ব্যাক টু দ্যা ওল্ড মিউজিক টাইমদিনের শুরুটা মোটেও ভাল হয়নি। হ্যাঁ...আবারও দেরি হয়েছে ক্লাসে যেতে। এটা পুরনো কথা। নতুন করে বর্ণনা করার কিছু নেই। এমনিতে একুশে পরিবহণের বাস সারি বেঁধে কাউন্টারের সামনে দাঁড়িয়ে থাকে। যখনই যাই দুই তিনটা বাসের মধ্য থেকে একটা বেশ হেলতে দুলতে এগিয়ে আসে। টিকিট কেটে সীটে বসলে পাঁচ মিনিটের মধ্যে চলতেও শুরু করে। অথচ আজ একটা বাসও ছিল না দাঁড়ানো। কাউন্টারের দিকে হাঁটতে হাঁটতে আজ আমাকে কতক্ষণ দাঁড়াতে হয় সেই চিন্তা করছিলাম। ভাগ্য সহায়, টিকিট কিনে ভাঙতি টাকা গুনতে গুনতে একটা বাস চলে আসলো। উঠে পড়লাম। কিন্তু রেলগেট পর্যন্ত পৌঁছাতে না পৌঁছাতেই ভাগ্য অসহায় হয়ে পড়ল। মালিবাগ বাজারের সামনে থেকে জ্যাম। সেটা ছুটতে এমন কোনো সময় লাগে না। কিন্তু আজ ভাগ্য অসহায়, তাই বিশ মিনিট লাগল। সুতরাং ক্লাস ধরতে বিশ মিনিট দেরী হবে নিশ্চিত ধরে নিলাম। হলোও তাই।
১২টা ২০এ ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির সামনে থেকে রিকশায় উঠে বেশ ফূর্তি ফূর্তি লাগছিল। আজ আর ক্লাস করব না। ফিজিক্সের মন্ডল স্যার এমনিতে যথেষ্ট ভাল কিন্তু দেরি করার ব্যাপারে কোনো রকম আপোস করেন না। অবশ্য ফারিহবার ব্যাপারটা আলাদা। ওকে গত ক্লাসে বেশ আপোস করেছিলেন। ফারিহবা আধ ঘন্টা দেরীতে এসে ক্লাসে ঢুকেছিল। কুইজ তখন প্রায় শেষ, দশ মিনিট বাকি। আগের ক্লাসে ১৫ মিনিট পরে আসায় এমরানকে ঢুকতে না দেওয়া স্যার ফারিহবাকে ঠিকই ৩০ মিনিট পরে ঢুকতে দিলেন। ক্লাস শেষে ফারিহবাকে নিজ রুমে ডেকে কুইজ দেওয়ারও ব্যবস্থা করে দিলেন। কিন্তু আমি তো আর ফারিহবা না। তাই ক্যাম্পাসে ঢুকে তখন তখনি তিন তলায় না উঠে নিচতলার ওয়াশ রুমের দিকে রওনা হলাম। এমনিতে নিজের চেহারার ব্যাপারে আমার কোনো মাথা ব্যথা নেই। যিনি বানিয়েছেন যথেষ্ট ভাল বানিয়েছেন। সুতরাং আরও ভাল করার চেষ্টা করার কোনো মানে হয় না। কিন্তু অনেকক্ষণ রৌদ্রে থেকে যখনই ছায়ায় প্রবেশ করি সেই সময়টায় আমাকে ভূতের মতো দেখাতে থাকে। আয়নায় নিজের সুরত দেখে মনে হয় ঘন্টাখানেক মাটি কুপিয়ে বীর কোনো প্রত্নতাত্ত্বিক প্রবেশ করেছে। যদিও কাপড়ে কোনো কাদামাটি লেগে ছিল না। বার কয়েক মুখে পানি দিয়ে ওয়াশ রুম থেকে বের হয়ে আসলাম। ওয়েটিং লাউঞ্জে কিছু ছাত্রছাত্রী বসে ছিল। ক্লাস চলার সময় এটা প্রায় খালিই থাকে। এক কোণায় একটা টিভি আছে, অনেক উঁচুতে। দুই হাত তুলে লাফ দিলেও সুইচের নাগাল পাওয়া যায় না। সেটাতে সবসময়ই কোনো না কোনো চ্যানেল দেখাচ্ছে, শব্দহীন। ওয়েটিং লাউঞ্জে ছাত্রছাত্রীরা যখন ওয়েট করে তখন কেউই খালি মুখে বসে থাকে না, সমানে খই ফুটিয়ে চলে। সেই অবস্থায় শব্দসহ টিভি দেখার চেষ্টা করা বৃথা। সেই চেষ্টাটাও কেউ করে না। তাই ওয়েটিং লাউঞ্জের টিভি কেবল ছবি দেখিয়ে যায়, কোনো রকম শব্দ করে না। আজ সেরকম শব্দহীন অবস্থায় ইলিয়াস কাঞ্চনের একটা বাংলা ছবি চলছিল। সাধারণত ন্যাশনাল জিওগ্রাফি বা ডিসকভারি চ্যানেল দেখানো হয়। সেগুলোর দিকে কেউ ফিরেও তাকায় না। আজ বাংলা চ্যানেল, বাংলা ছবি - কিন্তু সবাই খুব উৎসুক হয়ে দেখছে। দৃশ্যটাও উৎসাহী করার মতো। নায়ককে পিলারের সাথে বেঁধে বেদম পেটানো হচ্ছে। একটু দূরে নায়কের মা এবং বোন (অথবা প্রেমিকা) সেটা দেখছে এবং হাউমাউ করে চিৎকার করছে। নায়ক ইলিয়াস কাঞ্চনও তারস্বরে চেঁচাচ্ছে। হয়ত বলছে, "আমাকে যতো খুশি মারো কিন্তু আমার মা-বোনকে ছেড়ে দাও।" কিন্তু শব্দ না থাকায় সেটা নিশ্চিত হওয়া গেল না।
কিছুক্ষণ দেখে লেকচার নোটের দিকে নজর ফেরালাম। ফিজিক্স ক্লাস বাদ দিলেও পরের কেমিস্ট্রি ক্লাসে কুইজ আছে। প্রথম কুইজটা ভাল হয়নি। সুতরাং ফাইনাল টার্মে ভাল করতে হলে আজকে ফুল মার্কস পেতে হবে। একবার পড়ে বুঝলাম ছোট মডিউল, ফুল মার্কস পাওয়া কঠিন হবে না। মডিউলটা ব্যাগে ঢুকিয়ে স্টাডি রুমের দিকে রওনা হলাম। স্টাডিটা বেজমেন্টে। ফিজিক্স ক্লাস শেষ হতে এখনও ১৫ মিনিট বাকি। কেমিস্ট্রি ক্লাস তারও আধ ঘন্টা পরে। সুতরাং স্টাডি রুমে গিয়ে একটা ছোটখাটো ঘুম দেওয়ার আইডিয়াটা খারাপ না। ওখানে ঢুকে দুই ক্লাসমেটকে পেয়ে গেলাম। খুব সিরিয়াসলি কেমিস্ট্রি পড়ছে। একজনের ফিজিক্স নেই। অন্য জনের ফিজিক্স পড়তে খুব একটা ভাল লাগে না। গত ক্লাস করেনি, আজকেও বাদ। উপস্থিতির উপর যে ২০ মার্কস সেটা নিয়ে ওর খুব একটা মাথা ব্যাথা আছে বলে মনে হয় না। দু'জনই তাই স্টাডিতে। আমিও মডিউলটা বের করে ওদের সাথে বসে রিভিশন দিলাম। কেমিস্ট্রির ব্যাপারে সবাই বাড়াবাড়ি রকমের সিরিয়াস। ফিজিক্সে সিরিয়াস হয়েও খুব একটা লাভ হয় না। সূত্র ভুল হলে অংক ভুল, অংক ভুল হলে মার্কস কাটা। ফুল মার্কস প্রায় সময়েই আসে না। কেমিস্ট্রিতে তো আর তা না।
ক্লাস শুরুর পাঁচ মিনিট আগে চার তলায় রওনা হলাম। স্যার আসলেন পাঁচ মিনিট পরে। ক্লাসরুম তখনও বন্ধ। ফ্লোরের মামাকে এতক্ষণ খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। স্যার আসার সাথে সাথে কোথা থেকে যেন সে উদয় হলো। রুমের লক খোলা হলো। ক্লাসে ঢুকে আমার প্রিয় সিটটায় (শেষের সিটের আগের সিটে) গিয়ে বসলাম। নাম ডাকার পর কুইজ শুরু হলো। দশ মিনিট পর শেষও হলো। খারাপ দেইনি, ফুল মার্কস হয়তো পাবো। এরপর স্যারের লেকচার শুরু হলো - সাথে সাথে আমার ঝিমুনি। সিটটা এ কারণেই আমার প্রিয়। দেয়ালের পাশে; খুব সুন্দর হাত পা ছড়িয়ে, মাঝে মাঝে দেয়ালে হেলান দিয়ে ঝিমানো যায়। কেমিস্ট্রি স্যারকে ইদানিং ভালো লাগে। স্যারের পড়ানোর ধরণ বিরক্তিকর হলেও সেন্স অব হিউমার বেশ ভাল। যখন ঝিমুনি ভাঙানো দরকার খুব সুন্দর করে হাসিয়ে ফেলেন। অবশেষে ৪টায় ক্লাস শেষ হলো। আলফা গ্রুপের মেম্বাররা স্টাডিতে গিয়ে গোল হয়ে বসলাম। আগামীকাল ইংরেজি ক্লাসে গ্রুপ ওয়াইজ স্পিচ দিতে হবে। সেজন্য আমাদের গ্রুপের টপিক সিলেক্ট করতে বসা। দেখি, কী টপিক সিলেক্ট করতে পারি!
সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন মুশাফ (২৪-০৭-২০০৮ ১৩:০৫)
অফলাইন
নামাজ পড়তে মাত্র কয়েক মিনিট সময় লাগে। আপনি আজকের নামাজ পড়েছেন কি???কি বলুম................
শুধু পড়লাম।
অফলাইন
!!! ইন্ট্রাপিড আইবেক্স !!! হুমম শিরোনাম বাংলা হলে ভালো লাগত। লেখা খারাপ হয় নাই অবশ্য
অনলাইন
আর ভাল লাগে না!চমৎকার বর্ণনা ভাল লাগল। কিন্তু ওটা তো অনেকটা ক্যাম্পাস লিপি হয়ে গেল। মানে সারা দিনের নয় শুধুমাত্র ক্যাম্পাস কেন্দ্রিক।
যাহোক, শুভ কামনা....
; যদি ব্যাংক একাউন্ট লোপাট হয়ে যায়
!অফলাইন
হাঙ্গরিকোডার লিখেছেন:
চমৎকার বর্ণনা ভাল লাগল। কিন্তু ওটা তো অনেকটা ক্যাম্পাস লিপি হয়ে গেল। মানে সারা দিনের নয় শুধুমাত্র ক্যাম্পাস কেন্দ্রিক।






অফলাইন
ভবঘুরে জীবন বেশি ভালো ভাবছি তাই সন্যাসী হবোক্যাম্পাস লিপি
অফলাইন
ব্যাক টু দ্যা ওল্ড মিউজিক টাইমহাঙ্গরিকোডার লিখেছেন:
চমৎকার বর্ণনা ভাল লাগল। কিন্তু ওটা তো অনেকটা ক্যাম্পাস লিপি হয়ে গেল। মানে সারা দিনের নয় শুধুমাত্র ক্যাম্পাস কেন্দ্রিক। যাহোক, শুভ কামনা....
ধন্যবাদ। পুরো দিনেরটা দেইনি, তাহলে আর পড়ার ধৈর্য থাকত না।
অফলাইন
আমার মানি ব্যাগ হারানো গেছে। 


অফলাইন