টপিকঃ অদৃশ্য হওয়ার জামা !

হ্যারি পর্টার সিনেমায় নিশ্চই দেখে থাকবেন অদৃশ্য হয়ে থাকার জন্য পর্টার এক ধরনের কাপড়ের আচ্ছাদন ব্যবহার করে।

যেটি দিয়ে সে নিজেকে ঢেকে ফেললেই অদৃশ্য হয়ে যাচ্ছে সে। বাস্তবে কি তা করা সম্ভব?

বিজ্ঞানীরা মনে করছেন এটি সম্ভব, আর এজন্য তারা মেটা ম্যাটেরিয়াল নামের এক ধরনের পদার্থ ব্যবহারের চিন্তা করছেন।

আর নতুন আবিস্কৃত এই পদার্থ আক্ষরিক অর্থেই দৃশ্যমান আলো কে ঘুরিয়ে দিতে পারে।

আমরা যেসব আলো দেখতে পাই সেগুলোই দৃশ্যমান আলো।

এই পদার্থ যেভাবে কাজ করছে তাতে করে ভবিষ্যতে আমরা অদৃশ্য হয়ে যাওয়ার মতো কিছু একটা তৈরী করা সম্ভব বলে আশা করছেন বিজ্ঞানীরা।

যেটি আগামীতে কোন বস্তুকে অদৃশ্য করে ফেলতে সক্ষম হবে।

আমরা দৃশ্যমান আলোতে যখন কোন বস্তু দেখি তখন ওই বস্তু থেকে প্রতিফলিত আলো সরল রেখা বরাবর আমাদের চোখে এসে পড়ে।

পদার্থ বিদ্যার সুত্র মতে আলো সব সময় সোজা পথেই চলে।

কিন্তু ফাইবার অপটিক কেবলের মধ্যে দিয়ে পদার্থবিদ্যার এই সোজা পথে চলার সুত্র মেনেই আলোকে বিভিন্ন দিকে বাঁকিয়ে নেওয়া যায়।

এবার ধরুন আপনার পেছনে কোন কিছু আছে, আপনার সামনে দাড়ানো কেউ সে বস্তুকে দেখতে পায় না কারন সেখান থেকে আসা আলো সোজা যেতে বাধা দিচ্ছেন আপনি।

কিন্তু এমন কিছু কি তৈরী করা যায়, যেটি আপনার পেছনের সেই বস্তু থেকে আসা আলোকে বাকিয়ে এসে আপনার সামনে ছেড়ে দিলো। সেক্ষেত্রে কি হবে?

আপনার সামনে থাকা মানুষটি এবার আপনাকেই দেখতে পাবে না। দে দেখবে পেছনের বিভিন্ন বস্তুকে।

বিজ্ঞানীরা চেষ্টা করছেন এগুলোকে এমন ভাবে তৈরী করতে যেন আমাদের প্রয়োজন অনুযায়ী সেগুলো বাঁকানো, মোড়ানো কিংবা যে কোন আকারে ব্যবহার করা যায়।

একটু আগে যে ফাইবার অপটিকের কথা হচ্ছিলো, সেখানেও আলোকে বলতে গেলে একভাবে বাঁকিয়ে ফেলা হয়? তো সে প্রযুক্তি ব্যবহার করে কি এমন অদৃশ্য হওয়ার মতো কিছু কি বানানো যায়?

তা করা যায়, কিন্তু এখানে বুঝতে হবে যে অপটিক্যাল ফাইবার দিয়ে এতো ছোটা আকারের কিছু তৈরী করা সম্ভব কি না।

এখানে যেটি করা হচ্ছে আর ফাইবার যে কাজ করে সে তত্ত্বগতভাবে একই।

কিন্তু যখনই আপনার একই ধরনের কাজের জন্য খুবই ছোট জায়গা কিছু একটা দরকার সেখানে অপটিক্যাল ফাইবার কোন কাজেই আসবে না।

এমনকি এখনকার প্রযুক্তিতে আছে এমন কিছু দিয়েও এই কাজটি করা সম্ভব না।

এই আবিস্কার দিয়ে কি কি করা সম্ভব? নিশ্চই শুধু মাত্র অদৃশ্য হওয়ার কাপড় তৈরী করতে এত এত গবেষনা নয়?

শক্তি উৎপাদন করতে পারে এমন যন্ত্রপাতির কথা চিন্তা করুন।

যেমন বর্তমানে আছে এমন সৌর কোষ গুলিকে এধরনের আবিস্কারের সাহায্যে অনেক উন্নত করা সম্ভব।

নতুন ধরনের কন্টাক্ট লেন্স তৈরীর কাজে এই পদার্থকে ব্যবহার করা সম্ভব। যেটি আরো ভালো দৃষ্টি শক্তি দেবে তাতে কোন সন্দেহ নেই।

আবার ভার্চুয়াল রিয়ালিটির জগত তৈরী করতেও এই আবিস্কার কাজে লাগানো সম্ভব বলে বিজ্ঞানীরা বিশ্বাস করেন।

জীবনে চলার পথে কখনও কখনও উদাসীন হতে হয় , তা না হলে জীবন জটিল হয়ে যায় ।

Re: অদৃশ্য হওয়ার জামা !

হায় হায় মানুষ এবার অদৃশ্য হয়ে যাবে। ভাবতেই কেমন লাগতাছে। thinkingযাই হোক বিজ্ঞানের ফলে আরো কতোকিছু যে আবিশ্বাকার হবে যা কখনো কল্পনাই করি নি। আপনাকে ধন্যবাদ জাতির সামনে বিষয়টি তুলে ধরবার জন্য big_smile

আমাকে কোথাও পাবেন না।