হযরত ফাতেমা (আঃ)-এর ব্যক্তিত্ব ও নারীর মর্যাদা (পাতা ১) - বিবিধ - প্রজন্ম ফোরাম
আজ ১৪ শ্রাবণ ১৪১৭ বাংলা

আপনি প্রবেশ করেন নি। দয়া করে নিবন্ধন অথবা প্রবেশ করুন


পাতা 1

উত্তর দেয়ার জন্য আপনাকে অবশ্যই প্রবেশ বা নিবন্ধন করতে হবে

Topic RSS feed

পোস্টঃ [ ৪ ]

টপিকঃ হযরত ফাতেমা (আঃ)-এর ব্যক্তিত্ব ও নারীর মর্যাদা

মানব জাতিতথা সমগ্র সৃষ্টি জগতের জন্য ইসলাম হচ্ছে আলাহর মনোনীত ধর্ম বা এক বিশেষ নেয়ামত। যুগে যুগে নবী ও রাসুলদের মাধ্যমে আলাহ তাঁর মনোনীত ধর্ম ইসলামকে মানুষের সম্মুখে উপস্থাপন করেছেন। সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ নবী হযরত মুহাম্মদ (সঃ)-এর মাধ্যমে এ ধর্মের পূর্ণাঙ্গরুপ মানুষের সামনে উপস্থাপন করা হয়েছে। আলাহ তাঁর মনোনীত এ জীবন বিধানকে সকলপ্রকার বিকৃতি ও বিচ্যুতি হতে সংরক্ষিত রেখেছেন।

আলাহর এ বিধান অনুযায়ী নারী ও পুরুষ সকলই সমান। কাজের ক্ষেত্র, দায়িত্ব ও কর্তব্যের পরিধির মাপে তাদের মধ্যে পার্ধক্য থা‌কলেও ইসলাম মানুষ হিসেবে নারীও পুরুষকে সমান মর্যাদা দিয়েছে। উভয় ক্ষেত্রেই অভিন্ন সৎকর্মের জন্য অভিন্নপুরুস্কার ও অভিন্ন অপরাধের জন্য অভিন্নশাস্তির কথাবলা হয়েছে। তাই মানব ইতিহাসে কিছু সংখ্যক মহীয়সী মহিলাকে দেখা যায় যারা অসংখ্য পূর্ণবান পরুষদের চেয়েও  উচ্চ মর্যাদাবান, যাদের কথা স্বয়ং মহানবী (সঃ) পরিরিস্কার ভাবে বলে গেছেন। এঁরা হলেন হযরত ফাতিমা (আঃ) হযরতখাদিজা (রাঃ), হযরত মারিয়াম (আঃ) ও হযরত আসিয়া (রাঃ)। হযরত ফাতেমা পৃথিবীও পরকালের নারী কুলের নেত্রী এবং নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকলের মধ্যে তিনিই সর্বাগ্রে জান্নাতে প্রবেশ করবেন বলে হাদীসে উলেখ আছে।

হযরত ফাতেমা (আঃ) ছিলেন মহানবী (সঃ)-এর একমাত্র কন্যা সন্তান যার মাধ্যমে তাঁর বংশধরগণ মুসলিম উম্মাহর আধ্যাত্মিক নেতৃত্ব প্রদান করেছেন। তিনি ইসলামের ইতিহাসের মর্মান্তিক ঘটনায় শাহাদত প্রাপ্ত ও জান্নাতের যুবকদের নেতা হযরত ইমাম হাসান (আঃ) ও  হুসাইন (আঃ)- এর মা, আলাহর নবী (সঃ) কর্তৃক ঘোষিত ‘জ্ঞানের দরজা’হযরত আলী (আঃ) -এর স্ত্রী। তাঁর সম্পর্কে প্রিয় নবী (সঃ) ঘোষণা করেছেন, ফাতেমা আমার দেহের টুকরা, যে তাকে রাগান্বিত করবে, সে আমাকেই রাগান্বিত করল। -সহীহ রোখারী

নবী করিম (সঃ) তাঁর আদরের কন্যার নাম রাখেন ফাতিমা, যার অর্থ ‘যাকে আলাদা করে রাখা হয়েছে’যেহেতু তিনি অন্য সমস্ত নারী থেকে মর্যাদার অধিকারী, তাই তাকে এ নাম দেয়া হয়েছে। হযরত ইমাম জাফর সাদেক (আঃ) বলেছেনঃ তিনি (হযরত ফাতেমা (আঃ)) যাবতীয় নৈতিক ও চারিত্রিক অপকৃষ্টতা থেকে দূরে ছিলেন, আর এ কারণেই তাঁকে ফাতিমা বলা হয়েছে। তাঁর ব্যক্তিত্বের গুণাবলীর কারণেই তিনি বিভিন্ন উপাধির অধিকারী ছিলেন। তিনি ছিলেন, সিদ্দিকাহ্‌ (সত্যবাদিনী), মুবারাকাহ্‌ (বরকতময়ী), তাহেরাহ্‌ (পবিত্র), জাকিয়াহ্‌ (পরিশুদ্ধতার অধিকারী), রাজিয়া (সন্তুষ্ট), মারজীয়াহ্‌ (সন্তোষপ্রাপ্ত), মুহাদ্দিসাহ্‌ (হাদীস বর্ণনাকারী) ও যাহরা (প্রোজ্বল)। ইতিহাসবিদ ও মুফাসসিরগণ হযরত ফাতেমা (আঃ)-এর আরো বহু উপাধির কথা বললেও তিনি ফাতিমা জাহরা নামেই সর্বাধিক পরিচিত ছিলেন। মুফাসসিরদের মধ্যে অনেকের মতে কুরআন মজীদের সুরাহ -কাওসার-এর অন্যতম অর্থ হচ্ছে হযরত ফাতেমা (আঃ)। কাওসার বলতে একই সাথে হাশরের ময়দানের হাউজে কাওসার ও নবী নন্দিনী হযরত ফাতেমা (আঃ)-কে বোঝানো হয়েছে। নবী করিম (সঃ)-এর কোন জীবিত পুত্রসন্তান না থাকায় মক্কার কাফেররা তাকে ‘আবতারবা নির্বংশ বলে বিদ্রূপ করতো। কারণ তৎকালীন আরবে কন্যা সন্তানকে কোন গুরুত্ব দেওয়া হত না। এ বিদ্রূপের জবাবে আলাহ পাক সুরাহ্‌ কাওসারের মাধ্যমে তারি প্রিয়নবীকে জানিয়ে দেন যে, কোন জীবিত পুত্রসন্তান না থাকলেও হযরত নবী করিম (সঃ)-কে এমন এক কন্যা সন্তান দান করা হয়েছে যে কাওসার বা আধিক্যের প্রতিমূর্তি যার মাধম্যে সর্বধিক সংখ্যক উত্তমপুরুষ সৃষ্টি হবে। এবং যারামানব জাতির সর্বোচ্চ কল্যাণ সাধন করবেন। আর রোজ হাশরের ময়দানেও আলাহ পাক তাঁর প্রিয় নবীকে হাউজে কাওসার নামক প্রস্রবণ দানকরবেন, যার রহমতের পানি তিনি নিজ হাতে তাঁর অনুসারীদেরকে পান করিয়ে পরিতৃপ্ত করবেন। বলা বাহুল্য ইসলামের দুশমনরা যারা আলাহর নবীকে নির্বংশ বলে উপহাস করত আজতারাই বরং সময়ে ব্যবধানে নির্বংশও নিশ্চিহ্ন  হয়ে গেছে, আর নবী পাক (সঃ)-এর পবিত্র বংশধারা কেয়ামত পর্যন্ত দুনিয়াতে থাকবে।

হযরত ফাতেমা (আঃ)-এর ব্যক্তিত্ব তো তা-ই যেমনটি একজন লেহময় পিতা হিসেবে দুনিয়ার সর্বশেষ্ঠ মানুষ হযরত মুহাম্মদ (সঃ) তাঁর কন্যাকে নিজ হাতে গড়েছিলেন। এ যেন নিখাদ স্বর্ণ-টুকরা। শৈশব থেকেই তিনি গড়ে উঠেছিলেন এক আদর্শ সমাজের আর্দশ নেত্রী হিসেবে। শুধুমাত্র ইলম (জ্ঞান), আমল (জ্ঞানের অনুশীলন), খোদাভীতি, শালীনতা, পবিত্রতা ইত্যাদি ক্ষেত্রেই যে তিনি নারী কুলের আদর্শ ছিলেন তা নয় বরং কন্যা, স্ত্রী, মা, সমাজের একজন সদস্য হিসেবে, দেশের একজন নাগরিক হিসেবে মানব ইতিহাসের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি আলোক বার্তিকা হয়ে থাকবেন। তাঁর বয়স মাত্র ১৮ বছর মতান্তরে ২২ বছরের স্বল্পকালীন জীবদ্দশায় বিচ্ছুরিত সুবিশাল ব্যক্তিত্ব হাজার হাজার বছরমানুষকে হেদায়াতের পথ নির্দেশনা দান করবে।

সন্তানদের লালন-পালনসহ গোটা সংসারের সকল কাজই তিনি নিজ হাতে করতেন। শ্রান্তি-ক্লান্তির নিকট পরাজিত না হয়ে তিনি নারী সমাজকে নিয়মিত দীনি জ্ঞান দান করতেন। বস্তুত তার শিক্ষা ও নির্দেশনার কারণেই মদীনার নারীসমাজের মধ্যে ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিপ্লবের সৃষ্টি হয়, যে বিল্পব তাদেরকে পার্থিব ভোগ সর্বস্বতা হতে মুক্ত করে খোদামুখী জীবনধারার প্রতি অনুপ্রাণিত করেছিল।

পুরুষদের ভোগ্যপণ্য হিসেবে  নিজেদেরকে সজ্জিত করার হীন মানসিকতা ও প্রচেষ্টা হতে গোটা নারী সমাজকে তিনি পবিত্র করে তোলেন। প্রসংগত বলা যেতে পারে যে, এমন এক সময় ও পরিবেশে তিনি জন্ম গ্রহণ করেন যখন নারীকে মানুষবলে গন্য করা হত না। পুরুষের ভোগের সামগ্রী হয়ে হাত বদলের একটা পণ্য ছিল সে। তখনকার সমাজে মেয়ে সন্তানকে গোটা পরিবারের জন্য গানি ও অপমানের বোঝা মনেকরা হত। এমনকি একটা ভয়াবহও নষ্ট সমাজে তিনি নারীদের মর্যাদা, অধিকার ও ব্যক্তিত্বকে পুরুষদের সমকক্ষ করে তোলেন। এমন কি অনেক ক্ষেত্রে পুরুষদের শিক্ষক হিসেবেও তিনি নিজকে প্রমাণিত করেছেন। অনেক সাহাবী (রাঃ) তাঁর নিকট থেকে সরাসরি হাদীসের বর্ণনা করেছেন।

এ প্রসঙ্গে একটা বিষয় বলা প্রয়োজন। নারী প্রগতির তথাকথিত স্বর্ণযুগেও মূলত নারীর হাতে-পায়ে নিত্য নতুন বেগীর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। প্রগতির চটকদার বুলিতাদেরকে নতুন নতুন দুর্গতির ফাঁদে ফেলছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই আজও নারীরা পণ্য হিসেবেই ব্যবহৃত হচ্ছে বিজ্ঞাপন মডেল, সুন্দরী প্রতিযোগীতা ইত্যাদি সব নিকৃষ্ট আয়োজন অতীতের মত এখনও বিকৃত রুচির পুরুষদেরই শয়তানী মগজের ফসল। এরাই একদিন নারীদের মানব সমাজ বর্হিভূতমনে করত। তাদেরকে ভূত-পেত্নী বলে বিবেচনা করত। তাদের বিকৃত রুচির পরিতৃপ্তির জন্য নারী নামের পুতুল কিভাবে সাজানো দরকার, তাদের ভোগের প্রাসাদ হিসেবে কিভাবে তার উৎকৃষ্ট ব্যবহার করা যায় এসব নষ্ট চিন্তা ও পরিকল্পনাকে তারা নারী অধিকার, নারীমুক্তি ইত্যাদির সুশোভন মোড়কে বাজারজাত করছে। অথচ ইসলাম শুরু হতেই নারীকে দিয়েছে তার সম্মান, পুরুষের সমান মর্যাদা। হযরত ফাতেমা (আঃ) এর জীবন হলো এ মর্যাদারই প্রতীক।

সূত্র আল-শীয়া

সবকিছুর জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি, এমনকি মৃত্যুর জন্যও...
আমার বর্তমান  এবং স্থায়ী আবাস।
www.shamokaldarpon.com। যেখানে আমি কথা কই, আপন মনে

Re: হযরত ফাতেমা (আঃ)-এর ব্যক্তিত্ব ও নারীর মর্যাদা

Congregational for your sing. with sharing submitted now. very nice posting.

সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন rakibul (24-08-2008 17:14)

Md. Rakibul Karim (Yeanoor)
আমি চাষা ভূষর;লোভ, হিংসা ও অহংকার পরিহার করুন।
http://rakibul.wordpress.com

Re: হযরত ফাতেমা (আঃ)-এর ব্যক্তিত্ব ও নারীর মর্যাদা

অসংখ্য ধন্যবাদ ভাই।

মনটা আগুনে জলতেছে কি করব । ব্যান ব্যান

Re: হযরত ফাতেমা (আঃ)-এর ব্যক্তিত্ব ও নারীর মর্যাদা

ধন্যবাদ মেহেদী ভাইকে।

আল্লাহ আপনি সবাইকে বেহেস্ত নসিব করুন।

পোস্টঃ [ ৪ ]

পাতা 1

উত্তর দেয়ার জন্য আপনাকে অবশ্যই প্রবেশ বা নিবন্ধন করতে হবে

Advertise with Us

সম্পর্কিত বিষয়

শিরোনাম উত্তর সমূহ প্রদর্শন সর্বশেষ পোস্ট

  • ২৪ উত্তর সমূহ
  • ৬২০ প্রদর্শন
  • সর্বশেষ পোস্ট 20-04-2010 15:32 লিখেছেন কমরেড পৃথি

ব্যক্তিত্ব

লিখেছেন হাঙ্গরিকোডার

  • ১৯ উত্তর সমূহ
  • ১৪০২ প্রদর্শন
  • সর্বশেষ পোস্ট 13-05-2007 21:28 লিখেছেন শামীম

জান্নাতে সাওম পালনকারীর মর্যাদা

লিখেছেন মেহেদী আকরাম

  • উত্তর সমূহ
  • ৩৫৭ প্রদর্শন
  • সর্বশেষ পোস্ট 10-09-2008 19:17 লিখেছেন টাট্টুহর্স
  • ১৬ উত্তর সমূহ
  • ২০৯৫ প্রদর্শন
  • সর্বশেষ পোস্ট 27-09-2009 00:05 লিখেছেন shitol69
  • ১২ উত্তর সমূহ
  • ১৬১৪ প্রদর্শন
  • সর্বশেষ পোস্ট 25-07-2010 00:19 লিখেছেন Shajid

X




Currently installed 14 official extensions. Copyright © 2003–2009 PunBB.




English Pad: