টপিকঃ '' আমার ভালোবাসা ''

আজ 2.5 বছর পার হয়ে গেলো তোমার আর আমার সম্পর্কের , আসলে শুধু সম্পর্ক বললে ঠিক হবে না কারন আমি তো তোমাকে অনেক অনেক ভালোবাসি । কিন্তু আজ যত সহজে এই সম্পর্কের কথাটা বলতে বা লিখতে পারছি , ব্যাপারটা কিন্তু এত সহজ ছিল না । কি মনে করতে পারছ না । তাহলে চলো  2.5 বছর আগে ফিরে যায় । এই কাহিনীটা আজ তোমাকে উপহার দিলাম '''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''





                                     আমি তখন ২-২ সেমিস্টারে অন্য অনেকের মত ফোন এ কথা বলতে আমারও ভাল লাগত । এ ব্যাপারে আমার ভালোই পারদর্শিতা ছিল ( লোক মুখে শোনা  ) । যাইহোক আমি অমর একুশে হল এ ২০৮ রুম এ থাকতাম । আমার রুমমেট ছিল 2k3  ব্যাচের তিন বড় ভাই । তাদের সাথে আমার সম্পর্ক বন্ধুর মত ছিল । তাদের মধ্যে রুমান ভাই আমার খুব ক্লোজ ছিল । উনি তখন MS করছিলেন এবং মৌ নামের একটা মেয়েকে পড়াতেন । ও তোমার নাম যে অথৈ তাই তো বলা হয় নাই । তুমি আর মৌ খুব ভাল বন্ধু ছিলে , যদিও আমি অনেক পরে জানতে পারি । আমার পারদর্শিতায় মুগ্ধ হয়ে রুমান ভাই একদিন আমাকে বলল , তোমাকে ১ টা নাম্বার দিব ,  যদি তুমি ওর সাথে প্রেম করতে পার তাহলে হারুন এ খাওয়াবো ( একটা ভাল হোটেল , আমরা সেখানে প্রায়ই খায় ) আর যদি kiss করতে পার তাহলে রয়েল (খুলনার নামকরা হোটেল ) এ খাওয়াবো । অফারটা শুনে কোনরকম চিন্তাভাবনা না করেই রাজি হয়ে গেলাম । চিন্তা করলাম না কারন আমার তখন ফর্ম ছিল শচিনের মত । মারলেই ৬ ।



                                                           এখন আসি তোমার প্রসঙ্গে , প্রথমেই তোমার মনে হতে পারে কেন তোমার নাম্বারটা দেওয়া হল ? তুমি আর  মৌ খুব ভাল বন্ধু ছিলে আগেই তো বলেছি । ভাই যখন মৌ কে পড়াত তখন প্রায়ই তোমাকে আর আমাকে নিয়ে কথা হতো । ভাই বলতো আমার রুম এ একটা ছেলে আছে , সে যে মেয়ের সাথে কথা বলে সেই ওকে পছন্দ করে , আর মৌ বলতো স্যার , আমার বান্ধবিকে অনেকেই অফার দেয় কিন্তু ও রাজি হয় না বা ওর সাথে কেও প্রেম করতে পারে নাই । আমাকে পক্ষে ভাই আর তোমার পক্ষে মৌ , ভালোই নাকি জমতো তাদের মধ্যে । এভাবে আর কতদিন , তাই তারা একদিন সিদ্ধান্ত নিল ,এই পক্ষে বিপক্ষের একটা ফলাফল চাই । তাই মৌ একদিন ভাইকে তোমার নাম্বারটা দিয়ে বলল ,  আপনার ছোটভাইকে বলেন সে যেন পারলে আমার বান্ধবিকে তার প্রেমে রাজি করায় । এভাবেই তোমার নাম্বারটা আমি পায় ।



                                           যায়হোক নাম্বারটা পাওয়ার পর আমার পারদর্শিতা প্রমানের জন্যই হোক বা ভাইয়ের মান রাখার জন্যই হোক বা বাজি জেতার জন্যই হোক তোমাকে আমার প্রেমে ফেলতেই হবে , এই প্রতিজ্ঞা মনে মনে করে ফেললাম । কিন্ত কিভাবে শুরু করবো বুঝতে পারছিলাম না । পরে অবশ্য আমার নিজের একটা পদ্ধতি আপ্লাই করলাম , খুবই কমন ।



১ দিন ঃ

               তোমাকে ফোন দিলাম ,

হ্যালো , শ্রাবণতি আছে ?

তুমি , কোন শ্রাবণতি।

আমি , এটা শ্রাবণতির নাম্বার না ।

তুমি , না  wrong number ।

সেই থেকে শুরু । আমি তখনও জানতাম না আমার জন্য কি অপেক্ষা করছে । প্রথম দিন এতটুকুই কথা হয়েছিল । কি মনে পরছে তোমার । জানি মনে পরবে ।

২-১ দিন পর আমি আবার তোমাকে ফোন দিলাম , কথা হল কিছুক্ষণ । কেমন আছো , কেমন আছি এই টাইপের । তারপর থেকে প্রায় প্রতিদিনই তোমার সাথে কথা হতো । অবশ্য তোমার আমার আপডেট ভাইদের প্রতিদিনই জানাতে হতো ।



একদিন অনেকক্ষণ কথা হল , আমার ব্যালেন্স শেষ হওয়ার পর তুমি আমাকে ফোন দিলা । আমি তো মহা খুশি । ধীরে ধীরে আমাদের সম্পর্কটা বেশ ভালোর দিকে এগুতে লাগলো । অনেক অনেক কথা হতো আমাদের কিন্ত তখনও আমাদের ভিতর কোন সম্পর্ক গড়ে উঠেনি । এভাবে ২-৩ সপ্তাহ পার হয়ে গেলো । আমি তখনও জানি না কি অপেক্ষা করছে আমার জন্য ।



                               প্রতিদিনের মত সেদিন রাতে আমরা সবাই রুম এ আড্ডা দিচ্ছিলাম । রাত বাড়তে লাগলো । আমার মনে আছে তখন রাত প্রায় ৩ টা হবে । হঠাৎ কোন এক ভাই বললো , রিমন তোমার আর অথৈ  এর মধ্যে যা হচ্ছে তা কিন্ত অথৈ জানে । আমি তো আকাশ থেকে পরলাম , বললাম মানে কি । ভাইরা যা বললো তা শুনে আমার তো মাথা গরম হয়ে গেলো । উনারা বললেন তুমি কিভাবে কেন ওই মেয়ের সাথে কথা বল তা সে জানে । তারা আরও বললো , তোমার সাথে অথৈ এর যে কথা হতো তা রুমান ( যে আমাকে নাম্বার দিয়েছিল ) , মৌ ( বান্ধবি ) কনফারেঞ্চ এ শোনে । আসলে তোমরা ৩ জন প্লান করে আমার সাথে এগুলা করেছিলে ।  সেদিন রাতে তো ভাইরা আমাকে কঠিনতম মাত্রাই পচালেন । কি আর করা , আমার অবস্থা তখন রাজ্য হারা রাজার মত । তাই যে যা বলছে আমি বাধ্য ছেলের মত মাথা পেতে নিচ্ছি । হলের পচানি অনেকটা দোযখের আগুনের মতো । তাই আমি সবাইকে বললাম , আমি যদি ওই মেয়ের সাথে প্রেম করতে না পারি তাইলে জীবনে আর কোন দিন প্রেম করবো না। তাছাড়া পচানি খেয়ে এই প্রথম কোন মেয়ের সাথে প্রেম করার জন্য মনটা ব্যাকুল হয়ে উঠলো। প্রেম করতেই হবে , প্রতিশোধ নিতেই হবে ।



এরমাঝে আমাদের ভার্সিটি  ১ মাসের জন্য বন্ধ হয়ে গেলো । আমি বাসায় চলে গেলাম । তুমি তখন হঠাৎ তোমার নাম্বারটা change করলা । কি করি ? তোমার আর কোন নাম্বার আমার কাছে ছিল না । কিন্তু এ দিকে ভাইদের যন্ত্রণায় আমি অতিষ্ঠ । ৩-৪ দিন কোন আপডেট দিতে পারি না । রুমান ভাই অবশ্য তোমার warid নাম্বারটা আমাকে দিয়েছিল । কিন্ত আমি কিভাবে তোমাকে ফোন দেয় কারনটা হয়তো বুঝতে পারছ । তখন আমাদের ভার্সিটি বন্ধ ছিল , আমি বাসায় ছিলাম তবে ভাইরা প্রতিদিনই আমাকে ফোন দিয়ে আপডেট জানতে চাইতো । তাই একদিন তোমার নতুন নাম্বার এ ফোন দিলাম । তুমি জানতে চাইলে আমি তোমার নাম্বার কোথা থেকে পেলাম । আমি খুবই খোঁড়া একটা যুক্তি দেখালাম । বললাম আমার এক ভাই গ্রামীণফোন এ চাকরি করে , তুমি গ্রামীণ সিমটা কেনার সময় তোমার এই  warid নাম্বারটা ফর্ম এ দিয়েছিলে । সেখান থেকে নাম্বারটা কালেক্ট করেছি ।



                                     তুমি ব্যাপারটা নিয়ে বেশি বাড়াবাড়ি করলা না কারন , হয়তো তুমি জানতে আমি কোথা থেকে নাম্বারটা পেয়েছি। যায়হোক কোন এক অদ্ভুত কারনে আমাদের ভিতর '' আমি  ব্যাপারটা জানতে পেরেছি যে ,  তোমরা আমাকে নিয়ে মজা করেছো '' এই নিয়ে কোন কোথা হতো না । সেই সময় তুমি খুলনা ভার্সিটির ভর্তি পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলা । তুমি  busy আর আমি fully free । কিন্তু আমি তো আমার প্রতিজ্ঞার কথা ভুলে যায় নায় । আমি চিন্তা করলাম তোমার প্রতি কেয়ারিং হলে কাজ হলেও হতে পারে । যেই ভাবা সেই কাজ । আমি তোমার প্রতি কেয়ারিং হয়ে গেলাম । একটা কথা বলে রাখি যেহেতু তুমি আমার সাথে আগে অনেক কথা বলেছ তাই তখনও  কথা বলতা । বলা প্রয়োজন কেও তখন আমাদের কথা কনফারেঞ্চ এ শুনত না ।



                                                    তখন শীতের সময় ছিল , আমি প্রতিদিন খুব ভোঁরে তোমাকে ঘুম থেকে জাগাতাম । তুমি ব্রাশ করতা , হালকা কিছু খেতা , তারপর তুমি  পরতে বসলে  আমি ফোন রাখতাম । আবার ৯-১০ দিকে ফোন দিয়ে তোমাকে নাস্তা খাওয়ার কথা মনে করিয়ে দিতাম । কখনও আমি ফোন এ লাইনে থেকে তোমাকে খাওয়াতাম । এভাবে পড়ার ফাঁকে ফাঁকে আমি তোমাকে ফোন দিয়ে তোমার খোঁজ নিতাম । গোসল , দুপুরে খাওয়া , ঘুমানো , বিকালে ঘুম থেকে তোলা , কিছু মুখে দেওয়া , আবার পড়তে বসা ,রাতে খাওয়া , একটু কথা বলা , রাতে ঘুমানো সবকিছুর প্রতি আমার যথেষ্ট খেয়াল ছিল । এককথায় সবকিছু আমিই বলে বলে করাতাম । মনে আছে তুমি দাঁত দিয়ে নখ কাটতা , নাচতে তুমি ভালবাসতে কিন্তু নাচলে তোমার ব্যাকবোনে  ব্যাথা হতো , বারবার আমি তোমাকে বলায় তুমি এগুলা থেকে নিজেকে বিরত রেখেছিলে ।



                                                           মোটকথা তোমার ভিতর হঠাৎ আমূল পরিবর্তন আসলো । তোমার আম্মুও ব্যাপারটা খেয়াল করেছিলো । তাই তার সাথেও আমার কথা হয়েছিল একদিন । এভাবে এক এক করে কেটে গেলো ২৭-২৮ দিন । এর ভিতর আমি তোমার প্রতি আরও বেশি কেয়ারিং হয়ে গেলাম কারন আমার মাথায় আমার প্রতিজ্ঞার কথা সবসময় বাজত । ডিসেম্বরের ২৭-২৮ তারিখে অতি তুচ্ছ একটা কারনে তোমার সাথে আমার খুব ঝগড়া হয় । ঝগড়ার বিষয় ছিল "" বড়লোকের সুন্দরি মেয়েরা বেশ অহংকারী হয় '''' এর পক্ষে যুক্তি দেখাতে গিয়েই সব গোলমাল । তা না হলে আমি আমার লক্ষ্যের প্রায় কাছাকাছি চলে গিয়েছিলাম । তোমার সাথে আমার কথা বন্ধ । কোন কথা হয় না । আমারও কিছু করার নায় ।





                                             তারপর জানুয়ারির ২-৩ তারিখে আমি খুলনা চলে আসি । ব্যাপারটা আমার মাথায় থাকলেও ভাইদের মাথায় তেমন ছিল না । আর কত একটা ব্যাপার নিয়ে । যায়হোক ৪ তারিখে আমি ৯ তার দিকে রুম এ বসে আছি , হঠাৎ তোমার ফোন । আমি  আবার যেন আকাশ থেকে পরলাম । কেমন আছি , কেমন আছো টাইপের কথাবার্তা । আমি কেন ফোন দেয় নাই বা তুমি কেন ফোন দেও নায় এইসব মান অভিমান । তুমি আমাকে মিস করতা এটা আমাকে জানালে , আমিও তোমাকে মিস করতাম , আমিও জানালাম । মিস করাটাই স্বাভাবিক কারন আমি তোমাকে টানা ২৭-২৮ দিন যথেষ্ট কেয়ার করেছিলাম । তোমার আমাকে প্রতি মুহূর্তে মনে পরা উচিত । হয়তো তাই ই হয়েছিল । সত্যি বলতে আমিও মিস করতাম , তবে তা শুধুই প্রতিজ্ঞা রক্ষার জন্য । একসময় কথা প্রসঙ্গে এখনই  আমাকে তোমার দেখতে ইচ্ছা করছে জানালে , কি আর করা আমি ফোন বন্ধ করলাম । তখন রাত ১০.১৫ মত বাজে , খাওয়া হয় নাই । রুমান ভাই এর কাছ থেকে তোমার বাসার ঠিকানা নিয়ে যাত্রা করলাম তোমার বাসার উদ্দেশ্যে । আমাদের ক্যাম্পাস থেকে তোমাদের বাসায় যেতে ৪০- ৫0 মিনিট লাগে । যায়হোক তোমার বাসার সামনে গিয়ে ফোন অন করলাম এবং তোমাকে ফোন দিয়ে বললাম আমি তোমার বাসার সামনে । তুমি হয়তো আমার কথা প্রথমে বিশ্বাস করো নাই । কিন্তু জানালা দিয়ে আমাকে দেখে বিশ্বাস করেছিলে  । আমি তোমাকে দেখতে পারছিলাম না পরে তুমি লাইট জ্বালালে আমি তোমাকে কিছুটা দেখতে পেলাম । তখনও দেখাটা আমার কাছে মুখ্য নয় , প্রেমটাই আসল । ফোন এ কথা বলছি আর দুজন দুজনকে দেখছি । অদ্ভুত ব্যাপার । ৩০-৪০ মিনিট পর আমি তোমার বাসার সামনে থেকে চলে আসি । মনে পরেছে সেদিনই আমাদের প্রথম দেখা হয়েছিল ।





                                                 হয়তো সেদিনই আমার প্রতি তুমি মুগ্ধ হয়েছিলে । রুম এ আসার পর তোমার সাথে আমার অনেক অনেক কথা হল । ২-৩ দিন এভাবেই কাটল । তারপর ৭ তারিখ রাতে প্রতিদিনের মত ফোন দিলাম । কথা হচ্ছে , অনেক কথা । ১২ টার পর আমি তোমাকে প্রপোজ করলাম , তুমি ২-৩ মাস সময় চাইলে । কিন্তু আমার প্রতিজ্ঞা আমাকে স্থির থাকতে দিচ্ছে না । আমি তোমাকে একটু জোর করলাম । এরমাঝে আমি তোমাকে আমার ভাণ্ডারে থাকা সব ভালোবাসার কথাই জানালাম । তারপর তুমি ৭-৮ দিন সময় নিলা । কিন্তু আমার মন তো সহে না। অবশেষে তুমি আমার মিথ্যা ভালোবাসার কাছে পরাজিত হলে । তুমি আমার ভালোবাসা মেনে নিলে ।





                                    কি মনে পরেছে । আমার মুখে রাজ্যের হাসি । ভাইদের বললাম , তারা তো প্রথমে বিশ্বাসই করতে চাই না । যায়হোক পরে সবাই বিশ্বাস করলো । কিন্তু ভাই আমাকে এখনও খাওয়ায় নাই ।



                                                      এরপরের কাহিনী তো শুধুই তোমার । একটা মিথ্যা ভালোবাসা কিভাবে তুমি সত্যি ভালবাসায়  পরিণত করলে '''''''''''''''''''''''''''''''''' প্রথমে তুমি আমার মিথ্যা ভালোবাসার কাছে হার মেনেছিলা আর আবার আমি তোমার সত্যি ভালোবাসার কাছে হার মানলাম '''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''' ।



               আজ থাক অন্য কোন বিশেষ দিনে পরের কাহিনীটা তোমাকে উপহার দিব ''''''''''''''''''''''''''''''''''' ।

Re: '' আমার ভালোবাসা ''

smile smile বাহ! আমার কাজে দিবে! আর আপনাকে অভিন্দন    thumbs_up hug

roll