সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন হাসান-মাহমুদ (০৯-০৭-২০১১ ০২:৩২)

টপিকঃ ভালবাসা এবং বিয়ে

প্রথমেই বলি কেউ ভাববেন না আমি কোনো সাহিত্যিক, লাভ গুরু, প্রেমবিদ, উপন্যাসিক ইত্যাদি। ফোরামের অনেক লেখা (ভালবাসা নিয়ে) পড়ে আমার কিছু ভাবনা হল, তাই ভাবনাটা আপনাদের সাথে শেয়ার করলাম।

ভালবাসা শব্দটি আমরা ভিবিন্নভাবে ব্যবহার করতে পারি। সৃষ্টিকর্তা এবং মানুষের মধ্যে একে অপরের ভালবাসা, অসহায় মানুষের প্রতি ধনবানদের ভালবাসা (যারা বাসেন), সন্তান এবং মায়র মধ্যে একে অপরের ভালবাসা। তবে নারী পুরুষের মধ্যে যে ভালবাসা (যেটাকে আমরা প্রেমও বলি) এ বিষয়ে কিছু লেখা শেয়ার করলাম।

বর্তমান যুগ প্রেম বা ভালবাসার যুগ বলতে পারি। কারণ সবার মধ্যেই প্রেম বা ভালবাসা আছে। অনেকে সেটিকে কাজে লাগায় আবার অনেকে সেটিকে তার মনের মধ্যে তালাবদ্ব করে রাখে। কোনো পছন্দের একটি মেয়ে দেখলে ভালবাসার কথাটা বেরিয়ে আসতে চায় কিন্তু কিছু একটা ভেবে আবার তালাবদ্ব করে। আর যারা কাজে লাগান তাদের ব্যপারে আর কি বলব।

কোনো ব্যক্তিই (জ্ঞানী, বিশিস্ট ব্যক্তি) ভালবাসাকে খারাপভাবে দেখেন না। তবে যারা একে অপরকে ভালবাসেন তাদের মধ্যে অনেকে “ভালবাসা” শব্দটিকে ব্যবহার করে ভালবাসেন। ভালবাসা শুধু একটি ছেলে অথবা একটি মেয়ের জন্য নয় (মানে অনেককে)। ভালবাসাটা ছোট বেলার সেই পুতুল খেলার মত। একজনকে পছন্দ করে তাঁর সাথে কিছু দিন সম্পর্ক রেখে আবার অন্য কাউকে ধরা। এ রকম করতে করতে আবার অনেকে সেঞ্চুরী করার চিন্তাও করে (কেউ মাইন্ড কইরেন না)। আবার অনেকে ভালবাসা শব্দটির আসল মহত্ব দিয়ে ভালবাসেন। একে অপরের কাছ থেকে সত্যিকারের ভালবাসা পাওয়ার জন্য ভালবাসেন। সারা জীবনের জন্য ঘর বাঁধার স্বপ্ন নিয়ে ভালবাসেন।

একটি ছেলে/যুবক একটি মেয়েকে/যুবতীকে অথবা একটি মেয়ে/যুবতী একটি ছেলেকে/যুবকে ভালবাসার কথাটি বোঝায় (সেটি হতে পারে সরাসরি নয়তুবা আকার-ইঙ্গিতে) তখন কি একবার ভাবা উচিত না যে আমাদের এ সম্পর্কটা (যদি সেটা সত্যিকারের ভালবাসা হয়) সবাই মেনে নিবে কি না? অনেকেই একে অপরকে ভালবাসে বিয়ে করে ঠিকই কিন্তু একে অপরের ঠিকানা (কোথায় তার বাড়ি, কোথায় তার মা-বাবা) জানে না। হয়তবা ভালবাসার সত্যটাকে ভালবেসে তাই। কিছু দিন আগে আমার এক পরিচিত ভাই (কোনো আত্নীয় না) বলল তাহার এক ভাই (ফুফাতো/মামাতে/খালাতো/কাকাতো/জ্যাঠাতো) অনেকদিন একটি মেয়ের সাথে সম্পর্ক করে বিয়ে করার মাস খানিক পরেই সে মেয়েটা তাকে ছেরে চলে যায় অন্য আর একজনের সাথে। বিবাহ বিচ্ছেদের কাগজ পাবার আগে এমন একটিও স্থান সে খুঁজে পায় না যে, তাহাকে খোঁজ করবে। অথচ এই প্রেম, বিয়ে সম্পর্কে তার কেউ(মা, বাবা, আত্নীয়-স্বজন) কিছুই জানত না। বিবাহ বিচ্ছেদের কাগজ পাবার পরে সবাই জানে। আমরা(আমি এবং সেই ভাই) মাঝে মাঝে বলি ভাই শুকনো যায়গায় আছার খেয়েছে। তাঁর কাছে কি এই প্রশ্নটা জাগতে পারে না যে, প্রেম-বিয়ে এটা আমি স্বপ্ন দেখিনিতো? আবার এ রকমও আছে প্রেম করার শুরু থেকে সবাই(মা-বাবা, আত্নীয়-স্বজন) জানে এবং দুটো পরিবারের মধ্যে বিয়ের এগেই একটি ভাল সম্পর্ক গড়ে ওঠে কিন্তু তাদের দুই জনের মধ্যে থাকে দন্দ। হয়তবা অনেক ভালবাসার জন্য। এরকম অনেক ঘটনা আছে যা কম বেশি আমরা সকলেরই জানা আছে, শোনা আছে। তাই ঘটনা লিখে টপিক বড় করতে চাই না।

আমরা অনেকেউ ভাবি ভালবাসা এবং বিয়ে শুধু দুই জনের মধ্যে সীমাবদ্ব থাকে না। বিয়ে করে দুটো পরিবারের দুই জনে কিন্তু আনন্দ করে সবাই (আত্নীয়-স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশী)।আর সেই জন্য প্রেমের প্রস্তাব দেওয়ার আগে আমাদের একটু ভাবা উচিত না যে আমি যাহার সাথে সম্পর্ক করব (সত্যিকারের ভালবাসার ক্ষেত্রে) সেটি সবাই (মা-বাবা, আত্নীয়-স্বজন) মেনে নিবে কি না? ভালবাসা কোনো বাঁধা, নিশেদ, ন্যায়, অন্যায়, ধনী, গড়ীব মানে না এটা আমরা সকলেই জানি। কিন্তু এমন ভালবাসা জন্ম দিতে পারি না যাহাতে এরকম প্রশ্নের/বেধাবেদের (বাঁধা, নিষেধ, ন্যায়, অন্যায়, ধনী, গড়ীব) সম্মুক্ষিণ হতে হয়? মা-বাবা ছোট থেকে সকল প্রকার পরিশ্রম দিয়ে আমাদের বড় করে কিসের জন্য, আমারা যাহাতে সুন্দর একটি জীবন নিয়ে বেচে থাকতে পারি সেই জন্য না কি আমরা তাদের কথা এবং কাজের অবাধ্য হওয়ার জন্য? প্রত্যেকটি মা-বাবা যে অবস্থাতেই থাকুক না কেন তাহারা তাঁর সন্তানের জন্য মঙ্গল কমনা করে এটা আমরা সকলেই বিশ্বাস করি। কিন্তু আমরা কি পারিনা তাদের চাহিদাগুলো একটু একটু করে পুরন করতে? জানতে চাইতে পারিনা তাঁরা আমাদের কাছে কি চায়? যদি এই প্রশ্নগুলো আমাদের মনে জাগিয়ে কাউকে ভালবাসতে পারি সেটিই কি হবে না শ্রেষ্ঠ ভালবাসা?

বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ লেখা সুন্দরভাবে সাজিয়ে লিখতে পারি নাই মনে হয়। লেখার ভিতর ভুল হতে পরে তাই দুঃক্ষিত। কারও ভাল না লাগলে অযথা পোষ্ট করবেন না।

"নামাজ সকল খারাপ কাজ থেকে দূরে রাখে এবং মনকে পরিস্কার রাখে।"

নামাজ, রোযা সকল মুসলমানের জন্য ফরজ। সকলে রোযা রাখি, নামাজ পড়ি, আল্লাহর হুকুম পালন করি এবং রাসুল(সাঃ)-এর সুন্নাত আদায় করি।