টপিকঃ জার্মানিই গড়ল ইতিহাস

পারল না ব্রাজিল। জার্মানির দেয়ালে ধরাতে পারল না ফাটল। ঠেকাতে পারল না জার্মানির প্রথমবারের মতো টানা দ্বিতীয় মহিলা বিশ্বকাপ জেতা। সবচেয়ে বড় কথা, ব্রাজিল পারল না ইতিহাস গড়তে। ২-০ গোলে ব্রাজিলকে হারিয়ে টানা দ্বিতীয় শিরোপা ঘরে তুলল ব্রিজিত প্রিঞ্জের দল।
কল্পকাহিনীর মতোই চলছিল ব্রাজিলের বিশ্বকাপ-যাত্রা। প্রথমবারের মতো বিশ্বসেরা হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে চীনে এসে পাত্তা পায়নি বোদ্ধাদের কাছে। কিন্তু কোচ জর্জ বার্সেল্লোস থেকে অধিনায়ক মার্থা সবার মুখেই ছিল এক কথা, ‘ইতিহাস গড়তে এসেছি আমরা।’ ইতিহাসের সরণির দিকে এগিয়েও গিয়েছিল তারা মহিলা ফুটবলের অন্যতম সেরা দল যুক্তরাষ্ট্রকে সেমিফাইনালে ৪-০ গোলে হারিয়ে। অর্জনের খাতায় নিজেদের নাম লেখাতে আর একটা কাজই বাকি ছিল। শিরোপা জেতা। সেটা পারল না মার্থারা।
মার্থারা না বলে আসলে ব্রাজিলীয়রা এক মার্থাকেই দুষতে পারে। ব্রাজিলকে ফাইনালে তুলে আনার অন্যতম কারিগর ফিফার বর্ষসেরা ফুটবলার মার্থা শুধু পেনাল্টিই মিস করেননি, ‘মিস’ করেছেন ব্রাজিলের খেলায় ফেরার সুযোগ।
বল দখলের হিসেবে খেলার ফল হলে ট্রফিটা ব্রাজিলিয়ান শিবিরেই থাকত সন্দেহ নেই। খেলা শুরু হওয়ার মাত্র ৪ মিনিটের মধ্যেই আক্রমণ করেছিল তারা। মার্থার দুর্বল শট ঠেকিয়ে দিয়েছিলেন জার্মান গোলরক্ষক নাডিন অ্যাঙেরার। এরপর প্রথমার্ধজুড়ে খেলা হলো ব্রাজিলের আক্রমণভাগ বনাম অ্যাঙেরার। পুরো বিশ্বকাপজুড়ে একটাও গোল হজম কেন করতে হয়নি তাঁকে, সেটা সাংহাইয়ের দর্শকদের বেশ বুঝিয়ে দিয়েছেন। ক্রিশ্চিয়ানি, মার্থা আর ড্যানিয়েলা প্রথমার্ধেই ব্রাজিলকে লিড এনে দিতে পারতেন অ্যাঙেরার বাধা হয়ে না দাঁড়ালে।
অ্যাঙেরারও অবশ্য একবার পারেননি বাধা দিতে। ২৩ মিনিটে ড্যানিয়েলার সেই শটে বাধা হলো ভাগ্য। বারে লেগে ফিরল বল। প্রথমার্ধে একটু কোণঠাসা হয়ে থাকা জার্মান আক্রমণভাগ কাজে নেমে পড়ে দ্বিতীয়ার্ধে। ৫২ মিনিটে ম্যাচের গোলশুন্যতা কাটিয়ে সে আক্রমণের ফলও এনে দিলেন অধিনায়ক ব্রিজিত প্রিঞ্জ। এই গোলের সঙ্গে সঙ্গেই জার্মান আক্রমণভাগের শক্তিশালী একটা চেহারা যেন বেরিয়ে এল। দুর্দান্ত শক্তি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ল তারা ব্রাজিলের ওপর। তারপরও খেলায় ফেরার অসাধারণ একটা সুযোগ পেয়েছিল ব্রাজিল। ৬২ মিনিটে ব্রাজিলিয়ান স্ট্রাইকার ক্রিশ্চিয়ানিকে ডি-বক্সের মধ্যে ফাউল করলেন ব্রেসোনিক। পেনাল্টি! শট নিতে গেলেন মার্থা−মহিলা পেলে। পেলে হলে কি হবে! গোলবারের নিচে অলিভার কান কিংবা জেন্স লেম্যানদের স্বদেশি যে অ্যাঙেরার। পেনাল্টিতেও গোল হতে দিলেন না। হাঁটু দিয়ে বলটা ঠেকিয়ে টিকিয়ে রাখলেন গোটা বিশ্বকাপজুড়ে গোল না হজম করার প্রায় অবিশ্বাস্য একটা রেকর্ড।
কয়েক মিনিট পর আবারও অ্যাঙেরার জার্মানির পতন রুখে দেন বদলি হিসেবে নামা রোসানার দুর্দান্ত শট আটকে। সমতায় ফেরা হলো না ব্রাজিলের। বরং নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার চার মিনিট আগে আরও একটা গোল করে ম্যাচটাকে অনেক দুরে নিয়ে গেলেন সিমোনে লউডের।
গতকালকের ম্যাচের সেরা জার্মান গোলরক্ষক অ্যাঙেরার। আর টুর্নামেন্টে ৭ গোল করে সেরা গোলদাতা মার্থা। কিন্তু এই পুরস্কার তাঁকে কতটা তৃপ্ত করবে? বিশ্বকাপটা তো জেতা হলো না।

সূত্রঃ প্রথম আলো ০১/১০/২০০৭ খেলার পাতা
কৃতজ্ঞতাঃ মুর্শেদের ইউনিকোড লেখনী ও পরিবর্তক ১.৭.২ (এপ্রিল ২৫, ২০০৭)

Re: জার্মানিই গড়ল ইতিহাস

জার্মানিই গড়ল ইতিহাস তবে  মহিলা বিশ্বকাপে।

"We want Justice for Adnan Tasin"