টপিকঃ বার্ধক্য দূর করার উপায় আবিস্কার!

বয়স বাড়াতে বা বৃদ্ধ হতে কে চায়? বার্ধক্য এড়ানোর কোন পথ নেই – অনেকেই তা ভাবে এবং বিশ্বাস করে৷ বার্ধক্যকে দূরে রাখতে গবেষণাও কম করা হয়নি৷ সম্প্রতি গবেষক এবং বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন মানুষ কেন বৃদ্ধ হয়৷ ‘‘মানুষ বৃদ্ধ হবে, এটা বন্ধ করার কোন উপায় নেই – তা এখন আর সত্যি নয়৷’’

রিচার্ড মিলার৷ তিনি মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ে বার্ধক্য বিষয় নিয়ে অনেকদিন ধরে কাজ করছেন৷ তাঁর গবেষণা প্রসঙ্গে তিনি বললেন,‘‘বার্ধক্য নিয়ে আমরা গবেষণা করছি – আগে মানুষ একথা শুনলে তা নিয়ে হাসাহাসি করতো৷ আমাদের বলা হত আমরা অযথা সময় নষ্ট করছি৷ কারণ তখন সবাই ধরে নিয়েছিল বার্ধক্য এড়ানোর কোন উপায় নেই – বার্ধক্য অপ্রতিরোধ্য৷ তবে আমরা বেশ কিছু প্রাণীর জীবনে পরিবর্তন এনেছি৷ কৃমি, মাছি, ইঁদুর – এসব প্রাণী এখন অনেক দিন পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে৷ বিশেষ খাওয়া-দাওয়া, জেনেটিক্সের কিছু বিষয় এবং নতুন কিছু পদ্ধতির মাধ্যমে তা সম্ভব হয়েছে৷ মানুষ বৃদ্ধ হবে, এটা বন্ধ করার কোন উপায় নেই – তা এখন আর সত্যি নয়৷''

Bildunterschrift: নতুন গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, ১৫০ বছর পর্যন্ত মানুষকে বেশ সুস্থভাবেই বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব৷

রিচার্ড মিলার আরো জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাগারে পরীক্ষা চালানো হয়েছে কৃমি আর মাছির ওপর৷ দেখা গেছে, এই প্রাণীগুলো অন্তত তিনগুন বেশি আয়ু নিয়ে বেঁচে ছিল ল্যাবে, বিশেষ ধরণের খাওয়া-দাওয়া এবং বিভিন্ন প্রক্রিয়ার সাহায্যে৷ তবে ইঁদুরের বেলায় দেখা গেছে, বিশেষ একটি হরমোন নির্গমন বন্ধ থাকলে ইঁদুরও অনেক দিন বেঁচে থাকতে পারে৷ স্প্রিংফিল্ডের ইলিনয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দ্রেই বার্টকে বললেন,‘‘ ইঁদুরের দীর্ঘদিন বেঁচে থাকার বিষয়টি নির্ভর করছিল অনেকগুলো শর্তের ওপর৷ তা থেকেই আমরা বলতে পারি, অনেক কিছু প্রমাণ করা সম্ভব৷ ২০ থেকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত ইঁদুরের আয়ু বাড়ানো সম্ভব হয়েছে৷''

মানুষের বেলায় তা হতে পারে প্রায় ১৫০ বছর পর্যন্ত এবং মানুষকে বেশ সুস্থভাবেই বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব হবে৷ বেশ জোর দিয়েই কথাগুলো বলেন আন্দ্রেই বার্টকে৷ বার্টকের ভাষায়,‘‘যে হরমোন বার্ধক্যের দিকে শরীরকে এগিয়ে নিয়ে যায় তা এক ধরণের ইনসুলিনের মাধ্যমে কমানো সম্ভব৷ মানবদেহে ইনসুলিন প্রবেশ করলে তা অত্যন্ত সংবেদনশীল হয়ে ওঠে এবং শরীর তখন কম ইনসুলিন উৎপাদন করে৷ এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার একটি হল শরীর শর্করা ছাড়া থাকতে সক্ষম হয়৷ এর ফলে শুধু আয়ু বাড়ানোই সম্ভব হয় না, যে কোন মানুষকে সুস্থ রাখাও সম্ভব হয়৷ অর্থাৎ ইনসুলিন শুধু আয়ু বাড়াবে না, এর পাশাপাশি যে কোনো দেহকে বা শরীরকে সুস্থও রাখবে৷''

সূত্র : http://www.dw-world.de/dw/article/0,,14 … l-3197-rdf

ইঁদুরের ক্ষেত্রে সহজে সফল হলেও মানুষের ক্ষেত্রে বিজ্ঞানীরা সফল হবে বলে মনে হয় না।

Re: বার্ধক্য দূর করার উপায় আবিস্কার!

হে হে, মানুষের আয়ু বাড়ানো হলে সেটা মানুষের প্রতি একটা নিদারুন অত্যাচার হবে।  শরীরটা হয়তো ঠিকই জরাগ্রস্থ হবে না, কিন্তু মন-মানসিকতা তো ঠিকই চিরতরুন থাকবে না।  অবসাদগ্রস্থ মনটা তখন একটা শক্তিশালী শরীরের মধ্যে আটকা পড়ে থাকবে।

আর জনসংখ্যা নিয়ে এমনিতেই ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা, তার ভিতরে এইসব না করে মানুষকে তার স্বাভাবিক গতিতে রাখাটাই কি শ্রেয় না ?

Re: বার্ধক্য দূর করার উপায় আবিস্কার!

ইদুর আর মানুষের মধ্যে কি কোন পার্থক্য নাই? আমি যদিও তেমন বুঝি না। প্রায়ই দেখি বিভিন্ন গবেশনা ইদুরের উপর চালানো হয়।

Re: বার্ধক্য দূর করার উপায় আবিস্কার!

মেহেদী৮৩ লিখেছেন:

আর জনসংখ্যা নিয়ে এমনিতেই ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা, তার ভিতরে এইসব না করে মানুষকে তার স্বাভাবিক গতিতে রাখাটাই কি শ্রেয় না ?

সহমুত, মেহেদী ভাইয়ের সাথে।

সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন শান্ত বালক (২২-০১-২০১১ ২০:২৪)

Re: বার্ধক্য দূর করার উপায় আবিস্কার!

সাদাত হাসান লিখেছেন:

ইদুর আর মানুষের মধ্যে কি কোন পার্থক্য নাই? আমি যদিও তেমন বুঝি না। প্রায়ই দেখি বিভিন্ন গবেশনা ইদুরের উপর চালানো হয়।

এই প্রশ্নটা অনেকদিন ধরে আমার মনেও উঁকি দেয়। ইঁদুরের উপর গবেষনায় সফলতা পেলে গবেষকরা বলেন যে তাহলে এই ব্যাপারে মানুষের উপরও সফল হওয়া যাবে। মানুষ আর ইঁদুরের মধ্যে তারা এতো (দেহের অভ্যন্তরীন গঠন) মিলটা কোথায় পান  thinking

Re: বার্ধক্য দূর করার উপায় আবিস্কার!

ইঁদুরের ব্যাপারটা ইনভার ভাই বা অন্য কেউ ব্যাখ্যা করবেন আশা করছি।

@মেহেদী৮৩
কয়েকটা বিষয় দেখুন:
১। উন্নত দেশগুলোতে জনসংখ্যা কমছে - সন্তান লালন পালনের খরচ একটা কারণ। এছাড়া সেটা সময়ের জন্যও - চাকুরীর সময় কমিয়ে সন্তান পালন করতে হয়।

২। মেডিক্যাল সায়েন্সের উন্নতির কারণে ইতিমধ্যেই কিন্তু মানুষের গড় আয়ু ১০০ বছর আগের তুলনায় অনেক বেশি। এতে কী ধরণের অসুবিধা হচ্ছে বলে মনে হয়?

৩। একজন শিশু থেকে পরিপূর্ণ মানুষ হতে অনেক সময় লাগে। চিন্তা করুন, একজন শিশুর লেখাপড়া এবং অন্য প্রশিক্ষণ শেষ করে কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করতে করতে ২৫ বছর পার। অবসর নেয়ার সময় তার অভিজ্ঞতা ৩০-৩৫ বছরের। সুস্থ ভাবে যত দীর্ঘদিন বাঁচবে তত বেশিদিন প্রশিক্ষিত এবং অভিজ্ঞতার সেবা পাবে অন্যরা (ধরুন: ৭০ বছররের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন ডাক্তার/নাবিক/গবেষক/প্রকৌশলী ইত্যাদি ২৫ বছরের অভিজ্ঞতার চেয়ে উত্তম)- এটা আমার কাছে অর্থনৈতীক ভাবে খুব ভালো মনে হচ্ছে।

৪। জাপানে দেখেছি সন্তান বড় হয়ে চাকুরী করছে। ঐসব দায়িত্ব থেকে মুক্ত হয়ে মহিলারা আবার পড়তে বিশ্ববিদ্যালয় বা অন্যকোথাও ভর্তি হচ্ছে বা প্রশিক্ষণ নিচ্ছে - নতুন নতুন কাজ করছে।

৫। বিবাহজনিত সমস্যা ছাড়া কোন সমস্যা দেখছি না। সেক্ষত্রে বিবাহের জন্য ৩০/৪০ বছর পর পর রিনিউ করার ব্যবস্থা করা উচিত tongue

শামীম'এর ওয়েবসাইট

লেখাটি CC by-nc-sa 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত