টপিকঃ ধানক্ষেতে ইউরিয়া স্প্রে কার্যকর নয়
আমরা যে হুজুগের জাতি তা আবার প্রমাণিত হল
বাকৃবির তদন্ত প্রতিবেদন
ধানক্ষেতে ইউরিয়া স্প্রে কার্যকর নয়
সবজি ও ফলের গাছে ইউরিয়া স্প্রের কিছু কার্যকারিতা থাকলেও ধানগাছে তেমন নেই। তাই ধানক্ষেতে ইউরিয়া সার স্প্রের মাধ্যমে প্রয়োগ করলে তাতে প্রত্যাশিত উৎপাদন পাওয়া সম্ভব হবে না। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) একদল গবেষক মাঠপর্যায়ে অনুসন্ধান শেষে তাঁদের প্রতিবেদনে এ অভিমত ব্যক্ত করেন।
সম্প্রতি একটি টেলিভিশন চ্যানেলে টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার সালিয়াবহর গ্রামের কৃষক মো. আব্দুল আজিজের ইউরিয়া স্প্রের মাধ্যমে ধান চাষে অসাধারণ সাফল্যের ওপর একটি প্রতিবেদন প্রচারিত হয়। বলা হয়, প্রতি একরে মাত্র আট কেজি ইউরিয়া দিয়ে তিনি ধানের প্রত্যাশিত উৎপাদন পেয়েছেন। একে ‘আজিজ ফর্মুলা’ হিসেবে অভিহিত করা হয়।
এ প্রতিবেদন প্রচারিত হওয়ার পর প্রশ্ন ওঠে, তাহলে এত দিন মাটিতে দিয়ে বিপুল ইউরিয়া সার অপচয় করা হয়েছে?
এই বিতর্কের অবসান ঘটাতে বাকৃবির পক্ষ থেকে ছয় সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। বাকৃবি রিসার্চ সিস্টেমের পরিচালক মো. শহীদ উল্লাহ তালুকদারের নেতৃত্বে কমিটির সদস্যরা হলেন কৃষিতত্ত্ব বিজ্ঞানী স ম আলতাফ হোসেন, মৃত্তিকাবিজ্ঞানী মোশাররফ হোসাইন মিঞা, কীটতত্ত্ব বিজ্ঞানী মো. সুলতান উদ্দিন ভুঞা, মৃত্তিকাবিজ্ঞানী মো. রফিকুল ইসলাম ও কৃষি রসায়নবিদ মো. আখতার হোসেন। তাঁদের তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, কৃষক আব্দুল আজিজের মোট জমি আছে আট একর। সেখানে তিনি ফলদ ও বনজ গাছের বাগান করেছেন। বাগানে তিনি স্প্রের মাধ্যমে ইউরিয়া সার দেন। তবে তাঁর কোনো ধানি জমি নেই। এলাকার কৃষকদের তিনি ধানের জমিতে ইউরিয়া স্প্রে করার পরামর্শ দেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ধানগাছ কান্ড ও পাতার মাধ্যমে ইউরিয়া গ্রহণ করতে পারে। তবে স্প্রে করলে সারের সামান্য অংশই কান্ড ও পাতায় থাকে, বাকি অংশ মাটিতে পড়ে যায়। তার মাত্র এক-তৃতীয়াংশ ধানগাছ শিকড়ের সাহায্যে গ্রহণ করতে পারে। এ পদ্ধতিতে ধানগাছ যে পরিমাণ নাইট্রোজেন পায়, তা চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল। এক একর জমিতে মাত্র আট কেজি ইউরিয়া স্প্রে করে প্রত্যাশিত ফলন পাওয়ার দাবি তাই বিভ্রান্তিকর।
তাহলে সালিয়াবহর গ্রামের কৃষকেরা ধানের প্রত্যাশিত ফলন পাওয়ার দাবি করছেন কেন?
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, সালিয়াবহর একটি পাহাড়ি গ্রাম। সেখানে দুই পাশের উঁচু জমিতে আনারস আর মাঝখানের নিচু জমিতে ধান চাষ হয়। তাঁরা দেখতে পান, আশপাশের পাহাড়ে প্রচুর গাছপালা ও ফলের বাগান থাকায় মাটিতে রয়েছে জৈব পদার্থ। এগুলো বৃষ্টির পানিতে ধুয়ে এসে পড়ে নিচু জমিতে। সেখানকার মাটিতে শতকরা ২ দশমিক ৫ ভাগ জৈব পদার্থ পাওয়া গেছে, যা অধিক উর্বরতার প্রমাণ বহন করে। এ ছাড়া জমি তৈরির সময় কৃষকেরা মাটিতে রোটন নামে গ্রোথ (বৃদ্ধি) হরমোন, ইউরিয়া ও টিএসপি সার এবং প্রচুর পরিমাণ খৈল ব্যবহার করেছেন। মূলত এসব উৎস থেকে ধানগাছ প্রয়োজনীয় নাইট্রোজেন গ্রহণ করে প্রত্যাশিত ফলন দিয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সর্বপ্রথম ফসলে স্প্রের মাধ্যমে ইউরিয়া প্রয়োগ করা হয় ১৯৪৪ সালে। এ ছাড়া বাকৃবিতে ১৯৭১, ’৭৪, ’৭৯ ও ’৮১ সালে ধানগাছে ইউরিয়া স্প্রের ওপর গবেষণা হয়। কাজেই ‘আজিজ ফর্মুলা’ প্রচার অজ্ঞতার শামিল।
বাকৃবির এ প্রতিবেদন সম্পর্কে আব্দুল আজিজের মন্তব্য চাওয়া হলে তিনি বলেন, সবজি ও ধানগাছে ইউরিয়া স্প্রে নিয়ে তিনি ১৫-১৬ বছর ধরে কাজ করছেন এবং প্রত্যাশিত ফলও পেয়েছেন।
সুত্রঃ প্রথম আলো
কৃতজ্ঞতাঃ মুর্শেদের ইউনিকোড লেখনী ও পরিবর্তক
দেশ বিদেশে ঘুইরা মরি।




লেখাটি GPL v3 এর অধীনে প্রকাশিত
