৩য় পর্ব এখানে
দুঃখিত এই পর্বের বিলম্বের জন্য। একটু ব্যস্ত ছিলাম। অনেকে অভিযোগ করেছে যে তারাতারি শেষ করতে মানে সংক্ষিপ্ত করতে। কিস্তু চেষ্টা করছি, হচ্ছে না। আসলে এখন মনে হচ্ছে গল্পটার উপর আমার কোন নিয়ন্ত্রন নাই। গল্পটা যেদিকে যাবে আমি সে দিকে নিয়ে যাব। এক সময় না একসময় শেষ হবেই (তবে মেগাধারাবিহক লেখার ইচ্ছা নাই)। গল্পটা শেষ করা মাত্র আমি প্রজন্মে দিয়ে দিলাম। এখন কাজে যাব তাই বেশী কিছু লিখলাম না। আপনাদের মতামতের অপেক্ষায়। এই পর্বটা আপনাদের কাছে ইন্টারেস্টিং নাও মনে হতে পারে। আর আমার মনে হয় যে ধারাবাহিক গল্প লেখা মানে ঐ গল্পে পাঠককে আটকিয়ে রাখা। আপনার যদি আকাঙ্খা না থাকে তাহলে আপনি আর এই গল্প পড়বেন না। তাই পাঠকদের কিছু আকাঙ্খা ধরে রাখলাম। যেমন গল্পের শুরুতে করেছিলাম। তাই হয়ত এই গল্পটা পড়ছে (নাও পড়তে পারে)। আমি এই পাঠকদের আকাঙ্খা এবং আগ্রহ শেষ হওয়ার আগেই আমার গল্পের ইতি টানব।
পর্ব-৪
কি যে করি।ওকে সাইটের কথা বলে ভাল বিপদে পড়লাম। আজকে তো কোন সাইটে আমার কাজ নাই। কি করি। নাহ আজকেউ চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে নিব। আজকেই ওকে আমার মনের সব কথা বলব। আজকে কোন সাইটে না ওকে নিয়ে দূরে কোথাও যা। নিরিবিলিতে বসে মনের সব কথা আজকেই বলব। কিন্তু আগে কি সাজ্জাদকে জানাব? না ঐ বেটা সাজ্জাদ না বজ্জাদ। হৃদিকা আমাকে রিফিউজ করে দিলে ব্যাটা বজ্জাত সারা জীবন খ্যাপাবে। নাহ আজকেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত।
-স্যার আমরা কোথায় যাচ্ছি?
-ওহ হ্যা এই তো গুলশানের দিকে।
-কিন্তু স্যার এটা কি গুলশানের রাস্তা?
-ওহ না, মানে ইয়ে স্যরি ভুল হয়ে গেছে। এইটা তো ধানমন্ডির রাস্তা। আসলে স্যার একটু আগে ফোন করেছিল যে আজকে সাইটে যেতে হবে না। তাই ভাবলাল কি আর করব, তুমি এত সুন্দর করে সেজে এসেছ তোমাকে নিয়ে একটু ঘুরে আসি। আর তুমি তো পুরো শহরটা হয়ত এখনো দেখ নাই। তাই না।
-হুম ঠিক বলেছেন। কিন্তু কাজ ছাড়া শুধু শুধু ঘোড়াঘুড়ি কি ঠিক হবে? আর স্যার যদি মাইন্ড করে?
-আরে স্যারের কথা বাদ দাও। তুমি আমার উপর আস্থা রাখতে পার। স্যার কিছুই মনে করবে না। কারণ স্যার কিছু বললে সোজা আমি চাকরী থেকে রিজাইন দিয়ে দেব। এই দেখ আমার পকেটে সব সময় রিজাইন লেটার রেডী থাকে। শুধু ডেট ছাড়া। আর সাইনও করা। এই পর্যন্ত তো কম চাকরী ছাড়লাম না। এই চাকরীটাও আমি অলরেডী ৫ বার রিজাইন লেটার দিয়েছি কিন্তু ওরা আমাকে ছাড়েনি। কেন জান?
-কেন?
-কারণ আমি চলে গেলে ওদের কাজ করবে কে? হা হা হা (চামে একটু চাপাবাজী করে আমার দাম বাড়ালাম আর কি। সেই কথা মনে করেই হাসি পাচ্ছে। কিন্তু মেয়েটা মনে হয় আমার চালাকী ধরতে পারছে। কেমন যেন মিট মিট করে হাসছে।
-স্যার আবার সেই রেস্টুরেন্ট এ যাবেন নাকি?
-হুম কেন? তোমার কি কিছু কেনাকাটা করার দরকার? তাহলে বল। এখানে সব বড় বড় শপিং সেন্টার।
-কেনাকাটা বলতে আচ্ছা চলেন দেখি।
পাখি মনে হয় খাঁচায় আটকিয়েছে। আমার সাথে শপিং এ যেতে চাচ্ছে। ভাল কথা টাকা কি ও দিবে নাকি আমাকে দিতে হবে? আল্লাহই জানে এ কোন ফাঁদে পা দিচ্ছি।
-হ্যা এই তো সামনে বসুন্ধরা শপিং সিটি নামে সবচেয়ে বড় একটি শপিং সেন্টার আছে। চল যাই।
গাড়ী পার্ক করে ওকে নিয়ে শপিং সেন্টারে ঢুকলাম। বললাম কি কিনবে?
-এই তো একটু ঘুরি। দেখি কি কি পাওয়া যায়।
-আরে এখানে সব পাওয়া যায়। এটা তো অনেক বড় শপিং সেন্টার। পুরোটা ঘুরে দেখতে পারবা না।
-আচ্ছা ঠিক আছে শাড়ির দোকান কেন দিকে?
-শাড়ির দোকান। ইয়ে মানে মনে হয় ৩য় না না ৪র্থ তলায় হবে। চল দেখি।
আমি আর ও যাচ্ছি। আহ কি যে ভাল লাগছে। না আজকে ও যা কিনতে চায় কিনুক। দিম যতই হোক আমি ওকে গিফট করব।
-স্যার এই শাড়িটা কেমন?
হায় হায় এইটা কি কইল? আমার প্রেস্টিজ শেষ। দোকানদারগুলার সামনে আমারে স্যার বলে ডাকল? আর ব্যটা দোকানদার গুলো কি যে বদ। কিভাবে যেন তাকাচ্ছে। আমি বললাম না এই দোকানের শাড়ীগুলো ভাল না চল অন্য দোকানে দেখি।
দোকান থেকে বের হয়েই ওকে বললাম। দেখ আমাকে অফিসে যা বল ঠিক আছে। তুমি কি খেয়াল করেছ আমাকে স্যার বলার পর ঐ ব্যাটারা কিভাবে আমাকে দেখছিল?
-না দেখিনি তো? তো কি হয়েছে? আপনি আমার বস আপনাকে স্যার বলব না?
বলেই মিটিমিটি হাসছে। ও কি তাহলে প্রতিশোধ নিতে চাচ্ছে? এ সুযোগ তো ওকে দেয়া যাবে না। বললাম
-না আমাকে বাইরে স্যার না ইমন ভাই বল। রত্না ওরা তো বলে। আর স্যার স্যার শুনলে কেমন যেন স্কুলের মাষ্টার মাষ্টার মনে হয়।
-আচ্ছা ঠিক আছে এখন থেকে ইমন ভাই বলব। তো এক দেকানে ঢুকেন। না হলে তো আর আমার শাড়ি কেনা হবে না।
এরপর আমি আর ও একটা দোকানে ঢুকলাম। অনেক শাড়ী দেখল কিন্তু ওর একটাও পছন্দ হল না। এইভাবে প্রায় সব দোকানই দেখা হল, কিন্তু শাড়ি আর পছন্দ হয় না। আর এদিকে হাটতে হাটতে আমার পায়ের অবস্থা বারোটা। আবশেষে একটা দোকানে একটা শাড়ী পছন্দ হল।
-কি ইমন ভাই শাড়ীটা সুন্দর না।
-হুম সুন্দর।
-কিন্তু দাম একটু বেশী মনে হচ্ছে।
-না আমার তো মনে হয় ঠিকই আছে।
চলবে …
সর্বশেষ সম্পাদনা করেছেন সামিউল (২০-০৭-২০০৮ ০৯:৩০)
অফলাইন
আমার ছুটি প্রয়োজন, রুটিন বাধা জীবন ভালো লাগছে না। অফলাইন
ধ্রুবক অন্ধকার, দৈব রাজপথে আমার চিহ্ন, আমি নৈশ ঈশ্বর যেন আরেক ধ্রুবতার জন্ম.
আরো লেখা পড়ায় অপেক্ষায় থাকলাম.

অফলাইন
microqatar লিখেছেন:
সামি এই পর্বটা আরো দারুন লাগলো।
কি কন 
আমিতো আরো চিন্তায় আছিলাম যে পাবলিক না এইবার ধইরা আমারে মাইর দেয় 
। শুনে ভাল লাগল যে আপনাদের ভাল লেগেছে। ইনশআল্লাহ আগামী পর্বগুলো একটু তারাতারি আসবে। 
অফলাইন
আবার কি হবে দেখা, এ দেখাই শেষ দেখা নয় তোকি কন আমিতো আরো চিন্তায় আছিলাম যে পাবলিক না এইবার ধইরা আমারে মাইর দেয়
আপনারে কেউ না মাইর দিলে আমিই মাইর দিমু। এত ছোট ক্যান
অফলাইন
তারেক হাসান লিখেছেন:
আপনারে কেউ না মাইর দিলে আমিই মাইর দিমু। এত ছোট ক্যান
এর পরের বার পোষাইয়া দিমু নে 
। আমাকে কেউ কেউ বলল যে ছোট করতে তাই 
। আচ্ছা এবার থেকে বড় করে দিব।
অফলাইন