টপিকঃ ম্যাক নিয়ে আমার অভিজ্ঞতা
দুনিয়ায় যত প্রকার অপারেটিং সিস্টেম আছে তাদের বেশীরভাগই চেখে দেখা হয়ে গিয়েছিল। একটা সময়ে ২০ কিলোবাইটের জিপির ইন্টারনেট দিয়ে সারাদিন শুধু লিনাক্সের বিভিন্ন ডিস্ট্রো নামাতাম, আর সেগুলো ভার্চুয়াল বক্সে টেস্ট করে দেখতাম। আর অনেকগুলো ডিস্ট্রো একসাথে জমা হওয়ার পরই সেগুলো একটা ডিভিডিতে রাইট করে রাখতাম। লিনাক্সের বিভিন্ন ডিস্ট্রোগুলোর পুরাতন ডিস্ট্রোগুলো এখনও ডিভিডিতে জমা আছে অনেকগুলো। এইতো কয়েকদিন আগে উইন্ডোজ ৮ রিলিজ হওয়ার পরপরই ডাউনলোড করে ফেললাম। কিন্তু রেজ্যুলেশন ফুল সাপোর্ট না পাওয়াতে কয়েকদিন গুতাগুতি করে মুছে ফেলি। কিন্তু সব ধরনের অপারেটিং সিস্টেমের স্বাদ নিতে পারলেও ম্যাক ব্যবহার করা হয়ে ওঠেনি কখনও। এমনকি আমার পরিচিত কেউ ম্যাক ব্যবহার না করার কারণে বাস্তবে কখনও ম্যাকের ইন্টারফেস টাও দেখা হয়নি
আর সহজলভ্য না হওয়াতে এবং হ্যাকিনটোশ ইনস্টল করার মত পিসি না থাকাতে ম্যাকের প্রতি দূর্নিবার আকর্ষণ ছিল। অবশেষে বহু প্রতীক্ষার পর সপ্তাহখানেক আগে ম্যাক আমার পিসিতে ইনস্টল করতে পারলাম
আমার বর্তমান পিসির কনফিগারও তেমন আহামরী নয়। ডুয়েল কোর ৩ গিগাহার্টজ এর প্রসেসর, গিগাবাইট G41MT-S2P মাদারবোর্ড, ২ গিগা DDR3 র্যাম এবং ৮০+২৫০ গিগার হার্ডডিস্ক। এই হচ্ছে আমার পিসির কনফিগারেশন। এতেই ম্যাক বেশ ভালোই দৌড়াচ্ছে। হয়ত আসল ম্যাকের স্বাদ পাচ্ছি না, কিন্তু যা পাচ্ছি তাও কম কিসের
কয়েকদিন আগে আল-আমিন এর ফেসবুক স্ট্যাটাস এ দেখলাম সে নাকি ম্যাক ইনস্টল করেছে। তার পিসির কনফিগারেশন অনেক লো। পরে একদিন ফোনে বিস্তারিত কথা হয়। সে জানাল সেও সাইফের দেয়া সেই ডিভিডিটা থেকে ইনস্টল করেছে। আমি এর আগে একবার ডিভিডিখানা ডাউনলোড করেছিলাম। কিন্তু বুট করার পর বায়োস ইরর দেখাত
বেশ গুতোগুতি করেছিলাম এই নিয়ে। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয় নি। পরে ম্যাকের প্রতি আস্তে আস্তে আগ্রহ হারিয়ে ফেলি। অবশ্য সমস্যাটা এখন ধরতে পেরেছি। সমস্যাটা হয়েছিল আমি প্যাচ ফাইলটা দিয়ে প্যাচ করিনি। তাই বায়োস ইরর দেখাত। যাই হোক নতুন উদ্যমে আবার ম্যাক ডাউনলোড করে ডিভিডিতে রাইট করে ফেললাম। ৮০ গিগার একটা সিগেট এর হার্ডডিস্ক ছিল। ওটাতেই ইনস্টল করার চিন্তা করলাম। কারণ যদি ২৫০ গিগারটাতে ইনস্টল করতে গিয়ে যদি অন্য কোন ড্রাইভ মুছে যায়। আর পিসিতে বর্তমান থাকা অপারেটিং সিস্টেমগুলোর সাথে বুটে ঝামেলা করবেই। তাই ওটাতে ইনস্টল করার সিদ্ধান্ত নিলাম। ডিভিডি ঢুকিয়ে বুট করলাম। অনেক সময় নিল ইনস্টলের অপশন আসতে
আমি মোটামুটি বিরক্ত হয়ে গিয়েছিলাম। পুরো ইনস্টল প্রক্রিয়া শেষ হতে মোটামুটি ৪০ মিনিটের মত লাগল। কিন্তু একি! বুট তো হয় না। বলে কার্ণেল নাই। কিছুক্ষণ ভাবলাম ইনস্টলের প্রক্রিয়া নিয়ে। তারপর আবার নতুন করে বুট করলাম। এবার সব কিছু আস্তে আস্তে করা শুরু করলাম। আগের বার উত্তেজনা বশত খুব দ্রুত করছিলাম সবকিছু। এবার আস্তে ধীরে
ড্রাইভ ফরম্যাট করে, কাস্টমাইজ বাটনে ক্লিক করেই আগের বারের ভুলটা বুঝতে পারলাম। প্রথমবার শুধুমাত্র নেক্সট নেক্সট করে গিয়েছিলাম। কোন ড্রাইভার ইনস্টল করিনি। এবার পিসির কনফিগারেশন এবং সাইফের দেয়া স্ক্রীণশট অনুসারে ড্রাইভারগুলোতে টিকমার্ক করে দিলাম। অন্য সবকিছু নিয়মমাফিক মত করাতে এবার ইনস্টল শেষেই বহুল প্রতীক্ষিত ম্যাকের ডেস্কটপ চলে এল। ডাউনলোড, ডিভিডি রাইটের সময় নিজের মানসিক অস্থিরতা দেখে নিজেরই হাসি পাচ্ছিল। পিচ্চিরা নতুন কোন খেলনা পেলে যেমন খুশি হয় ম্যাক ইনস্টলের পর আমার কাছে তারচেয়ে বেশী খুশি লাগছিল। মনে হচ্ছিল বিশ্ব জয় করে ফেলেছি 
অনেক ক্যাচাল পাড়লাম। এবার ম্যাক নিয়ে কিছু আলোচনা-সমালোচনা-সমস্যা
১. ইনস্টল করার পর আমার নোকিয়া ২৭০০ ক্লাসিক দিয়ে খুব সহজেই ইন্টারনেট কানেকশন দিতে পেরেছিলাম। উবুন্টু/লিনাক্স মিন্টে যেভাবে এক ক্লিকেই করা যায়, এখানেও সেরকম 
২. প্রাথমিক অবস্থায় বাংলা ফন্ট না থাকায় বাংলা সাপোর্ট পাইনি। বাংলা ফন্ট ইনস্টল করার পরই সবকিছু ঝকঝকা 
৩. সবচেয়ে দারুণ লেগেছে কোন সফটওয়্যার ইনস্টল করার প্রক্রিয়া। আমি তো প্রথমে বুঝতে পারছিলাম না কিভাবে সফটওয়্যার ইনস্টল করব। একটা সফটওয়্যার এর উপর ডাবল ক্লিক করাতে সেটা এক্সট্রাকট হল। এর দেখলাম একটা উইন্ডো আসল। ভেবেছিলাম সফটওয়্যার ইনস্টল হয়ে গেছে। কিন্তু অ্যাপ্লিকেশন ফোল্ডারের ভিতরে সফটওয়্যার এর শর্টকাট নাই। পরে হঠাৎ করে মনে পড়ে পড়ল সাইফ বলেছিল ম্যাকে সফটওয়্যার ইনস্টল হচ্ছে জাস্ট ড্রাগ এন্ড ড্রপ। কথাটা মনে পড়াতে যে সফটওয়্যারটা ইনস্টল করতে চাচ্ছিলাম সেটাকে মাউস দিয়ে ড্রাগ করে অ্যাপ্লিকেশন ফোল্ডারের ভিতরে রেখে দিতেই সফটওয়্যারটা ইনস্টল হয়ে গেল
প্রথম ইনস্টল করা সফটওয়্যার হচ্ছে গুগল ক্রোম 
৪. বেশ কিছু ডিভাইস এর সাপোর্ট পাইনি। অবশ্য হ্যাকিনটোশ বলে তেমন আশাও করছি না। প্রথমে রেজ্যুলেশন পাই ১০২৪*৭৬৮। পরে সারিম এর পরামর্শমত কাজ করে কিছুটা ইমপ্রুভ হয়েছে। বর্তমান রেজ্যুলেশন ১২৮০*৭৬৮। কিন্তু সর্বোচ্চ রেজ্যুলেশন পাইনি
সর্বোচ্চ রেজ্যুলেশন পাওয়ার কথা ১৩৬৬*৭৬৮।
৫. ল্যান কার্ডের ড্রাইভার পায় না।
৬. আমার ২৫০ গিগার হাড্ডিটার সবগুলো ড্রাইভ এনটিএফএস। সেগুলো প্রথমে খুজে পায় নাই। পরে tuxera এর ১৫ দিনের ট্রায়াল ভার্সন ইনস্টল করাতে আপাতত পেয়েছে। কিন্তু ১৫ দিন পর কি হবে কে জানে!! 
৭. প্রথমে বাংলা লেখার কোন উপায় খুজে পাইনি। পরে সার্চ করে একুশের দেয়া সফটওয়্যার টা ইনস্টল করে বাংলা লিখতে পারছি। তবে কিছু কিছু যুক্তাক্ষর লিখতে পারছি না। কাগুর লে-আউট ব্যবহার করছি এখনও। প্রভাত টা শেখা জরুরী। কিন্তু শিখতে মঞ্চায় না 
৮. ওয়ার্ড প্রসেসর রুপে কি ব্যবহার করব তাই নিয়ে নেটে খুজলাম কিছুক্ষণ। পরে দেখি লিব্রে অফিস এর ম্যাক ভার্সন আছে। ঝটপট ডাউনলোড করে ড্রাগ এন্ড ড্রপ

৯. উইন্ডোজে কেএম প্লেয়ার আর লিনাক্স মিন্ট/উবুন্টুতে এস প্লেয়ার ব্যবহার করি। ম্যাক এ ভিএলসি ছাড়া তেমন কিছু পাচ্ছি না। ভিএলসি ভালো লাগে না 
১০. ভার্চুয়াল বক্সের ম্যাক ভার্সন আছে 
১১. কোন ফাইল কি-বোর্ড দিয়ে ডিলেট করতে পারি না। কিবোর্ডের ডিলেট/ব্যাকস্পেস কোনটাই ডিলেট এর ক্ষেত্রে কাজ করে না। অবশ্য ওয়ার্ডপ্রসেসর এ কাজ করে
১২. লিব্রে অফিসে লেখার সময় প্রথমে কি-বোর্ড দিয়ে কোন শর্টকাট ব্যবহার করতে পারছিলাম না। পরে দেখি উইন্ডোজ/লিনাক্সে যেখানে Ctrl ব্যবহার করা হয়, ম্যাক এ সেখানে Alt ব্যবহার করা হয়। কিন্তু Home বাটন চাপলে একেবারে লেখার শুরুরে কার্সর চলে যায়। লাইনের শুরুতে যায় না। End বাটন প্রেস করলেও একই ঘটনা 
১৩. আমার হাতুড়ে কম্পুর র্যাম-প্রসেসর ম্যাক যেভাবে ব্যবহার করবে বলে ভেবেছিলাম সেভাবে ব্যবহার করছে না। আমি ভেবেছিলাম ২ জিবির র্যামের বোধহয় সবসময়ই ইউজেস ১ গিগার উপরে থাকবে এবং প্রসেসর ৬০-৭০%। কিন্তু সপ্তাহখানেক এর অভিজ্ঞতায় মনে হচ্ছে উবুন্টুর চেয়েও কম রিসোর্স ব্যবহার করে এটা
অবশ্য হ্যাকিনটোশ এর বদৌলতে কিনা কে জানে 
আপাতত সুবিধা এবং সমস্যা এই পর্যন্তই। আরও ঘাটাঘাটি করে দেখি আরও কি কি বের হয়। তবে এই সীমিত ব্যবহারে আমার ম্যাক কেনার ইচ্ছা হয়নি
তবে ব্যাটারী ব্যাকআপ অবশ্যই ভালো একটা জিনিস। যেটা ম্যাকবুকে পাওয়া যায়। তবে শেষ কথা হল ম্যাক হচ্ছে ম্যাক। টাকা পয়সা থাকলে বিলাসিতা করা যেতে পারে, ভাব নেয়া যেতে পারে।
Change is painful and change is difficult. This is why we do the same thing everyday...
লেখাটি LGPL এর অধীনে প্রকাশিত


এখনও মাথায় আছে। দেখি আজই লিখে ফেলব 
আমি তো জানি ওটার দাম বাংলাদেশে ৬০ এর আশেপাশে