সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন ঝামেলা (১৫-০৩-২০১১ ১২:২৮)

টপিকঃ গনোরিয়া : কারণ ও চিকিৎসা ।

গনোরিয়া এক সাধারণ যৌন সংক্রামক রোগ। সমগ্র বিশ্বে প্রতিবছর প্রায় ২০০ মিলিয়ন লোক এতে আক্রান্ত হচ্ছে। খুব কম ক্ষেত্রেই কেউ মারা যায়। তবে এ রোগ থেকে মারাত্দক জটিলতা দেখা দেয়, বিশেষ করে মহিলাদের ক্ষেত্রে। যে ব্যাকটেরিয়া এ রোগের বিস্তার ঘটায় তার নাম 'নাইসেরিয়া গনোরিয়া'।মহিলাদের চেয়ে পুরুষরা (বয়স ১৫ থেকে ৩০ এর মধ্যে) এ যৌনরোগে বেশি আক্রান্ত হন। গনোরিয়ার জীবাণু 'নাইসেরিয়া গনোরিয়া' দীর্ঘদিন শরীরের বাইরে টিকে থাকতে পারে না। এরা বেঁচে থাকে কেবল নিবিড় যৌন সংসর্গের মাধ্যমে এক দেহ থেকে অন্য দেহে স্থানান্তরিত হয়ে। গনোরিয়া সংক্রমণ অর্জিত হয় সংক্রমিত লোকের সঙ্গে যৌন সংসর্গের দ্বারা।অল্প বয়স্ক মেয়ে এবং শিশুরা এ রোগ অর্জন করতে পারে সংক্রমিত বিছানার চাদর অথবা তোয়ালে থেকে। ঘনবসতি এবং অপরিচ্ছন্নতা থেকে বাচ্চাদের গনোরিয়া হতে পারে। একজন ব্যক্তি গনোরিয়া থেকে মুক্তি পেলেও পুনরায় এ রোগে আক্রান্ত হতে পারে যদি সেখানে স্বল্প সংক্রমণ থেকে যারা কিংবা গনোরিয়ায় আক্রান্ত কারো সঙ্গে যৌনমিলন ঘটে অথবা কোনো প্রতিরোধ ব্যবস্থা গ্রহণ করলে। প্রস্রাবের যন্ত্রণা, প্রস্রাবের তীব্র আকাঙ্ক্ষা, ঘন ঘন প্রস্রাব করা গনোরিয়ার লক্ষণ। প্রাথমিকভাবে মূত্রনালী দিয়ে শ্লেষ্মার মতো নিঃসরণ আসে। দ্রুত তা পুঁজে পরিণত হয়। প্রোস্টেটের প্রদাহ, সেমিনাল ভেসিকেলের প্রদাহ এবং এপিডিডাইমিস প্রদাহের সঙ্গে জ্বর হয়। এপিডিডাইমিস অসম্ভব ব্যথা করে। যদি চিকিৎসা করা না হয় তাহলে এ অবস্থা কয়েক সপ্তাহে মিলিয়ে যায়। কিন্তু হলদে শ্লেষ্মা নিঃসরণ কয়েক মাস অবিরত থাকতে পারে। অতঃপর মূত্রনালীর অস্বাভাবিক সঙ্কীর্ণতা ঘটতে পারে।মহিলাদের ক্ষেত্রে সচরাচর জরায়ুপথের নিম্নাংশে সংক্রমণ ঘটে এবং প্রদাহের সঙ্গে জ্বর হয়। শতকরা ৫০ জন মহিলার মূত্রনালী এবং মলাশয়ে গনোরিয়া সংক্রমণ ঘটে।তাদের যোনি দিয়ে রস নির্গত হয়, প্রস্রবে যন্ত্রণা এবং ঘন ঘন প্রস্রাবের লক্ষণ দেখা দেয়। তাদের বার্থোলিন গ্রন্থিতে ফোড়ার বিকাশ ঘটতে পারে। জ্বরের সঙ্গে সালফিংস-এর প্রদাহ এবং তলপেটে ব্যথা অনুভূত হতে পারে।

http://www.bd-pratidin.com/admin/news_images/23/image_23_3178.jpg

গর্ভবতী মায়ের গনোরিয়া হলে জরায়ুপথের সংক্রমণের জন্য প্রস্রবের সময় বাচ্চার চোখ গনোরিয়ায় আক্রান্ত হতে পারে। সমকামী পুরুষদের ক্ষেত্রে কিংবা মহিলাদের পায়ুপথে পুরুষাঙ্গ চালনা করলে মলাশয় সংক্রমিত হবে। গনোরিয়া রোগীদের কব্জি, আঙুল এবং গোড়ালির অস্থিসন্ধিতে প্রদাহ হতে পারে।পুরুষের ক্ষেত্রে গনোরিয়া উপসর্গ িলিঙ্গপথে রস নিঃসৃত হয়। (যৌনাঙ্গের সংক্রমণের ফলে এ রস তৈরি হয়। প্রথমে পানির মতো থাকে। পরে ঘন, সবুজাভ-হলুদ হয়।) বার বার প্রস্রাবের ইচ্ছে করে। মূত্রনালীতে প্রদাহের কারণে জ্বালাপোড়া ও ব্যথা করে। িমূত্রনালী পথে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হয়ে প্রস্রাব ঠিকমতো বেরিয়ে আসতে পারে না। ফলে কিডনিতে মারাত্দক ক্ষতি হতে পারে। িএপিডিডাইমিসে প্রদাহের কারণে তীব্র ব্যথা হয়। িঅণ্ডকোষ ফুলে আপেলের মতো বড় হতে পারে। িসমকামীরা পায়ুপথে যৌনসঙ্গম করলে পায়ুপথে সংক্রমণ হতে পারে। মলনালীতে তীব্র ব্যথা হয় এবং রসে ভিজে যায়। িমুখ মৈথুনে অভ্যস্তদের মুখে সংক্রমণ তথা ঘা সৃষ্টি হয় এবং গলা ব্যথা হয়। িদীর্ঘদিনের সংক্রমণের কারণে অস্থিসন্ধিতে প্রদাহ, ত্বকে ক্ষত, সেপটিসেমিয়া, মস্তিষ্কের প্রদাহ এবং হৃৎপিণ্ডের ক্ষতি হতে পারে।নারীর ক্ষেত্রে উপসর্গ িযৌনাঙ্গ সংক্রমণের কারণে যোনির ওষ্ঠে লাল, দগদগে ঘা হয়। িযোনিপথে অস্বাভাবিক নিঃসরণ (সচরাচর সাদা, সবুজ কিংবা হলুদ) হয়। িপ্রস্রাবের তীব্র ইচ্ছে থাকতে পারে। প্রস্রাবে যন্ত্রণা হয়। িবার্থোলিন গ্রন্থির প্রদাহ হয়। িতলপেটে ব্যথা হয়। িডিম্ববাহী নালীতে প্রদাহ হয়। িমাসিক অনিয়মিত হয় এবং তীব্র ব্যথা হয়। িপায়ুপথে সঙ্গম থেকে কিংবা নিজের সংক্রমিত যোনি থেকে মলদ্বারে সংক্রমণ হতে পারে। মলনালী পথে নিঃসরণ এবং রক্তক্ষরণ হতে পারে। িমুখ মৈথুনের কারণে মুখে সংক্রমণ হতে পারে।দীর্ঘদিনের সংক্রমণের কারণে অস্থিসন্ধিতে প্রদাহ, ত্বকে ক্ষত, সেপটিসেমিয়া, মস্তিষ্কের প্রদাহ এবং হৃৎপিণ্ডের ক্ষতি হতে পারে।গনোরিয়া এবং গর্ভাবস্থাগনোরিয়ার জীবাণু মহিলার জননতন্ত্রের মধ্যে বিচরণ করে ডিম্ববাহী নালীতে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করতে পারে এবং এ কারণে মহিলার সারা জীবনের জন্য বন্ধ্যাত্ব ঘটতে পারে কিংবা জরায়ুর বাইরে গর্ভধারণ হতে পারে। গর্ভাবস্থায় মহিলা গনোরিয়ায় আক্রান্ত হলে বাচ্চা জন্মের সময় মায়ের যোনি থেকে তার চোখে সংক্রমণ হতে পারে। বাচ্চাকে চিকিৎসা না করলে তার চোখে প্রদাহ হবে এবং সে অন্ধ হয়ে যেতে পারে।চিকিৎসা : জটিলতাহীন গনোরিয়ার ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত একক মাত্রায় উপযুক্ত জীবাণুবিরোধী বা অ্যান্ট্রিমাইক্রোবিয়াল ওষুধ বেশ ভালো কাজ দেয়। সাধারণত পেনিসিলিন ব্যবহারে সংক্রমণ সেরে যায়। কিন্তু অন্যান্য স্থানে শতকরা ৫০ ভাগ পর্যন্ত ক্ষেত্রে সংক্রমণ পুরোপুরি পেনিসিলিনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা সম্পন্ন। সিপ্রোফ্লোক্সাসিনের প্রতি অনেক জায়গাতে জীবাণু বেশ সংবেদনশীল। একক মাত্রায় সিপ্রোফ্লোক্সাসিন গনোরিয়ার চিকিৎসায় বেশ কার্যকর। বর্তমানে গনোরিয়ার অনেক ওষুধ বেরিয়েছে। চিকিৎসকের পরামর্শে গ্রহণ করা বাঞ্ছনীয়।


ডা. মিজানুর রহমান কল্লোলকমপ্যাথ লিমিটেড, কাটাবন মোড়, ঢাকা

ঝামেলা'এর ওয়েবসাইট

লেখাটি CC by-sa 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত

Re: গনোরিয়া : কারণ ও চিকিৎসা ।

জানলাম অনেক কিসু,ধন্যবাদ  smile

۞ بِسْمِ اللهِ الْرَّحْمَنِ الْرَّحِيمِ •۞
۞ قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ ۞ اللَّهُ الصَّمَدُ ۞ لَمْ * • ۞
۞ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ ۞ وَلَمْ يَكُن لَّهُ كُفُوًا أَحَدٌ * • ۞