টপিকঃ হজ্বের দিনই কুরবানী - গাদ্দাফীর নতুন রেকর্ড
গাদ্দাফী লোকটা যে একটু ঘাড় ত্যাড়া টাইপের এটা তো সবারই জানা। কূটনৈতিক ব্যাপারে তো বটেই, ধর্মীয় ব্যাপারেও যেন তার স্রোতের উল্টা দিকে না হাঁটলে শান্তি লাগে না। সেই ধারাবাহিকতাতেই লিবিয়া প্রতিবার সৌদি আরবের তথা সারা পৃথিবীর চেয়ে একদিন আগে রোযা এবং ঈদ-উল-ফিতর শুরু করে আসছিল। কিন্তু ঈদ-উল-আযহার সাথে যেহেতু হজ্বের সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ, তাই এতোদিন ঈদ-উল-আযহা সৌদি আরবের সাথে একই দিনেই পালন করত।
কিন্তু এবার গাদ্দাফীর ধৃষ্টতাতে আরো একধাপ এগিয়ে ঈদ-উল-আযহাও সৌদি আরবের চেয়ে একদিন আগে পালন করে ফেলল। সৌদি আরবে যেখানে লক্ষ লক্ষ মানুষ পবিত্র হজ্ব পালন করছে, সেই সময় আমরা লিবিয়াতে বসে কুরবানী করছি, ঈদ উদযাপন করছি। এ যেন গাদ্দাফীর নিজের ক্ষমতা জাহির করার এক বিকৃত মানসিকতার পরিচয়!
অন্যান্য সব দেশে দশ দিন আগে (জিলহজ্ব মাসের এক তারিখে) ঈদের তারিখ ঘোষণা হয়ে গেলেও এবার লিবিয়াতে আগে থেকে ঈদের তারিখ ঘোষণা করা হয়নি। লোকমুখে শোনা যাচ্ছিল বৃহস্পতিবারেই ঈদ হতে পারে, কিন্তু গতকাল বুধবার রাত সাড়ে নটা, এগারোটার সংবাদেও কিছু বলা হয়নি। শেষ পর্যন্ত রাত তিনটা বাজে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে যে আজ ঈদ। আমরা রাতে মোটামুটি নিশ্চিত ছিলাম যে ঈদ হচ্ছে না এবং সে অনুযায়ী প্রস্তুতিবিহীনভাবে ঘুমাতে গিয়েছিলাম। সকালে ফযরের নামাজের পরে বিভিন্ন মানুষের ফোনের মাধ্যমে জানতে পারলাম যে আজই ঈদ হচ্ছে। তাড়াহুড়া করে কোনমতে নামাজটা ধরতে পেরেছি, যেটা বেশির ভাগ মানুষই পারেনি।
বেশির ভাগ লিবিয়ানই হজ্বের দিন ঈদ মেনে নিতে পারেনি। প্রায় সবাই-ই বলছিল ঈদ ঘোষণা হলেও আজ কুরবানী করবে না, পরের দিন করবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই সাহস বেশি মানুষের মধ্যে দেখা গেল না। সম্ভবত দুই-তৃতীয়াংশ মানুষই আজই কুরবানী করে ফেলেছে। বাকি এক তৃতীয়াংশ করেনি। আমাদের বাড়িওয়ালী বুড়ি এবং তার মেয়ে তো আজ রোযাই ভাঙ্গে নি!



এই ব্যবস্থারও আগামাথা বুঝিনাই) প্রথম বছর কোরবানীর ঈদ পেয়েছিলাম, তখন হোস্টেল থেকে অনেক দূরে থাকতাম - প্রায় ৪০-৪৫ মিনিটের হাঁটা পথ। ঈদের ২/৩দিন আগে মালয়শিয়ান স্টুডেন্টদের সাথে কথা বলে জেনে রেখেছিলাম কোথায় তারা জামাত করবে। তো ঈদের দিন সাত-সকালে কোমর পর্যন্ত বরফ ডিংগিয়ে ডর্মে পৌঁছে দেখি - ব্যাটারা সব নাক ডাকিয়ে ঘুমাচ্ছে! ডেকে উঠানোর পরে বললো, সুদানীজ কতগুলা বজ্জাত এসে নাকি গতকালই (তাদের দেশের নিয়ম অনুযায়ী) জামাত করে ফেলেছে!
মেজাজটা এমন গরম হয়েছিলো। পাইলে ঐ দিনই সুদানীজগুলারে কোরবানী দিয়ে ফেলতাম!


