টপিকঃ নাসিরুদ্দিন হোজ্জ্বা। প্রবল বুদ্ধিমত্তা ও বোকার পরিচয়ে মিশ্রিত ইতিহাসে

নাসিরুদ্দিন হোজ্জ্বা। ইতিহাসের মজার এই চরিত্র হাসি আনন্দ মিশ্রিত ভালোলাগার এক আবেশ। নাসিরুদ্দিন হোজ্জ্বা নাম শুনলেই চোখের সামনে ভেসে উঠে বুদ্ধিদীপ্ত কিন্তু কৌতুকমিশ্রিত এক চেহারা। অনেকটা কল্পিত এ চেহারার অধিকারীর মাথায় বিশাল এক পাগড়ি, তিনি চড়ে বেড়াচ্ছেন গাধার পিঠে করে। অথচ এ চরিত্রটি আসলেই কি বাস্তব, আর বাস্তব হলেও ঠিক কোন সময়টা ছিলো হোজ্জ্বার সময়কাল, কোথায় তার জন্ম এসব প্রশ্নের জবাব আমরা কয়জনইবা খুঁজতে যাই! নাসিরুদ্দিন হোজ্জ্বা নামে সত্যি সত্যিই একজন ছিলেন। ঐতিহাসিক এই চরিত্রের জন্ম মেসোপটেমিয়ার প্রাচীন এনাতোলিয়াতে। প্রাচীন মেসোপটেমিয়া সভ্যতার দক্ষিণ-পূর্ব অঞ্চলে এর অবস্থান। তিনি ১২০৯ সালে বর্তমান সিভরিহিসার জেলার হরতু গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। সিভরিহিসার বর্তমান তুরস্কের একটি প্রদেশ। জন্মের পর থেকে কিছুদিন ওই গ্রামেই ছিলো তার বসবাস। পরবর্তীতে তিনি আকসেহিরে চলে যান। তার শেষ জীবণ কাটে তুরস্কের প্রাচীন নগরী কোনিয়াতে। এ কোনিয়া নগরী থেকেই সৃস্টি হয় হোজ্জ্বার যতসব কাহিনী। অবশেষে তাঁর মৃত্যুও হয় এখানেই। ধারণা করা হয় তিনি মৃত্যুবরণ করেছিলেন ১২৭৫ সালে।
নাসিরুদ্দিন হোজ্জ্বা নামে তিনি তার বসবাসের এলাকা তুরস্কে এবং আমাদের বাংলাভাষাবাসিদের কাছে পরিচিত। কুর্দীদের কাছে তিনি মোল্লা নাসিরুদ্দীন। আরব এবং পারসিয়ানদের কাছেও তাই। আলবেনিয়ায় তাকে ডাকা হয় নাস্ট্রাদিন হোক্সা কিংবা শুধুমাত্র নাস্ট্রাদিনী নামে। আজেরীদের কাছে মোল্লা নাসিরুদ্দীন। উজবেকদের কাছে নাসিরুদ্দীন অফেন্দী অথবা শুধুমাত্র অফেন্দী নামে তাঁর পরিচয়। এসব এলাকা ছাড়াও তার কাহিনী-উপকাহিনীগুলো আরমেনিয়ান, বুলগেরিয়ান, গ্রীক, হিন্দি, ইতালিয়ান, পশতু, রুমানিয়ান, সারবিয়ান, উর্দু, বুলগেরিয়া প্রভৃতি লোক ঐতিহ্যের সাথে মিশে আছে। এসব এলাকায় অনেক ক্ষেত্রে তিনি তার প্রজ্ঞা এবং বিচারিক ক্ষমতার জন্য বেশ জনপ্রিয়। আবার চীনেও তিনি অফেন্দি নাসিরুদ্দিন নামে পরিচিত। বর্তমান চীনে তাকে নিয়ে বিভিন্ন রকমের মুভি, কার্টুন এবং উপন্যাসও রচিত হয়েছে। সময়ের সাথে সংস্কৃতি পরিবর্তিত হলেও কিংবদন্তী নাসিরুদ্দিন হোজ্জ্বার প্রবাহ স্তিমিত হওয়ার নয়। বরং তা আরো বিস্তার লাভ করছে প্রযুক্তির কল্যাণে। প্রযুক্তি ও প্রজন্মের কাঁধে ভর করে এভাবেই মানুষের কানে কানে বেঁচে থাকবে হোজ্জ্বা কাহিনী।
শিক্ষনীয় এবং মজাদার সব গল্পের সৃস্টি যেভাবেই হোকনা কেন বর্তমানে এগুলোর কোনটিতে হোজ্জ্বা উপস্থাপিত হয়েছেন প্রগাঢ় হিসাবে কোনটিতে বোকার ভ’মিকায়। আবার দেখা গেছে তিনি কখনো শাসকের বিরুদ্ধে কথা বলতেও ভয় পেতেন না। রাজসভা বা যে কোন অনুষ্ঠানে প্রবল বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিয়ে তিনি হার মানিয়ে দিতেন বাদশাহকেও। মোটকথা বর্তমানে হোজ্জ্বার উপস্থাপন রয়েছে নানা আঙ্গিকে। কিছু রয়েছে আধ্যাত্মিক ঐতিহ্য সমন্বিত বর্ণনার মাধ্যমে। আবার কিছু কিছু প্রতিষ্ঠিত গল্প, কবিতা ও বিভিন্ন ধারণার উপর।

যমানার সাথে বদলায় যারা, তারা বড় অসহায়।
তাহারাই মহামানব, যারা যমানারে বদলায়।।

Re: নাসিরুদ্দিন হোজ্জ্বা। প্রবল বুদ্ধিমত্তা ও বোকার পরিচয়ে মিশ্রিত ইতিহাসে

লিখার উৎস সম্পর্কে জানতে চাইঃ  এইটা না এইটা? এমনকি ছবিও একই!! আপনারা দুজন কি একই ব্যক্তি???

Re: নাসিরুদ্দিন হোজ্জ্বা। প্রবল বুদ্ধিমত্তা ও বোকার পরিচয়ে মিশ্রিত ইতিহাসে

লেখা টা থেকে বেশ কিছু জিনিস জানতে পারলাম।লেখা টার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। thumbs_up thumbs_up

সেই সব  শহীদদের দেই সালাম  যাদের জন্য আজ লিখতে পারছি  এই লাইনটি। তোমাদের আত্নার উপর শান্তি বর্ষিত হোক।