টপিকঃ ক্রীড়াঙ্গন লেখা
আমার সাধ না মিটিলো আশা না ফুরিলোঃ
ব্যাগ এন্ড ব্যাগেজ বাঁধা-ছাদাই ছিলো; ব্যাপারটা এমন পর্যায়ে গিয়ে দাঁড়িয়েছিলো যে, এখন শুধু উড়ে যাওয়া আর দল নিয়ে অনুশীলনে নেমে পড়া। শুধু কি তাই, ভারতে যাবার আগেই অস্ট্রেলিয়ান সাহেবের ভারত-প্রীতি উথলে উঠছিলো। আর উঠবেই না বা কেনো, সাহেবের যে অনেক দিনের খায়েশ, তিনি হবেন রাহুল-শচীনদের কোচ। কিন্তু পরিশেষে এ কী হলো মিস্টার মোর? একেবারে মুখের ওপর ভারতীয়রা বন্ধ করে দিলো দোর! এখন তো চারিদিকে অন্ধকারের ঘোর। অবশ্য আশা একটা আছে, বিসিবি বলেছে, মোরের জন্য আমাদের দরজা সবসময়ই খোলা। অন্যদিকে পাকিস্তান, ভারতের কোচ হওয়ার জন্য বাংলাদেশের আসার পর থেকেই তিনি নানাভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। বাংলাদেশ দলের দায়িত্ব কাঁধে রেখেই তিনি যেভাবে ভারতের কোচ হওয়ার জন্য নিয়ম-নীতি বহির্ভূত দেন-দরবার চালিয়ে যাচ্ছিলেন, তা ছিলো দুঃখজনক। দু’বছর আগেও একবার তিনি এমন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছিলেন, যেনো ভারতের কোচের দায়িত্ব পেয়েই গেছেন। এখন শুধু ‘বাই বাংলাদেশ’ বলা বাকি। সেবার ভারতীয় কোচ হওয়ার জন্য লাগেজ-ব্যাগেজ নিয়ে এয়ারপোর্টের উদ্দেশ্যে প্রায় রওনা হওয়া (!) এই হোয়াটমোরকে ঠেকিয়ে চুক্তি নবায়নে বিসিবি’র যেনো ঘাম ঝরেছে। এরপরও কি নিস্তার ছিলো, সেই নয়া চুক্তির একটি ধারা ‘গেট আউট’কে অস্ত্র হিসেবে হাতে তুলে নিলেন মোর। মোক্ষম সুযোগটাকে বেশ কাজে লাগিয়ে সেবার এই অস্ট্রেলিয়ান পন্ডিতমশাই ইচ্ছেমাফিক বাড়িয়ে নিয়েছেন অর্থ আর নানা সুযোগ-সুবিধা। এবারও বিশ্বকাপ শেষে তিনি তুললেন ভারতের জিকির, শুরু করলেন জোর লবিং। এমন কি, বাংলাদেশ-ভারতের টেস্ট চলাকালীন সময়ে টেনে আনলেন ভারতীয় ক্রিকেটের শীর্ষ কর্তাদের। শোনা গিয়েছিলো, বাংলাদেশে বসেই ভারতের সাথে পন্ডিতমশাইয়ের চূড়ান্ত চুক্তিটা হয়ে যাবে। কিন্তু বাধ সাধলো বেরসিক বিসিবি। বিলম্বে হলেও তাদের বোধোদয় ঘটলো। তারা নিষেধাজ্ঞা জারি করলো, ‘ভারতের সাথে চুক্তি বাংলাদেশে বসে নয়’। তবে এই নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ভারতীয় ক্রিকেট কর্তাদের সাথে গোপন বৈঠক করেছেন মোর। চূড়ান্ত একটা সিদ্ধান্তও হয়ে গিয়েছিলো। অপেক্ষা ছিলো শুধু ঘোষণার। কিন্তু ৪ জুন ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের বৈঠকে ‘খুন’ হয়ে গেলেন হোয়াটমোর। ভারতীয়রা ‘গেট আউট’ বলে দিলো তাকে। মোরের এতোদিনের লালিত স্বপ্ন ধূলিস্মাৎ হলো। এটা নিশ্চিত যে, বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থান করা মোর স্বপ্নভঙ্গের বেদনায় কাতর, হয়তো পাথরও। হয়তো কোনো পার্কের বেঞ্চিতে বসে গাইছেন বাংলাদেশ থেকে শিখে যাওয়া গানটি, ‘আমার সাধ না মিটিলো, আশা না ফুরিলোঃ.। মোরকে ভারতের না করার পেছনে গাভাস্কার-শাস্ত্রীর তো হাত ছিলোই, এছাড়া ঢাকা টেস্টে টসে জিতে কোচ হিসেবে প্রতিকূল পরিস্থিতি বিবেচনা না করে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্তটাও বড় কারণ ছিলো। উল্লেখ্য, এই আত্মঘাতী সিদ্ধান্তের ফলে রানের এভারেস্ট গড়ে তোলে ভারত। এ সিদ্ধান্ত ক্রিকেট বিশ্বে সমালোচনার ঝড় তোলে। অবশ্য টসে জিতে এমন সিদ্ধান্তের জন্য মোর পরে ক্ষমাও চেয়েছিলেন। তবে উদার বাংলাদেশ মোরকে ক্ষমা করলেও ভারতীয়রা তাকে যাচাই করার মওকা পেয়ে গেলো।
এদিকে ভারতের ‘না’র ফলে মোরের সামনে এখন অনিশ্চিত গন্তব্য। কেননা, পাকিস্তানের দরজাও ইতিমধ্যে প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছে। উল্লেখ্য, পাকিস্তান তাকে কোচ হিসেবে পাবার আগ্রহ দেখালে তিনি তাদের ‘না’ বলেছিলেন। সর্বশেষ শোনা যাচ্ছে, কোথাও কোনো গতি না হলে কাউন্টি দল ল্যাঙ্কাশায়ারে ফিরে যাওয়ার চেষ্টায় নামবেন। তবে একটা ব্যাপার পরিষ্কার যে, ভারতীয়রা এই অস্ট্রেলিয়ান মিস্টারকে যে খেল্ দেখালো তা নিশ্চয় বাকি জীবনে একদিনের জন্যও তিনি ভুলবেন না।
এই লেখাটি আজকে ইত্তেফাকের ক্রীড়াঙ্গন পাতায় এসেছে। মূল লেখার অংশবিশেষ এটি। http://www.ittefaq.com/get.php?d=07/06/11/w/n_zqtzxz
লেখাটি পড়ে আমার খুব খারাপ লেগেছে। চরম অকৃতজ্ঞ মনে হয়েছে লেখককে। যার হাত ধরে আজ বাংলাদেশের ক্রিকেট বিশ্বে পরিচয় পাচ্ছে তাকে নিয়ে এভাবে লিখে আমাদেরকে চরম অকৃতজ্ঞ জাতি হিসেবেই উপস্থাপন করা হয়েছে।
ধিক্কার নীরু তোমাকে। ছি:

what to do?

