টপিকঃ মার্কিন সৌরবিদ্যুৎ বাজারের দিকে জার্মানির নজর
জ্বালানি চাহিদা মেটাতে উন্নত বিশ্বের দেশগুলো এখন ক্রমেই ঝুঁকে পড়ছে নবায়নযোগ্য শক্তি উৎপাদনের দিকে। উদ্দেশ্য, পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি ক্রমবর্ধমান তেলের মূল্য দিতে গিয়ে যে খরচ হচ্ছে তা সাশ্রয় করা। তবে নবায়নযোগ্য জ্বালানি তৈরীর জন্য যে প্রযুক্তির দরকার তা কিন্ত সব দেশের নেই। এক্ষেত্রে বেশ এগিয়ে রয়েছে জার্মানি। ইতিমধ্যে জার্মানির ১২টি কোম্পানি সাহারা মরুভুমিতে ডেজারটেক প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছে। নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলোর জন্য অন্যতম আকর্ষনীয় জায়গা হলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্য। এ্যারিজোনার ফোয়েনিক্স জায়গায় বছরের ৩০০দিনই থাকে সুর্যের ঝলমলে আলো। তাই সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য আমেরিকার পঞ্চম বৃহত্তম অঙ্গরাজ্যটি অত্যন্ত সম্ভাবনাময় জায়গা। ইতিমধ্যে এ্যারিজোনার প্রশাসনও আইন করে ঘোষণা করেছে যে আগামী ২০২৫ সালের মধ্যে তারা মোট বিদ্যুৎ চাহিদার ১৫ শতাংশ মেটাবে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের মাধ্যমে। এ্যারিজোনা কর্পোরেশনের কমিশনার ক্রিস মায়েস বলেন, এতদিন ধরে কয়লা বাদ দিয়ে অন্য কোন উৎসের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ধারা চলে আসছে। তবে এটি এখন পরিবর্তন করার সময় এসেছে৷ তেল এবং গ্যাসের দাম যেভাবে বেড়ে চলেছে তাতে করে এখন সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে নজর দিয়েছে।
ইতিমধ্যে এই সুযোগও নিতে শুরু করেছে জার্মানির কোম্পানিগুলো। যেমন শ্লেটার এর কথাই ধরুন। ছোট ছোট সৌর বিদ্যুৎ প্যানেল তৈরী করে থাকে শ্লেটার৷ কোম্পানির প্রধান কর্মকর্তা মার্টিন হাউসনের গত বছর দুইজন সহকর্মীকে নিয়ে এ্যারিজোনা সফর করেন৷ সেখানেই নতুন করে সোলার প্যানেল বসানোর চিন্তা করছেন তিনি৷ তার বক্তব্য, এ্যারিজোনা নতুন কোন জ্বালানি শিল্পের জন্য অপেক্ষা করছে৷ তবে সেখানকার সরকার এই বিষয়ে কতটুকু কাজ করেছে সেটি এখনও নিশ্চিত নয়৷ তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে নবায়নযোগ্য শক্তির সবচেয়ে বড় বাজার হবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র৷ তবে মার্কিন সরকারের পদক্ষেপ দেখতে তিনি আরো তিন থেকে পাচ বছর অপেক্ষা করতে চান৷ পর্যবেক্ষকদের মতে, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারের পরিমাণ ৫০ বিলিয়ন ডলার৷ কিন্তু আগামী ২০১৫ সালের মধ্যে এটি চারগুণ বেড়ে যাবে৷
এই হিসেবকে সামনে রেখে ইতিমধ্যে সেখানে কাজ শুরু করেছে জার্মানির আরেক কোম্পানি সলোন৷ ইতিমধ্যে তারা সেখানে প্রায় ১০ হাজার বর্গমিটার আকারের ফটোভোলটেইক সৌর বিদ্যুৎ প্যানেল বসিয়েছে৷ কোম্পানির মুখপাত্র কাটরিন এভারস জানান, নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদনের বেশিরভাগ বড় কোম্পানিই জার্মানির৷
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলোও কিন্তু বসে নেই। তারাও নিজ দেশের এই বাজারকে ধরার চেষ্টা করছে৷ এসব কোম্পানির অন্যতম হলো জেনারেল ইলেকট্রিক এবং ফার্স্ট সোলার৷ তবে বিশ্ব জুড়ে যে আর্থিক মন্দা চলছে তাতে করে এসব কোম্পানি আশা করছে মার্কিন সরকার তাদের জন্য আর্থিক সহায়তার দ্বার খুলে দেবে৷ যেমনটি করেছে ইউরোপের দেশগুলো তাদের নিজ কোম্পানিগুলোর জন্য৷
সূত্র: ডয়েশ ওয়েলে

