আসলে চাঁদের হিসাবে রোজার সময় না এলেও এখনই আসুন রোজা পালন করি। রোজ মানে কি না খেয়ে থাকা? রোজা মানে কি সেহেরীন্তে ইফতারীর সমাহার সাজানোয় মনোনিবেশ! মনের গ্রন্থি গুলো শুদ্ধ করার ব্রতইতো রোজা, তাই না? তবে এই আকড়ার দিনে সেই ধর্মীয় চেতনায় যুক্ত হই। মনের গ্রন্থির না হোক অন্য কোনো ফয়দাতো হবে। এই জন্য যে, তারপর হয়তো বা আমাদের কাছে ঈদের খুশির আমেজ নিয়ে হাজির হবে কোন বার্তা। এতে হয়তো ধর্মীয় মূল্যবোধের পরিবর্তন হবে না। আর নাস্তিকের রূপান্তর তাও সম্ভব নয়। শুধু মনোনিবেশ হবে আমাদের চেতনার ঘরে। উপাশান্তে ফুল-বেলপাতা-জল ঢেলে যে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলে ব্রতচারী সেই নিশ্বাসে অমঙ্গল ধুয়েঁ যাওয়ার কথা কিন্ত হায়! তারা তথৈবচ: নিথর দাঁড়িয়ে থাকে তাদেরই সীমানায়। কারণ সেই রোজাদার আর ব্রতচারী তার আরাধ্যের সাধনায় উপঢৌকন সাজাতে কষ্ট দিয়েছে পথে পথে। সেই কষ্টের ভারে নয়ে পড়া মানুষের নিশ্বাস সেও তো এক পরম রোজদার অথবা ব্রতচারীর। আমার প্রিয়পরম তো সেই মহান অনুভুবের উত্তর পাঠাবেনই। যদিও নৈনিতাল তিলোত্তমায় কবিতার তালা বন্ধ। তবু চাবি আসবেই নৈতিকতা’র।
অফলাইন
যুদ্ধের কী দরকার!চমৎকার অনুভুতি।
চারিদিকে ধর্মের নামে অধর্মের বা প্রবঞ্চনার চর্চা দেখতে দেখতে ক্লান্ত হয়ে যাই আমিও।
বলা হয়েছে সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত কোন কিছু গ্রহণ করা থেকে বিরত থাক। .... সূর্য একটা উপমা। দেহে/মনে যখন বিভিন্ন পশুপ্রবৃত্তি (লোভ, মোহ, কাম, ক্রোধ, ঘৃনা প্রভৃতি) জ্বলা শুরু করে সেই জ্বলনটাই জ্বলন্ত সূর্যের প্রতিনিধি। যখনই সূর্যের উদয় হবে অর্থাৎ প্রবৃত্তিগুলো মাথাচাড়া দেবে তখনই সংযম পালন করতে হবে। এই অর্থ না হলে শুধু পৃথিবীর সীমিত স্থানে এই প্রচলিত নিয়ম সত্য। চাঁদের একপাশেই শুধু সূর্যের আলো পড়ে। মঙ্গলে দিনের দৈর্ঘ্য অনেক বেশি। মহাকাশযানে কোন দিন রাত্রি নাই .... এবার ঘরের পাশে স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশগুলোতে দেখবেন ওখানে দিন রাত্রির ধারণাটাই আলাদা। তবে কি সার্বজনীন ধর্ম ওসব জায়গায় মিথ্যা; ওখানকার লোকজনের জন্য এই ধর্ম পালনীয় নয়?! -- যুক্তিতে আটকে গিয়ে হুজুরগণ অনেকরকম কাস্টমাইজেশন করার চেষ্টা করেন ... নতুবা মুরতাদ বলে মুখ বন্ধ করানোর চেষ্টা করেন ... ...
আমাদের সীমিত বুদ্ধি দিয়ে আমরা চমৎকার একটি দিক নির্দেশনাকে খাওয়া বন্ধ (আসলে অতিরিক্ত খাওয়ার রাস্তা) করার একটা চর্চায় পরিণত করেছি। অবশ্য সরাসরি বললে এই শিক্ষাটা নবীজির (রঃ) পর যুগের পর যুগ পার হয়ে আমাদের কাছে আসতে পারতো না। তার আগেই হারিয়ে যেত। অতি সুকৌশলে নবীজি (রঃ) মূল শিক্ষাটাকে রক্ষা করার ব্যবস্থা করেছেন। যারা বুঝার তাঁরা ঠিকই বুঝে যাবে। অন্যরা খাওয়া-নাখাওয়ার চর্চায় ঘুরপাক খেতে থাকবে।
বলা হয়েছে দ্রুত ইফতার করতে। কেন? প্রচলিত ব্যাখ্যা হুজুরগণ দিতে পারবেন। ইফতার কথাটা এসেছে ফিতর্ থেকে - যার অর্থ পরিপূর্ণতা। অর্থাৎ দ্রুত সংযমে পরিপূর্ণতা আনতে তাগিদ দেয়া হয়েছে। অর্থাৎ দ্রুত সূর্যাস্ত ঘটাতে বলা হয়েছে -- দ্রুত নিজের পশুপ্রবৃত্তিগুলোকে নিয়ন্ত্রনে আনতে বলা হয়েছে। তবেই পরিপূর্ণতা বা ইফতার এবং পরিপূর্ণতার খুশি বা ঈদুল ফিতর আসতে পারে।
তাহলে কি প্রচলিত অভুক্ত থাকার পদ্ধতি ঠিক না ..... আমার কাছে তা নয়। এটা ছাড়া এই শিক্ষাটাকে যুগ থেকে যুগান্তরে ছড়িয়ে দেয়া যাবে না। শুধু ভাল কথাগুলো একসময় চাপা পড়ে যাবে। কিন্তু এরকম একটা চর্চা টিকে থাকবে ... সত্যিকার জ্ঞানসন্ধানীরা এর মধ্য থেকে অন্তর্নিহিত অর্থ ঠিকই খুঁজে বের করে আত্মিক ভাবে লাভবান হবেন।
(একজন গুরুর কাছ থেকে শোনা ... উনি অবশ্য শিবির কর্তৃক ব্রেনওয়াশকৃত নিজ ভাতিজার দা-য়ের কোপে দ্বিখন্ডিত হয়েছেন .... .... তাই লেখার পর একটু ভয়ে আছি
)
অফলাইন
নামাজ পড়তে মাত্র কয়েক মিনিট সময় লাগে। আপনি আজকের নামাজ পড়েছেন কি???শামীম ভাই দারুন বলেছেন।
ধর্ম নিয়ে বিতর্ক না করে ধর্মকে জানাই শ্রেয়।
অফলাইন
পড়ছি রহস্যপত্রিকাওয়াও। অসাধারণ ব্যাখ্যা শামীম ভাই। ![]()
![]()
![]()
অফলাইন
নিজেকে খুঁজছি শামীম ভাইকে অনেক ধন্যবাদ চমৎকার একটা লেখা উপহার দেবার জন্য


অফলাইন
মুল লেকখকের লেখার ব্যাখ্যা পাওয়া গেল শামীম ভাইয়ের লেখায়। হুমম এর জন্যই এবার বোধহয় আমি রোজা শুরুর একদিন আগে থেকেই শুরু করে দিয়েছিলাম, ভুল করে হলেও দুএকটা বেশী রোজা রাখলে ক্ষতি কি?
অফলাইন