টপিকঃ ভিটামিন-এ ক্যাপসুল ও কৃমিনাশক খেয়ে শিশুরা অসুস্থ
আজ “চ্যালেল আই” - এ দেখলাম ব্রেকিং নিউজে দেখাচ্ছে ভিটামিন-এ ক্যাপসুল ও কৃমিনাশক খেয়ে ১০০০ এর ও বেশি শিশু অসুস্থ আর স্বাস্থ্য মন্ত্রী বলছেন এই সকল শিশুর নাকি আগে হতেই ডায়রিয়ার প্রকোপ ছিল।
আজ “প্রথম আলো” - তে প্রকাশিত হয়ঃ
ভিটামিন-এ ক্যাপসুল ও কৃমিনাশক ট্যাবলেট খেয়ে চাঁদপুরে ২৫ শিশু অসুস্থ
চাঁদপুর প্রতিনিধি
জাতীয় ভিটামিন এ ক্যাপসুল ও কৃমিনাশক ট্যাবলেট খেয়ে চাঁদপুর জেলার বিভিন্ন স্থানে প্রায় ২৫ শিশু অসুস্থ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে ৭ জনকে মতলব উত্তরের কালীপুর উপস্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে, দুই জনকে চাঁদপুর সদর হাসপাতালে, দুই জন হাইমচর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। বাকিরা স্থানীয় বিভিন্ন বেসরকারি চিকিৎসা কেন্দ্রে চিকিৎসা নেয়।
মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা ডা. গিয়াসউদ্দিন জানান, বিভিন্ন স্থান থেকে শিশুদের আক্রান্তের খবর তার কাছে এলেও এ যাবত ৮-১০ জনকে তাঁরা উপস্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দিয়েছেন। এরা হচ্ছে বদরপুরের আবদালিক (সাড়ে ৪), রেহানা (সাড়ে ৩), চান্দাকান্দির অপু (সাড়ে ৪), পুদিয়াপাড়ের শিমুল (৪), জামালপুরের কবির (৩), শিকিরচরের আবদুর রহিম (সাড়ে ৩) এবং ঢালিকান্দির তন্বী (২), নাউরি গ্রামের রাফিনা (২) ও সাফাউল (২)।
চাঁদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মো. শাহনেওয়াজ জেলার বিভিন্ন স্থানে শিশুদের অসুস্থ হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ১৯৭৩ সাল থেকে আমরা শিশুদের ভিটামিন-এ খাইয়ে আসছি। কিন্তু এ ধরনের ঘটনা কখনো ঘটেনি। তিনি আরও জানান, এই ভিটামিন ও কৃমিনাশক ট্যাবলেটের মেয়াদ ২০১১ সাল পর্যন্ত রয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে তারা বলতে পারবেন, কেন এ ঘটনা ঘটলো।মূল লেখাঃ http://www.prothom-alo.com/last.issue.n d=MjA2OTI=
“বিডিনিউজ২৪” - এ আজ প্রকাশিত হয়ঃ
ভিটামিন এ: আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের
ঢাকা, জুন ০৭ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)-- দেশের বিভিন্ন স্থানে ভিটামিন এ ও কৃমির ওষুধ খেয়ে শিশুদের অসুস্থ হওয়ার খবরে আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে জাতীয় পুষ্টি প্রতিষ্ঠান।এ ঘটনায় ফরিদপুরের চরভদ্রাসনের স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে বরখাস্তের সুপারিশ ও তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
শনিবার সারা দেশে ভিটামিন এ ক্যাপসুল ও কৃমির ট্যাবলেট খাওয়ানোর কর্মসূচি পালনের পর দেশের বিভিন্ন স্থানে শিশুদের অসুস্থ হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ে। অনেক অভিভাবক তাদের শিশুকে পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যান।
এ পর্যন্ত ফরিদপুর, সিরাজগঞ্জ, ঝিনাইদহ, চাঁদপুর, মাদারীপুর, কক্সবাজার, নাটোর, সুনামগঞ্জ, গোপালগঞ্জ ও নড়াইল প্রায় দুশ' শিশুর অসুস্থ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
রোববার বিকালে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী ডা. আ ফ ম রুহুল হকের বরাত দিয়ে মন্ত্রণালয়ের এক বক্তব্যে বলা হয়েছে, "সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে মনে হয়েছে শিশুদের অসুস্থতা কেবল ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবেই ঘটেনি। এর সঙ্গে অপুষ্টি, অত্যধিক গরম ও পরিবেশগত অন্যান্য কারণও জড়িত।"
ওষুধের মান ও মেয়াদ নিয়ে কোনও প্রশ্ন বা সংশয় নেই বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়। বিষয়টি সতর্কভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।
রোববার দুপুরে জাতীয় পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক অধ্যাপক পারভীন ফাতেমা চৌধুরী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, "এতে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। কৃমির ওষুধ খেলে বমি বা পাতলা পায়খানা হতে পারে।"
ফাতেমা পারভীন জানান, পেটে অতিরিক্ত কৃমি থাকলে ওষুধ খাওয়ার পর বমি বা পাতলা পায়খানা হতে পারে।
শনিবার সারাদেশে ২ কোটি শিশুকে ভিটামিন এ ক্যাপসুল ও ১ কোটি ৯০ লাখ শিশুকে কৃমির ওষুধ খাওয়ানোর কর্মসূচি পালন করা হয়। জাতীয় পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন, কৃমির ওষুধ খেয়েই শিশুরা বমি ও পাতলা পায়খানা করছে। শনিবার ইউনিসেফের সরবরাহ করা কৃমির ওষুধ 'এলবেনডাজল' খাওয়ানো হয়। দেশীয় প্রতিষ্ঠান ইনসেপ্টা এলবেনডাজল এর উৎপাদক। অন্যদিকে ভিটামিন এ ক্যাপসুল সরবরাহ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক অধ্যাপক পারভীন চৌধুরী জানান, ইনসেপ্টার সরবরাহ করা ওই এলবেনডাজল এর মেয়াদ আছে ২০১০ সালের মে মাস পর্যন্ত।
তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে তিনি বিভিন্ন জেলার সিভিল সার্জন ও উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা হয়েছে। অনেকেই ভয় পেয়ে শিশুকে পরীক্ষা করতে আনছে।
পরিচালক জানান, ফরিদপুরের চরভদ্রাসন থেকে শিশুর অসুস্থ হওয়ার খবর পাওয়া যায়। সেখানে আগে থেকেই ডায়রিয়ার প্রকোপ ছিল। ডায়রিয়া হলে এমনিতেই শিশুকে ভিটামিন ওষুধ খাওয়ানো হয়। আর কৃমির ওষুধ খাওয়াতেও কোনও সমস্যা নেই।
জাতীয় কর্মসূচির আগেই বৃহস্পতিবার চরভদ্রাসনে ক্যাপসুল ও ট্যাবলেট খাওয়ানো হয় বলে জানা গেছে।
ফরিদপুরে তদন্ত কমিটি
শনিবার ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে ১৫ ও নগরকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ১৩ টি অসুস্থ শিশুকে ভর্তি করা হয়। রোববার দুপুর পর্যন্ত এ হাসপাতালে চার জন ও নগরকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে চার জন চিকিৎসাধীন ছিল।
ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. এ এইচ সায়াদ জানান, এরা সবাই সুস্থ আছে।
ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. বশীরুল ইসলাম জানান, গুজব প্রচারকারীদের খুঁজে বের করতে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট শ্রাবণী ভট্টাচার্যকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে প্রশাসন।
সিভিল সার্জন বলেন, অতিরিক্ত গরমের জন্য ওষুধ খাওয়ার পর কোনও কোনও শিশু সামান্য অসুস্থ হয়ে পড়েছিল। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক।
তিনি জানান, চরভদ্রাসন উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে বরখাস্তের সুপারিশ করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসক হেলালুদ্দীন আহমদ জানিয়েছেন, গুজবের কারণে আতঙ্কিত অভিভাবকরা সন্তানদের ওষুধ খাওয়াতে দ্বিধাম্বিত ছিলেন। এতে উপস্থিতি কমে গিয়েছে। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে আবার ফরিদপুরে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হবে যাতে একটি শিশুও ভিটামিন 'এ' প্লাস ও কৃমিনাশক ট্যাবলেট খাওয়া থেকে বঞ্চিত না হয়।
বৃহস্পতিবার চরভদ্রাসন উপজেলার চরহরিরামপুর ইউনিয়নের চরসালিপুর ও চর হাজারবিঘা গ্রামের শতাধিক শিশু ভিটামিন 'এ' প্লাস ও কৃমিনাশক ওষুধ খাওয়ার পর ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়।
আতঙ্কিত না হতে নাটোরে মাইকিং
নাটোরের সিংড়া উপজেলায় শনিবার কৃমিনাশক ট্যাবলেট খেয়ে ৮৫ শিশু অসুস্থ হয়ে পড়ে। এ বিষয়ে আতঙ্কিত না হতে রোববার সকাল থেকে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে মাইকিং করা হচ্ছে।
নাটোরের সিভিল সার্জন ডা. জি এম মিজানুর রহমান রোববার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, "উপজেলার প্রতিটি গ্রামে শনিবার বিনামূল্যে ভিটামিন 'এ' ক্যাপসুল ও কৃমিনাশক ট্যাবলেট খাওয়ানো হয়। সন্ধ্যার দিকে বেশ কিছু শিশু কয়েকবার বমি করায় তাদেরকে সিংড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।"
তিনি জানান, প্রচণ্ড গরম এবং খালি পেটে কৃমিনাশক ট্যাবলেট খাওয়ায় শিশুরা কিছুটা অসুস্থ হয়ে পড়েছে। এতে গুরুতর অসুস্থ হওয়ার কোন সম্ভাবনা নেই। খাবার স্যালাইন খেয়েই শিশুরা সুস্থ হয়ে উঠছে।
সিভিল সার্জন জানান, সিংড়ায় সরবরাহকৃত ক্যাপসুল ও ট্যাবলেট পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হবে।
ভিটামিন ক্যাপসুল ও কৃমিনাশক ট্যাবলেট খেয়ে চাঁদপুর জেলার মতলবের বিভিন্ন গ্রামে প্রায় ৫০টি শিশু অসুস্থ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
চাঁদপুরের সিভিল সার্জন ডাঃ মোঃ শাহনেওয়াজ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, "আমাদের ধারণা এ যাবত অর্ধশত আক্রান্ত হতে পারে। তবে এ ধরনের ঘটনা নজিরবিহীন। কারণ, এই ভিটামিন ও কৃমিনাশক ট্যাবলেটের ২০১১ সাল পর্যন্ত মেয়াদ রয়েছে।
মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা ডাঃ গিয়াসউদ্দিন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, শনিবার উপজেলার বিভিন্ন কেন্দ্রে মোট ৭৭ হাজার ২'শ ৬৬ টি শিশুকে ভিটামিন এ প্লাস ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্য স্থির করা হয়। এর মধ্যে ২ থেকে ৫ বছরের ৩৫ হাজার ৪শ' ৫০ টি শিশুকে ভিটামিন এ প্লাসের সঙ্গে একটি করে কৃমিনাশক ট্যাবলেট খাওয়ানো হয়। আর এই ভিটামিন ও কৃমিনাশক ট্যাবলেট খাওয়ার কয়েক ঘন্টা পর বিভিন্ন গ্রাম থেকে খবর আসে কিছু শিশু পাতলা পায়খানা ও বমি করছে।
নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় কমপক্ষে ৩০ শিশু অসুস্থ হয়ে পড়ার খবর পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে চারজনকে লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা সুবোধ রঞ্জন বিশ্বাস শিশুদের অসুস্থতার কথা জানালেও ভিটামিন এ প্লাস ও কৃমিনাশক ট্যাবলেট খেয়ে অসুস্থ হয়েছে কিনা তা নিশ্চিত করেননি।
তিনি সাংবাদিকদের জানান, লোহাগড়ায় কমপক্ষে ৩০ শিশুর অসুস্থ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। অসুস্থরা লোহাগড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, বিভিন্ন ক্লিনিক ও বাড়িতে চিকিৎসা নিচ্ছে।
গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলায় অন্তত ৫০টি শিশু অসুস্থ হয়ে পড়েছে। এদের মধ্যে দুজনকে রোববার চিকিৎসা দিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
গোপালগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. নুর-উন-নবী বলেন, ভিটামিন এ ক্যাপসুল ও কৃমিনাশক ট্যাবলেট খাওয়ার পর শিশুদের পাতলা পায়খানা ও বমি বমি ভাব দেখা দিতে পারে। এ ধরনের উপসর্গ গোপালগঞ্জ সদর ও কোটালীপাড়ার শিশুদের মধ্যে দেখা গেছে। তবে এটি মারাত্মক কিছু নয়। অসুস্থ শিশুদের চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
আপনাদের সাথে বিষয়টা শেয়ার করতেই এখানে তুলে ধরলাম।
সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন অয়ন খান (07-06-2009 23:22)




লেখাটি CC by-nc-sa 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত