছ, বন্ধু? জিজ্ঞেস করল সে। 'অনেকক্ষণ ধরে দেখছি চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছ। মতলবটা কি?'

'মতলব কিছু না, স্যার,' জবাব দিলেন চ্যাপম্যান। 'এখানে এসেছি একটা স্বপ্ন দেখে।'

'স্বপ্ন দেখে? অবাক হলো লোকটা। 'অদ্ভুত তো! আমিও একটা স্বপ্ন দেখেছি। আমার স্বপ্নে অচেনা একটি জায়গা ছিল। দেখেছি অচেনা একটি মানুষকে। তবে স্বপ্নটপ্ন বিশেষ পাত্তা দিই না আমি। তাই এ নিয়ে ভাবিও না।' চ্যাপম্যান ধরে বসল, স্বপ্নের কথা তাকে বলতেই হবে।

'দেখলাম,' চ্যাপম্যানের কাতর অনুরোধ ফেলতে না পেরে বলল লোকটা, 'আমাকে সোয়াফহ্যাম নামে একটি জায়গায় যেতে বলা হচ্ছে। ওখানে চ্যাপম্যান নামে এক লোক থাকে। তার বাড়ির বাগানে, বড় একটা গাছের নিচে নাকি গুপ্তধন আছে।'

শুনে থ' হয়ে গেল চ্যাপম্যান। নিজের স্বপ্নের কথা প্রায় বলে ফেলছিল লোকটাকে, কি ভেবে চুপ হয়ে গেল। লোকটার কথায় সায় দিয়ে শুধু বলল হ্যাঁ, স্বপ্নে বিশ্বাস করে বোকারা। কারণ স্বপ্ন ভিত্তিহীন।

এরপর দ্রুত বাড়ি ফিরে এলো জন চ্যাপম্যান। ক্লান্ত শরীর। কিন্তু শারীরিক ক্লান্তি গ্রাহ্য না করে একটা কোদাল নিয়ে ঢুকে পড়ল বাগানে। তারপর বাগানের সবচেয়ে বড় গাছটার মাটি খুঁড়তে শুরু করল।

কিছুক্ষণ কোদাল চালানোর পরে 'ঠন্' করে একটা শব্দ হলো, শক্ত কিছু একটাতে বাড়ি খেয়েছে। দ্রুত মাটি খুঁড়ে ফেলল চ্যাপম্যান। পেয়ে গেল পিতলের একটি ঘটি। সোনার মোহর ভর্তি। ঘটির ঢাকনাতে লেখা 'আমার নিচে এর চেয়ে বড় আরেকটি ঘটি আছে।'

আরেকটু গভীর করে খুঁড়তেই সোনার মোহর ভর্তি দ্বিতীয় ঘটিটাও পেয়ে গেল জন চ্যাপম্যান।

তার স্বপ্ন যে সত্যি তা প্রমাণিত হলো। স্বপ্নে পাওয়া গুপ্তধন বিক্রি করে ধনী হয়ে গেল চ্যাপম্যান। ১৪৮৫ সালে সোয়াফহ্যাম চার্চে একটি আলাদা খিলান তৈরি করল চ্যাপম্যান নিজের টাকা দিয়ে। ওই গির্জায় একটি প্রার্থনা ডেস্কে নিজের পরিবারের ছবি আঁকার ব্যবস্থা করলেন তিনি। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত চ্যাপম্যান বলে গেছেন সব স্বপ্ন শুধু স্বপ্ন নয়। কিছু কিছু স্বপ্নের বাস্তবায়নও ঘটে।


সুত্রঃ বিডি প্রতিদিন ।

ঝামেলা'এর ওয়েবসাইট

লেখাটি CC by-sa 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

Re: স্বপ্নে পাওয়া গুপ্তধন

ধন্যবাদ। লেখাটা আপনার হলে আরও বড় ধন্যবাদ দিতাম।

Re: স্বপ্নে পাওয়া গুপ্তধন

এমন বাস্তব গুটি কয়েকটাই ............

আমার মৃত্যু নেই কারণ আমি মানুষ।
আল্লাহ মানুষকে অমর বানিয়েছেন তবে এ দেহের মৃত্যু হবে।

facebookকে

Re: স্বপ্নে পাওয়া গুপ্তধন

আমি স্বপ্নে যা দেখি তা বস্তব হলে মন্দ হয়না! thinking তবে কোটিপতি না একজনের পতি হবার স্বপ্ন!  blushing

roll