টপিকঃ বার্ড ফ্লু: আমাদের করণীয়

বার্ড ফ্লু বা এভিয়েন ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের চরিত্র কেমন।মুরগি আক্রান্ত হলে কীভাবে বোঝা যাবে। ভোক্তাদের কী করতে হবে আর কী করতে হবে না।যদি খামারের হাঁস-মুরগি আক্রান্ত হয়, তাহলে?

বার্ড ফ্লু ভাইরাস কী?
বার্ড ফ্লু বা এভিয়েন বা পাখি সম্পর্কিত রোগ একই। আর্থোমিক্সিরিডি গোত্রের ভাইরাস আক্রান্ত পাখিদের রোগ। মুরগি বা যেকোনো পাখি এই ভাইরাস রোগে আক্রান্ত হয়। এই ভাইরাসের সঙ্গে প্রথম পরিচয় হয় ১৮৭৮ সালে। ১৯৫৫ সালে ইতালিতে এই ভাইরাসে আক্রান্তকে ফাইল প্লেগ নামে পরিচিত করা হয়। বর্তমান নাম বার্ড ফ্লু বা এভিয়েন ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস। এই ভাইরাসের অনেক সাব-টাইপ বা স্ট্রেন রয়েছে। এসব স্ট্রেনের মধ্যে এইচ-৫, এন-১ সবচেয়ে মারাত্মক। দ্রুত এক পাখি থেকে ঝাঁকের অন্য পাখিদের আক্রমণ করে। পাখির লালা ও মলের মাধ্যমে দ্রুত বিস্তার করে। আক্রান্ত পাখি কয়েক ঘণ্টার মধ্যে মারা যায়।

কীভাবে ছড়ায়
বার্ড ফ্লু বা এভিয়েন ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস পাখির অন্ত্রে বাস করে। বিষ্ঠা বা মলের সঙ্গে বের হয়ে আসে। বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে। বাতাস বা আক্রান্ত পাখির হাঁচি বা কাশির মাধ্যমে শ্লেষ্ক্না ও কফ আকারে বের হয়ে এসে সুস্থ পাখিদের আক্রমণ করে। অতিথি পাখিরা সাধারণত এই ভাইরাসের অন্যতম বাহক। আক্রান্ত পাখির বিচরণে, খামার যন্ত্রপাতি, সরঞ্জাম ও খামারের কর্মীদের মাধ্যমে এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে।

চেনা যাবে
ভাইরাস আক্রমণের তিন থেকে ১০ দিন পর রোগের লক্ষণ পাওয়া যায়। আক্রান্ত পাখির পালক উসকোখুসকো হয়ে যায়। ক্ষুধামন্দা ও অবসাদগ্রস্ত হয়ে পড়ে। মাথার ঝুঁটির গোড়ায় রক্তক্ষরণ হয়। পায়ের পাতা ও হাফ-জয়েন্টের মধ্যে বিক্ষিপ্তভাবে রক্ত জমে যায় ও রক্তক্ষরণ হয়। হঠাৎ করে মুরগির ডিম উৎপাদন হার কমে যায়ে। শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়। মৃত্যুহার বেড়ে যায়।
"" খামারে হঠাৎ করেই এ রোগ ছড়াতে পারে। একসঙ্গে অনেক মুরগি মারা যাবে। অসুস্থতার লক্ষণ ছাড়াই মারা যেতে পারে। অবসাদ, ঝিমুনি, ক্ষুধামন্দা, উসকোখুসকো পালক, জ্বর। এসব লক্ষণের পর মারা যেতে পারে।
"" দুর্বলতা ও চলাফেরায় অস্বাভাবিকতা দেখা দেয়। আক্রান্তরা চুপচাপ বসে থাকে। মাথা মাটিতে লাগিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে।
"" অল্প বয়সের মুরগিদের পক্ষাঘাত দেখা দেবে।
"" ডিম পাড়া কমে যাবে; নরম খোসাযুক্ত ডিম পাড়ে।
"" গলা ও মাথার ঝুঁটি ফুলে যায়। গাঢ় লাল বা নীল রং ধারণ করে এবং কখনো কখনো ক্ষুদ্র বিন্দুর রক্তক্ষরণ দেখা দেয়।
"" আক্রান্তরা শ্বাসকষ্টে ভোগে।
"" শরীরের পালকবিহীন অংশ যেমন পায়ে রানের নিচের অংশে রক্তক্ষরণ হবে।
"" খামারে ১০০ ভাগ পর্যন্ত মোরগ-মুরগি মারা যায়।
"" হাঁস ও রাজহাঁসদেরও একই লক্ষণ দেখা দেবে।
"" অনেক ক্ষেত্রে হাঁস রোগের লক্ষণ ছাড়াই জীবাণু ছড়াতে পারে।

শরীরের ভেতরে পরিবর্তন
"" শরীরের বিভিন্ন অংশে বিশেষ করে শ্বাসনালী, খাদ্যনালী এবং হূৎপিন্ডের ভেতর ও বাইরে ক্ষুদ্র বিন্দুর মতো রক্তক্ষরণ দেখা যায়।
"" চামড়ার নিচে বিশেষ করে ঘাড়ে ও পায়ের গিরায় প্রচুর পানি জমে।
"" মৃতদেহ পানিশুন্য হয়ে যেতে পারে।
"" প্লীহা, বৃਆ, কলিজা এবং ফুসফুস ইত্যাদিতে ধুসর রঙের মৃত কোষ থাকতে পারে।
"" বায়ুথলি অস্বচ্ছ হতে পারে এবং ধুসর বা হলুদাভ তরল পদার্থ পাওয়া যেতে পারে।
"" প্লীহা বড় হতে পারে এবং রক্তক্ষরণের ফলে গাঢ় রং ধারণ করতে পারে।

একই লক্ষণের অন্য রোগ
এসব রোগ-লক্ষণ বার্ড ফ্লু থেকে আলাদা করা কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। এসব রোগেও খামারের মুরগি দ্রুত মারা যায়।
"" তীব্র রানিক্ষেত রোগ।
"" ডাকপ্লেগ রোগ। মুরগির ডাকপ্লেগ হয় না।
"" মুরগির সংক্রামক করাইজা।
"" তীব্র বিষক্রিয়া।

কেন মারাত্মক
এটি মারাত্মক রোগ। খামারের মুরগি দ্রুত মারা যেতে পারে। খামার থেকে খামার ও এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় অল্প সময়ের মধ্যে ছড়িয়ে পড়তে পারে। রোগগ্রস্ত মুরগি থেকে মানুষের মধ্যে সংক্রমণ ঘটতে পারে। দুইভাবে এই ভাইরাস ছড়াতে পারে। অতিসংক্রামক হাইপ্যাথজেনিক এভিয়েন ইনফ্লুয়েঞ্জা ঐচঅও, আবার মৃদু সংক্রামক বা লোপ্যাথজেনিক খচঅও অবস্থায়ও ছড়াতে পারে।

খামারকর্মীদের সতর্কতা
এ পর্যন্ত সারা বিশ্বে এ ভাইরাসে প্রায় ২০০ মানুষ মারা গেছে। এদের সবাই খামারকর্মী। সে কারণে ভোক্তা নয়, খামারকর্মী ও আক্রান্ত খামারের মুরগি নিধনে নিয়োজিতদের বাড়তি সতর্ক থাকা দরকার। দরকারি বেশভুষা ব্যবহার করতে হবে। বিশেষ করে মাস্ক, হ্যান্ড গ্লাভস, পায়ে প্লাস্টি গাম বুট ও অ্যাপ্রোন পরতে হবে। শারীরিক প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে চিকিৎসকের পরামর্শে অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ খাওয়া যেতে পারে। যারা জীবন্ত মুরগির বেচাকেনার সঙ্গে যুক্ত তাদেরও এসব পেশাক পরে থাকতে হবে। খামারে জীব-নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে। শেডে প্রবেশের সময় ফুটপথে জীবাণুনাশক মিশ্রিত পানি রাখতে হবে। এতে পা ধুয়ে খামারে প্রবেশ নিশ্চিত করা দরকার। খামার ও জীবন্ত মুরগির দোকানের চারপাশে নিয়মিত ফরমালিন বা শক্তিশালী জীবাণুনাশক স্প্রে করতে হবে। কোনোভাবেই অতিথি পাখিদের সংস্পর্শে আসা যাবে না।

প্রতিষেধক ওষুধ
চীন ও ফ্রান্সসহ অনেক দেশই মুরগির এই রোগ থেকে বাঁচার জন্য লাইভ ভ্যাকসিন আবিষ্ককার করেছে। চীনের স্টেট মিডিয়া জানায়, অরবিন রিসার্স ইনস্টিটিউট বার্ড ফ্লু প্রতিরোধে চার বছর গবেষণা করে লভি ভ্যাকসিন উদ্ভাবন করেছে। এই ভ্যাকসিন বার্ড ফ্লু ভাইরাসসহ রানিক্ষেত রোগের বিরুদ্ধে কাজ করবে।
খামারের মুরগিদের এই ভ্যাকসিন দেওয়া যেতে পারে। বার্ড ফ্লু রোগে আক্রান্ত হাঁস-মুরগি ও কবুতরসহ কোনো পাখিরই কোনো চিকিৎসা নেই। উন্নত বিশ্বে এ রোগের টিকা দেওয়ার প্রথা চালু থাকলেও আমাদের দেশে এখনো এ টিকা আমদানি করার অনুমতি নেই। দীর্ঘমেয়াদি রোগপ্রতিরোধের জন্য ভ্যাকসিন ব্যবস্থা চালু করা যেতে পারে।

রান্না মাংস-ডিমে ভয় নেই
এই ভাইরাসে ভোক্তাদের আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। বিশিষ্ট পশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মনজুর আজিজ বলেন, "আমরা যে তাপে মুরগির মাংস রান্না করি সেই তাপে কোনো জীবাণু বাঁচে না।
তা ছাড়া এই ভাইরাসে আক্রান্ত মুরগি কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মারা যায়। বাজার থেকে তাজা, সবল জীবন্ত মুরগি কিনলে তা পুরোপুরি নিরাপদ। আক্রান্ত মুরগি বাজার পর্যন্ত আনতে আনতে তাজা থাকবে না। তবে বাড়তি সতর্কতার অংশ হিসেবে অল্প সেদ্ধ মাংস বা ডিম না খাওয়াই ভালো। এ ছাড়া রান্নার আগে মাংস কাটার পর ভালো করে সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে ফেলতে হবে।"
খামারকর্মীদের শেডে কাজ করার সময় মাস্ক পরে নাক-মুখ ঢেকে রাখতে হবে। থুতু ফেলা যাবে না। কাজ শেষে অবশ্যই সাবান দিয়ে হাত ও পা ভালো করে ধুয়ে ফেলা দরকার।

জীব-নিরাপত্তা জোরদারের বিকল্প নেই
বায়ো সিকিউরিটি বা জীব-নিরাপত্তা একটি সাধারণ জ্ঞান। এক কথায় জীব নিরাপত্তা হলো খামারের মুরগি ও খামারকর্মীদের রোগজীবাণুর আক্রমণ থেকে সুরক্ষিত রাখা। জীব-নিরাপত্তা নিতে অতিরিক্ত কোনো খরচ হয় না। এটি মূলত আচরণবিধি। এর ফলে রোগজীবাণু থেকে খামার রক্ষা পাবে এবং হাঁস-মুরগি রোগজীবাণু থেকে মুক্ত থাকবে।
খামারের হাঁস-মুরগি সব সময় ভালো জায়গায় রাখতে হবে। ভালো জায়গা হলো পরিষ্ককার পানি ও খাবারের ব্যবস্থা আছে এমন জায়গা; যেখানে নিয়মিত টিকা ও ওষুধপথ্যের ব্যবস্থাও আছে।হাঁস-মুরগি সব সময় সংরক্ষিত ঘেরা জায়গায় রাখতে হবে।
খামারে প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। দর্শনার্থীদের জুতা-স্যান্ডেল, ছাগল, ভেড়া, বন্য পাখি রিকশাভ্যান ও মোটর গাড়ির মাধ্যমে আক্রান্ত এক এলাকা থেকে অন্য এলাকার খামারে রোগ ছড়াতে পারে। সে জন্য দর্শনার্থীদের চলাচল নিয়ন্ত্রিত অবস্থায় রাখতে হবে।

পাশের খামারে যদি রোগ দেখা দেয়
পাশের খামারে এই রোগ দেখা দিলে বুঝতে হবে, আপনার খামার এখন মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে আছে। মনে রাখতে হবে, আপনার খামারটিও আক্রান্ত হতে পারে। তবে এ সময় অধৈর্য না হয়ে ঠান্ডা মাথায় কতগুলো মৌলিক নীতি অবলম্বন করতে হবে।
খামারের হাঁস-মুরগির জন্য সুরক্ষিত পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। নতুর হাঁস-মুরগি কিনবেন না। বহিরাগতদের কোনোভাবেই খামার শেডের কাছে আসতে দেওয়া যাবে না। খামারের আশপাশ, শেড, শেডের প্রত্যেকটি যন্ত্রপাতি এমনকি সাইকেল, মোটরসাইকেল নিয়মিত পরিষ্ককার রাখতে হবে। খামারের বর্জ্য ও বিষ্ঠা সুরক্ষিত জায়গায় রাখতে হবে।

যদি মড়ক লাগে
খামারে মুরগির মৃত্যু বা মড়ক অনেক সময়ই হয় ও হতে পারে। যে কারণেই মড়ক লাগুক না কেন, দ্রুত নিকটস্থ পশুসম্পদ হাসপাতালে যোগাযোগ করতে হবে। মনে রাখবেন, চোখে দেখে কোনোভাবেই বোঝা যাবে না মৃত্যুর কারণ বার্ড ফ্লু ভাইরাস কি না। রোগের কারণ নিশ্চিত হওয়ার জন্য অবশ্যই ল্যাবরেটরি টেস্ট করাতে হবে। পাশুসম্পদ হাসপাতালের চিকিৎসক নির্দিষ্ট ল্যাবরেটরিতে রক্তের নমুনা পাঠিয়ে পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়ার পর আপনাকে নিশ্চিত করবেন রোগের কারণ কী। যদি বার্ড ফ্লু ভাইরাস পাওয়া যায়, তাহলে নির্দিষ্ট নিয়মের মাধ্যমে খামারের মুরগি নিধন ও ডিম নষ্ট করতে হবে এবং খামারের বর্জ্য পুড়িয়ে ফেলতে হবে।

যা করবেন
"" মুরগির মাংস ও ডিম ভালোভাবে রান্না ও সেদ্ধ করে খেতে হবে।
"" খাওয়ার আগে হাত ভালো করে সাবান দিয়ে ধুয়ে নিন।
"" ডিম ফ্রিজে রাখার আগে হালকা গরম পানি বা ডিটারজেন্ট মিশ্রিত পানিতে ধুয়ে রাখতে হবে।
"" বাড়ির হাঁস-মুরগি খাঁচায় ভরে রাখুন বা কোনো নির্দিষ্ট জায়গার বাইরে যেতে দেওয়া যাবে না।
"" খামারে কাজ করার সময় মাস্ক, গ্লাভস বা দস্তানা এবং অ্যাপ্রোন পরে কাজ করতে হবে।
"" খামারের ফুটপথে পা ধুয়ে প্রবেশ করুন।
"" হঠাৎ জাবর কাশি, গলার স্বর ভেঙে গেলে, চোখে কোনো সংক্রমণ হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

যা করবেন না
"" অতিথি পাখিদের শিকার ও খাওয়া যাবে না।
"" মুরগি কাটার ছুরি, বঁটি ও মাংস রাখার পাত্র গরম পানি ও সাবান দিয়ে ধুয়ে রাখতে হবে।
"" জীবন্ত মুরগি ছ্ড়াা কোনো রোগগ্রস্ত মুরগি, হাঁস, কবুতর কেনা বা খাওয়া যাবে না।
"" খামার শেড থেকে শিশুদের দুরে রাখতে হবে।
"" খামারের অসুস্থ মুরগি খাওয়া যাবে না।
"" গুজব বিশ্বাস করা যাবে না।
কৃতজ্ঞতাঃ
প্রথম আলো
মুর্শেদের ইউনিকোড লেখনী ও পরিবর্তক ২.১.০

তোমাকে ভালবাসি, তোমারই চরণে ঠাঁই,
মা,
তোমার ভালবাসার কোন তুলনা নাই।

Re: বার্ড ফ্লু: আমাদের করণীয়

ধন্যবাদ... অনেক তথ্যবহুল পোস্ট thumbs_up

অ আ ই ঈ উ ঊ ঋ এ ঐ ও ঔ
ক খ গ ঘ ঙ চ ছ জ ঝ ঞ ট ঠ ড ঢ ণ ত থ দ ধ ন প ফ ব ভ ম য র ল শ ষ স হ ক্ষ ড় ঢ় য়
ৎ ং ঃ ঁ

আলোকিত'এর ওয়েবসাইট

লেখাটি CC by-nc-nd 3. এর অধীনে প্রকাশিত

Re: বার্ড ফ্লু: আমাদের করণীয়

কালকে রাতে হোটেলে খেতে বসে কয়েকটা কথা মনে হল। অনেকে দেখলাম ডিমের পোচ খাচ্ছে। আমি আবার কয়েকদিন যাবত মুরগীর গোস্ত খাওয়া বন্ধ করেছি। কিন্তু তাতে কি কোন লাভ হবে? আমি হয়তো খাচ্ছি না। কিন্তু সেই একই লোক (যে মুরগী কেটেছে) তো মাছ বা অন্য তরকারীও কেটেছে। অতএব তার মাধ্যম থেকেও কি ছড়াতে পারে না?
সরকারের উচিত পাবলিক রেস্টুরেন্টে (স্টার গুলো বাদে) অন্য জায়গায় ডিম-মুরগী একেবারেই নিষিদ্ধ করা।

আজ থেকে প্রায় সম্ভবত ৭-৮ মাস আগেই আমি আজকের পরিস্থিতিটা উপলব্ধি করেছি। কারণ আমি স্পষ্টতই বুঝেছি পোলট্রি শিল্পকে বাঁচাতে/মালিকদের স্বার্থ রক্ষার্থে মিডিয়া একেবারেই চুপ ছিল। ১/২ টি রিপোর্ট ছাড়া তেমন কিছু পত্রিকায় প্রকাশও হত না। কিন্তু তখন থেকেই তারা ও সরকার যদি সচেতন থাকত তাহলে হয়তো আজকের এই পরিস্থিতি টা আসত না।

[img]http://twitstamp.com/thehungrycoder/standard.png[/img]
what to do?

Re: বার্ড ফ্লু: আমাদের করণীয়

অনেক কিছু জানলাম।

রক্তের গ্রুপ AB+

microqatar'এর ওয়েবসাইট

লেখাটি GPL v3 এর অধীনে প্রকাশিত

Re: বার্ড ফ্লু: আমাদের করণীয়

খুবই গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেছেন বর্তমান সময়ের কথা ভেবে।

Re: বার্ড ফ্লু: আমাদের করণীয়

আচ্ছা প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ ব্যাপারে মেইল করলে কেমন হয়:-??

...ঈশ্বরের মত
ভবঘুরে স্বপ্নগুলো.....                                                                        রক্তের গ্রুপঃ A+

Re: বার্ড ফ্লু: আমাদের করণীয়

খুবই ভাল হয়। আমাদের সবার পক্ষ থেকে আপনিই মেইল করে দিন।

Re: বার্ড ফ্লু: আমাদের করণীয়

আমার মনে হয় সরকার অলরেডি বিষয়টাকে সিরিয়াস হিসাবে নিয়েছে। পত্রিকা খবর অনুযায়ী নানান পদক্ষেপ পশুসম্পদ অধিদপ্ত্রর  বাস্তবায়ন করছে।

তোমাকে ভালবাসি, তোমারই চরণে ঠাঁই,
মা,
তোমার ভালবাসার কোন তুলনা নাই।

Re: বার্ড ফ্লু: আমাদের করণীয়

তপু লিখেছেন:

আমার মনে হয় সরকার অলরেডি বিষয়টাকে সিরিয়াস হিসাবে নিয়েছে। পত্রিকা খবর অনুযায়ী নানান পদক্ষেপ পশুসম্পদ অধিদপ্ত্রর  বাস্তবায়ন করছে।

কিন্তু এখন অনেক দেরি হয়ে গেছে। thumbs_downbrokenheart

[img]http://twitstamp.com/thehungrycoder/standard.png[/img]
what to do?

১০

Re: বার্ড ফ্লু: আমাদের করণীয়

স্বপ্নবাজ লিখেছেন:

আচ্ছা প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ ব্যাপারে মেইল করলে কেমন হয়:-??

ভালো বলেছেন।

১১ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন ??? (০৬-০২-২০০৮ ০৮:২২)

Re: বার্ড ফ্লু: আমাদের করণীয়

বার্ড ফ্লু নিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার উদ্বেগ, নিয়ন্ত্রণ না হলে মহামারির শঙ্কা

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা বা বার্ড ফ্লু নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংস্থাটির এক ঊর্ধ্বতন্রকর্মকর্তা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকারকে বার্ড ফ্লু মোকাবিলায় সম্ভাব্য সব রকম প্রস্তুতি গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, প্রযুক্তিগত জ্ঞান ও সুবিধা, সচেতনতা ও সতর্কতা অবলম্বন না করলে বার্ড ফ্লু মহামারি আকার্রেছড়িয়ে পড়তে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ওয়েবসাইটে আশঙ্কা করা হচ্ছে, যদি এ ভাইরাস মানুষ থেকে মানুষে ছড়ায় তা হলে বিশ্বজুড়ে কয়েক কোটি মানুষ মারা যেতে পারে।
ইতিহাস ঘেঁটে দেখা গেছে, গড়ে ৩০ বছর অন্তর বিশ্বে একটি মহামারি হয়েছে। এখন আরেকটি মহামারি অবশ্যম্ভাবী এবং সম্ভবত অতি আসন্ন বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন। ১৯১৯ সালের স্প্যানিশ ফ্লু প্যানডেমিক নামে বহুল পরিচিত মহামারিতে পৃথিবীর পাঁচ কোটি লোকের মৃত্যু হয়েছিল। ১৯৫৭ সালে এশিয়ান ফ্লু এবং ১৯৬৮ সালে হংকং ফ্লুতে ১০ লাখ করে মোট ২০ লাখ লোকের প্রাণহানি হয়েছিল। বার্ড ফ্লুর বর্তমান ব্যাপ্তিতে এটা নিয়ন্ত্রণ করতে গাফিলতি করলে এটা মহামারি হিসেবে দেখা দিতে পারে।
বাংলাদেশেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বিষয়টি নিয়ে চিন্তিত। তাঁরা বলেছেন, রোগ নিয়ন্ত্রণে সরকার গৃহীত পদক্ষেপগুলো খুব একটা পালিত হচ্ছে না। এর ফলেই বার্ড ফ্লু দ্রুত ছড়াচ্ছে। রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট− আইইডিসিআরের পরিচালক অধ্যাপক মাহমুদুর রহমান বলেছেন, বাংলাদেশে যত পরিমাণ কাক রোগটিতে আক্রান্ত হচ্ছে, অন্য কোনো দেশে এত বিপুল পরিমাণে কাক সংক্রমণের উদাহরণ নেই। তিনি বলেন, ‘সরকারের চেয়ে আমাদের নিজেদের সচেতনতা অনেক বেশি জরুরি। এগুলো আরও বেশি করে লিখেন।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন সরকারি পশু চিকিৎসক জানিয়েছেন, মেক্সিকোতে মুরগিতে বার্ড ফ্লু সংক্রমণের তিন বছর পর মানুষের মধ্যে রোগটি ছড়িয়েছিল। পাকিস্তানেও দুই বছর লেগেছিল। প্রতিনিয়ত যেহেতু বার্ড ফ্লু ভাইরাস অন্য ভাইরাসের সঙ্গে মিশে নতুন ভাইরাসের জন্ন দেয়, সেহেতু রোগটি প্রতিরোধে এক দিন বেশি সময় নিলেও তা বিপদের কারণ হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, সাধারণত মানবীয় ভাইরাসে আক্রান্ত কোনো মানুষ যদি বার্ড ফ্লু আক্রান্ত পাখির সংস্পর্শে আসে, তবে এ ক্ষেত্রে মানুষ বার্ড ফ্লু ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হতে পারে। এ ধরনের ঘটনা ঘটলে তার শরীরে মানবীয় ফ্লু এবং বার্ড ফ্লু উভয় ভাইরাস একসঙ্গে সক্রিয় হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল ফার্মাসি ও ফার্মাকোলজি বিভাগের অধ্যাপক মুনীরউদ্দিন আহমদ প্রথম আলোকে জানিয়েছেন, এ ক্ষেত্রে এ দুই ধরনের ভাইরাস মানব শরীরে একত্রে মিলিত হয়ে একে অপরের সঙ্গে জিন বিনিময়ের মাধ্যমে সম্পুর্ণ এক নতুন ধরনের ভাইরাস তৈরি করতে পারে। এ ভাইরাস দ্বারা সংক্রমিত কোনো মানুষ থেকে অন্য মানুষ সংক্রমিত হওয়ার ঘটনা ঘটলে মহামারির মতো বিপর্যয় দেখা দিতে পারে। থাইল্যান্ডে মা ও ছেলের মধ্যে এ রকম সংক্রমণের একটি উদাহরণ রয়েছে।

অতএব, আসুন আমরা বন্ধু-বান্ধব, পরিবারের সবার সাথে এটা নিয়ে আলোচনা করি সচেতন করার জন্য। এছাড়া বিকল্প নাই। ভাইরাস বাহিত রোগের ক্ষেত্রে প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধই উত্তম।
কৃতজ্ঞতাঃ
প্রথম আলো
মুর্শেদের ইউনিকোড লেখনী ও পরিবর্তক ২.১.০

তোমাকে ভালবাসি, তোমারই চরণে ঠাঁই,
মা,
তোমার ভালবাসার কোন তুলনা নাই।

১২ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন তপু (০৬-০২-২০০৮ ০৮:৩৪)

Re: বার্ড ফ্লু: আমাদের করণীয়

সচেতনাতার জন্য আমাদের যে জিনিসগুলো না জানলেই নয়।

বার্ড ফ্লু: আতঙ্ক নয়, চাই সচেতনতা
সারা বিশ্বেই তোলপাড় চলছে বার্ড ফ্লু নিয়ে। বার্ড ফ্লু মানুষ থেকে মানুষে ছড়ায় না। হাঁস-মুরগি থেকে কোনো মানুষে সংক্রমিত হলে সেই মানুষই শুধু এ রোগে আক্রান্ত হয় এবং সময়মতো চিকিৎসা না হলে মারা যায়। এভিয়ান ও হিউম্যান ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস পারস্পরিক মিউটেশনের মাধ্যমে জন্ন দিতে পারে একটি নভেল বা সম্পুর্ণ নতুন ভাইরাসের। ফলে দেখা দিতে পারে বিশ্ব জুড়ে প্যানডেমিক বা মহামারি।তাই বার্ড ফ্লু প্রতিরোধখুবই জরুরি। বিষয়টি নিয়েবিস্তারিত লিখেছেন জনস্বাস্থ্যবিশেষজ্ঞ ও এপিডেমিওলজিস্ট ডা. ইকবাল কবীর

বার্ড ফ্লু নিয়ে তোলপাড় কেন
এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা বা বার্ড ফ্লু−পাখির জ্বর, মানুষের নয়। তাহলে এটা নিয়ে দুনিয়া জুড়ে এত তোলপাড়ের কারণ কী−এ প্রশ্নটা অনেকেরই। জীবনের কোনো না কোনো সময় ফ্লুতে আক্রান্ত হননি, এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া কঠিন।
সিজনাল ফ্লু বা ঋতুভিত্তিক ইনফ্লুয়েঞ্জার অভিজ্ঞতা আমাদের আছে। বার্ড ফ্লু নতুন অভিজ্ঞতা। বার্ড ফ্লু পাখির অসুখ, পাখির মড়ক−কিন্তু মানুষে হলেও আর রক্ষা থাকে না। ভাইরাস। মারাত্মক। প্রতিনিয়তই স্বভাব পাল্টায়।
সাদামাটা চরিত্রের ভাইরাস স্বভাব বদলে হয়ে উঠতে পারে জীবনঘাতী। বার্ড ফ্লু ভাইরাসও সে রকমই। যেকোনো সময় চরিত্র বদলে মানুষের সংস্পর্শে এসে তৈরি করতে পারে আরেকটি ভয়ঙ্কর প্রজাতির নতুন ভাইরাস−দ্রুত ছড়িয়ে মহামারি তৈরি করতে পারে। সে জন্যই এটিকে নিয়ে এত তোলপাড়।

ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস
ইনফ্লুয়েঞ্জা পরিবারের "এ" ও "বি" ভাইরাসের রোগতাত্ত্বিক গুরুত্ব বেশি। এদের দুটো অ্যান্টিজেনিক অংশ রয়েছে। দুই ধরনের গ্লাইকোপ্রোটিন। হিমএগ্লুটিনিন (এইচ) ও নিউর‌্যামিনাইডেজ (এন)। এই গ্লাইকোপ্রোটিনগুলোর কার্যকারিতার ওপর ভিত্তি করে ইনফ্লুয়েঞ্জা "এ" ভাইরাসটিকে ১৬টি "এইচ"(H1-H16) এবং নয়টি "এন" (N1-N9) সাব-টাইপে ভাগ করা হয়।
http://wisdom.eu-egee.fr/avianflu/pictures/Influenza%20A%20Pandemics.jpg
http://wisdom.eu-egee.fr/avianflu/pictures/H5N1%20virus.jpg
বার্ড ফ্লু থেকে হিউম্যান ফ্লু
ইনফ্লুয়েঞ্জা "বি" সাধারণত মানুষেই হয়। ইনফ্লুয়েঞ্জা "এ" মানুষ এবং পাখিতেও হয়। বার্ড ফ্লু হয় "এ" ভাইরাস দিয়ে। এর কিছু স্ট্রেইন বা উপপ্রজাতি খুবই মারাত্মক।
এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা (এআই) ভাইরাসের মধ্যে আবার কম ক্ষতিকারক ও বেশি ক্ষতিকারক উপপ্রজাতি বা স্ট্রেইন রয়েছে। এ পর্যন্ত বেশি ক্ষতিকারক বার্ড ফ্লুর প্রাদুর্ভাব হয়েছে এইচ৫এন১ উপপ্রজাতির কারণে। কারণ এই এইচ৫এন১ ভাইরাসটিই এ পর্যন্ত পাখি থেকে মানুষে সংক্রমিত হয়েছে। বার্ড ফ্লু থেকে হিউম্যান ফ্লুতে আক্রান্ত হওয়ার সবচেয়ে বেশি ঝুঁকি রয়েছে এই এইচ৫এন১ হাইলি প্যাথজেনিক এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের মাধ্যমে।
দুনিয়া জুড়ে ১২টি দেশে গত পাঁচ বছরে ২৮১ জন আক্রান্ত হয়েছেন এই এইচ৫এন১ এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা বা বার্ড ফ্লু ভাইরাসে। মারা গেছেন ১৬৯ জন (তথ্যসুত্র ২০ মার্চ ২০০৭, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা)। ১৯৯৭ সালে হংকংয়ে সর্বপ্রথম মানুষ বার্ড ফ্লুতে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়।

ভয়ের কারণ কোথায়
বার্ড ফ্লু মানুষ থেকে মানুষে ছড়ায় না। হাঁস-মুরগি থেকে কোনো মানুষে সংক্রমিত হলে সেই মানুষই শুধু এ রোগে আক্রান্ত হয় এবং সময়মতো চিকিৎসা না হলে মারা যায়।
হাঁস-মুরগিতে বার্ড ফ্লুর জীবাণু থাকে অন্ত্রে। আর মানুষের মধ্যে যখন আসে, তখন এটি মানুষের ফুসফুসে অবস্থান করে। এটি ঢোকে নাক-মুখ দিয়ে। অর্থাৎ সংক্রমিত হাঁস-মুরগি-পাখির বিষ্ঠা থেকে নিঃশ্বাসের সঙ্গে এই জীবাণু ফুসফুসে চলে আসতে পারে। যারা হাঁস-মুরগি ও পাখি লালন-পালন করে, পরিষ্ককার করে, জবাই করে, চামড়া ছাড়ায়, কাটাকুটি করে−তাদের নাক দিয়েও এই জীবাণু ঢুকতে পারে। তীব্র শ্বাসকষ্ট থেকে হতে পারে মৃত্যু। ভয়টা এখানেই।

বার্ড ফ্লু কীভাবে ছড়ায়
ধরুন আপনি বাড়ির আঙিনায় ছোট খোঁয়াড়ে চারটি হাঁস ও চারটি মুরগি পালেন। এগুলো ডিম দেয়, পুষ্টি জোগায়। সকালবেলা হাঁস-মুরগিগুলোকে ছেড়ে দেন। সন্ধ্যায় খোঁয়াড়ে ঢোকান।
হাঁসগুলো আশপাশের পুকুরে যায় আর মুরগিগুলো এদিক-ওদিক। এইচ৫এন১ ভাইরাসে আক্রান্ত কোনো বন্যপাখি, সামুদ্রিক বা শীতের অতিথি পাখি উড়ে যাওয়ার সময় বিষ্ঠা ত্যাগ করল পুকুরে, যেখানে আপনার হাঁসগুলো ভেসে বেড়ায়−পানি সংক্রমিত হলো বিষ্ঠা থেকে, হাঁস সংক্রমিত হলো পানি থেকে। সংক্রমিত হাঁসগুলো থাকে মুরগিগুলোর সঙ্গে একই খোঁয়াড়ে।
ফলে হাঁস থেকে মুরগিতে ছড়াল। সকালবেলা খোঁয়াড় খুলে হাঁস-মুরগিকে খাবার দিলেন, ডিম নিলেন প্রতিদিনের মতো। ভাইরাসটি ছড়াল আপনার মধ্যেও।
পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে এভাবেই আক্রান্ত হয়েছে মানুষ। যারা হাঁস-মুরগির খামারে কাজ করে, কিংবা হাঁস-মুরগি বেচা-কেনা, জবাই-ড্রেসিং, কাটাকুটি ও রান্না করে−তারাও আছে ঝুঁকিপূর্ণ গোষ্ঠীতে।
আর সে কারণেই পোলট্রিতে মুরগিনিধন জরুরি। সংক্রমণ রোধের জন্য ১০ হাজার মুরগির চেয়ে একটা মানুষের জীবনের মূল্য বেশি নয় কি?

নভেল বা নতুন ভাইরাস হতে পারে প্যানডেমিক বা মহামারির কারণ
এভিয়ান ও হিউম্যান ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস পারস্পরিক মিউটেশনের মাধ্যমে জন্ন দিতে পারে একটি নভেল বা সম্পুর্ণ নতুন ভাইরাসের। বিগত শতাব্দীতে ১৯১৮, ১৯৫৭ ও ১৯৬৮ সালে এ ধরনের ঘটনায় বিশ্বব্যাপী দেখা দিয়েছিল মহামারি। আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন, এইচ৫এন১ এ ধরনের একটি পটেনশিয়াল ভাইরাস, যা এই শতাব্দীতে জন্ন দিতে পারে একটি নতুন প্যানডেমিকের। একটি মহামারি যখন ভৌগোলিক সীমা ছাড়িয়ে যায়, তখন তাকে প্যানডেমিক বলে।
১৯১৮-১৯ সালে প্যানডেমিক স্প্যানিশ ফ্লুতে (এইচ১এন১) চার কোটি, ১৯৫৭-৫৮ সালে প্যানডেমিক এশিয়ান ফ্লুতে (এইচ২এন২) ২০ লাখ এবং ১৯৬৮-৬৯ সালে প্যানডেমিক হংকং ফ্লুতে (এইচ৩এন২) সাত লাখেরও বেশি মানুষ মারা গেছে গোটা বিশ্বে। বিশ্বব্যাপী এভিয়ান ফ্লু থেকে আরেকটি সম্ভাব্য প্যানডেমিকের আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এ ধরনের প্যানডেমিক মোকাবিলায় ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে।
আমরা বর্তমানে প্যানডেমিক অ্যালার্ট পিরিয়ড ফেইজ থ্রিতে আছি। আসুন, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায়রুখে দিই বার্ড ফ্লু, রক্ষা করি বিশ্বকে আরেকটি ভয়ঙ্কর মহামারিথেকে।

হাঁস-মুরগি পালনে করণীয়
* বাড়িতে হাঁস ও মুরগি দুটোই পালন করলে−হাঁস ও মুরগি আলাদা খোঁয়াড়ে রাখুন।
* ঘরের হাঁস-মুরগির সঙ্গে বনের পাখি বা অতিথি পাখি রাখবেন না। যাঁরা বাড়িতে হাঁস-মুরগি লালন-পালন করেন, তাঁরা হাঁস-মুরগি ধরা, খোঁয়াড়ে দেওয়া কিংবা ডিম সংগ্রহের পর সাবান দিয়ে বিশুদ্ধ পানিতে হাত ধুয়ে ফেলুন, প্রতিবারই।
* হাঁস-মুরগি মরে গেলে খালি হাতে ধরবেন না বা নাড়াচাড়া করবেন না। পারতপক্ষে রোগাক্রান্ত হাঁস-মুরগি জবাই করা বা পালক ছাড়ানো বা কাটাকুটি থেকে বিরত থাকুন।
* রোগাক্রান্ত হাঁস-মুরগি জবাই করা বা পালক ছাড়ানো বা কাটাকুটির সময় গ্লাভ্স ব্যবহার করুন। নাক-মুখ ঢেকে রাখুন।
* শিশুরা যাতে হাঁস-মুরগি-কবুতর কিংবা অন্যান্য পাখি নিয়ে খেলা না করে, সেদিকে খেয়াল রাখুন।
* কোনো শিশু হাঁস-মুরগি-পাখি ধরলে সঙ্গে সঙ্গে ভালোভাবে সাবান দিয়ে হাত ধুইয়ে দিন।
* বাড়ির ছাদে হাঁস কিংবা মুরগি পালন করলে খাঁচাগুলো এমনভাবে ঢেকে রাখুন, যাতে উড়ন্ত পাখির বিষ্ঠা সেগুলোয় না পড়তে পারে।

স্বাস্থ্য সচেতনতায় যা করবেন
* আতঙ্কগ্রস্ত না হয়ে সম্পুর্ণ সেদ্ধ করে রান্না করা হাঁস, মুরগি, কবুতর বা অন্যপাখির মাংস খাওয়া যাবে।
* সম্পুর্ণ সেদ্ধ করে ডিম খাওয়া যাবে। অর্থাৎ অমলেট, রান্না করা, দুই পিঠেভেজে পোচ, মামলেট ইত্যাদি উপায়েডিম খাওয়া যাবে। হাফ-বয়েল ডিম খাওয়া যাবে না।
* হাঁস, মুরগি, কবুতর, পাখি ইত্যাদি ধরা, ছোঁয়া, নাড়াচাড়া কিংবা জবাই করার পর ছুরি, বঁটি ইত্যাদিসহ হাত সাবানপানি দিয়েধুয়েফেলতে হবে।
* শুধু ফার্মের হাঁস-মুরগি নয়, গৃহপালিত হাঁস-মুরগির ক্ষেত্রেও একই সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।
* যারা খামারি, অর্থাৎ খামারের বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বে নিয়োজিত, তাদের হাঁস-মুরগি প্রতিপালনের সময়নাক-মুখ ঢেকে কাজ করতে হবে।
* যারা বার্ড ফ্লুতে আক্রান্ত এলাকায়হাঁস, মুরগি, পাখিনিধনের সঙ্গে জড়িত, তাদের সরকারিভাবে সরবরাহ করা পোশাক, গ্লাভ্স, মাস্ক, মাথার ক্যাপ ইত্যাদি যথাযথভাবে পরতে হবে।
* প্রতিবার হাঁস, মুরগি, কবুতর ও পাখির সংস্পর্শেআসার পর সাবানপানি দিয়েভালোভাবে দুই হাত কবজি পর্যন্ত উভয় দিকে ধুয়ে ফেলতে হবে।
* শিশুরা যাতে হাঁস, মুরগি, কবুতর বা অন্যপাখি নিয়েখেলা না করে সেদিকে খেয়ালরাখুন। কোনো শিশু হাঁস, মুরগি, কবুতর বা অন্যপাখির সংস্পর্শেএলেসাবানপানি দিয়ে হাত ধুয়েনিন।
* রান্নার সময়মাংস কাটার পর আলাদা পাত্রে রাখতে হবে। কাটাকুটির পর বঁটি, দা ভালোভাবে সাবানপানি দিয়েধুয়েফেলতে হবে। রান্নার জন্যতৈরি কাঁচা মাংস আলাদা রাখতে হবে। অন্যান্যসবজির সঙ্গে মেশানো যাবে না।
* বার্ড ফ্লু ভাইরাস উচ্চ তাপে (৭০ ডিগ্রিসেন্টিগ্রেড) মরে যায়। তাই হাঁস, মুরগি, পাখি, কবুতরের মাংস ভালোভাবে রান্না করে খেতে হবে।

হঠাৎ ফ্লুতে আক্রান্ত হলে কী করবেন
* সাধারণসিজনাল ফ্লুতে আক্রান্ত হলেভয়ের কোনো কারণনেই।
* বার্ড ফ্লু ভাইরাস মানুষ থেকে মানুষে ছড়ায়না।
* হাঁস, মুরগি, কবুতর, পাখি লালন-পালনের সঙ্গে জড়িত কিংবা খামারে কাজ করেন, এমন কেউ হঠাৎ ফ্লুতে আক্রান্ত হলেসঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসকের পরামর্শনিন।
* যেসব এলাকায়ইতিমধ্যে বার্ড ফ্লু শনাক্ত হয়েছে সেখানেকেউ হঠাৎ ফ্লুতে আক্রান্ত হলে,অর্থাৎ জ্বর, সর্দি-কাশি, গায়ে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট ইত্যাদি লক্ষণদেখা দিলেসঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসকের পরামর্শনিন এবংপ্রতিরোধের জন্যটামিফ্লু বা অন্যওষুধ চিকিৎসকের পরামর্শঅনুযায়ী সেবন করুন।

কৃতজ্ঞতাঃ
প্রথম আলো
মুর্শেদের ইউনিকোড লেখনী ও পরিবর্তক ২.১.০

তোমাকে ভালবাসি, তোমারই চরণে ঠাঁই,
মা,
তোমার ভালবাসার কোন তুলনা নাই।

১৩

Re: বার্ড ফ্লু: আমাদের করণীয়

তপু লিখেছেন:

বার্ড ফ্লু নিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার উদ্বেগ, নিয়ন্ত্রণ না হলে মহামারির শঙ্কা

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা বা বার্ড ফ্লু নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংস্থাটির এক ঊর্ধ্বতন্রকর্মকর্তা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকারকে বার্ড ফ্লু মোকাবিলায় সম্ভাব্য সব রকম প্রস্তুতি গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, প্রযুক্তিগত জ্ঞান ও সুবিধা, সচেতনতা ও সতর্কতা অবলম্বন না করলে বার্ড ফ্লু মহামারি আকার্রেছড়িয়ে পড়তে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ওয়েবসাইটে আশঙ্কা করা হচ্ছে, যদি এ ভাইরাস মানুষ থেকে মানুষে ছড়ায় তা হলে বিশ্বজুড়ে কয়েক কোটি মানুষ মারা যেতে পারে।
ইতিহাস ঘেঁটে দেখা গেছে, গড়ে ৩০ বছর অন্তর বিশ্বে একটি মহামারি হয়েছে। এখন আরেকটি মহামারি অবশ্যম্ভাবী এবং সম্ভবত অতি আসন্ন বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন। ১৯১৯ সালের স্প্যানিশ ফ্লু প্যানডেমিক নামে বহুল পরিচিত মহামারিতে পৃথিবীর পাঁচ কোটি লোকের মৃত্যু হয়েছিল। ১৯৫৭ সালে এশিয়ান ফ্লু এবং ১৯৬৮ সালে হংকং ফ্লুতে ১০ লাখ করে মোট ২০ লাখ লোকের প্রাণহানি হয়েছিল। বার্ড ফ্লুর বর্তমান ব্যাপ্তিতে এটা নিয়ন্ত্রণ করতে গাফিলতি করলে এটা মহামারি হিসেবে দেখা দিতে পারে।
বাংলাদেশেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বিষয়টি নিয়ে চিন্তিত। তাঁরা বলেছেন, রোগ নিয়ন্ত্রণে সরকার গৃহীত পদক্ষেপগুলো খুব একটা পালিত হচ্ছে না। এর ফলেই বার্ড ফ্লু দ্রুত ছড়াচ্ছে। রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট− আইইডিসিআরের পরিচালক অধ্যাপক মাহমুদুর রহমান বলেছেন, বাংলাদেশে যত পরিমাণ কাক রোগটিতে আক্রান্ত হচ্ছে, অন্য কোনো দেশে এত বিপুল পরিমাণে কাক সংক্রমণের উদাহরণ নেই। তিনি বলেন, ‘সরকারের চেয়ে আমাদের নিজেদের সচেতনতা অনেক বেশি জরুরি। এগুলো আরও বেশি করে লিখেন।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন সরকারি পশু চিকিৎসক জানিয়েছেন, মেক্সিকোতে মুরগিতে বার্ড ফ্লু সংক্রমণের তিন বছর পর মানুষের মধ্যে রোগটি ছড়িয়েছিল। পাকিস্তানেও দুই বছর লেগেছিল। প্রতিনিয়ত যেহেতু বার্ড ফ্লু ভাইরাস অন্য ভাইরাসের সঙ্গে মিশে নতুন ভাইরাসের জন্ন দেয়, সেহেতু রোগটি প্রতিরোধে এক দিন বেশি সময় নিলেও তা বিপদের কারণ হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, সাধারণত মানবীয় ভাইরাসে আক্রান্ত কোনো মানুষ যদি বার্ড ফ্লু আক্রান্ত পাখির সংস্পর্শে আসে, তবে এ ক্ষেত্রে মানুষ বার্ড ফ্লু ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হতে পারে। এ ধরনের ঘটনা ঘটলে তার শরীরে মানবীয় ফ্লু এবং বার্ড ফ্লু উভয় ভাইরাস একসঙ্গে সক্রিয় হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল ফার্মাসি ও ফার্মাকোলজি বিভাগের অধ্যাপক মুনীরউদ্দিন আহমদ প্রথম আলোকে জানিয়েছেন, এ ক্ষেত্রে এ দুই ধরনের ভাইরাস মানব শরীরে একত্রে মিলিত হয়ে একে অপরের সঙ্গে জিন বিনিময়ের মাধ্যমে সম্পুর্ণ এক নতুন ধরনের ভাইরাস তৈরি করতে পারে। এ ভাইরাস দ্বারা সংক্রমিত কোনো মানুষ থেকে অন্য মানুষ সংক্রমিত হওয়ার ঘটনা ঘটলে মহামারির মতো বিপর্যয় দেখা দিতে পারে। থাইল্যান্ডে মা ও ছেলের মধ্যে এ রকম সংক্রমণের একটি উদাহরণ রয়েছে।

অতএব, আসুন আমরা বন্ধু-বান্ধব, পরিবারের সবার সাথে এটা নিয়ে আলোচনা করি সচেতন করার জন্য। এছাড়া বিকল্প নাই। ভাইরাস বাহিত রোগের ক্ষেত্রে প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধই উত্তম।
কৃতজ্ঞতাঃ
প্রথম আলো
মুর্শেদের ইউনিকোড লেখনী ও পরিবর্তক ২.১.০

thumbs_upthumbs_up(y)(y)(y)  আমি ও আপনার সাথে একমত:clap:(y)

[img]http://forum.projanmo.com/uploads/2008/02/890_I-LOVE-YOU.gif[/img]          ভালবাসা দিবস উপলক্ষে আপনাদের জন্য শুভকামনা রইলো. all the best my all friend, who are in love!!! have a nice day.
মো:সোহাগ.