ঈদ শেষ! 
আমি আমার প্রথম কোন মেয়েকে ভাল লাগার গল্পটা বলছি। আপনাদেরটাও শেয়ার করবেন আশা করি। আর অনুরোধ টপিকটি কুমিরে খাওয়া গল্পের মত না হয়।
---------------------------------------------------------------------
ক্লাস সেভেন এর কথা। তখন ধোলাইপাড়ে "উদয়ন কিন্ডার গার্টেন" নামক স্কুলে ভর্তি হয়েছিলাম (ক্লাস সিক্সে)। ছাত্র-ছাত্রী বেশি ছিল না। ক্লাস সিক্সে ভর্তি হওয়ার সময় রোল ছিল ৪৮ (সবার শেষ বা দুই একজন আগে)। সেভেনে উঠে সেটা সম্ভবত ১/২ (মনে নেই
) হয়েছিল। তাই সব শিক্ষকদের দৃষ্টি আকর্ষন করতে সমর্থ হয়েছিলাম যা পরবর্তীতে আমার ভাল লাগার বাধা হয়ে দাড়িয়েছিল।
সেভেনে যখন উঠি তখন ক্লাস সিক্সে একটা নতুন ছাত্রী আসে যার নাম মুনমুন (উঁহু.......বাংলার সিনেমার গন্ধ আসছে)। অসাধারণ সুন্দরী মেয়েটি। স্কুলের সবচেয়ে সুন্দরী হওয়ায় সকলের দৃষ্টিই তার দিকে। হঠাৎ একদিন বোধ করলাম আমারও তাকে ভাল লাগে। কিন্তু ততদিনেই তার পেছনে বিশাল লাইন। কিন্তু সেভাবে তাকে প্রপোজ করার ইচ্ছা ছিল না। আর প্রেম বলতে আসলে তখন কি বুঝতাম জানি না। কিন্তু আমি তাকে বললে আর এটা শিক্ষকরা সবাই জানলে খবর আছে সেটা ভাবলেই আর কিছু মনে থাকত না। তার উপর সহকারী প্রধান শিক্ষক ছিলেন চরম রগচটা। তাকে কখনও হাসতে দেখেছি কিনা মনে নেই।
একদিন আমাদের স্কুলের বুয়াকে বিষয়টি জানালে তিনি বললেন "...একটা মেয়েকে এতজনে পছন্দ করলে চলে?"
।
আমার মাথায় খেলছিল কিভাবে তাকে একটা ফুল দেয়া যায়। রাস্তা ঘাটে তো আর ফুল দেয়া যায় না! তাই অন্য কিছু চিন্তা করছিলাম। একদিন মাথায় আইডিয়া আসল একটা কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করব। পুরষ্কার হিসেবে দেব ফুল। কিন্তু তারা হেরে গেলে তো সব মাঠে মারা। তাই সিন্ধান্ত নিলাম সবাইকেই পুরষ্কার হিসেবে ফুল দেয়া হবে; হারলেও, জিতলেও।
সব ঠিক ঠাক। স্কুলের প্রধান শিক্ষকের সাহায্যে তা আয়োজন করলাম। তিনিই প্রশ্ন করছিলেন। কিন্তু দু:খের বিষয় হেরে যাওয়ার ভয়েই ওদের ক্লাসের কেউ আসে নি
।
প্রথম চেষ্টা ব্যর্থ। এরপর অন্য চেষ্টা।
ওদের বাড়ির পাশেই থাকত আমার এক বন্ধু। তার পরামর্শে বিকাল বেলা ঘুড়ি উড়াতে যেতাম ওদের এলাকায়। মুনমুনদের পাশের বাড়ির ছাদে বসেই উড়াতাম ঘুড়ি। এভাবে দিনের পর দিন উড়াতে উড়াতে ওর ভাইয়ের সাথে সম্পর্ক হয়ে গেল। এক পর্যায়ে ওদের বাড়ির ছাদেই ঘুড়ি ওড়াতাম। প্রতিদিন বিকালে দেখতাম তাকে।
একদিন দেখলাম সে একটা পাঞ্চাবী পরে এসেছে। খুব বেশি পাতলা নয় আবার খুব ভারিও নয়। মোটামুটি ভিতরের জামা (সম্ভবত শেমিজ, তখন অবশ্য ওটা নাম জানতাম না) দেখা যাচ্ছিল। আমি তো লজ্জায় শেষ
। যতক্ষন ছিলাম ওকে আড়াল করে রাখার চেষ্টা করতাম অন্য মানুষদের দৃষ্টি থেকে
(যে নিজেই দেখাতে চায় তাকে কি আড়াল করা সম্ভব?)। এই কথা মনে পড়লে এখনো হাসি পায়
।
এভাবে একসময় ৭ম শ্রেণী শেষ হয়। এরপর ৮ম শ্রেণীতে ভর্তি হলাম এ.কে. হাই স্কুলে। স্কুলটি ওদের বাড়ি পার হয়েও অনেক দুরে। মেইন রাস্তা দিয়ে গেলে ততটা দুরে নয়। কিন্তু আমি প্রতিদিন ওদের বাড়ির সামনে দিয়েই যেতাম ও আসতাম। সবাই দলবেধে মেইনরোড দিয়ে গেলেও আমি যেতাম একা। একদিন আগের স্কুলের এক ম্যাডামের সাথে দেখা হলে তিনি বললেন, "তুমি এখান দিয়ে এত ঘুরে যাও কেন?" আমি কিছু না বুঝে বললাম "মেইন রাস্তা দিয়ে যেতে আমার ভয় করে
"। ম্যাডাম হেসে বললেন "ছেলে মানুষের একি কথা?"
।
এভাবে প্রায়ই স্কুল থেকে ফেরার পথে দেখতাম তাকে তাদের বাড়ির দরজায় দাড়িয়ে থাকতে। কে যানে, সেও হয়তো বুঝত অথবা অন্য কারও জন্য দাঁড়িয়ে থাকত!
ধীরে ধীরে তাকে আর আগের মত দেখতাম না। শুনলাম এলাকার ছেলে পেলে খুব জালাতন করে। একটা সময় আর মোটেই দেখতাম না। কিন্তু ঐ বয়সে সেটা নিয়ে আর ঘাঁটার মত সাহস ছিল না। শুনলাম, ওকে নাকি কোন মাদ্রাসায় না যেন অন্য কোথাও পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে।
এভাবেই তো দিন কেটে গেল। ক্লাস নাইনে আমরা ধোলাইপাড় ছেড়ে মোহাম্মদপুরে চলে আসি। এরপর আর কিছু জানি না।
তার চেহারার কিছুটা অস্পষ্ট ভাব আমার এখনও মনে আছে।
সবাইকে ধন্যবাদ।
সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন হাঙ্গরিকোডার (০৬-০৮-২০০৭ ২৩:৪৩)
; যদি ব্যাংক একাউন্ট লোপাট হয়ে যায়
!অফলাইন
আমাকে বলা হয়েছিল মজার পোস্ট......কিন্তু এটা তো প্রথম প্রেম বা প্রথম ব্যর্থ প্রেমের করুণ কাহিনী......এভাবে ধোঁকা দেয়া ঠিক হয়নি।
সুন্দর বর্ননা দিয়েছেন কোডার ভাই। আপনার এ বিষয়ে বুদ্ধি দেখি ছোট বেলা থেকেই ভালো
......কথা মত পুরষ্কার দিলাম![]()

অফলাইন
বড়ই ঝামেলাপূর্ণ টপিক। বউ দেখলে আস্ত রাখবে না। 
অনলাইন
স্বপ্নচারী লিখেছেন:
বড়ই ঝামেলাপূর্ণ টপিক। বউ দেখলে আস্ত রাখবে না।
বিশেষ করে বোধহয় পাঞ্জাবী পার্টটা, তাই না?

অফলাইন
মু হা হামজা পেলার কোডার ![]()
অফলাইন
মানচুমাহারা লিখেছেন:
মজা পেলার কোডার
এখানে আমি মজার কিছু দেখলাম না। আমি কষ্ট পেলাম। প্রিয়জন হারানোর কষ্টের মাঝে আর যাই থাকুক কোন মজা নেই 













অফলাইন
চমৎকার বর্ননা কোডার।
শেষ ভালো লাগার গল্পটা দিলে আরো ভালো হত।
কোডার লিখেছেন:
ক্লাস সিক্সে ভর্তি হওয়ার সময় রোল ছিল ৪৮ (সবার শেষ বা দুই একজন আগে)। সেভেনে উঠে সেটা সম্ভবত ১/২ (মনে নেই
) হয়েছিল।
বিনয়।

সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন রুমন (০৭-০৮-২০০৭ ২৩:৪১)
অফলাইন
ভাই আপনার গল্পের সব সত্য মনেহলেও (ক্লাস সিক্সে ভর্তি হওয়ার সময় রোল ছিল ৪৮ সবার শেষ বা দুই একজন আগে। সেভেনে উঠে সেটা সম্ভবত ১/২ মনে নেই হয়েছিল। তাই সব শিক্ষকদের দৃষ্টি আকর্ষন করতে সমর্থ হয়েছিলাম যা পরবর্তীতে আমার ভাল লাগার বাধা হয়ে দাড়িয়েছিল) আমার র্র্রে কেটর কথা গুলো ১০০০০০০০০% খাটি মিছা কথা
অফলাইন
sujan_420 লিখেছেন:
ভাই আপনার গল্পের সব সত্য মনেহলেও (ক্লাস সিক্সে ভর্তি হওয়ার সময় রোল ছিল ৪৮ সবার শেষ বা দুই একজন আগে। সেভেনে উঠে সেটা সম্ভবত ১/২ মনে নেই হয়েছিল। তাই সব শিক্ষকদের দৃষ্টি আকর্ষন করতে সমর্থ হয়েছিলাম যা পরবর্তীতে আমার ভাল লাগার বাধা হয়ে দাড়িয়েছিল) আমার র্র্রে কেটর কথা গুলো ১০০০০০০০০% খাটি মিছা কথা
সুজন ভাই আসলেই আপনি 420। এর কারণ হল আমি যখন প্রাথমিক স্কুল ছেড়ে হাই স্কুলে উঠি তখন সবার শেষে ভর্তি হওয়ার কারণে আমার রোল হয় ৬৩ কিন্তু ক্লাশ সেভেন এ আমার রোল হয় ৩ এবং এইটে ১। সুতরাং আমাকেও এই কারণে আমার স্কুলের স্যারেরা চিনত। সুতরাং কথাগুলো আমার মনে হয় মিথ্যা নয়। 



অফলাইন
সেভারাস লিখেছেন:
আমাকে বলা হয়েছিল মজার পোস্ট......কিন্তু এটা তো প্রথম প্রেম বা প্রথম ব্যর্থ প্রেমের করুণ কাহিনী......এভাবে ধোঁকা দেয়া ঠিক হয়নি।
সুন্দর বর্ননা দিয়েছেন কোডার ভাই। আপনার এ বিষয়ে বুদ্ধি দেখি ছোট বেলা থেকেই ভালো......কথা মত পুরষ্কার দিলাম
অবশ্যই মজার পোষ্ট- জীবন কাহিনী বলে কথা।
অফলাইন
হুমম আসলেই মজার পোস্ট। বাসায় যাওয়ার তাড়া ছিল তবুও এক নিঃশাসে পড়ে ফেললাম।
বাসায় যাবো এখন। কোন রাস্তা দিয়ে যাই বলুন তো? আমার আবার মেইন রাস্তা দিয়ে যেতে ভয় লাগে।
অফলাইন
ঈদ শেষ! 
sujan_420 লিখেছেন:
ভাই আপনার গল্পের সব সত্য মনেহলেও (ক্লাস সিক্সে ভর্তি হওয়ার সময় রোল ছিল ৪৮ সবার শেষ বা দুই একজন আগে। সেভেনে উঠে সেটা সম্ভবত ১/২ মনে নেই হয়েছিল। তাই সব শিক্ষকদের দৃষ্টি আকর্ষন করতে সমর্থ হয়েছিলাম যা পরবর্তীতে আমার ভাল লাগার বাধা হয়ে দাড়িয়েছিল) আমার র্র্রে কেটর কথা গুলো ১০০০০০০০০% খাটি মিছা কথা
সুজন ভাই, আমি যখন ক্লাস নাইনে ওয়েস্ট ধানমন্ডী ইউসুফ হাই স্কুলে ভর্তি হই তখন রোল ছিল ১৪৭। আর ক্লাস টেনে আমার রোল হয় ৪। এটিও মিথ্যা কথা?
; যদি ব্যাংক একাউন্ট লোপাট হয়ে যায়
!অফলাইন
হাঙ্গরিকোডার লিখেছেন:
সুজন ভাই, আমি যখন ক্লাস নাইনে ওয়েস্ট ধানমন্ডী ইউসুফ হাই স্কুলে ভর্তি হই তখন রোল ছিল ১৪৭। আর ক্লাস টেনে আমার রোল হয় ৪। এটিও মিথ্যা কথা?
ভাইয়া,আপনি আবার রাজশাহীতে গেলেন কেন?

অফলাইন
তখন আমি ক্লাশ থ্রিতে পড়ি.. ঢাকার হাজারীবাগ থেকে গ্রামে আমাদের নানী বাড়ী কেরানীগঞ্জে চলে আসি, নানীদের বাড়ীর কাছাকাছি শাপলা কিন্ডার গার্ডেন নামন স্কুলে ভর্তি হই। মেয়েটা আমার পরিচিত ছিল, আমাদের নানীবাড়ীর পাশের গ্রামে ছিল তাদের বাড়ী, দুঃসম্পর্কের মামাতো বোন লাগত । আর দেখতে, আল্লাহ তাকে এমন যেন আল্লাহর সমস্ত রূপ যেন তার উপর-ই ছিল। ক্লাশ থ্রিতে পড়ি বলে কি হবে.. তখন থেকেই আমি একটু ইঁচরে পাকা ছিলাম
। তো সেই মেয়েটি স্কুলে আসার এক ঘন্টা আগে আমি স্কুলে এসে বসে থাকতাম। দূর থেকে তাকিয়ে তাকিয়ে দেখতাম। এখনো সেই স্মৃতিগুলো স্পষ্ট চোখে ভাসছে.. লাল একটা স্কার্ট সাদা শার্ট.. পায়ে সাদা জুতা.. মাথায় মাঝে মাঝে বেনি করে রাখত.. হাতে একটা কালো বেল্টের ঘড়ি পড়ত। কাঁধে থাকত একটা ব্যাগ। অপূর্ব লাগত তাকে... তো এভাবেই চলতে থাকে কয়েকদিন.. প্রথমে আমার বন্ধুকে বলি ব্যপারটা... আমার বন্ধুকে আবার কসম দিয়েছিলাম কাউকে বলবি না। এভাবেই চলতে থাকে দিন.. ক্লাশ ফোরে উঠি তখন আস্তে আস্তে ওকে যেন আরো বেশি ভালো লাগতে থাকে... ফোরে উঠার পর অনেকেরই কাছে ওর কথা বলেছি... তো সবার কাছে এসে এটা সেটা বলতাম বড় হয়ে কি করব..অনেক কিছু.. তখন নতুন নতুন সাইকেল চালাতে শিখি.. তো সাইকেল ভাড়া নিয়ে প্রায়ই ওদের বাসার কাছাকাছি ঘুরাঘুরি করতাম.. মাঝে মাঝে ওকে দেখলে হাসি দিতাম.. ও আমাকে দেখলে হাসি দিত। এমন প্রায়ই.. যেতে যেতে আমাকে ক্লাশে জিজ্ঞেস করত আজ বিকেলে যাবে? তখন যে কি ভালো লাগত.. মাঝে মাঝে ক্লাশ টেষ্ট হলে ওর পাশাপাশি বসতাম.. ও আমার কাছে হেল্প চাইলে তো মাঝে মাঝে পুরোপুরি খাতাটাই দিয়ে দিতাম.. এভাবেই কাটতে থাকল দিন কাল.. ক্লাশ ৫ উঠলাম কিছু দিন যায়.. হঠাৎ একদিন আমার এক বান্ধবীর সাহায্যে ওকে একটা চিঠি দিলাম.. আর চিঠির মধ্যে এক মিনিমাম ১০টা ছিল ভুল.. আমার বন্ধু সেই চিঠি পড়ে ঠিক করে দিল.. তো চিঠির মধ্যে আমার নাম না লেখায় ও বুঝতে পারল না.. তবে আমার বান্ধবীকে বলল.. আমাকে চিঠি দিয়েছে, আমার মা শুনলে আমাকে বকবে..এই কথা শোনার পর আর কি..দুর থেকে ওকে আবার দেখা...একদিন হঠাৎ শুনি ও আর ওর ফ্যামিলী বিদেশে চলে আসবে.. কী করব? কী করব? যখন শুনলাম তখন যে কান্না.. তো সব বন্ধু বুদ্ধি দিল.. একটা ফুলের তোড়া গিফ্ট কর..আরেকজন বলল তাবিজ কর..তো আমি আর কিছু করি নাই..আমার বন্ধুরা মিলেই সব করেছে.. একজন তাবিজ কিনে এনেছিল.. আর কয়েকজন মিলে একটা ফুলের তোড়া বানিয়ে দিল.. রাস্তা দিয়ে যখন স্কুলের উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম তখনই.. পাশের এক দোকানে গান বাজছিল.."ও সাথী আমার, তুমি কেন চলে যাও.... কি দোষ করেছি, সে কথা বলে যাও".........কী ট্রাজেডি?? একবার চিন্তা করেন তো দেখি??
তারপর আর কি...প্রতি বারের মত ১ ঘন্টা আগে গিয়ে বসে রইলাম ফুলের তোড়া হাতে.. আজ ও চলে যাবে স্কুলের শেষ দিন..ওকে আমি এটা গিফ্ট করব.. স্কুলের পাশেই রাস্তার কাছাকাছি..একটা পুকুর পারে এসে বসে রইলাম..ওর অপেক্ষায়?? আমি আর আমার বন্ধু... হঠাৎ দেখি ও আসছে... আসছে তো ঠিক কিন্তু স্কুল ড্রেস পড়া.. আমি বললাম ব্যপার কিরে..?? ও না আজ চলে যাবে.. তো স্কুল ড্রেস পড়েছে কেন? আমাদের কাছাকাছি যখন এলো.. আমাকে দেখেই একটা হাসি... তারপর স্কুলে চলে গেল.. তারপর দৌরে স্কুলে ভিতরে গিয়ে আমার বান্ধুবীকে পাঠালাম ওর খবর নিতে... আসলে কিছুই না.. ও দুই দিন ওর মামা বাড়ী ছিল..কে যেন বলেছে ও ইটালি চলে যাবে...শুনে তো আমি পুরাপুরি নাই... আল্লাহ যেন আমার তাবিজকে মেনে নিয়েছে.. বিশ্বাস করবেন না..এতো খুশি লাগছিল তখন.. দুই দিন আমি ভাত খাই নাই.. আর কি.. এভাবেই চলছিল... দিন কাল। আমি সিক্সে উঠে চলে এলাম হোস্টেলে.. তখন দেখা সাক্ষাত আরো গেল কমে. এভাবেই চলে গেল তিনটা বছর... দুর থেকে তাকিয়ে থাকা.... তারপর চলে এলাম ইটালিতে... এরপর ...................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................
অবশ্য সত্যি বলতে কি?? মেয়েটাকে আমি পেয়েছি... আজো সে আছে..
সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন শামীম (০১-০৯-২০০৭ ১১:০৭)
অফলাইন
ভাইরে উনিই কি আমাদের ভাবী? তাতো বললেন না। হলে জানাবেন 


অফলাইন
আর্ রে মনি..
এই ব্যাপার তাহলে ....
বেস্ট অফ লাক ![]()
অফলাইন
দাওয়াত?? বিয়ে যেদিন করি সেদিন-ই..
এরপরের কাহিনী তো বলি নাই. আর সে আমার মনে আছে,.. আমি তাকে পেয়েছি আমার মনের মাঝে... 

অফলাইন
মনি লিখেছেন:
তখন আমি ক্লাশ থ্রিতে পড়ি.. ঢাকার হাজারীবাগ থেকে গ্রামে আমাদের নানী বাড়ী কেরানীগঞ্জে চলে আসি, নানীদের বাড়ীর কাছাকাছি শাপলা কিন্ডার গার্ডেন নামন স্কুলে ভর্তি হই। মেয়েটা আমার পরিচিত ছিল, আমাদের নানীবাড়ীর পাশের গ্রামে ছিল তাদের বাড়ী, দুঃসম্পর্কের মামাতো বোন লাগত । আর দেখতে, আল্লাহ তাকে এমন যেন আল্লাহর সমস্ত রুপ যেন তার উপর-ই ছিল। ক্লাশ থ্রিতে পড়ি বলে কি হবে.. তখন থেকেই আমি একটু ইচরে পাকা ছিলাম
। তো সেই মেয়েটি স্কুলে আসার এক ঘন্টা আগে আমি স্কুলে এসে বসে থাকতাম। দূর থেকে তাকিয়ে তাকিয়ে দেখতাম। এখনো সেই স্মৃতিগুলো স্পষ্ট চোখে ভাসছে.. লাল একটা স্কাট সাদা শার্ট.. পায়ে সাদা জুতা.. মাথায় মাঝে মাঝে বেনি করে রাখত.. হাতে একটা কালো বেল্টের ঘড়ি পরত। কাদে থাকত একটা ব্যাগ। অপূর্ব লাগত তাকে... তো এভাবেই চলতে থাকে কয়েকদিন.. প্রথমে আমার বন্ধুকে বলি ব্যপারটা... আমার বন্ধুকে আবার কসম দিয়েছিলাম কাউকে বলবি না। এভাবেই চলতে থাকে দিন.. ক্লাশ ফোরে উঠি তখন আস্তে আস্তে ওকে যেন আরো বেশি ভালো লাগতে থাকে... ফোরে উঠার পর অনেকেরই কাছে ওর কথা বলেছি... তো সবার কাছে এসে এটা সেটা বলতাম বড় হয়ে কি করব..অনেক কিছু.. তখন নতুন নতুন সাইকেল চালাতে শিখি.. তো সাইকেল ভাড়া নিয়ে প্রায়ই ওদের বাসার কাছাকাছি ঘুরাঘুরি করতাম.. মাঝে মাঝে ওকে দেখলে হাসি দিতাম.. ও আমাকে দেখলে হাসি দিত। এমন প্রায়ই.. যেতে যেতে আমাকে ক্লাশে জিজ্ঞেস করত আজ বিকেলে যাবে? তখন যে কি ভালো লাগত.. মাঝে মাঝে ক্লাশ টেষ্ট হলে ওর পাশাপাশি বসতাম.. ও আমার কাছে হেল্প চাইলে তো মাঝে মাঝে পুরোপুরি খাতাটাই দিয়ে দিতাম.. এভাবেই কাটতে থাকল দিন কাল.. ক্লাশ ৫ উঠলাম কিছু দিন যায়.. হঠাৎ একদিন আমার এক বান্ধবীর সাহায্যে ওকে একটা চিঠি দিলাম.. আর চিঠির মধ্যে এক মিনিমাম ১০টা ছিল ভুল.. আমার বন্ধু সেই চিঠি পড়ে ঠিক করে দিল.. তো চিঠির মধ্যে আমার নাম না লেখায় ও বুজতে পারল না.. তবে আমার বান্ধবী কে বলল.. আমাকে চিঠি দিয়েছে, আমার মা শুনলে আমাকে বকবে..এই কথা শোনার পর আর কি..দূর থেকে ওকে আবার দেখা...একদিন হঠাৎ শুনি ও আর ওর ফ্যামিলী বিদেশে চলে আসবে.. কি করব? কি করব? যখন শুনলাম তখন যে কান্না.. তো সব বন্ধু বুদ্ধি দিল.. একটা ফুলের তোরা গিফ্ট কর..আরেকজন বলল তাবিজ কর..তো আমি আর কিছু করি নাই..আমার বন্ধুরা মিলেই সব করেছে.. একজন তাবিজ কিনে এনেছিল.. আর কয়েকজন মিলে একটা ফুলের তোরা বানিয়ে দিল.. রাস্তা দিয়ে যখন স্কুলের উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম তখনই.. পাশের এক দোকানে গান বাজছিল.."ও সাথী আমার, তুমি কেন চলে যাও.... কি দোষ করেছি, সে কথা বলে যাও".........কি ট্রাজিটি?? একবার চিন্তা করেন তো দেখি??
তারপর আর কি...প্রতি বারের মত ১ ঘন্টা আগে গিয়ে বসে রইলাম ফুলের তোরা হাতে.. আজ ও চলে যাবে স্কুলের শেষ দিন..ওকে আমি এটা গিফ্ট করব.. স্কুলের পাশেই রাস্তার কাছাকাছি..একটা পুকুর পারে এসে বসে রইলাম..ওর অপেক্ষায়?? আমি আর আমার বন্ধু... হঠাৎ দেখি ও আসছে... আসছে তো ঠিক কিন্তু স্কুল ড্রেস পড়া.. আমি বললাম ব্যপার কিরে..?? ও না আজ চলে যাবে.. তো স্কুল ড্রেস পড়েছে কেন? আমাদের কাছাকাছি যখন এলো.. আমাকে দেখেই একটা হাসি... তারপর স্কুলে চলে গেল.. তারপর দৌরে স্কুলে ভিতরে গিয়ে আমার বান্ধুবীকে পাঠালাম ওর খবর নিতে... আসলে কিছুই না.. ও দুই দিন ওর মামা বাড়ী ছিল..কে যেন বলেছে ও ইটালি চলে যাবে...শুনে তো আমি পুরাপুরি নাই... আল্লাহ যেন আমার তাবিজকে মেনে নিয়েছে.. বিশ্বাস করবেন না..এতো খুশি লাগছিল তখন.. দুই দিন আমি ভাত খাই নাই.. আর কি.. এভাবেই চলছিল... দিন কাল আমি সিক্সে উঠে চলে এলাম হোস্টেলে.. তখন দেখা সাক্ষাত আরো গেল কমে. এভাবেই চলে গেল তিনটা বছর... দূর থেকে তাকিয়ে থাকা.... তারপর চলে এলাম ইটালিতে... এরপর ...................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................
অবশ্য সত্যি বলতে কি?? মেয়েটাকে আমি পেয়েছি... আজো সে আছে..
ক্লাশ থ্রি-থেকেই - এটা সম্ভবত ওয়ার্ল্ড রেকর্ড।
অফলাইন