টপিকঃ ঢাবি'তে মাদ্রাসা ছাত্রদের দূরবস্থা

http://dailynayadiganta.com/fullnews.as … &sec=3

ঢাবি’র ভর্তি পরীক্ষায় প্রথম হয়েও সাবজেক্ট দেয়া হয়নি মাদরাসাছাত্রদের
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় ‘ঘ’ ইউনিটে প্রথম স্খান অধিকার করলেও ওই ছাত্রকে কোনো বিষয়ে ভর্তি হতে দেয়নি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। গত ৮ জানুয়ারি থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘খ’ ও ‘ঘ’ ইউনিটের ভর্তি কার্যক্রম শুরু হয়েছে। মানবিক বিভাগ নিয়ে মাদরাসা বোর্ড থেকে পাস করেছেন আসাদুজ্জামান। তিনি ‘ঘ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় প্রথম স্খান অধিকার করেন। কিন্তু গতকাল সাক্ষাৎকার দিতে গেলে তাকে একটি সাবজেক্ট দেয়া হয়। পরে আবার তাকে ডেকে ভাইভা কমিটির সদস্যরা জানতে চান তিনি কোথায় পড়েছেন। মাদরাসা থেকে পাস করেছেন বলে জানানোর পর তাকে কোনো বিষয়ে ভর্তি হওয়ার অনুমতি দেয়নি কর্তৃপক্ষ। পরে আসাদুজ্জামান তাৎক্ষণিকভাবে বাইরে এসে কান্নাকাটি শুরু করেন। এ ধরনের ভোগান্তির শিকার হয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় চান্স পাওয়া অনেক শিক্ষার্থীই। জানা গেছে, প্রথম, দ্বিতীয়, সপ্তম, অষ্টম, নবমসহ এক শ’ সিরিয়ালের ভেতরে থাকা অনেক ছাত্রকেই কোনো বিষয়ে ভর্তির অনুমতি দেয়া হয়নি।
মাদরাসাশিক্ষার্থীদের ভর্তি ঠেকাতে কয়েক বছর ধরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন প্রথম সারির ১০টি বিষয়ের ওপর অবৈধ শর্তারোপ করে। ফলে মাদরাসাশিক্ষার্থীরা ওই সব বিষয়ে ভর্তির যোগ্যতা হারান। কিন্তু প্রশাসন এ বছর আরেকটি নতুন ইস্যু সৃষ্টি করেছে। যার কারণে মাদরাসাশিক্ষার্থীরা এ বছর থেকে আরো সাতটি বিষয়ে ভর্তি হতে পারছে না। নতুন করে নিষিদ্ধ আটটি বিষয় হচ্ছে রাষ্ট্রবিজ্ঞান, নৃবিজ্ঞান, দর্শন, স্বাস্খ্য অর্থনীতি, ভূগোল ও পরিবেশবিজ্ঞান, মনোবিজ্ঞান ও সমাজকল্যাণ। এ ছাড়া ‘ঘ’ ইউনিটের আওতায় মাদরাসাছাত্ররা যে বিভাগে ভর্তি হতে পারছেন না তা হলো অ্যাকাউন্টিং, ম্যানেজমেন্ট, ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম, ব্যাংকিং, মার্কেটিং, ফিন্যান্স, ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট ও ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস।
তবে কর্তৃপক্ষ মাদরাসা থেকে পাস করা শিক্ষার্থীদের ব্যাপারে বলেন, মাদারাসাছাত্ররা আলিমে ইসলামি অর্থনীতি পড়েছে। এ জন্য তাদের ওই সব বিভাগে ভর্তি হতে দেয়া হচ্ছে না। তাই ইসলামি অর্থনীতিই এখন মাদারাসাছাত্রদের জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সাক্ষাৎকারের প্রথম দিন থেকেই সাক্ষাৎকার বোর্ডের শিক্ষকরা মাদরাসা শিক্ষার্থীদের নানাভাবে হয়রানি করেছেন বলে ভুক্তভোগী অনেকেই অভিযোগ করেছে। আরো জানা যায়, সাক্ষাৎকারের সময় শিক্ষকরা তাদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করে বলেন, তোমরা মাদরাসা থেকে এসেছো। এখানে আরবি, উর্দু, ফার্সি, ইসলামিক স্টাডিজ আছে সেগুলো পড়ো। তোমাদের জন্য এ সাবজেক্টগুলোই রাখা হয়েছে। এ সাবজেক্ট পড়ার জন্য তোমরাই যোগ্য। তোমাদের অন্য বিষয় পড়ার চিন্তা করতে হবে না।
এ ব্যাপারে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ বলেন, আমার করার কিছু নেই। এটা বাণিজ্য অনুষদের সিদ্ধান্ত। তিনি বলেন, কে ভর্তি পরীক্ষায় প্রথম হয়েছে তা দেখার দরকার নেই। আলিমকে উচ্চমাধ্যমিকের সাথে সমমান দেয়া হলে মাদারাসাছাত্ররা ইসলামি অর্থনীতি না পড়ে কোন অর্থনীতি পড়বে এ ব্যাপারে তিনি কোনো উত্তর দিতে পারেননি। এ ছাড়া তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারব না। কেননা ইসলামি অর্থনীতি ও অর্থনীতির মধ্যে মৌলিক পার্থক্য আছে।

মাদ্রাসা ছাত্রদের প্রতি এসব বৈষম্য বন্ধ হবে কবে??

Re: ঢাবি'তে মাদ্রাসা ছাত্রদের দূরবস্থা

নেজাম লিখেছেন:

আসাদুজ্জামান

আসাদুজ্জামান!এইটাতো মনেহয় গত বছরের কাহিনী! hmm

লেখাটি CC by-nd 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত