চ্যালেঞ্জের মুখে কৃষি গবেষণা (পাতা ১) - বিবিধ - প্রজন্ম ফোরাম
আজ ৩ চৈত্র ১৪১৬ বাংলা

আপনি প্রবেশ করেন নি। দয়া করে নিবন্ধন অথবা প্রবেশ করুন


পাতা 1

উত্তর দেয়ার জন্য আপনাকে অবশ্যই প্রবেশ বা নিবন্ধন করতে হবে

আরএসএস

পোস্টঃ [ ৩ ]

টপিকঃ চ্যালেঞ্জের মুখে কৃষি গবেষণা

দেশের কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর অস্তিত্ব এখন অনেকটাই চ্যালেঞ্জের মুখে। বিশ্বব্যাপী কৃষিভিত্তিক বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর উথান এবং এসব কোম্পানির উদ্ভাবিত বিভিন্ন শস্যের চাষ দেশে দ্রুত প্রসার লাভ করায় এমনটিই আশঙ্কা করা হচ্ছে। এসব শস্যের উৎপাদন ক্ষমতা দেশী গবেষণা প্রতিষ্ঠানের উদ্ভাবিত উফশী জাতের চেয়ে কিছুটা বেশি হওয়ায় চাষিরা এসব শস্য চাষের দিকে ঝুঁকে পড়ছেন। এ ধারা অব্যাহত থাকলে আগামী চার দশক পর দেশের সরকারি কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠান কর্তৃক উদ্ভাবিত শস্যের চাষ একেবারেই উঠে যেতে পারে।
কৃষি বিশেষজ্ঞদের অনেকে মনে করছেন, যেসব বহুজাতিক কোম্পানি থেকে দেশে বীজ আমদানি করা হচ্ছে, তাদের গবেষণা খাতে বিনিয়োগ করা হচ্ছে বিলিয়ন ডলার। এসব প্রতিষ্ঠান থেকে উদ্ভাবিত ফসলের জাতের সাথে পাল্লা দেয়া বহুবিধ কারণেই দেশী কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়ছে। এ ছাড়া দেশের পাঁচটি বীজ কোম্পানি নিজেরাই কৃষি গবেষণা ইউনিট চালু করেছে। গবেষণায় প্রচুর বিনিয়োগ, জবাবদিহিতা, প্রচার এবং গতিশীল বিপণন ব্যবস্খার কারণে এসব প্রতিষ্ঠানের সবজি জাতীয় ফসল ইতোমধ্যে বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। এর মধ্যে দু’টি দেশী বেসরকারি কোম্পানি নিজেদের উদ্ভাবিত দুই জাতের হাইব্রিড ধান বাজারে ছাড়তে যাচ্ছে। ১০টির মতো বেসরকারি কোম্পানি চীনের কোম্পানি দ্বারা উদ্ভাবিত হাইব্রিড ধান বীজ দেশে বাজারজাত করছে। উৎপাদন ক্ষমতা কিছুটা বেশি হওয়ায় এসব হাইব্রিড ধানের চাষ দিন দিন প্রসার ঘটছে। এ অবস্খা অব্যাহত থাকলে আগামী চার দশক পর দেশের সরকারি কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠান কর্তৃক উদ্ভাবিত বিভিন্ন জাতের ফসলের চাষ একেবারেই উঠে যেতে পারে। এ স্খান পূরণ করবে বিদেশী কৃষিভিত্তিক বহুজাতিক কোম্পানি এবং দেশীয় বেসরকারি বীজ কোম্পানিগুলো। এ সময় দেশের কৃষি উন্নয়নে সরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান তেমন ভূমিকা না রাখতে পারায় এসব প্রতিষ্ঠানকে দেখা হবে রাষ্ট্রের বোঝা হিসেবে।
বহুজাতিক কোম্পানির হাতে বীজ ও কৃষির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হলে রাষ্ট্রকে এর জন্য বড় ধরনের হুমকির মুখে পড়তে হবে। কেননা এসব কোম্পানি যেসব ফসলের বীজ বাজারে সরবরাহ করছে তার অধিকাংশই হাইব্রিড। হাইব্রিড বীজ কৃষক নিজে করতে পারে না বলে কোম্পানি থেকেই তাকে বারবার বীজ কিনতে হবে। কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ধ্বংস হলে এবং বীজ সরবরাহে সরকারি প্রতিষ্ঠান নিয়ন্ত্রণ হারালে এসব কোম্পানি কৃষককে জিম্মি করে নানা অজুহাতে দাম বাড়িয়ে দেবে। এ অবস্খা রাষ্ট্রের চেয়ে চেয়ে দেখা ছাড়া আর কিছু করার থাকবে না। খাদ্য নিরাপত্তার অজুহাতে এসব কোম্পানির বীজকে অনেকে স্বাগত জানালেও প্রকৃতপক্ষে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ভয়াবহ হুমকির মধ্যে থেকে যাবে।
অন্য দিকে দেশে যে জিএম শস্য চাষাবাদের চেষ্টা চালানো হচ্ছে তা বহু কারণে বিতর্কিত। কোন উৎস থেকে জিন সংগ্রহ করে জিএম শস্য উদ্ভাবন করা হচ্ছে, এ শস্য স্বাস্খ্যের জন্য ক্ষতিকর কি না, এটি পরিবেশবাìধব কি না, এটি স্বাভাবিক কৃষি পরিবেশ বিনষ্ট করে কি না­ তা নিয়ে বিশ্বব্যাপী বিতর্ক এখন তুঙ্গে। ইউরোপে জিএম শস্য এসব কারণে এখন নিষিদ্ধ। এমন বিতর্কিত শস্যের চাষাবাদ দেশে প্রচলন হলে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কাই বেশি।
সম্প্রতি বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিসের এক রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়, বিশ্বে এখন প্রায় ১০টির মতো বৃহৎ কৃষিভিত্তিক বহুজাতিক কোম্পানি রয়েছে যারা সারাবিশ্বের মোট ৪০ ভাগ বীজের বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে। এ কোম্পানিগুলোর মধ্যে শীর্ষে রয়েছে মনসেন্টো, সিনজেনটা, অ্যাভেন্টিস এবং ডিওপোন্ট। গত বছর ১২ মে প্রকাশিত আন্তর্জাতিক ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট নিউজ সার্ভিসের আরেক রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়, হাইব্রিড শস্য উদ্ভাবিত হওয়ার পর বহুজাতিক কোম্পানির বীজ ব্যবসায় রাতারাতি উথান ঘটেছে। বিশ্বের প্রায় ৮০ ভাগ কৃষি বায়োটেকনোলজি বিষয়ক গবেষণা এসব কোম্পানি পরিচালনা করছে।
শীর্ষস্খানীয় কৃষিভিত্তিক বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর বিনিয়োগ এত বিপুল যে, তা রীতিমতো অবিশ্বাস্য। আমেরিকার কৃষিভিত্তিক বহুজাতিক কোম্পানি মনসেন্টোর মোট পুঁজি ৪ হাজার ৫০০ কোটি মার্কিন ডলার। গত বছর এ প্রতিষ্ঠান মোট লাভ করেছে ৯৯ কোটি ৩০ লাখ মার্কিন ডলার। বিশ্বের শতাধিক দেশে এ কোম্পানি ব্যবসা পরিচালনা করছে। মূলত নিজেদের উদ্ভাবিত জাতের বীজ, কীটনাশক এবং আগাছানাশক এ কোম্পানির উৎপাদিত দ্রব্য। বাংলাদেশে এ কোম্পানি ভুট্টার বীজ সরবরাহ করছে। এ ছাড়া এ কোম্পানি দেশে জেনেটিক্যালি মডিফায়েড বেগুন, তুলা, পেঁপে এবং আলু প্রবেশ করানোর চেষ্টা করছে। অপর কোম্পানি সুইজারল্যান্ডভিত্তিক সিনজেনটার কার্যক্রম বিশ্বের মোট ৯০টি দেশে বিস্তৃত। এ কোম্পানি গত বছর নিট আয় করেছে ৮৭ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার। বাংলাদেশে এ কোম্পানিটি ভুট্টা এবং সবজির বীজ সরবরাহ করে।
শস্য বীজের ব্যবসার জন্য বাংলাদেশ এখন উর্বর ক্ষেত্র। কৃষি মন্ত্রণালয়ের হিসাব মতে, দেশে মোট বীজের চাহিদার মাত্র ১৩ ভাগ সরকারি-বেসরকারিভাবে সরবরাহ করা হচ্ছে। বাকি ৮৭ ভাগ বীজের বাজার দখল করাই এখন বহুজাতিক কোম্পানি এবং দেশীয় কোম্পানিগুলোর প্রধান লক্ষ্য। বাংলাদেশেও বেসরকারি বীজ কোম্পানির উথান ঘটছে। বাংলাদেশ সিড গ্রোয়ার, ডিলার অ্যান্ড মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের হিসাব মতে দেশে মোট বীজ কোম্পানি রয়েছে প্রায় একশটি। বহুজাতিক কোম্পানি হয় সরাসরি অথবা স্খানীয় কোম্পানিগুলোর সাথে চুক্তির বিনিময়ে বাংলাদেশের বাজারে তাদের বীজ বিক্রি করছে। এসব বহুজাতিক কোম্পানির বাংলাদেশের কৃষকের চাহিদা এবং মাটি ও পরিবেশ উপযোগী জাত উদ্ভাবনের লক্ষ্যে নিজস্ব গবেষণা কার্যক্রম রয়েছে।
বাংলাদেশের প্রধান খাদ্যশস্য ধান চাষে দেশীয় উফশীর প্রাধান্য এখন কমতির দিকে। কারণ, ১৯৯৮ সালে বিদেশ থেকে হাইব্রিড ধান বীজ দেশে আমদানির জন্য অনুমোদিত হওয়ার পর এ ধানের চাষ দিন দিন প্রসারলাভ করছে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের হিসাব মতে, গত বোরো মৌসুমে প্রায় ১২ লাখ হেক্টর জমিতে হাইব্রিড ধানের চাষ হয়েছে, যা ওই মৌসুমে মোট চাষকৃত ধানের জমির প্রায় ২৫ ভাগ। এ পরিমাণ জমিতে হাইব্রিড বীজ ব্যবহৃত হয়েছে প্রায় সাড়ে ১১ হাজার মেট্রিক টন। এ বীজের মধ্যে প্রায় সাড়ে ৯ হাজার মেট্রিক টন বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়েছে। বাকি বীজ বিদেশ থেকে আমদানি করা লাইনের মাধ্যমে দেশের বেসরকারি বীজ কোম্পানিগুলো নিজেদের খামারে উৎপাদন করে নিয়েছে। বিগত দশ বছরে বোরো মৌসুমে হাইব্রিড ধানের চাষ ২৫ ভাগে পৌঁছে যাওয়ায় ধারণা করা হচ্ছে, আগামী চার দশকের মধ্যে দেশের বেশিরভাগ বোরো জমি হাইব্রিডের অধীনে চলে যাবে। এ ছাড়া চীনের কয়েকটি কোম্পানি আমন মৌসুম উপযোগী হাইব্রিড ধান উদ্ভাবন করেছে, যা বাংলাদেশে চাষ হতে যাচ্ছে। অর্থাৎ ধানের ক্ষেত্রে দেশের কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলো কর্তৃক উদ্ভাবিত জাতের চাষ শেষ হয়ে যাওয়া এখন সময়ের ব্যাপার।
বিদেশী হাইব্রিড ধানের সাথে পাল্লা দিয়ে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট এ পর্যন্ত দু’টি জাতের হাইব্রিড ধান উদ্ভাবন করেছে। এর মধ্যে ব্রি হাইব্রিড ধান-১ দেশী-বিদেশী কোম্পানির সাথে প্রতিযোগিতায় টিকতে পারেনি। চাহিদা না থাকায় বিএডিসি এ ধানের বীজ উৎপাদন করে না। আর ব্রি হাইব্রিড ধান-২ উদ্ভাবিত হয়েছে এ বছর। ধানের এ জাতটি প্রতিযোগিতায় টিকতে পারবে কি না সেটাই এখন দেখার বিষয়। কারণ চীনের হুবেই প্রভিন্সিয়াল সিড গ্রুপ কোম্পানির বাংলাদেশের সুপ্রিম সিড কোম্পানির সাথে একটি চুক্তি করতে যাচ্ছে। এ চুক্তি অনুযায়ী এ দুই কোম্পানির বাংলাদেশে গবেষণা কেন্দ্র করে এখানকার মাটি ও পরিবেশ উপযোগী হাইব্রিড ধানের জাত উদ্ভাবন করবে। হাইব্রিড ধান নিয়ে প্রায় তিন দশকের অভিজ্ঞতায় পুষ্ট চীনের এ কোম্পানির সাথে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট প্রতিযোগিতায় পেরে উঠবে কি না তা নিয়ে অনেকেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। অপর কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট এ পর্যন্ত মোট ৭ জাতের উফশী ধান উদ্ভাবন করলেও হাইব্রিড ধান নিয়ে তাদের কোনো গবেষণা নেই।
বাংলাদেশে দ্বিতীয় প্রধান খাদ্যশস্য গমের উৎপাদন দিন দিন কমে আসছে। গমের জায়গা দখল করছে হাইব্রিড ভুট্টা। গমের জমিতে যে হাইব্রিড ভুট্টা চাষ হচ্ছে তাতে একচেটিয়া প্রাধান্য বহুজাতিক কোম্পানি সিনজেনটা এবং মনসেন্টোর। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট পাঁচ জাতের হাইব্রিড ভুট্টা উদ্ভাবন করলেও কৃষক পর্যায়ে চাষের ক্ষেত্রে দেশী-বিদেশী কোম্পানির উদ্ভাবিত ভুট্টার প্রাধান্য এখন সুস্পষ্ট।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের সিড উইংয়ের হিসাব মতে, দেশে প্রতি বছর ভুট্টা বীজের চাহিদা প্রায় ৩ হাজার ৩০০ মেট্রিক টন। এর মধ্যে ৩ হাজার মেট্রিক টন ভুট্টা বীজই সরবরাহ করছে কোম্পানিগুলো। যেহেতু গমের চাষ কমে দিন দিন ভুট্টা চাষের প্রসার ঘটছে, সেহেতু কোম্পানিগুলোর বাংলাদেশে গম নিয়ে তেমন চিন্তাভাবনা নেই।
সবজির ক্ষেত্রে দেশের বীজ কোম্পানির প্রাধান্য এখন একচেটিয়া। সিড উইংয়ের হিসাব মতে, আমাদের দেশে প্রতি বছর সবজি বীজের চাহিদা প্রায় ২ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন। এর মধ্যে কোম্পানিগুলো সরবরাহ করছে ৭২৮ মেট্রিক টন বীজ এবং সরকারিভাবে সরবরাহ করা হচ্ছে মাত্র ৬৩.২ মেট্রিক টন বীজ। কোম্পানিগুলো দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে বাছাইকৃত সবজির জাত সংগ্রহ করে অথবা নিজেরাই উদ্ভাবন করে বাজারে এসব বীজ বিক্রি করছে। কোম্পানি উদ্ভাবিত সবজির জাতের মধ্যে আবার অধিকাংশই হাইব্রিড।
বিশিষ্ট কৃষি বিজ্ঞানী ও শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো: শাহ-ই-আলম এ সম্পর্কে এ প্রতিবেদককে জানান, দেশের কৃষি ক্ষেত্রের সমসাময়িক চিত্র পর্যবেক্ষণ করে আমিও অনেকটা একমত যে, আগামী দিনগুলোতে দেশী-বিদেশী কোম্পানি কর্তৃক উদ্ভাবিত ফসলের জাতই চাষাবাদের ক্ষেত্রে প্রাধান্য বিস্তার করবে। তবে সরকারি কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর অস্তিত্ব থাকবে না এ বিষয়ে আমি একমত নই। বেসরকারি কোম্পানিগুলোর সরকারি কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতার প্রয়োজন রয়েছে। উন্নত দেশগুলোতে বেসরকারি কোম্পানিগুলো কৃষি ক্ষেত্রে বিরাজমান জটিল বিষয়গুলোর সমাধানে সরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের দারস্খ হয়। এসব কোম্পানি অনেক সময় চুক্তিভিত্তিক অনেক গবেষণা সরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান কর্তৃক করিয়ে নেয়। বাংলাদেশে এখন থেকে এ ধরনের প্র্যাকটিস শুরু করা উচিত।’
অপর বিশিষ্ট কৃষি বিজ্ঞানী ও বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক মহাপরিচালক ড. এম এ হামিদ এ প্রতিবেদককে জানান, দেশের স্বার্থে দেশের সরকারি কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোকে টিকে থাকতে হবে। এ লক্ষ্যে এসব প্রতিষ্ঠানে গবেষণা খাতে সরকারি বিনিয়োগ বাড়াতে হবে এবং কাজে গতিশীলতা আনতে হবে।
তিনি জানান, দেশীয় উফশী ফসলের চেয়ে হাইব্রিড শস্যে অধিক উৎপাদন ক্ষমতা থাকার কারণে কৃষক পর্যায়ে এর জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়ছে। এ অবস্খায় বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর সাথে পাল্লা দিয়ে টিকে থাকতে হলে দেশের আবহাওয়া উপযোগী অধিক উৎপাদনশীল হাইব্রিড ধান উদ্ভাবন করতে হবে। সমস্যা হচ্ছে, দেশে হাইব্রিড বিষয়ে বিশেষজ্ঞ বিজ্ঞানীর অভাব রয়েছে। দেশে শীর্ষস্খানীয় গবেষণা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটে মাত্র একজন হাইব্রিড বিষয়ে বিশেষজ্ঞ বিজ্ঞানী রয়েছেন। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটে তিনজন ভুট্টার হাইব্রিড বিজ্ঞানী রয়েছেন। এ ছাড়া বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এবং বঙ্গবìধু শেখ মুজিব কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে একজন করে হাইব্রিড বিজ্ঞানী রয়েছেন। এ সমস্যা সমাধানে জাতীয়ভাবে দেশের এ চারটি প্রতিষ্ঠানের হাইব্রিড বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি কমিটি করা যেতে পারে। এ কমিটির সদস্যরা সম্মিলিতভাবে হাইব্রিড শস্য উৎপাদনে গবেষণা পরিচালনা করবেন। একই সাথে হাইব্রিড বিষয়ে বিশেষজ্ঞ তৈরির জন্য প্রশিক্ষণমূলক কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে।

সংবাদ:  নয়াদিগন্ত

বাংলা আমার মা,বাংলা আমার মাতৃভাষা
http://forum.projanmo.com/uploads/2007/12/542_flagmobile.gif

Re: চ্যালেঞ্জের মুখে কৃষি গবেষণা

জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ এই খবরটা সকলের মাঝে ছড়িয়ে দেয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

কৃষি সম্পর্কিত আরো তথ্যসমৃদ্ধ কিছু পোস্ট
আমাদের কৃষি, আমাদের প্রাণ
হায়রে কৃষি!!!!!!!!!!

সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন শামীম (19-10-2008 00:47)

Re: চ্যালেঞ্জের মুখে কৃষি গবেষণা

গত ঈদে আমার ভাইয়া ঠিক এ বিষয়টাই আমাকে বলছিলেন। এখন তো দেখি তার সন্দেহ পুরো ঠিক! তেল গ্যাস এর মত বীজ ও সারও আমাদের হাত ছাড়া হয়ে যাচ্ছে! sad

http://twitstamp.com/thehungrycoder/standard.png
what to do?

পোস্টঃ [ ৩ ]

পাতা 1

উত্তর দেয়ার জন্য আপনাকে অবশ্যই প্রবেশ বা নিবন্ধন করতে হবে

সম্পর্কিত বিষয়

শিরোনাম উত্তর সমূহ প্রদর্শন সর্বশেষ পোস্ট

  • ১৬ উত্তর সমূহ
  • ১৩৯২ প্রদর্শন
  • সর্বশেষ পোস্ট 12-09-2009 22:43 লিখেছেন শিপলু

গবেষণা!

লিখেছেন স্বপ্নচারী

  • উত্তর সমূহ
  • ৪৬৮ প্রদর্শন
  • সর্বশেষ পোস্ট 10-08-2008 19:32 লিখেছেন জুয়েল
  • উত্তর সমূহ
  • ৪৩ প্রদর্শন
  • সর্বশেষ পোস্ট 05-03-2008 17:31 লিখেছেন সেভারাস
  • ১০ উত্তর সমূহ
  • ৫৫১ প্রদর্শন
  • সর্বশেষ পোস্ট 19-06-2009 05:23 লিখেছেন দ্বীপ থেকে

বিদেশি ব্যাংকের কৃষি ঋণ...কিন্তু....

লিখেছেন হাঙ্গরিকোডার

  • উত্তর সমূহ
  • ১০৪৫ প্রদর্শন
  • সর্বশেষ পোস্ট 18-09-2008 03:39 লিখেছেন সালেহ আহমদ

X




Currently installed 10 official extensions. Copyright © 2003–2009 PunBB.




English Pad: