টপিকঃ নিজের ভিপিএস - ০ (ভিপিএস কী, কেন দরকার)
হোস্টিং কোম্পানিগুলো সাধারণত যেসব হোস্টিং প্যাকেজ অফার করে, বা আমরা যেগুলো কিনি সেগুলোকে বলে শেয়ার্ড হোস্টিং। খরচ কমানোর জন্য একটা সার্ভার মেশিনে কয়েকশ থেকে কয়েক হাজার ওয়েব সাইট থাকতে পারে একটা শেয়ার্ড হোস্টে। এক মেশিনে এত সাইট রাখার আরও একটা যুক্তি হলো সব সাইটে একসাথে লোড পড়ে না। (বাসায় একটা বাথরুম থাকলেও সবাই যেমন একসাথে দৌড়ায় না
) তবে এক বা একাধিক সাইটে যদি লোড পড়তে শুরু করে তবে শেয়ার্ড হোস্টিং এ তা অন্য সাইটের জন্য মাথা ব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। হোস্টিং কোম্পানিগুলো এসব ক্ষেত্রে বেশী লোডের সাইটকে রাস্তা মাপতে বলে। লোডের সমস্যা ছাড়াও, শেয়ার্ড হোস্টিংএর আরেকটা সমস্যা হলো ইউজার কোন সফটওয়ার ইন্সটল করতে না পারা। একই সফটওয়ার সবগুলো সাইট চালায় বলে, হোস্টিং কোম্পানি বাড়তি কোন সফটওয়ার, বা অপ্রচলিত কিছু তাদের সার্ভারে বসাতে দেয়া না। তবে প্রাথমিক অবস্থায় কম খরচে সাইট চালাতে হলে শেয়ার্ড হোস্টিং।
সাইট যখন বড় হয়ে যায়, এইচটিএমএলের বদলে ডাইনামিক করার জন্য পিএইচপি/জাভা/এএসপি ইত্যাদি ব্যবহৃত হয়, ডেটাবেস ব্যবহৃত হয় তখন স্বভাবতই সার্ভারের উপর বেশী চাপ পড়ে। সাইটের ভিজিটর সংখ্যা কয়েক শ থেকে কয়েক হাজার হলেই শেয়ার্ড হোস্টিং অনেকটা অকার্যকর হয়ে যায়। এ ধরনের বেশী লোডের সাইট চালানোর জন্য তখন দরকার হয় ডেডিকেটেড নিজস্ব সার্ভার, যেটা অন্য কেউ শেয়ার করবে না।
নিজের পিসি যেমন হয়, পেন্টিয়াম কোর টু-ডুয়ো, ২গিগা মেমরি, এক টেরা হার্ড ডিস্ক - এরকম হতে পারে সার্ভারের হার্ডওয়ার। তার পাশাপাশি, খুব দ্রুত গতির নেট কানেকশন থাকতে হবে। ১০মেগ, বা ১০০মেগের নীচে হলে কোন কাজেই আসবে না। এত সব ঠিক করার পর সার্ভারের নিরাপত্তা, নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ইত্যাদি নিশ্চিত করতে হবে। এতসব ভেজালে যাওয়ার চেয়ে, সহজ উপায় হলো হোস্টিং কোম্পানি থেকে একটা ডেডিকেটেড সার্ভার কিনে ফেলা। পছন্দমতো হার্ডওয়ার, নেটওয়ার্ক স্পিড, ব্যান্ডউডথের উপর নির্ভর করে একটা ডেডির জন্য প্রতি মাসে কয়েক শত থেকে কয়েক হাজার ডলার খরচ করতে হতে পারে। এর উপর আবার অপারেটিং সিস্টেম ও অন্যান্য সফটওয়ার স্থাপনা, নিয়মিত সেগুলো দেখাশুনা করার ব্যপার আছে। হোস্টিং কোম্পানি যদি এ ইন্সটল/দেখাশোনার কাজ করে দেয় তবে সেটাকে বলে ম্যানেজড হোস্টিং। আর যদি নিজেকেই সব করতে হয় তা হবে আনম্যানেজড হোস্টিং। ম্যানেজ করার জন্য প্রতিমাসে হোস্টিং কোম্পানিকে $৫০ কয়েক শত ডলার দিতে হতে পারে।
খরচের অংক দেখেই বুঝা যাচ্ছে ডেডি সবার জন্য নয়। শেয়ার্ড হোস্টিং যেমন সবচেয়ে নিম্নমানের, ডেডি-হোস্টিং তার ঠিক উল্টো, সবচেয়ে উচ্চমানের। এর মাঝামাঝি আছে ভিপিএস (vps)। ভিপিএস শেয়ার্ড হোস্টিংএর মতো না, আবার ঠিক ডেডিকেটেডও না। ভিপিএসের খরচ মাসে ৫ডলার থেকে শুরু করে ১০০ডলার হতে পারে। ম্যানেজড হলে কিছু বাড়তি।
ভিপিএস তৈরী করা হয়, একটা ডেডিকেটেড মেশিনের হার্ডওয়ার রিসোর্সকে লজিক্যালি কতগুলো ছোট আকারের সার্ভারে ভাগ করে। (এটা শেয়ারে গরু জবাইয়ের মতো।) এক একটা ভাগকে প্রচলিত কথায় নোড বলে। এক একেকটা নোড একটা ইন্ডিপেন্ডেন্ট সার্ভারের মতো। নিজের মতো, অপারেটিং সিস্টেম, প্রোগ্রাম ইন্সটল ইত্যাদি সব সুবিধাই বিদ্যমান।
সার্ভারের সব হার্ডওয়ারকে সমান করে ভাগ করা সম্ভব না, কোনটাকে হয়ত ভাগই করা যায় না, তাই সাধারণত মেমরিকে ভাগ করা হয়, এবং ভাগের আকারের উপর নির্ভর করে অন্যান্য রিসোর্স সমানুপাতিক হারে বরাদ্দ করা হয়। যেমন, ১গিগা মেমরিকে চার ভাগ করা হলো। ২৫৬মেগ করে নিল দুইজন, আরেকজন নিল ৫১২মেগ। তৃতীয়জন যেহেতু অর্ধেক মেমরি কিনছে (টাকাও বেশী) তাই সে বেশী সময় ধরে সিপিইউ ব্যবহার করতে পারবে।
সার্ভারকে ভাগাভাগির এ বিষয়টাকে টেকনিক্যালি বলে ভার্চুলাইজেশন। সাধারণত দুই ধরনের ভার্চুলাইজেশন দেখা যায়: জেন (xen), আর ওপেনভিজেড (OpenVZ)। এদুটোই লাইনাক্সের কার্নলের বিশেষ পরিবর্তন করে নিজেদের মতো করে কাজ করে। জেন, ওপেনভিজেড ছাড়া, উইন্ডোজের জন্য আছে ভিএমওয়ার (যদিও এর লাইনেক্স ভার্শনও আছে)। মূল সার্ভার যে অপারেটিং সিস্টেম চালায়, সেটাকে বলে হোস্ট ওএস, এর উপর ভার্চুলাইজেশনের জন্য সফটওয়ার, তার উপর এক একটা নোড বা ভার্চুয়াল মেশিনে চলে গেস্ট অপারেটিং সিস্টেম। এক একটা নোড যেহেতু ভিন্ন কাস্টমার ব্যবহার করে তাই তার ইচ্ছেমত সে নোডে ভি্ন্ন অপারেটিং সিস্টেম, ও অন্যান্য সফটওয়ার বসাতে পারে। একজনের পছন্দ অন্য কারো উপর কোন প্রভাব ফেলে না।
জেন ও ওপেনভিজেডের মধ্যে সুবিধা/অসুবিধা কী? জেন ও ওপেনভিজেডের ভালমন্দ বিচার করতে হলে তাদের সম্পর্কে বিশদ জানতে হবে। এ সংক্রান্ত তথ্য নিয়ে উইকিতে বিস্তারিত ভুক্তি আছে। আমরা সেদিক না গিয়ে সহজ কথায় কিছু জানতে চাই।
জেন ফিজিক্যাল মেমরিকে পুরোপুরি সঠিকভাবে ভাগ করে। অর্থাৎ, ১গিগাকে সমান চারভাগ করলে ২৫৬মেগ করে পড়বে। এই চারটা নোড চারজন ব্যবহার করলে প্রত্যেকে ২৫৬মেগ করে পাবে, এক বাইট কমও না, বেশীও না। অপরদিকে, ওপেনভিজেড অনেকটা শেয়ার্ড নীতি অবলম্বন করে। ধরা যাক, ১গিগাকে চার ভাগ করে বলা হলো প্রতিটি ভাগে ৩০০মেগ আছে। সব ইউজার যেহেতু একসাথে ৩০০মেগ করে ব্যবহার করবে না, তাই কোন সমস্যা নাই। কিন্তু ৪জনই যদি একসাথে ৩০০মেগ দখল করতে চায়, তবেই বিপদ হবে। কারণ ফিজিক্যালি প্রতি ভাগে ২৫৬মেগের বেশী নাই।
জেনের সুবিধা হলো, আমি যা কিনব হোস্টিং কোম্পানি থেকে তাই পাব। ৬৪মেগ মেমরি কিনলে ৬৪মেগই পাব, কম পাব না। অসুবিধা হলো, আমার সব সফটওয়ার এই ৬৪মেগের মধ্যেই চালাতে হবে। (তবে, সাধারণত, বাড়তি ১২৮মেগের সোয়াপ স্পেস দিবে)। কোন প্রোগ্রাম যদি এই মেমরি সীমার মধ্যে চলতে না পারে, আমার ভিপিএস ক্র্যাশ করবে। (তবে এতে অন্য কারো কোন অসুবিধা হবে না)। জেনে মেমরির লিমিট হার্ড। জেন বিক্রি করার সময়: ডেডিকেটেড+সোয়াপ মেমরির কথা বলা হয়।
ওপেনভিজেডে, আমি যা কিনব তা যে পাব তার কোন নিশ্চয়তা নেই। (গাবতলী মিরপুরের বাসের মতো গাদাগাদি করে ১০জনের জায়গায় যে ৪০জন তুলবে না তা জানার কোন উপায় নেই।) ভাল রেপুটেবল হোস্টিং কোম্পানি হয়ত যা বলবে তা দিবে, কিন্তু অন্য সবাই যে তা করবে তার কোন নিশ্চয়তা নেই। এটা খারাপ দিক। ভাল দিক হলো, ৬৪মেগ মেমরি কিনলে সাধারণত তার তিনগুণ বার্স্ট মেমরির সুযোগ পাওয়া যায়। অর্থাৎ, আমার কোন প্রোগ্রাম যদি ৬৪মেগে না চলে, আর সিস্টেমে মেমরি ফ্রি থাকে তবে আমি ১৯২মেগ পর্যন্ত ব্যবহার করতে পারব। আসলে পারব কিনা তা নির্ভর করে মেমরি ফ্রি আছে কি না। ওপেনভিজেড বিক্রি করার সময় এ দুটো (ডেডিকেটেড+বার্স্টেবল) মেমরির কথা বলা হয়। তবে মনে রাখতে হবে, এ ডেডিকেটেড মেমরি প্রকৃতপক্ষে জেনের মতো ডেডকেটেড না।
আমার ব্যক্তিগত বিচারে জেনই ভাল।
(পরে আরও কিছু যোগ করা হবে।)
ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা স্বীকার:
ইনভারব্রাস
সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন আলমগীর (08-09-2008 06:54)



লেখাটি GPL v3 এর অধীনে প্রকাশিত