ছোট্টোবেলার রঙীন ঘুড়ি
আকাশ জুড়ে
আজকে হঠাত উড়তে দেখি
চমকে ওঠা মনটা নিয়ে
ভাবতে বসি
কি করা যায় ? - করবো যে -কী
পাখনা মেলে উড়তে বড়
ইচ্ছা জাগে
আগের মতন। ওই সীমাহীন
দুর নীলিমায় হারিয়ে যাবো;
__হারিয়ে যাবো
হয়েই যাবো আজকে বিলীন![]()
চ্যাটরুমে মুনাপু খুব আফসোস করতেসিলেন
আর ঘ্যান ঘ্যান সেই সাথে : ওনার নাকি ঘুড়ি ওড়াতে ইচ্ছা জাগসে মনে
। কিন্তু প্রথম সমস্যা ঘুড়ি কিনতে হবে __কোথা থেকে কিনতে হবে জানা নেই । আসি আসি করেও মনে আসতেসে না । গুলিস্তানের দিকে নাকি পাওয়া যায়
ঘুড়ি বিষয়ক ভাবনাগুলো বেশ মজার । কেউ কেউ ব্যাপক হারে টিপস দিতে শুরু করসিলেন ওখানেই । এমনকি ঘুড়ি ক্যামনে বানাতে হয়, তাও শেখানো হয়ে যাচ্ছিলো প্রায়
কারো আবার মনে পড়ে গেলো ছেলেবেলায় ঘুড়ি ওড়ানোর কথা । ব্যাপক ল্যাগঅলা ফোরামের চ্যাটরুমে হযবরল অবস্থা 
অবশেষে টপিক খোলার ৩-মিলিত সিদ্ধান্ত নেয়া হইসে 
তো...
ফোরামের জনগন, ঘুড়ি বিষয়ক যত জ্ঞান বিজ্ঞান জানা আছে অনুগ্রহ করে আমাদেরকে বিতরন করেন । সেইসাথে ছেলেবেলার গপ্প সপ্প



...
সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন বিবেক (১৫-০৭-২০০৮ ০৪:২৯)
অফলাইন
age janle Tor vanga noukai chortam naঘুড়ি কয় প্রকার হয়:
১। চাপলাশ
২। চোখোয়ালা
৩। পেটকাটা
৪। পনখিডার
৫। লেনজা
৬। পেলাসটিক
৭। ......ভুইলা গেছি.....
অফলাইন
চ্যাটরুমে,
উন্মাতাল তারুন্য থেকে পাওয়া তথ্য:
-ঘুড়ি ধার দেয়াকে মান্জা দেয়া বলে ।
-ওনার বাড়ির আশেপাশে অনেক পাব্লিক ঘুড়ি উড়ায় ... খুজলেই দোকানে পাওয়া যাবে । বাড়িটা খুজে বের করার হিন্টস, অবস্থান:
২৩°৪২′০″ উত্তর, ৯০°২২′৩০″ পূর্ব
-এখন বাতাস আছে এইটা ঘুড়ি উড়াবার সিজন ( রেইনপ্রুফ ঘুড়ি হতে হবে
)
-পলিথিনের ঘুরি টেকসই হলেও দেখতে ভাল না...
বিবেক যা বলসে,
- পুরোনো ঢাকায় ঘুড়ি কিনতে পাওয়া যায় । গুলিস্তানের ওদিকে ।
- ঘুড়ি বানানোর উপকরণঃ বাশের শলা, কাগজ , সুতা , গাম
-কাগজের বদলে পলিথিন ও ব্যবহার করা যায় । বেশি টেকসই ওটা । বাশের শলার পরিবর্তে নাড়িকেল পাতার শলা দিয়েও বানানো যায়
-পদ্ধতি, একটা শলা সোজা থাকবে । আরেকটা ধনুকের মত বাকিয়ে সোজাটার সাথে আড়াআড়ি করে বাধতে হবে সুতা দিয়ে। এটা হলো ফ্রেম। এর ওপরে কাগজ লাগাতে হবে গাম দিয়ে
- ব্যালেন্স করতে হবে দুইপাশে সমান ভাবে, তা না হলে উড়বে না, গোত্তা খেয়ে পড়ে যাবে
- সুতোয় ধার দেয়ার পদ্ধতি । কাচ ভেংগে মিহি করে গুড়ো করতে হবে । তারপর সাগু গরম করে গলিয়ে ওর সাথে মিশিয়ে সুতায় লাগিয়ে শুকোতে হবে
লুমিনিয়াসের নানী ভরসা
নিজের টেষ্টায় এখনও ঘুড়ি ওড়ানোয় সফল হয় নায় । তবে তার বক্তব্য হচ্ছে , "আমার নানী সব জানে" । ৪ তারিখে পরীক্ষা শেষ হলেই ঘুড়ি উড়ানোর "নানীথেকে প্রাপ্ত টিপ্স" নিয়ে হাজির হবে ঘুড়ি ওড়ানো প্রতিযোগিতায় ।
-আমানত ভাইয়ের কথা হচ্ছে , মান্জা দেয়ার সময়ে chir বেশি দিতে হবে । chir ব্যাপারটা ধরতে পারিনি । সম্ভবত এটা কাচের গুড়া র পারিভাষিক নাম ।
শিপলু ভাই ঘুড়ি উড়ানোর দুটো রুলস শিখাইসেন,
১) সুতা টানলে ঘুড়ি তার নাক বরাবর যাবে
২) ঘুড়ি নিচের দিকে নামতে থাকলে সুতা ছাড়তে হবে
-মাঞ্জা দেয়া সুতা সহ পুরনো ঢাকায় নাটাই কিনতে পাওয়া যায়।
-ঘুড়ি ওড়ানোর অসংখ্য স্ট্রাটেজী আছে । যেগুলো শিপলু ভাই ১ টা একটা করে বলবেন বলে অপেক্ষা করে আছেন ।
অফলাইন
৫-৬ বছর আগে পুরোনো ঢাকা থেকে খালুর জন্যে অনেকগুলো ঘুড়ি কিনেছিলাম। দেশের বাইরে নিয়ে যাবে। বেগমবাজার থেকে কিনেছিলাম যতদূর মনে পড়ে।
এক বৃদ্ধ ছিল দোকানে। ঘুড়ি-লাটিম আর ছোটদের নামতা/ধারাপাত বই বিক্রি করে জীবন চালায়। ঘন্টাখানের ছিলাম সেখানে। ১০০ ঘুড়ি বানিয়ে দিয়েছিলো।
@শিপলুঃ চমৎকার লিঙ্ক।![]()
অফলাইন
amanat লিখেছেন:
ঘুড়ি কয় প্রকার হয়:
১। চাপলাশ
২। চোখোয়ালা
৩। পেটকাটা
৪। পনখিডার
৫। লেনজা
৬। পেলাসটিক
৭। ......ভুইলা গেছি.....
৮। কাউঠাদার
৯। চাঁনদার
১০। লিপ্পুদার
১১।..... আরো আছে। মনে নাই এখন
সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন রাজকুমার (১৫-০৭-২০০৮ ১২:০৮)
অফলাইন
মাঞ্জা দুই রকম হয়: টান্ ও ঢিল্
কাটাকাটির সময় টান্ মাঞ্জা হলে টান দিতে হয়, অর্থাৎ লাটাই-এ সুতা গোটাতে হয়। যত দ্রুত টান দেয়া যায় তত ভাল ফল। টান মাঞ্জা দেয়া কঠিন কারণ খুব সম্ভবত গুড়া/চির খুব মিহি হতে হয় আর ভাল আঠা লাগে আর শুকানোর পরে সুতা ধরলে মসৃন লাগে। এতে অসুবিধা হল টানের সাথে না কাটলে সুতা ছাড়ার উপায় নাই... কারণ তাতে এটাই কেটে যাবে। ---- অ্যাকশন বেশি।
ঢিল্ মাঞ্জার বৈশিষ্ট হল কাটাকাটির সময় সুতা ছাড়তে হয়, টান দেয়া যাবে না। এই মাঞ্জা দেয়া সহজ। সুতা কাঁচের গুড়ায় অমসৃন থাকে। অসুবিধা হল সুতা ছাড়তে ছাড়তে যদি লাটাই খালি হয়ে যায় তবে সব সুতা সহ ঘুড়ি ছাপ্পা = কেটে যাবে। এছাড়া সুতা ছাড়তে ছাড়তে ভেতরের মাঞ্জা ছাড়া সুতা চলে আসার সম্ভাবনা থাকে। ---- থ্রিল কম।
টান মাঞ্জা দিলে কাটাকাটির সময় অন্য ঘুড়ির সুতার নিচের দিক থেকে আক্রমন করতে হয়। টান দিয়ে কেটে উপরের দিকে বেরিয়ে আসে। আর ঢিল মাঞ্জা হলে অন্য ঘুড়ির সুতার উপরে এর সুতা ছেড়ে দিতে হবে আর ছাড়তে থাকতে হবে।
অফলাইন
ঘুড়ি হারানোটা যেমন খুব দুখ্খের তেমনি ঘুড়ি পাওয়াটাও খুব আনন্দের ব্যাপার ।
ঘুড়ির নাটাই মাটিতে গেঁথে রাখলে সুতোটা নাটাইয়ের সাথে একটা প্যাচ দিয়ে রাখতে হয় । তা না হলে সব সুতো চলে যায় ।একেবারেই বুঝতে পারিনি । সেদিন (অনেক পিচ্চি বেলায়
)আমার এত সাধের ঘুড়িটা হারিয়ে গেছিলো । সব সুতো শেষ হবার পরে অনেক দুরের এক বাড়ির গাছের মাথায় গিয়ে বাধলো ।
অনেকক্ষণ পর টের পেয়ে দৌড়াতে দৌড়াতে গেলাম । গিয়ে দেখি আমার ঘুড়ির মালিক এখন ওই পাড়ার কোন এক ছেলে । মহা আয়োজন করে গাছের মাথা থেকে নামাচ্ছে ।
সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন বিবেক (১৫-০৭-২০০৮ ১৩:২৮)
অফলাইন
রেডিও শুনছিঅফলাইন
No Status!!!!আফসোস আমি ঘুড়ি ওড়াতে পারলাম না জীবনেও। পিসি তেই কাটিয়ে দিলাম ১৬টা বছর

অফলাইন
শামীম লিখেছেন:
কাটাকাটির সময় টান্ মাঞ্জা হলে টান দিতে হয়, অর্থাৎ লাটাই-এ সুতা গোটাতে হয়। যত দ্রুত টান দেয়া যায় তত ভাল ফল। টান মাঞ্জা দেয়া কঠিন কারণ খুব সম্ভবত গুড়া/চির খুব মিহি হতে হয় আর ভাল আঠা লাগে আর শুকানোর পরে সুতা ধরলে মসৃন লাগে। এতে অসুবিধা হল টানের সাথে না কাটলে সুতা ছাড়ার উপায় নাই... কারণ তাতে এটাই কেটে যাবে। ---- অ্যাকশন বেশি।
আমাদের এখানে এক ছেলে ঘুড়ি ওড়াতো তার বউকে নিয়ে। আর প্রতি শুক্রবার পারিবারিকভাবে মাঞ্জা দিত। মানে, তার বাপ ধরত সুতার গুটি। সে ধরত চুর(কাঁচের গুঁড়া)। এক ভাই নাটাই। আর এক ভাই চিপটি ধরত অথবা অন্য কার সাথে নাটাই টু নাটাই সুতা সুকাতো। এর মাঝে মাঝে দেখা যেত তার বোন বা বউ খাবার নিয়ে আসছে। মানে পুরো ফ্যামিলি।
ছাদের মধ্যে তারা এই কাজ করত। আর আমি দেখতাম আমাদের ৫ তালার ছাদ থেকে। এর সুতার কোয়ালিটি এত ভাল যে, আমরা টানের সুতার যেসব কোয়ালিটিং টেস্টিং আছে সেগুলোতে এটা উৎরে যেত।
ওনার ঘুড়ি ওড়ানোটা বেশ উপভোগ্য একটা ব্যাপার। অবশ্য আপনাকে দর্শক হতে হবে, ঘুড়ি উড়ানো চলবে না। নয়তো সে কেটে দিবে
।
সে একেকটা টান নিত। তাতে ৬/৭ টা করে ঘুড়ি কাটা পড়ত।
টান নিত পাশাপাশি। উপর থেকে নিচে না। এভাবে ১ ঘন্টার মধ্যেই তার সামনের ১/২ কিলোমিটার পুরো ফাঁকা।
আকাশে তখন একটি ঘুড়ি। এই ঘুড়িটাকে উড়তে দিয়ে সে তার বউয়ের সাথে আড্ডা মারত। আর আমাদের পিত্তি জ্বলে যেত।
আমার ঘুড়ি সে কাটতে পারতনা। এটা ভাববেন না, যে আমি তাকে কেটে দিতাম। বরঞ্চ তাকে নাটাই হাতে ছাদে উঠতে দেখলেই আমার ঘুড়ি নামিয়ে ফেলতাম।
একদিত তাকে কেটে ফেললাম।
ঐ একবারই। সেদিন বাতাস ঘুড়ে গিয়েছিল। সে ছিল আমার সামনে। সুযোগ বুঝে দিলাম টান। ছাপ্পা। বেচারা তখন অনেক দুরে প্যাচ খেলছিল। তাই সুতার পজিশন পরিবর্তন করা সম্ভব ছিল না।
অফলাইন
microqatar লিখেছেন:
আমি আবার ছোট হতে চাই
কাতার ভাই, ছোট হইয়া কি করবেন ? ছোট তো কিছুদিন ছিলেন ই । ওই সময়ে কি করছেন, সেইটা আপাতত শোনান ।
আর আরেকটু বড় হন । মানে এই বছরটা পার করেন । এর মধ্যে আশা করি পর্যাপ্ত গোল্ড জোগাড় হয়ে যাবে
। তারপর নেক্সট ইয়ার থেকে পারিবারিকভাবে (ফুল ফ্যামিলি নিয়ে) মান্জা দিয়ে ঘুড়ি ওড়াবেন । 

অফলাইন
রমাদান মোবারক! ধন্যবাদ শিপলু ভাই! আমার অনেক পছন্দ হইছে!
তবে মাঞ্জা দেওয়া তো শেখায় নাই! 
বাহ মজার মজার সব গল্প জানলাম তো!

অট:
রুমন ভাইয়া প্রজন্ম গুরু হইলেন কবে!!?? 


অফলাইন
আমার বাপের যন্ত্রনায় জীবনে যা যা খেলতে পারি নাই --- ঘুড়ি উড়ানো, মার্বেল খেলা, লাটিম খেলা, ডাঙ্গুলি খেলা
শরির হাল্কা পাতলা থাকার কারনে খেলতে পারি নাই-- কাবাডি খেলা
লম্বা না হোয়ার কারনে -- ভলিবল, বাস্কেটবল
সুযোগের অভাবে -- লন টেনিস
সাহসের অভাবে -- কাঠের বলে ক্রিকেট খেলা, সাঁতার কাটা, টাংকি মারা ... হাহাহা
অফলাইন
মামা ঘুড়ি উড়িয়ে দিলে সুতা নিয়ে অবশ্য টানাটানি করতাম।
তবে, সে অনেক আগের কথা।
রসি লিখেছেন:
সাহসের অভাবে -- কাঠের বলে ক্রিকেট খেলা, সাঁতার কাটা, টাংকি মারা ... হাহাহা
ফোরামে হাড়ি না হয় নাই ভাঙলাম।
কিন্তু, এই সুযোগের অপব্যবহার করা মোটেও উচিত না।
অফলাইন
ধ্রুবক অন্ধকার, দৈব রাজপথে আমার চিহ্ন, আমি নৈশ ঈশ্বর যেন আরেক ধ্রুবতার জন্ম.ছোট বেলায় সুতায় বহুত মান্জা দিয়া ঘুড়ি উড়ানোর চেষ্টা করত....কখনো খুব বেশী পারতাম না......একবার তাও ঘুড়িটা অনেক উচুতে উঠাতে পেরেছিলাম কিন্তু ঘুড্ডির কাটাকাটিতে আমার ঘুড্ডি কেটে গেল....সেদিন অনেক কষ্ট লেগেছিল....আর তখন কান্নি নামক ভারসাম্য রক্ষাটা খুব বুঝতে না তাই অতিরিক্ত কান্নির ভারে ঘুড্ডি কখনো উচু ওঠ তোও না.......ছোটবেলাটায় অনেক মজা ছিল.....ফেলে আসা চিহ্নগুলো বড়বেশী আনন্দময়.

অফলাইন
ছোটবেলার কথা মনে পড়ে গেল। যদিও ঘুড়ি শুধু ওড়াতাম তেমন এক্সপার্ট ছিলাম না। 
অফলাইন
কিছুই ভাল লাগেনাআহাহাহা সেই দিন গুলি বড় ই ভাল ছিল।
অফলাইন