টপিকঃ পাতাঝরা দিনগুলি

তুষার মোড়া কেলভিনগ্রোভ পার্কের পাশ দিয়ে যখন হেঁটে আসছিলাম, মনে হচ্ছিলো অজানা কোন পথে ঠিকানাবিহীন ঘুরছি। কি আশ্চর্য! গতকালের দেখা রুক্ষ সবুজ পার্ক এক রাতের মাঝে কিভাবে সাদা চাদরে নিজেকে মুড়িয়ে নিল? নরম তুষারে পা ডুবিয়ে হেঁটে যাওয়া এক অদ্ভুত শিহরণ জাগিয়ে তুলছিল। পাতাবিহীন গাছগুলো আজ নিজেদের লজ্জা শুভ্রতার আবরণে ঢেকে ফেলেছে। ছোট ছোট ঝোপগুলতে যেন তুলার মত তুষারের ফুল ফুটেছে। হঠাৎ কি মনে হতে এক মুঠো তুষার তুলে নিলাম হাতে... এ যেন তুলোর চেয়েও হালকা।ইচ্ছে হচ্ছিল হাতমোজা খুলে এই শুভ্রতার পরশ নেই কিন্তু হিমাঙ্কের ৫ ডিগ্রী নীচে এরকম আবেগকে প্রশ্রয় দিলাম না। কিছুদূর হেঁটে যাওয়ার পর এতক্ষণ যা খুঁজছিলাম মনে মনে তা দৃষ্টিগোচরে এল... এখানে দেখা প্রথম তুষার মানব! যে বা যারা বানিয়েছে স্বীকার করতেই হবে যথেষ্ট শ্রম এবং মেধা খাটিয়েছে। প্রায় তিন ফিট উচ্চতা বিশিষ্ট, গোল গাল তুষারমানব আমার দিকে স্ট্রবেরির চোখ নিয়ে তাকিয়ে আছে।চিকন শুকনো ডালে বানানো আবছা হাসিটি সত্যি বলে ভ্রম হয়।কি মনে হতে নিজের স্কার্ফটি খুলে তার গলায় পেঁচিয়ে দিলাম। কি সুন্দর! কি সুন্দর! কে বলবে বরফের দেহে প্রাণ নেই? ওই মুহূর্তে তুষারমানবটিকে আমার সবচেয়ে আপন মনে হচ্ছিল।সাদা দেহে বেগুনি স্কার্ফ যেন প্রাণের পরশ বুলিয়ে গেল। খুব আফসোস হচ্ছিল সাথে ক্যামেরা নেই বলে।মোটা ডাল দিয়ে বানানো শক্ত পুরুষ্ট হাতে হাত মেলালাম। পাতা দিয়ে বানানো পায়ের পাতা একটু সরে গিয়েছিল, ঠিক করে দিতেই মনে হল নির্বাক হাসিতে তুষারমানব আমাকে ধন্যবাদ জানাল।
বিদায়ক্ষণে স্কার্ফটি নেওয়ার সময় তার হাসিটিকে একটু বিষন্ন মনে হল, অথচ শুকনো ডালে আঁকা হাসিটি আগের যায়গাতেই আছে।হয়তো নিজের নিঃসংগতার আবেগ তুষারমানবের মাঝে প্রতিফলিত হতে দেখেছি।
পার্ক পিছনে ফেলে এগিয়ে যাচ্ছি... নাহ! আমি ফিরে তাকাব না।প্রিয়জন থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার কষ্ট আর নিতে চাই না। তুষারমানব সুখস্মৃতি হয়ে আমার মনের খাতায় আঁকা থাকুক আজীবন  smile

আমি ঝড়ের কাছে রেখে এলাম আমার ঠিকানা

Re: পাতাঝরা দিনগুলি

আপনার কষ্টটা আমাকেও ছুঁয়ে গেলো!
চমৎকার লিখেছেন  thumbs_up

কিছু বাধা অ-পেরোনোই থাক
তৃষ্ণা হয়ে থাক কান্না-গভীর ঘুমে মাখা।