মু হা হাটাইটেল দেখে ভ্য় পাওয়ার কিছু নাই। আর গল্প শেষে কেউ হাসবেন না প্লিজ।
ঘটনা হলো এই অধ্ম কোন রকমে একটা সফটওয়্যার ফার্মে ওয়েবের কাজ করে দিনানিপাত করছিলাম। দূর্ঘটনাক্রমে মিনিস্ট্রিগুলোর জন্য সাইট বানানোর কাজ(কমন টেম্পলেট, জুমলা বেসড) এই অধমের উপর ন্যাস্ত হয়। হুম সেই কাজটা বেশ ভালো ভাবেই সম্পন্ন হয়েছিলো। কিন্তু সমস্যা হলো, কাজ শেষ হবার পর চুক্তি মোতাবেক আমাকে পাঠানো হয়েছিল এই সাইট যারা ম্যানেজ করবেন তাদের ট্রানিং দেওয়ার জন্য। ট্রেনিং এ কারা আসবেন? আসবেন বিভিন্ন মিনিস্ট্রিতে যারা মোটামুটি কম্পিউটার জানেন ব স্ব স্ব মিনিস্ট্রির সাইট যারা মেইন্টেইন করার চেস্টা করেন।
এই পোস্টের মাধ্যমে আমি আমার গত ছয় দিনের বীভৎস অভিজ্ঞতা জানাতে ছয়ফট অনুভব করছি।
ট্রেনিং ছিলো তিন ব্যাচের, দুই দিন করে, ১৬ জন করে এক ব্যাচে। স্থান চিফ এডভাইজার এর অফিসের কম্পিউটার সেকশন(ইউএনডিপি)। মোটামুটি সব ব্যাচের সাথে অভিজ্ঞতা এক একই রকম। আমার কাজ ছিল জুমলার এডমিন প্যানেল বুঝানো, মানে জুমলা বেসড সাইট মেইনটেইন করার কাজটা শেখানো।
কিছু ঘটনা হচ্ছে যে কোন ধরনের জিনিস শেখার আগে মিনিমাম একটা লেভেল লাগে। মিনিস্ট্রর লোক গুলো আমার মনে হয় সারা বছর ধান্দায় থাকে কবে কোন জায়গায় ট্রেনিং, কোন দেশে বউ বাচ্ছাসহ যাওয়া যায় এই সব নিয়ে। ট্রেনিং এ এসে আগে তাদের চিন্তা টিএ/ডিএ, ব্যাগ, পেন ড্রাইভ এই সব দেওয়া হবে কিনা। খাবার এর মান ভালো না খারাপ এই সব নিয়ে লাঞ্চ টাইমে বৎসা ইত্যাদি। বেশির ভাগ দিনই দেখলাম কোন মিনিস্ট্রির যিনি ভালো কম্পিউটার জানেন মানে হলো তিনি ভালো টাইপ করতে জানেন। কেউ কেউ ছিলেন একটু বড় পোস্টের তাদের আবার কিছুই জানেন না কিন্তু আগেই চিন্তা সাইটে লগিন করা গেলেতো সব হ্যাক হয়ে যাবে।
কারো কারো একটা মেইল আইডি পর্যন্ত নাই। অনেকেই জানেন না ব্রাউজারের কোথায় গিয়ে কি লিখলে গুগল নামক সাইটটা আসে।
ঘন্টার পর ঘন্টা দাড়িয়ে দাড়িয়ে কথা বলে আমি যখন তাদের মাথার ভিতর কিছু ঢুকানোর চেস্টা করি প্রায় দেখি কেউ না কেউ ঘুমিয়ে গেছেন ,কেউ হায় তুলছেন আবার কেউ মোবাইলে কথা বলছেন। কাউকে কাউকে একটা জিনিস চারপাঁচ বার বুঝানো লাগছে।
একজন এসেছিলেন তিনি কোন দিনও কিবোর্ড ধরেননি। তাকে যখন বলা হলো এন্টার কি চাপুন। উনি কীবোর্ডের উপর হেভি খোঁজা খুঁজি শুরু করলেন।
অনেক কিছুই লিখতে চাই কিন্তু আর ভালো লাগছে না। তার উপর ঐ অফিসে ঢুকার সময় বিশাল চেক। একটু সামান্য কিছু উল্টাপাল্টা হইলেই ... আপনি এদিকে আসেন...। আর কি আছে বের করেন...। এই যে শব্দ হয় আবার... দেখি পকেটে কিছু এনেছেন নাকি...।
আমি মনে মনে কান ধরেছি যদি এরপর আমাকে আর এই ধরনের ট্রেনিং এ পাঠায় তাহলে আমি চাকরীই ছেড়ে দেবো।
বিঃদ্রঃ আমাদেরপ্রযুক্তি ফোরামে এক সাথে পোস্টিত।
অফলাইন
মানচুমাহারা লিখেছেন:
ট্রেনিং এ কারা আসবেন? আসবেন বিভিন্ন মিনিস্ট্রিতে যারা মোটামুটি কম্পিউটার জানেন ব স্ব স্ব মিনিস্ট্রির সাইট যারা মেইন্টেইন করার চেস্টা করেন।
হাসিও পাচ্ছে, আবার পড়ার পরে হাসতেও ইচ্ছা করছে না, কি যে করি! ! 

অফলাইন
যুদ্ধের কী দরকার!মিথুনের কাছ থেকে হাল্কা আঁচ পেয়েছিলাম ... এবার শুনলাম। সহানুভুতি থাকলো।
বুঝলা সামনে কত কাজ পড়ে আছে? এই হল সরকারের প্রতিনিধি ... আইটি ধরে উন্নতি করতে চাইলে এগুলাকেই গাধা বানাতে হবে (পরবর্তীতে ঘোড়া ও মানুষ হওয়ার সম্ভাবনা সৃষ্টি হবে তাতে)।
অফলাইন
মু হা হাশামীম ভাই বিশ্বাস করেন আজকে যখন আমি ঐ অফিস থেকে বের হচ্ছিলাম ছয়দিনের ট্রেনিং এর শেষ দিনে আমার মনে হচ্ছিলো আমি মনে হয় এই যাত্রায় বেঁচে গেলাম
অফলাইন
ভবঘুরে জীবন বেশি ভালো ভাবছি তাই সন্যাসী হবোএই আমাদের দেশ এই আমাদের কর্তাব্যক্তি। কবে যে এরা দেশপ্রেমিক হবে।
অফলাইন
মানচু ভাই আপনার লেখা পড়ে হাসব না কাঁদব বুঝতে পারছি না।
অফলাইন
এধরণের (কম্পিউটার বকলম) ব্যাক্তিকে সফটওয়্যার বুঝানোর স হজ উপায় হল, বিভিন্ন সফটওয়্যারের সকল অপশনের কথা গুলো না বলে শুধু মাত্র যে অপশন গুলোতে কাজ হবে শুধু সেগুলো ই বলা। বুঝাতে হবে যে এটাই আসলে নিয়ম। এর অন্যথা হওয়া চলবে না।
যেমন, নোটপাড খুলে মাইডকুমেন্ট ফোল্ডারের abc.txt ফাইলে লিখতে হবে projanmo.
এখন এদেরকে আপনি কখনই বলবেন না যে নোটপ্যাড খুলে যে কোন ফাইল ওপনে করা যায় বা abc.txt ফাইলে যে কোন কিছুই লেখা যায়।
আপনি বলবেন, নোটপাড দিয়ে মাইডকুমেন্টস এর abc.txt ই খোলা যায় আর তাতে শুধুমাত্র projanmo ই লেখা যায়।
কার্য সম্পাদনের জন্য সম্ভাব্য পদক্ষেপগুলোর ট্রি না দিয়ে, যেকোন একটি সরলরৈখিক উপায় বলুন। আর সেটা তোতাপাখির মত মুখস্থ করান।
তারপরও বকলম মানুষকে বিশ্বাস নেই। কোথা থেকে কি করবে ঠিক নাই।
অফলাইন
ভাই আাপনে পেরেছেন। দেশে থাকতে আমাদের ইন্সটিটিউটে SPSS এর উপর একটা এ্যডভান্স কোর্স পড়ানো হতো। সেখানে মাউসে ক্লিক করে শেখানো নয়, পুরা দস্তর সিনট্যাক্স লিখা শেখানোর কোর্স। তো সেখানে যারা শিথতে আসতো তাদের অবস্থা দেখে আমি পড়ানোই বাদ দিয়েছিলাম। যদিও বেশ ভাল অংকের টাকা পাওয়া যেত তা-ও শেষের দিকে আর পড়াইনি। গাধা পিটিয়ে ঘোড়া বানানো আমাকে দিয়ে হবেনা। তবে আপনাদের ধৈর্য আছে, ইনশাল্লাহ আপনারা মিনিস্ট্রির লোকজনদের মাথায় কিছু দিতে পারলে দেশের লাভ হবে।
সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন প্রকৃতিপ্রেমিক (১৬-০৫-২০০৮ ০৯:০৭)
অফলাইন
নামাজ পড়তে মাত্র কয়েক মিনিট সময় লাগে। আপনি আজকের নামাজ পড়েছেন কি???তাহলে বঝুন দেশের এমন হাল কেন!
অফলাইন
মু হা হাশিপলু লিখেছেন:
এধরণের (কম্পিউটার বকলম) ব্যাক্তিকে সফটওয়্যার বুঝানোর স হজ উপায় হল, বিভিন্ন সফটওয়্যারের সকল অপশনের কথা গুলো না বলে শুধু মাত্র যে অপশন গুলোতে কাজ হবে শুধু সেগুলো ই বলা। বুঝাতে হবে যে এটাই আসলে নিয়ম। এর অন্যথা হওয়া চলবে না।
শিপলু ভাই আমি সেই কাজগুলোই করেছি। কিন্তু কথা হচ্ছে ধরেন কেউ জানে না কিভাবে কোন সাইট ব্রাউজ করতে হয় মানে কোথায় ইউ আর এল লিখলে কোন সাইটের পেজ ওপেন হয় তাকে আমি কিভাবে এডমিন প্যানেল বুঝাবো। আর এখানে ট্রেনিংটা আরো একটু জটিল কারন সেইম টেম্পলেট দিয়ে সবাই সাইট বানাবে। যদি একটা সাইট হতো তাহলে সব সেকশন ক্যাটাগরী ক্রিয়েট করা থাকতো, শুধু আইটেম বানানো শিখালে হয়েছে। যাই হোক পলিশি লেভেলে অনেক সমস্যা আছে। কিছু জিনিস শেখার জন্য একটা লেভেল লাগে যদি তা না থাকে এবং তাদেরকে সেই জিনিস শেখার জন্য পাঠানো হয় তাহলে কিভাবে তারা বুঝতে পারবে।
আর উনারা এমন শিক্ষা পেয়েছেন আমার কাছ থেকে যে প্রতিদিন ট্রেনিং শেষে ট্রেনিং এর জন্য যে সাইটটা আছে সেটা তারা তচনচ করে ফেলতেন। আমাকে আবার ডাটাবেজ তুলে ঠিক করতে হতো।
অফলাইন
মু হা হাপ্রকৃতিপ্রেমিক লিখেছেন:
ভাই আাপনে পেরেছেন। দেশে থাকতে আমাদের ইন্সটিটিউটে SPSS এর উপর একটা এ্যডভান্স কোর্স পড়ানো হতো। সেখানে মাউসে ক্লিক করে শেখানো নয়, পুরা দস্তর সিনট্যাক্স লিখা শেখানোর কোর্স। তো সেখানে যারা শিথতে আসতো তাদের অবস্থা দেখে আমি পড়ানোই বাদ দিয়েছিলাম। যদিও বেশ ভাল অংকের টাকা পাওয়া যেত তা-ও শেষের দিকে আর পড়াইনি। গাধা পিটিয়ে ঘোড়া বানানো আমাকে দিয়ে হবেনা। তবে আপনাদের ধৈর্য আছে, ইনশাল্লাহ আপনারা মিনিস্ট্রির লোকজনদের মাথায় কিছু দিতে পারলে দেশের লাভ হবে।
ভাইয়া আমাকে সিম্পলি ঐখানে ট্রেনিং দিতে পাঠিয়ে জবাই করা হয়েছে... এই ছাড়া আর কিছু বলার নাই। আমি কখনই টাকার কথা চিন্তা করি না। আমার প্রতিদিনের বক বক করার জন্য প্রতিদিন মনে হয় ১০ দিন করে আয়ু কমে গেছে
অফলাইন
মানচুমাহারা লিখেছেন:
আমার প্রতিদিনের বক বক করার জন্য প্রতিদিন মনে হয় ১০ দিন করে আয়ু কমে গেছে







অফলাইন
মান-চু ভাইয়া, একটা কথা মনে পড়তেসে,
আমাদের দেশে যখন প্রথম ফাইবার অপটিক্সের সাব-মেরিন কেবল সংযোগ করার প্রস্তাব আসছিল তখন ততকালীন প্রধান-মন্ত্রী এবং তারেকের আম্মিজান বলেছিলেন, "না, এই সংযোগ নেয়া যাবে না,তাহলে আমাদের দেশের সকল তথ্য বাইরে পাচার হয়ে যাবে।" আমাদের সরকারি এবং বিছিঃএছ ক্যাডার সচিবরাই যে তাকে এই সু-পরামর্শ দিয়েছিলেন তা আর বলতে...
বিটিটিবির সাথে InterConnectionএর কারনে আমাকে প্রায়ই BTTBর অফিসে এক সরকারি ইঞ্জিনিয়ারের সাথে দেখা করতে যেতে হয় Speed Money সাথে নিয়া। উনার যা জ্ঞানের বহর আর কথা-বার্তার ধরন (কোন জমির কাঠা কোথায় বাড়ল না কমল, লাউ-এর কেজি বেশি নাকি ঝিঙ্গার কেজি বেশি)... এরাই দেশ চালাচ্ছে ...আফসোস...
অফলাইন
হেহেহে...আর তাকাবি???দেখ...ক্যামনে ভেঙ্গাই ...হেহেহেআহারে মানচু
আহারে মাহারা



আহারে আহারে মানচু মাহারা
অফলাইন