টপিকঃ দিনকাল কাটে যেমন (আমার এম্রিকানা সফর - ১)

অনেকদিন পর আবার লেখতে বসলাম একটু ফ্রি সময় পেয়েই। কি নিয়ে লিখবো কিছু ঠিক করা নেই, তাই বিরক্তি ধরে গেলে এই টপিকে, আমার কোনো দোষ নেই।

ছোটোবেলায় যখন (ক্লাস ৭/৮) দেশের বাইরে প্রথম গিয়েছিলাম (সেটা ছিলো ছোটোখাটো এশিয়া সফর) তখন থেকেই ইচ্ছা ছিলো পরবর্তীতে দেশের বাইরে পা রাখলে সরাসরি এম্রিকা। তাই সেই উদ্দেশ্য অনুযায়ী কিছুদিন আগেই ৬ বছরের সফরকারী হিসেবে চলে আসলাম ওয়ার্ল্ড এর মোস্ট ওয়ান্টেড প্লেসে  tongue_smile

আসার পথে এত বিশাল জার্নিটা না থাকলে আর খারাপ কোনো এক্সপেরিয়েন্স নেই বলতে গেলে। জার্নিটা আসলেই বিরক্তিকর ১৪ ঘণ্টা টানা একটা সিটে বসে থাকা যে কোন ডিগ্রী পানিশমেন্টের মধ্যে পড়ে তা আমার জানা নেই। তার উপরে বাস-ট্রেন হলে ভিউ দেখতে দেখতে আসা যায়, কিন্তু মরার প্লেন এত উপর দিয়েই চলবে যে জানলা দিকে তাকালে 'ফাকা গুলি'  roll নিচ দিক দিয়ে আসলে আসতে আসতে সুন্দর পুরা ইউরোপ ঘোরা হয়ে যেত, হায় আফসোস  sad

বেলা দুটার সময় জে,এফ,কে নেমেই কেমন জানি শরীর ভার ভার লাগলো, টেনসড ছিলাম ইমিগ্রেশন নিয়ে, শুনেছি এরা নাকি খুব বদ হয়, কিন্তু ভাগ্য বরাবরের মতই  cool খুব হাসিখুশি এক ভদ্রলোক ছিলেন আমার দায়িত্বে, সো ফরমালিটিজ শেষ করে বের হতে খুব বেশী সময় লাগলো না। এয়ারপোর্টে রিসিভ করলো আমার মেঝপু, বাসায় গিয়ে অন্যান্য ফ্যমিলি মেম্বারদের দেখে মন খুব ভালো হয়ে গেল, মনে হলো ঘরে ফিরে এসেছি  smile নিউইয়র্ক সিটি তে লান্চ করার পরেই চলে আসলাম ৫ ঘণ্টার ড্রাইভের নিউইয়র্কের আরেক সিটি বিংহ্যমটনে। আগেই ইচ্ছা ছিলো ৫১ টা স্টেইট ই ঘুরবো, নিউইয়র্কেরই এক সিটি থেকে আরেক সিটিতে আসার মধ্যেই ঘুরা হয়ে গিয়েছিলো ৩ টা স্টেইট - ড্যলওয়্যর, পেন্সিলভানিয়া, নিউ-জার্সি।  আসার পথে জর্জ ওয়াশিংটন ব্রিজের জ্যমের কথা তুললো আমার বোন, পরে নিজে চোখে দেখেই বিশ্বাস হলো যে এই জ্যমকে মোটামুটি ফার্মগেইটের সাথে তুলনা করা যায়।  sad আসতে আসতে জায়গায় জায়গায় চোখে পড়লো ম্যকডোনাল্ডস এম্রিকান ধনী-গরীব সবার বন্ধু। ; আসার পথে ভাবছিলাম কি করে এত অরগানাইজড ওয়েতে হাইওয়ে মেইনটেইন করা হয়, প্রত্যেকটা বড় রোডের মধ্যে কয়েক মাইল পর পর এক্সিট সেগুলো নাম্বারিং করা, এবং খুব সুন্দর করে বোঝা যায় যে কোথা থেকে কই যাচ্ছি, আর স্পেশাল জি,পি,এস তো আছেই। কতটুক স্ট্রং এদের স্যটেলাইট না দেখলে বোঝা যায় না। এত টায়ার্ডনেসের মধ্যেও সব কিছু খুটিয়ে খুটিয়ে দেখতে দেখতেই ডেস্টিনেশনে পৌছলাম। আসতে জায়রো নামক এক রকম খাবার (এখানকার মুসলিম কমুনিটিতে সু্-বিখ্যত) নিয়ে এসেছিলাম, যেটা এখানকার মুসলিম দোকানেই শুধু বিক্রয় করে। এসে এত রাত যে কোনো মতে জায়রো খেয়েই দিলাম এক বিশাল ঘুম...

সেহেরীর সময় হয়ে আসছে, বাকিটা আরেকদিন লিখবো - টাটা

Rhythm - Motivation Myself Psychedelic Thoughts

লেখাটি CC by 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

Re: দিনকাল কাটে যেমন (আমার এম্রিকানা সফর - ১)

ভাল লাগছে আপনার ভ্রমন কাহিনী। ধন্যবাদ ভাই।
পরবর্তী পর্বের অপেক্ষায় রইলাম।

আহমাদ মুজতবা লিখেছেন:

টেনসড ছিলাম ইমিগ্রেশন নিয়ে, শুনেছি এরা নাকি খুব বদ হয়, কিন্তু ভাগ্য বরাবরের মতই  cool খুব হাসিখুশি এক ভদ্রলোক ছিলেন আমার দায়িত্বে, সো ফরমালিটিজ শেষ করে বের হতে খুব বেশী সময় লাগলো না।

ভাই, ইমিগ্রেশনে কি কি প্রশ্ন করেছিল তা জানতে ইচ্ছা করছে। smile

Re: দিনকাল কাটে যেমন (আমার এম্রিকানা সফর - ১)

ভাল লাগলো ভাইয়া, পরের পর্বের অপেক্ষায় থাকলাম  smile

One can steal ideas, but no one can steal execution or passion. - Tim Ferriss

Re: দিনকাল কাটে যেমন (আমার এম্রিকানা সফর - ১)

শান্ত বালক লিখেছেন:

ভাল লাগছে আপনার ভ্রমন কাহিনী। ধন্যবাদ ভাই।
পরবর্তী পর্বের অপেক্ষায় রইলাম।

আহমাদ মুজতবা লিখেছেন:

টেনসড ছিলাম ইমিগ্রেশন নিয়ে, শুনেছি এরা নাকি খুব বদ হয়, কিন্তু ভাগ্য বরাবরের মতই  cool খুব হাসিখুশি এক ভদ্রলোক ছিলেন আমার দায়িত্বে, সো ফরমালিটিজ শেষ করে বের হতে খুব বেশী সময় লাগলো না।

ভাই, ইমিগ্রেশনে কি কি প্রশ্ন করেছিল তা জানতে ইচ্ছা করছে। smile

  তেমন কিছুই না, ভদ্রলোক আমার আই-টুয়েন্টি দেখলো, বললো যে ভালো ইউ ওয়ানাবি ফার্মাসিস্ট হাহ?? এরপর একটু ঢং করে আমার ছবি মিলিয়ে দেখলো পাসপোর্টের সাথে পরে নিজে নিজেই বললো আমি দীর্ঘ ফাইভ ইয়ারস এই কাজ করিতো তাই চোখের পাওয়ার কমে গেছে  wink তারপর এমনি বললো এত আগে চলে আসছো ভালো মতো ঘুরো, আর নেক্সট টাইম এম্রিকা থেকে বের হতে হলে কি কি করতে হবে তার উপর হালকা পাতলা টিপস দিয়ে ছেড়ে দিলো  big_smile এইত

Rhythm - Motivation Myself Psychedelic Thoughts

লেখাটি CC by 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

Re: দিনকাল কাটে যেমন (আমার এম্রিকানা সফর - ১)

চ্যাটে যে কইলাম ঐ বর্নণার সাথে ছবি দিতে, ছবি কই  waiting

Re: দিনকাল কাটে যেমন (আমার এম্রিকানা সফর - ১)

পরিবারের সাথে আছো তাই হয়তো কখনো বুঝবে না স্বজন ছেড়ে দূরে থাকার কষ্টটা  crying যাহোক, আম্রিকায় অবস্থান সুখময় এবং সাফল্যমন্ডিত হোক এই কামনা করছি। আর ইমোদের থেইকা দূরে থাইকো  hehe tongue_smile

কিছু বাধা অ-পেরোনোই থাক
তৃষ্ণা হয়ে থাক কান্না-গভীর ঘুমে মাখা।

উদাসীন'এর ওয়েবসাইট

লেখাটি CC by-nc 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

Re: দিনকাল কাটে যেমন (আমার এম্রিকানা সফর - ১)

ছবি চাই ... ছবি  ... লিখতে থাক ... ভালো লাগছে  । thumbs_up

শ্রাবন'এর ওয়েবসাইট

লেখাটি GPL v3 এর অধীনে প্রকাশিত

Re: দিনকাল কাটে যেমন (আমার এম্রিকানা সফর - ১)

উদাসীন লিখেছেন:

পরিবারের সাথে আছো তাই হয়তো কখনো বুঝবে না স্বজন ছেড়ে দূরে থাকার কষ্টটা  crying যাহোক, আম্রিকায় অবস্থান সুখময় এবং সাফল্যমন্ডিত হোক এই কামনা করছি। আর ইমোদের থেইকা দূরে থাইকো  hehe tongue_smile

  ভাইয়া আপনি কোন স্টেইট এ?  hehe

ভাই ছবি তোলা হতো বাংলাদেশে থাকতে ফ্রেন্ডদের উৎসাহে বা চাপে, এখানে আসার পর একা একা আর অত ছবি তোলা হয় না, আর এতক্ষন যা বর্ণনা দিলাম তাতে ছবি তোলার মত তেমন কোনো প্লেসও নাই। তবে এর পরের পার্টে দিবো ছবি

Rhythm - Motivation Myself Psychedelic Thoughts

লেখাটি CC by 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

Re: দিনকাল কাটে যেমন (আমার এম্রিকানা সফর - ১)

হুমমম !
অনেকদিন পরে ফোকাস বিভাগ থেকে একটু বের হলাম !  tongue
ভালো লিখেছেন !  smile

থাকুক তোমার একটু স্মৃতি থাকুক,
একলা থাকার খুব দুপুরে...
একটি ঘুঘু ডাকুক !

১০

Re: দিনকাল কাটে যেমন (আমার এম্রিকানা সফর - ১)

আমি হিমু লিখেছেন:

হুমমম !
অনেকদিন পরে ফোকাস বিভাগ থেকে একটু বের হলাম !  tongue
ভালো লিখেছেন !  smile

  যাক আমি তাহলে ধন্য  tongue

Rhythm - Motivation Myself Psychedelic Thoughts

লেখাটি CC by 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত