সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন রিপন মজুমদার (২৪-০৯-২০১০ ১৪:৩৪)

টপিকঃ সকালে যখন ঘর ছাড়ি তখন সবকিছু ঠিকঠাক ছিল

অবৈধ কিছু করে লাভ কি?- এ নিয়ে লিখে কোন লাভ নেই। বরং ক্ষতি কি- এ নিয়ে লিখি।

অবৈধ কিছু করে বাসায় ফিরে দেখলেন আপনার স্ত্রী অসুস্থ কিংবা বাচ্চা একটা দুর্ঘটনা ঘটিয়ে বসে আছে। অথবা বাসার কাছে এসে রিক্সা থেকে নামতে গিয়ে কোমরে হালকা চোট পেলেন। এ চোট এমনই চোট সারা রাতেও ব্যাথা সারলো না। অর্থোপেডিক্স চিকিৎসা চলতে থাকলো আজীবন। অথচ সকালে যখন ঘর ছাড়েন তখন সবকিছু ঠিকঠাক ছিল।

যেমন ধরুন, ঘুষ। সবচেয়ে ভয়ঙ্কর সেই ঘুষ- যে ঘুষের সাথে ঘুষদাতার দীর্ঘশ্বাস জড়িয়ে থাকে।

এক ঘুষখোরের গলায় মাছের কাঁটা বিঁধেছিলো। শুকনো ভাত গিললো। চিঁড়া, কলা গিলে খেয়েও কাঁটা নামলো না। গলায় আঙ্গুল দিয়ে খোঁচালো। বমি করলো। কিছুতেই কিছু হলো না। রাতের মধ্যেই গলায় ব্যাথা শুরু হলো। গলা ফুলে গেলো। অবশেষে ডাক্তার। একদিকে ওষুধপত্র চলছে, অপরদিকে গলায় খোঁচাখুচি। একদিন ইনফেকশন দেখা দিলো। এমনই ইনফেকশন যে সারলো না। অপারেশন হলো। মুখ দিয়ে খাওয়া বন্ধ হয়ে গেলো। নলযোগে তরল খাবার চললো কিছুদিন। কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা খরচ হলো। অবশেষে একদিন সব ঠিক হলো। কিন্তু হারিয়ে গেলো বাকশক্তি। এখন কথা বলতে পারেনা সে। ইশারায় কাজ চালিয়ে নিতে হয়।

এখানে একটা কথা বলে রাখি। কেউ কেউ মনে করতে পারেন যে, ঘুষ শুধু সরকারী/ বেসরকারী চাকরিতেই প্রচলিত। আসলে মোটেও তা নয়। ঘুষ চলছে সমাজের প্রায় সকল ক্ষেত্রে। রন্ধ্রে রন্ধ্রে।

সারা বছরেও আপনার জ্বর, জন্ডিস, টাইফয়েড, ডায়রিয়া- একবারও হচ্ছে না। অথচ আপনার সহকর্মীকে এ রোগগুলো যেন ছাড়ছেই না। আপনার বাচ্চার জ্বর, সর্দি- কাশি হলে তুলশীপাতার রস খাইয়ে দিলেই সেরে যাচ্ছে। অথচ ওর সমবয়সী অপর এক বাচ্চার ক্ষেত্রে প্রতিবারই শিশু হাসপাতালের বিশেষজ্ঞকে দেখাতে হচ্ছে। ফুল কোর্স এন্টিবায়োটিক লাগছে-

এর কোন ব্যাখ্যা আমার জানা নেই। শুধু এটুকু জানি, আল্লাহকে স্বাক্ষী রেখে আপনি নিজ দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। নিজের লাভের কথা না ভেবে উদয়াস্ত পরিশ্রম করছেন। আপনার সহকর্মী তা করছেন না। ফাঁকি দিচ্ছেন।

আপনি সোপার্জিত অর্থে বৈধভাবে অতি সাধারণ দিনাতিপাত করছেন। আপনার সহকর্মী তা করছেন না। তার ক্ষেত্রে আপনার চেয়ে কয়েকগুণ বেশী অর্থের প্রয়োজন হচ্ছে এবং সেই অর্থের যোগান হচ্ছে অবৈধভাবে।

একজন প্রশিক্ষক প্রশিক্ষণার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠানে বলছেন, "ধরে নিন, আপনি কোন ব্যক্তির কাছ থেকে ঘুষ নিচ্ছেন না তাই সবাই আপনাকে সৎ বলে জানে। অথচ আইন-কানুনের ফাঁক ফোঁকড় ব্যবহার করে ব্যক্তিগত প্রয়োজনে সরকারী কোষাগারের অর্থ ব্যয় করছেন দেদারসে। সারা জীবনে কোন ব্যক্তির কাছ থেকে এক কানা কড়ি ঘুষ না নিয়েও আপনি অতি ভয়ঙ্কর যে অন্যায় করছেন তা হচ্ছে, সরকারী কোষাগারের অর্থে দেশের কোটি কোটি আপামর মেহনতী মানুষের করের টাকা খাচ্ছেন। তাই মাফ চাইতে হলে কোটি কোটি মানুষের নিকট থেকে চাইতে হবে। যা অসম্ভব!"

আসুন, অবৈধ সকল কিছু নিজের জীবন থেকে পরিত্যাগ করি। আজ থেকেই শুরু হোক। একবারে না পারি। ধীরে ধীরেই হোক।

You'll never reach your destination if you stop and throw stones at every dog that barks.

Re: সকালে যখন ঘর ছাড়ি তখন সবকিছু ঠিকঠাক ছিল

চরম সুন্দর কিছু কথা শুনালেন । এত ভাল করে গুছিয়ে কয়জন লিখতে পারে ? আপনার কথার সাথে আমার বিশ্বাসের পুরোপুরি মিল আছে ।
ধন্যবাদ ভাই ।

IMDb; Phone: Huawei Y9 (2018); PC: Windows 10 Pro 64-bit

Re: সকালে যখন ঘর ছাড়ি তখন সবকিছু ঠিকঠাক ছিল

বোরহান লিখেছেন:

চরম সুন্দর কিছু কথা শুনালেন । এত ভাল করে গুছিয়ে কয়জন লিখতে পারে ?...

এরকম একটা মন্তব্য যে পরিমাণ মানসিক শক্তি তৈরী করে তাই দিয়ে লিখা যায় দিনের পর দিন।

You'll never reach your destination if you stop and throw stones at every dog that barks.

Re: সকালে যখন ঘর ছাড়ি তখন সবকিছু ঠিকঠাক ছিল

অনেক সুন্দর করে উপস্থাপন করেছেন। কোন দৈনিক পত্রিকায় পাঠিয়ে দিলে ভাল হতো।  thumbs_up
যাইহোক প্রথমেই আমাদের সাথে শেয়ার করায় আপনাকে ধন্যবাদ।
আল্লাহ সবাইকে এচরম সত্য উপলব্দী করার মত জ্ঞান দিক। (আমিন)

Allah is a better planner... so whenever u'r plan fails, cheer up... Allah has a better plan for you

Shahanur79'এর ওয়েবসাইট

লেখাটি CC by-nc 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

Re: সকালে যখন ঘর ছাড়ি তখন সবকিছু ঠিকঠাক ছিল

আমাদের দেশে দূর্নীতি ও মিথ্যা এমনভাবে ছেয়ে গেছে যে আর ৫-১০ বছর পর মিথ্যা, অন্যায়, ঘুষ এসব শব্দগুলো শুনলে মানুষ হয়তো অবাক হবে।  কারণ সেগুলোই সম্ভবত স্বাভািবক হয়ে যাবে।  thumbs_down

নাহ শুধু সরকারী নয় প্রতিটি জায়গায়তেই হচ্ছে। নগন্ন কিছু সংখ্যা ছাড়া যে যার পক্ষে সর্বোচ্চ যতটা সম্ভব ঠিক ততটুকই দূর্নীতি করছে।

আপনার লেখাটি ভাল। কিন্তু মানুষের হৃদয় (দূর্নীতিগ্রস্থদের) এতটাই কঠিন হয়ে গেছে এগুলো তাদের কাছে কৌতুকও মনে হতে পারে। hairpull

[img]http://twitstamp.com/thehungrycoder/standard.png[/img]
what to do?

Re: সকালে যখন ঘর ছাড়ি তখন সবকিছু ঠিকঠাক ছিল

Shahanur79 লিখেছেন:

...কোন দৈনিক পত্রিকায় পাঠিয়ে দিলে ভাল হতো।...

জনসচেতনতামূলক লেখা। যদি চান, যেখানে খুশি পাঠিয়ে দিন। আমার অনুমতি নেয়া বা নাম ব্যবহার করারও দরকার নেই। প্রয়োজনে এডিটও করতে পারেন।

You'll never reach your destination if you stop and throw stones at every dog that barks.

Re: সকালে যখন ঘর ছাড়ি তখন সবকিছু ঠিকঠাক ছিল

Ripon Majumder লিখেছেন:

এখানে একটা কথা বলে রাখি। কেউ কেউ মনে করতে পারেন যে, ঘুষ শুধু সরকারী/ বেসরকারী চাকরিতেই প্রচলিত। আসলে মোটেও তা নয়। ঘুষ চলছে সমাজের প্রায় সকল ক্ষেত্রে। রন্ধ্রে রন্ধ্রে।

দারুনভাবে সহমত পোষন করি। আপনার লিখাটা দারুন হয়েছে। ধন্যবাদ

Re: সকালে যখন ঘর ছাড়ি তখন সবকিছু ঠিকঠাক ছিল

সুন্দর ভাবে উপস্থাপ্ন করার জন্য ধনুয়বাদ।

আল্লাহ আপনি মহান

Re: সকালে যখন ঘর ছাড়ি তখন সবকিছু ঠিকঠাক ছিল

চমৎকার লিখেছেন ভাই।  clapthumbs_up এর জন্য আপনার অবশ্যই রেপু পাওয়া উচিত +

১০

Re: সকালে যখন ঘর ছাড়ি তখন সবকিছু ঠিকঠাক ছিল

আমাদের একজনের বাবা একদিন ১০০০০/- টাকা ঘুষ নিয়েছিল (১৯৯৩ সালে) এবং পরের দিন খবর পেল ছেলের পা ভেঙ্গে গেছে সাথে সাথেই সে টাকা ঘুষদাতাকে ফেরৎ দিল এবং আজ পর্যন্ত সে ঘুষ নেয় নি।
সঙ্গত কারনেই নামটা বললাম না।

১১ সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন জেলাল (১২-১১-২০১০ ১২:১৮)

Re: সকালে যখন ঘর ছাড়ি তখন সবকিছু ঠিকঠাক ছিল

একসময় একটি জাপানীজ এনজিওর অফিসে অফিস ম্যানেজারের চাকুরী করতাম। তো, ঢাকা সিটি কর্পোরেশন অফিসে ট্যাক্স দিতে গেলাম। দেখি যে ওদের বিশাল একটি ফাইলে আমাদের অর্গানাইজেশনটির নামই ভুল। দোষটা ওদেরই। অনুরোধ করলাম সংশোধনের জন্য। বলল, কিছু চা-নাস্তার পয়সা দিতে। হকচকিয়ে গেলাম। বাইরে এসে আমাদের জাপানীজ রিপ্রেজেন্টেটিভ স্যারকে ফোন করলাম। উনি বললেন- "দিয়ে এসো"। আমার জীবনে এইরকম "চা-নাস্তার" পয়সা দেয়ার অভিজ্ঞতা যতদুর মনে পড়ে ওটাই প্রথম ছিল। যাইহোক, অফিসে আসার পরে প্রশ্ন উঠলো বিল করবো কোন খাতে। ঘুষ? না, ওটার খাত হলো "কো-অপারেশন ফি"।

হায়রে, কো-অপারেশন ফি! এদেশে তুইও কলংকিত হলি।

রিপণ ভাইকে ধন্যবাদ প্রসঙ্গটা লেখনিতে তুলে আনার জন্য।

১২

Re: সকালে যখন ঘর ছাড়ি তখন সবকিছু ঠিকঠাক ছিল

হুমম দারুন মিলে যাচ্ছে আপনার লিখার সাথে! এমনটাই হয় এসব ব্যাক্তিদের। আল্লাহ পাক কোন দিক দিয়ে শাস্তি দিয়ে দিবে সে নিজেও আন্দাজ করতে পারবেন।

১৩

Re: সকালে যখন ঘর ছাড়ি তখন সবকিছু ঠিকঠাক ছিল

ভাল লাগল লেখাটি। চেষ্টা থাকে বৈধ ভাবেই সব কিছু করার, এবং এই চেষ্টাই করে যাবো।

ওয়েব হোস্টিং | রিসেলার হোস্টিং | অনলাইন রেডিও হোস্টিং
টেট্রাহোস্ট বাংলাদেশ - www.tetrahostbd.com

১৪

Re: সকালে যখন ঘর ছাড়ি তখন সবকিছু ঠিকঠাক ছিল

অনেকদিন পরে এই লেখাটি পড়লাম। মন্তব্যও করলাম অনেকদিন পর। অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে।
আমার তরফ থেকে ছোটো একটি প্লাস নেন।

অল্প কিছু শব্দের মাধ্যমে অনেক সওয়াব পেতে হাদীস অনুযায়ী নিচের শব্দগুলোই যথেষ্ট।
সুবহানাল্লাহ,আলহামদুলিল্লাহ,লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আল্লাহু আকবার ।
অর্থ:-  আল্লাহু সুমহান , আল্লাহ-র জন্যই সমস্ত প্রশংসা,আল্লাহু ছাড়া কোনো ইলাহ নেই,আল্লাহ বিরাট ( মহান ) ।

imran ahmed'এর ওয়েবসাইট

লেখাটি CC by 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

১৫

Re: সকালে যখন ঘর ছাড়ি তখন সবকিছু ঠিকঠাক ছিল

লেখাটির সারমর্ম মনেহয় এটা, 'যেমন কর্ম তেমন ফল।'

রাবনে বানাদি ভুড়ি :-(

১৬

Re: সকালে যখন ঘর ছাড়ি তখন সবকিছু ঠিকঠাক ছিল

বেশ ভাল লিখেছেন।শাস্তি পেতেই হবে,হয় এই দুনিয়ায়,অথবা পরকালে।

"আমি তোমাদেরকে ভয়,ক্ষুধা এবং ধন সম্পদ,জীবন ও ফল ফসলের ক্ষয়ক্ষতি দ্বারা অবশ্য পরীক্ষা করব।তুমি শুভ সংবাদ দাও ধৈর্যশীলগণকে- যারা তাদের উপর বিপদ আপতিত হলে বলে-'আমরা তো আল্লাহরই এবং নিশ্চিতভাবে তাঁর দিকেই প্রত্যাবর্তনকারী'।"--- সূরা বাকারা(১৫৫,১৫৬)
তাই আমার মনে হয়,খারাপ অবস্থায় থাকলেও, আমাদের কারোরই হতাশ হওয়া উচিত না। smile

১৭

Re: সকালে যখন ঘর ছাড়ি তখন সবকিছু ঠিকঠাক ছিল

সত্যিই অসাধারণ হয়েছে লিখাটা......

আল্লাহর কাছে সবচেয়ে পছন্দনিয় তাছবিহ হলো "সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি সুবহানাল্লাহিল আযীম"