টপিকঃ সাপুড়ে
পৃথিবীর সবচেয়ে বিষধর সাপের আড্ডা হলো অস্ট্রেলিয়ায়। সাপগুলো এমন বিষাক্ত যে, কামড় দিলে বাঁচার আশা থাকে না বললেই চলে। সেখানকার লোকেরা ঘন ঘাসের জমিতে পারতপক্ষে হাঁটে না—বিশেষ প্রয়োজনে যেতে হলেও চোখকান খোলা রাখে সারাক্ষণ। এমনকি লোকবসতিপূর্ণ এলাকায়ও ঘেসো জায়গায় সাপের ছোবল খাওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেয়া যায় না। এমন সর্পবসতিপূর্ণ দেশে সাপুড়েরও অভাব থাকার কথা নয়। অস্ট্রেলিয়ার এমনি একজন সাপুড়ে নেভিল বার্নস। বিষধর সাপের ছোবল খেয়ে মৃত্যুর মুখোমুখি হয়েছেন কমপক্ষে বারবার, তবে প্রতিবারই মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে লড়ে শেষ পর্যন্ত বেঁচে গেছেন। বহালতবিয়তে আছেন এখনও। আর এখন তিনি লোকদের শেখাচ্ছেন সাপের কামড় খেলে কীভাবে কী করতে হয়।
ডান হাতের তর্জনীটা একদম গোড়া থেকেই উধাও বার্নসের। কারণ আর কিছু নয়, সাপের কামড়। বিষধর সাপের কামড় খাওয়ার পর হাসপাতালে গেলে চিকিত্সকরা গোড়া থেকেই কেটে ফেলে দেন তর্জনীটা।
এখানেই শেষ নয়। বার্নস বলেন, ‘তিনবার আমাকে ক্লিনিক্যালি মৃত ঘোষণা করা হয়। শরীরের একপাশ নয় সপ্তাহ ধরে অচল হয়েছিল। কোনো সাড়া পাওয়া যেত না।’
বছরে প্রায় তিন হাজার অস্ট্রেলিয়ানকে সাপে কামড়ালেও কদাচিত্ দু’একজন মারা যায়।
বর্তমানে বার্নস লোকজনকে শেখান, সাপের সামনে পড়ে গেলে কী করতে হয়। তিনি বলেন, ‘দৌড় দেবেন না। নড়াচড়া করবেন না। অধিকাংশ সাপই আক্রান্ত হওয়ার ভয়ে ভীত না হলে আক্রমণ করতে আসে না। আস্তে করে সরে যায়।’
সুত্র: দৈনিক আমারদেশ (৩১-১২-২০০৯)



লেখাটি by 3.0 এর অধীনে প্রকাশিত