পৃষ্ঠা: ১
অফিসে- “আমার গান যদি আপনাদের হৃদয়ে একটু দোলা দিয়ে থাকে, তাহলে আমাকে এসএমএস (SMS) করুন, প্লিজ-প্লিজ-প্লিজ !” : প্রতিযোগীর মন্তব্য
- “ আপনার পছন্দের প্রতিযোগীকে পরবর্তী রাউন্ডে দেখতে চাইলে তাকে বেশী বেশী এসএমএস (SMS) করুন, যতখুশী তত” : উপস্থাপকের মন্তব্য
- “আপনাকে এবার প্রতিযোগীতা থেকে বিদায় নিতে হচ্ছে, কারণ আপনার পক্ষে এসএমএস (SMS) -এর সংখ্যা অন্য প্রতিযোগীর তুলনায় অনেক কম” : উপস্থাপিকার মন্তব্য
প্রতিযোগী, উপস্থাপক বা উপস্থাপিকার এমন কোন মন্তব্যে খুব বেশী আশ্চর্য হবার দরকার নেই, কারণ প্রতিভা অন্বেষনের প্রতিযোগীতাগুলোতে বিচারকদের পাশাপাশি সাধারণ দর্শক-শ্রোতাদের মূল্যায়নের যে সুযোগ করে দেয়া হয়েছে সেখানে কোন প্রতিযোগী তার পক্ষে বেশী সংখ্যক এসএমএস (SMS) চাইতেই পারে, আর কম সংখ্যক এসএমএস (SMS)-এর কারণে যদি কোন প্রতিযোগী প্রতিযোগীতা থেকে বিদায় নেন তা খুব বেশী ব্যাতিক্রম কিছু নয়।
প্রযুক্তির বিকাশে মুঠোফোনের কল্যানে আপনারই দেয়া একটি বা দুটি বা ততোধিক এসএমএস (SMS) একজন প্রতিযোগীর ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটাতে সক্ষম। এটা বর্তমান বাস্তবতা কিন্তু তা কতটুকু যুক্তিসঙ্গত তা প্রশ্ন সাপেক্ষ ? পশ্চিমা সংস্কৃতির কল্যাণেই বলি আর পার্শ্ববর্তী দেশসমূহের আয়োজিত অনুষ্ঠানগুলোর আদতে গড়া আমাদের এ আয়োজনকে আরও বেশী অর্থবহ ও সার্থক করে তোলার জন্য আয়োজকরা এসএমএস (SMS) প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে থাকেন। যখন আপনি একজন দর্শক বা শ্রোতা হিসেবে একজন প্রতিযোগীকে এসএমএস (SMS) করছেন, সেক্ষেত্রে আপনি একজন বিচারক, বিচারকের আসনে তার প্রতিভাকে মুল্যায়নের স্বার্থেই আপনার করা এসএমএসে (SMS) প্রতিযোগীর ফলাফল মুল্যায়িত হয়। কিন্তু আপনি কোন বিষয়গুলিকে বিবেচনায় আনছেন একটি এসএমএসের জন্য : -
ক) প্রতিযোগীর সঙ্গীতজ্ঞ জ্ঞান ?
খ) তাল, লয়, সুরের সমন্বয় ?
গ) উচ্চারণের শুদ্ধতা ?
ঘ) প্রতিযোগীর সাজসজ্জা ?
ঙ) মঞ্চ উপস্থাপনার দক্ষতা, ইত্যাদি ?
হয়তবা এ বিষয়টির সাথে একমত হবেন, উপরোক্ত বিষয়গুলির সবগুলি নিশ্চয় কেউ মাথায় নিয়ে আর এসএমএস (SMS) করেন না, তাহলে প্রশ্ন থেকে যায় আপনি যে মূল্যায়নের ভিত্তিতে একজনকে নির্বাচন করছেন, সে ভিত্তিটাই বা কি? সাময়িক উচ্ছাসবোধ, আকর্ষণবোধ, ভাল লাগা বা গানের কন্ঠ ও সুরকে ব্যতিক্রমী মনে হওয়া, মানবিকতা ইত্যাদি, তাহলে এই ? ব্যাস এতটুকুই ?
প্রশ্নের সঠিকতা নিরুপন স্বার্থে নয় বরং কিছু প্রস্তাবনাকে এভাবে ব্যক্ত করা যেতে পারে : -
প্রথমত : একজন বিচারক যদি একজন প্রতিযোগীকে মূল্যায়নের জন্য একটি নির্দিষ্ট নম্বর প্রদান করতে পারেন তাহলে সেখানে দর্শক-শ্রোতা কিভাবে সেই প্রতিযোগীকে মূল্যায়নের জন্য একাধিক এসএমএস (SMS)-এর অপশন পাবেন ?
- একজন দর্শক বা শ্রোতা সর্বাধিক একজন প্রতিযোগীকে একটি এসএমএস (SMS)-ই করতে পারবে, একটির বেশী - কে গ্রহণযোগ্য করা উচিত নয়।
দ্বিতীয়ত : বিচারকদের নম্বর ও প্রাপ্ত এসএমএস এর উপর চুড়ান্ত ফলাফল নির্ধারণ হয়।
- অবশ্যই বিচারকদের গ্রেডকে প্রাধান্য দেওয়া উচিত, সেখানে এসএমএস (SMS)এর মূল্যায়ন সেখানে থাকতে পারে কিন্তু তা একটি শতকরা আনুপাতিক হিসেবের বেশী নয়।
তৃতীয়ত : প্রতি বছরই এরকম আয়োজনে বেশ কিছু সংখ্যক প্রতিভা বেরিয়ে আসছে ঠিকই, কিন্তু লক্ষ্য করলে দেখা যায় বছর না ঘুরতেই পিছনের কয়জন শিল্পীকে কতজনই বা মনে রাখছে ? বা কতজনই নিজের অবস্থান ধরে রাখতে সমর্থ হচ্ছে ?
- সে আলোকে কিছুটা সময় দেয়া উচিত, অর্থাৎ এরকম আয়োজনকে প্রতি বছরের পরিবর্তে বছর তিন অথবা তারও চেয়ে কিছুটা সময় পর আয়োজন করা হলে ভাল।
এভাবে, সমালোচনার কাঠগড়ায় যদি কঠিন শাস্তি হিসেবে কখনো অভিযোগের সুর তোলা হয় “এসএমএস টেকনিক-টা তো সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বা আয়োজকের একটি হিউজ ইনকাম সোর্স” বা “এসএমএস বাণিজ্য” নামে আখ্যায়িত করণের মধ্য দিয়ে - দ্বিমত হবার আশংকাও উড়িয়ে দেয়া যায়না, তবুও আপাতদৃষ্টিতে মনে হয় আয়োজক সংশ্লিষ্টরা নিশ্চয় এত বড় আয়োজনকে সামান্য এ স্বার্থে নিজেদের অর্জন ও আস্থাকে বিলিয়ে দিতে চাইবেন না।
আমরা প্রযুক্তির পক্ষে, গঠনমূলক কোন আয়োজনের পক্ষে, সে সূত্রেই এ ধরনের প্রতিভা অন্বেষনের কোন উদ্যোগকে অবশ্যই সাধুবাদ জানাই, ধন্যবাদ জানাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও আয়োজকদের এবং সমর্থক হিসেবে সকল শ্রেনীর দর্শক ও শ্রোতাদেরকে।
প্রত্যাশা থাকবে এদেশের প্রতিভা সংখ্যায় বড় নয়, গুণে গুণান্বিত হবে।
পোষ্টটি অন্য যেখানে প্রকাশিত হয়েছিল এবং হল : -
প্রথম প্রকাশ
দ্বিতীয় প্রকাশ
তৃতীয় প্রকাশ
সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন প্রচেত্য (২২-০৭-২০০৮ ১০:৫০)
অফলাইন
আমার মতে ১ টি নম্বর থেকে ১ টি SMS এবং বিচারকরা ৭০% ও দর্মকরা ৩০% মার্কিং করা উচিত। আমি আজকে একটি অনুষ্টানের ফলাফল দেখে আশ্চর্য হলাম। সেখানে একজন প্রতিযোগী খুব ভাল গান গেয়েছে, আমার মতে তার তাল, সুর এবং সবকিছু ঠিক ছিল শুধু তাই নয় আমার মতে মূল গানের চেয়েও সে খুবই ভার গান গেয়েছে। কিন্তু বিচারকরা কি মনে করে তাকে নম্বর কম দেয়াতে সে বাদ পরে গেছে। অথচ তথাকথিক অনেক শিল্পীকে তারা বেশী নম্বর দিয়ে পরের রাউন্ডে যাওয়ার সুযোগ করে দিছে। আসলে এই সব প্রতিযোগিতা শুধু এ চ্যানেল মালিকদের টাকা কামানোর উপায় আর ভন্ডামী ছাড়া কিছুই না।
অফলাইন
অফিসেধন্যবাদ সামিউল, আপনার সু-চিন্তিত মতামতের জন্য
আমার প্রস্তাবনায় সে বিষয়টিই উল্লেখ করেছি
আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতায় এমনই একজনকে আংশিক চিনি, যে বিচারকদের বিচারে ৩য় অবস্থানে থাকলেও এসএমএস কম পড়ার কারণে পরবতী রাউন্ডের প্রথম ৩জনে থাকতে পারেনি
অফলাইন
অফিসেসহমত। এটা একটা বানিজ্য প্রতিভা অন্যেষণের বদলে।
অফলাইন
আমার মানি ব্যাগ হারানো গেছে। 


এটা হল বানিজ্যের একটা নয়া কৌশল ছাড়া আর কিছু নয়।এক জন মানুষকে কিভাবে একের অধিক এস এম এস করার অপশন দেওয়া হয়? যাই হউক প্রতিভা থাকলে সেটা অবশ্যই প্রকাশিত হবে, এর জন্য এই ঘটা করে বানিজ্যকরন করার কোন প্রয়োজন নাই।
অনলাইন
হারিয়ে গিয়েছি এই তো জরুরী খবর...আমার এইটা কখনও পছন্দ ছিল না। ইন্ডিয়ান আইডল এ দেখেছি বিচারকদের রায় দেবার পরও সেই প্রতিযোগী শুধুমাত্র যোগ্য সন্মান পায়নি ওই এসএমএস এর কারনে। আর বাংলাদেশের ক্লোজ আপ ওয়ান এর কথা নাইবা বললাম
। আর একটা কথা হচ্ছে যে এখানে প্রতিভা খোজা হচ্ছে কিন্তু যারা ভোট দিচ্ছেন তারা অনেকে মিউজিক এর 'ম' ও বুঝে না। আমার মনে হয় যদি প্রতিভা না খুজে জনপ্রিয়তা খোজা হত তাহলেও কিছুটা মানাত।
অফলাইন
স্বপ্নবাজ লিখেছেন:
আমার মনে হয় যদি প্রতিভা না খুজে জনপ্রিয়তা খোজা হত তাহলেও কিছুটা মানাত।
সহমত ![]()
![]()
![]()
![]()
অফলাইন
তাদের আমি পিট্টি দিবখাঁটি কথা!


অফলাইন
ভবঘুরে জীবন বেশি ভালো ভাবছি তাই সন্যাসী হবোসামিউল লিখেছেন:
আমার মতে ১ টি নম্বর থেকে ১ টি SMS এবং বিচারকরা ৭০% ও দর্মকরা ৩০% মার্কিং করা উচিত। আমি আজকে একটি অনুষ্টানের ফলাফল দেখে আশ্চর্য হলাম। সেখানে একজন প্রতিযোগী খুব ভাল গান গেয়েছে, আমার মতে তার তাল, সুর এবং সবকিছু ঠিক ছিল শুধু তাই নয় আমার মতে মূল গানের চেয়েও সে খুবই ভার গান গেয়েছে। কিন্তু বিচারকরা কি মনে করে তাকে নম্বর কম দেয়াতে সে বাদ পরে গেছে। অথচ তথাকথিক অনেক শিল্পীকে তারা বেশী নম্বর দিয়ে পরের রাউন্ডে যাওয়ার সুযোগ করে দিছে। আসলে এই সব প্রতিযোগিতা শুধু এ চ্যানেল মালিকদের টাকা কামানোর উপায় আর ভন্ডামী ছাড়া কিছুই না।
সাফা কথা ১০০% সত্য ঘটনা
অফলাইন
!!! ইন্ট্রাপিড আইবেক্স !!! একেবারে ফাউল একটা আইডিয়া এইসব শুরু হইছে মনে ইন্ডিয়ান আইডল থেইকা ... আজিড়া কাম মানুষ ফাও ফাও এস,এম,এস ও করে। 
অনলাইন
নামাজ পড়তে মাত্র কয়েক মিনিট সময় লাগে। আপনি আজকের নামাজ পড়েছেন কি???শাহরিয়ার লিখেছেন:
সহমত। এটা একটা বানিজ্য প্রতিভা অন্যেষণের বদলে।
আমিও একমত।
অফলাইন
পৃষ্ঠা: ১